09/01/2026
ইমাম শাফেয়ীর বাবা ছিল না। ছিলো শুধু মা। একেবারে গরীব ছিলেন। এক আত্মীয় থেকে কিছু অর্থ সাহায্য নিয়ে চলতেন। এভাবে কোনোরকম দিন চলে যেতো।
কিন্তু ইলম অর্জনে আগ্রহ ছিল অনেক। কিন্তু বেতন দেওয়ার টাকা ছিল না। এক আলিম তাকে এ শর্তে শিক্ষা দিতে রাজি হন যে যখন তিনি থাকবেন না, তখন ইমাম শাফেয়ী ঐ আলিমের কথাগুলোই বাকি ছাত্রদেরকে শেখাবেন।
ইমাম শাফেয়ী চাচ্ছেন মদীনায় গিয়ে ইমাম মালিকের কাছে গিয়ে পড়তে। তখনও কিন্তু ইমাম শাফেয়ী কিশোর। ইমাম হন নি।
তিনি তাই মক্কার গভর্নরের কাছে গেলেন। মক্কার গভর্নর মদীনার গভর্নরকে ইমাম শাফেয়ীকে ইমাম মালিকের কাছে নিয়ে যেতে রিকুয়েস্ট করে চিঠি লিখলেন। আরেকটা চিঠি লিখলেন ইমাম মালিককে।
সেই চিঠি ইমাম শাফেয়ী মদীনায় গিয়ে মদীনার গভর্নরকে দেখান।
কিন্তু মদীনার গভর্নর ইমাম মালিককে বেশ ভয় করতেন। তাই তিনি বললেন, "প্রিয় বৎস! ইমাম মালিকের দরজায় যাওয়ার চেয়ে আমার কাছে মদিনা থেকে মক্কায় খালি পায়ে যাওয়া বেশি সহজ। আমি তাঁর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে অপদস্থ করতে চাই না।"
মাথায় রাখবেন, গভর্নর মানে কিন্তু পুরো শহরের প্রধান। মেয়রের মত।
তাও ইমাম শাফেয়ীর অনুরোধের মদীনার গভর্নর তাঁকে নিয়ে ইমাম মালিকের বাসায় গেলেন।
দরজায় নক দিতেই দরজা খুললো এক দাসি। দাসি পরিচয় নিয়ে বাসার ভেতরে ইমাম মালিকের অনুমতি আনতে গেলো। এসে বললো, "আমার মালিক সালাম জানিয়েছেন। আর বলেছেন, বিশেষ কোনো প্রশ্ন থাকলে লিখে জানাতে। আর হাদিস শুনতে চাইলে উনি যেদিন দারস দেন, সেদিন আসতে।"
গভর্নর বললেন, "উনাকে গিয়ে বলো, মক্কার গভর্নর গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজে চিঠি পাঠিয়েছেন।"
দাসি আবার ভেতরে গেলো।
এবার সে একটা চেয়ার নিয়ে বাইরে এনে রাখলো। একটু পর সবুজ একটা চাদর গায়ে দিয়ে ইমাম মালিক এসে চেয়ারে বসলেন।
গভর্নর চিঠি এগিয়ে দিলো।
চিঠিতে লেখা, "সালাম বাদ। নিবেদন এই যে, চিঠিতে যার ব্যাপারে সুপারিশ করা হচ্ছে, তিনি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় আলিম। সুতরাং, আশা করি, আপনি তাকে হাদিস ও ফিকহের দারস দেবেন ও গড়ে তুলবেন।"
ইমাম মালিক চিঠিটা পড়েই প্রচন্ড ক্ষেপে গেলেন। মাটিতে ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, "সুবহানাল্লাহ! আল্লাহর রাসূলের শিখিয়ে যাওয়া ইলম কি এতই সস্তা যে চিঠির মাধ্যমে এর আদান প্রদান করতে হবে!"
মদিনার গভর্নর ইমাম মালিকের রাগ দেখে বেশ ঘাবড়ে গেলেন। কাচুমাচু হয়ে নিশ্চুপ বসে থাকলেন।
ইমাম শাফেয়ী কিছুটা সাহস নিয়ে হাঁটু গেঁড়ে বসে বললেন, "চিঠিতে আমার ব্যাপারেই বলা হয়েছে।" এরপর তিনি সব খুলে বলেন।
ইমাম মালিক জিজ্ঞেস করলেন, "নাম কী তোমার?"
"মুহাম্মদ।"
এরপর কিছু কনভার্সেশনের পর তিনি ছাত্র হিসেবে ইমাম শাফেয়ীকে গ্রহণ করলেন।
অনেকেরই প্রশ্ন, ইসলামী শাসন নিয়ে এতো কেন কথা আমাদের। এতো কেন চিন্তা।
চিন্তার উত্তর উপরের গল্পটা।
এমন শাসনই তো আমরা চাই, যেখানে-
১. এলাকার মেয়র একজন সাধারণ যুবকের ইলম অর্জন নিয়ে সচেতন থাকবেন। তা নিশ্চিত করতে যা করা দরকার তা করবেন
২. একজন আলিমের সম্মান ও দৃঢ়তা এতো বেশি থাকবে যে স্বয়ং মেয়রও তার সামনে মাথা নিচু করে থাকবেন
৩. রাসূলুল্লাহর ﷺ হাদিসের মর্যাদা অনেক অনেক উপরে থাকবে
৪. গরীব, পিতাহীন হওয়ার কারণে একজন আগ্রহী মেধাবী কিশোরের ইলম অর্জন কোথাও আটকে থাকবে না। হাদিস ও ফিকহের টপ স্কলারের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থ বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
আল্লাহ আমাদের জীবদ্দশায়ই এমন একটা শাসন এ মাটিতে দেখে যাওয়ার তৌফিক দান করুন।
© Erfan Sadik vai🖤