13/08/2017
ফিরে দেখা!
ছবিটা বেড়িবাঁধের পশ্চিম পাশে, ইছামতি নদীর মাঝ বরাবর অবস্থিত।
ভেসাল, গ্রাম বাংলার সৌন্দর্যের প্রতিক! আজ যা হারাতে বসেছে। এই ভেসাল নিয়ে আমার একটা ঘটনা আছে! কি বলবো? যাক বলেই ফেলি। তখন আমি অনেক ছোটো, আব্বুর সাথে নদীতে গোসল করতে গেছি, আমাদের ঘাটের ঠিক ডান পাশে একটা ভেসাল ছিলো। বলেরাখা ভালো আমি ছোটো বেলা থেকেই মাছের পোকা ছিলাম! মাছ ছাড়া নাকি ভাত খেতাম না, যেদিন বাড়ীতে মাছ রান্না না হোতো আব্বু নাকি আমার জন্য বড়শি দিয়ে একটা কৈ মাছ হলেও মেরে আনতো, আমি নাকি প্লেটের চার পাশে মাছ ছোটো ছোটো করে সাজিয়ে রাখতেই বেশী পছন্দ করতাম! যাই হোক ভেসালের কথায় আসা যাক। আমি গোসলরত অবস্থায় দেখতে পেলাম ভেসালের কোনায় একটি মাছ জালের সাথে আটকে আছে, জেলে কয়েকবার ঝাঁকি দিয়েও মাছটা ছাড়াতে ব্যর্থ হওয়ায় মাছ সহ আবার জাল পানিতে নামিয়ে দিলেন! আবার একটু পরে উঠালেন, আমি অবাক হয়ে দেখলাম মাছটা ঐখানেই আছে! এইভাবে দুই বার দেখার পর আমি আব্বুকে দেখালাম, দেখানোর ভাষাই আব্বু বুঝে ফেলেছে ঐ মাছটা আমার চাই! কি আর করার জেলেও আব্বুর পরিচিত, এক সাতারে জাল থেকে মাছটা ছাড়িয়ে এনে মাছের কানশার ভেতর একটা খেজুর পাতা দিয়ে বেধে ঝুলিয়ে দিলেন, মাছটা আনার পর মা আমাকে মাছটা ভেজে দিলেন। দুঃখের বিষয় তখন ছোটো ছিলাম বিধায় মাছের নাম জানা ছিলো না, পরবর্তীতে জেনেছি রায়াক (টাটকিনি বড় হলে রায়াক মাছ বলে) মাছ ছিলো।
আজকে এই কথাগুলো বলার উদ্দেশ্য আমরা এক সময় কি দেখেছি আর এখন কি দেখছি? ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো কখনো জানবেই না ভেসাল কি? আগে এই নদীতে কতো কিছুই না ছিলো, মনে পরে আপনাদের নদীতে সেই ভেসালের কথা? মনে পরে নদীতে বাঁশ, জাল দিয়ে বেড়া বানানোর পর মাঝের কিছু অংশ ফাকা রাখতো ট্রলার বা নৌকা যাওয়ার জন্য, রাতের দুর্ঘটনা এড়াতে দুই পাশের লন্ঠনের কথা কি আজো মনে পরে না?
বিঃ দ্রঃ লেখায় ভুল-ত্রুটি মার্জনা করে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।