11/01/2026
ছোটবেলায় বৃত্তির টাকা পেয়ে আম্মুকে একটা ডিনার সেট কিনে দিসিলাম। মা যত্ন করে শোকেচে তুলে রাখে। এখনো আছে। যত্ন করে রেখে দিসে মা। কেউ ব্যবহার করা তো দূরের কথা, ছুঁতে চাইলেও দেয় না। বলে,
আমার বাপে কিনে দিছে, কেউ হাত দিবিনা।
কারো সাহস হয়না ওগুলোতে হাত দেওয়ার। সবাই দূর থেকে দেখে।
এবার বাড়ি গিয়ে মার থেকে লুকিয়ে একটা প্লেট বাইর করসিলাম। ভাত খাবো। দুর্ভাগ্যবশত সেটা হাত থেকে পড়ে ভেঙে যায়। আমি ভয় পাই। ভাবি মা বকবে।
কিন্তু না, মা কিছুই বলেনা। হাসতে হাসতে ভাঙা টুকরো গুলো তোলে। গুছিয়ে আবার তুলে রাখে। আমি অবাক হই। জিজ্ঞেস করি, তুমি এগুলো না ফেলে তুলে রাখছো কেন? কাউকে ছুঁতেও দাও না, আমাকে কিছু বললেনা তো!
মা মিটিমিটি আমার দিকে তাকায়। চুপচাপ তাকিয়ে থাকে। হাসে। তারপর চোখ লাল হয়ে আসে। চোখ মুছে বলে,
এই ডিনারসেট কিনে দিসিলি তোর বৃত্তির টাকা দিয়ে। এগুলো আমার অনেক যত্নের, শখের। আর তুই? তুই তার চেও বেশি যত্নের। দশমাস দশদিন তোরে পেটে রাখসি আমি। এই সামান্য কারণে কিছু বলবো?
আমার বুক চেপে যায়। গলা ধরে আসে। মাকে জড়িয়ে ধরে হুহু করে কেঁদে উঠি। মা মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। আমার চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে,
মা, তুমি যদি জানতে আমাকে কত মানুষ আঘাত করেছে, ভেঙেছে, টুকরো টুকরো করেছে, ছিন্নভিন্ন করেছে, মানুষ কত উপায়ে আমাকে দুঃখ দিয়েছে, তাহলে আমাকে তোমার পেটের ভেতরেই রাখতে। পৃথিবীতে আনতে না।
কিছুই বলতে পারিনা। শুনলে ভেঙে পড়বে মা। মা জানেনা, আমি কত দুঃখ গোপন রেখেছি শুধু সে জানলে কষ্ট পাবে বলে।
~সাদমান সাকিব