15/04/2024
‘বুলেটপ্রুফ’ পোশাক তৈরির জন্য ব্যবহৃত ‘কেভ্লার’ ফাইবার এর নাম কম বেশী আমরা সকলেই শুনেছি। আর ‘নাইলন’ ফাইবার অনেক টেকসই হওয়ার কারণে আমাদের নিত্য দিনে নানা ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। তবে, চীনের একদল বিজ্ঞানী রেশম পোকার সাথে মাকড়সার ডিএনএ সংযুক্ত করার মাধ্যমে এমন সুতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন যা ‘কেভ্লার’ থেকে ৬ গুণ বেশী মজবুত ও ‘নাইলন’ থেকে ১০ গুণ বেশী শক্তিশালী।
মাকড়সার জাল থেকে তৈরি সুতা অনেক সময় ধরেই বিজ্ঞানীদের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারণ এটি প্রাকৃতিক ভাবেই অনেক হালকা এবং অনেক মজবুত ও টেকসই। কিন্তু মাকড়সারা একসাথে বসবাস না করে নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করে থাকে বলে বৃহৎ হারে, বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে, মাকড়সার চাষ করে সেখান থেকে সুতা তৈরি সম্ভব নয়। অন্যদিকে রেশম পোকা প্রাকৃতিক ভাবে সুতা উৎপাদনের জন্য আদর্শ এবং শত বর্ষ ধরে টেক্সটাইল শিল্পে এভাবেই সুতা তৈরি হয়ে আসছে। তবে এই সুতা খুবই দুর্বল হওয়ায় এর ব্যবহার অনেক সীমিত। আবার ‘কেভ্লার’, ‘নাইলন’ ফাইবার এর মতো শক্তিশালী হলেও এগুলো ‘সিন্থেটিক ফাইবার’ হওয়ায় এগুলো আমাদের পরিবেশের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি এদের রয়েছে আরো বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা। এই সমস্যা গুলোকে সমাধানের উদ্দেশ্যে চীনের ‘ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়’ এর একদল বিজ্ঞানী, ‘ক্রিস্পার’ জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেশম পোকার ডিমের কোষের মধ্যে** _Araneus ventricosus_ প্রজাতির মাকড়সার জিন যুক্ত করে, এই রেশম পোকা গুলো থেকে এমন প্রকার সুতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে, যেগুলো একই সাথে সহজভাবে উৎপাদন করা সম্ভব আবার মাকড়সার থেকে তৈরি সুতার বৈশিষ্ট্য গুলো ও এতে বিদ্যমান। এই সুতা গুলো হালকা, পরিবেশবান্ধব, অত্যন্ত টেকসই ও মজবুত। এই পদ্ধতিতে আগেও অনেকবার সুতা তৈরির চেষ্টায় বিজ্ঞানীরা হলেও এই ক্ষেত্রে চীনের বিজ্ঞানীরা ‘লোকালাইজেশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট জিনোম কে চিহ্নিত করে কাজ করায় প্রথমবার সফল হয়েছেন।
এই সুতা গুলো এখনো গবেষণার পর্যায়েই রয়েছে, এবং এর মাধ্যমে রাতারাতিই টেক্সটাইল শিল্পে বিরাট কোনো পরিবর্তন হয়তো এখনো আসবে না। তবে, গবেষণাটির বিজ্ঞানীদের মতে এটি একটি যুগান্তকারী অর্জন যেটির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো হয়তো ‘নাইলন’ ও অন্যান্য ‘সিন্থেটিক ফাইবার’ এর বিকল্প হিসেবে বাণিজ্যিকভাবে মাকড়সার জাল দিয়ে তৈরি সুতা ব্যবহার করা যেতে পারে।
Ahabab Zarif
Team Science Bee