20/06/2026
মেধাবী সাকলায়েন বনাম পতনের গল্প: আমাদের জন্য এক কঠিন শিক্ষা!
৩০তম বিসিএস-এ ফার্স্ট, বুনিয়াদি প্রশিক্ষণেও সবার সেরা, রাষ্ট্রপতির মেডেল বিজয়ী—নাম তার গোলাম সাকলায়েন। একসময় যে মানুষটি টাকার অভাবে সাইকেলে করে মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে কলেজে যেতেন, টিউশনি করে চলতেন—সেই অদম্য মেধাবী আজ ক্যারিয়ারের চূড়ায় পৌঁছেও ধুলোয় মিশে গেলেন। একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনে চিরতরে সমাপ্ত হলো দীর্ঘ পরিশ্রমের ক্যারিয়ার।
অন্যদিকে, রূপালি জগতের বাসিন্দা পরীমণি। গ্ল্যামারের আলোয় তিনি নিজের শর্তে বাঁচেন, নিজের মতোই চলেন। সাকলায়েনের ধ্বংসের দিনেও পরীমণি আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে রিলস বানাচ্ছেন, নতুন স্পন্সর পাচ্ছেন—তাঁর কিন্তু কিচ্ছু হারায়নি।
তাহলে দিনশেষে হারালো কার?
হারালো ওই মধ্যবিত্তের রক্ত জল করা মেধার। দায়িত্ব পেয়েছিলেন মামলার তদন্ত করার, আর আপনি শুরু করলেন আসমির শরীরের তদন্ত! এক স্লাইস বার্থডে কেক আর কিছু মুহূর্তের মোহের খেসারত দিতে হলো পুরো জীবন দিয়ে।
সাকলায়েন হারিয়েছেন তিল তিল করে গড়া সম্মান, ক্যারিয়ার, সচিব স্ত্রীর মর্যাদা, সাজানো সংসার আর কলেজ প্রিন্সিপাল মায়ের বুকভরা গর্ব। শেষমেশ, যে গ্ল্যামারের মায়ায় তিনি নিজেকে হারিয়েছেন, সেই পরীমণিকেও কিন্তু তিনি পাননি।
শিক্ষণীয়:
মেধা আপনাকে সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু চরিত্র আর নৈতিকতা না থাকলে সেই চূড়া থেকে আছড়ে পড়তে এক সেকেন্ডও লাগে না। সেলিব্রিটিদের গ্ল্যামারের ফাঁদে পা দেওয়ার আগে একবার আয়নায় নিজের মায়ের মুখটা, নিজের স্ত্রীর মুখটা আর নিজের অতীত সংগ্রামের দিনগুলোর কথা স্মরণ করবেন।
আবেগ আর কামনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে, নিয়তি এভাবেই নগ্নভাবে প্রতিশোধ নেয়। মেধাবী হলেই সব মাফ—প্রকৃতি কিন্তু এই হিসাব রাখে না।
আহা রে জীবন! মানুষের পতন কি এভাবেই হয়? 💔
#