19/06/2026
প্রিয় সুধী, আসসালামু আলাইকুম।
আমি **'শিশু কিশোর শব্দ সিঁড়ি সাহিত্য একাডেমি'**র পক্ষ থেকে যখন বিভিন্ন স্কুলে ভ্রাম্যমাণ বইমেলার আয়োজন করতে মাঠ পর্যায়ে যাই, তখন আমার ঝুলিতে জমা হয় দুই ধরণের বিচিত্র অভিজ্ঞতা।
কখনো কখনো কিছু স্কুলে গিয়ে যখন অবহেলার শিকার হই, যখন স্কুল কর্তৃপক্ষ বইমেলাকে একটা 'মস্ত বড় বোঝা' মনে করে ফিরিয়ে দেন, তখন বুকটা ভীষণ কষ্টে ফেটে যায়। মনে হয়, আমরা কি তবে কোনো অপরাধ করতে এসেছি?
কিন্তু ঠিক এর উল্টো পিঠেই লুকিয়ে থাকে আমাদের কাজের আসল সার্থকতা। অনেক গুণী প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কর্তৃপক্ষ আছেন, যাঁরা অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে, আনন্দিত হয়ে আমাদের মেলার অনুমতি দেন। আর সেই মেলাগুলোতেই ঘটে চমৎকার সব ঘটনা।
আমি আমার জীবনের একটা বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করি—
এ বছর আমি একটা স্কুলে প্রোগ্রাম করতে গিয়েছিলাম, যা গত বছরের একটি স্কুলের ঠিক পাশেই ছিল। সেখানে হঠাৎ এক অভিভাবকের সাথে আমার দেখা। উনি আমাকে দেখে এগিয়ে এসে বললেন, "ভাই, আপনি এখানে? গত বছর আপনার মেলা থেকে যে বইগুলো নিয়েছিলাম, সেগুলো পড়ে আমার বাচ্চা এখন খুব সুন্দর রিডিং পড়তে শিখেছে! ওর মেধার অনেক উন্নতি হয়েছে, তাই এবার ওকে আরও ভালো একটা স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।"
বিশ্বাস করুন, যখন একজন অভিভাবকের মুখ থেকে এই সাকসেসের কথাগুলো শুনি, তখন মাঠ পর্যায়ের সমস্ত অপমান, অবহেলা আর ক্লান্তি এক নিমেষেই দূর হয়ে যায়! মনটা আনন্দে ভরে ওঠে।
আমি নিজের চোখে দেখেছি, আমাদের মেলায় এসে যখন ছোট্ট একটা শিশু একটা রঙিন বই হাতে পায়, তখন তার চোখের কোণে যে কী পরিমাণ আনন্দ আর উচ্ছ্বাস খেলা করে—তা মুখে বলে প্রকাশ করার মতো ভাষা আমার জানা নেই।
কিন্তু দুঃখের বিষয় কী জানেন?
আজ আমাদের সমাজ কোন দিকে যাচ্ছে? অনেক অভিভাবক নিজেরাই সকাল-সন্ধ্যা স্মার্ট ডিভাইসে বা ফেসবুকে আসক্ত। বাবা-মা আসক্ত হলে সন্তান তো আসক্ত হবেই!
পার্শ্ববর্তী এলাকায় বা আশেপাশে যদি কোনো বাণিজ্যিক মেলা বা বিনোদনমূলক মেলা হয়, আমরা অভিভাবকরা বাচ্চাদের হাত ধরে অনেক টাকা খরচ করে সেখানে ঠিকই ছুটে যাই। অথচ যে মেলাটা বা যে বইগুলো বাচ্চার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, বাচ্চার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে পারে—সেটাকে আমরা এড়িয়ে চলি। যে জিনিসে জীবনের বিন্দু পরিমাণ উপকার নেই, সেটা নিয়ে আমাদের দৌড়াদৌড়ি বেশি; আর যা জীবন গড়ে দেবে, সেটাকে আমরা বলি 'সময় নষ্ট'।
আমরা কি আসলেই চাই আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ এভাবে নষ্ট হয়ে যাক? কখনোই না।
তাই আসুন, মানসিকতা পরিবর্তন করি। বইমেলাকে অবহেলা না করে, বাচ্চাদের হাতে মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে রঙিন বই তুলে দিই। 'শিশু কিশোর শব্দ সিঁড়ি সাহিত্য একাডেমি'র এই লড়াইয়ে আপনাদের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
আপনাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমরা আছি সবসময়, আপনাদের পাশে। ধন্যবাদ।