15/04/2024
*বর্ষ পরিক্রমায় বাংলা সন:আমাদের করনীয় বর্জনীয়*
--------------------------------------------------
আদি সভ্যতার নিদর্শনভূমি মিশর বর্ষপঞ্জি উদ্ভাবনের সূতিকাগার। তাঁরা কৃষির প্রয়োজনে দিনও রাতকে ৩৬৫দিনে ১বছর হওয়ার পদ্ধতি বের করেন। যা সৌরবর্ষ হিসাবে আজ ও চলমান।জ্যোতিবিদরা সৌর ও চন্দ্রবর্ষ গননা পদ্ধতি বের করেন। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এই দুইটি রীতি হিসাবে স্বীকৃত। ইংরেজী সন নবী ঈসা আঃ এর জন্মদিবস থেকে এবং হিজরী সন মহানবী মুহাম্মাদ সা. এর হিজরতের সময় থেকে গননা করা হয়।
ভারতে ১৫৫৬ ঈসায়ী সনে বাদশাহ আকবর সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি রাজস্ব আদায়, আইনি ও ব্যবসা বানিজ্যের সুবিধার্থে তাঁর সভা জ্যোতিষী আমীর ফতেহ উল্লাহ সিরাজীকে একটি যুগোপযোগী বর্ষপঞ্জী প্রনয়নের নির্দেশ দেন। আমীর ফতেহ উল্লাহ সিরাজী সম্রাট আকবরের সিংহাসনে আরোহনের দিনকে স্বারক হিসাবে ধরে নিয়ে হিজরী ৯৬৩ সনকে বঙ্গাব্দ ৯৬৩সন ধরে নিয়ে বর্ষ গণনা শুরু করেন। অর্থাৎ জন্মদিনের দিনেই বাংলা সনের বয়স ৯৬৩ বছর। সুতরাং বাংলা সনের মূল ভিত্তি হলো হিজরী সন।
বর্তমানে বাংলা সনটি জাতীয় বর্ষ হিসাবে গ্রহন করা হয়েছে। সন, তারিখ আরবী শব্দ। তাই বাংলা সনের সৃষ্টির সাথে মুসলমানদের ইতিহাস ঐতিহ্য জড়িয়ে রয়েছে।
মুসলিম শাসকগনের ফসলি ও ভূমি কর আদায়ের সুবিধার জন্যই বাংলা সনের প্রচলন হয়। অতএব বাংলা বর্ষ গণনা মুসলমানদের অবদান।
বাংলা সন ও হিজরী সনের মধ্যে ব্যবধান হলো- আরবী মাস কোন কোন সময়ে ২৯ দিনে হয়ে থাকে।
নববর্ষ পালনে আমাদের জাতিসত্বার দৃষ্টিভংঙি জানা প্রয়োজন।
মহান আল্লাহ বলেন- "নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গননায় আসমান ও পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে মাস বারোটি , তন্মধ্যে ৪টি সম্মানিত " ( সুরা তাওবা,৩৬)।
চন্দ্র মানুষের সময় নির্ধারন এবং হজ্বের সময় ঠিক করার মাধ্যম"( সুরা বাকারা-১৮৯)।
মানুষের হিসাব রাখার সুবিধার্থে দিবস,মাস,বছর মহান আল্লাহ নির্ধারন করে দিয়েছেন। এ হিসাব পৃথিবীর সূচনা থেকেই চলে আসছে। মাস শব্দটি কুরআনে ২১বার, বছর শব্দটি ২০বার উল্লেখ আছে। সন, মাস, বছর যেহেতু আল্লাহরই সৃষ্টি ,সেহেতু এসব দিবস পালন করতে হবে আল্লাহরই নির্দেশ মতো ।
মদীনাবাসীগন নওরোজ ও মেহেরজান দিবসদ্বয়ে খেলাধূলা ও আনন্দ ফুর্তি করতো। মহানবী সাঃ সাহাবীদের জন্যে বিকল্প ও যুগোপযোগী ২টি দিবস ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার ব্যবস্হা করেছেন। তাই বর্তমানে দিবস পালনের রেওয়াজ জাতীয়ভাবে চালু হওয়ায় আমাদের জাতিসত্বার তাহজিব তামদ্দুনের ভিত্তিতে কর্মসূচীর ঘোষনা করতে হবে।
আমাদের সাংস্কৃতিক বিশ্বাস তাওহীদ রিসালাত ও আখিরাতের চেতনায় উজ্জীবিত। তাই এই বিশ্বাসের আলোকে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা উচিত।
নববর্ষকে আল্লাহর নিয়ামত মনে করে শুকরিয়া আদায় করা, দেনা- পাওনা হাল নাগাদ করা, দরিদ্রদের মাঝে দান-সাদাকা করা, জীবন-যাপনের সুন্দর পরিকল্পনা'র মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপন করা দরকার । এটাই হবে আমাদের সুস্থ সংস্কৃতির পরিচয়।
এ দিন এক শ্রেনীর কিছু মানুষ নারী- পুরুষের অবাধ মেলামেশার মাধ্যমে মদ,মূর্তি , জুয়া ,লটারী, পশুপাখির আকৃতি ধারণ এবং পান্থা- ইলিশ নামে বানোয়াট সংস্কৃতি চালু করেছে। যা দেশের ৯২℅ ভাগ মানুষের সংস্কৃতির সাথে কোন মিল নেই ।
পান্থা হচ্ছে বাংলাদেশের গরীব কৃষকদের খাবার, উৎসবের দিন পান্থা খাওয়া মানে গরীবদের সাথে তামাশা করা। আর ইলিশ খাওয়া মানে অর্থনীতি ধ্বংশ করা। কারণ এ সময় রূপালী ইলিশের প্রজনন মওসুম। তাই খাবারের মেন্যু পরিবর্তন করে চিড়া,মুড়ি, খেজুর,খই,গুড়, খিচুড়ী ইত্যাদির ব্যবস্হা মাধ্যমে নববর্ষকে পালন করে অপসংস্কৃতিকে রোধ করতে হবে।
--------------------------------------------
সৌজন্যে:
*বুকপয়েন্ট শিক্ষাপল্লী পরিবার।*
----------------------------------------------