25/06/2020
মধু সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম কেন জানবেন?
শুধু মধু খাঁটি কিনলেই হবে না সাথে সাথে মধুর সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতিও জানতে হবে। কারণ অসতর্কতা বা ভুল কিছুর জন্য খাঁটি মধু নষ্ট বা পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে। তাই আমাদের সকলেরই এই বিষয়টি নিয়ে সচেতন হতে হবে এবং এই বিষয়টির উপরে সেই ভাবেই গুরুত্ব দিতে হবে যেই ভাবে আমরা ভেজালের ভিড় থেকে বেছে বেছে খাঁটি মধু কেনার সময় যেমন গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কেননা আমরা সকলেই জানি খাঁটি মধু খুঁজে পাওয়া কতটা কঠিন একটি কাজ! এত কষ্টে অর্জিত খাঁটি মধু যদি সামান্য ভুলের কারনে নষ্ট হয়ে যায় বা উপকারিতা কমে যায় তাহলে ব্যাপারটা কেমন হয়ে যায় না? তাই মধু সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি আমাদের সকলেরই জেনে রাখা উচিত।
মধু সংরক্ষণের ৫টি নিয়ম
মধু সংরক্ষণ করা জটিল কিছু নয়, একদম সহজ। মধু খুব চমৎকার একটি জিনিষ। মধুতে সহজে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না তাই মধু দ্রুত নষ্টও হয় না। তারপরও মধু দীর্ঘদিন ভালো ও গুন সমৃদ্ধ রাখতে কিছু জিনিষ আমাদের ফলো করা দরকার।
পাত্রের মুখ ভালো ভাবে বন্ধ করে রাখা। পাত্র সঠিকভাবে বন্ধ করা না হলে মধুতে পোকা মাকড় সহ ধুলা বালি পড়তে পারে অথবা ফাঙ্গাস জন্মাতে পারে। মধু যদি বাতাসে খোলা অবস্থায় রাখা হয় তাহলে তা দুর্গন্ধ ও আর্দ্রতা শোষণ করে। এতে মধু নষ্ট হতে পারে অথবা এর গুনাগুন, স্বাদ, গন্ধ ও কালারের পরিবর্তন বা মান কমে যেতে পারে।
ঠাণ্ডা কক্ষ তাপমাত্রায় মধু সংরক্ষণ করা অর্থাৎ আপনি যেই রুমে আছেন ওই রুমেই একটি ঠাণ্ডা শুকনো স্থানে রেখে দিলেই হবে। রেফ্রিজারেটরে মধু তাড়াতাড়ি জমে যেতে পারে। শূন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রায় মধুর অনেক এমাইনো এসিড ও ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়। অনেক বেশি গরমে বা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় মধুর স্বাদ, গন্ধ ও রঙ বা বৈশিষ্ট্য পালটে যায় এবং উপকারী গুণাগুণ কমে যায়।
মধু সংরক্ষণের জন্য শুকনো বায়ুরোধী কাচের পাত্র ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। নন-ফুড গ্রেড প্লাস্টিক অথবা ধাতব পাত্র ব্যবহার করা যাবে না।
মধু রাখার জন্য এমন জায়গা ঠিক করা যা একইসাথে শুকনো ও ঠাণ্ডা। আর্দ্রতা হলো মধুর সবচেয়ে বড় শত্রুগুলোর মদ্ধে একটি। মধুতে থাকা এসেনশিয়াল ওয়েলগুলো সহজেই বাষ্পীভূত হয়। এতে মধুর স্বাদ এবং গন্ধ কমে যায়। সাধারণত, কোনো আবদ্ধ অন্ধকার জায়গা মধু সংরক্ষণের জন্য যথেষ্ট। খেয়াল রাখবেন সেটি যেন কালো হয় এবং সরাসরি আলোর সংস্পর্শে না আসে। চুলা বা ওভেনের কাছে মধুর পাত্র একদমই রাখবেন না।
মধু পুরাতন হয়ে গেলে অনেক সময় তা শক্ত হয়ে স্ফটিকায়িত হয় বা জমে যায়। তিন থেকে ছয় মাসের (সময় কম বেশ হতে পারে) মধ্যে যে কোনো জায়গায়ই এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনটি ঘটতে পারে। মধু পুরাতন হয়ে গেলে রঙ আর আগের মতো থাকে না কিছুটা কালছে ভাব চলে আসে, যার ফলে স্বাদ গন্ধেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এক বছরের কম সময়ের মাঝে পরিবর্তন দৃশ্যমান হয়।