16/05/2020
Himalayan Pink Salt (সৈন্ধব লবন)
#হিমালয়ান সল্ট বা #পিঙ্ক হিমালয়ান #ক্রিস্টাল সল্ট বা #গোলাপী লবন
এটি এক প্রকার খনিজ লবন। পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ লবন এটি, যা টক্সিনমুক্ত। এই লবন ঠাণ্ডা, জ্বর, ফ্লু, অ্যালার্জির বেশ কিছু রোগের হাত থেকে বাঁচায়। মাংসপেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে । সৈন্ধব লবন রক্ত চাপ কমায়, ওজন কমায়, ত্বকের সমস্যা কমায়।
হিমালয়ান সল্ট বা পিঙ্ক হিমালয়ান ক্রিস্টাল সল্ট বা গোলাপী লবনের কথা অনেকেই শুনে থাকবেন। এটি ভারত থেকে চীনের যে প্রসারিত পর্বতশ্রেণী রয়েছে তার মধ্যে পাওয়া যায়।। এর মধ্যে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত “হিমালায় পর্বত” ও অন্তভুক্ত আছে। হিমালয় পর্বতশ্রেণী থেকে এই লবণের দেখা পাওয়া যায় বলে একে হিমালয়ান সল্ট বলা হয়। হোয়াইট গোল্ড নামেও পরিচিত এটি, এই লবণটি গোলাপী রং-এর হয়ে থাকে। এতে গোলাপী,সাদা এবং লাল রং এর খনিজ উপাদান বিদ্যমান থাকায় এর রং গোলাপী দেখায়। এর পুষ্টিগুণ সাধারণ লবনের থেকে অনেক বেশী।
সাধারণ ব্যবহার ছাড়াও এই লবনের কিছু বিস্ময়কর ব্যবহার রয়েছে। চলুন, জেনে নিই হিমালয়ান লবনের উপকারিতা-
১। নিম্মমানের সোডিয়ামের পরিমানঃ
যদিও হিমালয় স্লট আর সাধারন লবন একই উপাদান দিয়ে তৈরি তবুও হিমালয়ের ক্রিস্টাল গঠন সাধারন লবনের তুলনায় বড়। এর মানে হল এতে ১/৪ টেবিল চামচ পরিমান কম সোডিয়াম থাকে সাধারণ লবনের তুলনায়।
২। উচ্চ পরিমানে খনিজঃ
হিমালয়ান সল্ট ৮০+ খনিজ নিয়ে গঠিত যা পৃথিবীর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। এতে ৮৫% থাকে সোডিয়াম ক্লোরাইড আর ১৪% থাকে সালফেট, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, খাবার সোডা, বরিক অ্যাসিডের সল্ট, স্ট্রনশিয়াম এবং ফ্লোরাইড মত খনিজ পদার্থ। এই সকল খনিজ়ের নিজস্ব কিছু গুণ আছে যা হিমালয়ান সল্টের মধ্যে ও বিদ্যমান।
খনিজের গুণাবলী-
🔅হাড় শক্তিশালীকরন
🔅নিম্ন রক্তচাপ দূরীয়করন
🔅মাইগ্রেইনের ব্যথা দূরীকরন
🔅হজমশক্তী বাড়ানো
🔅পেশী ব্যাথারোধ
🔅কোষের ভিতর এবং বাইরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখে
🔅শরীরে পানির পরিমাম ঠিক রাখে
🔅একটি ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য তৈরি
🔅ওজন হ্রাসে সাহায্য করে।
রক্তচাপ কমায়: এই লবন টেবল সল্টের বদলে খেলে রক্তচাপ কমে।
ওজন কমায়: এই লবন দেহে ডাইজেস্টিভ জুস উৎপন্ন করে। যা খুব তাড়াতাড়ি খাবার হজম হতে সাহায্য করে। ফলে কমে অতিরিক্ত ওজন।
শ্বাসকষ্ট: শ্লেষ্মা কাটাতে সাহায্য করে। ফলে শ্বাসকষ্ট হলে উপশম দেয় সৈন্ধব লবন।
হৃদপিণ্ড: সৈন্ধব লবন রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ফলে রক্তচাপ কমে এবং ভাল থাকে হার্ট।
ডায়াবেটিস: রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত রাখে সৈন্ধব লবন। ফলে ডায়াবেটিস কমাতে ডায়েটে টেবল সল্টের বদলে রাখতেই পারেন এই সি সল্ট।
অবসাদ: এই লবন দেহে সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন নামের দু’টি হরমোন ক্ষরণ করে। যা অবসাদ ও কাটাতে সাহায্য করে।
যেসব কাজে ব্যবহার করতে পারেন:
১| দৈনন্দিন রান্নার কাজেঃ
প্রতিদিনের রান্নায় সাদা লবনের পরিবর্তে এই লবন ব্যবহার করুন। তবে সাদা লবনের চেয়ে কিছুটা কম পরিমাণে ব্যবহার করুন।
২| খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিকরনঃ
বিভিন্ন খাবারের উপর অল্প পরিমাণে এই লবণ ছিটিঁয়ে দিন এবং দেখুন খাবারের স্বাদের কি আমূল পরিবর্তন আসে। হিমালয়ান লবণ ফ্রুট সালাদ,সুশী, ভেজিটেবল সালাদ, বিভিন্ন খাবারে ব্যবহার করা যায়। লেবুর সরবত বা তেতুঁলের সরবতের মধ্যে ব্যবহার করুন এই লবন, এটি আপনার খাবার মজাদার করার সাথে সাথে খাবারকে করবে স্বাস্থ্যকর। সকালে খালিপেটে এই জলের উপকারিতা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
৩| গোসলেঃ
শুনে অবাক হলেও স্নানেও এই লবণ ব্যবহার হয়! বাথটব বা বালতির পানিতে এক টুকরো হিমালয়ান লবনের চাক ছেড়ে দিন। এটি মাংস পেশীকে রিল্যাক্স করে। প্রাকৃতিকভাবে এতে রয়েছে পুষ্টি উপাদান যা ত্বকের চামড়া কুঁচকানো দূর করার সাথে সাথে মন ও শরীরকে রাখে সজীব আর প্রাণবন্ত।
৪| মাইগ্রেইনের ব্যাথা দূর করার জন্যঃ
১ কাপ পানিতে ২ চা চামচ হিমালয়ান লবন, ২ চা চামচ লেবুর রস ও সামান্য কুড়ানো লেবুর খোসা একসাথে মিশিয়ে পান করুন এবং দেখুন কিভাবে এক নিমিষে দূর হয়ে যায় আপনার মাইগ্রেইনের ব্যাথা।
(সংগৃহীত)