07/05/2023
মাছের দামে পানি বিক্রি।
মাছ কিনতে গিয়ে যদি আপনি বলতে পারেন ওজনে কম পাননি তাহলে আপনি এ গ্রহের প্রানী না।
মাছ নিয়ে কাজ করার সুবাদে বিভিন্ন ধরনের, বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সাথে আমার মেশা হয়।
উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত,নিম্মবিত্ত সবার সাথে মিশেছি
তাদের খুব কাছ থেকেই অনুভব করতে পারি কিভাবে প্রতারণা করে। (কিছু লোক শুধু ব্যাতিক্রম আছে)
এই যেমন ধরুন মাছ মেপে দেওয়ার ক্ষেত্রে পাল্লায় কারচুপি থাকবেই,আপনি যতই বিচক্ষণ হোন না কেন তাদের সাথে পারবেন না।
আবার সবচেয়ে সহজ উপায় মাছের সাথে পানি দেওয়া, মাছ ওজন দেওয়ার সময় খুব সহজেই তারা পানি দিতে পারে,মোটামুটি ৫০/১০০ গ্রাম পানি খুব সহজেই দেওয়া যায়।
আমি বিক্রেতা হয়েও এটার শিকার হয়েছি বারংবার।
এতক্ষণ গেলো বাহিরের কথা,এখন বলি কিছু তিতা কথা।
আপনারা সবাই জানেন যে গলদা চিংড়ি মাছে পানি ও জেলি পুশ করা হয়,এটা রোধ করার কোন উপায় নাই,এক কেজি গলদা চিংড়ি তে ২০০ গ্রাম অবধি পানি/জেলি পুশ করা যায়।
অর্থাৎ আপনি বাস্তবে এক কেজি মাছ কিনলেও পাচ্ছেন কিন্তু ৮০০ গ্রাম মাছ।
জেলি পরিক্ষা করলেই কিন্তু ধরা যায়,কিন্তু ল্যাব টেস্ট করলেও আপনি পানি পুশ ধরতে পারবেন না।
কারণ মাছে পানি থাকেই।
আমি নিজেই বার বার ব্যাবসায়ীদের বলছি যে ভাই ব্যাবসা হালাল,লচ হলে দাম বাড়িয়ে নিন,কিন্তু ওজনে কম দিবেন কেন??
তাদের সহজ উত্তর, ভাই মার্কেটের সবাই এই কাজ করে, তাই না চাইলেও উপায় নাই।আমি না করলে আমার থেকে কেউ মাছ কিনবে না।
আর ক্রেতারা কম দাম দেখলে ওইদিকে দৌড়ায় বেশি, তাই আমরা অসহায়।
শুধু কি গলদা?
বড় বড় মাছগুলো কি বাদ???
কখনোই না,কোরাল, ভেটকি,রুই,বোয়াল,পাংগাস,কাতল সব মাছেই সিরিজ দিয়ে যথেষ্ট পানি পুশ করা যায়, আপনি বাহির থেকে দেখে কখনোই বুঝবেন না।অভিজ্ঞতা থাকলেই কেবল বুঝা সম্ভব
মাছ কাটতে গেলে পানি অটোমেটিক পড়ে যাবে তাই বুঝার উপায় নাই।
এভাবেই চলছে মাছ সেক্টর, আমি ট্রাই করেছি এসব থেকে বের হয়ে আসার,কিন্তু তাদের উপযুক্ত দাম দিয়ে যখন বিক্রি করতে যাই ঠিক তখনি শুনতে হয় দাম বেশি আপনার কাছে। বাজারেই কম
এইজন্য মাছ নিয়ে কাজ ই করছি না,এখন টোটালি অফ।
আমি ফেসবুকে নীতিকথা বলি,কিন্তু বাস্তবে যদি তাদের মতোই প্রতারণা করি তাহলে নিজেকে ক্ষমা করব কিভাবে?
পরকাল বলে একটা কথা আছে।তাই সব মিলিয়ে হিসাব করে দেখলাম মাছ সেক্টর নিয়ে ভালো কিছু করা সম্ভব না,কারণ সৎ মানুষের ভাত নাই বাংলায়।
নোট: তাহলে কি মাছ কিনেবন না? অবশ্যই কিনবেন,তবে যেহেতু দেশ এখন ভেজালে ভরপুর, তাই নিজের অভিজ্ঞতা বাড়ান,পন্য কেনার আগে যেন যাচাই-বাছাই করে আসল নকল বুঝতে পারেন সেই সক্ষমতা বাড়ান।
অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি হয়না।
বি দ্র: আমি কিন্তু এখানে সব ব্যাবসায়ী বলিনি,তবে অধিকাংশ বড় বড় ব্যাবসায়ী এভাবেই চলছে, নিজ অভিজ্ঞতা থেকে লেখা।
লেখক: খান আল মামুন
একজন মাছ বিক্রেতা