01/07/2026
িভিউ
বই : দ্য বোন কালেক্টর
লেখক: জেফরি ডিভার
অনুবাদক: কুদরতে জাহান
জনরা: ফরেনসিক সিরিয়াল কিলার
"হাড় হলো শরীরের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ। রক্তমাংসে আমরা যতই বুড়ো হই না কেন, হাড়ে আমরা সব সময়ই তরুণ।"
বইটা পড়া শেষ করার পরও এই লাইনটা মাথার ভেতর ঘুরছে। কারণ পুরো গল্পটাই যেন এই দর্শনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
সত্যি বলতে, দ্য বোন কালেক্টর এমন একটা বই ছিল যার জন্য আমি বেশ কিছুদিন ধরেই অপেক্ষা করছিলাম। অপেক্ষার কারণও ছিল। কোরবানির ঈদ সামনে চলে আসছিল, আর ঈদের সময় সাধারণত কুরিয়ার সার্ভিসে ডেলিভারি নিয়ে ঝামেলা হয়। তাই বইটা অর্ডার করার পর থেকেই ভেতরে একটা অস্থিরতা কাজ করছিল—কখন বইটা হাতে পাব, কখন পড়া শুরু করব! অবশেষে যখন বইটা হাতে পেলাম, তখন আর দেরি করিনি।
জেফরি ডিভারের নাম আগেই শুনেছিলাম। বিশেষ করে ফরেনসিক থ্রিলারপ্রেমীদের মুখে দ্য বোন কালেক্টর নিয়ে এত প্রশংসা শুনেছি যে প্রত্যাশার মাত্রাও অনেক উঁচুতে উঠে গিয়েছিল। আর বইটা পড়ে বলতে বাধ্য হচ্ছি, প্রত্যাশার অনেকটাই পূরণ করেছে।
গল্পের মূল আকর্ষণ সেই রহস্যময় সিরিয়াল কিলার, যে তার শিকারদের শুধু হত্যা করে না, তাদের হাড়ের প্রতি এক অদ্ভুত আসক্তি পোষণ করে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ড যেন তার রেখে যাওয়া একেকটি বার্তা। তবে সেই বার্তা সাধারণ ভাষায় নয়, ফরেনসিক বিজ্ঞানের ভাষায় লেখা। ফলে খুনি আর তদন্তকারীদের মধ্যে শুরু হয় এক বুদ্ধির খেলা।
এই খেলায় সবচেয়ে মুগ্ধ করেছে লিংকন রাইম চরিত্রটি। শারীরিকভাবে প্রায় অচল একজন মানুষ, কিন্তু তার মস্তিষ্ক যেন এখনো ধারালো অস্ত্রের মতো কাজ করে। অপরাধস্থলের ক্ষুদ্রতম সূত্র থেকে যেভাবে সে তথ্য বের করে আনে, সেটা পড়তে পড়তে বারবার অবাক হয়েছি। অনেক সময় মনে হয়েছে আমি কোনো উপন্যাস পড়ছি না, বরং কোনো বাস্তব ফরেনসিক তদন্তের অংশ হয়ে গেছি।
বইটার সবচেয়ে বড় শক্তি নিঃসন্দেহে এর ফরেনসিক দিক। রক্তের দাগ, মাটি, হাড়, তন্তু, ধুলো—এত সাধারণ জিনিসও যে একজন অপরাধীকে ধরিয়ে দিতে পারে, সেটা এই বই না পড়লে হয়তো এত গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারতাম না। বইটা আমাকে শুধু বিনোদন দেয়নি, ফরেনসিক সম্পর্কে অনেক নতুন বিষয়ও শিখিয়েছে।
তবে বইটার একটা জায়গায় এসে আমি খানিকটা ধাক্কাও খেয়েছি। শুরুটা আমার কাছে বেশ ধীরগতির লেগেছে। প্রথম ১০০-১৫০ পৃষ্ঠা পড়তে গিয়ে কয়েকবার কাহিনির প্রবাহ থেকে হারিয়ে গিয়েছিলাম। কারণ ফরেনসিক টার্মগুলো এত ঘনঘন এসেছে যে মাঝে মাঝে গল্পের চেয়ে