13/08/2022
ড. জাকির নায়েকের জীবনীভিত্তিক বই "বহমান জীবনের স্রোতধারা" হতে,
দাওয়াতী কাজে আমাকে নানান জায়গায় সফর করতে হয়। এই ব্যয়ভার দাওয়াতী ফান্ডের অন্তর্ভুক্ত। প্রথন কয়েক বছর বিভিন্ন সংগঠন আমাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যেত। তখন তারা বিমানের টিকেট পাঠিয়ে দিত। কিন্তু আমি ইকোনমি ক্লাসেই চড়ে যাওয়ার কথা বলে দিতাম। কিন্তু এর কয়েক বছর পর কেউ আমাকে দাওয়াত দিলেই প্রথম শর্ত হতো এটাই যে, 'আমাকে দাওয়াত দিলে আমি নিজ খরচে টিকেট করব। আমার হোটেল ভাড়া আনিহ বহন করব।' এখন পর্যন্ত এভাবেই চলছে। আমার টিকেটের খরচ আয়োজকরা দিলে আমি যাব না বলে দিই। হ্যাঁ, যদি কোনো সরকারি নিমন্ত্রণ হয় তবে তাদের খরচে যাই। যেমন: সৌদি আরব দাওয়াত দিলে আমি তো আর বাদশাহর সাথে তর্ক করতে পারি না, তাই বাধ্য হয়ে যেতে হয়। কিন্তু কোনো যুবরাজ দাওয়াত করলেও আমার শর্ত বহাল থাকে।
একবার প্রিন্স খালিদ বিন তালালের ভাই দাওয়াত দিলেন। আমি যাওয়ার জন্য রাজি হলে তিনি বললেন, 'ঠিক আছে। আমরা আপনার জন্য টিকেট বুক করে দিচ্ছি।” আমি বললাম, “দুঃখিত! আপনি তা করতে পারবেন না।' তিনি ফাইভ স্টার হোটেলে বুকিং দেয়ার কথা বললেও আমি একই কথা বললাম। এও বললাম, 'যদি আপনি আমায় নিয়ে যেতে চান, তবে টিকেট, হোটেলসহ যাবতীয় খরচ আমি নিজেই বহন করব।' আল্লাহ যেখানে সরাসরিই দিচ্ছেন, সেখানে মানুষের কাছে হাত পাতা উচিত নয়। হ্যাঁ, কারও যদি সামর্থ্য না থাকে, সে টিকেট চেয়ে নিতে পারে। কিন্তু বর্তমানের চিত্র ভিন্ন। এমন অনেক দাঈ আছে, যারা সরাসরি শর্ত দেয়, আমি আপনাদের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গেলে আমাকে এক হাজার মার্কিন ডলার/দুই হাজার মার্কিন ডলার দিতে হবে।'
এ কেমন আচরণ! দাওয়াতী কাজের জন্য এত টাকা চেয়ে বসা! বেতন ভাতা হলে এক বিষয়। কিন্তু শুধু বক্তৃতার জন্য এত টাকা চাওয়া খুবই বাজে অভ্যাস। আমাকে এক একটা লেকচারের জন্য মানুষ মোটা মোটা অঙ্কের অর্থ প্রস্তাব করত। আমি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলতাম, 'অসম্ভব! আমাকে কোনো টাকা দেয়াই যাবে না। কনফারেন্স হলে গ্রহণ করা যেতে পারে। এমনিতে দেয়া যাবে না। এমনকি যদি আপনাদের টাকা-পয়সার কমতি থাকে তাও আমি দেবো।"
বইটি অর্ডার করতে ইনবক্স করুন।