22/11/2023
গল্প: নিশি ডাক (পর্ব : ০২)
লেখক : আওসাফ সাদিক।
__________________
মালতি রান্না ঘরের ভেতরে দুই পায়ে ভর দিয়ে বসে নুরুর ধরে আনা বড় বোয়াল মাছ টা কাঁচাই চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে। টর্চের আলো পরতে দেখে পেছনে তাকায় মালতী। তার মুখে মাছের রক্ত আর চামড়া লেগে আছে। চোখের ভেতর পুরোটা কালো হয়ে আছে। যেনো পুরো চোখ জুড়ে কালো রঙ ঢেলে দেওয়া হয়েছে। দুই হাতে মাছ ধরে রাখা অবস্থায় ভয়ংকর চোখ নিয়ে নুরুর দিকে তাকিয়ে এক বিশ্রী হাঁসি দেয় মালতি!
শরীরে জ্বরের উত্তাপ নিয়েও, ভয়ের এক শীতল স্রোত নেমে যায় নুরুর শিরদাঁড়া দিয়ে। মালতীর এমন রূপ কখনো কল্পনাতেও আসেনি তার। নুরু এক জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে মুঠোফোনের টর্চ। এমন সময় হঠাৎ মালতী কালো রঙের এক বিশাল জিহ্বা বের করে লোভনীয় দৃষ্টিতে নুরুর দিকে এগুতে থাকে। নুরুর চোখে মুখে বিষ্ময়! থ হয়ে এক জায়গায়ই দাঁড়িয়ে আছে সে। চিৎকার দিতে চাইলেও গলা থেকে কোনোরকম শব্দই বের করতে পারছে না। মালতী ক্রমশ এগিয়ে আসছে তার দিকে। প্রায় এক হাত দূর থেকে মালতী তার জিহ্বা দিয়ে নুরুর গলায় স্পর্শ করে। গলা পেঁচিয়ে ধরতে যাবে এমন সময় নুরুর হাতের টর্চ টা মাটিতে পড়ে যায়। কি করবে বুঝতে না পেরে মালতী কে এক ধাক্কা দিয়ে উলটো দিকে দৌড় দেয় নুরু।
নুরু কোনো কিছু না ভেবেই দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়ির পেছনের জঙ্গল টায় চলে এসেছে। অসুস্থ দূর্বল শরীর নিয়ে আর কতোটুকুই বা দৌড়াবে সে। তারপরেও নুরু নিজেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে প্রাণপণে দৌড়ে যাচ্ছে আর বার বার পেছন ফিরে দেখছে। নাহ পেছনে মালতী নেই। ঠিক তখনই কারো সাথে ধাক্কা লেগে নুরু পড়ে যায় নিচে। নিচে পড়ে যাওয়ায় বাঁশের কঞ্চিতে লেগে হাতে ছোটোখাটো চোট পায় নুরু। মাথা উঠিয়ে দেখতে পায় মালতী তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আবারও সেই বিশ্রী হাঁসি মালতির। এবার ভয়ে জ্ঞান হারায় নুরু।
চারপাশ নিস্তব্ধ! চতুর্দিক থেকে ভেসে আসছে ঝিঝি পোকার ডাক৷ একটা কর্কশ আওয়াজের ডাকে জ্ঞান ফিরে নুরুর! আওয়াজ টা এতোটাই কর্কশ আর গম্ভীর, শুনলে কান দিয়ে রক্ত আসার মতো অবস্থা হয়ে যাবে। সেই ডাক শুনে চোখ মেলেই হকচকিয়ে উঠে নুরু। আশেপাশে তাকিয়ে পরখ করার চেষ্টা করে কোথায় আছে সে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। তখনি হঠাৎ উপরে কিছুর নড়াচড়া টের পায় সে। উপরে তাকাতেই দেখা যায় সেই বিশাল তেঁতুল গাছ৷ যার একটি ডালের উপর বানরের মতো বসে আছে মালতী। নুরুর জ্ঞান ফিরতে দেখেই এক লাফে নুরুর সামনে এসে দাঁড়ায় মালতী। নুরুর শরীর কাঁপছে। ঘামে ভিজে যাচ্ছে পুরো শরীর। যা কখনো দেখা তো দূরের কথা, অস্তিত্ব আছে বলেও বিশ্বাস করেনি নুরু, তা এখন স্বচক্ষে দেখছে সে। প্রচন্ড ভয়ে নুরু মনে মনে সূরা পড়তে গিয়েও গুলিয়ে ফেলে। তখনই সে অনুভব করে, একটা সাধারণ মানুষ এসব অতিপ্রাকৃত, অশরীরীর সামনে কতোটা অসহায়। কোনোভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলতে শুরু করে নুরু-
- আমি আপনেগো কি এমন ক্ষতি করছি যে আপনারা আমারে এমন শাস্তি দিতাছেন? আমার গর্ভবতী বউটার কি দোষ? ওরে ছাইড়া দেন! দোহাই লাগে আপনাগো ছাইড়া দেন। আপনারা যা কইবেন তাই করমু। (করুণ ভয়ার্ত কণ্ঠে বলল নুরু)
নুরুর এমন আবেদন শুনে মালতীর শরীরে থাকা অশরীরী টা ভয়ংকর ভাবে জোড়ে জোড়ে হাঁসতে থাকে৷ এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঝিঝির ডাক আর বাতাশের সাথে বাঁশ পাতার ঘর্ষনের শব্দ মিলে এক থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি করছে, তার মধ্যে এমন ভয়ংকর হাঁসি পরিবেশ টা কে আরোও বেশি ভয়ঙ্কর বানিয়ে দিচ্ছে৷
কিছুক্ষন পর হাঁসি থামিয়ে মালতী বলতে শুরু করলো, তার গলার স্বর ছিলো একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের কণ্ঠের চেয়েও মোটা।
- তুই আমাদের কোনো ক্ষতি করিসনি। তোর দোষ একটাই! তুই সেদিন বড় মাছ টা দিয়ে গেলি না। তোর উপর খুব অসন্তুষ্ট আমি। ( এটা বলেই এক বিশ্রী ধরনের নাটকীয় কান্না শুরু করে দিলো মালতী)
- এহন থাইকা প্রতিদিন মাছ দিয়া যামু আপনেগোরে, দয়া কইরা আমার বউ টা রে ছাইড়া দেন!
- নাহ! শুধু মাছ দিয়ে গেলেই তো তোর বউকে ছারবো না...
- তাইলে আর কি করন লাগবো? আমি সব করতে রাজি আছি, তবুও ওরে ছাইড়া দেন দয়া কইরা!!
- প্রতিদিন মাছ দেওয়ার সাথে সাথে আরো দুইটা ইচ্ছা পূরন করতে হবে তোকে! তাহলেই তোর বউকে ছেড়ে দিবো! ( এটা বলে হাঁসতে শুরু করে মালতী)
- কি ইচ্ছা কন! আমি সব করতে রাজি আছি৷
মালতীর শরীরে থাকা অশরীরী টা নুরু কে প্রতিদিন মাছ দেওয়ার সাথে সাথে দুইটা খাশি এবং তার সবচেয়ে প্রিয় একটা জিনিস, যেটা সে সময় হলে চেয়ে নিবে, এসবের বিনিময়ে তার বউকে মুক্তি দিতে রাজি হয়।
নুরু ভয় আর তার স্ত্রী কে বাঁচানোর জন্য সাথে সাথেই তার শর্তে রাজী হয়ে যায়।
____
পরদিন সকালে মালতীর ডাকে ঘুম ভাঙে নুরুর। সে নিজেকে ঘরে শুয়া অবস্থায় পায়। গতকাল রাতে সে বাসায় আসলো কিভাবে? নাকি সে যা দেখেছে পুরোটাই তার স্বপ্ন ছিলো? মালতী ও স্বাভাবিক আচরণ করছে।
নুরু ভেবেই নিয়েছে এটা স্বপ্ন ছিলো, তখনি তার হাতে বাঁশের কঞ্চিতে লেগে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিলো সেটি তার চোখে পড়ে! নুরু বুঝে যায়, কাল রাতে যা যা হয়েছে তার কিছুই স্বপ্ন নয়। নুরু তাড়াহুড়ো করে বিছানা থেকে উঠে!
অন্যদিকে মালতী নুরুকে বাজার থেকে প্রয়োজনীয় সদাই আনার জন্য বলছে অন্য রুম থেকে। নুরু তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে, খাবার খেয়ে বেড়িয়ে পড়ে বাজারের উদ্দেশ্যে। তার মূল উদ্দেশ্য বাজারে যাওয়া নয়। নুরু রঞ্জু মিয়ার ভাগিনা শ্যামলের সাথে দেখা করার জন্য ছুটেছে। শ্যামল তাদের গ্রামের ছোটখাটো একজন তান্ত্রিক। সে মূলত প্যারানরমাল জিনিসের প্রতি বেশি আগ্রহী! ফলে এই কাজ বেছে নেয় সে। নুরুর ধারণা শ্যামল তাকে এই ঝামেলা থেকে মুক্ত করতে পারবে। নুরু সোজা শ্যামলের বাড়িতে পৌছায়! নুরি বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে শ্যামল কে ডাকতে শুরু করে,
- শ্যামল! শ্যামল রে... বাড়িত আছোসনি?
নুরুর ডাক শুনে শ্যামলের নব বিবাহিত স্ত্রী রূপমা ঘর থেকে বের হয়! রূপমা নুরু কে আগে থেকেই চিনে। একই গ্রামে তাদের বাড়ি। তাছাড়া শ্যামলের বিয়েতেও স্ব-পরিবারে এসেছিলো নুরু।
নুরুকে দেখতে পেয়ে রূপমা বলল-
- আরে ভাইজান আপনি! এইখানে আইসা বহেন। আমি ওনারে ডাইকা দিতাসি। ( বাড়ান্দায় নুরুকে বসার জন্য মোড়া দিতে দিতে বললো)
এই বলে রূপমা নুরুর সামনে দিয়ে উঠানের অন্যপাশে থাকা ছোট একটি টিনের ঘরের দিকে যায়। নুরু ঘরের সামনের বাড়ান্দায় গিয়ে বসে। কিছুক্ষন পরেই রূপমা ফিরে এসে নুরু কে বলল-
- একটু বহেন ভাইজান। ওনি আইতাছে।
- আচ্ছা।
মুচকি হাঁসি দিয়ে প্রস্থান করলো রূপমা। কিছুক্ষন পরেই উঠানের অন্য পাশের ছোট টিনের ঘর টা থেকে কোঁকড়া বাবড়ি চুল আর চাপ দাঁড়ি ওয়ালা এক যুবক বের হয়ে আসে। পরনে তার কালো রঙের লুঙ্গি আর কালো পাঞ্জাবি। হাতের মধ্যে বিভিন্ন রঙের সুতো বাঁধা। সুঠাম দেহের অধিকারী সেই যুবক টি নুরুর সামনে এসে দাঁড়ায়!
- আদাব! কেমন আছেন ভাইজান। (শ্যামল)
- আদাব! একটা সমস্যায় পড়ছি রে। যার কারনে তোর কাছে আইলাম। (নুরু)
- কি সমস্যা কন আমারে। (শ্যামল)
নুরু কিছু বলতে যাবে এমন সময় রূপমা দুইজনের জন্য চা আর বিস্কিট নিয়ে হাজির হয়। রূপমা কে দেখে চুপ হয়ে যায় নুরু। রূপমা চা দেওয়ার সময় নুরু মুচকি হেঁসে বলল, 'এসবের কি দরকার আছিলো'। রূপমা নুরুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে চলে যায় ভিতরে। রূপমা যাওয়া মাত্রই নুরু চায়ে চুমুক দিতে দিতে বললো-
- তোর বউ টা অনেক আদব কায়দা বুঝে। ওরে যত্নে রাখিস।
- দোয়া কইরেন ভাইজান।
- দোয়া তো সবসময় করি।
চায়ের কাপটা পাশের চেয়ারের উপর রাখতে রাখতে শ্যামল বলল, 'তো ভাইজান, কি জানি কইতে নিছিলেন'।
নুরু চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে কাপটা পাশে রেখে দেয়। কিছুক্ষন মাথা নিচু করে নিশ্চুপ থেকে তারপর এই পর্যন্ত ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনা খুলে বলে।
- ভাইজান! আপনে তো বড়সড় বিপদে পড়ছেন। আপনি যেই জ্বীনের খপ্পরে পড়ছেন এইডা তো আপনারে একেবারে শেষ না কইরা ছাড়বো না।
- ওইটা আমারে তিনটা শর্ত দিছে, এগুলা পূরন করলে নাকি ছাইড়া দিবো কইছে।
- কি কি শর্ত দিছে কন তো ভাইজান।?
- প্রতিদিন মাছ দেওন লাগবো একটা কইরা, আর দুইটা খাশি দিতে হইবো।
- আর?
- আমার একটা প্রিয় জিনিস হেরে দিতে হইবো।
- কোন প্রিয় জিনিস হেইডা কিছু কইছে?
- না কয় নাই। সময় হইলে নাকি কইবো।
নুরুর কথা শুনে শ্যামল দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল, ' হুনেন ভাইজান! আপনেরে এই বদ জ্বীনে যা যা শর্ত দিছে এর একটাও পূরন করনের দরকার নাই। আপনি সব শর্ত পূরন করলেও এইডা আপনের পিছা ছাড়বো না। আর আমি নিশ্চিত এই বদ জ্বীন হের তিন নাম্বার শর্তে ভাবির পেটের বাচ্চা টা রে চাইবো। আমরা যদি এখনই কিছু করতে যাই, তাইলে ভাবির সাথে সাথে পেটের বাচ্চাটার ও ক্ষতি হইতে পারে। তাই খুব সাবধানে কাজ করতে হইবো আমাগো। আমি আপাদত আপনেরে একটা তাবিজ দিয়া দিতাছি এইডা সবসময় সাথে রাখবেন। আর ভাবিরে কইবেন এক মিনিটের জন্যও যেনো না খুলে এই তাবিজ। আর বাকিটা ভাবির বাচ্চা হওয়ার পরে দেখা যাইবো।"
"ঠিক আছে! কিন্তু কোনো ক্ষতি হইবো না তো?" জিজ্ঞাসু ভঙ্গিতে বললো নুরু। "আমি থাকতে আপনে কোনো টেনশনই কইরেন না। শুধু যা যা কই সব ঠিক ভাবে করেন। আর ভাবিরেও করতে কন দেখবেন কিচ্ছু হইবো না আপনাগো।" আশ্বাস দিয়ে বললো শ্যামল।
"তুমি যেমনে কইবা এমনেই করমু সব" বলল নুরু।
"দাড়ান আমি তাবিজ গুলা নিয়া আইতাছি।" এই বলে নুরুর সামনে থেকে উঠে উঠানের অন্য পাশের ছোট ঘরটায় চকে যায় শ্যামল। নুরু তার ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করছে৷ কিছুক্ষন পরে, হাতে কিছু তাবিজ নিয়ে ফিরে আশে শ্যামল। নুরুর হাতে মোট তিনটা তাবিজ দেয় শ্যামল। নুরু, মালতী এবং নুরুর ছেলে মহিনের জন্য। তাবিজ দেওয়ার পর শ্যামল আরোও বললো, "এই তাবিজ তিনটা আপনাগো তিনজনে সবসময় লগে রাখবেন। খাওয়া দাওয়া, ঘুম, গোসল সবসময়। এক মূহুর্তের জন্যও খুলবেন না। আপনে যখন হের দেওয়া শর্ত পুরন করবেন না, তখন এই জ্বীন ভাবির শরীরে ঢুকতে চাইবো, ভাবির ক্ষতি করতে চাইবো। কিন্তু এই তাবিজ থাকলে পারবো না। আর যখন আপনাগো কারোই কোনো ক্ষতি করতে পারবো না তখন আপনাগো রে ভয় দেখাইবো। কিন্তু এতে ভয় পাইয়েন না। আপনাগোরে শুধু ভয় ই দেখাইতে পারবো কিন্তু কোনো ক্ষতি করতে পারবো না৷ আর তাবিজ খুলার জন্য নানারকম ফন্দি করবো, কিন্তু যাই করুক এই তাবিজ কখনোই খুলবেন না।আর কোনো সমস্যা হইলে সাথে সাথে আমারে ডাক দিবেন"
শ্যামলের কথামতো তাবিজ নিয়ে প্রস্থান করে নুরু৷ বাড়িতে গিয়ে মালতী কে সব বুঝিয়ে বলে সে। তার ছেলে মহিন কেও একই কথা বুঝিয়ে দেয়া হয়।
এভাবে কেটে যায় অনেক দিন। শর্ত পূরন না করায় সেই জ্বীন বিভিন্ন ভাবে নুরু এবং তার স্ত্রীর ক্ষতি করার চেষ্টা করে কিন্তু অসফল হয়। তবে পিছু ছাড়েনি আর কখনো ছাড়বেও না এই ব্যাপারেও হুমকি দিয়েছে নুরুকে। শারিরীক ভাবে কোনো ক্ষতি করতে না পেরে মানষিক ভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা চালায় সেই জ্বীন। শুরু হয় ভয় দেখানোর অত্যাচার। প্রতিদিন রাতে নুরুর ঘরের টিনের চালে কারো লাফানোর আওয়াজ পাওয়া যায়।
কখনো ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করা, সন্ধ্যা বেলায় ঘরের সামনের বড় কড়ই গাছ টায় গলায় দড়ি দিয়ে কাওকে ঝুলতে দেখা আরো বিভিন্ন ধরনের ভয়ানক গতিবিধি লক্ষ্য করে নুরু।
একদিন নুরুর গ্রামে বি*ষ খেয়ে আত্ম*হত্যা করে মারা যায় হিমেল নামের এক যুবক। তাকে দাফন করা নিয়ে শুরু হয় অনেক ঝামেলা। মুরুব্বিদের একটাই কথা আত্ম*হত্যা করা কারো লা*শ এই গ্রামের কবরস্থানে দাফন করতে দেয়া হবে না। শেষে উপায় না পেয়ে পারিবারিক জায়গার উপর দাফন কার্য শেষ করা হলো তার! সেখানে নুরু ও উপস্থিত ছিলো। পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে সে ঘটনা। আত্ম*হত্যা করে মারা গেলে যা হয়। সেই ঘটনার কিছুদিন পরে নুরুর স্ত্রী মালতীর সাথে ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। নুরু সেদিন তার কিছু জরুরি কাজ সেরে বাজার থেকে ফিরছিলো, বাড়িতে মালতী আর তাত ছেলে মহিন একাই ছিলো।
তখন রাত ১০ টার মতো। গ্রাম অঞ্চলে রাত দশ টা মানে গভীর রাত। তখন আশেপাশের সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে চারপাশে। সেদিন নুরি আসতে দেরি হচ্ছিলো তাই মালতী ছেলেকে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। আর সে বিছানার উপর হেলান দিয়ে শুয়ে ছোট বাবুদের জন্য কাঁথা সেলাই করছিলো। ঘরের দরজা অনেক আগেই লাগানো হয়েছে। বাড়িতে একা মহিলা বলে কথা। এমন সময় খাটের নিচে কিছু একটার নড়াচড়া শুনতে পায় মালতী। হয়তো ইঁদুর বা বিড়াল হবে ভেবে তেমন পাত্তা দেয় না মালতী। সে আবার কাঁথা সেলাইয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষন পরেই সে খাটের নিচ থেকে কিছু একটা টেনে হিচড়ে নিলে যেমন আওয়াজ হয় সেরকম একটা আওয়াজ শুনতে পায়। এবার সে কিঞ্চিৎ ভয় পেতে শুরু করে। তার স্বামীর বলা কথা তার মনে আছে। তাই সে কোনোভাবেই খাট থেকে নামছে না। হঠাৎ খাটের নিচ থেকে হাঁটুর উপর ভর দিয়ে একটি ছেলে বের হয়ে আসে। শরীরে কাফনের সাদা কাপড় পড়া। মালতীর দিকে তাকাতেই ভয় পেয়ে যায় মালতী। এটা হিমেল!! যে কিছুদিন আগেই বি*ষ খেয়ে আত্ম*হত্যা করেছে। সে কাফনের কাপড় পড়া, নাকে তুলা দেওয়া অবস্থায় মালতী যে খাটে বসে ছিলো তার নিচ থেকে বের হয়ে আসে। বের হয়েই মালতীর উদ্দেশ্যে বললো, "একটু পানি খাওয়াইবা মালতী ভাবি! আমার অনেক পিপাসা লাগছে"!!
একই গ্রামের হওয়ায় হিমেল মালতী কে চিনতো! ঠিক এভাবেই মালতী ভাবি বলে ডাকতো তাকে।
এমন অবস্থায় খাটের নিচ থেকে মৃত হিমেল কে বের হতে দেখায় মালতী ভয়ের চরম সীমা অনুভব করে। তার সারা শরীর দিয়ে যেনো ভয়ের কারেন্ট বয়ে যায়। মালতী তৎক্ষনাৎ এক চিৎকার দিয়ে খাট থেকে নেমে যায়। সে দৌড়ে সোজা তার ছেলে যে ঘরে ঘুমিয়ে আছে সেখানে যায়। তার চিৎকারে তার ছেলের ও ঘুম ভেঙে গেছে। হিমেল তখনও হাঁটু তে ভর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলো মালতীর দিকে। মালতী শক্ত করে তার ছেলে কে জড়িয়ে ধরে মনে মনে যতো সূরা আছে পড়তে লাগলো। মালতীর ছয় বছরের ছেলেও এই ঘটনা দেখে চিৎকার ক্ল্রে কেঁদে যাচ্ছে। আর হিমেল ক্রমশ মালতীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার মুখে একটাই কথা, " একটু পানি খাওয়াইবা ভাবি!! আমার অনেক পিপাসা লাগছে"। শেষে উপায় না পেয়ে মালতী তার ছেলেকে নিয়ে দরজা খুলে বাহিরে দৌড় দেয়। সে গর্ভবতী হওয়ায় দৌড়ানো সম্ভব হচ্ছিলো না তার পক্ষে। তাড়াহুড়ো করে হাঁটতে থাকে তাদের পাশের বাড়ির দিকে। আর বার বার পেছন ফিরে দেখতে থাকে। এমন সময় হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে নেয় মালতী....(চলবে)
(গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই পেজটি ফলো দিয়ে দিবেন!🫶)
[ Nice / Next না লিখে গঠনমূলক মন্তব্য করুন। গল্পটি কেমন লেগেছে আপনাদের তা কমেন্টে জানান। কেমন হলে আরেকটু ভালো হতো সে ব্যাপারেও পরামর্শ দিতে পারেন। কারো রাতের ঘুম হারাম করতে চাইলে তাকে মেনশন দিয়ে দিন :)]
#নিশি_ডাক (পর্ব:০২)
#আওসাফ_সাদিক