Science in Islam

Science in Islam bitch

10/06/2022

জ্ঞান-বিজ্ঞানে মহানবী (স.) ও মুসলিমদের অবদান সম্বন্ধে বিশ্বের বিভিন্ন মনীষীদের মন্তব্য

ইসলামিক শিক্ষা তথা মুসলিমদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ফলে বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয়। অন্যান্য জাতি মুসলিমদের সঞ্চিত জ্ঞান-বিজ্ঞান আহরণ করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উচ্চশিখরে পৌঁছে। এ বইতে (বিশ্ববাসী মুসলিমদের কাছে ঋনী) এতক্ষণ বর্ণিত তথ্যগুলো রিপ্লের ‘বিলিভ ইট অর নট’ থেকে উদ্ধৃত হয়নি। সেগুলো কোন মনগড়া কল্পকাহিনীও নয়। বরং এ কথাগুলো হচ্ছে ইতিহাস রচিত মুসলিমদের সত্যিকারের অবদানের কথা। যাদের নাম ইতিহাসের পৃষ্ঠাকে অলংকৃত করেছে। আর তা স্বীকার করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন সুচিন্তা ধারার মনীষীগণও। এখন শুনুন তাদের ভাষায় তাদের কথা।

* ফিলিপ কে হিট্টি বলেন : “নাবী -এর মৃত্যুর পর স্থবির আরব যেন এক ম্যাজিক বলে মহাবীরদের এমন এক শিশুশালায় পরিণত হয় সংখ্যায় ও মানে যার তুলনা পাওয়া দুষ্কর”। (সভ্যতার বিকাশে মহানবী- দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২৭/০২/২০১০ ইং)

* মহান চিন্তাবিদ টমাস কার্লাইল বলেন : “এই আরব জাতি, এই মহাপুরুষ মুহাম্মাদ আর মাত্র এক শতাব্দীÑ যেন একটি, মাত্র একটি, অগ্নিস্ফুলিঙ্গ অনুধাবনযোগ্য, তমসাচ্ছন্ন বালুকাস্তূপে পতিত হলো। কিন্তু দেখুন! এই বালুকারাশি বিস্ফোরক বারুদে পরিণত হয়ে দিল্লী থেকে গ্রানাডা পর্যন্ত আকাশমণ্ডলী প্রদীপ্ত করলো”। (বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে আল্লাহ ও মুহাম্মাদ - পৃঃ ১৩৬)

* তিনি তাঁর গ্রন্থে আরও উল্লেখ করেন : “এরূপ মহাপুরুষের [মহানাবী -এর] বাণী প্রকৃতির হৃদয় থেকে সরাসরি উৎসারিত। মানব সমাজের এইসব বাণী শোনা এবং অনুসরণ করা ব্যতীত আর কিছুই করার নেই। এগুলোর সাথে তুলনা করলে অন্যগুলো শুধু বায়বীয় পদার্থ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে”। (অলৌকিক কিতাব আল কুরআন- পৃঃ ৩৪)

* মহাত্মা গান্ধী বলেন : “পাশ্চাত্য জগত যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত, আকাশে তখন উঠেছিল একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র [মুহাম্মাদ ] যা আলো বিকিরণ করেছিল এবং গভীর আর্তনাদময় পৃথিবীকে দিয়েছিল স্বস্তি”। (বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে আল্লাহ ও মুহাম্মাদ - পৃঃ ১৩৯)

* লন্ডনের সায়েন্স মিউজিয়ামের পরিচালক অধ্যাপক ক্রিস র‌্যাপলে বলেন : “পশ্চিম যখন অন্ধকারে ছিল, তখন মুসলিম বিশ্বই জ্ঞানের মশাল বহন করেছে”। (লুকানো ইতিহাসের প্রদর্শনী লন্ডনে শুরু- দৈনিক কালের কন্ঠ, ২৩/০১/২০১০ ইং)

* অধ্যাপক সালিম আল হাস্সানি বলেন : “যদি আপনি অন্য সংস্কৃতির অবদানকে অবহেলা করেন, তবে তা সাংস্কৃতিক আধিপত্যের প্রকাশ। আজকে আমাদের যা আছে, তার পেছনে অন্য জাতি ও সংস্কৃতির অবদানকে জানতে হবে এবং শ্রদ্ধা করতে হবে”। (লুকানো ইতিহাসের প্রদর্শনী লন্ডনে শুরু- দৈনিক কালের কন্ঠ, ২৩/০১/২০১০ ইং)

* রবার্ট বিফ্রো বলেন : “আধুনিক বিজ্ঞান শুধু চমকপ্রদ আবিষ্কার বা যুগান্তকারী তত্ত্বকথার জন্যই আরবদের (মুসলিমদের) কাছে ঋণী নয়, আধুনিক বিজ্ঞান তার অস্তিত্বের জন্যই আরবদের কাছে চিরঋণী”। (মহানবী সম্পর্কে কটূক্তি প্রসঙ্গে- দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২২/০২/২০১৩ ইং)

* পণ্ডিত জওহর লাল নেহেরু বলেন : “প্রাচীনকালে মিসর, চীন বা ভারতে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ার কোন নিদর্শন আমরা পাইনি। প্রাচীন গ্রিসে এর ছিটেফোঁটা দেখতে পাওয়া যায়। রোমেও এটির অনুপস্থিতি ছিল। কিন্তু আরবদের এ বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা ছিল। সুতরাং তাদেরই আধুনিক বিজ্ঞানের জনকরূপে পরিচিহ্নিত করা যায়”। (সভ্যতার বিকাশে মহানবী - দৈনিক নয়া দিগন্ত, ২৭/০২/২০১০ ইং)

26/03/2022

😆🤣

হিন্দু মা ও ছেলের কিছু কথোপকথন।
🙄ছেলে = মা তাজমহল এতো সুন্দর তাজমহল আমরা বানিয়েছি তাই না ???
😥 মা = জ্বী না , যিনি বানিয়েছিলেন উনার নাম শাজাহান বাদশা , উনি মুসলিম ছিলেন ।
ছেলে = ওহ । আচ্ছা তাহলে কুতুবমিনার নিশ্চয়ই আমরা বানিয়েছি ???🙄
মা= জ্বী না । উনিও মুসলিম ছিলেন । উনার নাম কুতুবুদ্দিন আইবক ।😥
ছেলে = । তাহলে লালকেল্লা নিশ্চয়ই আমরা বানিয়েছি ??🙄
মা = না । ওটাও মুসলিম শাসকরা বানিয়েছে ।🤧
ছেলে = তাহলে পুরাতন কেল্লা আমরা বানিয়েছি ??🙄
মা= না। পুরাতন কেল্লা মুসলিমরা বানিয়েছে ।😔
ছেলে =তাহলে চারমিনার নিশ্চয়ই আমরা বানিয়েছি😕
মা= না। চারমিনার মুসলিম শাসকরা বানিয়েছে।😟
ছেলে = মা আমি শুনেছি ভারত প্রথম মিসাইল তৈরি করেছিল , মিসাইল হিন্দু শাষকরা বানিয়েছে তাই না😀
মা= না । ভারতে প্রথম মিসাইল আবিষ্কার করেছিলেন টিপু সুলতান । উনিও মুসলিম।😪
ছেলে= মা আমি শুনেছি ভারতের সবচেয়ে বড় ও পুরাতন রোড গ্ৰান্ড ট্রাঙ্ক রোড ।
প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত ।
আচ্ছা মা সেটা তো আমরা বানিয়েছি ??😌
মা=না । গ্ৰান্ড ট্রাঙ্ক রোড আমরা বানায়নি ।
গ্ৰান্ড ট্রাঙ্ক রোড একজন মুসলিম শাসক বানিয়েছি , উনার নাম শের শাহ 🙁
ছেলে = তাহলে মোঙ্গলদের সাথে যুদ্ধ আমরা করেছি , তাই না ?? 🤗
মা = না । আলাউদ্দিন খলজি মোঙ্গলদের সাথে যুদ্ধ করেছেন । সেই যুদ্ধে আলাউদ্দিন খলজি যদি পরাজিত হতো , তাহলে আজ ভারত ধ্বংস হয়ে যেতো ।😟
ছেলে = আচ্ছা তাহলে হাজারদোয়ারি পেশেস নিশ্চয়ই আমরা বানিয়েছি ??😲
মা = না বেটা । ওটাও মুসলিম শাসকরা বানিয়েছে।😔
ছেলে = আচ্ছা তাহলে মুঘল সাম্রাজ্য আমাদের ছিল, তাই না ???😯
মা = না । মুঘল সাম্রাজ্য মুসলিমদের সাম্রাজ্য ছিল ।😒
ছেলে = আচ্ছা জয় হিন্দ , এই শব্দটি আমরা প্রথম তৈরি করেছিলাম , তাই না ??🤤
মা = না । ওটাও একজন মুসলিম প্রথম বলেছিল ।😢
ছেলে = আচ্ছা মা , সারে জাহাসে আচ্ছা হিন্দুস্তান হামারা , এই শব্দটি আমরা প্রথম বলেছিলাম , তাই না ??? 🙂
মা = না , ওটা একজন মুসলিম কবি লিখেছিলেন । উনার নাম ইকবাল ।😢
ছেলে = আচ্ছা তাহলে ভারতের পতাকা আমরা বানিয়েছি, তাই না ???😯
মা = হ্যাঁ , তবে বলতে গেলে না । ভারতের পতাকা পিঙ্গলি ভেনকায়া তৈরি করলেও , তো
উনার তৈরি করা পতাকাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি ।
ভারতের পতাকার Latest Update করেছিলেন একজন মুসলিম মেয়ে । উনার নাম সুরিয়া তৌওবজি , উনার বাড়ি হায়দ্রাবাদে ।😞
ছেলে = তাহলে প্রথম Satellite launch করেছিলাম আমরাই,তাই না মা ???😀
মা = জ্বী না । ভারত অনেক বার Satellite launch করেছিল , কিন্তু প্রতিবারই Failed হয়েছে ।
তারপর APJ. Abdul Kalam Azad প্রথম Successful ভাবে Satellite launch করেছিল ।😤😖
উনি না থাকলে আজ ভারত Satellite launch করতে পারতো না । 😭
ছেলে = তাহলে Nuclear weapons নিশ্চয়ই আমরা বানিয়েছি ???😡
মা = না । Nuclear weapons একজন মুসলিম আবিষ্কার করেছে ।
উনার নাম APJ Abdul Kalam Azad । 😭
উনি Nuclear weapons তৈরি না করলে আজকে চীন ও পাকিস্তান মিলে আমাদের আদর করতো ।😱
ছেলে = ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ভারত ছোড়ো আন্দোলন প্রথম আমরা করেছিলাম তাই না ??😨
মা = না । ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রথম আন্দোলন শুরু করেছিল টিপু সুলতান ।😭

তাইলে আমরা কি করছি????? 😤
গোমুত্র পান করছি আর কি ?? 😭 এইবার থাম,

💞 অন্ধকারাচ্ছন্ন ইতিহাসের দুনিয়া থেকে বের হয়ে সত্যেকে জানুন 💙

সংগ্রহীত ও পরিমার্জিত

14/03/2022

বলিউড ফিল্মে পতিতার আমদানী ও আমাদের চর্চা

হলিউডে বহু আগেই পতিতার অনুপ্রবেশ ঘটলেও ইদানিং বলিউডেও শুরু হয়েছে এই আস্ফালন। ভারতীয় ফিল্মে এখন যেন ক্যামেরার সামনে সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে যৌন দৃশ্যে অভিনয় করাটা স্বাভাবিক ব্যাপার। শরীরের যাদু দিয়েই তারা কাবু করতে চায় দর্শকদের। যার দরুন বর্তমান সময়ে শুরু হয়েছে ইরোটিক (কামদ) সিনেমা। যেখানে থাকে ছাত্র হয়ে শিক্ষিকার দিকে কামোদ্দোপনায় তাকানো-প্রেমে পড়া, স্তনযুগল দেখানো, সঙ্গমদৃশ্যসহ যৌনতার চূড়ান্ত প্রদর্শন। আর এতে পতিতাদের ব্যবহার করা হচ্ছে পুরোদমে। তাদেরকে কাজে লাগাতে সামান্যতমও পিছপা হন না প্রযোজকরা। আফসোস! আমাদের মিডিয়াতেও এগুলোকে তুলে ধরা হয় সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে।

ইতোমধ্যেই ভারতীয় ফিল্মে প্রবেশ করেছে পর্নষ্টার (নায়িকা) খ্যাত পতিতা। যারা এখন যৌনকর্মীর সাথে বলিউডের স্টার, শিল্পী। আগে শুধু ফিল্ম জগতের নায়ক-নায়িকাদের সেলিব্রেটি বললেও এখন পর্নো পতিতারাও সেই খ্যাতি অর্জন করতে চলেছে। যাদের ইমেজকে পুঁজি করে বিরাট ব্যবসা করছে বলিউড। ফিল্ম জগৎ যে কত বড় অশ্লীলতার কারখানা তা শুধু এ উদাহরণ থেকেই অনুমান করা যায় সহজে। এখানে নীতি-নৈতিকতার কোনো বালাই নেই। এটা তাদের কাছে ব্যবসা এখানে সব চলে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম, টিভি-শো, শপিং মল/শপ উদ্বোধন ইত্যাদি কাজে এদের বিচরণ সরব। এরই মধ্যে ফিল্মে যৌনতায় আলোড়ন সৃষ্টিকারী এক পর্নো পতিতা পর্ন বিনোদনের প্রযোজনা সংস্থা খোলারও ইচ্ছা পোষণ করেছেন অকপটেই। তার ভাষায়- ‘এটি ব্যবসায়িক দিক দিয়ে ভাবলে (নাকি) অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত’ (দৈনিক যুগান্তর- ২৭/০১/২০১৪ ইং)। এদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ২০১৭ সালে এক বলিউড ফিল্মী নায়িকা পর্নো ছবিতে কাজ করার আগ্রহ জানান। চড়া সম্মানী পেলে তার নাকি পর্নো ছবিতে কাজ করতে কোনো দ্বিধা নেই, কারণ এটাও তার কাছে নাকি একটি কাজ! (একুশে টেলিভিশন ০৬/০৮/২০১৭ইং)। যদিও ভারতসহ আমাদের উপমহাদেশে তা নিষিদ্ধ। অনেকদিন আগে ব্যাঙ্গালোর শহরে উক্ত পর্ননায়িকা খ্যাত পতিতার নাচের ‘লাইভ অনুষ্ঠান’ করতে বাধা দেয়ায়, ভারতের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা বলেন, “আর এক্ষেত্রে (পর্ননায়িকাকে) পারফর্ম করতে দেব না কারণ তিনি পর্নস্টার ছিলেন, এই যুক্তিটা ভীষণ হাস্যকর। কারণ আমাদের দেশে পর্ন তো এমনিতেই কম জনপ্রিয় নয়! আর ভারতে চারিত্রিক নৈতিকতার সংজ্ঞাই বা কী, যেখানে বিশ্বের সেক্স ইন্ডাস্ট্রির প্রধান উৎস কামসূত্রের জন্মই এদেশে!, সেই উনিশ শতকে ন’টি বিনোদিনের সময় থেকেই ভারতে থিয়েটার বা চলচ্চিত্র জগতের অভিনেত্রীরা যে ঠিক পর্ন ইন্ডাস্ট্রি না হোক- দেহপসারিণী বা বাইজির মতো অনুরূপ পেশা থেকেই উঠে এসেছিলেন, সে কথাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন” (ইইঈ ঘঊডঝ বাংলা- ২৫/০৯/২০১৮ইং)।

এছাড়াও ভারতীয় বিনোদন জগতের একাধিক অভিনেত্রীদের নামে যৌন ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে বেশ কয়েকবার। কখনও প্রত্যক্ষ ভাবে, কখনও বা পরোক্ষ ভাবে দেহব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া কয়েকজন পরিচিত ও জনপ্রিয় অভিনেত্রীর কথা প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ‘আনন্দ বাজার পত্রিকা’ (দৈনিক কালে কন্ঠ ১২/১২/২০১৯ইং)।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের বাংলাদেশের সমাজেও অনেকেই ভারতের পর্ননায়িকাদের অনুকরণে সদা ব্যস্ত। কয়েকবছর আগে জনৈক পর্ননায়িকাকে স্টেজ-শো করাতে আহ্বানও করা হয় আমাদের এ দেশে (দৈনিক নয়া দিগন্ত ০১/০৯/২০১৫ইং)। পরে সচেতন মহল ও ‘আলিম-‘উলামাদের প্রতিবাদে তা বাতিল করা হলেও, ২০১৯ সালে এপ্রিলে দেশের বাইরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ‘ঢালিউড ফিল্ম অ্যান্ড মিউজিক অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে তিনি অংশগ্রহণ করেন। আর নেচে, গেয়ে তার অশ্লীলতা ও যৌনতার বার্তা ছড়িয়ে দেন (দৈনিক প্রথম আলো ০৯/০৪/২০১৯ইং)। তাকে আবার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে সম্মাননাও জানানো হয় (দৈনিক কালের কণ্ঠ ১০/০৪/২০১৯ইং)। কিন্তু এতো আমাদের বাঙালী সংস্কৃতির উপর সরাসরি কুঠারাঘাত। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো সাংস্কৃতিক প্রোগ্রামে কোনো বেশ্যামেয়ের সরাসরি উপস্থিতি এটাই প্রথম। কতটা নিচু চিন্তা-ভাবনা হলে এরূপ আয়োজন করা হয় তা সত্যিই ভাবনীয়। এতকিছুর পরও ২০২২ সালে বাংলাদেশের এক সংগীত পরিচালকের মেয়ের বিয়েতে পারিবারিক রেশ ধরে সরকারী নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও পরিচয় গোপন করে ভিসা নিয়ে ঢাকায় আসেন ঐ বিতর্কিত ভারতীয় অভিনেত্রী তারকাখ্যাত পতিতা (সময়েরে কন্ঠস্বর ১২-১৩/০৩/২০২২ইং)। পাশাপাশি বাংলাদেশের শোবিজের একাধিক জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ও অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ছিলেন ঐ অনুষ্ঠানে তার সাথে যোগদান করে নাচ-গানে। (সময়েরে কন্ঠস্বর ১৩/০৩/২০২২ইং।)

বেশ্যালয়ের পতিতা আমাদের কাছে ঘৃণিত কিন্তু ফিল্ম জগতের নায়িকা আমাদের কাছে খুবই প্রশংসনীয়। হোক না সে পর্নকর্মী, নায়িকাতো। আহা! নৈতিকতার কি অধঃপতন! বাপ-ছেলে, মা-মেয়ে গোটা পরিবার একসাথে উপভোগ করছে এদের নোংরামি। আসলে কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে যুদ্ধবিগ্রহের পরিবর্তে এক বিকল্প পন্থা হচ্ছে, সে জাতির মধ্যে অশ্লীলতা, ব্যভিচার প্রচলন করে দেয়া। যা হিন্দি ফিল্মের মাধ্যমে আমাদের সমাজে অনেকটাই কার্যকর।

09/03/2022

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
ইসলাম নারীদেরকে প্রয়োজনে বাইরে বের হতে বাধা দেয় না

ঘর হল নারীদের বিচরণক্ষেত্র। তাদেরকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়ে মহান আল্লাহ বলেন : “তোমরা (নারীরা) তোমাদের ঘরে অবস্থান কর, প্রাচীন মূর্খ যুগের মতো সাজ-সজ্জা করে বের হইও না”। (সূরাহ্ আল আহযাব ৩৩ : ৩৩)
এর অর্থ এই নয় যে, নারীরা ঘর থেকে বের হতে পারবে না, পুরুষকেই তার যাবতীয় প্রয়োজন সেরে দিতে হবে। আপনার স্ত্রীর/কন্যার/বোনের একান্ত কোন প্রয়োজনে বাইরে বের হতেই হয় তবে ইসলাম এর অনুমোদন করে। কারন মানুষের প্রয়োজন থাকতেই পারে। কিন্তু নারী-পুরুষ মেলামেশা ইসলাম কখনোই অনুমোদন করে না, যতই প্রয়োজন হোক না কেন। এর সমাধান আল্লাহ্ সুবহানাহূতা‘আলা বলে দিয়েছেন : ‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনা নারীদেরকে বলুন, তারা যেন নিজেদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু”। (সুরাহ্ আল-আহযাব : ৫৯)

হিজাবের বিধান নাযিল হওয়ার পর ‘উমার (রাঃ) সাওদাহ্ (রাঃ)-কে বাইরে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিষয়টি সাওদাহ্ (রাঃ) রাসূল (স.)-কে জানান। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বাইরে গিয়েছিলাম। তখন ‘উমার (রাঃ) আমাকে এমন এমন কথা বলেছে। তখন রসূলুল্লাহ্ (স.) বললেন, অবশ্য দরকার হলে তোমাদেরকে বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। (সহীহুল বুখারী হাঃ ৪৭৯৫ তা.প্র.)

অন্য হাদীছে এসেছে, জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার খালাকে তিন তালাক দেয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় (ইদ্দতের সময়সীমার মধ্যে) একদিন তিনি স্বীয় বাগানের খেজুর পাড়তে চাইলে জনৈক ব্যক্তি তাকে ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করলেন। এতদসম্পর্কে তিনি রসূলুল্লাহ (স.)-কে জানালেন। তিনি (স.) বলেন, হ্যাঁ, তুমি বের হয়ে তোমার বাগানের খেজুর পাড়তে পার। কেননা তুমি তো তোমার খেজুরের বিনিময়ে সাদাকা করবে বা অন্য কোনো সৎকাজ করবে। (মুসলিম হাঃ ১৪৮৩, মিশকাতুল মাসাবীহ্ হাঃ ৩৩২৭ হা.এ.)
উল্লেখিত হাদীসগুলো প্রমাণ করে যে, কোন উপার্জনকারী না থাকলে নারী জীবিকার জন্যও বাইরে যেতে পারে। সুতরাং খুব বেশী প্রয়োজনেও বাইরে বের না হওয়া এবং সামান্য কিছুতেই ঘন ঘন বাইরে যাওয়া এই দু’টির মাঝের অবস্থাটি ইসলাম অনুমোদন করে।

উম্মু আত্বিয়্যাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (স.)-এর সাথে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। মুজাহিদগণ যখন ময়দানে যুদ্ধরত থাকতেন, তখন আমি তাঁবুতে তাদের যুদ্ধাস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ করতাম, খাবার তৈরি করতাম এবং আহত সৈন্যদের পরিচর্যা ও রোগীর সেবা-শুশ্রƒষা করতাম। (মুসলিম হাঃ ১৮১২, মিশকাতুল মাসাবীহ্ হাঃ ৩৯৪১ হা. এ.)

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) যখনই কোনো যুদ্ধাভিযানে বের হতেন তখন উম্মু সুলায়ম (রাঃ) (আনাস (রাঃ)-এর মা) এবং অন্যান্য আনসারী মহিলাগণ জিহাদে শামিল থাকতেন। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এ সমস্ত মহিলাগণ সৈন্যদেরকে পানি পান করাতেন এবং আহতদের সেবা-শুশ্রƒষা করতেন। (সহীহ মুসলিম হাঃ ১৮১০, মিশকাতুল মাসাবীহ্ হাঃ ৩৯৪০ হা. এ.)

উহুদ যুদ্ধ শেষে কিছু মুসলিম মহিলা ময়দানে আগমন করেন। তাঁদের মধ্যে মা-আয়িশা বিনতে আবু বকর (রাঃ), আনাস (রাঃ)-এর মা উম্মে সুলায়েম, আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)-এর মা উম্মে সুলাইত, মুস‘আব বিন উমায়ের (রাঃ)-এর স্ত্রী হামনাহ বিনতে জাহশ আল-আসাদিইয়াহ প্রমুখ ছিলেন। যারা পিঠে পানির মশক বহন করে এনে আহত সৈনিকদের পানি পান করান ও চিকিৎসা সেবা দান করেন। (বুখারী হাঃ ৪০৬৪, ২৮৮১; ত্বাবারাণী, সনদ হাসান, মাজমা‘উয যাওয়ায়েদ হাঃ ১৫৪২৪)

সাহল ইবনু সা‘দ সা‘ঈদী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নাবী (স.) এর মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ চূর্ণ করে দেয়া হল, আর তাঁর মুখমন্ডল রক্তাক্ত হয়ে গেল এবং তাঁর রুবাঈ দাঁত ভেঙ্গে গেল, তখন ‘আলী ঢাল ভর্তি করে পানি দিতে থাকলেন এবং ফাতিমাহ এসে তাঁর চেহারা থেকে রক্ত ধুয়ে দিতে লাগলেন। ফাতিমাহ্ যখন দেখলেন যে, পানি ঢালার পরেও অনেক রক্ত ঝরে চলছে, তখন তিনি একটি চাটাই নিয়ে এসে তা পুড়ালেন এবং নাবী (স.) এর যখমের উপর ছাই লাগিয়ে দিলেন। ফলে রক্ত বন্ধ হয়ে গেল। (সহীহুল বুখারী হাঃ ৫৭২২ তা.প্র.)

এসকল হাদীস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় দেশ, সমাজ, পরিবার গঠনে নারীর ভূমিকাও অপরিসীম। একজন নারী যুদ্ধের ময়দানে অংশগ্রহণ করেছে, বাইরে বের হয়ে এর চেয়ে বড় কল্যাণকর কাজের উদাহরণ আর কি হতে পারে? সুতরাং যারা বলে ইসলাম শুধু নারীদেরকে চার দেয়ালের মাঝে আবদ্ধ করে রাখতে চায়, ইসলাম ধর্মে নারীদের স্বাধীনতা বলে কিছুই নেই তাদের ধারণা নিতান্তই ভুল। তবে একটি সুস্থ সমাজে বেপর্দা, বেহায়াপনা, উগ্রবাদ, উচ্ছৃঙ্খল কখনই কোন কালেই মোটেও কাম্য নয়।

ইসলাম নারীকে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন ও প্রচারের কাজে বাইরে বের হতে বাধা দেয় না। সে নিরাপদ স্থানে থেকে নারীদের মাঝে দাওয়াত দেবে। তার কাছে অন্য মহিলারা প্রশিক্ষণ নেবে, পরামর্শ নেবে এতে কোন বাধা নেই। যেমন মা-আয়িশাহ্ ও অন্যান্য উম্মাহাতুল মু’মিনীনের কাছে নারীরা যাতায়াত করতেন।
রাসূলুল্লাহ (স.) এরশাদ করেন, “প্রত্যেক মুসলিমের (নর-নারী) জন্য বিদ্যা অর্জন করা ফরয”। (ইবনে মাজাহ, হাঃ ২২৪)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, আনসারী মহিলারা কতই না উত্তম! দ্বীনী জ্ঞান অর্জনে লজ্জা তাদেরকে আটকে রাখতে পারেনি। (বুখারী ১ম খন্ড অধ্যায় : ‘ইলম শিক্ষা করতে লজ্জাবোধ করা’, অধ্যাঃ ৫০ পৃঃ ৮১ তা.প্র.)

সলাত আদায়ের জন্য মাসজিদে যাওয়ারও অনুমতি রয়েছে। নাবী (স.) বলেন, “আল্লাহর বান্দীদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করো না, যদিও তাদের ঘরই তাদের জন্য ভালো।” (সূনান আবু দাউদ হাঃ ৫৬৭ সহীহ ই.ফা.)
“আল্লাহর বান্দীদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করো না, তবে তারা যেন খুশবূ ব্যবহার না করে সাদাসিধা ভাবে আসে।” (সূনান আবু দাউদ হাঃ ৫৬৫ হাসান ই.ফা.)
‘আয়িশাহ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (স.) যখন ফজরের সালাত শেষ করতেন তখন নারীরা চাদরে সর্বাঙ্গ আচ্ছাদিত করে ঘরে ফিরতেন। অন্ধকারের দরুণ তখন তাঁদেরকে চেনা যেতো না। (সহীহুল বুখারী হাঃ ৮৬৭ তা.প্র.)

তবে উল্লেখিত সবকিছুরই শর্ত হল নারী যখন বের হবে তখন সে নিজেকে হিজাব দ্বারা আবৃত করে নিবে এবং গন্তব্যস্থান ও প্রতিষ্ঠানেও হিজাবের নিশ্চয়তা থাকতে হবে, কেননা এ হিজাব তার জন্য ফরয। যা কিনা উল্লেখিত উপরোক্ত আয়াতে বলা হয়েছে, ‘হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিনা নারীদেরকে বলুন, তারা যেন নিজেদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করা হবে না’ (সূর্হা আল-আহযাব : ৫৯)। অন্যত্র আল্লাহ আরো বলেন, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে কোমল কণ্ঠে কথা বলো না। নতুবা যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা লোভ করে বসবে’। (সূরাহ্ আল-আহযাব : ৩২)

04/03/2022

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
কুরআন ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে- ‘দৃষ্টি সংযত রাখা’

আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন : “মু‘মিন পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হিফাযত করে....আর মু‘মিনা নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হিফাযত করে...।” (সূরাহ্ নূর : ৩০-৩১)
উল্লেখিত আয়াতে আল্লাহ্ তা‘আলা মু‘মিন পুরুষ ও নারীদেরকে আগে দৃষ্টি সংযত করতে বলেছেন এরপর যৌনাঙ্গের হিফাযত করতে বলেছেন। কারণ অনৈতিক কিছু করার আগে মানুষের চোখই তথা দৃষ্টিপাতই প্রথম ভূমিকা পালন করে। যা একালের বিজ্ঞানের গবেষণায় বিষয়টি স্পষ্ট।
প্রথম দেখাতেই মানুষের মন বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আবেগতাড়িত হওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করে দিয়েছেন। তারা বলেছেন, এরকম আবেগতাড়িত হতে সেকেন্ডে পাঁচ ভাগের এক ভাগ সময়ই যথেষ্ট। দেখার পর আবেগে পড়ার প্রথম অনুভূতির সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের ১২টি অংশে এর প্রভাব পড়ে। তখন চার ধরনের হরমোন নিঃসরণের কারণে দেহ-মনে ছড়িয়ে পড়ে ভালো লাগা। এবং দুজনই দুজনার প্রতি তীব্র টান অনুভব করেন। (কোকেনসম প্রেম-দৈনিক কালের কন্ঠ-২৭/১০/২০১০ইং।)

উল্লেখিত আয়াতে আরেকটি বিষয় পরিলিক্ষিত হয় যে, মহান আল্লাহ নারীদের চেয়ে আগে পুরুষদের দৃষ্টি সংযত করার কথা বলেছেন। আর বর্তমানে বৃটিশ সাইকোলজিক্যাল সোসাইটির অন্যতম সদস্য ‘আলেকজান্ডার গর্ডন’ জানিয়েছেন, নারী-পুরুষ উভয় পরষ্পরের প্রতি আকর্ষণ হওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে পুরুষরা এগিয়ে। অর্থাৎ কোনো মেয়েকে প্রথমবার দেখার পর একজন পুরুষের মনে যতটা সহজে আকর্ষণ অনুভূতি তৈরি হয় মেয়েদের মনে ততটা সহজে হয়না (প্রথম দেখায় প্রেম-দৈনিক ইত্তেফাক ০৭/০৯/১০ইং)। অর্থাৎ কুরআনের ঘোষণা আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত।

আধুনিক বিজ্ঞান বলছে, নারীর চোখ ও দেহকোষে পুরুষের কামুক লোভাতুর দৃষ্টি পতিত হলে একপ্রকার রাসায়নিক ক্রিয়া সাধিত হয়। ফলে প্রবল ঝড় বইতে থাকে নারীর দেহে ও মনে এবং সৃষ্টি হয় উত্তেজনার। এটি গর্ভবতী নারীদের ওপর এক অধিক ক্রিয়াশীল হয় যে, এর প্রতিফলিত রশ্মি জরায়ুর অভ্যন্তর ভাগ ভেদ করে পতিত হয় গর্ভস্থ সন্তানের ওপরও। ফলে দেখা দেয় নারীদেহে দুর্বলতা, ব্যাপকভাবে কমতে থাকে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা। এ কারণে গর্ভাবস্থায় নারীর মনে যে ছবিটি দাগ কাটে, গর্ভের সন্তান শারীরিক কাঠামো ও বর্ণের দিক দিয়ে সেরূপই হয়ে থাকে। দৃষ্টিপাতকারীর চরিত্র ও অভ্যাস রেখাপাত করে গর্ভের সন্তানের ওপর (বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে পর্দা পৃঃ ১৪)। শত শত বছর আগে পবিত্র কুরআনের দেয়া ঘোষণা আজকে এভাবেই বিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত হচ্ছে।

02/03/2022

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
রূপান্তরিত লিঙ্গ (ট্রান্সজেন্ডার) ও ইসলামের নির্দেশ

দক্ষিণ এশিয়ায় ‘হিজড়া’ বলতে সাধারণত আন্তঃলিঙ্গ, উভলিঙ্গ, তৃতীয় লিঙ্গ বা রূপান্তরিত নারী-পুরুষদের বোঝানো হলেও রূপান্তরিত নারী-পুরুষ ও হিজড়ার মধ্যে রয়েছে বিশাল পার্থক্য। লাইভসাইন্স-এর মতে, “ট্রান্সজেন্ডার (রূপান্তরিত লিঙ্গ) হলো একটি সর্বজনীন টার্ম, যা এমন মানুষদের নির্দেশ করে যাদের লিঙ্গ পরিচয় বা সেই পরিচয়ের প্রকাশ তাদের জন্মের সময়ে নির্ধারিত লিঙ্গের সাথে মিলে না”। (The ঢাকা Apologue- thisistda.net 29/09/2020.)
দৈহিক বা জিনগত পুরুষ ও নারীর মধ্যবর্তী জন্মগতভাবে কোনো অবস্থানের ব্যক্তিরাই হিজড়া। চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুসারে, ক্রোমোজমের ত্রুটির কারণে জন্মগত যৌনপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি যাদের দৈহিক বা জেনেটিক কারণে নারী বা পুরুষ কোনো শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত করা যায় না, সমাজে তারা হিজড়া হিসেবে পরিচিত (দৈনিক নয়া দিগন্ত ০৭/০৩/২০২১ইং)। আর রূপান্তরিত নারী-পুরুষ বলতে বুঝায় কোন ব্যক্তি সম্পূর্ণ নারী বা পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও সেক্স রিঅ্যাসাইনমেন্ট সার্জারির মাধ্যমে রূপান্তরিত মানবে (Transexual) পরিণত হন। এদেরকে রূপান্তরকামী নারী বা রূপান্তরকামী পুরুষ বলে (উইকিপিডিয়া)। এখানে ছেলের শরীর নিয়ে জন্মে কিন্তু মনে মনে নারী সত্তায় অবস্থান করেন এবং একসময় তাদের শরীরটাকেও নারীর দিকেই নিয়ে যায়। একইভাবে নারীর শরীর নিয়ে জন্মে মনে মনে পুরুষের সত্তায় বেঁচে থাকতে নিজেকে পরিবর্তন করে পুরুষ হিসেবে (বাংলা ট্রিবিউন৩১/০৩/২০২১ইং)। বাংলাদেশে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, হিজড়া হচ্ছে একটি সংস্কৃতি। ‘হো চি মিন ইসলাম’ (ট্রান্সজেন্ডার অ্যাক্টিভিস্ট) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, হিজড়া হচ্ছে একটা কালচার, প্রথা বা পেশাও বলা যেতে পারে। ট্রান্সজেন্ডার সেই প্রথা কালচার না, এটা জেন্ডার আইডেন্টিটি, লিঙ্গীয় পরিচয় (বাংলা ট্রিবিউন ৩১/০৩/২০২১ইং)। অথচ আমাদের দেশ সহ সারা বিশ্বে হিজড়া ও রূপান্তরিত মানবকে এক কাতারে ফেলছে। একটি প্রকৃতিগত আরকটি সৃষ্টির বিকৃতি। যা মুসলিম হিসেবে আমাদের জন্য বৈধ নয়। অথচ ইদানিং আমাদের দেশে এর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে অনেক। অনেক মিডিয়াও এদের পক্ষ হয়ে কাজ করছে জোরালোভাবে তারা একে বৈধভাবে উপস্থাপন করছে। বলা হচ্ছে এটা তার মানবিক অধিকার।

বাংলাদেশের সমাজসেবা অধিদফতর হিজড়ার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বললেও বেসরকারি হিসাব মতে এর সংখ্যা আড়াই লাখ (দৈনিক নয়া দিগন্ত ০৭/০৩/২০২১ইং)। হিজড়া বাংলাদেশের একটি স্থানীয় সম্প্রদায়, যার অধিকাংশই ট্রান্সজেন্ডার (সহজ বাংলায়, রূপান্তরিত লিঙ্গ) মানুষদের নিয়ে গঠিত। (The ঢাকা Apologue- thisistda.net 29/09/2020.)

পাশ্চাত্যে লিঙ্গ পরিবর্তনের (Gender reassignment) প্রবণতা লক্ষণীয়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নারী বা পুরুষ লিঙ্গ বদল করে তার পছন্দের জীবন বেছে নেয়ার ঘটনা ঘটছে। তারা মনে করেন, কোনো নারী বা পুরুষ যদি তার লৈঙ্গিক পরিচয় নিয়ে অতৃপ্ত থাকেন এবং সেটি পাল্টাতে চান তা হলে এতে কারো বাধা দেয়ার অধিকার নেই (দৈনিক নয়া দিগন্ত ০৭/০৩/২০২১ইং)।
সুতরাং ইউরোপ-আমেরিকার এরকম কালচার তো আর আমাদের মুসলিম প্রধান দেশে হতে পারে না। এরকম ব্যক্তিরা- নারী বা পুরুষ হওয়া সত্ত্বেও স্বেচ্ছারিতার বশীভূত হয়ে অথবা বিকৃত বা বিপরীতকামী যৌনতা উপভোগ করার জন্য লিঙ্গ পরিবর্তন করে থাকেন। আসলে এটা সমকামিতারই পরিচয় যা পুরুষ সমকামী ও স্ত্রী সমকামীদের কাতারে ফেলে।

বাংলা উইকিপিডিয়ায় বলা হয়েছে, রূপান্তরকামী পুরুষ (ফিমেল-টু-মেল যার অর্থ মহিলা থেকে পুরুষ) অস্ত্রোপচার বা হরমোন রূপান্তর, বা উভয়ভাবেই তাদের চেহারা এমনভাবে পরিবর্তিত করেন যাতে তাদের গঠন তাদের লিঙ্গ পরিচয়ের সাথে অভিন্ন হয় বা লিঙ্গ অস্বস্তিকে হ্রাস করে (রূপান্তরকামী নারীর ক্ষেত্রেও অনুরূপ)। লেসবিয়ান (স্ত্রী সমকামী) সম্প্রদায়ের সাথে রূপান্তরকামী পুরুষদের ইতিহাস (রয়েছে) বা বিস্তৃত লিঙ্গ বৈচিত্র্যের গ্রহণযোগ্যতার কারণে তারা এই সম্প্রদায়ের সাথে আরও ভালভাবে মেলামেশা করতে পারেন। কিছু রূপান্তরকামী পুরুষ লেসবিয়ান হিসাবে চিহ্নিত হন (যাদের ‘বুচ লেসবিয়ান’ বলা হয়) এটা বুঝতে পারার আগে যে তারা আসলে রূপান্তরকামী। (রূপান্তরকামী পুরুষ-বাংলা উইকিপিডিয়া)

আবার অনেকে মনস্তাত্তিকভাবেও রূপান্তরকামী হয়ে থাকেন যেমন, ট্রান্সেক্সুয়াল বা রূপান্তরকামী মানুষেরা ছেলে হয়ে জন্মানো সত্ত্বেও মনমানসিকতায় নিজেকে নারী ভাবেন কিংবা কখনো আবার উল্টোটি- নারী হিসেবে জন্মানোর পরও মানসিক জগতে থাকেন পুরুষসুলভ। এদের কেউ কেউ বিপরীত লিঙ্গের পোশাক পরিধান করেন। বেশভূষায় বিপরীত লিঙ্গের রূপ ধারণ করে। তারা নিজেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের অন্তর্ভূক্ত করেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য তারা যৌনব্যবসা, ভিক্ষাবৃত্তি, চাঁদাবাজিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। অনেক সময় পথচারীদের উত্ত্যক্ত করে জোরপূর্বক টাকা আদায় করে এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে।

ইসলামে এরকম রূপান্তরিত মানবে পরিবর্তনের ব্যাপারে নির্দেশনা পাওয়া যায় স্পষ্টভাবেই। আল্লাহ বলেন, “যে প্রকৃতি অনুযায়ী তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহ্র সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই”। (সূরাহ্ আর রূম : ৩০)
তাই শরীরকে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে পরিবর্তন করার অধিকার মানুষের নেই। বিকৃত চাহিদার মেটানোর নামে বা স্বেচ্ছচারিতায় বশীভূত হয়ে এরকম শরীরের গঠন পরিবর্তন করা হারাম! করলে শয়তানের অঙ্গীকারের উপর আনুগত্য করা হবে। যেমনটা কুরআনে উল্লেখ হয়েছে : “(শয়তান বলল) আমি অবশ্য অবশ্যই নির্দেশ দেব, ফলে তারা অবশ্য অবশ্যই আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন করবে”। (সূরাহ্ আন নিসা : ১১৯)

আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ....যারা আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন সাধনকারিণী- এদের আল্লাহ তা'আলা অভিশাপ করেন”। (সহীহ মুসলিম হাঃ ৫৪৬৬ হা.এ.)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (স.) অভিসম্পাত করেছেন ঐসব পুরুষকে যারা নারীর অনুরূপ পোশাক পরে এবং ঐসব নারীকে যে পুরুষের অনুরূপ পোশাক পরিধান করে। (সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত) হাঃ ৪০৯৮ সহীহ)
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (স.) নারীর সাদৃশ্য গ্রহণকারী পুরুষ এবং পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণকারিণী নারীদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন এবং বলেছেনঃ তাদেরকে তোমাদের ঘর হতে বের করে দাও। (বুখারী ৫৮৮৬, মিশকাত হাঃ ৪৪২৮ হা.এ.)

নাবী (স.) অমুককে বের করে দেন এবং ‘উমার অমুককে বের করে দেন। ‘আনজাশা’ নামক এক কালো দাস নারীদের বেশভূষা অবলম্বনের কারণে রসূল (স.) তাকে এলাকা থেকে বের করে দেন। ‘উমার (রাঃ) যাকে বের করেন তার নাম কোন বর্ণনায় আসেনি। তবে তিনি কোন এক নারীকে পুরুষের বেশ অবলম্বনের কারণে বের করেছিলেন। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৮৮৬)

হাদীসে বর্ণিত মুখান্নাসিন (الْمُخَنَّثِينَ) শব্দটি হলো নারীদের সাথে সাদৃশ্য অবলম্বনকারী (পুরুষ)। এই সাদৃশ্য অবলম্বন অবয়ব, পোশাক, খিযাব, আওয়াজ, আকৃতি, কথা বলা এবং যে কোন চাল-চলনে হতে পারে। এ কর্মটি নিষেধ। কেননা এতে আল্লাহর সৃষ্টিতে বিকৃতি ঘটানো হয়। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৮৮৫)
হাদীসে বর্ণিত, মুতারাজ্যিলাত (الْمُتَرَجِّلَاتِ) অর্থাৎ পুরুষের সাথে চাল চলন, আকার আকৃতি, হাঁটা চলা এবং উচ্চ আওয়াজ ইত্যাদিতে সাদৃশ্য অবলম্বনকারিণী নারী। এ বৈশিষ্ট্যের নারী পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বন করা পুরুষ নারীর সাদৃশ্য অবলম্বনের মতই দোষণীয়। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)

ইমাম নাবাবী (রহ.) বলেনঃ মুখান্নাস অর্থাৎ নারীর সাদৃশ্য অবলম্বনকারী ব্যক্তি দুই প্রকারের। এক : যে সৃষ্টিগতভাবে কিছুটা নারী প্রকৃতির। সে কৃত্রিমভাবে নারীর সাদৃশ্যতা অবলম্বন করেনি। এতে কোন দোষ, গুনাহ নেই। কেননা সে অপারগ। দুই : যে কৃত্রিমভাবে চাল-চলন, কথা-বার্তা এবং অবয়ব ইত্যাদিতে নারীর আকৃতি অবলম্বন করে, সে ব্যক্তির এ কাজ দোষণীয় যার অভিশাপ হাদীসে এসেছে (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৭ম খন্ড, হাঃ ২৭৮৫)। ‘আল্লামা ইবনু হাজার বলেনঃ যে পুরুষ সৃষ্টিগতভাবেই চাল চলনে নারী সাদৃশ্য বা যে নারী পুরুষ সাদৃশ্য তাকে ধীরে ধীরে তাদের অভ্যাস পরিবর্তন করার নির্দেশ দেয়া যাবে। যদি সে তা ছাড়তে চেষ্টা না করে ঐ রীতির উপরেই থাকাকেই আঁকড়ে ধরে তবে সেও এই তিরস্কারের অন্তর্ভুক্ত হবে, বিশেষ করে সে যদি এতে সন্তুষ্ট থাকে। (ফাতহুল বারী ১০ম খন্ড, হাঃ ৫৮৮৫)
সুতরাং উল্লেখিত হাদীসের আলোচনা থেকে বুঝা যাচ্ছে, শরীরে এমন কিছু করা যা বাহ্যিক বা আভ্যন্তরীনভাবে শরীর গঠনের পরিবর্তন করে বা ভিন্নতা দেখায় তা সম্পূর্ণ হারাম।

27/02/2022

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
হিজাব পরিধানে ভিটামিন ‘ডি এর অভাব- সংশয়বাদীদের এর জবাব

সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ভিটামিন ডি’র অন্যতম উৎস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বিশ্বের অন্তত একশ কোটি মানুষেরই ভিটামিন-ডি‘র ঘাটতি আছে এবং তারা এ সমস্যাকে গ্লোবাল হেলথ প্রবলেম বলে আখ্যায়িত করেছে (বিবিসি)। ভিটামিন ডি রক্তে ক্যালসিয়াম এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। যা সুস্থ সবল হাড়ের জন্য অপরিহার্য। ভিটামিন ডি এর অভাবে হাড়ের সমস্যা, কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, অস্টিওপরোসিস, রিকেটের মত ভয়ংকর রোগ হতে পারে। এছাড়াও টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস, বিশেষ ধরণের বাত এবং বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। ভিটামিন ডি অভাবগ্রস্থ মায়েদের সন্তানদের হৃদরোগের ঝুঁকিও বেশি থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, এই ভিটামিন ঘাটতিজনিত সমস্যা হওয়ার জন্য কিছু সংশয়বাদীগন বিশাল মুসলিম জনগোষ্ঠীর নারীদের হিজাবকেই দায়ী করে থাকে। তারা বলে মুসলিম নারীরা নিজেকে সর্বাঙ্গ আবৃত পোশাক পরে দেহকে ঢেকে রাখে ফলে তাদের শরীরের দেখা যায় ডি-এর অভাব। এখন প্রশ্ন হলো পৃথিবীর একশ কোটি মানুষেরই কি সম্পূর্ন দেহ পোশাকে আবৃত রাখার কারণে ডি-এর অভাব? নাকি এই একশ কোটি সমস্যাজনিত ব্যক্তি সকলেই হিজাব পরিহিতা নারী। না কোনটিই নয়! এর মধ্যে পুরুষও রয়েছে তার সাথে রয়েছে শিশু। সুতরাং এককভাবে হিজাব কখনোই এর জন্য দায়ী নয়।

তবে হ্যা, ভিটামিন ডি পাওয়ার জন্য সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হচ্ছে সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকা। যা আমাদের শহুরে মানুষদের জন্য সবসময় সম্ভবপর নয়। কেননা এখানে অনেক পুরুষও আছে যারা অফিসিয়াল পোশাকে তথা ফুল হাতা শার্ট, প্যান্ট জুতা-মোজায় নিজেকে সম্পূর্ন আবৃত করে যোগদান করছে তার কর্মপ্রতিষ্ঠানে। অনেক নারী আছে যারা হিজাব পরিধান করে না ঠিকই কিন্তু হাত-পা ঢাকার মতো পোশাক পরিধান করে। সুতরাং এরকম পোশাকও ভিটামিন ডি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ছেলে মেয়ে উভয়ই, এরকম কথা বলেছেন বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা বিষয়ক পরিচালক ‘কাওসার আফসানা’ (BBC News বাংলা ১১/১২/২০২০ইং)। অনেক গৃহিনী, মেয়ে আছে যারা চার দেয়ালের মাঝেই স্বাভাবিক জীবন-যাপন করে দিন অতিবাহিত করছে। যারা হিজাবের সংস্পর্শ থেকে বহু দূরে। যাতে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মের সকলেই এর অন্তুর্ভূক্ত। এমনকি অনেক নারী-পুরুষ আছে যারা অফিস বা কর্মপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে সকালে আর তারা সূর্যের দেখা পায় না সারাদিনে। তারাও অভাবে ভোগে সূর্যের আলোর সংস্পর্শের। আবার কিছু দেশ রয়েছে যেখানে বেশিরভাগ সময়ই সূর্য ওঠেনা, অনেক দেশ রয়েছে শীতপ্রধান দেশ যেখানে মোটা কাপড়ে শরীর ঢেকে রাখা ছাড়া কোন উপায় নেই। তাহলে এখানেও হিজাব দায়ী নয়। আর বিশেষজ্ঞগণ বলে থাকেন- “সাধারণত সকাল দশটার পর থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত সময়টুকুতে সূর্যের আলোর সাথে যে রশ্মি আসে সেটাই শরীরের জন্য বেশি উপকারী (BBC News বাংলা ১১/১২/২০২০ইং)।” তাহলে আমাদের উচিত এই দশটা থেকে বারোটা পর্যন্ত দুই ঘন্টা সকল কাজকর্ম, স্কুল-কলেজ বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি গ্রহণ করা। নতুবা এই সমস্যা থেকে উত্তোরণের কোন উপায় নেই, হিজাব সংশয়বাদীগণের কথার অনুপাতে।

রোদের দেশেও কেন ভিটামিন ডি ঘাটতি এ সম্পর্কে ঢাকার এক- ‘মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে’র সিনিয়র কনসালটেন্ট ‘ডা: মাহমুদা হোসেন’ বলেন, “শহরে বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা কমে যাচ্ছে, কিন্তু যারা বেরুচ্ছে তারাও পর্যাপ্ত সময় রোদে থাকেনা কিংবা রোদে থাকলেও পোশাকের কারণে শরীর সরাসরি রোদ পাচ্ছে না। বিশেষ করে শহর এলাকাগুলোতেই বেশি হচ্ছে, কারণ এখানে বাইরে খোলা জায়গা কম- যেখানে মানুষ সূর্যের আলোর সংস্পর্শে থাকতে পারে। আবার যারা বেরুচ্ছে, তারা কিন্তু হয় যানবাহনে বা রোদে হাঁটলেও পোশাকে পরিপূর্ণ ঢাকা থাকছে। কাচের জানালার ভেতরে থেকে রোদ উপভোগ করলে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়না এবং যারা বাইরে সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন- তারাও সানস্ক্রিনের কারণে রোদ থেকে ভিটামিন ডি নিতে পারেননা”(BBC News বাংলা ১১/১২/২০২০ইং)।
এখানে তিনি কিন্তু শুধু নারীদেরকেই বলেন নি। সুতরাং ভিটামিন ডি’র অভাবজানিত সমস্যায় নারী-পুরুষ উভয়েই জর্জড়িত। শুধু নারীরাই এককভাবে নয়, হিজাবই শুধু এর প্রধান প্রতিন্ধকতা নয়। আর রোদের সংস্পর্শে আসতে শুধু রাস্তায়ই নামতে হবে কেন? যেখানে হিজাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। বাসার ছাদ, বারান্দা অথবা বাড়ির উঠানেও গিয়েও তো রোদ লাগানো যায়।

আমাদের শরীরে ভিটামিন ডি ঘাটতির কারণ কী কী? এ সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞন কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন যথাঃ ১. সানস্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার করে সূর্যালোককে ত্বকে প্রবেশ করতে বাধা দেয়া। ২. দূষণ বেশি এমন এলাকায় বসবাস। ৩. বাড়ির ভেতরে বেশি সময় কাটানো। ৪. ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার না খাওয়া। ৫. সূর্যালোকহীন বাড়িতে বসবাস (lifetv24.com 23/03/2021.)। এখন জেনে নেয়া যাক আমরা কিভাবে সূর্যের আলো ছাড়া ভিটামিন ডি পেতে পারি- আমরা সহজেই ভিটামিন ডি পেতে পারি সূর্যের আলো থেকে। তবে কিছু খাবার আছে যা থেকে আমরা ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়ামে প্রচুর পরিমাণে পেতে পারি। ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবারগুলো হলো- সামুদ্রিক মাছ যেমন টুনা, সার্ডিন ইত্যাদিও এই ভিটামিনের ভালো উৎস। তাছাড়া ম্যাকরেল, স্যামন মাছ, সোয়া দুধ, দুগ্ধজাত সামগ্রী, দই, চীজ, কমলালেবুর রস, কোকোয়া ইত্যাদি খাবারেও রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ডি। ডিমের কুসুম ও মাশরুমও এই ভিটামিনের ভালো উৎস।

এখানে একটি কথা না বললেই নয় যে, ভিটামিন ডি-যুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে যদি আপনার রক্তে মাত্রাতিরিক্ত ভিটামিন ডি থাকে তাহলে একই সঙ্গে রক্তে ক্যালসিয়াম, প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম এবং রক্তে ফসফেটের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। তাই সূর্যরশ্মি ভিটামিন ডি তৈরি করতে যেমন সহায়ক, তেমনই অতিরিক্ত ভিটামিন ডি ধ্বংস করতে ভূমিকা রাখে। (দৈনিক যুগান্তর ০৭/১১/২০২১ইং)

30/12/2021
"আযাব-গযব যুলুম নিপীড়নের কারণ ও প্রতিকার " সূচীপত্র বইটি আজই সংগ্রহ করুন। 0168-7228990
29/12/2021

"আযাব-গযব যুলুম নিপীড়নের কারণ ও প্রতিকার " সূচীপত্র
বইটি আজই সংগ্রহ করুন।
0168-7228990

13/12/2021

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
নবজাতক শিশুকে তাহনীক করা ও চিকিৎসা বিজ্ঞান

১৪০০ বছর আগে নাবী (স.)-এর যামানায় শিশু জন্মগ্রহন করলে, তখন নবী (স.) একটি খেজুরের একটি ছোট অংশ নিয়ে তার মুখে রাখাকে তাঁর সুন্নত বানিয়েছিলেন। ইসলামী পরিভাষায় খেজুর চিবিয়ে রসালো করে নবজাতকের মুখে দেয়াকে তাহনীক বলা হয়।
'টুডে', বিবিসি নিউজ জানিয়েছে যে "বিশেষজ্ঞরা" বলেছেন - "গালের ভিতরের অংশে জেল হিসাবে দেয়া চিনির ডোজ মস্তিষ্কের ক্ষতি থেকে অকাল শিশুদের রক্ষা করার একটি সস্তা এবং কার্যকরী উপায়।" তাড়াতাড়ি জন্ম নেয়া ১০ জন শিশুর মধ্যে একজনকে রক্তে শর্করা কম থাকায় বিপজ্জনকভাবে প্রভাবিত করে। এমন একটি অবস্থাকে ডাক্তাররা হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। চিকিৎসা না করা হলে এটি স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
নিউজিল্যান্ডের গবেষকরা তাদের তত্ত্বাবধানে ২৪২ শিশুর জেল থেরাপি পরীক্ষা করেছেন এবং ফলাফলের উপর ভিত্তি করে বলেছেন যে এটি এখন প্রথম সারির চিকিৎসা হওয়া উচিত।
প্রিম্যাচিউর বেবি চ্যারিটি ব্লিস-এর প্রধান নির্বাহী ‘অ্যান্ডি কোল’ বলেছেন: "এটি নতুন গবেষণার একটি খুব আকর্ষণীয় অংশ এবং আমরা সবসময় এমন যেকোন কিছুকে স্বাগত জানাই যা অকাল বা অসুস্থ হয়ে জন্মানো শিশুদের জন্য ফলাফল উন্নত করার সম্ভাবনা রাখে।-
('Sugar gel' helps premature babies- BBC News 25/09/2013.)

এ কারণেই মুসলমানরা আল্লাহর রসূল (স.)-এর সুন্নাহকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে অনুসরণ করে। বিজ্ঞান এখন শুধুমাত্র একটি ঐতিহ্য আবিষ্কার করছে যা ১৪০০ বছর আগে চালু হয়েছিল কারণ ইসলাম ছিল এবং এখনও উন্নয়নের অগ্রভাগে রয়েছে।

Address

Dhaka

Telephone

+8801687228990

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Science in Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Science in Islam:

Share

Category