28/01/2023
হিজরি ৫৫৭❤️
হযরত মোহাম্মদ(সা) এর লাশ চুরির ইহুদি চক্রান্ত!
একদিন বাগদাদের সুলতান নূরুদ্দীন জাঙ্কি (র) স্বপ্নের মধ্যে দেখলেন, হযরত মোহাম্মদ সাঃ তাঁর কামড়ায় প্রবেশ করলেন। তারপর বলতে লাগলেন নূরুদ্দীন, এই নীল চক্ষু বিশিষ্ট লোকদের দেখো এরা (ইহুদীরা) আমার ক্ষতি করতে চেষ্টা করছে। নূরুদ্দীন প্রথমে কল্পনাও করতে পারেননি হযরত মোহাম্মদ সাঃ কে তিনি স্বপ্নে দেখবেন।
পরে আবার একই স্বপ্ন দেখার পরে বিশ্বাস করলেন। বাগদাদ থেকে মদীনার দিকে রওনা হলেন সৈন্য সামন্ত নিয়ে। মদীনায় গিয়ে সেখানকার বাদশাকে গোপনে স্বপ্নের বিষয় অবগত করলেন। তারপর দাওয়াত দিলেন মদীনার সকলকে।সবাই দাওয়াতে আসলেও দুজন ইহুদি ছদ্মবেশে নামায রত অবস্থায় মসজিদে থেকে গেলেন। উপস্থিত সকল লোকদের জিজ্ঞেস করা হলো আরো কেউ বাকী আছেন? কারণ স্বপ্নে যে দুজনের চেহারা দেখানো হয়েছিলো, তাদের চেহারার সাথে কারো চেহারা মিলছে না। নূরুদ্দীন জাঙ্কি চিন্তায় পড়ে গেলেন। তখন একজন লোক বলে উঠলেন, দুজন লোক নামাজরত অবস্থায় আছেন তাঁরা আসেননি।
" তাঁরা খুবই ভালো মানুষ। তাঁরা সবাইকে সাহায্য সহযোগিতা করেন। তাঁরা ২৪ ঘন্টা নামাজ পড়েন। পুরো এলাকার মানুষ তাদের দানশীল পরহেজগার হিসেবে জানেন। তাঁরা কারো দাওয়াত গ্রহণ করেন না বরং সবাইকে দাওয়াত খাওয়াতে পছন্দ করেন।"
সাথে সাথে নূরুদ্দীন জাঙ্কি চলে গেলেন সেই মসজিদে।গিয়ে দেখেন, যাদেরকে স্বপ্নে দেখলেন তাঁরাই সে লোক। অবাক হয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা আমার দাওয়াত গ্রহণ করেননি কেনো? উত্তরে তাঁরা জানালো, আল্লাহ এবং হযরত মোহাম্মদ সাঃ কে তারা খুবই ভালোবাসেন। সার্বক্ষণিক ইবাদত করেন তাই কারো বাসায় দাওয়াত খেতে যায় না।
পরবর্তী সময়ে নূরুদ্দীন জাঙ্কি পুরো মসজিদের সবকিছু ভালো করে তল্লাশি করে ক্ষতিকর কিছু পাননি। তিনি এবার জায়নামাজ সরাতে বললেন, তারপর মাদুর সরাতে বললেন। এরপর দেখলেন একটা বড় পাথর দেওয়া আছে সেখানে। পাথর সরাতেই বেরিয়ে আসলো বিশাল সুরঙ্গ! যা প্রায় হযরত মোহাম্মদ সা এর কবরের কাছাকাছি চলে গেছে।
তাদেরকে বন্ধী করা হলো, "একদল লোক এতে বাঁধা দিলো এবং বলতে লাগলো তাদের মতো ভালো মানুষ হয়না। তাঁরা আমাদের প্রচুর দান করেন। আমাদের ভালো ভালো খেতে দেয়। আমাদের আপদে বিপদে পাশে দাঁড়ায়। তাদেরকে আটক করা যাবে না। নূরুদ্দীন জাঙ্কি( র) ইহুদিদের কাছে পুরো বিষয় জিজ্ঞেস করলেন এবং সবকিছু খুলে বলতে বললেন। তাঁরা তখন জানায় পশ্চিম ইউরোপ থেকে তাদেরকে পাঠানো হয়েছে হযরত মোহাম্মদ সা এর লাশ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাথে প্রচুর অর্থ দেওয়া হয়েছে। যাতে কিছু মানুষকে সাহায্য সহযোগিতার নামে নিজেদের কাছে রাখা যায়।
পরবর্তী সময়ে সকলের নিকট পুরো ঘটনা খুলে বলা হলো, সবাই তাদের কঠিন শাস্তি দাবী করলেন এবং এই দুই ইহুদীর শাস্তি হলো।
শিক্ষা : অভাবগ্রস্ত, হতাশাগ্রস্ত, পারিবারিক ভাবে আর্থিক সমস্যায় ভুগছেন, উচ্চাভিলাসী এমন লোকদের ব্রেনওয়াশ করে টাকার বিনিময়ে ক্রয় করে যেকোনো ধরনের কাজ করানো যায়। এদেশকে নিয়ে গভীর চক্রান্ত চলছে।
আল্লাহ আমাদের এই দেশকে রক্ষা করুন, এদেশের মানুষকে রক্ষা করুন।
সুতরাং কারো কথার মায়ার যেনো ভুল পথে পা না বাড়াই।👈