শীন SHEEN

শীন  SHEEN দেশী পণ্যের মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরা

09/10/2025

 #ফিরে_এসেছি_তোর_টানেলেখিকা:মাহযুবা মালিহা                   #পর্ব_৩২-অনেক পাখা গজিয়েছে তাই না দেখ তোর পাখা গুলো কীভাবে...
24/09/2025

#ফিরে_এসেছি_তোর_টানে
লেখিকা:মাহযুবা মালিহা
#পর্ব_৩২

-অনেক পাখা গজিয়েছে তাই না দেখ তোর পাখা গুলো কীভাবে ভাঙ্গি!

বলেই নিজের পরনের সাদা রঙের শার্টটা খুলে আদ্রির দিকে এগিয়ে গেল। আদ্রি আহানের এমন এগিয়ে আসা দেখে ভয়ে ভয়ে বলে উঠলো

-আ.. আপনি এভাবে এগিয়ে আ.. আছেন?

আহান বাঁকা হেসে আদ্রির মুখের কাছে এসে বলে উঠলো

-ফারাবি না টারাবির গার্লফ্রেন্ড হবি তাই না?

-আ..আপনি দূরে সুর বলছি কাছে আসবেন না।

-দূরে সরার জন্য তো আসি নি।

বলেই আদ্রির ঠোঁট জোড়া দখল করে নিল। আদ্রির দম বন্ধ লাগছে এবার। হয়তো এখনি জানটা উড়ে যাবে। আদ্রি আহানের বুকে ধাক্কা দিতে শুরু করলো। কিন্তু আহানের পেশিবহুল দেহের সাথে কি আদ্রি পারে। আদ্রির চোখ দিয়ে এবার নোনা জল গড়িয়ে পরতে লাগলো। আহান রুড ভাবে আদ্রির তুল তুলে গোলাপি ঠোঁট জোড়ায় অত্যাচার চালাচ্ছে।

প্রায় ২০ মিনিট পর আদ্রির ঠোঁট ছেড়ে দিললো। দুই জনই হাপাতে শুরু করলো। আহান আদ্রির দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বলে উঠলো

-এইটুকুতেই এই অবস্থা!

আদ্রি রাগে দুঃখে বলে উঠলো

-আপনি একটা বদ লোক, আমার ঠোঁট।

আহান আদ্রির ঠোঁটে হাত দেওয়ার উদ্দেশ্যে হাত বাড়াতেই আদ্রি হাতটা ঝাড়ি দিয়ে ফেলে বলে উঠলো

-খবরদার আমার কাছে আসবেন না, যান না যান এই মেয়েটার কাছে যান।

আহান আদ্রির কথার মানে বুঝলো না। তাই ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলো

-কি বলতেছিস এসব মাথার ঠিক আছে?

-এমন ভাব করতেছেন যে ভাজা মাছ উলটে খেতে জানেন না।

বলেই ভেংচি কাটলো। আহান নিজের মস্তিষ্কে চাপ দিল। আর মনে পরে গেল আদ্রিকে গাড়িতে রেখে অফিসের কলিগদের সাথে কথা বলার কথা। আহান এবার আদ্রির ব্যাপারটা বুঝলো।আহান আলতো করে আদ্রিকে জড়িয়ে ধরলো। আদ্রি বলে উঠলো

-ছাড়েন আমায় আমাকে টাচ করবেন না।

আহান আর শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আদ্রির মাথায় চুমু খেয়ে বলে উঠলো

-ও তো অফিসের কলিগ ছিল।

-কচু ছিল ছাড়েন আমায়।

আহান আদ্রিকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো

-আমি ছাড়ব না তবে আপনি বলেন এই ফারাবি কে? ওভাবে কেন কথা বলছিলেন? ফোনে ওর নামের সাথে ❤️ কেন দেওয়া?

আদ্রি এবার ফিক করে হেসে দিল। এখন ওর খুব হাসি পাচ্ছে। আহান আদ্রির হাসি দেখে কেমন জানি সন্দেহ হচ্ছে। আদ্রি আহানের দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো

-জানেন ছেলেটা অনেক সুন্দর দেখতে পুরাই আগুন

আহান আদ্রিকে নিজের সাথে চেপে ধরে বলে উঠলো

-তাই নাকি এত সুন্দর তাহলে দেখি মুখের মানচিত্র বদলাতে হয়। (ধমকের সুরে) বল কে ছেলেটা?

-আপনার এই তুই তুমি কম্বিনেশনটা আমার কাছে অদ্ভুত লাগে। আপনি কি যেকোনো একটা ডাকতে পারেন না?

-তুই বলবি?

আদ্রি আহানকে আবারো রাগ করতে দেখে বলে উঠলো

-আচ্ছা বলতেছি, ওই ফারাবি সত্যিই আমার সিনিয়র তবে আমার ওনার প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই।

-তাহলে নাম্বার

-ওটা তো মাই ডিয়ার ব্রেস্ট ফ্রেন্ড মিনির নাম্বার। আপনি আসার আগে ইচ্ছা করে নাম চেঞ্জ করে রেখেছি আপনাকে একটু জ্বালানোর জন্য।

আহান আদ্রিকে ছেড়ে দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। এত বড় বিজনেস ম্যান আহান নাকি তার বউয়ের দুষ্টু বুদ্ধির কাছে নাস্তানাবুদ হয়ে গেল। এই কথা যদি বাহিরে কেউ তো বাদ যদি এই সোহান জানে তাহলেই তো সব শেষ। বেটায় একটা চান্স ছাড়বে না মজা লুটার। আহানের এখন নিজে নিজেকে নিয়ে উপহাস করতে ইচ্ছা করছে।

আদ্রি আহানের এমন মুখ দেখে হেসেই গড়াগড়ি খাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। আহান এক ধ্যানে আদ্রির হাসির দিকে তাকিয়ে আছে। এই হাসিটা সে কতগুলো দিন দেখেনি। যা দেখেছে তা মিথ্যা হাসি তা কারো চোখে ধরা না পড়লেও আহানের চোখে পড়েছে। আহানের এখন নিজেকে সফল মনে হচ্ছে। আহান এক হ্যাঁচকা টানে আদ্রিকে নিজের বুকের উপর নিয়ে ওর মুখে নিজের ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। আদ্রির মুখে এখন লাজুক হাসি। আহান তা দেখে আদ্রির কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলে উঠলো

-ম্যাডাম তখনকার নিষিদ্ধ ইচ্ছাটা কি এখন পূরণ করতে দিবেন?

আদ্রি লাল গোলাপের ন্যায় লাল বর্ণ ধারণ করলো।আহান আবারও বলে উঠলো

-অনুমতি দিবেন ম্যাডাম, আপনি কিন্তু আমাকে ইশারা করতে পারেন।

আদ্রি আহানের বুকে মুখ লুকালো। আহান তার উত্তর পেয়ে গেল। আহান বাঁকা হেসে বলে উঠলো

-ম্যাডাম এভাবে ইশারা করলে তো নিজেকে সামলানো দায়।

তারপর যা হওয়ার তাই। দুই জনই হারিয়ে গেল এক অজানা রাজ্যে। কেটে গেলো একটা মধুর রাজনী। যে রজনীতে পূর্ণতা পেল দুইটি দেহ দুটি প্রাণ।
_______________________________________________

নতুন একটা দিন। আজ আকাশে সূর্যের দেখে নেই সে লুকিয়ে আছে মেঘের আড়ালে। হয়তো আজ ঝড় হবে। অনেক দিন পর হয়তো ধরনীর বৃক্ষ হয়তো তার প্রাণ ফিরে পাবে। চারদিকে ঠান্ডা বাতাস বইছে।

আদ্রি লিভিং রুমের একপাশে যে কাঁচে দেওয়াল আছে তা থেকে পর্দা সরিয়ে দিল। আকাশের দিকে কিছু ক্ষণ তাকিয়ে থাকলো । মনে পরে গেল কালকের রাতের কথা। গাল দুটো লাল বর্ণ ধারণ করলো। আদ্রি কিছু ক্ষণ আগেই ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিচে এসেছে। আহান এখনো ঘুমাচ্ছে।

-কি গো ভাবীজি এখানে একা একা কি কর?

আদ্রি কন্ঠস্বরটা চিনতে পারল এতো স্রোত। আদ্রি পিছনে ফিরতেই দেখলো স্রোত আর ইতি কোমরে হাত দিয়ে দাড়ি আছে। তাদের ভাব দেখে মনে হচ্ছে কোনো গোয়েন্দা। স্রোত এসে আদ্রির চারপাশে একবার ঘুরে বলে উঠলো

-ভাবী জি গাল এত লাল হয়ে আছে কেন? কি ব্যাপার হুঁ আমাদেরও একটু বললো।

ইতি এসে আদ্রির একহাত ধরে আদ্রির গলায় কিছু একটা লক্ষ্য করে বলে উঠলো

-স্রোত আমার মনে হচ্ছে আমরা আবার ফুপি খালা হবো। তাই না ভাবী জি?

স্রোত ইতির ইশারায় আদ্রির গলার দিকে তাকালো। গলায় লালচে দাগ। স্রোত ও ইতির সুরে বলে উঠলো

-কি গো ভাবী জি কালকে আমার গোমরাহ মুখ ভাই বুঝি আদর করছে তা কি কি করলো?

আদ্রি মন চাচ্ছে মাটিটা ফাঁক হয়ে যাক আর ও ওখানে লুকাবে। সব দোষ এই বদ লোকের।আদ্রিকে কীভাবে লজ্জায় ফেললো। আদ্রি কোনো মতে বলে উঠলো

-আমি কিচেনে যাই অনেক কাজ আছে।

বলেই দৌড়াতে যাবে তার আগেই ইতি আদ্রির হাত ধরে টেনে বলে উঠলো

-আরে আরে কই পালাও ভাবী জি, আমাদের সাথে একটু গল্প করেন চলেন বসে কথা বলি।

বলেই আদ্রিকে টেনে সোফায় বসালো। স্রোত বলে উঠলো

-রেখা আপু আমাদের তিনটা চা দেও তো অনেক দিন পর ননন্দ ভাবী গল্প করব।

আদ্রির দুই পাশে স্রোত আর ইতি দুজনকে চেপে ধরে বসে আছে। আদ্রির এখন মন চাচ্ছে আহানকে ইচ্ছা মত কিলাইতে সব দোষ ওই বদ লোকের। ইতি আফসোসের সুরে বলে উঠলো।

-আদ্রি তুই আমাদের থেকে সবার ছোট কিন্তু তুই সবার আগে বাসর করে বাচ্চা জন্ম দিয়ে দিলি আর আমরা!

স্রোত বলে উঠলো

-তুই ইতি আপি আমার চেয়ে এক বছরের বড় আর আদ্রি ছোট। তোর তো বিয়ে ঠিক কদিন পর এমনিতেই জামাইয়ের খাতির পাবি কিন্তু আমি না আছে বয়ফ্রেন্ড না কারো সাথে বিয়ে ঠিক। আমি কি করমু!

আদ্রি বলে উঠলো

-ইতি তোর বিয়ে ঠিক বলিস নি তো?

স্রোত হাসি মুখে বলে উঠলো

-আরে তোর কি মনে আছে এই মুহিনের কথা

-এই তো যে কি না বলে ছিল আমার বাড়ির ইতি, পড়ার ইতি, জীবনের ইতি এই মুহিন।

-হ্যাঁ রে এই তিন বছরের প্রচেষ্টায় আমাদের ইতি রানীর মন জয় করেছে।

আদ্রি ইতির দিকে তাকালো। লাল হয়ে গেছে পুরো মুখ। এভাবেই গল্প চললো। গল্প করতে করতে আদ্রির চোখ গেল ঘড়ির দিকে ৮টা বেজে গেছে।আদ্রি উঠে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো

-এই যাহ আটা বেজে গেছে।

বলেই কিচেনে গিয়ে এক কাপ কফি হাতে দৌড়ে উপরে চলে গেল। আদ্রি তাড়াহুড়ো করে রুমে ঢুকলো। বেডের কাছে গিয়েই স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল।আহান এখনো উপর হয়ে ঘুমাচ্ছে। আদ্রি ধীরে সুস্থে আহানের কাছে গিয়ে বেড সাইড টেবিলে কফির কাপ নিয়ে যেই আসতে নিবে তার আগেই আহান নিজের ডান হাত আদ্রির হাত টেনে ধরে হ্যাঁচকা টানে আদ্রিকে নিজের সাথে জড়িয়ে ওর বুকে মাথা রেখে শুয়ে পড়লো।

-এই আপনি কি করছেন!

-৩০ মিনিট লেটে আসার শাস্তি।

-এই ছাড়েন প্লিজ বাসার সবাই উঠে পরেছে হয়তো। আর আপনি অফিস যাবেন না?

আহান আদ্রির দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো

-ছাড়ব এক শর্তে

-কি

আহান নিজের ঠোঁটে ইশারা করলো। আদ্রি যা বোঝার বুঝে গেলো আদ্রি বলে উঠলো

-অসম্ভব আমি পারবো না।

-তাহলে আমাকে করতে দেন।

বলেই আদ্রির ঠোঁট জোড়া নিজের ঠোঁটের মাঝে নিয়ে নিলো।

________________________________________________

টিক টিক টিক

একটা কালো হুডি পরা লোক। ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে আর বার বার মুখ দিয়ে শব্দ করছে। আজ তার পরিকল্পনার প্রথম ধাপ। এটা পূরণ হলেই পরের ধাপগুলো পেরতে সহজ হবে। লোকটা আবারও ঘড়ির দিকে তাকালো ১:৫৯ বাজে । এখনি ভার্সিটির ছুটি হবে।

সকল শিক্ষার্থীরা বের হয়ে আসলো। আর সবার পর বেড় হয়ে আসলো তিনটা মেয়ে। লোকটা মেয়েগুলো দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে। মোবাইলে কাউকে টেক্সট করলো

"পাখি খাঁচায় বন্দি করার সময় হয়ে গেছে"

চলবে

 #ফিরে_এসেছি_তোর_টানেলেখিকা: মাহযুবা মালিহা                  #পর্ব_৩১আহান রাফির সাথে কথা বলে ফোন কেটে দিল। কি হয়েছে তার...
22/09/2025

#ফিরে_এসেছি_তোর_টানে
লেখিকা: মাহযুবা মালিহা
#পর্ব_৩১

আহান রাফির সাথে কথা বলে ফোন কেটে দিল। কি হয়েছে তার আদরপাখির? এই অবস্থার পিছনে যদি নির্ভীক থাকে তাহলে এবার ওকে জ্যন্ত কবর দিবে এমনিতেই গায়ে হাত তুলেছে, আদ্রি না বললে এতক্ষণে মেরে ফেলতো। আহানের হুট করে কি যেন মনে পরলো ও ড্রেসিং টেবিলের দিকে গিয়ে টেবিলের শেষের ড্রয়ার খুলে সেখান থেকে একটা খাম বেড় করলো। কিছু ক্ষণ এক দৃষ্টিতে খামের দিকে তাকিয়ে আবার সেটা জায়গায় রেখে পিছনে ফিরতেই চোখ আটকে গেল এক কালো পরীতে।

আদ্রি কালো রঙের একটা শাড়ি পড়েছে। দুধে আলতা গায়ের রঙের সাথে কালো রঙটা যেনো নিজের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। আদ্রির চুল গুলো ছাড়া। চুলগুলো ভেজা হয়তো গোসল দিয়েছে।আদ্রি হাতের সাহায্যে চুল গুলো কয়েকবার ঝাড়লো।

আদ্রি ওয়াশ রুম থেকে বের হয়ে আহানের দিকে খেয়াল না করেই ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে চুড়ি রাখার আনলা থেকে কালো রঙের চুড়ি বের করে পরতে থাকে, আদ্রি মেচিং করে একজোড়া কানের দুল বের করে পরতে হাত উঠাতেই আদ্রি শাড়ি একটু উপরে উঠে যায় ফলে আদ্রির ফর্সা পেট দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। আদ্রি এতে তেমন মাথা ঘামানোর প্রয়োজন বোধ করলো না।

কিন্তু এই দৃশ্য কাউকে পাগল করে দিতে পারে এটা হয়তো আদ্রি ভাবেনি। আহান আদ্রির থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে বার বার ঢোক গিলছে। ওর মনে নিষিদ্ধ ইচ্ছা জাগছে। আহান আজকে নিজেকে শান্ত রাখতে পারছে না তাই তো সে আজ সব দ্বিধা এক পাশে রেখে আদ্রিকে পেছন থেকে নিজের সাথে জড়িয়ে নিল।

আদ্রির মনেই ছিল না রুমে আহান আছে। প্রথমে হঠাৎ স্পর্শে ভরকে গেলেও আহানকে দেখে শান্ত থেকেছে। আদ্রি আয়নায় আহানের চোখের দিকে তাকায়। কেমন ঘোর লাগা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।আদ্রি শুকনা ঢোক গিললো। ওর আহানের মতিগতি ভালো ঠেকছে ন।

আহানের হাত আদ্রির শাড়ির ভেদ করে ওর উম্মুক্ত পেট স্পর্শ করলো। আদ্রি কেঁপে উঠলো ‌দেহে শিহরণ বয়ে গেল ‌‌। আদ্রি পরিস্থিতি ঘুরানোর জন্য কিছু বলতে নিবে তার আগেই আহান আদ্রির কানের কাছে গিয়ে ঘোর লাগা কন্ঠে বলে উঠলো

-ম্যাডাম আমাকে পাগল করার প্ল্যান করেছেন এবার তো তার শাস্তি পেতে হবে। বেড়াতে যাওয়া ক্যান্সেল।

আদ্রি কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠলো

-ম..মানে?

আহান বাঁকা হেসে আদ্রিকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে আদ্রির কোমর জড়িয়ে দুজোড়া ঠোঁট মিলিয়ে দিল
কেটে গেলো কিছুটা সময়। আহান যে আদ্রির ঠোঁট কতক্ষণ নিজের দখলে রেখে ছিল তার খেয়াল নেই। আহান আদ্রির ঠোঁট ছেড়ে দিল। দুইজনই হাঁপাতে লাগলো। আহান আদ্রিকে পাঁজা কোলে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে নিজের শার্টের কয়েকটা বোতাম খুলে আদ্রির কানের কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বললো

-ম্যাডাম আজকে আপনাকে সুখের রাজ্যে নিয়ে যাব।

বলেই আবার আদ্রির ঠোঁট দখল করে।

- আমি কিছু দেখিনি আমি কিছু দেখিনি

হঠাৎ কারো কথায় আহান আদ্রিকে ছেড়ে দিয়ে দূরে সরে যায়। রেখা নামের সার্ভেন্ট দাঁড়িয়ে আছে উল্টো দিকে হয়ে। আদ্রি রেখাকে দেখে লজ্জায় শেষ। আহান ধমকের সুরে বলে উঠলো

-এখানে কি করতেছো (ফিসফিস করে) পুরো রোমান্সের বারোটা বাজিয়ে দিল!

রেখা বলে উঠলো

-আমি কিছু দেখিনি স্যার আমি তো ভাবী মণির থেকে রাতের খাবার কি হবে সেটা জানতে এসেছিলাম।

-এখন যাও এখন থেকে।

রেখা আহানের হুংকারে দৌড়ে চলে গেল। আহান বিরক্তি মাখা মুখ নিয়ে দরজা লাগিয়ে দিল। আহান আদ্রির দিকে আসতেই আদ্রি বলে উঠলো

-খবরদার আমার দিকে তাকবেন না নির্লজ্জ লোক আমার মান সম্মান সব ডুবায়ে দিল।

-আরে এতে আমার দোষ কোথায় ওই তো এসেছে।

-আপনিই লাস্টে এসেছেন, আপনার জানার কথা দরজা খোলা নাকি বন্ধ। আর আপনাকে কে বলছে দরজা খুলে রেখে এসব আস্তাগফিরুল্লাহ মার্কা কাজ কর্ম করতে বদ লোক।

-কিসের আস্তাগফিরুল্লাহ কাজ কর্ম ? নিজের বিয়ে করা বউকে নিজের করতে চাওয়া কোন দিক দিয়ে হারাম!

-জানি না, কিন্তু কাছে আসবেন না। আল্লাহ না করুক যদি এই কথা স্রোত, ইতি আপুর কানে যায় তাহলে তো আমাকে লজ্জা দিয়ে দিয়ে শেষ করে ফেলবে।

-আচ্ছা বাদ দেও , চল ঘুরতে যাই।

-কচু যাব আমি আপনার সাথে, যাবো না আমি।

-ওকে বাবা সরি আমার ভুল এবার চল।

******

আদ্রি গাড়িতে গাল ফুলিয়ে বসে আছে। আহান ঘুরতে যাবার কথা বলে এখন ওকে গাড়ির ভিতর বন্দি করে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। কি সব উল্টোপাল্টা বুঝিয়ে কখন গেছে এখনও আসার নাম নাই । আদ্রি বলে উঠলো

-রাত ১০টা বেজে গেল ৫ মিনিট বলে ২০ মিনিট হয়ে গেল সাহেবের এখনো আসার নাম নাই।

হঠাৎ আদ্রির চোখ জানালা ভেদ করে বাহিরে গেল আর যা দেখলো তাতে রাগে মাথা গরম হয়ে গেল।আহান তাকে এখানে বসিয়ে রেখে বাহিরে একটা মেয়ের সাথে হেসে হেসে কথা বলছে। কই এই লোক তো তার সাথে এভাবে হেসে হেসে কথা বলে না আর বাহিরে হাসির বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। আদ্রির আর রাগ হলো মেয়েটার ড্রেসআপ আর কথা বলার স্টাইল দেখে। বার বার আহানের গায়ে ঢলে পরে কথা বলছে।

আদ্রি রাগে গজগজ করতে করতে বলে উঠলো

-ওহ এই ব্যাপার , আমাকে এখানে বন্দি করে এখন বাহিরে গিয়ে মেয়েদের সাথে গপ্পো করা হচ্ছে। আসেন গাড়িতে আপনার ব্যবস্থা আমি করব জন্মের মনে মেয়েদের সাথে কথা বলা বের করে দিব।

আদ্রি আহানের দিকে তাকিয়ে রাগে ফায়ার হয়ে যাচ্ছে। আর ৫ মিনিট পর আহানকে গাড়ির দিকে আসতে দেখে আদ্রি দ্রুত নিজের ফোন বের করে কাকে একটা ফোন করে। আহান গাড়ির দরজা খোলার আগেই আদ্রি বলতে শুরু করে।

-হ্যাঁ আমি আসব, চিন্তা করো না। আরে তোমার মতো হ্যান্ডসাম একটা ছেলে এত করে বলতেছ আমি আসব না এটা হতে পারে। তুমি চিন্তা করো না ফারাবি আমি চলে আসব ঠিক সময়।

আহান ড্রাইভিং সিটে বসে রাগি দৃষ্টিতে আদ্রির দিকে তাকিয়ে আছে । আদ্রি তা আড় চোখে দেখে আবার বলা শুরু করলো -

-হ্যাঁ ফারাবি আমি একদম ফ্রি। তুমি ওসব চিন্তা করো না তোমার মাকে আমি ম্যানেজ করে নিব। হ্যাঁ আমি single একদম পিওর single । আরে চিন্তা করো না আমি তোমার girlfriend এর রোল খুব ভালো মতো করব। হ্যাঁ, হ্যাঁ, তোমাকে আর আমাকে যে একসাথে খুব মানায়, ভার্সিটিতে সবাই বলে তো। আচ্ছা রাখি আমি আসতেছি তুমি ওয়েট কর।

বলেই ফোন কেটে দিয়ে ফোনের দিকে তাকিয়েই বলে উঠলো

-শোনেন না আমাকে একটু সামনে মোড়ে নামিয়ে দিয়েন আমি এক জায়গায় যাবো।

আহান আদ্রির দিকে এগিয়ে যেতে যেতে রাগে গজগজ করতে করতে বলে উঠলো

-সামনে মোড়ে নামিয়ে দেওয়া, খুব মানায় তাই না, একদম single তাই না।

বলেই আদ্রির কাছে গিয়ে ওকে গাড়ির দরজার সাথে পিন করে বলে উঠলো

-এই বল এই ছেলে কে?

-কোন ছেলে

-রাগ তুলাবি না, যার সাথে এতক্ষণ ধরে পিরিত করলি

-এই নিজের ভাষা ঠিক করুন আপনি না The great আহান।কত বড়ো কম্পানির মালিক।কত ফ্যান ফলোয়ার আর আপনি এভাবে কথা বললে হয়

-এই ছেলেটার নাম্বার দে বলছি। তোর প্রেম আমি বের করব, girlfriend তোর girlfriend গিরি বের করব।

-আপনি যা ইচ্ছা করেন শুধু আমাকে মোড়ে নামিয়ে দেন।

আহান আদ্রির দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে নিজের জায়গায় এসে বলে উঠলো

-তোর পাখা বেশি গজায়ছে। কীভাবে পাখা ভাঙতে হয় আমার সেটা ভালো মত জানা আছে।

বলেই ঝড়ের বেগে গাড়ি চালাতে থাকে। আদ্রির তো মনে হচ্ছে এই বুঝি ওর কলিজা বের হয়ে আসবে। আদ্রি ভালোমত সিট ধরে বসলো।

অন্যদিকে মিনি হা করে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে। কিছু ক্ষণ আগে কি‌ হলো সব মাথার উপর দিয়ে গেল। ও বসে থেকে ফোন ঘাটছিল হঠাৎ আদ্রি ফোন করায় খুশি হয়ে ফোন ধরতেই ঠোঁটের হাসি গায়েব হয়ে গোল হয়ে যায়। মিনি বলে উঠলো

-কি ছাইপাশ খেয়ে আমাকে ফোন দিচ্ছিল, কি বললো এসব কে ফারাবি কিসের গার্লফ্রেন্ড কাকে মানায় কি বল এসব। সিওর দুলাভাইয়ের আদরে পাগল হয়ে গেছে।

*******

আদ্রি ভয়ে মুখে বিছানার উপর গুটিসুটি মেরে বসে আছে। এরমধ্যেই একবার ভাংচুর পর্ব শেষ। আদ্রির এখন মনে হচ্ছে একটু বেশিই হয়ে গেছে। আজকে তো ছেলেটাও কথা শুনলো না। সে নাকি তার কাজিনের সাথে তার নিজের রুমে থাকবে (কর্ণের ছেলে)। আদ্রির ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।আহানের চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে।

আহান একটা সোপিস আছাড় মেরে আদ্রির দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলে উঠলো

-অনেক পাখা গজিয়েছে তাই না, দেখ তোর পাখা গুলো কীভাবে ভাঙ্গি।

বলেই..…

চলবে

 #ফিরে_এসেছি_তোর_টানেলেখিকা: মাহযুবা মালিহা                       #পর্ব_৩০-তোকে আমি শেষ করে দিব OG মেরে ফেলব তোকে সোহান ...
20/09/2025

#ফিরে_এসেছি_তোর_টানে
লেখিকা: মাহযুবা মালিহা
#পর্ব_৩০

-তোকে আমি শেষ করে দিব OG মেরে ফেলব তোকে

সোহান নেহাকে শক্ত করে নিজের সাথে চেপে ধরে বলে উঠলো

-কি হইছে আহান এমন করতেছিস কেন?

সোহান কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠলো

-আর এই কাটা পায়ে কি লেখা আছে

আহান দেয়ালে পরপর কয়েকটা ঘুষি মেরে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলে উঠলো

-এই OG বাচ্চা,সা*শায় আমায় হুমকি দিচ্ছে, এখন থেকে খেলা শুরু তাই না। এবার আর কাউকে দিয়ে কিছু করাব না নিজেই নিজেরটা বুঝব। আমি সিওর কোনো কু*ত্তার বাচ্চা আমাদের প্ল্যান এই জা*নোয়ারটাকে বলচ্ছে। তাই এতদিনও ওর টিকিটটাও খুঁজে পাচ্ছি না। কি ভেবেছে আমার কলিজায় হাত দিতে যাবে আমি বসে থাকব। আমি বলছি OG তোর দিন শেষ অনেক খেলেছিস ভেবেছিলাম আর ওসবে‌ নিজেকে জড়াবো না নিজেদের প্রটেক্ট করে তোকে খুঁজে বের করে সব মিটমাট করব কিন্তু তুই তো সা*শা এটার যোগ্য না। তাই এবার দেখ আমি কি জিনিস। তোকে খুঁজে বের করে টুকরো টুকরো করে যদি নিজের হাতে রান্না করে কুকুরদের না খাইয়েছি আমার নাম Ak না। তুই আমার বউয়ের দিকে হাত বাড়াতে চাচ্ছিস তাই না এই হাত আমি কেটে টুকরো টুকরো করবো।

সোহান বলে উঠলো

-এর মধ্যে ভাবী আসল কীভাবে?

আহান সোহানের কাছ থেকে এমন বোকার মত কথা আশা করেনি তাই নিজের রাগ কন্ট্রোল না করতে পেরে সোহানকে একটা ঘুষি মেরে বলে উঠলো

-এই গাধা তোর স্মৃতি শক্তি এত কম কেন?মনে নেই তোদের ৭ বছর আগের ঘটনা

নেহা সাদির বুকে মাথা রেখেই কাঁপা কাঁপা গলায় বলে উঠলো

-এই জা*নোয়ার তো কারো ভালোবাসার মানুষকে পছন্দ হলে তাকে না হলে ওই মেয়েকে যাকে পছন্দ হয়েছে তাকে এভাবে কাটা পায়ে নোংরা নোংরা কথা লিখে পাঠাতো যেমনটা ৭ বছর আগে এমি নেলির সাথে করেছে আর আমার নিধি আপুর সাথে করার চেষ্টা করেছি

বলেই সাদিকে ধরে কেঁদে দেয় নেহা। নেহা যে দুর্বল প্রকৃতির তা নয় কিন্তু এই টপিকটা আসলে দুর্বল হয়ে পরে। আজ থেকে ৭ বছর আগে যদি সাদি আর আহান না থাকতো তাহলে হয়তো ওও নেলি আর এমির মতো এই জা*নোয়ারটার লালসার শিকার হয়ে প্রাণ হারাতো।

সাদি নেহার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো

-কিছু হবে না জান আমি আছি তো,ভয় পেও না ও কিছু করতে পারবে না। আহান তুই একটু শান্ত হ।

-কিসের শান্ত হব আমি ও আদ্রির দিকে হাত বাড়াতে চাচ্ছে আমি কীভাবে শান্ত হব? আর তুই হয়েছিলিস যখন নেহাকে টার্গেট করেছিল?

সোহান এতক্ষণে সব বুঝে গেছে তাই তো আর ওকে মারার ব্যপারে কথা না বলে উঠলো

-এখন কি করবি?

-নিজে মাঠে নামব যেমনটা ৭ বছর আগে নেমেছিলাম

বলেই নিজের চেয়ারে গিয়ে বসে চোখের উপর ডান হাত রেখে বসে থাকলো। সাদি নেহাকে শান্ত করতে ব্যস্ত হয়ে পরলো। সোহানও তার সঙ্গ দিল। বেশ কিছুক্ষণ পর আহান শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো

-সাদি কাটা পাটা ল্যাবে নিয়ে যা আর শোন তুই টেস্ট করবি একদম অন্য কাউকে টাচ করতে দিবি না। আর গোপনে করবি।

বলেই নেহার দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো

-নেহা তুই ঠিক আছিস তাহলে তোকে কাজ দিব

নেহা আগের চেয়ে অনেকটা নরমাল হয়েছে। নেহা বলে উঠলো

-কি কাজ

-শোন আদ্রি আর তোর ডিপার্টমেন্টর মধ্যে বেশি দূরত্ব না এক তলা উপরে। শোন এমনিতেও তুই আদ্রির সাথেই থাকিস তার পরও এবার থেকে ওকে ক্লাস বাদে ৫ মিনিটের জন্যও একা ছাড়বি না। আর চারপাশে নজর রাখবি যদি কিছু সন্দেহজনক মনে হয় সাথে সাথে বলবি এটা ভাববি না আগে কয়েক দিন দেখি, সাথেসাথেই বলবি। পারবি তো?

-হ্যাঁ অবশ্যই

তারপর আহান অনেক কিছু বললো। সম্পূর্ণ প্ল্যান সাজালো। এবার যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে।সময় কম
________________________________________________

বিকেল নেমে এসেছে। শহরের রঙ যেন ধীরে ধীরে পাল্টে যাচ্ছে। দিনের তীব্র রোদে ঝলসে ওঠা ভবনগুলো তখন স্নান আলোয় নরম হয়ে এসেছে ।রাস্তার ছায়া দীর্ঘ হয়ে এসেছে ,বাতাসে থাকা ধুলোর গন্ধের সাথে মিশে যায় ভাজা চানাচুর আর পুরনো চায়ের দোকানের দুধ চায়ের গন্ধ।শহর তখন এক অদ্ভুত ক্লান্তি আর উচ্ছ্বাসের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে।

আহান নিজ রুমে প্রবেশ করলো। আজ অফিসে যাবে না বলেও যেতে হয়েছে একটা মিটিং পরে যাওয়ায়। বাড়ির সবাই হয়তো নিজেদের জন্য বরাদ্দকৃত রুমে রেস্ট নিচ্ছে।

আহান রুমে প্রবেশ করে নিজের টাইটা ঢিলা করে সামনে এগিয়ে যেতেই দেখলো আদ্রি বেডের উপর হাঁটতে মুখ গুজে নিজের চুল টেনে ধরে বসে আছে।

আহান দ্রুত আদ্রির কাছে গিয়ে ওর পাশে বসে বলে উঠলো

-এই জান কি হইছে এমন করতেছ কেন?

আদ্রি হাঁটু থেকে মুখ তুলে আহানের দিকে একবার তাকিয়েই আহানকে জরিয়ে ধরে কেঁদে দিল।আহান আদ্রির এই হঠাৎ কান্নায় অস্থির হয়ে পরলো। কি হয়েছে তার আদরপাখির। আহান আদ্রির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো

-এই আদরপাখি কি হইছে জান কেউ কিছু বলছে,এই জান কথা বলো কি হইছে না বললে আমি জানব কি করে পাখি।

আদ্রি ফুপাতে ফুপাতে বলে উঠলো

-আমার দম বন্ধ লাগতেছে, নিজেকে খুব অসহায় লাগতেছে কিছু করতে গেলে অনেক ভয় লাগতেছে। আমার নিজেকে পাগল পাগল মনে হচ্ছে।

আহানের যেন এটাই ভয় ছিল। এখন আহান খুব ভালো মতো বুঝতে পারছে এই তিনটা মাস আদ্রির সাথে এমন কিছু করেছে যাতে ওর এই অবস্থা।আহান কোনো মতে আদ্রিকে শান্ত করে। আহান আদ্রিকে কোলে নিয়ে বলে আছে। আদ্রি বিড়ালের বাচ্চার মতো গুটিসুটি মেরে আহানের বুকে মাথা রেখে বসে আছে। আহানের মাথার মধ্যে একটা প্ল্যান আসলো যাতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে।আহান আদ্রির কানের কাছে মুখ নিয়ে এসে বলে উঠলো

-চলেন ম্যাডাম আমি আর আপনি কোথাও থেকে ঘুরে আসি এতে আপনার মাইন্ড ফ্রেশ হবে

-কিন্তু বাসায় এখন সবাই আছে কীভাবে যাব আর আদ্রিত?

-ও মামনির কাছে থাকতে পারবে আর কেউ কিছু মনে করবে না বুঝেন এবার রেডি হয়ে নিন না কি আজ আমি আপনাকে রেডি করিয়ে দিব।

আদ্রি লাফ দিয়ে আহান কোল থেকে নেমে বলে উঠলো

-একদম না আমি রেডি হচ্ছি

বলেই আলমারি থেকে একটা কালো রঙের শাড়ি বেড় করে দৌড়ে ওয়াশ রুমে চলে গেল। আর আহান আদ্রি যাওয়ার সাথে সাথে একজনকে ফোন লাগালো আর বলে উঠলো

-আমি সাদমান সিকদার আহান চিনতে পেরেছ

-হ্যাঁ চিনেছি, তা এতদিন পর এই বন্ধুকে স্মরণ করলেন যে কি ব্যাপার!

-ব্যাপার অনেক বড়ো রে। শোন না তোর একটু হেল্প লাগবে। আমার ওয়াইফ আদ্রিয়ানার কিছু একটা হয়েছে।

বলেই আহান আজকের ঘটনা সহ মোটামুটি যা বলার দরকার বলেছে। অপর পাশ থেকে আহানের একজন সাইকোলজিস্ট ফ্রেন্ড রাফি বলল

-আমার তুই যতটুকু বললি তাতে মনে হচ্ছে ভাবীর সাথে এই মনোবিজ্ঞান দিয়েই কিছু একটা করা হয়েছে। শোন আমি ১ সপ্তাহ পর দেশে ফিরব তুই চাইলে অন্য কোথাও

-না না তুই দেখ

-আচ্ছা একটু অপেক্ষা কর আর ভাবীকে টাইম দে আর দেখ কি কি তে ভাবীর সমস্যা হচ্ছে। আর আমি তোকে কয়েকটা মেডিসিনের নাম টেক্সট করছি ওগুলো আপাতত খাওয়া। তেমন কিছু হবে না তবে মেন্টালি রিল্যাক্স থাকবে। আর চিন্তা করিস না আমি আছি তো দেখিস আল্লাহ রহমতে সব ঠিক হয়ে যাবে।

-আচ্ছা

চলবে

 #ফিরে_এসেছি_তোর_টানেলেখিকা: মাহযুবা মালিহা                    #পর্ব_২৯_২য়_অংশ_-এই সাদমান এই দিকে কি করছিস এদিকে আয় মা...
19/09/2025

#ফিরে_এসেছি_তোর_টানে
লেখিকা: মাহযুবা মালিহা
#পর্ব_২৯_২য়_অংশ_

-এই সাদমান এই দিকে কি করছিস এদিকে আয়

মারিয়া সিকদারের কথায় আহান ফোন থেকে চোখ সরিয়ে ওদের দিকে তাকালো। আহানের মস্তিষ্ক স্মরণ করলো যে প্রতিবার মেসেজ বা ভিডিও আসে প্রাইভেট নাম্বার থেকে কিন্তু এবার তা আসে নি। তাহলে কি ইচ্ছা করে ওকে ঘোল খাওয়ানো জন্য করেছে নাকি কোনো সংকেত। বুঝতে পারলো না আহান

-বাবাই এ দিকে আসো দেখো দিদুনের হাতে কি লাগনো।

________________________________________________

নিরব রজনী। নিস্তব্ধ পরিবেশ। চারদিকে শো শো শব্দে করে বাতাস বইছে। নির্জন রাস্তা। চাঁদ আজ মেঘের আড়ালে লুকিয়ে আছে। চারপাশে কয়েকটা তাল গাছ। দূরে একটা তেঁতুল গাছও দেখা যাচ্ছে। মাঝে মাঝে পেঁচার ডাক শোনা যাচ্ছে।

আর এই পথ দিয়েই হেঁটে চলেছে এক কিশোরী।পরণে তার স্কুলের পোশাক। হয়তো আজ কোথাও গিয়ে ছিল তাই হয়তো রাত হয়ে গিয়েছে। মেয়েটা ভয়ে ভয়ে কদম ফেলছে। ভয়ে তার পা কাঁপছে কিন্তু কি করবে বাড়ি তো যেতেই হবে।

হঠাৎ কিছু একটার শব্দে কিশোরী পিছনে ফিরে তাকালো। একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। চোখ গুলো কেমন জানি লাল হয়ে আছে। হাতে একটা কুঠার। লোকটি কিশোরীর দিকে এগিয়ে আসছে।

কিশোরী লোকটাকে এগিয়ে আসতে দেখে দৌড়াতে লাগলো। লোকটা হাসতে শুরু করলো। লোকটা দৌড়ে কিশোরীকে ধরে ইংরেজিতে কি জানি বলে উঠলো। কিশোরী কিছুই বুঝতে পারলো না। কিশোরী নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলো কিন্তু সে ব্যর্থ হলো। লোকটি কিশোরীর মস্তিষ্ক বরাবর কুঠারের একটা কো*প দিল। সাথে সাথে মাথা থেকে র*ক্ত পরতে শুরু করলো। কিশোরী তার জীবনের মায়া ত্যাগ করে পরলোকে পাড়ি জামালো।

লোকটা কিশোরীর মৃতদেহটাকে কাঁধে তুলে হাঁটা শুরু করলো। হাঁটতে হাঁটতে নদীর পাড়ে পৌঁছে ঘাটে বাঁধা নৌকায় কিশোরীর দেহ রেখে নৌকায় উঠে নৌকা চালাতে শুরু করলো।

নৌকা এসে থামলো একটা জঙ্গলের পারে। লোকটা কিশোরীর মৃতদেহটার পা ধরে টেনে হেঁচড়ে একটা কুটিরের মধ্যে আনলো

কিশোরীর দিকে তাকিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। নিজের লাল*সা মিটাতে থাকলো নিঃস্তেজ হয়ে থাকা কিশোরীর মৃতদেহে।

প্রায় ঘন্টা খানেক পর লোকটি কিশোরীর দেহটাকে একটা কু*ঠার দিয়ে কা*টতে থাকলো । এটা গিফট বক্স এনে কিশরীর পায়ের তালুতে OG 👹 inter the mission লিখে রেখে দিয়ে। একটা লাল রঙের র‍্যাপিং পেপার দিয়ে মুড়িয়ে হাসতে শুরু করলো।

_______________________________________________

২ দিন কেটে গেছে।এই কয়েকদিন আদ্রি বেশির ভাগ সময়ই হসপিটালে মারিয়া সিকদারের কাছে থাকত। বাড়ির বড়ো বউ বলে কথা। আহান অবশ্য বার বার নিষেধ করেছে তবে আদ্রি শোনেনি।

আজও আদ্রি কেবিনে বসে আছে। মারিয়া সিকদারকে আজ ছেড়ে দিবে। আদ্রি এসেই সব গুছিয়ে নিয়েছে। ও আদ্রিতকে স্কুল দিয়ে এখানে এসেছে। ওহ বলা হয় নি আদ্রিতকে এই বছরই স্কুলে ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে। তার পড়াশোনার জীবন শুরু হয়েছে।

এই দুই দিনে সিকদার বাড়ির লোকজনের সাথে আদ্রির ভালোই কথা হয়েছে। বিশেষ করে স্রোত আর কর্ণের সাথে। কাব্য কেন জানি বারবার ইগনোর করেছে বলে আদ্রির মনে হয়েছে। এর মাঝে সানজিদা সিনহা আর নির্ভীক এসে ছিলো মারিয়া সিকদারকে দেখতে।

সকাল ১০টা বাজে। আর কিছু ক্ষণ পর আহান আদ্রিতকে নিয়ে এখানে আসবে। আদ্রি বার বার ঘড়ির দিকে তাকাছে । স্রোত আদ্রির পাশে বসে বলে উঠলো

-কি গো ভাবী জি আমার ভাইয়ের জন্য অপেক্ষা কর বুঝি।

আদ্রি মুচকি হাসলো। এই দুই দিনে স্রোত যে একদম বদলায়নি তা প্রমাণ করে ফেলেছে। আগের মতই চঞ্চল আছে সে।আদ্রিকে যে দিনে কতবার লজ্জা দেয় তার ঠিক নেই।

এর মাঝেই কেবিনে আহান, সাবির ও সাফিন সিকদার কেবিনে ঢুকলেন। আদ্রি দাঁড়িয়ে গেল।আহানের সাথে আদ্রিতকে না দেখে প্রশ্ন সূচক দৃষ্টিতে তাকালো ।আহান বলে উঠলো

-আদ্রিত ইতির কাছে

ডাক্তার কেবিনে প্রবেশ করে শেষ বারের মত চেকআপ করে কবিতা সিকদারকে বুঝিয়ে দিলেন সবটা। এবার যাওয়ার পালা। মারিয়া সিকদার নিজের স্বামীকে চোখের ইশারায় কি যেনো বলতে বললো। সাবির সিকদার বলে উঠলেন

-দেখ সাদমান অনেক দিন তো অভিমান করে থাকলে। আর কত দিন।আর আমরাই বা আর কতদিন বাঁচব। আমার যা আছে সব তো তোমার। তুমি বউমা আর দাদুভাইকে নিয়ে ফিরে এসো বাড়িতে। আমি কথা দিচ্ছি তোমাদের কোনো অসম্মান হবে না।

আহান কাট কাট গলায় বলে উঠলো

-আপনাদের কোনো কিছুই আমার প্রয়োজন। আমার যথেষ্ট আছে। আর সম্মান আমার তা আপনাদের থেকে প্রয়োজন নেই। তাই বাড়ি যাওয়ার কথা বলবেন না আর না আমার সাথে আর যোগাযোগ রাখতে চেষ্টা করবেন। এটাই আমার শেষ সিদ্ধান্ত

বলেই কেবিন থেকে বের হয়ে গেল আহান। নিজের ছেলের চলে যাওয়া দেখে মারিয়া সিকদার কেঁদে উঠলেন। এত বছর পর ছেলেকে কাছে পেলেন তবু ধরে রাখতে পারলেন না। অভিমান ভাঙ্গাতে পারলেন না। কবিতা সিকদার আদ্রির দিকে কান্না ভেজা চোখ তাকালেন। আদ্রি তা দেখে বেডর হয়ে গেলো।

আদ্রি আহানকে খুঁজছে।পুরো ২ তলা খুঁজলো কিন্তু আহান কোথাও নেই। আদ্রির চোখ নিচের দিকে হাসপিটালের পরিবেশ রক্ষার্থে গড়ে তোলা বাগানের দিকে চোখ যেতেই দেখতে পায় আহান একটা বেঞ্চে বসে আছে। আদ্রি আর কোনো দিকে না তাকিয়ে দৌড়ে নিচে চলে আসলো। তবে খেয়াল করলো না যে একজোড়া নীল চোখ তার দিকেই তাকিয়ে ছিল এক দৃষ্টিতে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল তাকে

আদ্রি আহানের কাছে গিয়ে কোনো প্রকার শব্দ না করে আহানের পাশে বসে ওর কাঁধে মাথা রাখলো।

আহান কারো স্পর্শ পেতেই পাশে তাকালো। আদ্রি আহানের দিকে তাকালো। আদ্রি আহানের গালে নির্দ্বিধায় নিজের ঠোঁট ছুঁয়ালো।আহান হাসলো আর বলে উঠলো

-শান্ত থাকার জন্য বুঝি ঘুষ দেওয়া হলো

-আপনি ওভাবে চলে আসলেন কেন?

-তোমাকে ওরা বোঝানোর জন্য পাঠিয়েছে যাতে বাড়িতে ফিরে যাই তাই না।

-আমাকে কেউ পাঠায় নি আমি নিজে এসেছি।চলেন বাড়ি ফিরে যাই, জানি আপনার অনেক রাগ সবার প্রতি তবুও বলছি ফিরে চলুন । একটাবার নিজের অভিমানটাকে সরিয়ে দেখুন সবাই কত কষ্ট পাচ্ছে। জানেন মামি, ছোট মামি সবাই কাঁদছে। সবাই চায় আপনি ফিরে চলুন। জানেন বড়ো মামার চোখেও পানি হয়তো পুরুষ মানুষ বলে চোখের পানি ফেলতে পারছেন না। প্লিজ চলুন।

আহান তাচ্ছিল্য হাসলো আর বললো

-আদ্রি আমি ফিরে এসেছি তোমার টানে।আর কারো না।যদি তুমি না থাকতে এখানে তাহলে কোনো দিনও এই দেশের মাটিতে আর পা রাখতাম না। আর সিকদার বাড়িতে তো নাই।

-আমি জানি না কিসের এত রাগ আপনার ওনাদের উপর । তবে একবার আদ্রিতকে দেখুন ও কত খুশি সবাইকে পেয়ে। ওর তো ওর দাদা দাদি চাই তাদের আদর চাই ওর হক আছে এগুলোর। তাহলে আপনি কেন ওর খুশিতে বাঁধা দিবেন বাবা হয়ে।আর আমারও তো একটা ভরা সংসার চাই। অন্ততপক্ষে আমাদের কথা ভেবে ফিরে চলুন।

-আচ্ছা আদ্রি তুমি তো এমন ছিলে না। তুমি অপমান সহ্য করতে পারতে না আর এখন তুমি সেখানে যেতে চাচ্ছ যেখানে তোমার দাদা দাদিকে অপমান করা হয়েছে। আমি তোমাকে চিনতে পারছি না বড্ডো অচেনা লাগছে, আমি যে আদ্রিকে চিনতাম সে তো এমন না।

আদ্রি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। যার অর্থ হয়তো সে কি করবে সে তো নিজেই নিজেকে চিনতে পারছে না। তবুও আদ্রি বলে উঠলো

- পুরোনো কথা বাদ দিন অতীত নিয়ে পরে থাকলে কি চলবে অতীতকে ভুলে সমানের দিকে এগিয়ে যেতে হয় আর এটাই তো প্রকৃতির নিয়ম। প্লিজ চলুন প্লিজ।

আহান আর কি করবে আজ পর্যন্ত তার আদরপাখি তার কাছে কিছুই চায়নি আর আজকে চেয়েছে। সে আর কীভাবে ফেলবে তার আদরপাখির কথা। তাই বাধ্য হয়ে মেনে নিল তবে সবাইকে শত্ব দিল যে সে এই বাড়িতে থাকবে না শুধু মাঝেমধ্যে গিয়ে মাকে দেখে আসবে যোগাযোগ রাখবে। সবাই তাতেই খুশি এবার তো তারা আহানের অভিমান ভাঙতে পারবে। হোক না একটু দূরে থাকুক তবে আসবে তো কোনো না কোনো দিন। কথায় আছে না "নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভাল"। সিকদার বাড়ির সদস্যদের ক্ষেত্রেও তাই

কিন্তু এই খুশি যে কারো কাছে মেঘ না চাইতেই জল এমন ব্যপার হলো।দূর থেকে কেউ একজন বলে উঠল

-game start right now

বলেই একটা ছায়া সরে গেল

________________________________________________

Ak হাউজের বিলাশ বহুল লিভিং রুমে বসে আছেন মারিয়া সিকদার আর তার পরিবার। মারিয়া সিকদারকে আহান নিজের বাড়িতে এনেছে। হাসপাতাল থেকে কাছে হয় বলে। ডাক্তার তাকে বেশি জার্নি করতে নিষেধ করেছেন। তাই আহান এখানে নিয়ে এসেছে।আর আহান বাকিদেরও বলেছে এখানেই আসতে। এখানে কিছু দিন থেকেই না হয় সবাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিরে যাবে । এতে তো তার বউয়ের সংসার করার ইচ্ছাও পূরণ হবে।

আদ্রি এসে থেকেই রান্না ঘরে সবার জন্য টুকটাক খাবার রেডি করতে ব্যস্ত। সার্ভেন্টরাও হেল্প করছে।আহানের বন্ধু মহল সিকদার বাড়ির সদস্যদের সাথে পরিচিত হয়েছে আগেই হাসপাতালে। তারা কুশল বিনিময় করে আহানের অফিস রুমে চলে গেছে। আহানের হয়তো আজ অফিস যাওয়া হবে না তাই ওদের ডেকেছে।

আদ্রিত তো মহা খুশি সবাইকে পেয়ে। আদ্রিতের চেয়ে এক বছরের ছোট্ট কর্ণের ছেলে কিরাণ। আদ্রি তার সাথে খেলায় ব্যস্ত।

হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো। আদ্রি যেতে চাইলেও ইতি গিয়ে দরজা খুললো। ডেলিভারি ম্যান এসেছে। ইতি ফর্মালিটিজ শেষ করে আদ্রির দিকে এগিয়ে এসে বলে উঠলো।

-আদ্রি ভাইয়ার পার্সেল এসেছে কিন্তু নাম ঠিকানা কিছুই নেই

আদ্রি একবার পার্সেলটা দেখে বলে উঠলো

-হয়তো অফিসের আচ্ছা রেখা তুমি গিয়ে এটা একটু ওনাকে দিয়ে আসো

রেখা নামের সার্ভেন্ট মাথা নেড়ে সম্মতি জানিয়ে আদ্রির হাত থেকে পার্সেলটা নিয়ে উপরে চলে গেল আহানের অফিস রুমে।

******

নেহা পার্সেলটা নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরাচ্ছে আর বোঝার চেষ্টা করছে কি আছে এর ভিতরে। নেহা মজা করে বললো

-কি রে আহান তোর কোন লাভার এটা পাঠালো রে ব্যপার কি কোনো মেয়েটেয়ের ব্যপার না কি!

সোহান সেই সুর ধরেই বলে উঠলো

-হতেই পারে দাড়া আগে ভাবীকে বলে আসি ওর ফ্যান ফলোয়ারদের কথা। তার পর না হয় ভাবীর সামনেই খুলবো কি বলো আমেরিকান ক্রাশ বয় Ak

আহান চোখ কটমট করে সোহানের দিকে। মুহূর্তেই সোহানের হাসি গায়েব হয়ে গেল। আহান শক্ত গলায় বলে উঠলো

-নেহা আর দেখাদেখি না করে পার্সেলটা খোল

নেহা আহানের কথায় পার্সেলটা খুলতেই চিৎকার দিয়ে উঠলো। সবাই নেহার চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলো। নেহা সাদিকে জরিয়ে ধরলো।আহান পার্সেলটার দিকে এগিয়ে গিয়ে দেখলো একটা র*ক্ত মাখা কাটা পা। আহান রুমাল দিয়ে পাটা তুলে ধরলো।পায়ের তালুতে কিছু একটা লেখা।আহান তালুতে লেখা ইংলিশ লেখাটা পড়লো। আর পড়তেই মাথায় রাগ চাড়া দিয়ে বসলো। আহান কাটা পাটা ছুড়ে মারলো। আর বলে উঠলো

-তোকে আমি শেষ করে দিব OG মেরে ফেলব তোকে

চলবে

 #ফিরে_এসেছি_তোর_টানেলেখিকা: মাহযুবা মালিহা                      #পর্ব_২৯_১ম_অংশসূর্য উঠেছে, শহরের ইট-কাঠের দালান গুলো ধ...
19/09/2025

#ফিরে_এসেছি_তোর_টানে
লেখিকা: মাহযুবা মালিহা
#পর্ব_২৯_১ম_অংশ

সূর্য উঠেছে, শহরের ইট-কাঠের দালান গুলো ধীরে ধীরে সোনালী আলোয় রাঙা হতে শুরু করেছে । উঁচু উঁচু ভবনের কাঁচের জানালায় সূর্যের প্রতিফলন যেন আলোকরশ্মির এক নিরব নৃত্য শুরু করেছে। রাস্তায় তখনো ভিড় জমেনি , কিন্তু অল্প অল্প করে জীবনের গতি শুরু হয়েছে।চা-ওয়ালার হাক শোনা যাচ্ছে , ফুটপাতের পাশে এক ঘুম ভাঙা দোকানে কেতলি থেকে ধোঁয়া উড়ছে। একপাশে অফিসমুখী মানুষের তাড়াহুড়ো শুরু হয়েছে —কেউ হাত ঘড়ি দেখছে, কেউ বাসের জন্য অপেক্ষা করছে

হাসপাতালের করিডোরের জানালা দিয়ে আদ্রি বাহিরের দৃশ্য দেখছে। সবাই ব্যস্ত কারো হাতে সময় নেই,কারো জন্য ভাবার। এই শহরের জীবনে কি আদেও কোনো ভালোবাসার রং আছে নাকি সবই যান্ত্রিক হয়ে গেছে । আদ্রি এক মনে দাঁড়িয়ে থেকে ভাবছে এসব। ইদানিং কেন জানি নিজেকে খুব অচেনা লাগে।কেন জানি নিজের মধ্যে আগের সেই আদ্রিকে আর খুঁজে পায় না, যে আদ্রি শুধু নিজের মর্জিতে চলতো, কেউ অন্যায় করলে মুখের উপর জবাব দিত হাজারো কাছের কেউ হলেও,এতটা দুর্বল ছিল না। ইদানিং কেন জানি নিজের প্রতি আর আত্মবিশ্বাস কাজ করে না , কেন জানি খুব ভয় লাগে। নিজেকে যে একটা খোলসের মধ্যে বন্ধি করে নিয়েছে, শুধু সবার মন রাখতে চায়, সবার খুশির জন্য নিজেকে একটু বেশি স্বস্তা করে ফেলেছে কি?

-আদ্রি

আদ্রি তার ভাবনার জগৎ থেকে বের হয়ে আসলো।রাস্তা থেকে চোখ সরিয়ে পাশে থাকা ব্যক্তির দিকে চাইলো। আহান দাঁড়িয়ে আছে তার কোলে ঘুমন্ত আদ্রিত।আহান কিছু ক্ষণ আগে এসেছে আর তখন থেকেই আদ্রিত আহানের কোলে। তবে আদ্রি জানে তার ছেলে আর কিছু ক্ষণ পরই ঘুম থেকে উঠে পরবে। আদ্রি বেশ অবাক হয় ,আদ্রিতের অভ্যাসগুলো দেখে। সকাল সাতটার আগেই ঘুম থেকে ওঠে,নিজে নিজে ফ্রেশ হয়ে বই নিয়ে বসে যায় তাকে কিছুই বলতে হয় না। আদ্রি খেয়াল করেছে আদ্রিতের স্বভাব অনেকটাই আহানের মতো, ডিসিপ্লিনের মধ্যে থাকতে পছন্দ করে।

আদ্রি মুচকি হেসে বলে উঠলো

-দিন আমাকে ওকে দিন,আপনি রেস্ট নিন

-লাগবে না সারা রাত তো তোমার কোলেই ছিল এখন আমার কাছে থাক।আর বাসায় যাবা না?

-যাব বড়ো মামি ঘুম থেকে উঠুক তারপর দেখা করে না হয় যাব

আহান আর কিছু বললো না চুপচাপ আদ্রির পাশে দাঁড়িয়ে থাকলো।আহানের মাথায় শুধু এখন কয়েকটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কে এই ছেলে? আর নকল অর্ণব কোথায়? আর আদ্রি সুস্থ হওয়ার পরেও তিন মাস ওর সাথে কি করেছে ? আহান যে আদ্রির মধ্যকার পরিবর্তন লক্ষ্য করেনি তা নয়। সে লক্ষ্য করেছে খুব ভালো মতো লক্ষ করেছে। আজ থেকে প্রায় ১ বছর আগে যে আদ্রিকে আহান দেখেছিল আর আজকে আদ্রির আচরণে বেশ তফাত। যে আদ্রি নিজের আপন জনকে সামান্য কটু কথা বললে সহ্য করে না সেই আদ্রি কি না, ওকে বড়ো করে তোলা দাদা দাদিকে যারা অপমান করেছে তাদের সাথে এত ভালো ব্যবহার করেছে। না আহান মিলাতে পারে না হিসাব।

- কি আপনারা মারিয়া সিকদারের বাড়ির লোক?

-জি

-ওনার জ্ঞান ফিরেছে চাইলে দেখা করতে পারেন

-আচ্ছা আপনি যান, আমরা আসছি

নাস চলে গেলেন।আহান আদ্রির দিকে তাকালো।আদ্রি মাথা নাড়ল যাওয়ার জন্য। আদ্রিতের ঘুম ভেঙ্গে গেছে নার্সের কথায়। আদ্রিত আহানের কাঁধ থেকে মাথা তুলে তার মা বাবার দিকে তাকালো।আদ্রিত উঠেছে দেখে আদ্রি মুচকি হেসে আদ্রিতকে কোলে নিল। আহান বলে উঠলো

-তুমি ওকে ফ্রেশ করিয়ে কেবিনে এসো আমি আসছি

আদ্রি মাথা নাড়ল।আহান তার মায়ের কেবিনের দিকে গেল। আহান গলা পরিষ্কার করে আলতো হাতে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলো।

মারিয়া সিকদার আধশোয়া হয়ে জানালার দিকে মুখ করে আছিলেন।দরজা খোলার শব্দে আহানের দিকে তাকালেন। তিনি নার্সের কাছ থেকে শুনেছেন তার ছেলে আর ছেলের বউ এখানেই আছে।আর তা শুনেই যেনো তার সকল অসুস্থতা দূর হয়ে গেলো। ছেলে তার মানে তার আহান এসেছে। মারিয়া সিকদার এক মনে তার ছেলেকে দেখছেন। তাকে ছেড়ে বিট্রিশদের দেখে চলে যাওয়া‌ আহান আর আজকের আহানের মধ্যে কতটা পার্থক্য। খুশিতে চোখে নোনা জল জমা হলো।

আহান ধীর পায়ে তার মায়ের কাছে গিয়ে গভীর কন্ঠে বলে উঠলো

-এখন কেমন আছো?

এবার মারিয়া সিকদারের চোখ দিয়ে নোনা জল বেয়ে পরলো। তিনি বলে উঠলেন

-এত দিনে তোর আসার সময় হলো,এত দিনে অভিমান ভাঙ্গল যদি মরে যেতাম তাহলে

-চুপ করবে তুমি এসব ফালতু কথা বাদ দাও

-কেন বাদ দিব সেই গেলি আর আসলি না দেখতে দেখতে ১৫ বছর কেটে গেছে । জানিস প্রতিদিন ভেবেছি আজ হয়তো তুই ফোন করবি, ফিরে আসবি। কিন্তু তুই তো তোর জেদ নিয়েই থাকলি ভাবলি না তুই ছাড়া তোর মায়ের কেউ নেই, তোর মা কীভাবে থাকবে এই স্বার্থপরদের মাঝে।

-তুমি যদি আমার প্রিয় জিনিসটাকে না দূরে সরিয়ে দিতে তাহলে কিছুই হতো না।

-আমি কি সাধে আ..

মারিয়া সিকদারের কথা শেষ হওয়ার আগেই আদ্রি দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো। আদ্রিত পাশে দাঁড়িয়ে আছে মায়ের হাত ধরে। ওনারা ওদের দিকে তাকালেন। আহান বলে উঠলো

-ভেতরে আসো

আদ্রি ধীর পায়ে এসে আহানের পাশে দাড়ায়। মারিয়া সিকদার ওদের দিকে তাকালেন। তিনি এক দৃষ্টে আদ্রিতের দিকে তাকিয়ে থাকলেন। আদ্রিত মারিয়া সিকদারকে এভাবে তাকাতে দেখে বলে উঠলো

-এই তুমি দিকে এভাবে তাকিয়ে আছ কেন? আগে বেবি দেখোনি

আদ্রিতের কথায় মারিয়া সিকদার হাসলেন। আদ্রি বলে উঠলো

-এভাবে বলতে হয় না আব্বু, তোমার দিদুন হয়।

-ওহ, বড়ো দাদুর বউ, হ্যালো বড়ো দাদুর বউ

আদ্রি আদ্রিতের কথা শুনে আহানের দিকে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো। সব দোষ এই লোকের বাচ্চাটা এর কাছ থেকেই এসব শিখেছে।আহান আদ্রির এভাবে তাকানোর মানে বুঝলো না।আদ্রি বলে উঠলো

-আদ্রিত এভাবে বলতে হয় না,দিদুন হয় তো

-আরে বউমা ওকে বোকা দিও না, তুমি ওকে নিয়ে আমার কাছে এসো বসো তো

আদ্রি আদ্রিতকে কোলে নিয়ে মারিয়া সিকদারের কাছে গেলো। মারিয়া সিকদার আদ্রিকে পাশে বসিয়ে বলে উঠলেন

-আমার দাদুটার নাম বুঝি আদ্রিত,বীমা তোমার ন..

-আদ্রিয়ানা সিনহা

সিকদার বাড়ির সবাই মতোই তিনিও চমকে গেলেন।বলে উঠলেন

-তুই আদ্রি

-জি

-কত বড় হয়ে গেছিস

এভাবেই মারিয়া সিকদার কিছু ক্ষণ আদ্রির সাথে কথা বললেন।তখন আদ্রিত কারো attention না পেয়ে গাল ফুলিয়ে বলে উঠলো

-বাবাই আমি বাহিরে যাব এখানে আমার সাথে কেউ কথা বলে না

মারিয়া সিকদারের চোখের ইশারায় আদ্রিকে আদ্রিতকে তার কোলে দিতে বললেন।আদ্রি খুব সাবধানে আদ্রিতকে দিল। মারিয়া সিকদার বলে উঠলেন

-কেন দাদু এই বুড়ি দিদুন ভালো না

-এই আমি তোমার দাদু না তো

-তাহলে কি?

-আমি তো তোমার বয়ফ্রেন্ড, তোমাকে আমার ভালো লেগেছে তুমি আম্মুর মতো সুন্দর দেখতে আমি তোমাকে বউ বানাবো

মারিয়া সিকদার ছোট নাতির কথায় হেসে উঠলেন।আর আদ্রির তো মাথায় হাত ছেলের পাকামো দেখে।এসব ওকে কে শিখালো

আহানের ফোনে হঠাৎ দুটা মেসেজ আসলো।আহান ওদের থেকে একটু দূরে গিয়ে মেসেজ ওপেন করলো। কোনো আননোন নাম্বার থেকে এসেছে।আহান ক্রিনে তাকালো

"গোল গোল গোলক ধাঁধা , কোথায় যাবে হেতা সেথা
ফাসবে সেই ধাঁধায়"

"অঙ্কক কসই যত হবে শুধু শূন্য,পাবে না তাকে খুঁজে যদি না দেয় সে ধরা"

চলবে

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শীন SHEEN posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share