14/03/2021
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ খেজুর হলো #আজওয়া। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স:) আগুনে পোড়া কালো বীজ হতে পৃথিবীতে সর্বপ্রথম মদিনায় আজওয়া খেজুরের গাছ রোপন করেন। এ খেজুর গাছ রোপন ও জন্মের পেছনে রয়েছে বিশেষ কারণ। যার ফলে এ খেজুরের রয়েছে বিশেষ বরকত ও ফজিলত। লেখার শেষের দিকে এ খেজুরের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।
আজওয়া খেজুরের গুণ, বরকত ও ফজিলত সম্পর্কে বিশ্বনবী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে কয়েকটি (সাতটি) আজওয়া খেজুর খাবে, সেই দিন ও রাত পর্যন্ত কোনো বিষ ও যাদু তার কোনো ক্ষতি করবে না।” (বুখারি)
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আলিয়ার (মদীনার গ্রাম) আজওয়া খেজুর রোগ নিরাময়কারী এবং প্রাতঃকালীন প্রতিষেধক”। (মুসলিম)
এ খেজুর সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেন, “আজওয়া জান্নাতের ফল, এর মধ্যে বিষের নিরাময় রয়েছে” । (তিরমিজি)
আজওয়া খেজুরের খাদ্য উপাদান:
৩০ গ্রাম বা ৪ (চার) টি আজওয়া খেজুরে রয়েছে ৯০ ক্যালোরি, এক গ্রাম প্রোটিন, ১৩ মিলি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২.৮ গ্রাম ফাইবার। এছাড়াও এ খেজুরের রয়েছে আরও অনেক পুষ্টি উপাদান। চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে আজওয়াসহ সকল প্রকার খেজুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ণ থাকায় ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। তাই যারা নিয়মিত খেজুর খান, তাঁদের ক্ষেত্রে ক্যান্সারের ঝুঁকিটাও অনেক কম থাকে।
হৃদপিণ্ড ভাল রাখার কার্যকরী ওষুধ হলো খেজুর।
খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা হাড়কে মজবুত করে।
খেজুর দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে রাতকানা প্রতিরোধেও সহায়ক।
খেজুরে আছে এমন সব পুষ্টিগুণ, যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য রোধ করে।
অন্ত্রের কৃমি ও ক্ষতিকারক পরজীবী প্রতিরোধে বেশ সহায়ক। অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে।
মাত্র কয়েকটি খেজুর ক্ষুধার তীব্রতা কমিয়ে দেয় এবং পাকস্থলীকে কম খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। অল্পতেই শরীরের প্রয়োজনীয় শর্করার ঘাটতি পূরণ করে যা ডাইবেটিক রোগীদের জন্য খবুই উপকারী।
বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের জন্য সমৃদ্ধ এক খাবার, যা মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ আরো বাড়িয়ে দেয় এবং শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
যকৃতের সংক্রমণে উপকারী। এ ছাড়া গলাব্যথা এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বর, সর্দি ও ঠাণ্ডায় বেশ কাজ দেয়। শিশুদের মাড়ি শক্ত করতে সাহায্য করে।
বরকতময় আজওয়া খেজুরের ইতিহাস:
ইসলাম গ্রহণের আগে হজরত সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন ইয়াহুদির অধীনে ক্রীতদাস ছিলেন । তিনি যখন তার কাছ থেকে মুক্তি চাইলেন, তখন ইয়াহুদি তাকে মুক্তি দিতে আপত্তি জানায়। বারবার বলার পর ওই ইয়াহুদি বাস্তবে অসম্ভব একটি শর্তসহ দুইটি শর্ত জুড়ে দেয়। যা স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়। তার মূল উদ্দেশ্য ছিল হজরত সালমান ফারসি (রা:)কে মুক্তি দেবে না।
ইয়াহুদির শর্তসমূহ:
ক). অল্প দিনের মধ্যে ৬০০ দিরহাম দিতে হবে।
খ). ৩০টি খেজুর গাছ রোপন করে তা পরিচর্যা করে অল্প দিনে খেজুর উৎপন্ন করে পাকিয়ে দেয়া।
ইয়াহুদি জানতেন যে, সালমান ফারসি কোনোভাবে ৬০০ দিরহাম সংগ্রহ করতে পারলেও অল্প সময়ে খেজুর গাছ রোপন এবং তা থেকে অল্প সময়ে খেজুর ফলানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। ফলে তার মুক্তি পাওয়ারও কোনো সম্ভাবনা নেই। কেননা খেজুর রোপন থেকে ফল উৎপন্ন হওয়া অনেক সময়ের ব্যাপার।
কোনো উপায় না দেখে হজরত সালমান ফারসি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে এসে ইয়াহুদির দেয়া শর্ত বর্ণনা করেন। রাসুলুল্লাহ (স:) ৬০০ দিনারের ব্যবস্থা করলেন। তারপর ইয়াহুদির দেয়া এক কাঁদি খেজুর চারা রোপন করতে হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সাথে নিয়ে গেলেন বিশ্বনবি। তিনি দেখলেন খেজুরের বীজগুলো কলো, আগুনে পেড়ানো। ইয়াহুদি এগুলো আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে যাতে তা থেকে চারা না গজায়।
বিশ্বনবি এ বীজগুলো রোপনের উদ্দেশ্যে হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুকে গর্ত করার জন্য বললেন । বিশ্বনবি (স:) সে গর্তে নিজ হাতে বীজ রোপন করলেন। আর সালমান ফারসি (রা:) কে বললেন বীজ রোপন করা গর্তে পানি দেয়ার জন্য।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালমান ফারসি (রা:) কে এ নির্দেশ দিলেন যে, বাগানের শেষ প্রান্তে না যাওয়া পর্যন্ত পেছনে ফিরে তাকানো যাবে না। সালমান ফারসি (রা:) পেছনে না তাকিয়ে পানি দিতে লাগলেন।
বিশ্বনবির অন্যতম মুজিজা:
সালমান ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু বাগানের শেষ প্রান্তে যাওয়ার পর তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখলেন যে প্রতিটি বীজ হতে গাছ হয়ে খেজুরে পরিপূর্ণ। পোড়া খেজুর বীজ থেকে গজানো চারা ও খেজুরগুলো পেকে কালো বর্ণ হয়ে গেলো। কারণ এই খেজুরের বীজগুলো ছিলো আগুনে পোড়া কয়লার মতো কালো। তাই এর স্বাদও অনেকটা পোড়া পোড়া গন্ধ। যার নাম আজওয়া।
অতএব, আল্লাহ পাক আমাদেরকে ফজিলত ও বরকতময় আজওয়া খেজুর খাওয়ার মাধ্যমে সুস্বাস্থ্যসহ যাবতীয় ক্ষতিকর বিষক্রিয়া থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন। মদিনা হতে আমদানীকৃত উৎকৃষ্ট মানের আজওয়া সহ সকল প্রকার ভাল জাতের খেজুর নিয়ে এসেছি। সবচেয়ে কমমূল্যে আপনারা সকল প্রকার খেজুর খুচরা ও পাইকারী ক্রয় করতে পারবেন। আমরা সারা বাংলাদেশে হোম ডেলিভারি দিয়ে থাকি। অর্ডার করতে ইনবক্সে মেসেজ করুন।