07/01/2020
ওই সমস্ত গার্জিয়ানদের মরে যাওয়া উচিত!
*
আমার বাচ্চারা তখন ওয়ান/টু-তে পড়ে। আমি প্যারেন্টস মিটিংয়ে গেছি। দেখলাম প্যারেন্টসরা টিচারদের সাথে খুব দেনদরবার করছে। আমার বাচ্চাকে এই প্রশ্নে কম নাম্বার দেওয়া হয়েছে। অমুক বাচ্চা আমার বাচ্চাকে ডিস্টার্ব করে- এই জাতীয় দেনদরবার। আমার পালা এলো।
টিচার আমার বাচ্চাদের খাতাপত্র আমার সামনে দিয়ে বলল- স্যার, দেখুন। আমি সেগুলি পাশে ঠেলে দিয়ে বললাম- আমি এগুলো দেখতে আসিনি, ওগুলো দেখার জন্য আপনারা আছেন। আমি শুধু একটা কথা বলতে এসেছি- বাচ্চারা যেন স্কুলে আসতে আগ্রহী হয়। ভালো রেজাল্ট করার জন্য ওদের চাপ দেওয়ার দরকার নেই। তাতে যদি আমার বাচ্চারা ফেল করে তাতেও আমার কোন আপত্তি নাই। ভালো রেজাল্ট করলে কি লাভ হয় সেটা যেদিন ওরা নিজেরা বুঝতে পারবে সেদিন ওরা নিজেরাই ভালো রেজাল্ট করার ব্যাপারে আগ্রহী হবে। আপনাদের দায়িত্ব একটাই, ওরা যেন কোনোভাবেই স্কুলে আসতে অনাগ্রহী না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা।
শিক্ষিকা ফ্যালফ্যাল করে আমার দিকে তাকিয়ে বলল- স্যার, আপনার মতো পেরেন্টস আমি আমার শিক্ষকতা জীবনে একজনও পাইনি। আমি বললাম- অধিকাংশ মানুষ বৈষয়িক হয়, বোহেমিয়ান হয় না। বোহেমিয়ান মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে খুব কম, আমি বোহেমিয়ান টাইপের মানুষ।
সকালে আমার বাচ্চাদের ফাইনাল পরীক্ষা, আমি রাত্রে বাচ্চাদের নিয়ে দাওয়াত খেতে যাই। বাচ্চাদের বলি- ফেল করলেও কোনো অসুবিধা নাই, আমি জীবনে বহুবার ফেল করেছি। চলো যাই দাওয়াত খেয়ে আসি। ভালো রেজাল্ট করাই জীবনের একমাত্র সার্থকতা নয়। বাচ্চারা বিপুল উৎসাহে আমার সাথে দাওয়াত খেতে যায়।
*
পিএসসি'র রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় এ পর্যন্ত নয়জন শিশু আত্মহত্যা করেছে। কচি শিশুদের মনে যারা রেজাল্টের বিষ ঢুকিয়েছে, তাদেরকে নির্যাতন করেছে, অন্য বাচ্চাদের সাথে তুলনা করে বাচ্চাটাকে বকেছে, বাচ্চার রেজাল্টকে নিজের স্ট্যাটাস হিসেবে নিয়েছে; সে সমস্ত গার্জিয়ানদের মরে যাওয়া উচিত।