Hikma Books

Hikma Books বই মানুষের জীবনকে জাগরিত করতে সাহায্য করে। ঘরে বসে প্রয়োজনীয় বই কিনুন Hikma Books থেকে।

29/03/2023

ডা. জাকির নায়েকের বেস্টসেলার ৯টি বই
১৮০০ টাকার বই পাচ্ছেন মাত্র ৮৯০৳ (৫১% ছাড়ে)

ডা. জাকির নায়েক হলেন একজন ইসলামি চিন্তাবিদ, ধর্মপ্রচারক, বক্তা ও লেখক যিনি ইসলাম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব বিষয়ে কাজ করেন। তিনি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশননের প্রতিষ্ঠাতা যেটি পিস টিভি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে থাকে, যার মাধ্যমে তাঁর বক্তৃতা প্রায় দশ কোটি দর্শকের নিকট পৌঁছে যায়।

বইগুলোর নাম -
১. রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নামায
২. মুসলিম উম্মাহ ঐক্য
৩. বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে আল্লাহ ও মুহাম্মদ (সাঃ)
৪. ইসলামে নারীর অধিকার
৫. আল কুরআন কি আল্লাহর বানী?
৬. বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব৭,মিডিয়া এন্ড ইসলাম
৮. সুদমুক্ত অর্থনীতি
৯. ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের প্রশ্নের জবাব

💥বই গুলো অফারে অর্ডার করতে ক্লিক করুন "Order Now" বাটনে।

নামায নিয়ে আমাদের বহু প্রশ্ন আছে। আছে নানান খটকা। সব প্রশ্নের উত্তর সব জায়গায় পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় কিছু বিষয় আছে লজ্জায়...
04/11/2021

নামায নিয়ে আমাদের বহু প্রশ্ন আছে। আছে নানান খটকা। সব প্রশ্নের উত্তর সব জায়গায় পাওয়া যায় না। দ্বিতীয় কিছু বিষয় আছে লজ্জায় জিজ্ঞেস করতে পারি না। তাই ওযু থেকে শুরু করে সালাম ফেরানোর আগ পর্যন্ত নামাযের যাবতীয় বিষয় নিয়ে এখানে ধরে ধরে আলোচনা করা হয়েছে।

কোনো বিষয়ের চুল পরিমাণও বাদ দেননি লেখক। এজন্যই এটিকে নামাযের এনসাইক্লোপিডিয়া বা বিশ্বকোষ বলা যায়। নামায সম্পর্কিত মাসায়েলের দলিলভিত্তিক বৃহত্তর সংকলন। নামাজ সম্পর্ক A-Z জানতে এটাই আমাদের দেশে প্রকাশিত এই পর্যন্ত বৃহৎ এবং বিস্তৃত বই।

লেখক : মুফতী মুহাম্মদ ইনআমুল হক কাসেমী
বিষয় : নামায ও দোয়া-দরুদ
হার্ড কভার
পৃষ্ঠা সংখ্যা: মোট ৮৪৮

বইটি কিনতে ভিজিট করুনঃ https://hikmabooks.com/namaj-bisshokosh

ঈমানের পরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামায। রাসূলে কারীম ﷺ ইসলামের বুনিয়াদী পাঁচ রুকনের মধ্যে নামাযকে দ্বিতী

02/10/2021

📖কুরআনে আমাদের জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে কি বলা হয়েছে,
সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রত্যেকটা মুসলমানের প্রয়োজন😇

✅পবিত্র কুরআন শরীফ আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন কুরআনের বাংলা তাফসীর। যেখানে বাংলা ভাষায় সহজ সাবলীল ভাবে আমাদের জীবন ব্যবস্থার সকল সমাধান আলোচনা করা হয়েছে।

🟡কুরআনের উপর 🕛১৪ বছর গবেষণা করে বাংলা ভাষায় একটি তাফসীর লেখা হয়েছে।

এই তাফসীর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে👇👇 নিচের বাটনে ক্লিক করুন।
https://hikmabooks.com/

📖কুরআনে আমাদের জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে কি বলা হয়েছে,সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রত্যেকটা মুসলমানের প্রয়োজন😇✅পবিত্র ক...
02/10/2021

📖কুরআনে আমাদের জীবন ব্যবস্থা সম্পর্কে কি বলা হয়েছে,
সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা প্রত্যেকটা মুসলমানের প্রয়োজন😇

✅পবিত্র কুরআন শরীফ আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন কুরআনের বাংলা তাফসীর। যেখানে বাংলা ভাষায় সহজ সাবলীল ভাবে আমাদের জীবন ব্যবস্থার সকল সমাধান আলোচনা করা হয়েছে।

🟡কুরআনের উপর 🕛১৪ বছর গবেষণা করে বাংলা ভাষায় একটি তাফসীর লেখা হয়েছে।

এই তাফসীর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে👇👇 নিচের বাটনে ক্লিক করুন।
https://hikmabooks.com/

এ গ্রন্থের মধ্যে কুরআন মাজীদে আলোচিত বিভিন্ন বিষয় সংক্রান্ত আয়াতসমূহ বিভিন্ন স্থান থেকে খুঁজে বের করে একত্রে বর্ণনা করা হয়েছে

জ্ঞানার্জনের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বই। 📕🌿 জীবনকে সফলতার আলোয় আলোকিত করার প্রধান উপায় হচ্ছে বই। বই পড়েই জ্ঞানার্জন করতে হবে...
28/09/2021

জ্ঞানার্জনের প্রধান মাধ্যম হচ্ছে বই। 📕
🌿 জীবনকে সফলতার আলোয় আলোকিত করার প্রধান উপায় হচ্ছে বই। বই পড়েই জ্ঞানার্জন করতে হবে। পৃথিবীতে যারা বড় হয়েছেন, জগদ্বিখ্যাত সফল মানুষ হয়েছেন, তারাই বেশি বেশি জ্ঞান অন্বেষণে সময় দিয়েছেন। পৃথিবীর যে কোনো বরেণ্য মনীষীদের জীবন ইতিহাস ঘাঁটলে এ কথার সত্যতা ধরা পড়ে। বই হচ্ছে শেখবার, জানবার ও জ্ঞানার্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। দেশ ও জাতি গঠনে বইয়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির অগ্রগতি সম্ভব নয়। আর সহজ উপায়ে মানুষের মধ্যে শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো ছড়াতে সমাজের জন্য বই অপরিহার্য। বইয়ের বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না। 🌿

বই পড়লে মানুষ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকমনস্ক হয়ে ওঠে। 📕📚 জ্ঞানার্জনের আবশ্যক মাধ্যম বই। 📗📚 পৃথিবীতে বই-ই একমাত্র বন্ধু, য...
28/09/2021

বই পড়লে মানুষ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকমনস্ক হয়ে ওঠে। 📕
📚 জ্ঞানার্জনের আবশ্যক মাধ্যম বই। 📗
📚 পৃথিবীতে বই-ই একমাত্র বন্ধু, যার সঙ্গে প্রাণ খুলে কথা বলা যায়। 📙
📚 বই মানুষের অবসরের সঙ্গী, কথা বলার উত্তম বন্ধু। 📘
📚 বই মানুষের মনের খোরাক জোগায়। 📕
📚 বই পড়া ব্যতীত মানুষ সত্যিকারার্থে সফলতার আলোয় আলোকিত হতে পারে না। 📗
📚 বই পড়লে মস্তিষ্ক চিন্তা করার খোরাক পায়, সৃষ্টি করার যোগ্যতা বাড়ে এবং জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়। 📘
📚 বই পড়লে মানুষ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকমনস্ক হয়ে ওঠে। 📕
📚 পৃথিবীতে যারা জগদ্বিখ্যাত সফল মানুষ হয়েছেন, তারা বই পড়েই বড় হয়েছেন। 📗
📚 পৃথিবীর যে কোনো বরেণ্য মনীষীর জীবনী পড়লে আমরা এমনটিই জানতে পারি। 📙
📚 বইয়ের সঙ্গে ঐশী জ্ঞানের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। 📘

সালাম আদান-প্রদান, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সর্বোত্তম মাধ্যম। এর মাধ্যমে যেমন পরস্পরের জন্য দোয়া করা হয়, তেমনি প্র...
28/09/2021

সালাম আদান-প্রদান, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সর্বোত্তম মাধ্যম। এর মাধ্যমে যেমন পরস্পরের জন্য দোয়া করা হয়, তেমনি প্রীতিময় সুন্দর সুসম্পর্ক তৈরি হয়।

সালাম (سلام) আরবি শব্দ। এটি تسليم শব্দের ইসমে মাসদার। এর আভিধানিক অর্থ হলো- দোষ ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকা। পবিত্র কুরআন মাজিদে سلام শব্দটি শান্তি ও নিরাপত্তা অর্থে ব্যবহিত হয়েছে। যেমন: পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, سلام على موسى وهارون.

পরিভাষায়, ❝আসসালামু আলাইকুম❞ বলে এক মুসলমান অপর মুসলমানের কল্যান কামনা করাকে সালাম ( سلام) বলা হয়।

কোনো মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ হলে কথা বলার আগে সালাম দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে রাসূল সা. বলেন, السلام قبل الكلم- অর্থাৎ, কথা বলার আগে সালাম দাও।

সালামের মাধ্যমে পরস্পর সহমর্মিতা, ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। সালাম দেওয়া সুন্নত আর সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব।

প্রথম সালামের প্রচলন: আল্লাহ তাআলা সর্বপ্রথম আদম আলাইহিস সালামকে সালাম দেয়ার শিক্ষা দেন। হজরত আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সালাম দেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি ফেরেশতাদের সালাম দিলে তারাও সালামের উত্তর দেন।

হাদিসে এসেছে- হজরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা যখন আদম আ. কে সৃষ্টি করলেন তখন তাকে বললেন, তুমি যাও এবং ঐ যে ফেরেশতামণ্ডলীর একটি দল বসে আছে, তাদের উপর সালাম পেশ কর। আর তারা তোমার সালামের কী জবাব দেয় তা মনোযোগ সহকারে শ্রাবন করো। কেননা, ওটাই হবে তোমার ও তোমার সন্তান-সন্তুতির সালাম বিনিময়ের রীতি।’ সুতরাং তিনি (তাঁদের কাছে গিয়ে) বললেন, ‘আসসালামু আলাকুম’। তাঁরা উত্তরে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকা ওয়া রাহমাতুল্লাহ’। অতএব তাঁরা ‘ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ শব্দটা বেশি বললেন।’ (রিয়াদুস সালেহিন)

সালামের ফজিলত: ইসলামে সালামে ফজিলত অপরিসীম। সালামের মাধ্যমে যেমন পরস্পরের মাঝে ভ্রাতৃত্ববোধ ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় তেমন আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও সওয়াব লাভ করা যায়। বিভিন্ন হাদিসে সালামের ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে।

হজরত আবু উমামাহ রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘আল্লাহর সর্বাধিক কাছাকাছি মানুষ ওই ব্যক্তি; যে সর্বপ্রথম সালাম দেয়।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, মুসনাদে আহামদ)

একবার এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সা. এর কাছে এসে বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম’। তখন তিনি বললেন, লোকটির জন্য ১০টি নেকি লেখা হয়েছে। এরপর অন্য এক ব্যক্তি এসে (একটু বাড়িয়ে) বললেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লা ‘। তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, তার জন্য ২০টি নেকি লেখা হয়েছে। এরপর অন্য এক ব্যক্তি এসে (আরও একটি শব্দ বাড়িয়ে) বললেন- ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ ওয়া বারাকাতুহু’। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার (সালামের) উত্তর দিয়ে বললেন, লোকটির জন্য ৩০টি নেকি লেখা হয়েছে।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ, মেশকাত)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইনবুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সা.কে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘ইসলামে সর্বোত্তম কাজ কী? তিনি বললেন, “(ক্ষুধার্তকে) খাবার দান করবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সবাইকে (ব্যাপকভাবে) সালাম পেশ করবে।’ (মেশকাত, রিয়াদুস সালেহিন)

হজরত আবু হোরায়রা রা. বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেছেন, তোমরা ওই পর্যন্ত জান্নাতে যেতে পারবে না, যে পর্যন্ত মোমিন না হয়ে যাও। (অর্থাৎ তোমাদের জিন্দেগি ইমানওয়ালা জিন্দেগি না হয়ে যায়।) এবং তোমরা ওই পর্যন্ত মোমিন হতে পারবে না যে পর্যন্ত পরস্পর একে অপরকে মহব্বত না করো। আমি কি তোমাদের ওই আমলটি বলে দেব না, যা করলে তোমাদের মধ্যে মহব্বত পয়দা হবে? ( সেটা এই যে) তোমরা পরস্পর সালামের খুব প্রচলন করো।

হজরত আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করিম সা. ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আগে সালাম করে, সে অহংকার থেকে মুক্ত। (বায়হাকি)

হাদিস শরীফে সালাম আদান প্রদানের বেশ কিছু আদব বর্ণিত হয়েছে।

১.শুনিয়ে সালাম দেওয়া: সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রে ‘আস-সালামু আলায়কুম’ বলতে হবে। عليك السلام (আলাইকাস সালাম) বলা সুন্নাত নয়।

আবূ জুরাই আল-হুজাইমী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সা. এর নিকট এসে বললাম, ‘عليك السلام’ (আলাইকাস সালাম)
ইয়া রাসূলাল্লাহ! রাসূলুল্লাহ সা. বললেন, ‘عليك السلام’
(আলাইকাস সালাম) বলো না। কারণ এটা হ’ল মৃতের প্রতি সালাম’। [আবু দাঊদ: ৫২০৯]

২. কথা বলার পূর্বেই সালাম দেওয়া: কথা বলার আগেই সালাম দেওয়া মুস্তাহাব। রাসূল সা. বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকটে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে প্রথমে সালাম দেয়’।[আবু দাঊদ: ৫১৯৭]

৩. কে কাকে সালাম দিবে: চলমান ব্যক্তি উপবিষ্টকে, আরোহী পদব্রজে ব্যক্তিকে, কম সংখ্যক লোক অধিক সংখ্যককে এবং ছোটরা বড়দেরকে সালাম দিবে। রাসূল সা. বলেন, ‘আরোহী পদচারীকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে’। [মিশকাত: ৪৬৩২] অন্যত্র তিনি বলেন ‘ছোটরা বড়দেরকে, পদচারী উপবিষ্টকে এবং অল্প সংখ্যক অধিক সংখ্যককে সালাম দিবে’ [বুখারী: ৬২৩১]

৪. সালামের আওয়াজ কেমন হবে: এমন শব্দে সালাম ও সালামের উত্তর দিতে হবে যাতে পরস্পর শুনতে পায়। তবে কোথাও ঘুমন্ত মানুষ থাকলে এমনভাবে সালাম দিবে যাতে জাগ্রত লোকেরা শুনতে পায় এবং ঘুমন্ত লোকের কোন অসুবিধা না হয়।

৫. নিজ গৃহে প্রবেশেকালে সালাম দেওয়া: বাড়ীতে বা গৃহে প্রবেশকালে প্রবেশকারী সালাম দিবে, যদিও ঐ ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ ঐ ঘরে বসবাস না করে। আল্লাহ বলেন,- ‘অতঃপর যখন তোমরা গৃহে প্রবেশ করবে তখন পরস্পরে সালাম করবে। এটি আল্লাহর নিকট হ’তে প্রাপ্ত বরকমন্ডিত ও পবিত্র অভিবাদন’ (সূরা: আন-নূরঃ৬১)।

৬. অন্যের গৃহে প্রবেশেকালে সালাম: অন্যের বাড়ীতে বা ঘরে প্রবেশকালেও সালাম দিতে হবে। আল্লাহ বলেন,- ‘হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের গৃহ ব্যতীত অন্যের গৃহে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি নিবে এবং এর বাসিন্দাদের সালাম দিবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর’ (সূরা: আন-নূরঃ ২৭)।

৭. প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দনকারী ব্যক্তিকে সালাম না দেওয়া: প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণে রত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া উচিত নয়। আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘জনৈক ব্যক্তি নবী করীম সা. এর নিকট দিয়ে অতিক্রমকালে তাঁকে সালাম করল, তিনি তখন পেশাব করছিলেন। তিনি তার সালামের জবাব দিলেন না’।[মুসলিম: ৩৭০]

৮. শিশুদের সালাম দেওয়া: শিশুদের সালাম দেওয়া মুস্তাহাব। শিশুরা সাধারণত বড়দের অনুকরণ করে। তাই শিশু থেকেই তাদের মাঝে সালাম বিনিময়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। আনাস রা. একবার একদল শিশুর পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাদের সালাম করে বললেন যে, নবী করীম সা. ও অনুরূপ করতেন।[বুখারী: ৬২৪৭]

৯. ইয়াহুদী-নাছারাদের আগে সালাম না দেওয়া: ইহূদী-নাছারা ও বিধর্মীদেরকে আগে সালাম দেওয়া যাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমরা ইহুদী-নাছারাদেরকে প্রথমে সালাম করো না’।[তিরমিযী:১৬০২,২৭০০] তবে তারা সালাম দিলে উত্তরে শুধু ‘ওয়া আলাইকুম’ বলতে হবে। রাসূল সা. বলেন, ‘যখন কোন আহলে কিতাব তোমাদের সালাম দেয়, তখন তোমরা বলবে ওয়া আলাইকুম (তোমাদের উপরেও)’। [বুখারী:৬২৫৮, ২৯৬২]

১০. পরিচিত-অপরিচিত সকল মুসলিমকে সালাম দেওয়া: মুসলিম মাত্রেই সালাম দেওয়া উচিত। সে আত্মীয় হোক বা অনাত্মীয়, পরিচিত হোক বা অপরিচত। রাসূল সা. বলেন, ‘তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দিবে’।[মুসলিমঃ ৩৯]

১১.ইশরায় সালাম ও উত্তর না দেওয়া: ইশারায় সালাম দেওয়া যাবে না। তবে কেউ বোবা কিংবা দূরে অবস্থানকারী হলে মুখে উচ্চারণসহ ইশারায় সালাম বা উত্তর দিতে পারে। অনুরূপভাবে বধিরকে সালাম দেওয়ার ক্ষেত্রেও মুখে উচ্চারণসহ ইশারায় সালাম বা উত্তর দেওয়া যাবে। রাসূল (সাঃ) বলেন,- ‘তোমরা ইহুদী-নাছারাদের সালামের ন্যায় সালাম দিও না। কেননা তাদের সালাম হচ্ছে হাত দ্বারা ইশারার মাধ্যমে’।[সহীহুল জামে: ৭৩২৭]

১২. সালামের সময় মাথা না ঝুঁকানো: সালাম প্রদানের সময় কারো সামনে মাথা অবনত করা বা ঝুঁকানো যাবে না। আনাস বিন মালিক (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘কোন একসময় জনৈক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কোন ব্যক্তি তার ভাই কিংবা বন্ধুর সাথে দেখা করলে সে কি তার সামনে ঝুঁকে (নত) যাবে? তিনি বললেন, না। সে আবার প্রশ্ন করল, তাহ’লে কি সে জড়িয়ে ধরে তাকে চুমু খাবে? তিনি বললেন, না। সে এবার বলল, তাহ’লে সে তার হাত ধরে মুছাফাহা (করমর্দন) করবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ’।[তিরমিযীঃ২৭২৮, ইবনে মাজাহঃ৩৭০২]

১৩.মুসলিম পুরুষের সাথে মুছাফাহা করা: মুসলমান পুরুষের সাথে সালাম বিনিময়ের পাশাপাশি মুছাফাহা করা মুস্তাহাব। রাসূল সা. বলেন, ‘দু’জন মুসলিম একে অপরের সাথে মিলিত হয়ে মুছাফাহা করলে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হওয়ার পূর্বেই তাদের ক্ষমা করে দেয়া হয়’।[আবু দাউদ:৫২১২, তিরমিজি:২৭২৭]

১৪. গায়রে মাহরাম মহিলাদের সাথে মুসাফাহা না করা: যে সকল মহিলাদের সাথে বিবাহ বৈধ্য (গায়রে মাহরাম) তাদের সাথে মুসাফাহা করা হারাম। মহানবী সা. সকল মহিলার শ্রদ্ধার পাত্র হওয়া সত্ত্বেও তিনি (বেগানা) কারো সাথে মুসাফাহা করতেন না। ৫২৭ (আহমাদ ৬/৩৫৭, নাসাঈ ৭/১৪৯, ইবনে মাজাহ ২৮৭৪ নং) বায়আতের সময়েও তিনি কোন মহিলার হাত স্পর্শ করতেন না। ৫২৮(বুখারী ৫২৮৮, মুসলিম ১৮৬৬ নং) আর তিনি বলেছেন, “যে মহিলা (স্পর্শ করা) হালাল নয়, তাকে স্পর্শ করার চেয়ে তোমাদের কারো মাথায় লোহার ছুঁচ গেঁথে যাওয়া অনেক ভালো।” ৫২৯ (ত্বাবারানী, সহীহুল জামে ৫০৪৫ নং)

১৫. মুসলিম-অমুসলিম সম্মিলিত সমাবেশে সালাম দেওয়া। মুসলিম-অমুসলিম সম্মিলিত সমাবেশে সালাম দেওয়ার বিধান সম্পর্কে আল্লামা ঈমাম নববী র. বলেন, কোনো বৈঠকে বা জায়গায় মুসলিম-অমুসলিম একত্রে উপস্থিত থাকলে, তখন সালাম দেওয়ার পদ্ধতি হলো- السلام على من اتبع الهدى. বলবে।
অনুরূপভাবে কোনো অমুসলিমের নিকট পত্র লিখার সময়ও অনুরূপ লিখবে।

মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলাকে ভয় করবে তুমি যখন যেভাবেই থাকো না কেন। আর মন্...
28/09/2021

মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলাকে ভয় করবে তুমি যখন যেভাবেই থাকো না কেন। আর মন্দ কাজ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নেক কাজ করবে। কেননা নেক কাজ মন্দকে মুছে ফেলে। আর মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করবে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ১৯৮৭)

আলোচ্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনদের আল্লাহভীতিতে উদ্বুদ্ব করেছেন এবং মন্দ কাজের প্রতিবিধান হিসেবে নেক কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন।

#আল্লাহভীতির পরিচয় : তাকওয়া তথা আল্লাহকে ভয় পাওয়ার অর্থ হলো আল্লাহর আদেশগুলো বাস্তবায়ন এবং নিষেধগুলো পরিহার করার মাধ্যমে তোমার ও আল্লাহর শাস্তির মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা। আলী (রা.)-কে তাকওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘তাকওয়া হলো আল্লাহর ভয়, পবিত্র কোরআন অনুযায়ী আমল, অল্পে পরিতুষ্টি, মৃত্যুদিনের প্রস্তুতি।’ (আদাবুল ইসলাম : ১/১২)

প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে আল্লাহর ভয় : বান্দার জন্য প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় অবস্থায় আল্লাহকে ভয় পাওয়া ওয়াজিব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহকে ভয় কোরো তুমি যেখানেই থাকো না কেন; যেখানে মানুষ তোমাকে দেখে ও যেখানে মানুষ তোমাকে দেখে না।’ (জামিউল উলুম ওয়াল হিকাম : ১৯/১৭) #

মহানবী (সা.)-এর তাকওয়া প্রার্থনা : আল্লাহর কাছে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সর্বাবস্থায় আল্লাহভীতির জন্য দোয়া করতেন মহানবী (সা.)। তিনি বলতেন, “আমি আপনার কাছে ‘আপনার ভয়’ প্রার্থনা করছি গোপন ও প্রকাশ্য বিষয় থেকে।” (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৩০৫)

জাহান্নাম থেকে মুক্তির তিন আমল : আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিনটি জিনিস পরিত্রাণকারী ও তিনটি জিনিস ধ্বংসকারী। পরিত্রাণকারী জিনিসগুলো হচ্ছে—১. প্রকাশ্য ও গোপনে আল্লাহকে ভয় করা, ২. সন্তুষ্ট ও অসন্তুষ্ট উভয় অবস্থায় ন্যায়বিচার করা, ৩. ধনী ও দরিদ্র উভয় অবস্থায় মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা। আর ধ্বংসকারী জিনিসগুলো হচ্ছে—১. প্রবৃত্তির অনুসারী হওয়া, ২. লোভ-লালসা করা, ৩. কোনো ব্যক্তির নিজেকে নিজে সম্মানিত মনে করা। আর এই স্বভাবটি সবচেয়ে খারাপ। (ফতহুল কাবির, হাদিস : ৩৪৭১)

আল্লাহভীতির পার্থিব তিন পুরস্কার : পরকালীন মুক্তি ছাড়াও আল্লাহভীতির পার্থিব পুরস্কারও রয়েছে। কোরআনে বর্ণিত এমন তিনটি পুরস্কার হলো—

১. জীবনকে সহজ করে : আল্লাহভীতি পার্থিব জীবনকে সহজ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার সমস্যার সমাধান সহজ করে দেবেন।’ (সুরা : তালাক, আয়াত : ৪) #

২. মর্যাদা বৃদ্ধি করে : তাকওয়া আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে বেশি সম্মানী, যে আল্লাহকে সবচেয়ে বেশি ভয় করে।’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১৩) #

৩. উত্তম প্রতিদান লাভ : আল্লাহভীরু পরকালে জান্নাত এবং পার্থিব জীবনেও তাকে পুরস্কৃত করে। ইরশাদ হয়েছে, ‘শুভ পরিণতি খোদাভীরুর জন্য।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ১২৮)

এক. গীবত থেকে দূরে থাকাআসমা বিনতে ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, নবী সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভায়ের অনুপস্থিতিতে (তার গীবত...
28/09/2021

এক. গীবত থেকে দূরে থাকা

আসমা বিনতে ইয়াযীদ হতে বর্ণিত, নবী সা. বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভায়ের অনুপস্থিতিতে (তার গীবত করা ও ইজ্জত লুটার সময় প্রতিবাদ করে) তার সম্ভ্রম রক্ষা করে সেই ব্যক্তি আল্লাহ্‌র কাছে এই অধিকার পায় যে তিনি তাঁকে দোযখ থেকে মুক্ত করে দেন।’

আহমদ, ত্বাবারানী, সহীহুল জামে- ৬২৪০

# কিন্তু বর্তমানের হাল হলো, কোথাও কারো নিন্দা করা হলে আমরা প্রতিবাদ না করে বরং নিজেরাই অংশগ্রহণ করি। তবে নবী সা.-এর এ হাদিস থেকে তারাই শিক্ষা নিবে যারা জান্নাত যেতে ইচ্ছুক।

দুই. প্রতিদিন ৩৬০ বার তাসবিহ, তাহলিল, তাকবীর, তাহমিদ আদায় করা

‘আয়েশা রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘‘আদম সন্তানের মধ্যে প্রত্যেক মানুষকে ৩৬০ গ্রন্থির উপর সৃষ্টি করা হয়েছে। (আর প্রত্যেক গ্রন্থির পক্ষ থেকে প্রদেয় সাদকা রয়েছে।) সুতরাং যে ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ বলল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল, ‘সুবহানাল্লাহ’ বলল, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলল, মানুষ চলার রাস্তা থেকে পাথর, কাঁটা অথবা হাড় সরাল, কিম্বা ভাল কাজের আদেশ করল অথবা মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করল, (এবং সব মিলে ৩৬০ সংখ্যক পুণ্যকর্ম করল), সে ঐদিন এমন অবস্থায় সন্ধ্যা করল যে, সে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূর করে নিল।’

সহিহ মুসলিম হাদিস-২২২০, হাদিস একাডেমী

তিন. ৪০ দিন তাকবীরে উলার সাথে সলাত আদায় করা

রাসুল সা. বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ৪০ দিন জামাতে সলাত আদায় করবে এবং তাকবীরে তাহরিমা পাবে অর্থাৎ সলাত আরম্ভ হওয়ার সময় উপস্থিত থাকবে আল্লাহ তাকে ২টি জিনিস থেকে মুক্তি দিবেন। ১- জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন এবং ২- মুনাফিকি থেকে মুক্তি দিবেন।

সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – হাদিস ২৪১, তাকবিরে উলার ফজিলত অধ্যায়

চার. অসুস্থ অবস্থায় নিম্নের দোয়া পড়া

আবূ সা‘ঈদ খুদরী রা. এবং আবূ হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত, তাঁরা উভয়েই রাসূলুল্লাহ সা. এর প্রতি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অল্লাহু আকবার’ [لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أكْبَرُ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সবচেয়ে বড়) বলে, আল্লাহ তার সত্যায়ন করে বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমি সবচেয়ে বড়।’

আর যখন সে বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ’ [لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, আমি একক, আমার কোন অংশী নেই।’

আর যখন সে বলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হাম্দ’ [لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁরই এবং তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা আমারই এবং আমারই যাবতীয় প্রশংসা।’

আর যখন সে বলে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অলা হাওলা অলা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ [لاَ إله إِلاَّ اللهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ باللهِ] (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফেরার এবং সৎকাজ করার বা নড়া-চড়ার শক্তি নেই), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমার প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার বা নড়া-চড়ার শক্তি নেই।’

নবী সা. বলতেন, ‘যে ব্যক্তি তার অসুস্থ অবস্থায় এটি পড়ে মারা যাবে, জাহান্নামের আগুন তাকে খাবে না।’ (অর্থাৎ সে কখনো জাহান্নামে যাবে না।) (সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – ৩৪৩০, দোয়া অধ্যায়)

পাঁচ. বেশি-বেশি দান করা

আল্লাহর রাসুল সা. বলেন, “তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচো; যদিও খেজুরের এক টুকরো সাদকাহ করে হয়। আর যে ব্যাক্তি এরও সামর্থ্য রাখে না, সে যেন ভাল কথা বলে বাঁচে।(সহিহুল বুখারি- ১৪১৩, তাওহীদ পাবলিকেশন)

ছয়. জাহান্নামের আজাব থেকে মুক্তি চেয়ে দোয়া করা

হজরত আনাস রা. বলেন, “আল্লাহর রাসুল সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৩ বার আল্লাহ্‌র কাছে জান্নাত চায়, জান্নাত তখন বলে, “হে আল্লাহ্‌! ঐ ব্যাক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাও। পক্ষান্তরে যে ব্যাক্তি ৩ বার জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি চেয়ে দোয়া করে, জাহান্নাম বলে; ‘হে আল্লাহ্‌ ঐ ব্যাক্তিকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও।’

(সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – ২৫৭২, জান্নাতের বিবরণ অধ্যায়)

# জান্নাত চাওয়া ও জাহান্নাম থেকে বাচার দোয়া-
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ».
(আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ‘উযু বিকা মিনান্নার)

“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই”। (আবূ দাউদ- ৭৯৩, সলাত অধ্যায়)

সাত. যোহরের ফরজ নামাজের পূর্বে ৪ এবং পড়ে ৪ রাকাত নামাজ আদায় করা

উম্মে হাবীবা রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা. কে বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি বরাবর যোহরের পূর্বে চার রাক’আত এবং যোহরের পরে চার রাক’আত ছালাত আদায় করবে আল্লাহ্‌ তার প্রতি জাহান্নাম হারাম করে দিবেন।’

ইবনে মাজাহ- ১১৬০, তিরমিযী ৪২৭-২৮, আবূ দাঊদ ১২৬৯, আহমাদ ২৬২৩২। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ১১৬৮, সহীহ আবী দাউদ ১১৫২

[অর্থাৎ যোহরের ফরয নামাজের আগে ৪ রাকাত এবং পড়ে ২ রাকাত ২ রাকাত করে ৪ রাকাত এই মোট ৮ রাকাত যেটা আমরা পড়ে থাকি।

বেশিরভাগ মানুষ যেহেতু সুন্নত নফল হিসাবে বুঝে থাকে তাদের সুবিধার জন্য বলছি-এই হাদিস অনুযায়ী যোহরের প্রথমে ৪ রাকাত সুন্নত তারপর ৪ রাকাত ফরয তারপর ২ রাকাত সুন্নত এবং শেষে ২ রাকাত নফল, সব মিলে হবে ১২ রাকাত]

আট. মানুষের সাথে সর্বোত্তম ব্যাবহার করা

মহানবী সা. বলেন, “যে ব্যাক্তি পছন্দ করে যে, তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হোক, তার মৃত্যু যেন আল্লাহ্‌ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখা অবস্থায় আসে এবং লোকেদের সঙ্গে সেই রকম ব্যাবহার করে, যে রকম ব্যবহার সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” (নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)

নয়. চোখকে পাপ থেকে হিফাযত করা

রাসুল সা. বলেন কিয়ামতের দিন জাহান্নাম দেখবে না। ১- এমন চক্ষু যে আল্লাহ্‌র ভয়ে কাঁদে, ২-এমন চক্ষু যে আল্লাহ্‌র রাস্তায় জেগে থাকে, ৩- এমন চক্ষু যে বেগানা মহিলাকে দেখে নিচু হয়ে যায়
(শাইখ আলবানি (রঃ) প্রনিত সিলসিলাহ সহীহাহ- হাদিস ১৪৭৭)

দশ. ফজর ও আসর সালাত যথাসময়ে আদায় করা

আবু বকর ইবনু ‘উমারাহ ইবনু রুওয়াইয়াহ হতে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সা. কে বলতে শুনেছি এমন ব্যক্তি কখনোই জাহান্নামে যাবে না, যে সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে সালাত আদায় করে (অর্থাৎ ফজর ও আসর সালাত)। একথা শুনে বাসরার অধিবাসী একটি লোক তাকে জিজ্ঞেস করলো, তুমি কি নিজে রাসুলুল্লাহ সা. নিকট একথা শুনেছ? সে বললো, হ্যাঁ!

সহীহ মুসলিম- ১৩১১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লার কাছে এই ২ ওয়াক্ত সলাতের রয়েছে আলাদা মর্যাদা আর এই ২ ওয়াক্ত সলাত যথার্থ মর্যাদা দিয়ে তারাই আদায় করতে পারবে যারা ৫ ওয়াক্ত সলাতের ব্যাপারে সচেতন কেননা এই ২ ওয়াক্ত সলাত সবচেয়ে বেশি কষ্টের সময়ে, যারা এই ২ ওয়াক্ত সলাত সঠিক ভাবে আদায় করতে পারে তাদের জন্য বাকি ৩ ওয়াক্ত আদায় করা খুবই সহজ।

এগার. আন্তরিকভাবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর স্বীকৃতি দেওয়া

ইতবান বিন মালিক রা. হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, “যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, ক্বিয়ামতের দিন সে এমনভাবে উপস্থিত হবে যে, তার উপর জাহান্নাম হারাম হয়ে গেছে।” (মুসনাদে আহমাদ- হাদিস ১৬৪৮২)

এ হাদিসের অর্থ এই নয় যে, শুধু আপনি ১ বার মুখে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বললেন আর জান্নাত চলে গেলেন বরং যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর স্বীকৃতি দিবে তখনই তার উপর ইসলামের ফরয বিধানগুলো পালন করা আবশ্যক হয়ে যাবে আর এজন্যই মক্কার মুশরিকরা এই স্বীকৃতি দিতো না কারণ তারা জানতো তাওহিদের এই স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থই হচ্ছে বহু দেবতার ইবাদত বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ্‌র-ই ইবাদত করতে হবে।

বারো. কন্যাসন্তানদের ভালভাবে লালন-পালন করা

আয়েশা রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমার নিকট একটি মহিলা তার দুটি কন্যাকে সঙ্গে করে ভিক্ষা করতে (গৃহে) প্রবেশ করল। কিন্তু সে আমার নিকট খেজুর ছাড়া আর কিছু পেল না। আমি খেজুরটি তাকে দিলাম সে সেটিকে দুই খণ্ডে ভাগ করে তার দুটি মেয়েকে খেতে দিল। আর নিজে তা হতে কিছুও খেলনা। অতঃপর সে উঠে বের হয়ে গেল।

তারপর নবী সা. আমাদের কাছে এলে আমি ঐ কথা তাঁকে জানালাম। ঘটনা শুনে তিনি বললেন, “যে ব্যক্তি একাধিক কন্যা নিয়ে সঙ্কটাপন্ন হবে, অতঃপর সে তাদের প্রতি যথার্থ সদ্ব্যবহার করবে, সেই ব্যক্তির জন্য ঐ কন্যারা জাহান্নাম থেকে অন্তরাল (পর্দা) স্বরূপ হবে।”

সহিহুল বুখারী- ১৪১৮, তাওহীদ পাবলিকেশন

তের. ফরয সিয়ামের পাশাপাশি বেশি-বেশি নফল সিয়াম পালন করা

রাসুল সা. বলেন “রোযা (জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার জন্য ) ঢালস্বরূপ ।” (বুখারী- ১৮৯৪

রাসুল (সাঃ) আরও বলেছেন “যে ব্যাক্তি আল্লাহর পথে ১ দিন রোযা রাখবে, আল্লাহ্‌ ঐ ১ দিন রোযার বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম হতে ৭০ বছর (পরিমাণ পথ) দূরে রাখবেন।” (বুখারী- ২৮৪০, তাওহীদ পাবলিকেশন)

#সহিহ হাদিসে বর্ণিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিয়াম/রোযা পালনের দিনসমূহ

(শাওয়াল মাসের রোযা)
আবু আইয়ুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোযা পালন করল অতঃপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা আদায় করল সে যেন সাড়া বছর রোযা পালন করল।’ (মুসলিম : ২৮১৫)

(প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা)
এ তিনটি রোযা আদায় করলে পূর্ণ বছর নফল রোযা আদায়ের সওয়াব লাভের কথা এসেছে। একটি নেক আমলের সওয়াব কমপক্ষে দশগুণ দেয়া হয়। তিন দিনের রোযার সওয়াব দশগুণ করলে ত্রিশ দিন হয়। যেমন আবু কাতাদা রা. হতে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে—

‘প্রত্যেক মাসে তিনটি রোযা ও এক রমজানের পর পরবর্তী রমজানে রোযা পালন পূর্ণ বছর রোযা পালনের সমান’। (মুসলিম : ২৮০৪)

মাসের যে তিন দিন রোযা রাখা হবে সে তিন দিনকে হাদিসের পরিভাষায় বলা হয় ‘আইয়ামুল বিয’। এ তিন দিন হল চান্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনেরো তারিখ। বিয শব্দের অর্থ আলোকিত। এ তিন দিনের রাতগুলো শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চাঁদের আলোতে আলোকিত থাকে। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এ রোযা গুরুত্বসহকারে আদায় করতেন। হাদিসে এসেছে—

ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মুসাফির ও মুকিম কোন অবস্থাতেই এ রোযা ত্যাগ করতেন না। (নাসায়ী : ২৩৪৫)

(প্রত্যেক সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা)
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। কাজেই আমি পছন্দ করি যখন আমার আমল পেশ করা হবে তখন আমি রোযা অবস্থায় থাকব।’ (তিরমিযী : ৭২৫)

চৌদ্দ. মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকা

ইবনে মাসউদ রা. বর্ণনা করেন, “রাসুলে আকরাম সা. বলেছেনঃ আমি কি তোমাদের জানাবো না, কোন ব্যক্তি জাহান্নামের আগুনের জন্যে হারাম অথবা (বলেছেন) কার জন্যে জাহান্নামের আগুন হারাম? (তাহলে জেনে রাখ) জাহান্নামের আগুন এমন প্রতিটি লোকের জন্য হারাম, যে লোকদের কাছাকাছি বা তাদের সাথে মিলেমিশে থাকে; যে কোমলমতি নম্র প্রকৃতির ও মধুর স্বভাব বিশিষ্ট।”

সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – ২৪৮৮, কিয়ামাত ও মর্মস্পর্শী বিষয় অধ্যায়

পনের. সন্তান বা আপনজনদের মৃত্যুতে ধৈর্যধারণ করা

আবূ সা‘ঈদ খুদরী রা. বলেন এক মহিলা রাসূলুল্লাহ সা. এর নিকট এসে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! কেবলমাত্র পুরুষেরাই আপনার হাদীস শোনার সৌভাগ্য লাভ করছে। সুতরাং আপনি আমাদের জন্যও একটি দিন নির্ধারিত করুন। আমরা সে দিন আপনার নিকট আসব, আপনি আমাদের তা শিক্ষা দেবেন, যা আল্লাহ আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন।’

তিনি বললেন, ‘‘তোমরা অমুক অমুক দিন একত্রিত হও।’’ অতঃপর নবী (সাঃ) তাদের নিকট এসে সে শিক্ষা দিলেন, যা আল্লাহ তাঁকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর তিনি বললেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে যে কোন মহিলার তিনটি সন্তান মারা যাবে, তারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে আড় হয়ে যাবে।’’

এক মহিলা বলল, ‘আর দু’টি সন্তান মারা গেলে?’ তিনি বললেন, ‘‘দু’টি মারা গেলেও (তাই হবে)।’’ ” (বুখারী- ১০১, তাওহীদ পাবলিকেশন)

দুনিয়াবি কোন বিপদ থেকে বাঁচার জন্য আমরা কত রকমের উপায় অবলম্বন করে থাকি অথচ আমাদের সবচেয়ে বড় বিপদ জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য এই উপায়গুলো সর্বাত্মকভাবে আঁকড়ে ধরা কি আমাদের জন্য জরুরি নয়? আল্লাহ তা’লা আমাদের এই আমলগুলো করার মাদ্ধমে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার তাওফিক দান করুন, আমীন।

নাঈম উদ্দীন জামী: সপ্তাহের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও ফজিলতপূর্ণ দিন হলো জুমাবার। এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থ...
28/09/2021

নাঈম উদ্দীন জামী: সপ্তাহের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও ফজিলতপূর্ণ দিন হলো জুমাবার। এই দিনের ফজিলত সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থগুলোতে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, জুমার দিন দিবসসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১০৮৪)

জুমার দিনের আট আমল: মর্যাদাপূর্ণ এই দিনের অনেক আমল হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে কিছু আমল ধারাবাহিক উল্লেখ করা হলো।

১. গোসল করা।
২. উত্তম পোশাক পরিধান করা।
৩. সুগন্ধি ব্যবহার করা।
৪. মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনা।

এই চারটি আমলের কথা একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে উত্তম পোশাক পরিধান করবে এবং সুগন্ধি ব্যবহার করবে, যদি তার নিকট থাকে। তারপর জুমার নামাজে আসে এবং অন্য মুসল্লিদের গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যায়। নির্ধারিত নামাজ আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবার জন্য বের হওয়ার পর থেকে সালাম পর্যন্ত চুপ করে থাকে। তাহলে তার এই আমল পূর্ববর্তী জুমার দিন থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সমস্ত সগিরা গুনাহর জন্য কাফ্ফারা হবে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৪৩)

৫. যথাসম্ভব দ্রুত মসজিদে যাওয়া। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বোঝো।’ (সুরা জুমআ, আয়াত : ৯)

রাসুল সা. বলেছেন, জুমার দিন মসজিদের দরজায় ফেরেশতারা অবস্থান করেন এবং ক্রমানুসারে আগে আগমনকারীদের নাম লিখতে থাকেন। যে সবার আগে আসে সে ওই ব্যক্তির ন্যায় যে একটি মোটাতাজা উট কোরবানি করে। এরপর যে আসে সে ওই ব্যক্তি যে একটি গাভী কোরবানি করে। এরপর আগমনকারী ব্যক্তি মুরগি দানকারীর ন্যায়। তারপর ইমাম যখন বের হন তখন ফেরেশতাগণ তাদের লেখা বন্ধ করে দেন এবং মনোযোগ সহকারে খুতবা শুনতে থাকেন। (বুখারি, হাদিস : ৯২৯)

৬. সুরা কাহফ তিলওয়াত করা। আবু সাঈদ খুদরি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমা পর্যন্ত নূর উজ্জ্বল করা হবে। (আমালুল ইয়াওমী ওয়াল লাইল, হাদিস : ৯৫২)

৭. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। রাসুল সা. বলেন, দিনসমূহের মধ্যে জুমার দিনই সর্বোত্তম। এই দিনে হজরত আদম আ.-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। এই দিনে শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে। এই দিনে সমস্ত সৃষ্টিকে বেহুশ করা হবে। অতএব তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)

৮. দোয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া। জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সা. বলেন, জুমার দিনের বারো ঘণ্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত এমন আছে যে, তখন কোনো মুসলমান আল্লাহর নিকট যে দোয়া করবে আল্লাহ তা কবুল করেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮)

Address

Mohammadpur
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Hikma Books posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Hikma Books:

Share