Allure Emporium BD

Allure Emporium  BD ALLAH Malik make business halal and make interest haram.that's why I always wanted to do halal busin

রামাদান রহমত, বারাকাত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। অপরিসীম ফজিলতপূর্ণ এ মাসে মহিমান্বিত আল কুরআন নাযিল হয়েছে।...
16/02/2021

রামাদান রহমত, বারাকাত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস। অপরিসীম ফজিলতপূর্ণ এ মাসে মহিমান্বিত আল কুরআন নাযিল হয়েছে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, "যখন রামাদানের প্রথম রাত্রি আসে, তখন শয়তান ও অবাধ্য জ্বীন সকলকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হয়।জাহান্নামের দরজা সমূহ বন্ধ করা হয়, আর কোন দরজা খোলা হয় না এবং জান্নাতের দরজা সমূহ খোলা হয়, আর কোন দরজা বন্ধ করা হয় না ।
(বুখারী: ১৮৯৯, মুসলিম: ১০৭৯)

এ মাসে এক আহবানকারী আহবান করতে থাকে যে, "হে কল্যাণের অভিসারী ! তুমি অগ্রসর হও। হে অকল্যাণের অভিসারী ! তুমি থামো"। মহান, দয়াশীল আল্লাহ্ তা'আলা এই মাসেই বহু ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত করে দেন। আর এটা প্রত্যেক রাতেই হয়ে থাকে ।

(তিরমিযী: ৬৮২, ইবনে মাযাহ্:১৬৪২, মিশকাত :১৯৬০)

প্রিয় রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) রামাদানের অনেক আগেই ইবাদাতের প্রস্তুতি নিতেন। সাহাবীগণ ও প্রায় ছয়মাস আগে থেকেই রামাদানের ইবাদাতের প্রস্তুতি নিতেন। রামাদান এলে উনারা নিজেদের ইবাদাত নিয়ে এতই নিমগ্ন থাকতেন যে একে অপরের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতেন। কারণ সৎ কাজের ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতার কথা বলা হয়েছে। আর আমাদের মতো গুনাহ্গারদের উচিত এ মহা সুযোগটির যথাযথ সদ্ব্যবহার করা। কারণ আগামী রামাদানে সুস্হ থাকবো বা বেঁচে থাকবো, এমন কোন গ্যারান্টি নেই।

রামাদান আসতে আর অল্প কিছু দিন বাকি। প্রস্তুতি নেবার এখনই সেরা সময়। রামাদান যদিও আত্মিক উন্নয়নের মাস, নেক আমল বাড়িয়ে নেয়ার মাস, ক্ষমা চেয়ে নেয়ার মাস,তবুও দু:খজনক হলেও সত্যি এ মাসে আমাদের নারীদের সময়ের একটি বিশাল অংশ চলে যায় হরেক রকম ইফতারি তৈরিতে, ঈদ শপিং এ বা গৃহস্থালীর অন্যান্য কাজে। কিভাবে যেন মর্যাদাপূর্ণ রামাদান এসে আবার চলেও যায় কিন্তু আমাদের নেক আমলের ঝুড়ি আর ভারী হয় না। মহান, দয়াশীল আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয় না। অথচ এ মাসে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশী সময় পাওয়া যায় স্কুল, অফিসের টাইম কমে যায় বলে। তাই এ সময়টাকে ইবাদতের জন্য পুরোপুরি কাজে লাগানো উচিত ।

রমাদান আমাদের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে। যারা এখনো বুঝতে পারছেন না কিভাবে প্ল্যান করলে রমাদানের সময়টাকে পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগানো যায়, তাদের জন্য এ লেখা।

রামাদানের প্ল্যান কে আমি দু’ভাগে ভাগ করেছি:-
১. সাংসারিক কাজ ভিত্তিক
২. ইবাদত ভিত্তিক

আজ শুধু সাংসারিক কাজের প্ল্যান নিয়ে আলোচনা করবো। পরবর্তী পর্বে ইনশাআল্লাহ্‌ থাকছে ইবাদত ভিত্তিক কাজের প্ল্যান।

সাংসারিক কাজ ভিত্তিকঃ
-------------------------------------------
(ক) রামাদানের আগে প্রস্তুতিমূলক কাজঃ
★ খাবারের শুকনো আইটেম গুলি রামাদানের আগেই কিনে রাখবেন, যেন রামাদানে আর না কিনতে হয়। একমাসের জন্য না হলেও অন্ততঃ পনের দিনের জন্য। খেজুর, পোলাওর চাল, ডাল, ছোলা, বেসন, পাস্তা , নুডলস, চিড়া , মুড়ি, চিনি, সেমাই, মশলা, পেঁয়াজ, রসুন, বাদাম ইত্যাদি। কেনার পর সুন্দর ভাবে নির্দিষ্ট জার, বয়াম, কন্টেইনারে গুছিয়ে রাখুন। নাম লিখে রাখুন প্রয়োজনের সময় যেন সহজেই পেতে পারেন।

★ পুরো কিচেন পরিষ্কার করে নেবেন । কিচেন ক্যাবিনেট বা শেল্ফ পরিষ্কার করে সেখানে তেলাপোকা মারার চক দিয়ে দাগ টেনে ক্যালেন্ডার বা পেপার বিছিয়ে দিবেন । পোকামাকড় আসবে না।

★ রেফ্রিজারেটর, ফ্রীজ পরিষ্কার করে লেবুর ছোট টুকরো দিয়ে রাখুন। আইস বক্স, পানির বোতল ভালোভাবে ধুয়ে রাখবেন। এ গরমে কাজে লাগবে।

★ ফ্যান, দরজা বা জানালার গ্লাস, গ্রিল, বাসার বিভিন্ন শো পিস ভালো ভাবে মুছে পরিষ্কার করে নেবেন। যাতে রামাদানে বেশী প্রেসার না পড়ে, তখন হালকা মুঝে নিলেই চলবে।

★ অভেন বিপদের বন্ধু, সময় বাঁচায় আলহামদুলিল্লাহ্‌। বাসায় অভেন থাকলে এটাও ভালো ভাবে ক্লীন করে রাখবেন।

★ বাথরুম যদিও প্রতি সপ্তাহে ধুতে হয়, তবু রামাদানের আগের দিন খুব ভালো ভাবে পুরো বাথরুমের টাইলস্, ফিটিংস ক্লীন করে নেবেন। তাহলে রামাদানে কষ্ট কম হবে।

★ বাসার ভারী কাপড়, পর্দা, সোফার কভার, মশারী এগুলি আগেই ধুয়ে রাখবেন। রামাদানে যেন না ধোয়া লাগে। নিজে ধোন বা সাহায্যকারীকে দিয়ে ধোয়ান। অধীনস্থদের কাজের চাপ কমিয়ে দেয়ার নির্দেশ আছে।

★ কার্পেট, ফ্লোরম্যাট, শতরন্জি, পাপোশ ক্লীন করে রাখবেন।

★ 🍀 জায়নামাজ, সালাতের ড্রেস বা যিলবাব , টুপি ধুয়ে রাখবেন।

★ 👚👕 যারা ঈদের জন্য পছন্দের জামা সেলাই করে নেন তারা এখনই কাপড় কিনে তা করে নিতে পারেন অনলাইনে বা অফলাইনে । আর যারা রেডীমেড কিনতে ইচ্ছুক তারা এ সময় থেকে শপিং করে নিতে পারেন। কারণ প্রচন্ড গরমে বা ভীড়ে রামাদানে শপিং এ না বের হওয়াই উত্তম। আর মহান আল্লাহর কাছে পছন্দের জায়গা হলো মসজিদ, অপছন্দের জায়গা হলো মার্কেট। তাই রামাদানে মার্কেট যথাসম্ভব এভয়েড করুন।

★ 👗👜 কাউকে সাদাকা বা হাদিয়া অর্থাৎ গিফট দিতে চাইলে সেটাও আগেই কিনে রাখবেন।

★ 🍚🍙 আদা, রসুন, পেঁয়াজ এক মাসের জন্য বেটে অথবা ব্লেন্ড করে রাখবেন। একটু সয়াবিন তেল মেখে রাখলে ভালোও থাকবে, রংটাও সুন্দর থাকবে।

★ 🍤🥩 মাছ, মাংস সম্ভব হলে একমাসের, না হলে পনেরো দিনের জন্য কেটে, পরিষ্কার করে রান্নার পরিমান অনুযায়ী আলাদা আলাদা প্যাকেটে রাখুন।

(খ) রামাদান চলাকালীন কাজঃ
-----------------------------------------
ইফতারের সময় বা সেহরীর সময় যেন তাড়াহুড়ো না লেগে যায়; সুন্দর ভাবে, পরিবারের সবাই বসে যেন খেতে পারি, খাওয়ার আগে, পরে দুআ পড়তে পারি সেজন্য আমরা কিছু কাজ এগিয়ে নিতে পারি। কখনোই ইফতারীতে আধিক্য করা উচিত হবে না। রসনা বিলাস নয়, সংযম সাধনই এ মাসের শিক্ষা। পরিবারের সবাই যাতে ইফতারীর কম আইটেমে সন্তুষ্ট থাকে, সেটা ওদের বোঝাতে হবে। কারণ বেশী ইফতারী আইটেম তৈরিতে অনেক সময় নষ্ট হয়, বেশি পরিশ্রমের ফলে শরীর দুর্বল হয়ে গেলে তখন আর ইবাদত করার শক্তি থাকে না। তাই সুস্থ, সবল থেকে, সময়ের সুষ্ঠু ব্যবহার করে আমরা সবাই যেন আল্লাহর ইবাদত করতে পারি সে জন্য সঠিক পরিকল্পনার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দুআ করতে হবে। আল্লাহ্ই তো আসল ও উত্তম পরিকল্পনাকারী, সাহায্যকারী।

★ পানি, জুস বা শরবতের বদলে ইফতার শুরু করুন খেজুর দিয়ে। এটি সুন্নাত ।

★ ইফতারের আগে অনেক কাজ জমে, তাই আসরের আগে বা আসরের পর পরই তাজা ফলের জুস বা অন্য শরবত বানিয়ে বোতলে নিয়ে ফ্রীজে রেখে দিন।

★ বিভিন্ন তাজা ফলের (আম, পেঁপে, লেবু , তরমুজ, বেল, নাশপাতি, আনারস ইত্যাদি) জুস, ঘরে বানানো লাচ্ছি 🥛🥛 ইত্যাদি ইফতারীতে রাখলে তৃষ্ণা মিটবে -- সে সাথে শরীরও সতেজ থাকবে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকার স্যুপও ইফতারীর আইটেম হিসেবে সহজপাচ্য।

★ ভাজা পোড়া কম খেয়ে তাজা ফল বেশি খেতে হবে। দই- চিড়া খাওয়া যায়। পেট ভালো ও ঠান্ডা থাকে ।

★ ইফতারীতে বিভিন্ন রকম ফলের রায়তা🥗 বিভিন্ন রকম সবজির 🥕🥒🌶সালাদ রাখা যায়। পুষ্টির সাথে সাথে পানি শূন্যতাও পূরণ হবে।

★ ফালুদা বানালে তার জন্যেও নুডলস , সাগুদানা আগে সিদ্ধ করে রাখা যায়। দুধ ঘন করে, সিরাপ তৈরি করে ফ্রীজে রাখা যায়. ..।

★ দুধ, 🥛🥛বাদাম 🥜🥜দিয়ে ফিরনি বা পায়েসও মাঝে মাঝে করা যায়। এক্ষেত্রে ফিরনির চাল, বাদাম এগুলো আগেই হাফ ব্লেন্ড করে রাখতে পারেন।

★ পাস্তা, নুডুলস রান্না করলেও মাংস, সব্জি, পাস্তা আগে সেদ্ধ করে রাখা যায়। রান্নার সময় কম সময় লাগে।

★ ইফতারির আইটেম হিসেবে খিচুড়ি 🥘🥘 একটি খুব ভাল আইটেম। এতে আমিষ এবং শর্করা দুটিই থাকে। পুষ্টি উপাদানে ভরপুর খিচুড়ি খেলে কম সময়ে শরীর এনার্জেটিক হয়ে উঠবে। রাইস কুকার অথবা প্রেশার কুকারে রাঁধলে, নাম মাত্র তেল ব্যবহার করলেই চলে। মাংস দিয়ে রান্না করলে আগেই মাংস রান্না করে রেখে দেবেন।

ফ্রায়েড রাইসের জন্য চাল, সবজি আগে সেদ্ধ করে রাখা যায়। আর চিংড়িটা ও আগেই ভেজে ফ্রিজে রাখা যায়। তাহলে ইফতারী তৈরিতে সময় কম লাগবে।

★ যাদের পেঁয়াজু ছাড়া চলবেই না, তারা পেঁয়াজুর জন্য ডাল প্রতিদিন না বেটে তিন /চার দিনের জন্য অথবা এক সপ্তাহের জন্য বেটে নিতে পারেন। এরপর খুব সামান্য হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে আলাদা আলাদা বক্স বা জীপলক ব্যাগে ডীপে রেখে দেবেনয। ভাজার কিছু সময় আগে নরমাল করে পেঁয়াজ, মরিচ, অন্যান্য উপকরণ দিয়ে মেখে ভেজে নেবেন। এ ডাল এক মাসের জন্য ও স্টোর করা যায়।

★ ছোলা প্রতিদিন সিদ্ধ না করে তিন/চার দিনের বা এক সপ্তাহের জন্য একসাথে সিদ্ধ করে নিবেন। শুধু হলুদ, লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে ভাজার সময়ে পেঁয়াজ, মরিচ বা অন্যান্য মশলা দিয়ে ভেজে নিতে পারেন। অথবা সব মশলা দিয়ে সিদ্ধ করে রেখে ভাজার সময়ে শুধু পেঁয়াজ, মরিচ দিয়ে ভাজতে পারেন। আলু বা টমেটো দিতে পারেন যার যার রুচি মতো।

★ আলুর চপ বা বেগুনির জন্য আমরা যে ডো করি তা একদিন করে দুদিন বা তিন দিন ইউজ করা যায়। তৈরি করেই কিছুটা আলাদা করে ফ্রীজে রেখে দিতে হবে। তেমনি ভাবে আলুর চপের জন্য বানানো আলুর বল ও এয়ার টাইট বক্সে দু/তিন দিন রাখা যায়।

★ পেঁয়াজ যদিও তাজা কেটে খাওয়া ভালো, তবুও যাদের ছোট বাচ্চা আছে তারা পরিশ্রম কমিয়ে নেয়ার জন্য এক সপ্তাহের জন্য পেঁয়াজ কেটে একটু সয়াবিন তেল মেখে পলি প্যাকে রাখবেন। পলি প্যাক থেকে অবশ্যই বাতাস বের করে নেবেন। ছোট ছোট পলি প্যাক একটা বক্সে রেখে নরমালে রেখে দেবেন। (এটা অবশ্যই নিরুপায় মায়েদের জন্য, যারা ছোট বাচ্চা নিয়ে হিমশিম খায় বা অসুস্থ।)

★ মাছ, মাংসে টমেটো🍅🍅 দিতে চাইলে টমেটো কেটে পানি শুকিয়ে ডীপে রাখবেন। শক্ত হয়ে গেলে সবগুলো একসাথে পলি প্যাকে রেখে দেবেন। প্রয়োজনের সময় যতটা লাগে নিয়ে নেবেন।

★ এভাবে ধনেপাতা কুচি করে আইস বক্সে জমিয়ে রাখলে প্রয়োজনের সময় খুব দ্রুত ইউজ করতে পারবেন। সময় সাশ্রয় হবে ।

★ অতি ব্যস্ত বা ছোট বাচ্চার মায়েরা ছোলা তিন/চার দিনের জন্য ভেজে রেখে প্রয়োজন মতো গরম করে খেতে পারবেন। খেজুর আগেই বেশী পরিমাণে ধুয়ে ফ্রীজে রাখবেন । ইফতারের সময় বাচ্চা নিয়ে যাতে কষ্ট কম হয়। দু’/তিনজন লোক হলে সেহরীর জন্য তরকারি বাটিতে আগেই নিয়ে রাখবেন। তাহলে সেহরীর সময় বাচ্চা হয়তো খেতে চাইলো তখন আর ঝামেলা হবে না। ঝটপট অভেনে গরম করে নিলেই হলো ।

★ ছোট্ট বাচ্চার মায়েদের পাশাপাশি অন্যরা সেহরীর জন্য প্রয়োজনীয় প্লেট, বাটি, চামচ ঘুমানোর আগে ধুয়ে টেবিলে ঢেকে রাখবেন । কারণ অন্য সময় না পারলেও রামাদানে অন্তত তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাস করা উচিত।

এভাবে প্ল্যান করে কাজ করলে সহজেই ইবাদত করা যাবে। ইবাদত ধীরে, সুস্থে করা যাবে ।

★★ খাবারের ক্ষেত্রে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে বেশী আইটেম যেন না হয়। এতে একদিকে সময়ের অপচয় হবে এগুলো তৈরি করতে, পরে ইবাদত বেশি ও ভালোভাবে করা যাবে না। কারণ শরীর কিছুটা হলেও দূর্বল থাকবে। বেশী খেলে, বেশী পরিশ্রম করলে ঘুম ঘুম ভাব আসে, যা ইবাদাতের জন্য ক্ষতিকর । আবার বেশী খাবার নিজেরা খেলে টাকারও অপচয়। ঐ খাবার অন্য কয়েক জন অভাবী লোক খেতে পারতো ।

তাই অন্য সময়ের পাশাপাশি রামাদানে খাবারের ব্যাপারে সংযম সাধন করতে হবে ।

★ অনেকেরই বিভিন্ন কারণে মাঝে মাঝে শরীর অসুস্থ থাকে। পেট ব্যথা, কোমর ব্যথা থাকে। তখন কাজ করতে অনেক কষ্ট হয় । সেক্ষেত্রে আপুরা কিছু মাছ, মাংস হাফ রান্না বা পুরোপুরি রান্না করে ডীপে রেখে দেবেন। ঐ সময়গুলোতে বেশ সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ্।

প্রতিটি মানুষের পরিস্থিতি ভিন্ন। আমরা যে যার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ্। অবশ্যই আল্লাহ্ অন্তর্যামী -- কারো উপর তিনি তার সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না। ইনশাআল্লাহ্‌ একটু প্ল্যান অনুযায়ী প্রস্তুতি নিলে আল্লাহ অনেক সহজ করে দেন।

…………………………
পবিত্র রামাদানের প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা (সাংসারিক কাজ)
ইসমাত কনক

ইসমাত কনক

#রৌদ্রময়ী_রমাদান_প্রস্তুতি

খ্রিস্টান ধর্মে পাদ্রীদের বিয়ে করার সংস্কৃতি নেই। এরা সারা জীবন অবিবাহিত অবস্থায় থাকে।কিন্তু প্রেম বিবাহ এসব মানুষের স্ব...
10/02/2021

খ্রিস্টান ধর্মে পাদ্রীদের বিয়ে করার সংস্কৃতি নেই। এরা সারা জীবন অবিবাহিত অবস্থায় থাকে।
কিন্তু প্রেম বিবাহ এসব মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। প্রেম ভালোবাসা নারী পুরুষের পারস্পারিক আকর্ষন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত একটি নেয়ামত। মানুষ ইচ্ছা করলেও সম্পুর্ন ভাবে এই দৈহিক সম্পর্ক থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।
কিন্তু খ্রিস্টান ধর্মে পাদ্রীরা বৈরাগ্যবাদী এক জীবনজাপন করে।
কিন্তু এই পাদ্রীরাও এসব মানবীক বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত হতে পারে না। কখনও কখনও গীর্জার মাঝেই ধর্ষন করে - আবার কখনও কখনও নারী বৈরাগ্যবাদীদের সাথে গড়ে তোলে অবৈধ সম্পর্ক।
বৈধ সম্পর্ক বিয়ের ধার না ধারলেও অবৈধ প্রেমেই জীবন কাটায় তারা।
এমনই এক পাদ্রী হলো ভ্যালেন্টাইন। যাকে এক রাজা গ্রেফতার করে জেলে বন্দি করে রাখে। আর কারাগারের কারারক্ষির অন্ধ মেয়ের সাথে গড়ে তোলে অবৈধ সম্পর্ক এই পাদ্রী।
এই দুশ্চরিত পাদ্রীর স্মরনেই ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে 'ভ্যালেন্টাইন'স ডে' নামে পালন করা হয়। ঘোষনা করেন ৪৯৬ সালে পোপ সেন্ট জেলাসিউও ১ম জুলিয়াস।
উইকিপিডিয়াতে ভ্যালেন্টাইনস ডে কে বলা হয়েছে একটি খ্রিস্টীয় সংস্কৃতি হিসেবে।
আর এই দিনের সাথে ভালোবাসার নুন্যতম কোনো সম্পর্ক বিদ্যমান নেই। এই দিনটাই উৎযাপন হয় এক দুশ্চরিত্র খ্রিস্টান পাদ্রীর স্মরনে। যাদের জীবনে পবিত্র ভালোবাসা বলে কিছুই নেই। তারা জীবনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় না। যাদের জীবনই কাটে অবৈধ প্রেম আর শারিরিক সম্পর্কের মাঝে। তেমনি একজন পাদ্রীর স্মরনে পালন করা ভালোবাসা দিবস এটা হাইস্যকর।
একজন মুসলিম এর জন্য এই দিবস পালন করার মতো লজ্জাজনক কোনো ঘটনা হতেই পারে না।

খ্রিস্টানদের সংস্কৃতি একজন মুসলিম হয়ে কিভাবে পালন করি?? তাও একজন পাদ্রীর স্মরনে?
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

أَبْغَضُ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ ثَلاَثَةٌ: مُلْحِدٌ فِي الحَرَمِ، وَمُبْتَغٍ فِي الإِسْلاَمِ سُنَّةَ الجَاهِلِيَّةِ، وَمُطَّلِبُ دَمِ امْرِئٍ بِغَيْرِ حَقٍّ لِيُهَرِيقَ دَمَهُ

আল্লাহর নিকট তিন শ্রেণীর লোক সবচেয়ে বেশী ঘৃণিত – ১ম শ্রেণী হচ্ছে, যারা হারাম শরীফের মধ্যে কুফরী কার্যকলাপ করে। ২য় শ্রেণী হচ্ছে, যারা ইসলামে থাকা অবস্থায় (মুসলমান হয়েও) জাহিলিয়্যাতের রীতি–নীতি ও আদর্শ (কাফের মুশরিকদের অনুকরণ–অনুসরণ) পালন করে। ৩য় শ্রেণী হচ্ছে, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো রক্ত প্রবাহিত করে। (বুখারী ৬৮৮২ দিয়াত অধ্যায়)
বিজাতির অনুসরণ সম্প্রর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরন করবে সে ব্যক্তি সে জাতির মধ্যে গণ্যহবে। (আবু দাউদ ৩৫১২)
একটু চিন্তা করো হে যুবক- একজন দুশ্চরিত্র পাদ্রীর স্মরনে উৎযাপিত দিবস পালন করে তার অন্তর্ভুক্ত হবা নাকি নিজের ইমান আমল সুরক্ষিত রাখার জন্য এসব পশ্চিমা সংস্কৃতি বর্জন করে মুসলিম থাকবা??
ভ্যালেন্টাইনস_ডে_বর্জন_করুন
এটা_মুসলমানদের_সংস্কৃতি_না

ইনশাআল্লাহ বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
সংগৃহীত

বলছে শিশু কাদের ভাষায়? কেস স্টাডিঃ" কপালের একপাশে অনেকটা কেটে গেছে মিথুনের সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে। হাসপাতালে আনা হয়েছে। সে...
18/01/2021

বলছে শিশু কাদের ভাষায়?

কেস স্টাডিঃ

" কপালের একপাশে অনেকটা কেটে গেছে মিথুনের সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে। হাসপাতালে আনা হয়েছে। সেলাই লাগবে, তার আগে জায়গাটা ব্যথামুক্ত করার জন্য ইনজেকশন দিতে হবে । বাবা মাকে বাইরে বসতে বলা হলো ভয় পাবেন আর ওরা থাকলে বাচ্চা বেশী অস্থির করবে এজন্য। ইনজেকশন দেয়ার জন্য ধরতে গিয়ে ওটির বয় খেলো লাত্থি আর সিস্টারের মুখ লাল নীল বেগুনী হয়ে গেলো, ৬ বছরের বাচ্চার মুখ থেকে অশ্রাব্য নারীবাচক গালি গালাজ শুনে। আমরা ডাক্তাররা বরফ হয়ে গেলাম, কান ঝাঁ ঝাঁ করছে, সেলাই কি দিবো...... "

এ রকম অনেক দৃশ্যই চোখে পড়ে আমাদের আশেপাশে। খালি বস্তির বাচ্চারাই এমন করে তা কিন্তু নয়। অনেক ভালো ফ্যামিলির বাচ্চাদেরকেও অশালীন গালি দিতে দেখা যায় অবলীলায়। এমন না যে এরা এগুলো রাস্তা ঘাটে শুনে বা বাসার কাজের লোকের কাছ থেকে শিখেছে। অনেক সুশিক্ষিত ভদ্রলোকেরাও বাসায় বাচ্চার সামনেই স্ত্রীকে বা বাসার অন্য মেম্বারদেরকে এমন অকথ্য গালি দিয়ে থাকে।

কিংবা, স্কুলেই একটা বাচ্চা আরেকটা বাচ্চাকে বলছে, হাতির বাচ্চা, মোটি, মা কালি, বুঁচি বা কোদাল দাঁত। বুলিং করা সে কোথা থেকে শিখলো? বাসাতেই কেউ না কেউ নিশ্চয়ই চেহারা নিয়ে এরকম খোটা দেয় যা বাচ্চাটাও স্বাভাবিক মনে করে স্কুলে এসে অন্য কারো সাথে করেছে। তার কাছে এটা খারাপ কিছু মনে হয়নি বা এতে তার সহপাঠী কষ্ট পাবে এটা তার মাথায় আসেনি।

আমরা অনেকসময়ই বাচ্চাদের সামনে মিথ্যা কথা, আজেবাজে গালি, মানুষের নামে অশালীন কথা বলে থাকি বা আলোচনা করে থাকি। মোবাইলে জোরে জোরে গালি দেয়া বা মিথ্যে বলা তো খুবই কমন একটা ঘটনা। যতই ভাবুন, ওরা কিছু বুঝে না, ছোট বাচ্চা বা মনযোগ দিয়ে শুনছে না, ও তো আপনমনে খেলছে, খেয়াল করছে না....! ভুল, একেবারেই ভুল। বাচ্চার পুরো মনোযোগ আপনার দিকে। ওরা সবসময়ই খুব মনোযোগ দিয়ে বড়দের কথা শুনে, তাদের মতো চলার, কথার বলার চেষ্টা করে, রোল মডেল হিসেবে তাদের চিন্তা করে।

কাজেই, আপনি পরিবারের বড়দের সাথে, আপনজনের সাথে, কাজের লোকের সাথে, বাইরে রাস্তার লোকজন, রিকশাওয়ালার সাথে কি রকম ব্যবহার করছেন, তাদের কি চোখে দেখছেন সবই কিন্তু আপনার বাচ্চা খেয়াল করছে, সে শিখছে এবং সেও অন্য বাচ্চাদের সাথে, অন্য লোকের সাথে সেভাবেই কথা বলার চেষ্টা করবে, সেরকম ব্যবহার করবে।

একটা বাচ্চা শৈশবেই মিথ্যা কথা বলা, অসদাচরণ করা, গালি গালাজ করা, মানুষকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা সবই কিন্তু শিখে পরিবার থেকে। আশপাশের পরিবেশ আসে এরপরে। পরিবারে যদি শান্তি বজায় না থেকে, সম্পর্ক যদি খারাপ হয়, বন্ধন যদি অটুট না হয়, সেই পরিবারের শিশু কোনদিনই বড় হয়ে সংসারী হতে বা সমাজের অন্য দশজনকে সন্মান করতে পারবে না।

আপনার বাচ্চাকে ভালো ঘর দিলেন, ভালো কাপড় দিলেন, ভালো খাবার দিলেন, ভালো স্কুল দিলেন কিন্তু ভালো স্বভাব বা ভালো মানুষ হওয়ার শিক্ষা দিলেন না, সে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলো কিন্তু দশজনে তাকে অমানুষ হিসেবে চিনলো, আড়ালে বদদোয়া দিলো, আপনার পরকালের আমলে ভালো কিছু যোগ হলো না, এরকম সন্তান কি আপনার কাম্য? খালি যে যুগের দোষ দিবেন, সমাজের দোষ দিবেন, দেশের দোষ দিবেন, এই দেশ, এই সমাজ এই সময় কাদের নিয়ে চলছে? আপনি আমি আমাদের সন্তানদের নিয়েই তো! তাহলে দেশ ও দশকে ভালো রাখার দায় কি আমার আপনার উপরই বর্তায় না?

#শিশুর_মানসিক_বিকাশ

ডাঃ লুনা পারভীন
শিশু বিশেষজ্ঞ
বহির্বিভাগ, ঢাকা শিশু হাসপাতাল
শ্যামলী।

From sister Zainab Al-Gaziএকজন মুসলিমের দিনের প্রতিটা মুহূর্ত কাটবে ইবাদাতে এমনটাই স্বাভাবিক। নিয়তের মাধ্যমে, কোনো আমল ক...
25/12/2020

From sister Zainab Al-Gazi

একজন মুসলিমের দিনের প্রতিটা মুহূর্ত কাটবে ইবাদাতে এমনটাই স্বাভাবিক। নিয়তের মাধ্যমে, কোনো আমল কিংবা জিকিরের মাধ্যমে। আর কাটবে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার প্রচেষ্টায়।

এরজন্য খাটুনি করা লাগে, নফসের সাথে যুদ্ধ করা লাগে, গুনাহমুক্ত পরিবেশে থাকা লাগে, বা এমন পরিবেশে থাকা লাগে যেখানে সব সময়েই একটা ইবাদাতের আমেজ থাকে।

আমাদের মাঝে এমন অনেকেই আছেন যারা প্র্যাকটিসিং কিন্তু তাদের পরিবার প্র্যাকটিসিং না, তাদের জন্য ঘরে ইবাদাতের মহলে থাকা বা এমন এক মহল তৈরি করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
তবে কিছু বিষয় খুবই সম্ভব। আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু বিষয় বা সময় থাকে যা একান্ত ব্যক্তিগত, পরিবারের কেউই সেসবে এক্সেস পায়না, যেমন কারও ব্যক্তিগত ডায়েরি, কিংবা আলমারির একটা অংশ, বা লক করা একটা ড্রয়ার, কোনো বক্স বা এ্যালবাম ইত্যাদি। আমরা চাইলেই পারি আমাদের ইবাদাতের বিষয়টাকে এমন ব্যক্তিগত বানিয়ে ফেলতে, নিজস্ব কোনো প্রিয় কিছু, যেখানে আর কারও এক্সেস থাকবে না, অর্থাৎ কেউ জানবেও না বুঝবেও না আমি আসলে কেনো এমন করছি। কেউ কিছু বলতেও পারবে না।

পারিবারিক ভাবে না পারেন, মানসিক ও শারীরিক ভাবে কিন্তু আপনি ইবাদাতের পরিবেশ তৈরি করে রাখতে পারেন।

কীভাবে?

• দিনের একটা সময় অল্প একটু তিলাওয়াত শুনতে পারেন, এতে করে যা হবে, সারাদিনই আমার মুখে বা মনে তিলাওয়াতের একটা আয়াত বা কিছু অংশ গুন গুন করতে থাকবে, কানে তিলাওয়াত বাজতে থাকবে, এতে করে মনে বা মুখে ফাহেসা চিন্তাভাবনা আসবে না, দিলে একধরণের শুভ্রতা অনুভূত হবে। এতে আরেকটা উপকার হবে, নাফসুল আম্মারাতু বিস সু’ অর্থাৎ গুনাহের কাজের দিকে যে নাফস ডাকে সে দুর্বল হতে থাকবে।

• যখন সংসারের কোনো কাজে যান, তখন যাওয়ার আগে আল্লাহর একটা গুণবাচক নাম শিখে এরপর যান, বেশি সময় লাগবে না, পাঁচ মিনিটের কম লাগবে। একটা নাম, তার অর্থ ও ফযিলত জেনে যান, পুরোটা কাজের সময় সেই নামই জপতে থাকুন। ভাল লাগবে, খুবই ভাল লাগবে, নতুন কিছু শেখা হল, সময়টা ইবাদাতে কাটল, অনেকগুলো সোওয়াব পাওয়া হল, নাফসকে দমিয়ে রাখা হল।

• কিছুদিন আল্লাহর গুণবাচক নাম ও কিছুদিন কোনো ছোটো একটা ফযিলতপূর্ণ ছোট্ট দুয়া বা জিকির শিখে যেতে পারেন।

• সব সময় খিমার পরে থাকবেন, নামাজের আগে খিমার পরা মাত্রই আমাদের ব্রেইনে খবর চলে যায় এখন ইবাদাত করা হবে, ব্রেইন তখন মনকে বার্তা পাঠায়- এখন ইবাদাত করা হবে, গুনাহের কাজ বা চিন্তা মুক্ত থাকতে হবে। মন তখন প্রচণ্ড খুশু সাপ্লাই দিতে থাকে, একাগ্রতা, আল্লাহর প্রতি ভয় ও নম্রতায় ছেয়ে যেতে থাকে মনে। রোজা অবস্থায় সহবাস বা পানাহার করার চিন্তাটা কেমন না? ঠিক ইবাদাতের পোশাকে থেকে গুনাহ করার চিন্তাটাও তেমন। সুন্দর পরিবেশ যেমন গুনাহমুক্ত থাকতে সাহায্য করে, তেমনই ইবাদাতের পোশাকও সাহায্য করে। আর হ্যাঁ, খিমার বানাবেন খুব সুন্দর কাপড় দিয়ে, এক কালারের সাদামাটা কাপড় দিয়ে না, আপনাকে মানায় এমন কালার ও প্রিন্টের কাপড় দিয়ে। দেখতে ভাল দেখায় এমন কালার ও কাপড় পরতেই আমাদের বেশি ভাল লাগে তাই না? খিমার যদি হয় এমন সব সুন্দর কালার ও প্রিন্টের তবে তো ভালই লাগবে সারাক্ষণ পরে থাকতে। আমরা খিমার বানাইও একটা দুইটা, শুধু নামাজের সময় পরার জন্য, সারাদিন পরে থাকার জন্য বানাইনা, সারাদিন পরে থাকার কাপড় হিসেবে খিমারকে দেখিইনা। কথা হচ্ছে, দেখলে সমস্যা কই?

• অল্প করে আতর লাগাবেন, গলাতে,কানের লতিতে, থুতনির নিচে বা খিমারে মুখের কাছের কোনো এক অংশে। এতে করে ঘ্রাণটা আপনার নাকে আসবে। আতরের ঘ্রানে একটা জাদু আছে, পবিত্রতায় মগ্ন করে রাখার মত জাদু, কিংবা বলতে পারি আতর শব্দটায় আছে জাদু, বা আতরদানিতে, বা এই সবগুলোতেই জাদু আছে, যা জুমুয়ার দিন, বা ঈদের দিনের অনুভুতি দেয়, মনে আনন্দ দেয়, আতরের সাথে সুন্নত বা ইবাদাতের একটা সম্পর্ক আছে, হতে পারে এর জন্যই আতরের ঘ্রাণ মনকে পবিত্রতা দেয়। তখন ইচ্ছে হয় মনকে গুনাহমুক্ত রাখতে, আর গুনাহমুক্ত মনেই আল্লাহর খেয়াল আসে।

• নিজের ঘরে বা রুমে নামাজের জন্য আলাদা কর্নার অবশ্যই রাখবেন, স্পেস না থাকলেও যেখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন সে জায়গাটাকেই মনে মনে ইবাদাতের বিশেষ স্থান হিসেবে নিবেন। মনকে বুঝ দিবেন এটাই আপনার শুধু মাত্র আপনার একার মাসজিদ। দেখবেন খুবই ভাল লাগবে। মনে স্নিগ্ধতা এনে দেয় এমন একটা সফট কালারের জায়নামাজ ব্যবহার করবেন, জায়নামাজ যদি নরম তুলতুলা হয় তবুও সমস্যা নেই। জায়নামাজ যদি খুবই দামি হয় তবুও সমস্যা নেই। বসার জন্য আমাদের কত দামি আর নরম সোফা বা চেয়ার থাকে, ঘুমানোর জন্য কত আরামদায়ক বিছানা থাকে, অথচ নামাজের জন্য থাকে পাতলা পুরাতন হাঁটুর জায়গা ক্ষয়ে যাওয়া জায়নামাজ। যা ফ্লোরে বিছিয়ে নামাজ পড়লে হাঁটুতে, টাখনুতে ব্যথা করে, বেশিক্ষণ বসে থাকলে নিতম্ব ব্যথা করে, শুধু ইচ্ছে হয় উঠে যাই। জায়নামাজ যদি হয় এমন যে বসে আরাম পাচ্ছেন, তাকিয়ে চোখের শান্তি পাচ্ছেন, তবে কি আপনার ভাল লাগবে না সেখানে বেশি সময় কাটাতে? আমি বলছিনা অনেক নকশা ওয়ালা জায়নামাজ ব্যবহার করতে, বলছি এক কালারের মাঝেও কত প্রশান্তিকর জায়নামাজ পাওয়া যায়, তাই না? নামাজের জায়গাটাকে স্পেশাল ইবাদাতখানা ভাববেন, দেখবেন সেখানে সময় কাটাতেও খুব ভাল লাগছে।

• আতরের কথা বলেছি, তা যেমন জাদুকরী ঠিক তেমনই জাদুকরী হচ্ছে বখুর, বখুর না চিনলে গুগল করে দেখতে পারেন। মাসজিদ আন নাবাওইতে যখন হালাকায় বসে থাকতাম তখন সেখানকার গার্ডরা বিরাট বিরাট বখুরদানি হাতে নিয়ে ঘুরত, মিশক আম্বরের ঘ্রাণে একদম মন মাতাল হয়ে যেত, এত বেশি ভাল লাগত যে সেখানেই থাকতে ইচ্ছে করত। একবার ভেবে দেখুন তো কেনো মেয়েদের সুগন্ধি লাগিয়ে বাহিরে বের হওয়া নিষেধ, বা গাইর মাহরাম থেকে নিজের শরীর থেকে আসা ঘ্রাণকে বাঁচিয়ে রাখতে বলা হয়েছে? ঠিক এই কারণেই। ঘ্রাণে মন মাতাল করার ও ঘ্রাণ যার থেকে আসছে তার প্রতি আকৃষ্ট করার এক আজীব জাদু আছে। যা মনে পবিত্রতা এনে দিতে পারে আবার ফিতনাও এনে দিতে পারে।
যা বলছিলাম, বখুর জ্বালিয়ে রাখতে পারেন ঘরে, দিনে অন্তত একবার, বা ইবাদাতের সময়, এতে করে মানসিক ভাবে ইবাদাতের এক লালসা জাগবে।

• হালকা সাজ দিয়ে রাখবেন, একটু কাজল বা সুরমা হলেও লাগিয়ে রাখবেন, সুন্দর পোশাক পরে থাকবেন। আমাদের হয় না এমন? ঘরের জন্য ত্যানা কাপড়, মেহমানের জন্য সুন্দর কাপড়। এমন কেনো নিয়মটা? চাইলেই তো আরামদায়ক তবে সুন্দর কাপড় ঘরেও পরে থাকা যায়। বিবাহিত, অবিবাহিত, বাচ্চার মা, অনেক কাজ হ্যানতান এইসবের মাঝেও সুন্দর কাপড় পরে পরিপাটি থাকা যায়। পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র থাকাটাও একটা ইবাদাত। এতে মন প্রফুল্ল থাকে। ভেবে দেখুন একবার, খুব সুন্দর পরিপাটি হয়ে আছেন, দেখতে সুন্দর লাগছে, শরীর থেকে ঘ্রাণ আসছে, মনে সারাদিন গুন গুন করে জিকির করলেন, ঘরটা পরিপাটি করে গোছানো, নামাজের জায়গাটা কী সুন্দর আর আরামদায়ক। আপনার কি মনে প্রফুল্লতা কাজ করবে না? ইবাদাত করতে ভাল লাগবে না? গুনাহ করতে ইচ্ছে করবে?

• সর্বশেষ তবে সবচেয়ে জরুরী টিপস, অবসর সময়টা কাটাবেন জায়নামাজে বসে ও খিমার পরে, এমন কোথাও বলা হয়নি যে নামাজের সময় ছাড়া অন্য কোনো সময় জায়নামাজে বসে থাকা যাবে না। আপনার অবসর সময় আপনি সেখানেই কাটাবেন। বই পড়লেও সেখানে, মোবাইল টিপলেও সেখানে, চা নাস্তা করলেও সেখানে বসে, কারও সাথে কথা বললেও সেখানে বসে থাকবেন। এতে কী কী উপকার হচ্ছে ?

☆ আপনার শরীর ও মন অভ্যস্ত হচ্ছে লম্বা টাইম ইবাদাতখানায় বসে থাকতে।

☆ খিমার পরে ইবাদাতখানায় বসে থেকে আপনার অবশ্যই ইচ্ছে করবে না কোনো গুনাহ করতে, নাফসুল লাওয়ামা আপনাকে বাধা দিতে থাকবে।

☆ বই পড়তে নিলেও ইচ্ছে হবে দ্বীনি কোনো বই পড়তে, জায়নামাজে বসে অবশ্যই আপনার ম্যাগাজিন পড়তে ইচ্ছে হবে না।

☆ কারও সাথে কথা বলার সময়েও ইচ্ছে হবে ভাল কথা বলতে, জায়নামাজে বসে অবশ্যই আপনার ইচ্ছে হবে না গীবত গাইতে।

☆ মোবাইল টেপার সময়েও আপনার ইচ্ছে হবে ভাল কিছু দেখতে বা পড়তে, জায়নামাজে বসে অবশ্যই আপনার ইচ্ছে হবে না নাটক, সিনেমা দেখতে বা গান শুনতে। কিংবা ইচ্ছে হবেনা অহেতুক সময় নষ্ট করতে। খারাপ কিছু সামনে আসলেও, নফসুল আম্মারাতু বিস সু’ তা দেখতে চাইলেও আপনার নাফসুল লাওয়ামা তাতে বাধা দেবে, আপনি স্ক্রোল করে চলে যাবেন।


☆ আপনার সময়টা গুনাহমুক্ত কাটবে, আপনার মনটা ভাল থাকবে।


☆ ধীরে ধীরে নাফসকে বশে আনতে পারবেন।

☆ পারিবারিক পরিবেশের আফসুস থাকবে না, মানসিক ও শারীরিক পরিবেশেই অনেক শান্তি পাবেন।

উপরের প্রতিটা বিষয়ই আমার নিজের পরীক্ষিত, এই কাজগুলো আমাকে যেমন শিখিয়েছে নাফসকে কাবু করা, তেমন সাহায্য করেছে অহেতুক কাজ থেকে বেঁচে থাকা, তেমনই দিয়েছে মনে শান্তি আর ইবাদতে একাগ্রতা। দিয়েছে মনে ও জিহ্বায় লাগাম। দিয়েছে সময়ের বারাকাহ। কাজগুলো মোটেও কঠিন না, মোটেও ব্যয়বহুল না, মোটেও কষ্টকর না, তবে গরমে খিমার পরে থাকাটা কষ্টকর হতে পারে, কিন্তু একটু কষ্ট না করলে কি আর ফলাফল মিঠে হয়?

দিনের পর দিন যখন এভাবে থাকা হবে তখন আপনার সংস্পর্শে পরিবারের মানুষগুলোর মাঝেও পরিবর্তন আশা করা যেতে পারে। আর কিছু না হোক, আপনি ইবাদাতের বেলায় আমার আমিত্বতে অনেক শান্তিতে থাকবেন।

▌ আমাদের খুব পরিচিত কিছু স্বভাব-যার কারণে আমরা জাহান্নামী হতে পারি---● আমাকে কেউ একজন একটা কথা বলে বললো কাউকে না বলার জন...
03/12/2020

▌ আমাদের খুব পরিচিত কিছু স্বভাব-যার কারণে আমরা জাহান্নামী হতে পারি---
● আমাকে কেউ একজন একটা কথা বলে বললো কাউকে না বলার জন্য। কাউকে না বলার শর্তে আমি সেটা আরেকজনকে বলে দিলাম। এটা আমানতের খিয়ানত। এটা মুনাফেকি করা। জাহান্নামের উদ্বোধন হবে মুনাফিক দিয়ে। কাফের, মুশরিক দিয়ে নয়। [সূরাহ নিসা, ১৪৫ ও বুখারী, ৩৩]
● আমি গুলশানে দাঁড়িয়ে কাউকে মোবাইল ফোনে বললাম আমি তো মতিঝিল চলে এসেছি। এটাও মুনাফেকি। [সূরাহ নিসা, ১৪৫; বুখারী, ৩৩ এবং ইবনে হিব্বান, ৪১৮৭]
● কিছুদিন আগেও তুই আমার কাছে আসতি একটা চাকরির জন্য। চাকরি দিলাম। আজকে টাকা হয়েছে আর সব ভুলে গেলি? আল্লার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-এই জাতীয় কথা বলার (অর্থাৎ, দান করে খোঁটা দেয়া) পরিণাম জাহান্নাম। [সূরা বাকারা, ২৬৪; মিশকাত, ২৭৯৫; আবূ দাঊদ, ৪০৮৭; নাসাঈ, ২৫৬৩; তিরমিযী, ১২১১ এবং ইবনু মাজাহ, ২২০৮]
● রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একটা মেয়ের দিকে তাকালেন। মেয়েটা ইসলামি পোশাক পড়া না থাকলে উভয়েই যিনাকারী। [সূরা নূর, ৩০-৩১; বুখারী, ৬২৪৩ এবং মুসলিম, ৬৫১২]
● আপনি জীবিত এবং সুস্থ্য থাকা অবস্থায় আপনার স্ত্রী বাজার করে অথবা বেপর্দা ঘুরে। এই পুরুষ দাইয়ূস। এর অবস্থান সরাসরি জাহান্নাম। [মুসনাদে আহমাদ, ৫৮৩৯ ও সহিহুল জামে, ৩০৫২]
● সন্তান বড় হয়েছে অথচ তাকে পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষা দেননি। সালাতের জন্য তাগাদা দিচ্ছেন না। এই সন্তান তার বাবার ঘাড়ে সমস্ত দোষ চাপিয়ে জান্নাতে চলে যেতে পারে। বাবা আটকে যাবে। [আবূ দাউদ, ৪৯৫ ও মুসনাদে আহমাদ, ৬৬৮৯]
● আপনার (পুরুষের) পোশাক পায়ের টাখনুর নীচে থাকে। বিনা বিচারে জাহান্নামে যাওয়ার প্রস্তুতি আজই নিয়ে রাখেন। [আবূ দাঊদ, ৪০৮৭ ও নাসাঈ, ২৫৬৩]
● কারও হক্ব নষ্ট করেছেন বা দুর্নীতি করে টাকা ইনকাম করেছেন। যদি আখিরাতে বাঁচতে চান তবে যার টাকা বা হক্ব তাকে ফেরত দিন। আখিরাতে সে আপনার সমস্ত নেক আমল ধরে টান দিবে। [ইবনু মাজাহ; হাদিসে কুদসি, ১৪২; মিশকাত, ৩৭৫৩ এবং তিরমিযী, ২৪১৮]
● বয়স ছিলো, ক্ষমতাও ছিলো। রিক্সাওয়ালাকে বা কাজের লোককে একটা চড় মেরেছিলেন। এর নাম জুলুম। জাহান্নাম থেকে বাঁচতে হলে তার হাত ধরে ক্ষমা চেয়ে নিন। একদিন আপনার আমলনামা সে টান দিবেই। [সূরা আরাফ, ৪৪; সূরা শুরা, ৪২-৪৩; হাদিসে কুদসি, ১৪২ এবং তিরমিযী, ২৪১৮]
● (মহিলারা) গায়ে সুগন্ধি মেখে পর পুরুষের পাশ দিয়ে হেঁটে গেছেন। এরকম কাজ জীবনে যতবার করেছেন ততবার আপনি যিনার পাপ করেছেন। [তিরমিযী, ২৭৮৬; সহীহুল জামে, ৪৫৪০ এবং মুসনাদে আহমাদ, ১৯৩৬]
আর যতবার আপনি ভ্রু উঠিয়েছেন ততবার আপনি আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর নিকট হতে অভিশাপ পেয়েছেন। [বুখারী, ৫৯৪৮; মুসলিম, ২১২৪; আবু দাউদ, ৪১৬৮ এবং তিরমিযী, ২৭৮২]
● যতবার আপনি সুদ খেয়েছেন বা দিয়েছেন বা সুদের কাজে সহযোগিতা করেছেন ততবার আপনি আপনার মায়ের সাথে যিনার পাপ করেছেন। [মিশকাত, ২৮০৭ ও ২৮২৬]
● যতবার আপনি কোনও অমুসলিমকে খাইয়েছেন বা উপকার করেছেন ততবার আপনি দানের ছাওয়াব পেয়েছেন। আর যতবার আপনি তার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়েছেন বা তাকে এসএমএস দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ততবার আপনি শিরক করেছেন। আখিরাতে বিচার ছাড়াই আপনি জাহান্নামী। তাওবা করলে বেঁচে যাবেন। [সূরা আলে ইমরান, ৮৫; মিশকাত, ৪৩৪৭, ৪৬৮৯; তিরমিযী, ২৬৯৫; আবূ দাউদ, ৪২৫২; মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিস শাইখ ইবনে উছাইমীন ৩/৩৬৯]
● যতবার আপনি জন্মদিন, মৃত্যুদিন, বিবাহ বার্ষিকী, কুলখানি, চেহলাম বা কোনও দিবস পালন করেছেন ততবার আপনি বিদাত করেছেন। রাসুল (সাঃ) এর সুপারিশ আপনার জন্য প্রযোজ্য নয়। [বুখারী, ৫৭৭২; মুসলিম, ১৭১৮ ও মিশকাত, ১৪০]
উপরোক্ত গুনাহসমূহের মধ্যে যেগুলো আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত সেগুলো তাওবা করলে ক্ষমা হবে ইনশাআল্লাহ। কারন আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। [সূরাহ আন-নিসা, আয়াত : ১১৬]
আর গুনাহ যদি বান্দার সাথে সম্পৃক্ত হয় তবে তা বান্দার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় আখিরাতে তিনি মহাবিপদে পড়ে যাবো।
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
লেখাঃ ডা. সাঈদ

শিক্ষক  তার ছাত্রকে নিয়ে ফসলি জমির আইল ধরে হাঁটছিলেন। চলতে চলতে তারা একজোড়া পুরাতন জুতা দেখতে পেলো।তারা বুঝতে পারলো জু...
29/11/2020

শিক্ষক তার ছাত্রকে নিয়ে ফসলি জমির আইল ধরে হাঁটছিলেন। চলতে চলতে তারা একজোড়া পুরাতন জুতা দেখতে পেলো।

তারা বুঝতে পারলো জুতাজোড়া কোনো গরিব কৃষকের। হয়তো সে পাশেই কোনো জমিতে কাজ করছে। কিছুক্ষণ পরেই হয়তো
কাজ শেষ হলে তা নিয়ে যাবে।

ছাত্রটির মাথায় দুষ্টবুদ্ধি চেপে বসলো। সে বললো, উস্তাদজি! আমি যদি সেই কৃষকের সাথে মজা করে তার জুতোজোড়া
লুকিয়ে রাখি তাহলে কেমন হবে? সে যখন এসে তার জুতা পাবে না তখন তার আচরণ কেমন হয় তা দেখবো। দূর থেকে মজা নিবো!!

শিক্ষক বললেন, কাউকে অনর্থক কষ্ট দেয়া উচিৎ নয়। বাপু! তুমিতো ধনী বাবার সন্তান। তুমি চাইলে এই কৃষকের মাধ্যমে নিজের জন্য সৌভাগ্যের দ্বারকে খুলতে পারো। তার জুতাজোড়ার মাঝে কিছু টাকা গুঁজে রেখে লুকিয়ে লুকিয়ে তার চেহারার দ্বীপ্তি দেখতে পারো।

ছাত্রটি উস্তাদের গভীর প্রজ্ঞার পরিচয় পেয়ে আশ্চর্য হলো। উস্তাদের কথা মতো কৃষকের জুতার ভিতর কিছু টাকা রেখে তারা উভয়ে গাছের আড়ালে লুকিয়ে রইলো। টাকা পাওয়ার পর কৃষকের অবস্থা চাক্ষষ দেখার জন্য তারা অপেক্ষা করতে লাগলো।

খানিক সময় পর জরাজীর্ণ পোষাকের কৃষক কাজ শেষ করে ফিরে এলো। জুতা পায়ে দিতে গিয়ে সে জুতার ভিতর কোনো কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করে জুতাটি হাতে নিলো।

জুতার ভিতর টাকা দেখে তার চোখ দু’টো আনন্দে চিক চিক করে উঠলো। অপর জুতার মাঝেও টাকা দেখে সে যারপর নাই বিস্মিত হলো।
কৃষক ভ্রম কাটাতে বারবার টাকাগুলো ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে লাগলো। কয়েক বার এদিক সেদিক চেয়েও যখন আশে-পাশে কাউকে পেলো না তখন আস্তে করে টাকা গুলো পকেটে রাখলো। কৃতজ্ঞতায় সে হাটু ভাঁজ করে জমিনের উপর লুটিয়ে পড়লো।

কান্নাভেজা চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলতে লাগলো, “প্রভু! হাজার শোকর তোমার! হে প্রভু! তুমি জানো আমার স্ত্রী অসুস্থ। সন্তানগুলো ক্ষুধার্ত। ঘরে কোনো খাবারের ব্যাবস্থাও নেই। তুমি আমাকে ও সন্তানদের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছো।”

আল্লাহ তা'আলা র পক্ষ থেকে এমন করুণার প্রাপ্তি স্বীকার করে সে আকাশের দিকে তাকিয়ে কেঁদেই চললো।

কৃষকের আচরণ দেখে ছাত্রটি খুব প্রভাবিত হলো। অজান্তেই তার চোখ দু’টো অশ্রুতে ভরে উঠলো।
উস্তাদ বললেন, জুতা লুকিয়ে রাখার চেয়ে কি এখন নিজেকে বেশি সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে না নিজেকে?

:

ছাত্রটি কৃতজ্ঞতায় গদোগদো হয়ে বললো, গুরুজি! আমি আজ এমন এক শিক্ষা পেলাম যা আমরণ আর ভুলবো না। এমন কিছু অর্জন করেছি যা আমার অজানা ছিলো। আমি বুঝতে পেরেছি ‘গ্রহণ করার চেয়ে দানের মাঝেই অধিক তৃপ্তি।’

এবার উস্তাদজি তার ছাত্রকে উদ্দেশ্য করে বললেন, বাপু! দান-সদকা অনেক প্রকারের হয়ে থাকে।
যেমন:

১. প্রতিশোধ গ্রহণে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমা করে দেয়া সদকা।
২. অপর ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য কল্যাণের দোয়া করা সদকা।
৩. কাউকে মা’জুর মনে করে তার ব্যাপারে খারাপ ধারণা সরিয়ে নেয়া সদকা।
৪. কারো অনুপস্থিতিতে তার সম্পদের হেফাযত করা সদকা।
৫. মুসলমান ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা সদকা।
৬. অসুস্থদের সেবা করা সদকা। ইত্যাদি।

ছাত্রটি তন্ময় হয়ে উস্তাদের মুখপানে চেয়ে রইলো।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এমন সাদাকা করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

[সংগৃহীত]

২০০৪ এ ডেনমার্কে যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অবমাননা করা হয় তখন বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ হয়। অনেক দেশে  ঘেরাও করা হয় ড্যানিশ দূতাবাস।...
25/10/2020

২০০৪ এ ডেনমার্কে যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অবমাননা করা হয় তখন বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ হয়। অনেক দেশে ঘেরাও করা হয় ড্যানিশ দূতাবাস। ড্যানিশ পণ্য বর্জনের আহবান করা হয়। প্রথমে একগুয়েমি করলেও একসময় দুঃখপ্রকাশ করতে বাধ্য হয় ডেনমার্কের সরকার। ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী বলতে বাধ্য হয়, এই ঘটনা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডেনমার্কের জন্য সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সংকট। ২০১২ তে অ্যামেরিকাতে ইসলামবিদ্বেষী শর্ট ফিল্মে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অবমাননার পরও বিক্ষোভ হয় সারা বিশ্বে। এটা ছিল ৯/১১ এর পরের যুগে অ্যামেরিকার সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সংকটের অন্যতম। প্রথমে বাকস্বাধীনতার গালগপ্প করলেও বিক্ষোভের মুখে অ্যামেরিকাও পিছু হটতে বাধ্য হয় ডেনমার্কের মতোই।
ফ্রান্স এখন যা করছে তা আগের সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আগের ঘটনাগুলো ছিল কিছু লোকের ব্যক্তিগত কাজকর্ম। কিন্তু ফ্রান্সে রাষ্ট্রযন্ত্র, সরকার এবং সাধারণ জনগণ সামষ্টিকভাবে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অবমাননায় অংশ নিচ্ছে সক্রিয়ভাবে। খোলা রাস্তায় প্রজেক্টর দিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র দেখানো হচ্ছে। সেখানে অস্ত্র হাতে নিরাপত্তা দিচ্ছে ফ্রেঞ্চ পুলিশ তথা সরকার। ফ্রেঞ্চ প্রধানমন্ত্রী দম্ভভরে ঘোষণা দিচ্ছে তারা ‘কখনোই কার্টুন প্রদর্শন বন্ধ করবে না’। এরা বেইসিকালি সামষ্টিকভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।
বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ, পণ্য বর্জন – রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অবমাননাকারীর উপযুক্ত শাস্তি না। তবে এগুলোর ইফেক্টিভনেস একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং প্রতিবাদ করা আজ সব মুসলিমদের দায়িত্ব। বিশেষ করে ইসলামী দল, সংগঠন, আন্দোলন, আলিম এবং দা’ঈদের। সবার উচিৎ নিজ নিজ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিবাদ করা। স্পষ্টভাবে ফ্রান্স এবং পশ্চিমা বিশ্বের কাছে এ বার্তা দেয়া যে, মুসলিমরা এই অবমাননা সহ্য করবে না।
যদি আল্লাহ রাসূল ﷺ-এর অবমাননার প্রতিবাদে, তা প্রতিরোধে কিছু করা না যায়, তাহলে এতো ইসলামী দল, আন্দোল কিংবা সংগঠন থাকার কী ফায়দা? যদি প্র্যাগম্যাটিসমের দোহাই দিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সম্মান রক্ষায় অবস্থান নেয়া না যায় তাহলে ঐ প্র্যাগম্যাটিসমের কী দাম? আর এমন ইসলামী রাজনীতি কিংবা আন্দোলন করার কী অর্থ? এতো সব দল, সংগঠন, বক্তা, লেখক, বই, সেলিব্রিটি থাকার কী অর্থ? ইন ফ্যাক্ট, যদি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অবমাননার জবাবে কিছু করা না যায়, তাহলে ঐ জীবনের কী মূল্য?
ফ্রান্স এবং পশ্চিমা কুফফারকে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে যে আমাদের নবীর সম্মান এমন এক সীমা যার লঙ্ঘন আমরা মেনে নেবো না। রাসূলুল্লাহ ﷺ কে আক্রমন করা হলে এমন এক ঝড়ের জন্ম হবে যে ঝড়ের ধূলো কখনো মিটবে না।

- Asif Adnan হাফিজহুল্লাহ্

Address

Dhaka
1229

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Allure Emporium BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share