Boi Junction - বই জংশন

Call Directions Website

Boi Junction - বই জংশন ঘরে বসে বই কেনার এক অনন্য মাধ্যম বই জংশন। আপনার পছন্দের যেকোনো বই কিনুন বই জংশন থেকে...

তিনটি বই। তিনটি আলাদা জগৎ। অথচ তিনটির ভেতরেই আছে মানুষের গল্প, সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভালোবাসা, অন্ধকার আর জীবনের এমন কিছু...
17/08/2026

তিনটি বই। তিনটি আলাদা জগৎ। অথচ তিনটির ভেতরেই আছে মানুষের গল্প, সম্পর্কের টানাপোড়েন, ভালোবাসা, অন্ধকার আর জীবনের এমন কিছু সত্য, যেগুলো পড়তে পড়তে হয়তো নিজের গল্পের সঙ্গেও মিল খুঁজে পাবেন।

📚 বড় ভাই
একটি পরিবারের গল্প। সম্পর্কের ভেতরের ভালোবাসা, দায়িত্ব, অভিমান, ভাঙন আর আপন মানুষকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার দীর্ঘ উপাখ্যান।

📕 এখানে তাবিজ বিক্রি হয়
রহস্য, ভয়, অন্ধকার আর মানুষের বিশ্বাসকে ঘিরে নির্মিত এক ভিন্নধর্মী থ্রিলার। কিছু রহস্যের উত্তর খুঁজতে গিয়ে মানুষ কখনো কখনো এমন দরজায় পৌঁছে যায়, যে দরজা খুলে দেওয়ার পর আর আগের জীবনে ফিরে যাওয়া যায় না।

🖤 অকূলপাথার
অন্ধকারের আরও গভীরে নিয়ে যাওয়া এক রহস্যময় গল্প। যেখানে বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে কিছু মানুষ, কিছু গোপন সত্য এবং এমন এক অজানা জগৎ, যার গভীরতা মাপার কোনো উপায় নেই।

তিনটি বইয়ের গল্প তিন রকম। কিন্তু একটি জায়গায় তারা এক। আপনাকে গল্পের ভেতরে টেনে নিয়ে যাবে।

বড় ভাই | এখানে তাবিজ বিক্রি হয় | অকূলপাথার

তিনটি বই, তিনটি অভিজ্ঞতা।
আপনার বইয়ের তাকেও জায়গা করে নিতে পারে এই তিনটি গল্প।

২০২৬ বইমেলায় প্রকাশিত হওয়া কথাসাহিত্যিক Arif Khandaker এর নতুন তিনটি থ্রিলার উপন্যাস 'বড়ো ভাই', 'অকূলপাথার' ও 'এখানে তাবিজ বিক্রি হয়' সংগ্রহ করতে অর্ডার করুন Boi Junction - বই জংশন বুকশপে।

অর্ডার করতে বই জংশনের পেইজে ইনবক্স করুন অথবা বই জংশনের এই নাম্বারে কল করুন, 01823-818887

#আরিফখন্দকার


রিভিউ লিখেছে: সিনথিয়াবই: এখানে তাবিজ বিক্রি হয়লেখক: আরিফ খন্দকার পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৬৭৭প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬প্রকাশনী: অনিন্দ...
23/07/2026

রিভিউ লিখেছে: সিনথিয়া

বই: এখানে তাবিজ বিক্রি হয়
লেখক: আরিফ খন্দকার
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৬৭৭
প্রকাশকাল: বইমেলা ২০২৬
প্রকাশনী: অনিন্দ্য প্রকাশ

কিছু বই কেবল একটি গল্প বলে না, বরং পাঠককে এমন এক অচেনা জগতে নিয়ে যায়, যেখানে বাস্তবতা আর রহস্য একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। এখানে তাবিজ বিক্রি হয় ঠিক তেমনই একটি উপন্যাস। নামটি যতটা সহজ মনে হয়, এর ভেতরের গল্প ততটাই জটিল, অন্ধকার এবং চিন্তার খোরাক জোগানো। প্রথম কয়েকটি পৃষ্ঠা পড়ার পরই বোঝা যায়, এটি শুধু তাবিজ, অলৌকিক শক্তি কিংবা অতিপ্রাকৃত ঘটনার গল্প নয়; এটি মানুষের ভয়, বিশ্বাস, লোভ, ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা এবং অজানার প্রতি চিরন্তন আকর্ষণের এক গভীর অনুসন্ধান।

উপন্যাসের সবচেয়ে বড় শক্তি এর পরিবেশ নির্মাণ। লেখক এমনভাবে প্রতিটি দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন যে পাঠকের মনে হয় তিনি যেন নিজেই সেই সরু গলি দিয়ে হাঁটছেন, যেখানে ছোট্ট একটি দোকানের সামনে ঝুলছে কাঠের সাইনবোর্ড, লেখা আছে, 'এখানে তাবিজ বিক্রি হয়।' দোকানটি যেন কেবল একটি ব্যবসার জায়গা নয়, বরং অসংখ্য মানুষের ভাঙা স্বপ্ন, গোপন ভয় এবং অদৃশ্য অভিশাপের মিলনস্থল। এই পরিবেশ এতটাই জীবন্ত যে বই বন্ধ করার পরও এর আবহ দীর্ঘ সময় ধরে পাঠকের মনে থেকে যায়।

চরিত্র নির্মাণেও লেখক অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। এখানে কোনো চরিত্র একেবারে সাদা কিংবা কালো নয়। প্রত্যেকের ভেতরেই রয়েছে দ্বন্দ্ব, দুর্বলতা এবং নিজস্ব যুক্তি। তাদের সিদ্ধান্ত, ভয়, ভালোবাসা এবং অপরাধবোধ গল্পকে আরও বাস্তব করে তুলেছে। পাঠক একসময় বুঝতে পারেন, সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয়টি কোনো অতিপ্রাকৃত শক্তি নয়, বরং মানুষের নিজের মন।

ভাষার দিক থেকেও উপন্যাসটি প্রশংসার দাবি রাখে। অযথা জটিল শব্দের ব্যবহার নেই, আবার কোথাও ভাষা তার সাহিত্যিক সৌন্দর্যও হারায়নি। সহজ অথচ গভীর বাক্য, দৃশ্য বর্ণনার নিখুঁততা এবং সংলাপের স্বাভাবিকতা বইটিকে অত্যন্ত সাবলীল করে তুলেছে। প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে এমন এক ধরনের কৌতূহল তৈরি হয়, যা পাঠককে পরের অধ্যায়ে যেতে বাধ্য করে।

উপন্যাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর প্রতীকী অর্থ। এখানে তাবিজ কেবল একটি বস্তু নয়। এটি মানুষের অসহায়ত্ব, অন্ধবিশ্বাস এবং শেষ আশ্রয়ের প্রতীক। মানুষ যখন যুক্তিতে উত্তর খুঁজে পায় না, তখন সে অলৌকিকতার দরজায় কড়া নাড়ে। লেখক সেই মানসিক অবস্থাকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন। ফলে বইটি কেবল একটি থ্রিলার হয়ে থাকে না, এটি সমাজ, বিশ্বাস এবং মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলে।

রহস্য ও থ্রিলের দিক থেকেও এখানে তাবিজ বিক্রি হয় পাঠককে নিরাশ করে না। গল্পের গতি কখনো অযথা ধীর হয়ে যায় না, আবার অতিরিক্ত তাড়াহুড়োও নেই। প্রতিটি মোড় পরিকল্পিত, প্রতিটি রহস্যের পেছনে রয়েছে যুক্তিসঙ্গত নির্মাণ। পাঠক যত সামনে এগোতে থাকেন, ততই উপলব্ধি করেন যে দৃশ্যমান সত্যের আড়ালে আরও বড় একটি সত্য লুকিয়ে আছে।

সব মিলিয়ে এখানে তাবিজ বিক্রি হয় এমন একটি উপন্যাস, যা একই সঙ্গে রহস্য, মনস্তত্ত্ব, সামাজিক বাস্তবতা এবং সাহিত্যিক সৌন্দর্যের সমন্বয় ঘটিয়েছে। যারা কেবল বিনোদনের জন্য বই পড়েন, তারা যেমন এই বই থেকে রুদ্ধশ্বাস এক অভিজ্ঞতা পাবেন, তেমনি যারা গল্পের গভীরে লুকিয়ে থাকা প্রতীক, দর্শন এবং মানবমনের বিশ্লেষণ খুঁজে বেড়ান, তাদের কাছেও এটি সমান উপভোগ্য হবে।

এই বই শেষ করার পর পাঠকের মনে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়: সত্যিই কি তাবিজ মানুষের ভাগ্য বদলায়, নাকি মানুষ নিজের ভয় এবং বিশ্বাস দিয়েই নিজের ভাগ্য তৈরি করে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই হয়তো পাঠক আবারও ফিরে যেতে চাইবেন এখানে তাবিজ বিক্রি হয় উপন্যাসটির পাতায়।

রেটিং: ★★★★★ (৫/৫)

এখানে তাবিজ বিক্রি হয় শুধু একটি থ্রিলার নয়, এটি মানুষের বিশ্বাস, ভয় এবং অন্ধকার মানসিকতার গভীরে প্রবেশ করা এক স্মরণীয় সাহিত্যভ্রমণ।

কথাসাহিত্যিক আরিফ খন্দকারের ২০২৬ বইমেলার নতুন বই 'এখানে তাবিজ বিক্রি হয়' বইটি সংগ্রহ করতে অর্ডার করুন Boi Junction - বই জংশন বুকশপে।

অর্ডার করতে ম্যাসেজ করুন বই জংশন বুকশপের ইনবক্সে অথবা কল করুন বই জংশন বুকশপের এই নাম্বারে, 01823-818887

বইয়ের সাথে থাকছে—
লেখকের অটোগ্রাফ,
চিঠি,
বুকমার্ক ও
লেখকের ছবিসহ ব্যাগ।


'এখানে তাবিজ বিক্রি হয়' বই থেকে—সবকিছু হারিয়ে চন্দ্রনাথ আবার একা।এই একা শব্দটার মানে সে আগে বহুবার ব্যবহার করেছে, কিন্তু...
28/06/2026

'এখানে তাবিজ বিক্রি হয়' বই থেকে—

সবকিছু হারিয়ে চন্দ্রনাথ আবার একা।

এই একা শব্দটার মানে সে আগে বহুবার ব্যবহার করেছে, কিন্তু কোনোদিন ঠিক বুঝে ওঠেনি। তখন একা মানে ছিল—লোকজন নেই, শব্দ নেই, দাবি নেই। এখন একা মানে—কিছু নেই, এমনকি নিজের ভেতরের ভানটুকুও নেই।
তার সামনে পড়ে আছে সুপ্তির চুল।

চুলগুলো মাটির সঙ্গে এমনভাবে লেপ্টে আছে, যেন মাটিই সেগুলো ধরে রাখতে চেয়েছে। কোনো যত্ন নেই, কোনো সাজ নেই, কোনো মানবিক সৌন্দর্য নেই। এই চুলে আর কোনো গন্ধ নেই, নেই কোনো তাপ। শুধু প্রমাণ আছে—কেউ ছিল।
আঙুলটা একটু দূরে।

আঙুলের নখে হালকা মাটি লেগে আছে।

চন্দ্রনাথের মনে হয়, এই আঙুলটা শেষ মুহূর্তে কিছু ধরতে চেয়েছিল কি না। কিন্তু সে সঙ্গে সঙ্গেই এই ভাবনাটা সরিয়ে দেয়। কারণ ধরে নেওয়ার মতো কিছু তখন আর ছিল না। সব ছেড়ে দেওয়া হয়ে গেছে তার আগেই।

পা দুটো পড়ে আছে আলাদা করে।

পায়ের পাতা নিচের দিকে। এমনভাবে, যেন শেষবারের মতো মাটিকে অনুভব করার চেষ্টা করেছিল। এই পা দিয়ে সে পাহাড়ে হেঁটেছিল, জুমঘরে উঠেছিল, আকাশ দেখেছিল।
এখন এই পা আর কোনো জায়গায় যাবে না। চন্দ্রনাথ অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। এই দাঁড়িয়ে থাকা কোনো শোকের ভঙ্গি না। এটা হিসাব করার ভঙ্গি। সে বুঝতে চেষ্টা করে—কোথায় ভুল হলো।

কোন মন্ত্রে ফাঁক ছিল। কোন হিসাবটা সে ধরতে পারেনি।
কিন্তু ধীরে ধীরে একটা ভয়ংকর সত্য তার ভেতরে বসে যায়— এখানে কোনো ভুল ছিল না। এখানে ছিল সীমা।

জুমঘরের ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে তার বুকের ভেতরটা কেমন ফাঁকা হয়ে আসে।

এই ঘরটা একসময় আশ্রয় ছিল। এখন এটা সাক্ষী। চালার ফাঁক দিয়ে আকাশ দেখা যায়। আকাশ আজ নির্লিপ্ত। এই নির্লিপ্ততা কোনো রাগ না, কোনো করুণা না। এটা গুরুত্বহীনতা।

এই গুরুত্বহীনতাই তাকে ভেঙে দেয়। চন্দ্রনাথ চুরুট ধরায়।
আগুনটা নিখুঁতভাবে জ্বলে ওঠে। ধোঁয়া ওঠে সোজা হয়ে, তারপর ছড়িয়ে পড়ে। এই ধোঁয়ার মধ্যে কোনো তাড়াহুড়া নেই। সে টান দেয়। ধোঁয়া বুকের ভেতর ঢুকে পড়ে।

তার ফুসফুসে জমে থাকা সব ক্লান্তি, সব হিসাব, সব অহংকারের ওপর দিয়ে ধোঁয়াটা ধীরে ধীরে হাঁটে।
সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবে— কিছু কিছু মানুষের কাছে সে জিতেছিল। যারা তার সামনে বসে কেঁদেছে। যারা তার হাত ধরেছে। যারা তার কথাকে শেষ ভরসা ভেবেছে।
তাদের চোখে সে ছিল সমাধান। তাদের ভয়কে সে নিয়ন্ত্রণ করেছিল।

কিন্তু আজ এই আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে সে বুঝতে পারে—
এই সব জয়ের কোনো মানে নেই। কারণ সে নিজের কাছে হেরে গেছে। এই হারটা খুব নীরব। এতে কোনো দর্শক নেই।
কোনো বিচারক নেই। শুধু সে নিজে দাঁড়িয়ে আছে নিজের সামনে।

তার মনে পড়ে—সে কখনো কাউকে সত্যি ভালোবাসেনি।
ভালোবাসার কাছাকাছি যা কিছু ছিল, সেগুলো সে নিয়ন্ত্রণে পরিণত করেছে। কারণ ভালোবাসা ঝুঁকি। আর ঝুঁকি মানেই অনিশ্চয়তা।

আজ সেই অনিশ্চয়তাই তার সামনে পড়ে আছে, ছড়িয়ে থাকা শরীরের মতো। সে আর এগোয় না। কারণ এগোনো মানে মেনে নেওয়া। আর মেনে নেওয়ার শক্তি এখনো তার হয়নি।

চন্দ্রনাথ ধোঁয়া ছাড়ে। ধোঁয়াটা ঘরের ভেতর ঘুরতে থাকে।এই ঘুরে বেড়ানো ধোঁয়াটা তার জীবনের মতোই—কোথাও গিয়ে পৌঁছায় না। তার মনে হয়, এই মুহূর্তে তার কাছে আর কিছুই নেই।

প্রতিটা তাবিজ, প্রতিটা মন্ত্র, প্রতিটা আসন— সব এখন অর্থহীন। এই তাবিজগুলো এখন তার কাছে নিঃসঙ্গতার মতো লাগছে। সে বুঝতে পারে, নিঃসঙ্গতা আসলে কোনো অভাব না। এটা একটা অবস্থা। একটা অবস্থা, যেখানে তুমি কাউকে দোষ দিতে পারো না।

নিজেকেও না। চন্দ্রনাথ চোখ বন্ধ করে। এই প্রথম তার ভেতর কোনো আওয়াজ ওঠে না। কোনো মন্ত্র না। কোনো নির্দেশ না। শুধু শ্বাস। শ্বাসটা ভারী। কষ্টকর। এলোমেলো।
সে বড় করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে। এই দীর্ঘশ্বাসে কোনো কান্না নেই। আছে স্বীকৃতি। স্বীকৃতি যে, সে যা এতদিন শক্তি ভেবেছে, তা আসলে ছিল মানুষের অন্ধকার ব্যবহার করার দক্ষতা।

আর অন্ধকার একসময় নিজের দাম চায়। জুমঘরের বাইরে পাহাড় দাঁড়িয়ে থাকে। নির্বিকার। অপরিবর্তিত। এই পাহাড় তাকে কিছু বলেনি। কিছু নেয়নি। কিছু দেয়নি। এই না দেওয়া, না নেওয়াই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

চন্দ্রনাথ উঠে দাঁড়ায়। তার ভেতরে এখন আর কোনো তাড়াহুড়া নেই। সে জানে, সে আবার ফিরবে। কিন্তু এবার সে আর ক্ষমতার জন্য ফিরবে না। সে ফিরবে শূন্যতা নিয়ে।
আর এই শূন্যতা— সবচেয়ে ভয়ংকর তাবিজ।

কথাসাহিত্যিক আরিফ খন্দকারের লেখা ২০২৬ বইমেলার নতুন তিনটি বই অটোগ্রাফসহ ঘরে বসেই সংগ্রহ করুন Boi Junction - বই জংশন বুকশপ থেকে।

অর্ডার করতে বই জংশন বুকশপের ইনবক্সে ম্যাসেজ করুন অথবা বই জংশন বুকশপের এই নাম্বারে কল করুন, 01823-818887

বি:দ্র: অর্ডার করার ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে বই পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।

🎈বড়ো ভাই (ফ্ল্যাপের লেখা)কিছু নিখোঁজ কেবল মানুষকে গিলে খায় না। তারা রেখে যায় ভয়। নীরবতা। আর এমন এক অপেক্ষা, যার কোনো শেষ...
27/06/2026

🎈বড়ো ভাই (ফ্ল্যাপের লেখা)

কিছু নিখোঁজ কেবল মানুষকে গিলে খায় না। তারা রেখে যায় ভয়। নীরবতা। আর এমন এক অপেক্ষা, যার কোনো শেষ নেই।

রাজনৈতিক অস্থিরতার এক অন্ধকার সময়ে তূর্যের বাবা হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। থানার খাতা বলে, সে নেই। রাষ্ট্র বলে, কিছু জানে না। কিন্তু হাজারীবাগের টিনশেড ঘরের ভেতর থেকে কেউ জানে—একজন মানুষ নিখোঁজ হলে তার ছায়া থেকে যায়। আর সেই ছায়াতেই বড় হতে হয় তূর্যকে।

এক রাতেই সে বড়ো ভাই হয়ে ওঠে। সংসারের ভার এসে পড়ে তার কাঁধে। মায়ের মুখে নেমে আসে স্থায়ী নীরবতা। ছোট বোনের জীবনে ঢুকে পড়ে এমন এক সত্য, যেটা সমাজ ক্ষমা করে না। রাজনীতি যেখানে ব্যর্থ হয়, সেখানে দায় চাপানো হয় পরিবারের ওপর।

এই শহরে ভালোবাসা বিলাসিতা। নৈতিকতা পরিস্থিতির সঙ্গে বদলায়। আর প্রতিবাদ মানে নিজের নাম মুছে ফেলা। তূর্য জানে—বাঁচতে হলে চুপ থাকতে হয়। কিন্তু চুপ থাকারও মূল্য আছে। সেই মূল্য দিতে গিয়ে সে হারায় নিজেকে। হারায় ভালোবাসা। হারায় ভবিষ্যৎ।

‘বড়ো ভাই’ কোনো আশা জাগানো গল্প নয়। এটা ক্ষমতার নিচে পিষ্ট হয়ে যাওয়া মানুষের দলিল। এটা দেখায়, রাজনীতি কীভাবে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। কীভাবে একজন মানুষকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে দেয়, অথচ বেঁচে রাখে।

‘বড়ো ভাই’— যেখানে রাষ্ট্র প্রশ্নহীন। আর দায়টা সবসময় পরিবারের।

🎈অকূলপাথার (ফ্ল্যাপের লেখা)

‘পুলিশ যখন দরজায় কড়া নাড়ল, তখনও কেউ জানে না—ভেতরে ভেতরে অনেক আগেই একটা বাড়ি ভেঙে পড়েছে।’

নিখিলকে হাতকড়া পরানো হয়। লাবনী দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে, তার ঠোঁট কাঁপে কিন্তু কোনো শব্দ বের হয় না। যে কথা বলতে এসেছিল, সেই কথাটাই আর বলা হয় না। কিছু কথা সময়মতো না বললে, পরে আর বলার মতো সময় থাকে না।

অরুণ সাহেব সারা জীবন সংসারটাকে ধরে রাখতে চেয়েছেন। আঞ্জুমান বুকের ভেতর ভয় লুকিয়ে রেখেছেন। সীমা তার অদৃশ্য খুঁতটাকে আড়াল করে বাঁচতে চেয়েছে। মিথিল সব হিসেব কষে চলেছে। আর নিখিল? সে ভেবেছিল ছোট ছোট গোপন রাখলে কোনো ক্ষতি হয় না।

কিন্তু গোপন সত্য কখনও ছোট থাকে না।।সেগুলো বড় হতে হতে একসময় পুরো পরিবারটাকেই গ্রাস করে। ‘জেলখানার ভেতর বসে নিখিল ভাবছে— আমরা কি সত্যিই একদিনে ডুবে গেলাম? নাকি অনেক আগেই স্রোতে ভেসে গিয়েছিলাম, শুধু বুঝিনি?’

অকূলপাথার শুধু একটি ঘটনার গল্প নয়। এটা ধীরে ধীরে ভাঙনের গল্প। এমন এক ডুবে যাওয়ার গল্প, যার শব্দ বাইরে শোনা যায় না। ভালোবাসা এখানে আশ্রয়ও, আবার বিপদও। নীরবতা এখানে রক্ষা নয়, বরং ফাঁদ।

🎈এখানে তাবিজ বিক্রি হয় (ফ্ল্যাপের লেখা)

হাজারীবাগের পুরনো এক ঘুপচি গলি। এই গলির মুখেই ষাটোর্ধ্ব এক জবুথবু তান্ত্রিকের বাস। খালি শরীর, গলায় অসংখ্য তাবিজ আর একটা সাদা লুঙ্গি পরনে। অসংখ্য মানুষের ভিড় থাকে প্রতিদিন তার বাড়িতে। কেউ আসে কৌতূহলবশত, কেউ আসে শরীরের অসুখ তো কেউ আসে মনের অসুখ নিয়ে।

কেউ আসে কাছের মানুষকে কাছে ফিরে পেতে, কেউ আসে আবার অপছন্দের মানুষকে দূরে সরাতে, কেউ আসে মনের মানুষকে বশ করে নিতে, কেউ আসে অসাধ্য কিছুকে নিজের সাধ্যে ফিরিয়ে আনতে। অথচ কেউ কেউ এসে তার কাছ থেকে আর ফিরে যেতে পারে না, কেবল আসতেই থাকে।

এত এত মানুষের কাছে এত এত তাবিজ বিক্রি করার পর তান্ত্রিক চন্দ্রনাথের কাছে যখন আর কোনো তাবিজই থাকে না তখন সে পড়ে যায় মহাবিপদে। হঠাৎ এক অমাবস্যা রাতে তার মনে হয়, নিজের বলে আর কিছুই থাকল না কেবল একটা নিঃসঙ্গতার তাবিজ ছাড়া। কিন্তু এই নিঃসঙ্গতার তাবিজেই থাকে এক গভীর রহস্য।

কথাসাহিত্যিক আরিফ খন্দকারের ২০২৬ বইমেলার নতুন তিনটি থ্রিলার উপন্যাস 'বড়ো ভাই', 'অকূলপাথার' ও 'এখানে তাবিজ বিক্রি হয়' সংগ্রহ করতে অর্ডার করুন Boi Junction - বই জংশন বুকশপের ইনবক্সে অথবা কল করুন বই জংশনের এই নাম্বারে, 01823-818887

🎗️বইয়ের সাথে থাকছে—

লেখকের অটোগ্রাফ,
লেখকের হাতে লেখা চিঠি ও
আকর্ষণীয় বুকমার্ক।

বি:দ্র: অর্ডার করার ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে বই পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।

দেশটার বাতাস তখন অদ্ভুত। যেন শহরের সব রাস্তার ওপর এক ধরনের চাপা ঘোলাটে ধোঁয়া পড়ে আছে। খবরের কাগজ খুললেই গরম গরম শিরোনাম,...
23/06/2026

দেশটার বাতাস তখন অদ্ভুত। যেন শহরের সব রাস্তার ওপর এক ধরনের চাপা ঘোলাটে ধোঁয়া পড়ে আছে। খবরের কাগজ খুললেই গরম গরম শিরোনাম, টিভিতে সারাক্ষণ ভাঙা ভাঙা শব্দে বক্তৃতা, আর বাইরে বেরোলেই মানুষ চোখ এড়ায়। কথা কমে গেছে। সন্দেহ বেড়েছে।
এমন সময় তারেক নিখোঁজ হয়ে পড়ে।
তারেক কোনো বড় নেতা ছিল না। সে ছিল কর্মী। মাঠে থাকত, লাইন সামলাত, লোক জড়ো করত, মাইক ধরত, রাতভর পোস্টার লাগাত। দলের ভেতরে তার অবস্থান ছিল চেনা মুখ ধরনের। যাকে সবাই জানে, কিন্তু যাকে কেউ গুরুত্ব দিয়ে খবরের কাগজে লেখে না।
তারেকের বাসাটা শহরের এমন এক কোণায়, যেখানে দেয়ালগুলোতে বারবার রং করা হয়, কারণ বারবার পোস্টার লাগে। জানালার গ্রিল ধরে তাকালে দেখা যায়, দূরের মোড়ে একটা চায়ের দোকান। দোকানটা দিন-রাত রাজনৈতিক কথায় গরম থাকে। কারা ক্ষমতায় যাবে, কারা নামবে, কারা উধাও হয়ে যাবে… এসব কথা যেন চায়ের ধোঁয়ার সঙ্গে মিশে বাতাসে উড়ে বেড়ায়।
সেদিন বিকেলে তারেক বেরিয়েছিল।
স্ত্রী মেহবুবা রান্নাঘরে ভাত নামাচ্ছিলেন। চুলার পাশে গরমে মুখ ঘামছিল, আর সে ঘাম মুছতে মুছতে বলেছিল, 'এত দেরি করবে নাকি?'
তারেক জুতা গলাতে গলাতে একবার পিছনে তাকিয়েছিল।
'একটু মিটিং আছে। আজকাল কাজগুলো… বুঝোই তো।'
বড় মেয়ে তূর্ণা তখন বইখাতা গুছাচ্ছিল। বয়স খুব বেশি না, কিন্তু চোখে একটা বড় হওয়ার তাড়াহুড়া আছে। সে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল—এমন তাকানো, যেন বুঝতে চাইছে আজকের মুখটা অন্য দিনের মুখ থেকে আলাদা কি না।
আর তৃণা? সে ঠিক তখনই মেঝেতে বসেছিল। বাবার বেরোনো মানেই তার কাছে বড় ব্যাপার না। বাবা তো বেরোয়ই। আবার আসে। এটা তার পৃথিবীর নিয়ম।
তারেক বেরিয়ে গেল।
সন্ধ্যা নামতে নামতে বাইরে অস্বাভাবিক নীরবতা। রাস্তায় লোক কম। দোকানদাররা শাটার নামাচ্ছে দ্রুত। মোড়ে মোড়ে পুলিশের গাড়ি, আবার কোথাও কোথাও এমন লোক দাঁড়িয়ে—যাদের ইউনিফর্ম নেই, পরিচয়ও নেই। শুধু চোখ আছে, নজর আছে।
রাত আটটা বাজে। তারেক ফেরে না। মেহবুবা ফোন দেয়। রিং হয় না। আবার দেয়। এবার সুইচড অফ। সে প্রথমে নিজেকে বোঝায়—হয়তো ব্যাটারির চার্জ শেষ। হয়তো নেট নেই। কিন্তু ভিতরের মানুষটা এসব যুক্তি মানে না। ভিতরের মানুষটা আগেই ভয় পেয়ে বসে থাকে।
নয়টা। দশটা। তূর্য বারবার দরজার দিকে তাকায়। তারপর বলে, 'আব্বা কই?'
মেহবুবা উত্তর দিতে পারে না ঠিকমতো। শুধু বলে,
'এখনই চলে আসবে।'
তূর্ণা চুপ করে বসে থাকে। চুপ থাকা তার স্বভাব না, কিন্তু এই রাতে সে কথা বললে মনে হয় কিছু ভেঙে যাবে। সে বুঝতে পারে—বাবা দেরি করছে না, কোথাও আটকে গেছে। কিন্তু আটকে গেছে মানে কী, সেটা বোঝার জন্যও এখন বয়সটা কম।
রাত এগারোটা। এবার ভয়টা ঘরে ঢুকে পড়ে নিশ্চিতভাবে।
দরজার বাইরে কোনো শব্দ হলেই মনে হয় তারেক ফিরছে। আবার শব্দ থেমে গেলে বুকের ভিতর ফাঁকা লাগে।
পাশের বাসার লোক এসে খোঁজ নেয়। কেউ বলে,
'আজকে তো অবস্থা খারাপ। ভাইকে বের হতে নিষেধ করছিলাম।'
কেউ বলে, 'আপনারা দল করেন—আপনাদেরই তো ঝামেলা বেশি।'
তারেক যে রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিল—সেটাই বিপত্তি।
কারণ তখন দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন, যেখানে কারও পরিচয় নির্দোষ থাকে না।
আপনি কার পক্ষে দাঁড়ালেন, সেটা আপনার জীবনের দাগ হয়ে যায়।
পরদিন সকালে মেহবুবা থানায় যেতে চায়। কিন্তু যাওয়ার আগে হাজারবার ভাবে—থানায় গেলে কি উপকার হবে? নাকি উল্টো বিপদ বাড়বে? থানায় গেলে প্রথম প্রশ্নই আসে, 'আপনার স্বামী কী করেন?'
মেহবুবা সত্য লুকাতে পারেন না। 'দলের কাজ করতেন।'
এই কথাটার পর অফিসারের চোখের দৃষ্টি বদলে যায়। যেন নিখোঁজটা হঠাৎ সাধারণ নিখোঁজ থাকে না। সেটা হয়ে ওঠে একটা কেস আর কেস মানে, প্রশ্ন। প্রশ্ন মানে, সন্দেহ। শেষ কোথায় গিয়েছিল? কার সঙ্গে ছিল? কোন মিটিং? কাদের নাম বলতে পারবেন?
মেহবুবা নাম জানে না। তারেক কখনো ঘরে দলের ভেতরের কথা বেশি আনত না। সে শুধু বলত, সময় খারাপ।
আর মেহবুবা সেটা শুনে রান্না চালিয়ে যেত।
থানা থেকে বেরিয়ে আসার সময় মনে হয়—সে সাহায্য নিতে যায়নি বরং একটা দরজায় হাত রেখে এসে বুঝেছে দরজার ওপারে অন্ধকার আছে।
এদিকে তূর্য বাসায় বসে বাবার জুতার দিকে তাকিয়ে থাকে। দরজার পাশে রাখা সেই জুতাগুলো… যেন প্রমাণ করে, বাবা এখানকারই। এই ঘর তার। সে হারিয়ে যেতে পারে না।
তূর্ণা মাকে দেখে। মায়ের চোখ লাল। কথা বললে গলা কাঁপে। তূর্ণা হঠাৎ বুঝে যায়—এই ঘরে এখন সে-ই বড়। এই ঘরে তাকে শক্ত হতে হবে। কারণ তৃণা তেমন কিছু বোঝে না। তূর্য বোঝে, কিন্তু ভেঙে পড়ছে। আর মা… মা নিজের ভেতরে আটকে যাচ্ছে।
সন্ধ্যার দিকে খবরটা আসে অন্যভাবে। একজন পরিচিত লোক ফিসফিস করে বলে, 'আপা, ভাইকে কালকে রাতে দেখা গেছে… কিন্তু খোলাখুলি কিছু বলা যাবে না।'
'কোথায়?' স্ত্রী জিজ্ঞেস করে।
লোকটা চোখ এড়িয়ে বলে,
'একটা গাড়ি ছিল। কালো কাঁচ। মোড়ের কাছে… তারপর আর…'
তারপর আর কিছু নেই। অথবা আছে, কিন্তু বলা যাবে না।
তারেক নিখোঁজ হয়ে পড়েছে, ঠিক। কিন্তু তার নিখোঁজ হওয়ার চেয়েও ভয়ংকর হলো—এই শহরে কিছু মানুষ জানে, তবু চুপ। এটাই সেই সময়, যখন মানুষের চুপ থাকা সবচেয়ে বেশি শব্দ করে।
রাত নামলে তৃণা ঘুমিয়ে পড়ে। তূর্য জেগে থাকে। হঠাৎ সে মাকে বলে, 'আমার আব্বা তো খারাপ মানুষ না… তাই না?'
মেহবুবা ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকেন। উত্তরটা খুব সহজ, 'না।'
কিন্তু সহজ উত্তর দিতে গিয়ে বুক ফেটে যায়।
মেহবুবা শুধু বলে,
'না, তূর্য। তোর আব্বা খারাপ না।'

কথাসাহিত্যিক আরিফ খন্দকারের নতুন বই 'বড়ো ভাই' উপন্যাসটি ঘরে বসে সংগ্রহ করতে পারছেন বই জংশন বুকশপ থেকে। অর্ডার করতে Boi Junction - বই জংশন বুকশপের ইনবক্সে ম্যাসেজ করুন অথবা বই জংশনের এই নাম্বারে কল করুন, 01823-818887

বইয়ের সাথে থাকছে—

লেখকের অটোগ্রাফ,
চিঠি ও
বুকমার্ক।

বি:দ্র: অর্ডার করার ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে বই পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।

'মায়া খুন করে ফেললেই মানুষ নিরাপদ। এই মায়া মায়া করেই মানুষ একটা জীবন কাটিয়ে দেয়। বিনিময়ে গিয়ে দেখে মায়ার আগে-পিছে যা ছিল...
21/06/2026

'মায়া খুন করে ফেললেই মানুষ নিরাপদ। এই মায়া মায়া করেই মানুষ একটা জীবন কাটিয়ে দেয়। বিনিময়ে গিয়ে দেখে মায়ার আগে-পিছে যা ছিলো তা কেবল শূন্য।'

কথাসাহিত্যিক আরিফ খন্দকারের থ্রিলার উপন্যাস 'রজনীগন্ধা রিসোর্ট' সংগ্রহ করে ফেলুন বই জংশন থেকে। অর্ডার করতে Boi Junction - বই জংশন বুকশপের ইনবক্সে ম্যাসেজ করুন অথবা বই জংশনের এই নাম্বারে কল করুন, 01823-818887

বইয়ের সাথে থাকছে—

লেখকের অটোগ্রাফ,
চিঠি ও
বুকমার্ক।

বি:দ্র: অর্ডার করার ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে বই পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।

হাজারীবাগের পুরনো গলিটা দিনের বেলায়ও খুব একটা স্বস্তির না। রোদ ঠিকমতো ঢোকে না, বাতাস ঢুকলেও যেন ঘুরপাক খেয়ে আটকে থাকে। গ...
21/06/2026

হাজারীবাগের পুরনো গলিটা দিনের বেলায়ও খুব একটা স্বস্তির না। রোদ ঠিকমতো ঢোকে না, বাতাস ঢুকলেও যেন ঘুরপাক খেয়ে আটকে থাকে। গলির দু’পাশে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকা বাড়িগুলো এত কাছাকাছি যে, মনে হয় তারা পরস্পরের গোপন কথা ফিসফিস করে বলছে। দেয়ালের রং একসময় হয়তো সাদা ছিল, বা হলুদ, বা হালকা নীল—এখন আর বোঝার উপায় নেই। বছরের পর বছর জমে থাকা ধুলো, স্যাঁতসেঁতে ছোপ, শ্যাওলার দাগ সব মিলিয়ে দেয়ালগুলো যেন নিজের রং নিজেই মুছে ফেলেছে।
এই গলিটা ঢাকার ভেতরেই, অথচ ঢাকার মতো নয়। বাইরে মূল রাস্তায় বাস, রিকশা, মানুষের চিৎকার, হর্নের কোলাহল—সব মিলিয়ে যে শহরটা চেনা লাগে, গলির মুখ পেরোলেই সেটা হঠাৎ থেমে যায়। শব্দগুলো যেন সাহস করে ভেতরে ঢুকতে পারে না। গলির ভেতরে ঢুকলেই কানে আসে অন্য ধরনের শব্দ—দূরের কোনো ভাঙা জানালার ঝাঁপটার খটখট, অদৃশ্য কোথাও থেকে আসা পানির ফোঁটার টুপটাপ, কখনো বা কোনো অচেনা পাখির কর্কশ ডাক, যেটা দিনের বেলায় খুব কমই শোনা যায়।
সন্ধ্যা নামতে শুরু করলেই গলিটা বদলে যায়। সূর্য ডোবার আগেই এখানে অন্ধকার জমতে থাকে। আকাশে তখনো আলো আছে, কিন্তু গলির ভেতরে সেই আলো এসে পৌঁছায় না। লোহার পুরনো বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ঝুলে থাকা একটা মাত্র স্ট্রিটলাইট আছে, সেটাও সবসময় জ্বলে না। জ্বললেও আলোটা কেমন অসুস্থ—হলুদাভ, কাঁপা কাঁপা, ঠিক যেন নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার।
এই গলির নাম কেউ ঠিকঠাক জানে না। সরকারি কাগজে হয়তো একটা নাম আছে, কিন্তু সেটা কেউ ব্যবহার করে না। আশপাশের লোকজন একে বলে ‘ভূতের গলি’। কথাটা প্রথমে হাসির ছলে বলা হলেও, এখন আর কেউ হাসে না। নামটা যেন গলির গায়ে লেগে গেছে।
আগে সন্ধ্যার পর এখানে মানুষজন একেবারেই আসত না। দিনের আলো থাকতেই যারা ঢুকত, কাজ সেরে দ্রুত বেরিয়ে যেত। দোকানপাট নেই বললেই চলে। দু’একটা ছোট ঘর আছে, যেগুলোতে মানুষ থাকে কিনা বোঝা যায় না। জানালায় আলো জ্বলে না, দরজার সামনে কারও জুতো থাকে না। মাঝেমধ্যে সকালে দেখা যায়, কোনো এক দরজার সামনে একটা পানির বোতল বা ভাঙা বালতি রাখা—তারপর আবার দিনের শেষে সব উধাও।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি একটু বদলেছে।
গত কয়েক মাসে গলিতে মানুষের যাতায়াত বেড়েছে। খুব বেশি না, তবে আগের তুলনায় স্পষ্ট। সন্ধ্যার পরেও দু’একজনকে ঢুকতে দেখা যায়। কারও হাতে ব্যাগ, কারও হাতে ছোট পুঁটলি, কেউ বা মোবাইল ফোনটা শক্ত করে ধরে আছে—যেন আলোটা হাত থেকে পড়ে গেলে সে নিজেই অন্ধকারে হারিয়ে যাবে।
কেউ জিজ্ঞেস করলে তারা ঠিকঠাক উত্তর দেয় না। বলে, ‘একটা কাজ আছে।’ বা ‘একজনের সাথে দেখা করতে এসেছি।’ আবার কেউ কিছুই বলে না। চোখ নামিয়ে দ্রুত হেঁটে চলে যায়।
এই পরিবর্তনটা আশপাশের মানুষ লক্ষ করেছে। চায়ের দোকানে বসে গল্প করা লোকজন এখন আর আগের মতো নির্ভার না। গলির কথা উঠলেই গলার স্বর নিচু হয়ে আসে। কেউ বলে, ‘ওদিকে আজকাল লোকজন যাচ্ছে বেশি।’ আরেকজন বলে, ‘ভালো লক্ষণ না।’ কেউ কেউ আবার যুক্তি দেখানোর চেষ্টা করে—ঢাকা বড় হচ্ছে, মানুষ বাড়ছে, জায়গার অভাব—সব গলিতেই তো মানুষ যাবে। কিন্তু যুক্তিগুলো খুব বেশিদূর এগোয় না। কথাবার্তা শেষ পর্যন্ত গিয়ে থামে একটা দীর্ঘ নীরবতায়।
কারণ এই গলির ইতিহাস আছে। লিখিত না, মুখে মুখে বেঁচে থাকা ইতিহাস।
কেউ বলে, অনেক বছর আগে এখানে একটা পরিবার থাকত। এক রাতের মধ্যে সবাই নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘর ঠিকঠাক, জিনিসপত্র সব আছে, শুধু মানুষ নেই। কেউ বলে, গলির একেবারে শেষ মাথায় একটা পুরনো দালান আছে, যেটা দিনের আলোয়ও অদ্ভুত লাগে। সেখানে রাত হলে নাকি আলো জ্বলে—কিন্তু সেই আলো বিদ্যুতের না, মোমের না, আগুনেরও না।
এসব কথা যে একেবারে বানানো, তা কেউ জোর দিয়ে বলতে পারে না। আবার কেউ প্রমাণও দিতে পারে না। গলিটা নিজেই যেন সব প্রশ্নের উত্তর গিলে খেয়ে ফেলে।
বর্ষাকালে জায়গাটা আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। গলির মাটি কাঁচা না, পুরো পাকা। তবু কোথা থেকে যেন পানি উঠে আসে। হাঁটলে মনে হয় মাটির নিচে কিছু নড়ছে। ড্রেনের মুখগুলো অস্বাভাবিক বড়, আর সেগুলো থেকে মাঝেমধ্যে এমন গন্ধ আসে, যা শুধু নোংরা পানির গন্ধ নয়। তার ভেতরে কেমন একটা পচা, পুরনো, ভুলে যাওয়া কিছুর গন্ধ মিশে থাকে।
সন্ধ্যার পর কেউ যদি একা একা গলির ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকে, তার নিজের পায়ের শব্দই তাকে ভয় দেখাতে শুরু করে। মনে হয় পেছনে আরেক জোড়া পা হাঁটছে। ঘাড়ের লোম খাড়া হয়ে যায়, অথচ ঘুরে তাকালে কাউকে দেখা যায় না।
এই গলিতে সময়ও ঠিকঠাক চলে না। বাইরে আজান পড়লে বোঝা যায় সন্ধ্যা হয়েছে। কিন্তু ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকলে মনে হয়, সময় আটকে আছে। মিনিটগুলো লম্বা হয়ে যায়, আর সেকেন্ডগুলো কেমন যেন ভারী।
যে কারণে এই গলির মানুষজন এখন বেড়েছে, সেটা কেউ প্রকাশ্যে বলে না। তবে গোপনে ফিসফিস করে একটা কথা ছড়িয়ে পড়েছে—এখানে নাকি কিছু পাওয়া যায়। এমন কিছু, যেটা শহরের আর কোথাও মেলে না। কারও মতে সেটা সমাধান, কারও মতে প্রতিশোধ, আবার কারও মতে মুক্তি।
কিন্তু যারা একবার ঢুকেছে, তারা সবাই আগের মতো ফিরে আসে না।
কেউ ফিরে আসে আরও চুপচাপ হয়ে। কেউ ফিরে এসে হঠাৎ অকারণে হাসে। কেউ আবার ফিরে আসে না একেবারেই।
হাজারীবাগের পুরনো এই গলি তাই শুধু একটা রাস্তা না। এটা একটা সীমা। দিনের আর রাতের সীমা। চেনা আর অচেনার সীমা। আর খুব সম্ভবত—মানুষ আর অমানুষের মাঝখানের সীমা।

কথাসাহিত্যিক আরিফ খন্দকারের নতুন থ্রিলার উপন্যাস 'অকূলপাথার' বইটি সংগ্রহ করতে অর্ডার করুন Boi Junction - বই জংশন বুকশপে। অর্ডার করতে Boi Junction - বই জংশন বুকশপের ইনবক্সে ম্যাসেজ করুন অথবা বই জংশনের এই নাম্বারে কল করুন, 01823-818887

বইয়ের সাথে থাকছে—

লেখকের অটোগ্রাফ,
চিঠি ও
বুকমার্ক।

বি:দ্র: অর্ডার করার ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে বই পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।

রিভিউ- শিউলি আহসানবই- এখানে তাবিজ বিক্রি হয় ধরণ- থ্রিলার উপন্যাস পৃষ্ঠা সংখ্যা- ৬৫০প্রকাশকাল- বইমেলা ২০২৬'এখানে তাবিজ বি...
19/06/2026

রিভিউ- শিউলি আহসান

বই- এখানে তাবিজ বিক্রি হয়
ধরণ- থ্রিলার উপন্যাস
পৃষ্ঠা সংখ্যা- ৬৫০
প্রকাশকাল- বইমেলা ২০২৬

'এখানে তাবিজ বিক্রি হয়' পড়তে পড়তে সত্যি নলতে মনে হচ্ছিলো চন্দ্রনাথ তান্ত্রিকের হাজারীবাগের বাসায় চলে গিয়েছিলাম একদম। মনে হচ্ছিলো, প্রত্যেকটা ঘটনা চোখের সামনে ঘটছিলো। আমি স্তব্ধ হয়ে সবকিছুর সাক্ষী হচ্ছিলাম।

এতো জীবন্ত কি করে লেখা যায় আরিফ খন্দকারের এই বইটা না পড়লে বুঝতে পারতাম না কোনোভাবেই। হরহর করে পড়ে ফেলেছি একদম। এতো বড় একটা বই ৬৫০ পৃষ্ঠার মনে হচ্ছে এক নিশ্বাসে পড়ে ফেলেছি। কি সুন্দর ঝরঝরে লেখা। এভাবেও লেখা সম্ভব।

চন্দ্রনাথ তান্ত্রিককে দিয়ে এই উপন্যাসের শুরু, তার হাজারীবাগের বাসায় আর শেষ হয় বান্দরবানের গহীনের এক পাহাড়ে। কালো জাদু, তাবিজ-কবচের লীলাখেলা এই উপন্যাসের প্রতিটি পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় আঁকা। কি রহস্যময় একটা উপন্যাস পড়লাম।

মনে হচ্ছে উপন্যাসটা পড়ে শেষ করার পরও সবকিছু চোখের সামনে ভাসছে কেবল। মনে হচ্ছে স্বপ্নে দুঃস্বপ্নে চন্দ্রনাথ তান্ত্রিক, অজান্তা, কমলা, স্বপ্না এই চরিত্রগুলো মাথার ভেতর ঘুরপাক খাচ্ছে। এই থ্রিলার উপন্যাস লেখক কি করে লিখলেন আমার প্রশ্ন এটা। যাই হোক, লেখককে ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা বই লেখার জন্য।

লেখকের পরবর্তী বইয়ের অপেক্ষায় রইলাম।

কথাসাহিত্যিক আরিফ খন্দকারের নতুন থ্রিলার উপন্যাস 'এখানে তাবিজ বিক্রি হয়' বইটি সংগ্রহ করে ফেলতে পারছেন বই জংশন বুকশপ থেকে। অর্ডার করতে Boi Junction - বই জংশন বুকশপের ইনবক্সে ম্যাসেজ করুন অথবা বই জংশনের এই নাম্বারে কল করুন, 01823-818887

বইয়ের সাথে থাকছে—

লেখকের অটোগ্রাফ,
চিঠি ও
বুকমার্ক।

অর্ডার করার ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে বই পৌঁছে যাবে আপনার ঘরে।

চন্দ্রনাথ আসন ছেড়ে ওঠে। উঠে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই সে টের পায়, শরীরটা তার নিজের মতো নেই। আসনে বসে থাকা অবস্থায় যে কঠিন স্...
19/06/2026

চন্দ্রনাথ আসন ছেড়ে ওঠে। উঠে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই সে টের পায়, শরীরটা তার নিজের মতো নেই। আসনে বসে থাকা অবস্থায় যে কঠিন স্থিরতা তাকে ধরে রেখেছিল, উঠে দাঁড়াতেই সেই স্থিরতা ভেঙে পড়ে। বুকের ভেতরে কেমন একটা অস্বস্তি ঘুরে বেড়াতে থাকে। যেন কিছু আটকে আছে। নিশ্বাস নিচ্ছে, কিন্তু পুরোটা ঢুকছে না। মাথার ভেতরে সেই দৃশ্যটা এখনো ঝুলে আছে। কদবেল গাছ। স্থির শরীর। অজান্তা। সে জানে, এই অবস্থায় সে কোনো কাজ করতে পারবে না। এই ভার নিয়ে এগোনো যায় না।

তার গোসল করতে ইচ্ছে হয়।

এই ইচ্ছে সাধারণ গোসলের না। ধুলো মুছে ফেলার ইচ্ছে না। এটা ভেতরের কিছু ধুয়ে ফেলার ইচ্ছে। বহুদিন ধরে সে জানে, কিছু দৃশ্য শরীরের ভেতরে লেগে থাকে। চোখে না, ত্বকে না, বরং গভীর কোথাও। সেখান থেকে সেগুলো সরাতে হলে জল লাগে। কিন্তু সাধারণ জল না। জলকে বদলাতে হয়।

চন্দ্রনাথ ধীরে ধীরে গোসলঘরের দিকে যায়। হাঁটার সময় সে নিজের পায়ের শব্দ শোনে। শব্দগুলো অচেনা লাগে। যেন অন্য কেউ হাঁটছে। গোসলঘরটা ছোট। সাদামাটা। আলো কম। এই কম আলোই তার দরকার। উজ্জ্বল আলো আজ তাকে সহ্য করতে হবে না।

সে পাত্রটা বের করে আনে।

দুধ। সাদা। শান্ত। আর লাল রক্ত। খুব অল্প। মাপা। এই মাপটা সে জানে। কখন কতটা দরকার, সেটা সে কখনো ভুল করে না। সে ধীরে ধীরে দুধের সঙ্গে লালটা মেশায়। মেশানোর সঙ্গে সঙ্গে রঙ বদলায়। সাদা আর লালের মাঝখানে একটা নরম গোলাপি রং তৈরি হয়। রংটা অদ্ভুতভাবে সুন্দর। খুব শান্ত। যেন কোনো ভোরের আকাশ। এই রঙটা তার ভালো লাগে। কারণ এই রঙে চরমতা নেই। না পুরো সাদা। না পুরো লাল। মাঝখানের একটা অবস্থান। ঠিক যেমন সে নিজে।

সে কল খুলে সেই গোলাপি জল নিজের শরীরের ওপর ঢালে।

প্রথম স্পর্শেই ঠান্ডা।

এমন ঠান্ডা যে শরীর কেঁপে ওঠে। কিন্তু এই কাঁপুনি ভয় থেকে না। এটা স্বস্তির কাঁপুনি। যেন শরীর বুঝে গেছে, এখন তাকে হালকা করা হবে। চন্দ্রনাথ চোখ বন্ধ করে। গোলাপি জল তার মাথার ওপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ে। চুল ভিজে যায়। কপাল। চোখের পাতা। গাল। জল গড়াতে গড়াতে বুকের ওপর নামে।

এই ঠান্ডায় তার ভালো লাগে।

এই ভালো লাগাটা খুব ধীরে আসে। প্রথমে শুধু শীতলতা। তারপর সেই শীতলতার ভেতর দিয়ে একটা শূন্যতা বেরিয়ে যেতে থাকে। যেন শরীরের ভেতরে জমে থাকা ক্লান্তি, না পাওয়া, অপূর্ণতা সব ধুয়ে যাচ্ছে। সে জানে, এই অনুভূতি সাময়িক। কিন্তু এই সাময়িকতাই এখন তার দরকার।

সে দুই হাত দিয়ে জল তুলে নেয়। গায়ে ঢালে। আবার। আবার। প্রতিবার জল ঢালার সঙ্গে সঙ্গে মনে হয়, ভেতরের কোনো একটা স্তর খুলে যাচ্ছে। বহুদিন ধরে যে স্তর সে নিজেই বানিয়েছিল, আজ সেটার দরকার নেই।

গোলাপি জল মেঝেতে পড়ে। নালার দিকে ধীরে ধীরে চলে যায়। সে এক মুহূর্তের জন্য তাকিয়ে থাকে সেই জলটার দিকে। তার মনে হয়, এই জলটার সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু চলে যাচ্ছে। কিছু স্মৃতি। কিছু ভয়। কিছু প্রশ্ন, যেগুলোর উত্তর আজ সে নিতে পারবে না।

চন্দ্রনাথ দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়ায়। চোখ এখনো বন্ধ। জল পড়ছে। শব্দটা একটানা। এই শব্দটা তাকে শান্ত করে। বাইরে কী হচ্ছে, সে এখন জানতে চায় না। এই কয়েক মিনিট সে শুধু নিজের শরীরের ভেতরে থাকতে চায়।

তার মনে পড়ে, আগেও এমন গোসল করেছে সে। বড় কোনো ঘটনার পর। বড় কোনো ক্ষতির পর। তখনও এই গোলাপি রঙ ছিল। তখনও এই ঠান্ডা ছিল। তখনও মনে হয়েছিল, সব না পাওয়া, সব শূন্যতা একটু একটু করে মিলিয়ে যাচ্ছে।

সে জানে, শূন্যতা পুরোপুরি যায় না। শূন্যতা থাকে। কিন্তু এই গোসল তাকে শূন্যতার ভার কমাতে সাহায্য করে। ভার কমলে মানুষ হাঁটতে পারে। কাজ করতে পারে।

সে ধীরে চোখ খোলে।

গোসলঘরের দেয়ালে জলের ছাপ। আলো কম বলে ছায়াগুলো নড়ছে। এই নড়াচড়ায় তার ভয় লাগে না। বরং স্বাভাবিক লাগে। সে বুঝতে পারে, শরীরটা একটু হালকা হয়েছে। বুকের ভেতরের চাপটা কিছুটা কমেছে।

চন্দ্রনাথ শেষবারের মতো জল ঢালে নিজের মাথায়। গভীর নিঃশ্বাস নেয়। ঠান্ডা বাতাস ভেজা শরীরে লাগে। কাঁটা দেয়। এই কাঁটা দেওয়া অনুভূতিটা তাকে আবার বাস্তবে ফিরিয়ে আনে।

সে কল বন্ধ করে।

গোসলঘরে নীরবতা নেমে আসে। এই নীরবতা আগের মতো ভারী না। এটা পরিষ্কার নীরবতা। কাজের আগে যে নীরবতা দরকার, ঠিক সেই রকম।

চন্দ্রনাথ তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছতে শুরু করে। ধীরে। তাড়াহুড়া নেই। সে জানে, এই শান্তিটুকু ধরে রাখতে হবে। বাইরে বেরোলেই আবার ভার আসবে। কিন্তু এখনো সময় আছে।

শেষে সে আয়নার দিকে তাকায়।

মুখটা তার নিজেরই। কিন্তু চোখ দুটো একটু আলাদা লাগছে। ঠান্ডা। স্থির। এই চোখ দিয়েই তাকে এখন যা দেখতে হবে, সেটা সহজ হবে না। কিন্তু এই গোসলের পর সে প্রস্তুত।

চন্দ্রনাথ আয়না থেকে সরে দাঁড়ায়। কাপড় পরে। গোসলঘর থেকে বেরিয়ে আসে।

মনে হয়, ভেতরের সমস্ত না পাওয়া, শূন্যতা পুরোপুরি না হলেও, অন্তত এখন আর তাকে টেনে ধরে রাখছে না। আর এই হালকা অবস্থাতেই সে জানে, তাকে আবার কাজে বসতে হবে।

কথাসাহিত্যিক আরিফ খন্দকারের নতুন বই'এখানে তাবিজ বিক্রি হয়' থ্রিলার উপন্যাসটি সংগ্রহ করতে অর্ডার করুন Boi Junction - বই জংশন বুকশপে। সংগ্রহ করতে অর্ডার করুন Boi Junction - বই জংশন বুকশপের ইনবক্সে ম্যাসেজ করে অথবা বই জংশনের এই নাম্বারে কল করে, 01823-818887

বইয়ের সাথে থাকছে—

লেখকের অটোগ্রাফ,
চিঠি ও
বুকমার্ক।

অর্ডার করার ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে বই পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।

চন্দ্রনাথ বাসায় কোনোদিন গোসল করে না। এই কথাটা গলির মানুষ জানে। কেউ জিজ্ঞেস করে না। জিজ্ঞেস করার সাহসও পায় না। তারা শুধু ...
19/06/2026

চন্দ্রনাথ বাসায় কোনোদিন গোসল করে না। এই কথাটা গলির মানুষ জানে। কেউ জিজ্ঞেস করে না। জিজ্ঞেস করার সাহসও পায় না। তারা শুধু জানে, ভোরের খুব আগে অথবা গভীর রাতের ঠিক মাঝামাঝি সময় সে বাড়ি থেকে বের হয়। খালি গা। গলায় তাবিজ। পরনে সেই একই সাদা লুঙ্গি। হাতে কিছু নেই। পায়ে জুতো নেই। ধীরে ধীরে হাঁটে। গলির অন্ধকার পেরিয়ে সে চলে যায় বুড়িগঙ্গার দিকে।

এই যাওয়াটা তার অভ্যাস। কিন্তু অভ্যাসের চেয়েও বেশি কিছু। এটা তার নিয়ম। আর নিয়ম ভাঙলে সে নিজেই ভেঙে পড়ে।

কমলার মৃত্যুর আগে সে বাসার ভেতরেই গোসল করত। উঠোনে কল ছিল। সেই কলের ঠান্ডা পানি মাথার ওপর ঢালত। কমলা তখন পাশে দাঁড়িয়ে থাকত। কখনো পানি এগিয়ে দিত। কখনো তোয়ালে। সেই সময় গোসল ছিল সাধারণ কাজ। শরীর পরিষ্কার করা। ঘুম ঝাড়া। দিন শুরু করা।

কমলা মারা যাওয়ার পর প্রথম যে কাজটা সে বন্ধ করেছিল, সেটা ছিল ওই কলের নিচে দাঁড়ানো। সে আর পারে না। কলের পানি নামলে তার মনে হয়, সেই রাতে কমলার শরীরের ওপর ঢালা ঠান্ডা পানির কথা। মৃত শরীর ধোয়ার সময়। সেই পানি নামার শব্দ। সেই নিস্তব্ধতা।

তারপর একদিন সে হেঁটে চলে গিয়েছিল বুড়িগঙ্গার দিকে। উদ্দেশ্য ছিল না। পা নিজে থেকেই চলে গিয়েছিল।

বুড়িগঙ্গার পাড়ে দাঁড়িয়ে প্রথম দিন সে অনেকক্ষণ কিছু করেনি। শুধু তাকিয়ে ছিল। নদীর পানি তখনও কালো। আজ যেমন। তখনও তেমনই। কালচে। ঘোলা। উপরে ভাসছে নানান জিনিস। পচা কাঠ। পলিথিন। আবর্জনা। দুর্গন্ধ। সাধারণ মানুষ এই পানি দেখে মুখ ফিরিয়ে নেয়। চন্দ্রনাথ সেদিন মুখ ফেরায়নি।

তার বরং ভালো লেগেছিল।

কারণ এই পানিটা পরিষ্কার হতে চায় না। লুকোতে চায় না। এটা যেমন, ঠিক তেমনই থাকে। কালো। ভারী। নোংরা। চন্দ্রনাথ তখন ভেবেছিল, অন্তত একটা জিনিস আছে যেটা নিজের আসল রূপ লুকায় না।

সেই প্রথম দিন সে ধীরে ধীরে নদীতে নেমেছিল। পা ডোবাতে ডোবাতে। ঠান্ডা পানি তার পায়ের পাতা জড়িয়ে ধরেছিল। কাদার মতো। পিছলে যাওয়ার ভয় ছিল। কিন্তু সে ভয় পায়নি। সে আরও এগিয়েছে। হাঁটু। কোমর। বুক। তারপর সে একবারে ডুব দিয়েছিল।

পানির নিচে সব শব্দ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। গলির শব্দ। মানুষের কণ্ঠ। নিজের মাথার ভেতরের আওয়াজ। কয়েক মুহূর্ত সে নিঃশ্বাস আটকে রেখেছিল। সেই আটকে রাখা নিঃশ্বাসে তার বুকের ভেতরের চাপটা একটু আলগা হয়েছিল।

সে উঠে এসেছিল। কালো পানি গড়িয়ে পড়ছিল তার মাথা বেয়ে। মুখে। চোখে। গলায় ঝুলে থাকা তাবিজে। তাবিজগুলো তখন ভারী হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সে খুলে রাখেনি। সে চেয়েছিল সবকিছু একসাথে ভিজুক।

এরপর থেকে সে নিয়ম করে বুড়িগঙ্গায় গোসল করে।

এই গোসল কোনো তাড়াহুড়ার গোসল না। সে ঝাঁপাঝাপি করে। কখনো সাঁতার কাটে। কখনো জলে শুয়ে থাকে। আকাশের দিকে তাকিয়ে। কালো পানির মধ্যে সে নিজেকে হালকা মনে করে। এই ভারী পানির ভেতরে তার নিজের ভার কমে যায়।

মানুষ ভাবতে পারে, সে কেন এই নোংরা পানিতে গোসল করে। কেন পরিষ্কার পানি খোঁজে না। চন্দ্রনাথ জানে, পরিষ্কার পানি তার জন্য না। পরিষ্কার পানি প্রশ্ন করে। পরিষ্কার পানি আয়নার মতো। নিজের মুখ দেখিয়ে দেয়। বুড়িগঙ্গার পানি সেটা করে না। এই পানি সব ঢেকে রাখে। দোষ। রক্ত। ঘাম। কান্না।

বিশেষ করে কমলার মৃত্যুর পর এই পানিটা তার কাছে আশ্রয় হয়ে গেছে।

সে যখন পানিতে ডোবে, তখন মনে হয় সে আবার সেই রাতে ফিরে গেছে। কিন্তু এইবার পার্থক্য আছে। এইবার সে ডুবছে নিজের ইচ্ছায়। এইবার সে উঠে আসতে পারে। এই নিয়ন্ত্রণটুকু তাকে শান্ত করে।

অনেক রাত আছে, যখন সে নদীর মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ায়। চারপাশে শুধু কালো পানি। দূরে আলো। নৌকার শব্দ। সে তখন চোখ বন্ধ করে থাকে। মনে করে, যদি কমলা আসে, সে এখানেই আসুক। এই পানির মধ্যে। এখানে অন্তত সে ভয় পাবে না। কারণ এখানে সবকিছুই ময়লা। সবকিছুই অস্বচ্ছ।

সে নদীর পানির নিচে ডুব দিয়ে অনেকক্ষণ থাকে। যতক্ষণ না বুক জ্বালা করে ওঠে। সেই জ্বালাটা তার ভালো লাগে। কারণ এই জ্বালাটা শাস্তির মতো। আর শাস্তি মানে হিসাব চলছে।

পানির নিচে সে মন্ত্র পড়ে না। কখনো পড়েনি। এখানে মন্ত্রের দরকার নেই। এখানে আগুন নেই। তাবিজ কাজ করে না। এখানে সে তান্ত্রিক না। শুধু একজন মানুষ। একজন বিধবা পুরুষ। একজন অপরাধী।

গোসল শেষে সে নদীর পাড়ে উঠে দাঁড়ায়। লুঙ্গি ভিজে। শরীর থেকে কালো পানি ঝরছে। গলায় তাবিজের পানি পড়ে টুপটাপ শব্দ হয়। সে তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছতে চায় না। সে শুকাতে দেয় বাতাসে। এই শুকানোর সময়টাই তার প্রিয়।

কারণ তখন ঠান্ডা লাগে। শরীর কাঁপে। দাঁত কাঁপে। এই কাঁপুনিতে সে নিজেকে জীবিত মনে করে।

অনেক সময় নদীর ধারে বসে থাকা মানুষ তাকে দেখে। কেউ ফিসফিস করে। কেউ ভয় পায়। কেউ হাসে। চন্দ্রনাথ তাদের দিকে তাকায় না। সে জানে, তারা কিছুই বোঝে না। তারা বোঝে না কেন এই কালো পানি তার কাছে সাদা।

বাসায় ফিরে এসে সে কখনো নিজেকে পরিষ্কার করে না। নদীর পানি যেমন আছে, তেমনই থাকে। সেই পানি শুকিয়ে চামড়ায় একটা পাতলা আস্তরণ তৈরি করে। এই আস্তরণ তার কাছে ঢাল। যেন পৃথিবীর সঙ্গে তার মাঝে একটা পরত।

কমলার মৃত্যুর পর থেকে এই গোসল তার একমাত্র স্বস্তি। একমাত্র সময় যখন সে নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বরগুলোকে চুপ করাতে পারে।

কথাসাহিত্যিক আরিফ খন্দকারের নতুন বই 'এখানে তাবিজ বিক্রি হয়' থ্রিলার উপন্যাসটি সংগ্রহ করতে অর্ডার করুন Boi Junction - বই জংশন বুকশপে। অর্ডার করতে Boi Junction - বই জংশন বুকশপের ইনবক্সে ম্যাসেজ করুন অথবা বই জংশনের এই নাম্বারে কল করুন, 01823-818887

বইয়ের সাথে থাকছে—

লেখকের অটোগ্রাফ,
চিঠি ও
বুকমার্ক।

অর্ডার করার ২৪-৪৮ ঘন্টার মধ্যে বই পৌঁছে যাবে আপনার ঠিকানায়।

Address

Dhaka Cantonment
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Boi Junction - বই জংশন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category