National Poet

National Poet About of the National poet ( Kazi Nazrul Islam )

05/07/2026

বাগিচায় বুলবুলি
– কাজী নজরুল ইসলাম

বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুল-শাখাতে
দিসনে আজই দোল।
আজো তার ফুল-কলিদের ঘুম টুটেনি,
তন্দ্রাতে বিলোল।।

আজো হায় রিক্ত শাখায় উত্তরী-বায়
ঝুরছে নিশিদিন,
আসেনি দখনে হাওয়া গজল-গাওয়া,
মৌমাছি বিভোল।।

কবে সে ফুল কুমারী ঘোমটা চিরি
আসবে বাহিরে,
শিশিরের স্পর্শসুখে ভাঙ্গবে রে ঘুম
রাঙবে রে কপোল।।

ফাগুনের মুকুল-জাগা দুকুল-ভাঙ্গা
আসবে ফুলেল্ বান,
কুঁড়িদের ওষ্ঠপুটে লুটবে হাসি,
ফুটবে গালে টোল্।।

কবি তুই গন্ধে ভুলে ডুবলি জলে
কূল পেলিনে আর,
ফুলে তোর বুক ভরেছিস্ আজকে জলে
ভর্ রে আঁখির কোল।।

19/05/2025

কাবা'র দিকে চেয়ে হে মুসলিম,
চোখের অশ্রু মুছে ফেলো,
ধৈর্য ধরো, সহ্য করো,
আল্লাহ তোমার সঙ্গে আছেন সব সময়।

দুঃখের মাঝে থাকো যদি,
ভেবো না তুমি একা,
তোমার তরে খুলে আছে
রহমতের অসীম ফটকা।

আল্লাহর পথে যারা চলে,
তাদের জীবন হয় সার্থক,
আশার আলো হৃদয় জুড়ে
বয়ে আনে অনন্ত সুখ।

17/05/2025

যদি একদিন তুমি না ফেরো ফিরে –
আকাশের মুখে চেয়ে চেয়ে কাঁদবে কি সারা দিন ঘরে?
সেই বাতাসে গন্ধ খুঁজে ফিরবে কি মোর চুলের?
ভেবে নিও, আমি গেছি হারিয়ে – চিরকাল চিরতরে।

জানি তুমি ভালোবাসো,
তবু ব্যথা দেবে আমায় হাসি মুখে –
হয়তো সে রাতে চাঁদ উঠবে নিঃসঙ্গ,
আর তুমি একা একা হাঁটবে নিঃশব্দ কূলে।

তোমার বুকের কাছে আমার নামটাও হয়তো
ম্লান হয়ে যাবে সময়ের ধুলোয়,
তবু মনে রেখো –
আমি একদিন খুব ভালোবেসেছিলাম তোমায়!

17/05/2025

কাণ্ডারি হুঁশিয়ার
– কাজী নজরুল ইসলাম

পুবের কাফেলা আসে পঁচিশ কোটি প্রাণ,
পাঁজরে মৃত্যুর কাঁপন, চোখে রক্তবায়ু-ঝড়!
কাণ্ডারি হুঁশিয়ার!...

দেখে না কি ওই– পুরাতন সেই পাষাণ
ভাসায়ে রক্ত-নদী হাসিতেছে প্রহর-প্রাণ?
ধ্বংস-নিশান ওড়ে ওই দুরন্ত দিগ্বিদিক,
চৌদ্দ রথের বাজে চাকা – ধ্বনি ব্যোমে ছাড়ে শিক।

আসে ঐ– নির্লজ্জ শত-নেত্র, শত-বাহু, শত মুখ!
গায়ে তার খরিত রক্ত – হাহাকার, কাঁদে সুখ!
আসে ঐ – আজও বুঝি বধ হয়নি অসুর!
আসে ঐ – লইয়া প্রাণ কুরুক্ষেত্র-নিশি-দুর!

কাণ্ডারি হুঁশিয়ার!...

17/05/2025

১. যত বেশী তুমি মূল্যবান হবে, মাথায় রেখো তত বেশী তুমি সমালোচনার পাত্র হবে- নেলসন ম্যান্ডেলা

2. ভূল তখনই ক্ষমা যোগ্য যখন কেউ সত্য বলে স্বীকার করে নেয়- ব্রুস লি।

3. জীবনে যত আঘাত পাবে তত কাছের মানুষগুলোকে চিনতে পারবে। তখন বঝতে পারবে আসলে কে তোমার কতটা আপন।

4. ক্ষুদার্থ পেট ও ফাঁকা পকেট তোমাকে পুরো পৃথিবীটাকে চিনিয়ে দিবে।
5. মায়ের সাথে কখনও উচ্চ স্বরে কথা বলো না, কারন এই মা-ই তোমাকে কথা বলা শিখিয়েছেন।

6. লবন এবং চিনি দেখতে একই রকম পার্থক্য শুধু স্বাদে, তেমনি মানুষ এবং অমানুষ দেখতে একই রকম পার্থক্য শুধু আচরনে।

7. জীবনে ৬ টি নীতি সবসময় মেনে চলো
– পার্থনা করার আগে পরিপূর্ন বিশ্বাস করো।
– কথা বলার আগে মন দিয়ে ভাল করে শোনো।
– খরচ করার আগে উপার্জন করো।
– কিছু লোখার আগে চিন্তা করো।
– হাল ছাড়ার আগে চেষ্ঠা করো।
– মরার আগে বাচঁতে শেখা।
– যথা সম্ভব কম কথা বলো এবং অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বিরত থাকো।

07/05/2025
21/06/2021

মোনাজাত

আমারে সকল ক্ষুদ্রতা হতে
বাঁচাও প্রভু উদার।
হে প্রভু! শেখাও – নীচতার চেয়ে
নীচ পাপ নাহি আর।

যদি শতেক জন্ম পাপে হই পাপী,
যুগ-যুগান্ত নরকেও যাপি,
জানি জানি প্রভু, তারও আছে ক্ষমা-
ক্ষমা নাহি নীচতার।।

ক্ষুদ্র করো না হে প্রভু আমার
হৃদয়ের পরিসর,
যেন সম ঠাঁই পায়
শত্রু-মিত্র-পর।

নিন্দা না করি ঈর্ষায় কারো
অন্যের সুখে সুখ পাই আরো,
কাঁদি তারি তরে অশেষ দুঃখী
ক্ষুদ্র আত্মা তার।।

05/10/2018

বিদায় বেলা

তুমি অমন ক’রে গো বারে বারে জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না,
জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না।
ঐ কাতর কন্ঠে থেকে থেকে শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না,
শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না।।
হাসি দিয়ে যদি লুকালে তোমার সারা জীবনের বেদনা,
আজো তবে শুধু হেসে যাও, আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো না।
ঐ ব্যথাতুর আঁখি কাঁদো-কাঁদো মুখ
দেখি আর শুধু হেসে যাও,আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো না।
চলার তোমার বাকী পথটুকু-
পথিক! ওগো সুদূর পথের পথিক-
হায়, অমন ক’রে ও অকর”ণ গীতে আঁখির সলিলে ছেয়ো না,
ওগো আঁখির সলিলে ছেয়ো না।।

দূরের পথিক! তুমি ভাব বুঝি
তব ব্যথা কেউ বোঝে না,
তোমার ব্যথার তুমিই দরদী একাকী,
পথে ফেরে যারা পথ-হারা,
কোন গৃহবাসী তারে খোঁজে না,
বুকে ক্ষত হ’য়ে জাগে আজো সেই ব্যথা-লেখা কি?
দূর বাউলের গানে ব্যথা হানে বুঝি শুধু ধূ-ধূ মাঠে পথিকে?
এ যে মিছে অভিমান পরবাসী! দেখে ঘর-বাসীদের ক্ষতিকে!
তবে জান কি তোমার বিদায়- কথায়
কত বুক-ভাঙা গোপন ব্যথায়
আজ কতগুলি প্রাণ কাঁদিছে কোথায়-
পথিক! ওগো অভিমানী দূর পথিক!
কেহ ভালোবাসিল না ভেবে যেন আজো
মিছে ব্যথা পেয়ে যেয়ো না,
ওগো যাবে যাও, তুমি বুকে ব্যথা নিয়ে যেয়ো না।।

গোপন প্রিয়া –পাইনি ব’লে আজো তোমায় বাসছি ভালো, রাণি,মধ্যে সাগর, এ-পার ও-পার করছি কানাকানি!আমি এ-পার, তুমি ও-পার,মধ্যে কাঁ...
09/04/2017

গোপন প্রিয়া –

পাইনি ব’লে আজো তোমায় বাসছি ভালো, রাণি,
মধ্যে সাগর, এ-পার ও-পার করছি কানাকানি!
আমি এ-পার, তুমি ও-পার,
মধ্যে কাঁদে বাধার পাথার
ও-পার হ’তে ছায়া-তরু দাও তুমি হাত্‌ছানি,
আমি মরু, পাইনে তোমার ছায়ার ছোঁওয়াখানি।

নাম-শোনা দুই বন্ধু মোরা, হয়নি পরিচয়!
আমার বুকে কাঁদছে আশা, তোমার বুকে ভয়!
এই-পারী ঢেউ বাদল-বায়ে
আছড়ে পড়ে তোমার পায়ে,
আমার ঢেউ-এর দোলায় তোমার ক’রলো না কূল ক্ষয়,
কূল ভেঙেছে আমার ধারে-তোমার ধারে নয়!
চেনার বন্ধু, পেলাম না ক’ জানার অবসর।
গানের পাখী ব’সেছিলাম দু’দিন শাখার’ পর।
গান ফুরালো যাব যবে
গানের কথাই মনে রবে,
পাখী তখন থাকবো না ক’-থাকবে পাখীর ঘর,
উড়ব আমি,-কাঁদবে তুমি ব্যথার বালুচর!
তোমার পারে বাজল কখন আমার পারের ঢেউ,
অজানিতা! কেউ জানে না, জানবে না ক’ কেউ।
উড়তে গিয়ে পাখা হ’তে
একটি পালক প’ড়লে পথে
ভুলে’ প্রিয় তুলে যেন খোঁপায় গুঁজে নেও!
ভয় কি সখি? আপনি তুমি ফেলবে খুলে এ-ও!
বর্ষা-ঝরা এমনি প্রাতে আমার মত কি
ঝুরবে তুমি একলা মনে, বনের কেতকী?
মনের মনে নিশীথ-রাতে
চুমু দেবে কি কল্পনাতে?
স্বপ্ন দেখে উঠবে জেগে, ভাববে কত কি!
মেঘের সাথে কাঁদবে তুমি, আমার চাতকী!
দূরের প্রিয়া! পাইনি তোমায় তাই এ কাঁদন-রোল!
কূল মেলে না,-তাই দরিয়ায় উঠতেছে ঢেউ-দোল!
তোমায় পেলে থামত বাঁশী,
আসত মরণ সর্বনাশী।
পাইনি ক’ তাই ভ’রে আছে আমার বুকের কোল।
বেণুর হিয়া শূন্য ব’লে উঠবে বাঁশীর বোল।
বন্ধু, তুমি হাতের-কাছের সাথের-সাথী নও,
দূরে যত রও এ হিয়ার তত নিকট হও।
থাকবে তুমি ছায়ার সাথে
মায়ার মত চাঁদনী রাতে!
যত গোপন তত মধুর-নাই বা কথা কও!
শয়ন-সাথে রও না তুমি নয়ন-পাতে রও!
ওগো আমার আড়াল-থাকা ওগো স্বপন-চোর!
তুমি আছ আমি আছি এই তো খুশি মোর।
কোথায় আছ কেমনে রাণি
কাজ কি খোঁজে, নাই বা জানি!
ভালোবাসি এই আনন্দে আপনি আছি ভোর!
চাই না জাগা, থাকুক চোখে এমনি ঘুমের ঘোর!
রাত্রে যখন এক্‌লা শোব-চাইবে তোমার বুক,
নিবিড়-ঘন হবে যখন একলা থাকার দুখ,
দুখের সুরায় মস্ত্‌ হ’য়ে
থাকবে এ-প্রাণ তোমায় ল’য়ে,
কল্পনাতে আঁকব তোমার চাঁদ-চুয়ানো মুখ!
ঘুমে জাগায় জড়িয়ে র’বে, সেই তো চরম সুখ!
গাইব আমি, দূরের থেকে শুনবে তুমি গান।
থামবে আমি-গান গাওয়াবে তোমার অভিমান!
শিল্পী আমি, আমি কবি,
তুমি আমার আঁকা ছবি,
আমার লেখা কাব্য তুমি, আমার রচা গান।
চাইব না ক’, পরান ভ’রে ক’রে যাব দান।
তোমার বুকে স্থান কোথা গো এ দূর-বিরহীর,
কাজ কি জেনে?- তল কেবা পায় অতল জলধির।
গোপন তুমি আসলে নেমে
কাব্যে আমার, আমার প্রেমে,
এই-সে সুখে থাকবে বেঁচে, কাজ কি দেখে তীর?
দূরের পাখী-গান গেয়ে যাই, না-ই বাঁধিলাম নীড়!
বিদায় যেদিন নেবো সেদিন নাই-বা পেলাম দান,
মনে আমায় ক’রবে না ক’-সেই তো মনে স্থান!
যে-দিন আমায় ভুলতে গিয়ে
করবে মনে, সে-দিন প্রিয়ে
ভোলার মাঝে উঠবে বেঁচে, সেই তো আমার প্রাণ!
নাই বা পেলাম, চেয়ে গেলাম, গেলে গেলাম গান!

আপন-পিয়াসী –আমার আপনার চেয়ে আপন যে জনখুঁজি তারে আমি আপনার,আমি শুনি যেন তার চরণের ধ্বনিআমারি তিয়াসী বাসনায়।।আমারই মনের তৃ...
09/04/2017

আপন-পিয়াসী –

আমার আপনার চেয়ে আপন যে জন
খুঁজি তারে আমি আপনার,
আমি শুনি যেন তার চরণের ধ্বনি
আমারি তিয়াসী বাসনায়।।

আমারই মনের তৃষিত আকাশে
কাঁদে সে চাতক আকুল পিয়াসে,
কভু সে চকোর সুধা-চোর আসে
নিশীথে স্বপনে জোছনায়।।

আমার মনের পিয়াল তমালে হেরি তারে স্নেহ-মেঘ-শ্যাম,
অশনি-আলোকে হেরি তারে থির-বিজুলি-উজল অভিরাম।।
আমারই রচিত কাননে বসিয়া
পরানু পিয়ারে মালিকা রচিয়া,
সে মালা সহসা দেখিনু জাগিয়া,
আপনারি গলে দোলে হায়।।

Address

Ishwardi, Pabna
Dhaka
6666

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when National Poet posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to National Poet:

Shortcuts

Share

Category