21/04/2026
মানুষের মতো শিম্পাঞ্জিও যু/দ্ধে লিপ্ত !
উগান্ডার Kibale National Park-এর এনগোগো অঞ্চলে বসবাসকারী বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিচিত বন্য শিম্পাঞ্জি সমাজটি একসময় ছিল অত্যন্ত ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ। মানুষের মতো তারাও সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করে আসছিলো। প্রায় ২০০ সদস্যের এই দল দুই দশক ধরে সহযোগিতা, খাদ্য ভাগাভাগি এবং পারস্পরিক সুরক্ষার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলেছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের দিকে এই স্থিতিশীল সমাজে হঠাৎ ভাঙন দেখা দেয়, যা ধীরে ধীরে ভয়াবহ স/হিং/স/তায় রূপ নেয়।
এই বিভাজনের ফলে শিম্পাঞ্জিরা দুটি দলে ভাগ হয়ে যায়— ‘ওয়েস্টার্ন’ ও ‘সেন্ট্রাল’। শুরুতে সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও ২০১৮ সালের পর থেকে সং/ঘা/ত তীব্র আকার ধারণ করে। ওয়েস্টার্ন দলটি সংগঠিতভাবে সেন্ট্রাল দলের ওপর আ/ক্র/ম/ণ চালাতে শুরু করে। তারা সীমান্তে টহল দিয়ে একাকী শিম্পাঞ্জিদের লক্ষ্য করে হামলা চালাত এবং দলবদ্ধভাবে হ/ত্যা করত। সময়ের সঙ্গে এই হা/ম/লা আরও নি/র্ম/ম হয়ে ওঠে, এমনকি শিশু শিম্পাঞ্জিরাও রেহাই পায়নি।
এ পর্যন্ত অন্তত ২৮টি শিম্পাঞ্জি নি/হ/ত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই সেন্ট্রাল দলের সদস্য। ওয়েস্টার্ন দলটি সংখ্যায় কম হলেও তাদের সমন্বিত কৌশল ও আক্র/মণা/ত্মক আচরণের কারণে তারা ক্রমে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এবং নিজেদের এলাকা ও সদস্যসংখ্যা বাড়িয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই সংঘাতের পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করেছে—গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিম্পাঞ্জির মৃ/ত্যু, নেতৃত্বের পরিবর্তন, সামাজিক বন্ধনের দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য রোগের প্রাদুর্ভাব। এসব কারণে দলের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য নষ্ট হয়ে বিভাজন সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং এর আগে সত্তরের দশকে Gombe National Park-এ একই ধরনের সং/ঘা/ত পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। বর্তমান “গৃ/হ/যু/দ্ধ” এখনো চলমান এবং এর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। গবেষকরা মনে করেন, এই ঘটনা শুধু প্রাণী আচরণ নয়, বরং মানব সমাজে সং/ঘা/তে/র উৎস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়—সামাজিক বন্ধন দুর্বল হলে যে কোনো সমাজেই স/হিং/স/তা জন্ম নিতে পারে।