11/10/2022
আদম সন্তান বলে, 'আমার মাল আমার মাল।' অথচ তোমার 'মাল' তো তা-ই, যা তুমি সদাক্বা করে আল্লাহ্'র কাছে জমা করে রেখেছো বা যা খেয়ে শেষ করে দিয়েছো বা যা পরিধান করে নষ্ট করে ফেলেছো। (সহীহ মুসলিম : ২৯৫৮)
হাদীসটি ভালো করে দেখুন। হাতে বেশ টাকা আছে বলে অনলাইনে বোরকার পেইজে ঢু মারতেই ডিসকাউন্ট দেখে মনে হলো - নিয়ে নিই কয়েকটা; অথচ দরকার নেই একটাও, ওয়্যারড্রোব ভর্তি প্রয়োজনীয় পোশাক প্রচুর। তবু আমার চাই নিত্যনতুন পোশাক। ভেবে দেখুন, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও যে ডিসকাউন্ট দেখে ভাবছেন, কিছু টাকা বাঁচবে; কিন্তু যদি শুধু নিজের প্রয়োজনটুকু বুঝতেন, তবে কিন্তু পুরো টাকাটাই বাঁচতো। এটা এক ছোট্ট উদাহরণ। মূলত দুনিয়াতে অশান্তির অন্যতম কারণ হলো, নিজের জন্য প্রয়োজনের বাইরেও অর্থ, ক্ষমতা, আরামসহ যাবতীয় ভোগের জিনিস জমা করার প্রতিযোগিতা। যেমনটি আল্লাহ্ ইরশাদ করেছেন সূরা আত-তাকাসুর এর ১ম আয়াতে :
اَلْهٰىكُمُ التَّكَاثُرُۙ
'প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে।'
তাফসীর থেকে জানা যায়, এখানে ‘আলহাকুম’ (اَلۡهٰٮكُمْ ) শব্দটির মূলে রয়েছে লাহউন (لهو ), যার অর্থ গাফেলতি। যেসব কাজের প্রতি মানুষের আকর্ষণ এতো বেশী বেড়ে যায় যে, সে তার মধ্যে মগ্ন হয়ে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ জিনিস থেকে গাফেল হয়ে পড়ে। যেমন ধরুন, সকালবেলা ঘুমাতে ঘুমাতে আপনি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার টাইম মিস করে ফেললেন। এমন ধরনের কাজের জন্য আরবী ভাষায় এ শব্দটি বলা হয়ে থাকে।
জানা নেই, সামনে কি ঘোর দূর্যোগ অপেক্ষমান। বলবো, অপ্রয়োজনীয় খরচা কমিয়ে আল্লাহ্'র রাস্তায় দিয়ে দিন যতো পারুন। নিজের বা পরিবারের খরচ করার সময় উত্তম নিয়্যত করুন যেন আলটিমেটলি তাতে আল্লাহ্ তা'আলাকে খুশি করা যায়। পৃথিবীতে আপনার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবার আগেই নিজের প্রয়োজনটুকু বুঝতে শিখুন।
নিজেকে বন্দী করুন।
হ্যাঁ, আমি এটাই বলছি। আপনার জীবনে সুখ বলে কিছু নেই, না জীবনসঙ্গী ভালোবাসে, না রয়েছে বাবা-মায়ের সাপোর্ট; রয়েছে কেবল বন্ধু-পড়শীর শত্রুতা আর স্বজনদের বেঈমানী। অস্থির হবেন না, নিজের সকল দায়িত্ব ব্যাকুল হৃদয়ে মহান রব্বের নিকট সমর্পণ করুন।
জবানে তালা দিন, যেনো রব্বের যিকর আর প্রয়োজনীয় উত্তম কথা ছাড়া কিছুই না বের হয়। যেমন ছিলেন আবু মুসলিম আল খাওলানীর (রহ.), যার যিকর দেখে লোকেরা প্রশ্ন করতো, সে পাগল কি না! আর আবু মুসলিম খাওলানী বলতেন, এটা পাগলামী নয়, বরং পাগলামীর প্রতিষেধক। [১]
আল্লাহ্ ছাড়া অন্য সকলের প্রতি এক্সপেকটেশন ছেড়ে দিন। হৃদয়কে শেকল পড়ান এমনভাবে যেন, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোথাও ঝুঁকে না যায়। ফরজ ও নফল আমলসমূহের সায়হে নিজেকে কঠোরভাবে বন্দী করুন।
আবু হুরাইরা (রা.) বলেন: 'মানুষের জন্য মানুষ তখনই কল্যাণকর হয়, যখন তাদের গ্রীবাদেশে আল্লাহ্'র আনুগত্যের শেকল লাগিয়ে নিয়ে আসে।' [২]
রেফারেন্স :
১. শুআবুল ঈমান, ২/৫৮৪
২. বুখারী, আস সহীহ ৪৫৫৭
- Ala Riisa.