Sadik's Horror Kingdom

Sadik's Horror Kingdom সাদিকের ভৌতিক জগতে আপনাদের স্বাগতম।

10/09/2024

অনেক দিন হলো গল্প লিখি না। উৎসাহ পাচ্ছি না লিখার।

গল্প: নিশি ডাক (পর্ব:০৫)লেখক: আওসাফ সাদিক_________________"বাবু ব্যাডা মানুষ! হের এতটুকু তে কিছু হইবো না। খবরদার ঘরের ভি...
06/12/2023

গল্প: নিশি ডাক (পর্ব:০৫)
লেখক: আওসাফ সাদিক
_________________

"বাবু ব্যাডা মানুষ! হের এতটুকু তে কিছু হইবো না। খবরদার ঘরের ভিতর যদি কেউ কান্নাকাটি করছো। আর সবাই যার যার বাড়িত যাও। এইখানে কি সিন্নি দেওয়া হইতাসে নাকি যে দাঁড়ায়া আছো। সবাই যাও। " বলেই হন হন করে বের হয়ে গেলেন জয়নাল আহমেদ। তার পিছু পিছু নরেন বদ্দি ও বের হয়ে গেলেন।

'আমাগো বাড়ির পাশের রাস্তাটায় যেখানে তেঁতুল গাছ টা আছে ওই জায়গা টা খারাপ, আমার মনে হয় অইখানেই কিছু একটা হইছে বাবুর'

'ধুরু মিয়া, তুমি আছো তেঁতুল গাছ নিয়া। এগুলা ভূত-প্রেত বলতে কিছু হয় না। তুমি তো শিক্ষিত মানুষ, তোমার মুখে এসব কথা মানায় না বদ্দি মশাই'

'দ্যাখেন জয়নাল বাবু, কিছু জিনিস দেখা যায় না ঠিক আছে কিন্তু হের মানে এই না যে হেইডার অস্তিত্ব নাই। আমাগো শিমুলগাছায় এই তেঁতুল গাছ নিয়া অনেক কাহিনি রইটা আছে সব তো আর ভূয়া হইবার পারে না'

'আজকাল গেরামের মানুষ গুলারে অন্ধবিশ্বাসে ধইরা বইছে, একটু দেখলে আরেকটু বানায়া কয়। এইগুলার কোনো মানে নাই। আমি বাবুরে শহরে নিয়া ডাক্তার দেখামু'

'জয়নাল বাবু আপনি ভুল করতাছেন। এইটা কোনো রোগ না যে ডাক্তার দেখাইলেই ঠিক হইয়া যাইবো। বাবুরে আছড় করছে, এইডা কোনো কবিরাজই শুধু ঠিক করতে পারবো'

'বাবু আমার পোলা! ওরে কেমনে সুস্থ করানো লাগে আমি দেখমু। তোমাগো মাথা ঘামাইতে হইবো না।'

'ঠিক আছে মশাই! আমার যতটুকু কওয়ার আমি কইসি, এহন বাকিডা আপনের ইচ্ছা। আমি তাইলে যাই!'

'হ এইডাই ভালো হইবো। তুমি আমার পোলাডার লাইগ্যা যতটুকু করছো হেইডাই অনেক৷ বাকিডা আমি দেইখা লমু। তুমি বাড়িত যাও'

'আদাব!'
বলেই বিদায় নিলো নরেন বদ্দি।

____

জয়নাল আহমেদ বাবুকে শহরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন! মালতী আর তার মা সফুরা বেগম এর বাঁধা দেওয়া সত্ত্বেও জয়নাল আহমেদ নিজের কথায় অনড় রইলেন। তিনি একবার মুখ দিয়ে বলে দিলেন তো দিলেন! এবার যাই হয়ে যাক তিনি তার কথা থেকে এতোটুকুও সরবেন না। জয়নাল আহমেদ এর ধারনা তিনি এতো বছর নিজের সিদ্ধান্তে তার পরিবার এবং ব্যাবসা সামলে এসেছেন, এখন যদি একবার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরও অন্য কারো পরামর্শে সেটা পরিবর্তন করা হয় তাহলে তা ওনার আত্মসম্মান কমিয়ে দিবে। তবে জয়নাল আহমেদ জানতেন না, 'প্রয়োজনের অধিক অতিরিক্ত আত্ম সম্মান কখনো সুফল বয়ে আনে না'। আর হলোও সেটাই!

পরদিন বাবুর জ্ঞান ফিরে, তবে তার শরীর এতোটাই দূর্বল হয়ে যায় যে সে উঠে দাঁড়াতেও পারে না। এমতাবস্থায় বাবুকে শহরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলে জয়নাল আহমেদ!

' বাবুরে কোনো ডাক্তার ঠিক করতে পারবো না আব্বা! আগের দিন রাইতে যে বাবু কতো কইরা কইলো ওইখানে যাইবো না, তেঁতুল গাছে খারাপ জিনিস আছে হেইডা তো আপনি হুনলেন না। এহন বাবুর সাথে যা হইছে এইডা কি ডাক্তারের ওষুধে ঠিক হইবো?'

মালতী কে এমন উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখে থ হয়ে যান জয়নাল আহমেদ। তার একমাত্র কন্যা কখনো তার মুখের উপর কথা বলেনি, আর আজ এভাবে কথা বলছে!

জয়নাল আহমেদ চোখ রাঙিয়ে তাকায় মালতীর দিকে। মালতী ও চোখ সরাচ্ছে না। সে জানে, সে ভুল কিছু বলেনি। তার আদরের ছোট ভাই এর ক্ষতি সে কিছুতেই হতে দিবে না।

মালতীর এমন ব্যাবহার দেখে রাগে ফোঁসফোঁস করতে থাকেন জয়নাল আহমেদ।

' বেশি বড় হয়ে গেছোস ছেড়ি! তোর মায় ই আমার মুখের উপর কথা কয় নাই কোনোদিন আর তুই গলা উঠাইয়া কথা কস',

জয়নাল আহমেদ এর ধমকে আত্মা কেঁপে উঠে মালতীর। সাথে সাথে চোখ বেয়ে নেমে আসে জল।
আর কিছু বলার সাহস পায় না মালতী।

পরেরদিনই বাবুকে নিয়ে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় জয়নাল আহমেদ। তুহিন সঙ্গে যেতে চাইলেও নেয়া হয়নি তাকে, কারন বাড়িতে একজন পুরুষ মানুষের থাকা অত্যান্ত জরুরি। তার বদলে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের ফার্মেসি ডাক্তার পরিমল কে।
পরিমল ডাক্তার জয়নাল আহমেদ এর খাস বন্ধু। মূলত তার পরামর্শেই বাবুকে শহরে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত নেন জয়নাল আহমেদ।

বাবু একা একা হাঁটতে পারছে না। তার বড় ভাই তুহিনের কাঁধে ভর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে সে। নদীতে ট্রলার অপেক্ষা করছে তার জন্য। বাবু শহরে যাবে তা দেখার জন্য নদীর পাড়ে জড়ো হয় তার সমবয়সী সব বাচ্চা রা। আশেপাশের মানুষ ও ঘটনা দেখার জন্য জড়ো হয় সেখানে। বাবু আর তুহিনের পেছন পেছন ই হেঁটে যাচ্ছে জয়নাল আহমেদ এবং পরিমল ডাক্তার। আর তাদের পেছনেই রয়েছে সফুরা বেগম আর মালতী। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ থেমে যায় বাবু। তুহিনের কাঁধে ভর দিয়েই পেছন ফিরে তাকায় সে।

'কিরে বাবু! কি হইছে?'

'আব্বা আপনেরা আগান, আমি একটু বুবুর সাথে কথা কইয়া আইতাসি'

বাবুর কথায় সম্মতি দিয়ে হাঁটা শুরু করেন জয়নাল আহমেদ। তুহিনের কাঁধে ভর দিয়ে মালতীর দিকে এগিয়ে যায় বাবু।

'বুবু কান্দিস না, আমার কিসসু হইবো না। আব্বা কইসে কয়দিন পরেই নাকি ভালা হইয়া যাইমু।'

'হ আব্বা ঠিক ই কইসে। তোর আবার কি হইবো! তুই তাড়াতাড়ি ভালা হইয়া ফিরা আয়, তুই সুস্থ হইয়া আইলে তোর প্রিয় আমের আঁচার বানাইয়া দিমু'

'সত্যি বুবু?'

' হ সত্যি'

'খালি বাবুরেই দিবি, আমারে দিবি না শিমু?' (মজার ছলে বললো তুহিন)

'আইচ্ছা দিমুনে'

মালতীর সাথে কথা শেষে সফুরা বেগম এর কাছে গেলো বাবু!

'কাইন্দো না আম্মা! আমি কয়দিন পরেই আইয়া পরমু'

'সাবধানে যাইস বাবা, আর কিছু দরকার হইলে তোর আব্বারে কইস। আর একটুও ভয় পাইস না, তোর কিছু হইবো না।'

বাবুর চুল ঠিক করতে করতে বললেন সফুরা বেগম!

বিদায় নেয়া শেষে বাবু হাঁটা শুরু করে ট্রলারের উদ্দেশ্যে।

বাড়ির পেছন দিকে অল্প হাঁটলেই নদীর ঘাট। তাই বেশিদূর হাঁটতে হয়নি বাবুকে। কয়েকজন মিলে তাকে ট্রলারে উঠাচ্ছে তা ঘাট থেকে কিছুটা দূরে গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে দেখছে সফুরা বেগম আর মালতী। আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে কাঁদছেন সফুরা বেগম। মালতী এক নজরে তার ভাই এর দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখ থেকেও গড়িয়ে পড়ছে জল, শুধু বুঝা যাচ্ছে না ভেতরের আর্তনাদ!

কিছুক্ষন এর মধ্যেই বিকট শব্দ করে ট্রলারের ইঞ্জিন চালু দেওয়া হয়। মালতী নীরব হয়ে তাকিয়ে আছে সেদিকে। আস্তে আস্তে দৃষ্টি সীমানা থেকে হারিয়ে যায় ট্রলারটি। বাবু শহরে চলে যাচ্ছে। আর কখনও কি দেখা হবে তার সাথে? আর কখনোও কি 'বুবু' বলে ডাকবে মালতী কে? কখনও কি আর সেই আগের মতো এসে বায়না করবে আঁচার খাওয়ার? এসব ভাবতে ভাবতে গাল বেয়ে দু'ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পড়লো মালতীর!...(চলবে)

[ গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই পেজটি ফলো দিয়ে দিবেন। রানিং গল্প কেউ কপি করবেন না। গল্পটি কেমন লাগছে আপনাদের কাছে তা কমেন্ট বক্সে জানান। সবগুলো পর্ব পেতে আমাকে ইনবক্স করুন অথবা পেজ থেকে ঘুরে আসুন। ধন্যবাদ! ]

#নিশি_ডাক (পর্ব:০৫)
#আওসাফ_সাদিক

গল্প: নিশি ডাক (পর্ব:০৪)লেখক: আওসাফ সাদিক_________________দৌড়াতে দৌড়াতে সেই বদ্দি বাড়ির সামনে গিয়ে পড়ে বাবু। কাওকে দৌড়ে ...
03/12/2023

গল্প: নিশি ডাক (পর্ব:০৪)
লেখক: আওসাফ সাদিক
_________________

দৌড়াতে দৌড়াতে সেই বদ্দি বাড়ির সামনে গিয়ে পড়ে বাবু। কাওকে দৌড়ে আসতে দেখে বাড়ির ভেতর থেকে তাড়াতাড়ি উঠোনের দিকে তেড়ে আসেন নরেন বদ্দি। গ্রামবাসী তাকে নরেন দা বলে ডাকে। বাবু দৌড়ে এসে তার সামনে পড়ে যায় নিচে। নরেন বাবু কে উঠানোর চেষ্টা করছে এমন সময়ই জ্ঞান হারায় বাবু।
___

সারা বাড়িতে মানুষের ভিড়, বাবু কে বিছানায় শুইয়ে রাখা হয়েছে। এখনো জ্ঞান ফিরেনি বাবুর। সফুরা বেগম বাবুর পাশে বসে বিলাপ করে কান্না করছেন। মালতী তার মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে, তার চোখ বেয়েও গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু! তার প্রিয় ভাই এর এই অবস্থা তাকে কেমন ঘোরের ভেতর নিয়ে গেছে। জয়নাল আহমেদ বাড়ান্দায় বসে নরেন বদ্দির সাথে কথা বলছেন।

"কি হইছে তা তো কইবার পারি না দাদা, তয় পোলাডা দৌড়াইতে দৌড়াইতে আমার সামনে আইয়া হুমড়ি খাইয়া পড়সে। আমি উঠাইতে গিয়া দেখি অজ্ঞান হইয়া গেছে।"

জয়নাল আহমেদ মনে মনে গতকাল রাতের কথা স্মরণ করলেন! যখন বাবু তাকে তেঁতুল গাছ টার কথা বলছিলো; তখন সেটা তার নেহাতই বানোয়াট মনে হচ্ছিলো। এখনো বিষয় টা কে বিশ্বাস করতে পারছে না জয়নাল আহমেদ।

" হুনো নরেন বাবু! তুমি তো বদ্দি মানুষ। পোলাডা রে দেইখা কইবার পারো না যে কোনো অসুখ বিসুখ হইছে নাকি?"

"না মশাই! পোলার কোনো অসুখ বিসুখ হয় নাই। আপনি যাইয়া পোলাডার পিডের দিকে চাইয়া দেখেন। তাইলেই বুঝবেন কি হইসে।"

"কেন কি হইছে অর পিডে?"

কথাটা বলেই জয়নাল আহমেদ বিড়িতে শেষ টান দিয়ে ফেলে সোজা ঘরের ভেতর প্রবেশ করলেন। পিছন পিছন নরেন বদ্দি ও গেলো। জয়নাল আহমেদ কে দেখে ঘরের ভেতর থাকা মানুষেরা কিছুক্ষনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলো। পাড়ার সবাই জানে জয়নাল আহমেদ এর রাগের ব্যাপারে। তার উপর কেউ কথা বলতেও সাহস পায় না।
ঘরে এতো ভিড় দেখে জয়নাল আহমেদ ধমক দিয়ে উঠলেন সবাইকে। জয়নাল আহমেদ এর ধমকে ঘরের সবাই আস্তে আস্তে বাইরে সরে আসলো।

জয়নাল আহমেদ কে দেখে সফুরা বেগম জয়নাল আহমেদ এর পাঞ্জাবি টেনে ধরে বিলাপ শুরু করলো।

" আল্লাহ রে, কি হইলো আমার পোলাডার! আপনের লাইগা হইসে। সব আপনের দোষ। পোলাডা কতো কইরা কইতাসিলো যাইবো না আপনে জোড় কইরা পাডাইসেন।" বলেই অঝরে কান্না করতে শুরু করলেন সফুরা বেগম!

"সরো বেডি! তোমার পোলার কিসসু হইবোনা।" ধমকের সুরে বললেন জয়নাল আহমেদ।

সফুরা বেগম কে সরিয়ে বাবুর পাশে গিয়ে বসলেন জয়নাল আহমেদ। বাবুকে এক সাইডে কাত করে তার পিঠ দেখার চেষ্টা করলেন তিনি। পিঠের কাপড় উঠাতেই আঁতকে উঠে উপস্থিত সবাই। বাবুর পিঠে লম্বা লম্বা তিন আঙুলের স্পষ্ট কালো ছাপ! সজোড়ে কেউ থাপ্পড় মারলেও এতো ঘন দাগ পড়ার কথা নয়। পিঠের দাগ দেখেই চিৎকার করে উঠে সফুরা বেগম! তার কান্নার বেগ বেড়ে যায় দ্বিগুণ।
মালতী আর তুহিন তার মা কে সামলানোর চেষ্টা করছে, এমন কোলাহলে বিরক্ত হয়ে হুংকার মেরে উঠলেন জয়নাল আহমেদ।
বাড়ান্দায় দাঁড়ানো পাড়ার লোকেরা বিভিন্ন কথা বলাবলি করছে। কেউ বলছে মারপিট করে এসেছে বাবু। আবার কেউ বলছে জ্বীনে ধরেছে।

বাবুর এমন অবস্থা থেকে খানিক চিন্তিত হয়ে পড়লেন জয়নাল আহমেদ।

"বাবু ব্যাডা মানুষ! হের এতটুকু তে কিছু হইবো না। খবরদার ঘরের ভিতর যদি কেউ কান্নাকাটি করছো। আর সবাই যার যার বাড়িত যাও। এইখানে কি সিন্নি দেওয়া হইতাসে নাকি যে দাঁড়ায়া আছো। সবাই যাও। " বলেই হন হন করে বের হয়ে গেলেন জয়নাল আহমেদ। তার পিছু পিছু নরেন বদ্দি ও বের হয়ে গেলেন।... (চলবে)

02/12/2023

প্রতিবার তোমারে দেখিবার লাগিয়া যদি
এক প্রহর করিয়া আয়ু কাটিয়া নেওয়া হয়!
তবে নির্দ্বিধায়, তোমারে দেখিবার লাগিয়া আমার সবটুকু আয়ু খরচ করিয়া ফেলিবো, আমি তোমারে দেখিতে দেখিতেও তোমারে দেখিবার এক সমুদ্দুর তেষ্টা লইয়া মৃত্যু বরণ করিবো।

- আওসাফ সাদিক

গল্প: নিশি ডাক (পর্ব: ০৩)" একটু পানি খাওয়াইবা ভাবি!! আমার অনেক পিপাসা লাগছে"। শেষে উপায় না পেয়ে মালতী তার ছেলেকে নিয়ে দর...
30/11/2023

গল্প: নিশি ডাক (পর্ব: ০৩)

" একটু পানি খাওয়াইবা ভাবি!! আমার অনেক পিপাসা লাগছে"। শেষে উপায় না পেয়ে মালতী তার ছেলেকে নিয়ে দরজা খুলে বাহিরে দৌড় দেয়। সে গর্ভবতী হওয়ায় দৌড়ানো সম্ভব হচ্ছিলো না তার পক্ষে। তাড়াহুড়ো করে হাঁটতে থাকে তাদের পাশের বাড়ির দিকে। আর বার বার পেছন ফিরে দেখতে থাকে। এমন সময় হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে নেয় মালতী।

পড়ে যাওয়ার আগেই যেনো দুটি বিশ্বস্ত হাত শক্ত করে ধরে ফেলে তাকে। নুরু কে দেখেই মালতি শক্ত করে জড়িয়ে ধরে, ভেতরের সবটুকু ভয় যেনো কান্না হয়ে বের হতে চাইছে। ঘটনার আকস্মিকতায় নুরু ও চমকে যায়।
মালতী হাঁপাতে হাঁপাতে কান্না ভেঁজা স্বরে সব টা খুলে বলে নুরুকে। নুরু এবার বুঝতে পারে, তাবিজ থাকার কারনে শারিরীক কোনো ক্ষতি না করতে পারলেও এভাবে ভয় দেখিয়ে ক্ষতি ঠিকই করতে পারবে অশরীরী টি। পরিস্থিতি সামলে নিয়ে নুরু তার বউ বাচ্চা নিয়ে আবার ঘরে ঢুকে। ঘর একদম ফাঁকা। কিছুক্ষন আগে এখানে কতকিছু হয়ে গেলো অথচ দেখে বুঝার কোনো উপায়ই নেই। নুরু মনে মনে অতিষ্ট হলো। তার গর্ভবতী স্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত সে। এবার কিছু একটা করতে হবেই।
___

উঠানে ছোট ছোট ছেলেদের সাথে খেলা করছে মহিন। মালতী তার মা সফুরা বেগমের সাথে বাড়ান্দায় বসে ছোট মাছ এবং সবজি কাটছে। প্রায় অনেক দিন পরে বাপের বাড়িতে এসেছে সে, অবশ্য এই সময়টায় তার বাপের বাড়িতেই থাকা উচিৎ। মালতীর প্রসবের সময় ঘনিয়ে এসেছে, এই ভেবে নুরু তার ছেলে এবং স্ত্রী কে তার বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এতে যেভাবে তার স্ত্রী সন্তানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলো তেমনি করে যত্ন-আত্মির কোনো কমতি থাকবে না মালতীর। গর্ভকালীন সময়ে একটি মেয়ের যতটুকু যত্ন প্রয়োজন তা কখনো তার বাপের বাড়ি ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না।

"কিরে শিমু তোর গলায় এই তাবিজ ঝুলানো কেরে?"
মায়ের মুখে শিমু নাম টা শুনে আঁতকে উঠে মালতী! কিঞ্চিৎ গুমরো মুখ করে জবাব দেয়, "তোমারে না কয়বার কইছি আমারে এই নামে ডাকবা না।"

"বোকা মাইয়া, নাম তো নাম ই। একটা ডাকলেই হইলো!" নরম স্বরে মুচকি হেঁসে বললেন সফুরা বেগম।

"যেইডাই হোক, এই নাম আমার পছন্দ না। আমি কি এখনও ছোট আছি যে এই নামে ডাকবা?" মালতীর কণ্ঠে অভিমান ফুঁটে ওঠে।

সফুরা বেগম একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন, "তোর বাফের উপরে এখনো এতো রাগ?"

কোনো জবাব দিলো না মালতী। নিস্তব্ধতা ছেয়ে গেলো দুজনের মধ্যে।

শিমু নামটা মালতীর বাবার দেওয়া। মালতী ছোট থেকেই অনেক সুন্দরী হওয়ায় অজপাড়াগাঁ এর অনেকের ই নজর পড়ে মালতীর উপর। মালতীর বাবা জয়নাল আহমেদ ছিলেন খুবই রাগী মানুষ।
এক মেয়ে ও তিন ছেলে নিয়ে ছিলো জয়নাল আহমেদ এর সংসার। এলাকায় অর্থসম্পদ ভালো থাকায় প্রভাব প্রতিপত্তি ও ছিলো তেমন। জয়নাল আহমেদ ছিলেন ব্যাবসায়ী মানুষ। গঞ্জে অনেক বড় মিষ্টির ব্যাবসা ছিলো তার। ব্যাবসার কাজ সেরে বাড়ি ফিরতে প্রায়ই অনেক রাত হতো। তিনি তার বড় ছেলে রানা কেও তার সাথে সাথে রাখতেন। ফলে বাড়িতে থাকতো সফুরা বেগম, মালতী আর তার দুই ভাই তুহিন এবং বাবু।

তুহিন মালতির মেঝো ভাই আর বাবু সবার ছোট। জয়নাল আহমেদ রানা কে সবসময় নিজের সাথে সাথে রাখতেন। ফলে ব্যাবসার কাজে একদিন শহরে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ায় রানা কে শহরে পাঠিয়ে দেন। তাই কিছুদিনের জন্য বাবু কে রানার অবর্তমানে মিষ্টির দোকানের কাজ সামলানোর জন্য রাখা হয়। যেহেতু তুহিন মেঝো ছেলে তাই বাড়ির নিরাপত্তার জন্য তাকে বাড়িতেই থাকতে বলা হয়। বাড়িতে পুরুষ মানুষ না থাকলে যেকোনো ধরনের সমস্যা হয়ে যেতে পারে, এমনকি চুরি/ডাকাতি ও। সেই স্বার্থে জয়নাল আহমেদ তুহিন কে বাড়িতেই রাখেন। তিনি এক কথার মানুষ। তার কথার বরখেলাপ তিনি পছন্দ করেন না একদমই। তাই ওনার কথাই বাড়িতে শেষ কথা হিসেবে বিবেচিত হয়। একদিন বাবুর উপর দায়িত্ব পড়ে শিমুলগাছা (নুরু যে গ্রামে বসবাস করে) গ্রামের একটা বাড়িতে দুই কেজি মিষ্টি পৌছে দেওয়ার। বাবার হুকুমে বাধ্য ছেলের মতো বাবু মিষ্টি নিয়ে রওনা হয় শিমুলগাছার উদ্দেশ্যে। যএ বাড়িতে মিষ্টি পৌছে দিবে তার ঠিকানা কাগজে লিখে নিয়ে আসে সে। আগে কখনো আসেনি তাই এই গ্রামের তেমন কিছু চিনেও না সে। বাবু কাউকে বাড়ির ঠিকানা টা জিজ্ঞেস করবে করবে ভেবে হেঁটে যাচ্ছে কিন্তু আশেপাশে কাউকে দেখতে পাচ্ছে না। কিছুদূর হাঁটতেই একজন মধ্যবয়সী লোকের দেখা পায় সে! বাবু ছুটে তার কাছে যায়।
"এই যে কাকু, বদ্দি বাড়ি টা কোন দিকে কইতে পারেন?"

" বদ্দি বাড়ি! এইতো সোজা যাইয়া ডাইনে গেলেই একটা কালভার্ট দেখবা, হেইডা ধইরা একটু সামনে গেলেই দেখবা পুরান একখান বাড়ি! ওইটাই বদ্দি বাড়ি" বলেই প্রস্থান করলো লোকটি।

লোকটির কথানুযায়ী বাবু বদ্দি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। হাঁটতে হাঁটতে সেই কালভার্টের সামনে এসে সোজা একটা রাস্তা দেখতে পায় বাবু, যার দুইপাশে ঘন বাঁশ ঝাড়ে ঘেরা। পুরো রাস্তা একদম নীরব। একটা কাক পক্ষীর ও অস্তিত্ব নেই সেখানে। এই ভরদুপুরে এই রাস্তা দিয়ে যেতে হবে ভেবে একটু অস্বস্তিবোধ করে বাবু। একটা ঢোক গিলে হাতে মিষ্টির ব্যাগ নিয়ে হাঁটতে শুরু করে বাবু। কিছুদূর যাওয়ার পরই পেছন থেকে বাবু কারো আওয়াজ শুনতে পায়!

"বাবু! মিষ্টির ব্যাগ টা এইখানে রাইখা যা।"

এই গ্রামে তার নাম ধরে ডাকার মতো কে থাকতে পারে? এই ভেবে আচমকা পেছন ফিরে তাকায় বাবু।
পেছনে তাকাতেই হতভম্ব হয়ে যায় সে! পেছনে কেউ নেই। শুধু রাস্তার সাইডে ইয়া বড় একটা তেঁতুল গাছ আছে। এই নির্জন দুপুরে এমন একটা রাস্তায় যেখানে বাঁশ ঝাড়ের জন্য সূর্যের আলোও প্রবেশ করতে পারে না ঠিকমতো, এমন শ্যাতশ্যাতে একটা জায়গায় এরকম একটা তেঁতুল গাছ জায়গাটিকে কেমন যেনো ভয়ংকর বানিয়ে তুলছে।

বাবু স্পষ্ট শুনেছে কেও তার নাম ধরে ডেকেছে অথচ পেছনে কেউ নেই। বাবুর বুকের ভেতর ধুকপুক ধুকপুক করা শুরু হয়। সে ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করে, "ক.. ক কে ডাকছে আমারে?" কোনো উত্তর মেলে না। এবার বাবু কোনোভাবে সেখান থেকে প্রস্থান করার উদ্দেশ্যে যেই পেছন দিকে পা বাড়াতে যাবে তখনি সে আবার সেই একই আওয়াজ শুনতে পায়। তবে এবার আওয়াজ টা কোথা থেকে এসেছে তা চট করেই ধরে ফেলে বাবু। সাথে সাথে বড় তেঁতুল গাছটার উপরে তাকায় বাবু! সেদিকে তাকানোটাই বোধহয় বাবুর ভুল হয়েছিলো। তার চোখ একেবারে ছানাবড়া হয়ে যায়। একটা প্রচন্ড কুৎসিত দেখতে বৃদ্ধ তেঁতুল গাছের ডালে বসে আছে। অস্বাভাবিক বিষয় হলো তার আকার! সম্পূর্ণ শরীর মানুষের মতো হলেও সাইজে ছিলো একেবারে পাঁচটা মানুষের সমান। একদম উপরের ডালে বসে থাকার পরেও সেই বৃদ্ধের পা দুটি প্রায় মাটির কাছাকাছি চলে এসেছে।

সেখানে বসেই বৃদ্ধটি বাবুর উদ্দেশ্যে বলছে, " কিরে বাবু! মিষ্টি না দিয়াই চইলা যাবি?"

এসব দৃশ্য দেখে বাবুর ভেতরে মার খেয়ে যায়। সে কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। তাই মিষ্টির ব্যাগ টা সেখানে ফেলেই শুরু করে দৌড়। এক দৌড়ে সোজা বাজারে এসে থামে বাবু।

সেদিন আর মিষ্টি গুলো বদ্দি বাড়িতে পৌছানো হয়নি। এটা জানার পর জয়নাল আহমেদ মাথায় আগুন ধরে যায়। সে বিষয়ে বাবুকে কড়াকড়ি ভাবে জিজ্ঞেস করা হলে বাবু পুরো বিষয় সবাইকে খুলে বলে। তবে বাবুর কথায় জয়নাল আহমেদ এর একটুও বিশ্বাস হয়নি। তিনি ভূত-প্রেতে মোটেই বিশ্বাস করেন না। তার ধারনা বাবু মিষ্টি গুলো নষ্ট করে ফেলেছে অথবা অন্য কোথাও বিক্রি করে টাকা নিয়ে নিয়েছে। এই ভেবে বাবুকে প্রচুর বকাঝকা করা হয়। এবং পরদিন আবার সেখানে মিষ্টি পৌছে দেওয়ার হুকুম দেওয়া হয়। এবার গাফিলতি হলে বাবুর হাঁড় একটাও আস্ত থাকবে না এ বিষয়েও জয়নাল আহমেদ সতর্ক করে দেন বাবুকে। কিন্তু বাবু কোনোভাবেই সেখানে দ্বিতীয় বার যেতে চাইছিলো না। তখনি হুংকার মেরে উঠে জয়নাল আহমেদ। মালতী সহ তার মা আঁতকে উঠে। বাবু ও প্রচুর ভয় পায়। বাবু করুণ দৃষ্টি নিয়ে তার বুবুর দিকে তাকিয়ে আছে। মালতী স্পষ্ট বুঝতে পারছে বাবু সেখানে যেতে খুব ভয় পাচ্ছে। তাই সে জয়নাল আহমেদ কে বুঝানোর জন্য কিছু বলতে নেয়। তখনি জয়নাল আহমেদ তাকে ধমক মেরে শান্ত করে দেন। ধমকে কেঁপে উঠে মালতী। সেদিন কেউ ই জয়নাল আহমেদ এর উপরে কথা বলতে পারেনি।

পরদিন আবার মিষ্টির ব্যাগ নিয়ে শিমুল গাছার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বাবু। যদিও সেখানে যাওয়ার কোনোরকম ইচ্ছেই তার ছিলো না, কিন্তু বাবার হুকুম না মেনেও উপায় নেই। সেখানে গেলে আবার কি হবে না হবে ভেবে ভেতরে ভেতরে ভয় পাচ্ছিলো বাবু। একসময় সেই একই জায়গায় পৌছে যায় সে। বাবু শান্ত ভাবে দাঁড়িয়ে বিচক্ষন ভাবে আশেপাশে ভালোভাবে দেখে নেয়। আগের বারের মতো এবারেও এখানে একটা কাক পক্ষীও নেই। বাবু ধীরে ধীরে সামনে আগাতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে তেঁতুল গাছটার দিকে একনজর তাকায় সে। কেউ নেই। তবুও ভয় হচ্ছে বাবুর। আরেকটু সামনে এগোতেই আবার পেছন থেকে ডাক পরে বাবুর!
"বাবু! মিষ্টির ব্যাগ টা এইখানে রাইখা যা"

পায়ের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত রাজুর শিড়দাড়া দিয়ে ভয়ের কারেন্ট বয়ে যায়। মিষ্টির ব্যাগ কোনোভাবেই এখানে রেখে যাওয়া যাবে না। নয়তো তার বাবা তাকে আস্ত রাখবে না। এই ভেবেই কিছু না ভেবে বাবু মিষ্টির ব্যাগ নিয়েই সজোড়ে দেয় এক দৌড়!
বাবু এক মনে দৌড়াচ্ছে! প্রাণ বাঁচানোর জন্য দৌড়াচ্ছে। দৌড়াতে দৌড়াতে একসময় বাবু তার পিঠে একটা আঘাত অনুভব করে। আঘাত টা এতোটাই শক্তিশালী ছিলো যে বাবু পড়তে পড়তে কোনোভাবে সামলে নেয় নিজেকে। কেও যেনো হাতির সমান শক্তি নিয়ে ঘুষি মেরেছে তার পিঠে। তবুও এখন এসব অনুভব করার সময় বাবুর কাছে নেই। তাকে তার প্রাণ বাঁচাতে হবে। দৌড়াতে দৌড়াতে সেই বদ্দি বাড়ির সামনে গিয়ে পড়ে বাবু। কাওকে দৌড়ে আসতে দেখে বাড়ির ভেতর থেকে তাড়াতাড়ি উঠোনের দিকে তেড়ে আসেন নরেন বদ্দি। গ্রামবাসী তাকে নরেন দা বলে ডাকে। বাবু দৌড়ে এসে তার সামনে পড়ে যায় নিচে। নরেন বাবু কে উঠানোর চেষ্টা করছে এমন সময়ই জ্ঞান হারায় বাবু.... (চলবে)

( গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই পেজটি ফলো দিয়ে দিবেন। তৃতীয় পর্বটি দিতে দেরি হওয়ায় আন্তরিক ভাবে দুঃখিত। কিছু ব্যাক্তিগত সমস্যার কারনে এতোদিন দেরি হয়েছে। আর নাইস / নেক্সট এগুলো না লিখে গঠনমূলক কমেন্ট করুন। এটা ভালো দেখায়)

#নিশি_ডাক (পর্ব: ০৩)
#আওসাফ_সাদিক

গল্প: নিশি ডাক (পর্ব : ০২)লেখক : আওসাফ সাদিক।__________________মালতি রান্না ঘরের ভেতরে দুই পায়ে ভর দিয়ে বসে নুরুর ধরে আন...
22/11/2023

গল্প: নিশি ডাক (পর্ব : ০২)
লেখক : আওসাফ সাদিক।
__________________

মালতি রান্না ঘরের ভেতরে দুই পায়ে ভর দিয়ে বসে নুরুর ধরে আনা বড় বোয়াল মাছ টা কাঁচাই চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে। টর্চের আলো পরতে দেখে পেছনে তাকায় মালতী। তার মুখে মাছের রক্ত আর চামড়া লেগে আছে। চোখের ভেতর পুরোটা কালো হয়ে আছে। যেনো পুরো চোখ জুড়ে কালো রঙ ঢেলে দেওয়া হয়েছে। দুই হাতে মাছ ধরে রাখা অবস্থায় ভয়ংকর চোখ নিয়ে নুরুর দিকে তাকিয়ে এক বিশ্রী হাঁসি দেয় মালতি!

শরীরে জ্বরের উত্তাপ নিয়েও, ভয়ের এক শীতল স্রোত নেমে যায় নুরুর শিরদাঁড়া দিয়ে। মালতীর এমন রূপ কখনো কল্পনাতেও আসেনি তার। নুরু এক জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে মুঠোফোনের টর্চ। এমন সময় হঠাৎ মালতী কালো রঙের এক বিশাল জিহ্বা বের করে লোভনীয় দৃষ্টিতে নুরুর দিকে এগুতে থাকে। নুরুর চোখে মুখে বিষ্ময়! থ হয়ে এক জায়গায়ই দাঁড়িয়ে আছে সে। চিৎকার দিতে চাইলেও গলা থেকে কোনোরকম শব্দই বের করতে পারছে না। মালতী ক্রমশ এগিয়ে আসছে তার দিকে। প্রায় এক হাত দূর থেকে মালতী তার জিহ্বা দিয়ে নুরুর গলায় স্পর্শ করে। গলা পেঁচিয়ে ধরতে যাবে এমন সময় নুরুর হাতের টর্চ টা মাটিতে পড়ে যায়। কি করবে বুঝতে না পেরে মালতী কে এক ধাক্কা দিয়ে উলটো দিকে দৌড় দেয় নুরু।
নুরু কোনো কিছু না ভেবেই দৌড়াতে দৌড়াতে বাড়ির পেছনের জঙ্গল টায় চলে এসেছে। অসুস্থ দূর্বল শরীর নিয়ে আর কতোটুকুই বা দৌড়াবে সে। তারপরেও নুরু নিজেকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে প্রাণপণে দৌড়ে যাচ্ছে আর বার বার পেছন ফিরে দেখছে। নাহ পেছনে মালতী নেই। ঠিক তখনই কারো সাথে ধাক্কা লেগে নুরু পড়ে যায় নিচে। নিচে পড়ে যাওয়ায় বাঁশের কঞ্চিতে লেগে হাতে ছোটোখাটো চোট পায় নুরু। মাথা উঠিয়ে দেখতে পায় মালতী তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আবারও সেই বিশ্রী হাঁসি মালতির। এবার ভয়ে জ্ঞান হারায় নুরু।

চারপাশ নিস্তব্ধ! চতুর্দিক থেকে ভেসে আসছে ঝিঝি পোকার ডাক৷ একটা কর্কশ আওয়াজের ডাকে জ্ঞান ফিরে নুরুর! আওয়াজ টা এতোটাই কর্কশ আর গম্ভীর, শুনলে কান দিয়ে রক্ত আসার মতো অবস্থা হয়ে যাবে। সেই ডাক শুনে চোখ মেলেই হকচকিয়ে উঠে নুরু। আশেপাশে তাকিয়ে পরখ করার চেষ্টা করে কোথায় আছে সে। ঘুটঘুটে অন্ধকারে কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। তখনি হঠাৎ উপরে কিছুর নড়াচড়া টের পায় সে। উপরে তাকাতেই দেখা যায় সেই বিশাল তেঁতুল গাছ৷ যার একটি ডালের উপর বানরের মতো বসে আছে মালতী। নুরুর জ্ঞান ফিরতে দেখেই এক লাফে নুরুর সামনে এসে দাঁড়ায় মালতী। নুরুর শরীর কাঁপছে। ঘামে ভিজে যাচ্ছে পুরো শরীর। যা কখনো দেখা তো দূরের কথা, অস্তিত্ব আছে বলেও বিশ্বাস করেনি নুরু, তা এখন স্বচক্ষে দেখছে সে। প্রচন্ড ভয়ে নুরু মনে মনে সূরা পড়তে গিয়েও গুলিয়ে ফেলে। তখনই সে অনুভব করে, একটা সাধারণ মানুষ এসব অতিপ্রাকৃত, অশরীরীর সামনে কতোটা অসহায়। কোনোভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বলতে শুরু করে নুরু-

- আমি আপনেগো কি এমন ক্ষতি করছি যে আপনারা আমারে এমন শাস্তি দিতাছেন? আমার গর্ভবতী বউটার কি দোষ? ওরে ছাইড়া দেন! দোহাই লাগে আপনাগো ছাইড়া দেন। আপনারা যা কইবেন তাই করমু। (করুণ ভয়ার্ত কণ্ঠে বলল নুরু)

নুরুর এমন আবেদন শুনে মালতীর শরীরে থাকা অশরীরী টা ভয়ংকর ভাবে জোড়ে জোড়ে হাঁসতে থাকে৷ এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঝিঝির ডাক আর বাতাশের সাথে বাঁশ পাতার ঘর্ষনের শব্দ মিলে এক থমথমে পরিবেশ সৃষ্টি করছে, তার মধ্যে এমন ভয়ংকর হাঁসি পরিবেশ টা কে আরোও বেশি ভয়ঙ্কর বানিয়ে দিচ্ছে৷
কিছুক্ষন পর হাঁসি থামিয়ে মালতী বলতে শুরু করলো, তার গলার স্বর ছিলো একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের কণ্ঠের চেয়েও মোটা।

- তুই আমাদের কোনো ক্ষতি করিসনি। তোর দোষ একটাই! তুই সেদিন বড় মাছ টা দিয়ে গেলি না। তোর উপর খুব অসন্তুষ্ট আমি। ( এটা বলেই এক বিশ্রী ধরনের নাটকীয় কান্না শুরু করে দিলো মালতী)

- এহন থাইকা প্রতিদিন মাছ দিয়া যামু আপনেগোরে, দয়া কইরা আমার বউ টা রে ছাইড়া দেন!

- নাহ! শুধু মাছ দিয়ে গেলেই তো তোর বউকে ছারবো না...

- তাইলে আর কি করন লাগবো? আমি সব করতে রাজি আছি, তবুও ওরে ছাইড়া দেন দয়া কইরা!!

- প্রতিদিন মাছ দেওয়ার সাথে সাথে আরো দুইটা ইচ্ছা পূরন করতে হবে তোকে! তাহলেই তোর বউকে ছেড়ে দিবো! ( এটা বলে হাঁসতে শুরু করে মালতী)

- কি ইচ্ছা কন! আমি সব করতে রাজি আছি৷

মালতীর শরীরে থাকা অশরীরী টা নুরু কে প্রতিদিন মাছ দেওয়ার সাথে সাথে দুইটা খাশি এবং তার সবচেয়ে প্রিয় একটা জিনিস, যেটা সে সময় হলে চেয়ে নিবে, এসবের বিনিময়ে তার বউকে মুক্তি দিতে রাজি হয়।
নুরু ভয় আর তার স্ত্রী কে বাঁচানোর জন্য সাথে সাথেই তার শর্তে রাজী হয়ে যায়।

____

পরদিন সকালে মালতীর ডাকে ঘুম ভাঙে নুরুর। সে নিজেকে ঘরে শুয়া অবস্থায় পায়। গতকাল রাতে সে বাসায় আসলো কিভাবে? নাকি সে যা দেখেছে পুরোটাই তার স্বপ্ন ছিলো? মালতী ও স্বাভাবিক আচরণ করছে।
নুরু ভেবেই নিয়েছে এটা স্বপ্ন ছিলো, তখনি তার হাতে বাঁশের কঞ্চিতে লেগে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছিলো সেটি তার চোখে পড়ে! নুরু বুঝে যায়, কাল রাতে যা যা হয়েছে তার কিছুই স্বপ্ন নয়। নুরু তাড়াহুড়ো করে বিছানা থেকে উঠে!

অন্যদিকে মালতী নুরুকে বাজার থেকে প্রয়োজনীয় সদাই আনার জন্য বলছে অন্য রুম থেকে। নুরু তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে, খাবার খেয়ে বেড়িয়ে পড়ে বাজারের উদ্দেশ্যে। তার মূল উদ্দেশ্য বাজারে যাওয়া নয়। নুরু রঞ্জু মিয়ার ভাগিনা শ্যামলের সাথে দেখা করার জন্য ছুটেছে। শ্যামল তাদের গ্রামের ছোটখাটো একজন তান্ত্রিক। সে মূলত প্যারানরমাল জিনিসের প্রতি বেশি আগ্রহী! ফলে এই কাজ বেছে নেয় সে। নুরুর ধারণা শ্যামল তাকে এই ঝামেলা থেকে মুক্ত করতে পারবে। নুরু সোজা শ্যামলের বাড়িতে পৌছায়! নুরি বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে শ্যামল কে ডাকতে শুরু করে,

- শ্যামল! শ্যামল রে... বাড়িত আছোসনি?

নুরুর ডাক শুনে শ্যামলের নব বিবাহিত স্ত্রী রূপমা ঘর থেকে বের হয়! রূপমা নুরু কে আগে থেকেই চিনে। একই গ্রামে তাদের বাড়ি। তাছাড়া শ্যামলের বিয়েতেও স্ব-পরিবারে এসেছিলো নুরু।
নুরুকে দেখতে পেয়ে রূপমা বলল-

- আরে ভাইজান আপনি! এইখানে আইসা বহেন। আমি ওনারে ডাইকা দিতাসি। ( বাড়ান্দায় নুরুকে বসার জন্য মোড়া দিতে দিতে বললো)

এই বলে রূপমা নুরুর সামনে দিয়ে উঠানের অন্যপাশে থাকা ছোট একটি টিনের ঘরের দিকে যায়। নুরু ঘরের সামনের বাড়ান্দায় গিয়ে বসে। কিছুক্ষন পরেই রূপমা ফিরে এসে নুরু কে বলল-

- একটু বহেন ভাইজান। ওনি আইতাছে।

- আচ্ছা।

মুচকি হাঁসি দিয়ে প্রস্থান করলো রূপমা। কিছুক্ষন পরেই উঠানের অন্য পাশের ছোট টিনের ঘর টা থেকে কোঁকড়া বাবড়ি চুল আর চাপ দাঁড়ি ওয়ালা এক যুবক বের হয়ে আসে। পরনে তার কালো রঙের লুঙ্গি আর কালো পাঞ্জাবি। হাতের মধ্যে বিভিন্ন রঙের সুতো বাঁধা। সুঠাম দেহের অধিকারী সেই যুবক টি নুরুর সামনে এসে দাঁড়ায়!

- আদাব! কেমন আছেন ভাইজান। (শ্যামল)

- আদাব! একটা সমস্যায় পড়ছি রে। যার কারনে তোর কাছে আইলাম। (নুরু)

- কি সমস্যা কন আমারে। (শ্যামল)

নুরু কিছু বলতে যাবে এমন সময় রূপমা দুইজনের জন্য চা আর বিস্কিট নিয়ে হাজির হয়। রূপমা কে দেখে চুপ হয়ে যায় নুরু। রূপমা চা দেওয়ার সময় নুরু মুচকি হেঁসে বলল, 'এসবের কি দরকার আছিলো'। রূপমা নুরুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেঁসে চলে যায় ভিতরে। রূপমা যাওয়া মাত্রই নুরু চায়ে চুমুক দিতে দিতে বললো-

- তোর বউ টা অনেক আদব কায়দা বুঝে। ওরে যত্নে রাখিস।

- দোয়া কইরেন ভাইজান।

- দোয়া তো সবসময় করি।

চায়ের কাপটা পাশের চেয়ারের উপর রাখতে রাখতে শ্যামল বলল, 'তো ভাইজান, কি জানি কইতে নিছিলেন'।
নুরু চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে কাপটা পাশে রেখে দেয়। কিছুক্ষন মাথা নিচু করে নিশ্চুপ থেকে তারপর এই পর্যন্ত ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনা খুলে বলে।

- ভাইজান! আপনে তো বড়সড় বিপদে পড়ছেন। আপনি যেই জ্বীনের খপ্পরে পড়ছেন এইডা তো আপনারে একেবারে শেষ না কইরা ছাড়বো না।

- ওইটা আমারে তিনটা শর্ত দিছে, এগুলা পূরন করলে নাকি ছাইড়া দিবো কইছে।

- কি কি শর্ত দিছে কন তো ভাইজান।?

- প্রতিদিন মাছ দেওন লাগবো একটা কইরা, আর দুইটা খাশি দিতে হইবো।

- আর?

- আমার একটা প্রিয় জিনিস হেরে দিতে হইবো।

- কোন প্রিয় জিনিস হেইডা কিছু কইছে?

- না কয় নাই। সময় হইলে নাকি কইবো।

নুরুর কথা শুনে শ্যামল দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল, ' হুনেন ভাইজান! আপনেরে এই বদ জ্বীনে যা যা শর্ত দিছে এর একটাও পূরন করনের দরকার নাই। আপনি সব শর্ত পূরন করলেও এইডা আপনের পিছা ছাড়বো না। আর আমি নিশ্চিত এই বদ জ্বীন হের তিন নাম্বার শর্তে ভাবির পেটের বাচ্চা টা রে চাইবো। আমরা যদি এখনই কিছু করতে যাই, তাইলে ভাবির সাথে সাথে পেটের বাচ্চাটার ও ক্ষতি হইতে পারে। তাই খুব সাবধানে কাজ করতে হইবো আমাগো। আমি আপাদত আপনেরে একটা তাবিজ দিয়া দিতাছি এইডা সবসময় সাথে রাখবেন। আর ভাবিরে কইবেন এক মিনিটের জন্যও যেনো না খুলে এই তাবিজ। আর বাকিটা ভাবির বাচ্চা হওয়ার পরে দেখা যাইবো।"

"ঠিক আছে! কিন্তু কোনো ক্ষতি হইবো না তো?" জিজ্ঞাসু ভঙ্গিতে বললো নুরু। "আমি থাকতে আপনে কোনো টেনশনই কইরেন না। শুধু যা যা কই সব ঠিক ভাবে করেন। আর ভাবিরেও করতে কন দেখবেন কিচ্ছু হইবো না আপনাগো।" আশ্বাস দিয়ে বললো শ্যামল।

"তুমি যেমনে কইবা এমনেই করমু সব" বলল নুরু।
"দাড়ান আমি তাবিজ গুলা নিয়া আইতাছি।" এই বলে নুরুর সামনে থেকে উঠে উঠানের অন্য পাশের ছোট ঘরটায় চকে যায় শ্যামল। নুরু তার ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করছে৷ কিছুক্ষন পরে, হাতে কিছু তাবিজ নিয়ে ফিরে আশে শ্যামল। নুরুর হাতে মোট তিনটা তাবিজ দেয় শ্যামল। নুরু, মালতী এবং নুরুর ছেলে মহিনের জন্য। তাবিজ দেওয়ার পর শ্যামল আরোও বললো, "এই তাবিজ তিনটা আপনাগো তিনজনে সবসময় লগে রাখবেন। খাওয়া দাওয়া, ঘুম, গোসল সবসময়। এক মূহুর্তের জন্যও খুলবেন না। আপনে যখন হের দেওয়া শর্ত পুরন করবেন না, তখন এই জ্বীন ভাবির শরীরে ঢুকতে চাইবো, ভাবির ক্ষতি করতে চাইবো। কিন্তু এই তাবিজ থাকলে পারবো না। আর যখন আপনাগো কারোই কোনো ক্ষতি করতে পারবো না তখন আপনাগো রে ভয় দেখাইবো। কিন্তু এতে ভয় পাইয়েন না। আপনাগোরে শুধু ভয় ই দেখাইতে পারবো কিন্তু কোনো ক্ষতি করতে পারবো না৷ আর তাবিজ খুলার জন্য নানারকম ফন্দি করবো, কিন্তু যাই করুক এই তাবিজ কখনোই খুলবেন না।আর কোনো সমস্যা হইলে সাথে সাথে আমারে ডাক দিবেন"

শ্যামলের কথামতো তাবিজ নিয়ে প্রস্থান করে নুরু৷ বাড়িতে গিয়ে মালতী কে সব বুঝিয়ে বলে সে। তার ছেলে মহিন কেও একই কথা বুঝিয়ে দেয়া হয়।

এভাবে কেটে যায় অনেক দিন। শর্ত পূরন না করায় সেই জ্বীন বিভিন্ন ভাবে নুরু এবং তার স্ত্রীর ক্ষতি করার চেষ্টা করে কিন্তু অসফল হয়। তবে পিছু ছাড়েনি আর কখনো ছাড়বেও না এই ব্যাপারেও হুমকি দিয়েছে নুরুকে। শারিরীক ভাবে কোনো ক্ষতি করতে না পেরে মানষিক ভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা চালায় সেই জ্বীন। শুরু হয় ভয় দেখানোর অত্যাচার। প্রতিদিন রাতে নুরুর ঘরের টিনের চালে কারো লাফানোর আওয়াজ পাওয়া যায়।
কখনো ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করা, সন্ধ্যা বেলায় ঘরের সামনের বড় কড়ই গাছ টায় গলায় দড়ি দিয়ে কাওকে ঝুলতে দেখা আরো বিভিন্ন ধরনের ভয়ানক গতিবিধি লক্ষ্য করে নুরু।

একদিন নুরুর গ্রামে বি*ষ খেয়ে আত্ম*হত্যা করে মারা যায় হিমেল নামের এক যুবক। তাকে দাফন করা নিয়ে শুরু হয় অনেক ঝামেলা। মুরুব্বিদের একটাই কথা আত্ম*হত্যা করা কারো লা*শ এই গ্রামের কবরস্থানে দাফন করতে দেয়া হবে না। শেষে উপায় না পেয়ে পারিবারিক জায়গার উপর দাফন কার্য শেষ করা হলো তার! সেখানে নুরু ও উপস্থিত ছিলো। পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে সে ঘটনা। আত্ম*হত্যা করে মারা গেলে যা হয়। সেই ঘটনার কিছুদিন পরে নুরুর স্ত্রী মালতীর সাথে ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। নুরু সেদিন তার কিছু জরুরি কাজ সেরে বাজার থেকে ফিরছিলো, বাড়িতে মালতী আর তাত ছেলে মহিন একাই ছিলো।
তখন রাত ১০ টার মতো। গ্রাম অঞ্চলে রাত দশ টা মানে গভীর রাত। তখন আশেপাশের সবকিছু স্তব্ধ হয়ে যায়। এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে চারপাশে। সেদিন নুরি আসতে দেরি হচ্ছিলো তাই মালতী ছেলেকে খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয়। আর সে বিছানার উপর হেলান দিয়ে শুয়ে ছোট বাবুদের জন্য কাঁথা সেলাই করছিলো। ঘরের দরজা অনেক আগেই লাগানো হয়েছে। বাড়িতে একা মহিলা বলে কথা। এমন সময় খাটের নিচে কিছু একটার নড়াচড়া শুনতে পায় মালতী। হয়তো ইঁদুর বা বিড়াল হবে ভেবে তেমন পাত্তা দেয় না মালতী। সে আবার কাঁথা সেলাইয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষন পরেই সে খাটের নিচ থেকে কিছু একটা টেনে হিচড়ে নিলে যেমন আওয়াজ হয় সেরকম একটা আওয়াজ শুনতে পায়। এবার সে কিঞ্চিৎ ভয় পেতে শুরু করে। তার স্বামীর বলা কথা তার মনে আছে। তাই সে কোনোভাবেই খাট থেকে নামছে না। হঠাৎ খাটের নিচ থেকে হাঁটুর উপর ভর দিয়ে একটি ছেলে বের হয়ে আসে। শরীরে কাফনের সাদা কাপড় পড়া। মালতীর দিকে তাকাতেই ভয় পেয়ে যায় মালতী। এটা হিমেল!! যে কিছুদিন আগেই বি*ষ খেয়ে আত্ম*হত্যা করেছে। সে কাফনের কাপড় পড়া, নাকে তুলা দেওয়া অবস্থায় মালতী যে খাটে বসে ছিলো তার নিচ থেকে বের হয়ে আসে। বের হয়েই মালতীর উদ্দেশ্যে বললো, "একটু পানি খাওয়াইবা মালতী ভাবি! আমার অনেক পিপাসা লাগছে"!!
একই গ্রামের হওয়ায় হিমেল মালতী কে চিনতো! ঠিক এভাবেই মালতী ভাবি বলে ডাকতো তাকে।
এমন অবস্থায় খাটের নিচ থেকে মৃত হিমেল কে বের হতে দেখায় মালতী ভয়ের চরম সীমা অনুভব করে। তার সারা শরীর দিয়ে যেনো ভয়ের কারেন্ট বয়ে যায়। মালতী তৎক্ষনাৎ এক চিৎকার দিয়ে খাট থেকে নেমে যায়। সে দৌড়ে সোজা তার ছেলে যে ঘরে ঘুমিয়ে আছে সেখানে যায়। তার চিৎকারে তার ছেলের ও ঘুম ভেঙে গেছে। হিমেল তখনও হাঁটু তে ভর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলো মালতীর দিকে। মালতী শক্ত করে তার ছেলে কে জড়িয়ে ধরে মনে মনে যতো সূরা আছে পড়তে লাগলো। মালতীর ছয় বছরের ছেলেও এই ঘটনা দেখে চিৎকার ক্ল্রে কেঁদে যাচ্ছে। আর হিমেল ক্রমশ মালতীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তার মুখে একটাই কথা, " একটু পানি খাওয়াইবা ভাবি!! আমার অনেক পিপাসা লাগছে"। শেষে উপায় না পেয়ে মালতী তার ছেলেকে নিয়ে দরজা খুলে বাহিরে দৌড় দেয়। সে গর্ভবতী হওয়ায় দৌড়ানো সম্ভব হচ্ছিলো না তার পক্ষে। তাড়াহুড়ো করে হাঁটতে থাকে তাদের পাশের বাড়ির দিকে। আর বার বার পেছন ফিরে দেখতে থাকে। এমন সময় হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে নেয় মালতী....(চলবে)

(গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই পেজটি ফলো দিয়ে দিবেন!🫶)

[ Nice / Next না লিখে গঠনমূলক মন্তব্য করুন। গল্পটি কেমন লেগেছে আপনাদের তা কমেন্টে জানান। কেমন হলে আরেকটু ভালো হতো সে ব্যাপারেও পরামর্শ দিতে পারেন। কারো রাতের ঘুম হারাম করতে চাইলে তাকে মেনশন দিয়ে দিন :)]

#নিশি_ডাক (পর্ব:০২)
#আওসাফ_সাদিক

নুরু একটা মাছ দিয়া যা! আচমকা পিছুডাকে পেছন ফিরে তাকায় নুরু। অন্ধকারে একটু দূরে একটা মানুষের মতো অবয়ব দেখা যাচ্ছে। নুরু চ...
19/11/2023

নুরু একটা মাছ দিয়া যা!
আচমকা পিছুডাকে পেছন ফিরে তাকায় নুরু। অন্ধকারে একটু দূরে একটা মানুষের মতো অবয়ব দেখা যাচ্ছে। নুরু চিনতে না পেরে আবার জিজ্ঞেস করলো, 'কে আপনে?' কোনো উত্তর আসলো না। নুরু কোনো সাড়া না পেয়ে কিছুটা বিরক্ত হয়েই আবার বাড়ির পথে হাঁটা ধরলো। নুরু একজন কৃষক, তার পুরো নাম 'নুরুল আলম' ডাকনাম 'নুরু'। মাছ ধরা তার এক প্রকার শখ বা নেশা বলা যায়। নুরু প্রতিদিন গ্রামের পাশের নদীতে মাছ ধরতে যায়। আজ একটা অনেক বড় বোয়াল ধরেছে সে, তার ছেলে এটা দেখে নিশ্চই অনেক খুশি হবে। অন্যসময় অন্ধকার হওয়ার আগেই বাড়ির দিকে রওনা দেয়, তবে আজ একটু বেশিই দেরি হয়ে গেছে। জালে একটার পর একটা মাছ উঠতে থাকায় সময়ের দিকে কোনো খেয়ালই ছিলো না নুরুর। বাড়িতে ছেলে, বউ হয়তো না খেয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছে। অন্যদিকে নুরুর বউ আবার অন্তঃসত্ত্বা। সব মিলিয়ে বাড়ি ফেরার খুব তাড়া নুরুর। তাই সময় বাঁচানোর উদ্দেশ্যে পুরনো বদ্দি বাড়ির পাশ দিয়ে একটা শর্টকাট রাস্তা ধরে সে। রাস্তার দুই পাশে ঘন বাঁশ ঝাড়ে ঘেরা। সেই রাস্তার এক সাইডে বট গাছের মতো মোটা এক তেঁতুল গাছ। লোকমুখে শুনা যায় এর বয়স নাকি হাজারের উপরে। জায়গায় দোষ আছে এ নিয়েও ব্যাপক কথা রটে আছে গ্রামে। তবে নুরু এসবে বিশ্বাস করে না। নিজের চোখে যেহেতু দেখেনি কখনো। নুরু যথেষ্ট সাহসী, তবে এসব জ্বীন-ভূতের ঘটনা নেহাতই বানোয়াট মনে হয় তার।

দুই পাশে বাঁশ ঝাড়, মাঝখানের মাটির রাস্তা ধরে নুরু হেঁটে যাচ্ছে। নুরুর কাঁধে মাছের ঝুড়ি আর হাতে ছোট্ট একটা টর্চ লাইট। বি/ড়ি টানতে টানতে গুন গুন করে গান গাইছে নুরু! চারিপাশ থেকে ঝিঝি পোকা আর শিয়ালের ডাক ভেসে আসছে। দুই পাশে বাঁশ ঝাড় হওয়ায় মাথার উপরে ঝাড়ের কারনে আকাশ দেখা যায় না, ফলে চাঁদের আলোও মাটি পর্যন্ত আসে না। থমথমে অন্ধকার। নুরুর একমাত্র ভরসা হাতের ছোট লাইট টি। কিছুদূর আগানোর পর নুরু আবার পেছন থেকে কারো ডাকার আওয়াজ পেলো, 'নুরু একটা মাছ দিয়া যা'
নুরু পেছন ফিরে তাকায়! আবারও সেই মানুষের মতো অবয়ব দেখা যাচ্ছে। তবে সেটা কে তা বুঝা যাচ্ছে না। যথেষ্ট দূরে থাকায় নুরুর লাইটের আলোও ওই ওব্দি পৌছাচ্ছে না। নুরু ঘটনা বুঝার জন্য লাইট টা নিয়ে অল্প সামনে এগোলো, কিন্তু সে যতই এগিয়ে যাচ্ছে অবয়ব টা ততই দূরে সরে যাচ্ছে তার থেকে। হঠাৎ নুরু একই আওয়াজ আবার সে যেদিকে এগোচ্ছিলো তার উল্টোপাশ থেকে শুনতে পেলো! 'নুরু একটা মাছ দিয়া যা'

এবার নুরু আশেপাশে ভালোভাবে তাকায়, তার দশ হাত দূরেই সেই বট গাছটি। নুরুর বুঝতে বাকি রইলো না সে কাদের পাল্লায় পড়েছে। তবে নুরু যথেষ্ট সাহসী হওয়ায় ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে কি করা যায়। সে মনে মনে আয়তুল কুরসি পড়তে থাকে। কিছুক্ষন পর সে তাদের কথা মতো একটা মাছ সেই বট গাছের নিচে রেখে দেয়। এবং আবার বাড়ির পথে হাঁটা দেয়। নুরু কয়েক পা সামনে এগুতে না এগুতেই পেছন থেকে আবার ডাক পড়ে নুরুর! 'বড় মাছ টা দিয়া যা'!
কিন্তু বড় মাছ টা দেওয়ার কোনোরকম ইচ্ছে নেই নুরুর। বড় মাছ তার ছেলের খুব পছন্দ! সে কারনেই এই মাছ টা দিতে চাইছে না নুরু। সে তাদের কথা উপেক্ষা করে সামনে হাঁটা ধরে। নুরু কিছুদূর এগিয়ে যায়। বদ্দি বাড়ির রাস্তার প্রায় শেষ প্রান্তে চলে আসে নুরু। সামনে একটা কালভার্ট। এটা পার হলেই নুরুর গ্রাম। তবে কালভার্টে পৌছানোর আগেই নুরু চারপাশ থেকে একই স্বরে একটাই কথা শুনতে পাচ্ছিলো, 'নুরু বড় মাছ টা দিয়া যা' নুরু শুনেও না শুনার ভান করে। তার কপাল বেয়ে ঘাম ঝড়ছে। কোনো মতে এখান থেকে বের হতে পারলেই বাঁচে সে। আর মনে মনে আফসোস করছে কেনো আজ এই রাস্তা দিয়ে আসলো সে।

ওরা বার বার একই কথা বলে যাচ্ছে!, 'নুরু বড় মাছ টা দিয়া যা'। ওরা তিন বার বলার পরেও নুরু কোনো সাড়া দেয়নি তাদের কথায়। নুরু বিড়িতে শেষ টান টা দিয়ে হন্তদন্ত হয়ে হেঁটে যাচ্ছে কালভার্টের দিকে। হঠাৎ করে নুরুর হাতের টর্চ লাইটটা নিভে যায়। থমকে দাঁড়ায় নুরু। চারপাশ নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেছে। নুরু পেছন ফিরে তাকায়! প্রায় শ'খানেক জ্বলজ্বল করা চোখ অন্ধকারে এক নজরে তার দিকে তাকিয়ে আছে। রাতের বেলা বিড়াল বা কুকুরের চোখ যেমন জ্বলজ্বল করে ঠিক সেরকম। নুরুর অন্তর কেঁপে উঠার মতো অবস্থা। সবকটি চোখ ধীরে ধীরে নুরুর দিকেই এগিয়ে আসছে। নুরু ভয়ে থ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার শরীর যেনো তার সঙ্গ দিচ্ছে না। যেভাবেই হোক তাকে বাড়ি যেতে হবে। এই ভেবে নুরু চোখ বন্ধ করে লুঙ্গি উঠিয়ে দেয় এক দৌড়। অন্ধকারে রাস্তাঘাট কিছুই দেখা যাচ্ছে না, এতে কোনো কিছুই যায় আসে না নুরুর। এখন জান বাঁচানো বেশি জরুরি তার কাছে। অন্ধকারে দৌড়াতে গিয়ে উষ্ঠা খেয়ে দু একবার পড়েও যায় নুরু।

অবশেষে হাঁপাতে হাঁপাতে বাড়ি গিয়ে পৌছায় সে। বাড়ি গিয়েই জোড়ে জোড়ে দরজায় কড়া নাড়তে থাকে।
'মালতী! ওই মালতী! দরজা খোলো তাড়াতাড়ি। ' নুরুর হন্তদন্ত ডাকে তাড়াহুড়ো করে ছুটে আসে নুরুর বউ মালতী। মালতী এসে দরজা খুলে তাড়াহুড়ো করে, আর ওমনিই এক ঝটকায় ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয় নুরু। (গ্রাম অঞ্চলে এক ধরনের রেওয়াজ আছে, ঘরে অন্তঃস্বত্তা থাকলে সেই ঘরের বাহিরে গরম কয়লা রাখা হয় যেনো পা সেক দিয়ে ঢুকে সবাই৷ এতে গর্ভবতী মায়ের উপর কোনো অশরীরির আঁচ পড়ে না। তবে তাড়াহুড়ো এবং ভয়ে সে কথা ভুলেই গেছে নুরু)। মালতী আশ্চর্য হয়ে নুরুকে পরখ করছে। পুরো শরীর ঘামে একাকার, হাতে পাঁয়ে কাঁদা মাখা, পায়ের নখ থেকে ঝরঝর করে রক্ত পড়ছে। রক্ত দেখেই ভয় পেয়ে যায় মালতী! 'কি হইছে আপনের? পায়ে এতো রক্ত ক্যান? এতক্ষন কই আছিলেন আপনি?'
'সব কমু, পরে কমু। এখন তাড়াতাড়ি আমার লাইজ্ঞা গরম পানি কইরা আনো।' নুরুর কথায় গরম পানি করতে চলে যায় মালতী।

কিছুক্ষন পর গরম পানি নিয়ে আসে মালতী, পাঁচ মাসের গর্ভবতী মালতী যত্ন করে স্বামীর হাত পা পরিষ্কার করে দেয়। পায়ের নখ ছেড়া কাপড়ের টুকরো দিয়ে বাঁধতে বাঁধতে মালতী নুরু কে জিজ্ঞেস করে, 'এইবার কন কি হইছে আপনার? কই আছিলেন?' সবুর করো কমু! তার আগে কও পোলা কই?
'আপনে আইতে দেরি করতাছিলেন তাই খাওয়াইয়া ঘুম পাড়ায়া দিছি, ওই ঘরে ঘুমাইতাছে'।
তারপর কিছুক্ষন সময় নিয়ে নুরু সব ঘটনা খুলে বলে তার স্ত্রী মালতী কে। সব ঘটনা শুনে ভয়ে চুপসে যায় মালতী। কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে স্বামীকে নির্ভয় দেয় সে। 'কি দরকার আছিলো আপনার এই রাস্তা দিয়া আওনের? থাক এখন যা হওনের হইয়া গেছে! আপনে কালকে সকাল সকাল যাইয়াই রঞ্জু মিয়ার ভাইগনার লগে দেহা করবেন। শুনছি হেয় এইসব ব্যাপারে ভালো জানে। কবিরাজি করে।' 'আইচ্ছ্যা করমুনে' বলল নুরু।

সেদিন রাতে আর ক্ষিদে পায়নি নুরুর। খাওয়া দাওয়া না করেই শুয়ে পড়ে সে। শুবার ঘরের বাহিরে ছোট করে ছন দিয়ে বানানো রান্না ঘরে নুরুর আনা মাছ গুলো রেখে আসে মালতী। কাল সকাল সকাল কাটবে বলে।

এক দুঃস্বপ্নে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যায় নুরুর। নুরু দেখতে পায় সেই বট গাছের নিচে সে দাঁড়িয়ে আছে। আর সেই কালো অবয়ব টা নুরুকে বলছে, 'তুই কাজটা ঠিক করলি না নুরু! এর শাস্তি তুই পাবি'।
লাফ মেরে উঠে বসে নুরু, সে খেয়াল করে তার গাঁয়ে প্রচন্ড জ্বর। তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। পানি খাওয়ার উদ্দেশ্যে নুরু মালতী কে ডাক দিতে যাবে তখনি দেখলো তার পাশে মালতী নেই। নুরু তার বালিশের পাশ থেকে তার ছোট্ট মুঠোফোন টি বের করে সময় দেখার চেষ্টা করলো। সময় আড়াইটা। এতো রাতে মালতী তার পাশে নেই। হয়তো বাথরুমে গেছে এই ভেবে নুরু নিজেই দূর্বল শরীর নিয়ে উঠে আসে পানি খাওয়ার উদ্দেশ্যে। পানি খেয়ে প্রকৃতির ডাকে বাইরে যায় নুরু। রান্না ঘরের পাশেই কলপাড়, তার পাশেই প্রস্রাব করতে বসে পড়ে নুরু। এমন সময় রান্নাঘরে কিছু একটা নড়াচড়ার আওয়াজ পায় সে। রান্নাঘরে মাছ রাখা আছে, বিড়ালও ঢুকতে পারে। এই ভেবে কাজ শেষ করে রান্না ঘরে উঁকি দিতে যায় নুরু। তার হাতে মুঠোফোনের টর্চ। রান্নাঘরের সামনে গিয়ে দেখে দরজা খোলা। দরজা টা হাল্কা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে দেখার জন্য টর্চ মারে নুরু৷ ভেতরে তার পাঁচ মাসের গর্ভবতী স্ত্রী মালতী কে দেখে অবাক হয়ে যায় সে। নুরু এমন কিছু দেখেছে যা সে মোটেও আশা করেনি কখনো৷ মালতি রান্না ঘরের ভেতরে দুই পায়ে ভর দিয়ে বসে নুরুর ধরে আনা বড় বোয়াল মাছ টা কাঁচাই চিবিয়ে চিবিয়ে খাচ্ছে। টর্চের আলো পরতে দেখে পেছনে তাকায় মালতী। তার মুখে মাছের রক্ত আর চামড়া লেগে আছে। চোখের ভেতর পুরোটা কালো হয়ে আছে। যেনো পুরো চোখ জুড়ে কালো রঙ ঢেলে দেওয়া হয়েছে। দুই হাতে মাছ ধরে রাখা অবস্থায় ভয়ংকর চোখ নিয়ে নুরুর দিকে তাকিয়ে এক বিশ্রী হাঁসি দেয় মালতি!....(চলবে)

গল্প: নিশি ডাক (পর্ব : ০১)
লেখক : আওসাফ সাদিক।

#নিশি_ডাক
#আওসাফ_সাদিক

Address

Gazipur
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sadik's Horror Kingdom posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share