13/08/2026
১৯৩৭ এর নির্বাচনে হিন্দু প্রধান ৬টি প্রদেশে কংগ্রেস মন্ত্রিসভা গঠিত হলো—সেসব প্রদেশে দু'বছর ধরে মুসলমানদের উপর চললো অমানুষিক ধর্মনিরপেক্ষ নির্যাতন। নির্যাতনের স্বরূপ সম্পর্কে তদন্তের জন্য মুসলিম লীগ কর্তৃক "পীরপুর কমিটি" ও "শরীফ কমিটি" নিয়োগ করা হয়। রিপোর্টে বর্ণহিন্দুর অত্যাচারের যে বিভৎসতা ফুটে ওঠে তাতে বিচলিত হয়ে ১৯৩৯ সালে বাংলার প্রধানমন্ত্রী মওলবী ফজলুল হক "কংগ্রেস শাসনে মুসলমানদের দুরবস্থা" বর্ণনা করে এক দীর্ঘ বিবৃতি প্রদান করেন এবং এই মর্মে হুমকি দেন যে, কংগ্রেস শাসিত প্রদেশগুলোতে 'এভাবে মুসলমানদের প্রতি জুলুমের ধারা বন্ধ করা না হলে বাংলাদেশে তিনি এর প্রতিশোধ গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন। [আব্দুর রহীম, প্রাগুক্ত, ২৫০; ব্রোমফিল্ড ড ২৬০-৬৩; কামরুদ্দিন ১৯, ১৮১, ১৯৫-২০০]। হক সাহেবের বিবৃতিটি পুস্তিকা আকারে সারা উপ-মহাদেশে ছড়ানো হয়। অন্যান্য মুসলমান প্রধান প্রদেশগুলোতেও এ আবেগ সঞ্চারিত হয়। তারই স্বাভাবিক পরিণতি মুসলিম লীগের ১৯৪০ সালের লাহোর অধিবেশনে মওলবী ফজলুল হক কর্তৃক উত্থাপিত পাকিস্তান প্রস্তাব [আব্দুর রহীম, প্রাগুক্ত ২৫০; ব্রোমফিল্ড, ২৬০-৬৩; কামরুদ্দিন ; ১৯, ১৮১, ১৯৫-২০০]।
বই : ইতিহাসের অন্তরালে, (পৃষ্ঠা ২৬-২৭)
লেখক : ফারুক মাহমুদ