Alor Porosh

Alor Porosh Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Alor Porosh, Dhaka.

বৃটিশ আমলে, লুটেরা ইংরেজরা সব নিয়ে গেল, উলঙ্গ রেখে গেল শুধু এই দেশটাকে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল, মানে ২৪ বছর ( ২ যুগ ) সময়ে, ...
06/12/2025

বৃটিশ আমলে, লুটেরা ইংরেজরা সব নিয়ে গেল, উলঙ্গ রেখে গেল শুধু এই দেশটাকে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল, মানে ২৪ বছর ( ২ যুগ ) সময়ে, কৃষি-প্রধান এই দেশে তখন এখনকার মতো বৈদেশিক আয় ছিলোনা। বৃটিশ কর্তৃক লুটপাটে উলংগ এই বাংলাদেশে, তখন কি ক'রে নিম্নে বর্ণিত স্হাপনা নির্মাণ হ'লো, তাহা আমার বোধগম্য নয়। যতগুলি বৈষম্যের জন্যে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিলো ও ৩০ লক্ষ মানুষ শহীদ হয় ও অগণিত নারী নির্যাতিতা হয়।

তার অনেক গুলি বৈষম্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলোঃ

(১) 'শিক্ষা' ক্ষেত্রে বৈষম্যের কথা বলা হ'য়েছে :

ফৌজদারহাট ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা, তিতুমীর (জিন্নাহ্), তেঁজগাও, নটরডেম, রেসিডেন্সিয়াল মডেল, সেন্ট জোসেফ, শাহীন, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট ও টেকনিক্যাল কলেজ (মিরপুর), পিজি হাসপাতাল ইত্যাদি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাকিস্তান আমলে নির্মিত ও চালু হয়।

(২) 'চিকিৎসা' ক্ষেত্রে বৈষম্যের কথা বলা হ'য়েছে :

রংপুর, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট, চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ পাকিস্তান আমলে নির্মিত ও চালু হয়।

(৩) আরেক বৈষম্য হচ্ছে 'কর্মসংস্থান' :

মেজর জিয়া মেজর ছিলেন, কর্ণেল ওসমানী কর্ণেল ছিলেন। ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ সহ সবগুলো বীর উত্তম ও বিক্রমই ছিলো সরকারী চাকুরীরত।
কর্ণফুলি পেপার মিল, আদমজী জুট মিল, হাজারীবাগে সরকারী উদ্যোগে ট্যানারী প্রভৃতি শিল্প গ'ড়ে উঠেছিলো পাকিস্তান আমলেই আর ঠিক তখন থেকেই শুরু হয় রপ্তানী খাতে, বৈদেশিক মুদ্রা বা, রেমিট্যান্স আসার এই চলন।

(৪) টাকা লুটপাট প্রসঙ্গে বৈষম্য :

প্রথম সারির উল্লেখযোগ্য অল্প কিছুর মধ্যে পূবালী ব্যাংক (সাবেকবা পূর্ব নাম ইস্টার্ন মার্কেন্টাইল ব্যাংক)অগ্রনী বাংক (সাবেক বা পূর্ব নাম হাবিব ব্যাংক এবং সাবেক কমার্স ব্যাংক একত্রীত ) সোনালী ব্যাংক( সাবেকবা পূর্ব নাম - ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, ব্যাংক অব বাহওয়ালপুর এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক একত্রীত ) জনতা ব্যাংক ( সাবেক বা পূর্ব নাম - ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একত্রে ), বাংলাদেশ টেলিভিশন, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন,ঢাকা গভঃ নিউ মার্কেট,জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, ঢাকা আরিচা মহাসড়ক, আজও বিশ্বের সর্ব বৃহত ব্যায় বহুল জাতীয় সংসদ ভবন ইত্যাদি পাকিস্তান আমলে নির্মান হয়।এগুলি ছাড়া আরো অনেক অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যাহার বর্ণনা লিখতে গেলে এই প্রতিবেদনটি আরো কয়েক গুন বড় হয়ে যাবে। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত মাত্র এই ২৪ বছরে ততকালীন কৃষি প্রধান দেশ থেকে কত টাকা আয় কর অর্জনের মাধ্যমে উপরে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান নির্মান করলো তাও আবার অসন্তুষ্ট বিরোধী দলের নানান দফা দাবী প্যারার মধ্যে ??? সূত্র --গুগল থেকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের তৈরীর সময়কালের ইতিহাস (উইকিপিডিয়া) বের করে পড়ে এই সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।- যদি পাকিস্তান সরকার এই সকল প্রতিষ্ঠানে কোটা ভিত্তিতে পশ্চিম পাকিস্তানের লোক নিয়োগ করতে চাইতো তাহলে এসকল প্রতিষ্ঠান পশ্চিম পাকিস্তানে নির্মাণ করলে তাদের বাধা দেওয়ার কেউ ছিলোনা বা কারণ ছিলোনা। কারণ পূর্ব পাকিস্তান থেকে অর্জিত আয়ে এত এত এত প্রতিষ্ঠান নির্মাণ সম্ভব ছিলোনা যদি পশ্চিম পাকিস্তানের টাকা এদেশে ব্যায় না হয়। আরেকটি হিউমার তখন ছড়ানো হয়েছিলো যে, -তখনকার সময়ে বাংলাদেশ থেকে শ্রম সময় ব্যয় করে নানান পণ্য পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে পাকিস্তানের সিল মেরে আবার তা বাংলাদেশে এনে বেশী দামে বিক্রি করতো।এখন প্রশ্ন:- যদি সিল মারারই প্রয়োজন ছিলো তাহলে পণ্য নিয়ে গিয়ে সিল কেন মারবে? সিলতো এতো ভারী নয়, সিল কেন বাংলাদেশে নিয়ে এসে পণ্যের উপর মারা গেলোনা?? এমন কোন রেকর্ড নাই যে, -গ্রামে বা শহরে স্হানীয় সরকার ব্যাবস্হার কোন চেয়ারম্যান মেম্বার পশ্চিম পাকিস্তানের লোক ছিলনা। তখন এদেশের মানুযই এদেশ শাসন করতো। রিমোট কন্ট্রোলের প্রসংগ পরে আসছি ।তখনকার সংঘাত ছিলো সরকারী দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে, পরে তা এই স্বাধীনতার ঘোষণার কারণে আরো বেশী হিংস্রতা লাভ করে।ততকালীন সময়ে সরকারী বেসরকারী সকল অফিস আদালত বাজারই চালু ছিলো,খাদ্য পন্য পরিবহনও চালু ছিলো।পুরাতন ঢাকার তাতীবাজার,শাঁখারী বাজার এই এলাকায় গিয়ে আমি অনেক অনেক হিন্দুঁদের কাছ থেকে জানতে পারি যে,- ৭১ সালে তারা সবাই এখানেই ছিলো,এবং দেশ ত্যাগ করে পালিয়ে গিয়ে ফিরে এসেছে এমনটি হয়নি।৷ ৭১রে যতগুলি দফা ছিলো তার মধ্যে রাষ্ট্র প্রধানের পদত্যাগ বা আলাদা রাষ্ট্রের দফা ছিলনা, দাবী আদায়ে ৭ই মার্চের ভাষনেও বর্তমানের মতো অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।( plan -1) যারা দফা গুলো দিল তাদের অন্যতম সমন্নয়ক জেলে ছিল, বাকীরাও ছিলো পলাতক বা চুপ ছিল।(plan-2)পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জিয়া কেন এবং কার অনুপ্রেরণাায় আলাদা রাষ্ট্র হিসাবে দেশ স্বাধীন বলে ঘোষণা দিলেন? কিভাবে পাসপোর্ট ভিসা ছাড়া সেক্টর কমান্ডারগন ভারতে অনুপ্রবেশ করলো এবং ট্রেনিং ক্যাম্প চালু করলো? সাধারণ জনগনের কাছে কখনোই অশ্ব গোলাবারুদ থাকেনা।মুক্তিযোদ্ধাগন এসব অস্র পেলো কোথায় আর যুদ্ধের পর বংগবীর কাদের সিদ্দিক সহ সবাই অস্র জমা দিলো -এসব অশ্ব আবার ফেরত গেল কোথায়? কেন ভারত এত উৎসাহিত ছিল? কেন ভারত ১৬ ই ডিসেম্বরে বিজয় দিবস পালন করে? ভৌগলিক দিক দিয়ে ৩ দিকে ভারত এবং তার মাঝখানে বাংলাদেশ , পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তান আলাদা হলে কে বেশী লাভবান হবে? পাকিস্তান নাকি ভারত ? ধরুন গাবতলি থেকে সাভার আসতে সময় লাগে ২০ মিনিট এবং বাসভাড়া ২০ টাকা।যদি আমিনবাজারের ব্রীজ ভেংগে যায় তাহলে বেড়িবাঁধ দিয়ে আশুলিয়া হয়ে সাভার বা বেড়িবাঁধ দিয়ে ভাকুর্তা হেমায়েতপুর হয়ে সাভার আসতে ভাড়া এবং সময় লাগবে কয়েকগুন বেশী,এবং পচনশীল কাঁচা মালের জন্য ঝুঁকি পুর্ণ। রোড সুবিধা পেয়ে বাংলাদেশ ভারতের দখলে নিয়ন্ত্রণে আসলে ভারতে পণ্যের দাম কমা স্বাভাবিক, এতে জনগন খুশী সরকারও খুশী।

রচনা : সরকার মোহাম্মদ আবু তাসেক।

আজকের বহির্বিশ্বের মুসলিমদের ক্ষমতাহীন করার  পিছনে আন্দালুসিয়া-বাগদাদের ধ্বংসের পর তৃতীয় সবচেয়ে বড় পয়েন্ট ছিল বায়েজিদ দ্...
24/11/2025

আজকের বহির্বিশ্বের মুসলিমদের ক্ষমতাহীন করার পিছনে আন্দালুসিয়া-বাগদাদের ধ্বংসের পর তৃতীয় সবচেয়ে বড় পয়েন্ট ছিল বায়েজিদ দ্য থান্ডারবোল্ট বনাম তৈমুর লং আত্মঘাতী সংঘর্ষটা। এই সংঘর্ষটার ফলস্বরূপ হিসেবে করুণ পরিণতি ভোগ করতেছে আজকের মুসলিম বিশ্ব' শুধু মুসলিম বিশ্ব না পত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বলতে গেলে পুরো এশিয়া-আফ্রিকা। এটা কোনো কল্পকাহিনী কিংবা অতিরঞ্জিত তথ্য নই, পরিসংখ্যান এটাই বলে' কেন চলুন দেখে আসি-
ইতিহাস কখনো রাতারাতি ভেঙে পড়ে না। মহাসভ্যতাগুলোর পতন হয় ধীরে, নিঃশব্দে, আত্মঘাতী ভুলের জমাট স্তুপের উপর দাঁড়িয়ে। বাগদাদ ধ্বংস ছিল প্রথম দুঃস্বপ্ন। আন্দালুসিয়ার পতন ছিল দ্বিতীয় ভয়াল, ভয়ানক আঘাত। এই দুই টপ লেভেলের খুব উচ্চ পর্যায়ের' সময়ে চেয়ে ৬শত বছর এগিয়ে উন্নত দুই সভ্যতা ধ্বংসের মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর আবার সেই তৃতীয়, ভয়ংকর, আত্মঘাতী মুহূর্তটি হলো বায়েজিদ দ্য থান্ডারবোল্ট বনাম তৈমুর লং এর রক্তাক্ত সংঘর্ষ।

যেখানে দুইজন মুসলিম শাসকের অহংকারে
বিলিয়ন মুসলমানের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেয়। সময়টা আন্দালুসিয়ার গণহ #ত্যা*টা তখনও হয়নি, বাগদাদ ধ্বংসের পরও মুসলিমদের হাতে ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর সামরিক শক্তি তুর্কি দেভলেতে-আলিয়া ওসমানীয়েরা। ইউরোপ থরথর করত। রোম আতঙ্কে দিন কাটাত।

দক্ষিণ এশিয়াকে ফকিরের রুপান্তরকারী, আফ্রিকা মহাদেশকে দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত করার কারিগর এবং সমস্ত লুটপাটকারী সকল শক্তি গুলোকে একত্রিত করে যড়যন্ত্রের নির্দেশকারীদের আস্তানা রোম। এই রোম জয়ের মধ্য দিয়ে পুরো পৃথিবীর সুপার পাওয়ার এর সিংহাসনের চিরস্থায়ী ভাবে একচ্ছত্র অধিপতি হতে যাচ্ছিল তুর্কিরা। প্রতিটি ভূখন্ডকে নিয়ে বিভিন্ন ভাবে হামলার মাস্টারপ্ল্যান আর যুদ্ধের সকল নীল নকশার মানচিত্র অংকন করা ইতিমধ্যে কমপ্লিট হয়ে গেল। রোমের রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশ্য সুলতান ইলদিরিম বায়েজিদ বলেছিল- অচিরেই ইতালি বিজয় হবে। তারপর ভ্যাটিক্যানের সেন্ট পির্টাসের পবিত্র সমাধীস্থলে আমার ঘোড়া ঘাস খাবে।

এরপর সবকিছুই সুলতানের পরিকল্পনা মতোই সবকিছুই ঠিকঠাক ভাবে আগাচ্ছিল। এরইমধ্যে আরেকটা ঘটনা ঘটে বাইজেন্টাইনরা জোরপূর্বক কর আদায় ও কিছু মুসলিম সীমান্ত আক্রমণ করে বসে। এগুলো সুলতানের কাঁনে এসে পৌঁছাতেই আর দেরি না করে গ্র্যান্ড মুফতির অনুমতি আর ফতোয়া নিয়েই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে হামলা শুরু করে এবং প্রথম টার্গেট ইস্তাম্বুল। পূর্ণ সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ইস্তাম্বুল ঘিরে ফেললেন।

ইউরোপ তাকে তখন খুব ভালো করেই জানত যে এই মানুষটিই অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারেন। কারণ তিনি তো সেই নায়ক যিনি ইকোপলিসের যুদ্ধে ২১টি খ্রিস্টান সাম্রাজ্যের সমন্বয়ে গঠিত ১ লক্ষ+ সেনাবাহিনীকে মাত্র ২০ হাজার ওসমানীয় সৈন্য নিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ করে যে মহাকাব্য লিখেছিলেন? তা পুরো ইউরোপকে মানসিকভাবে অর্ধমৃত করে দিয়েছিল। তাই ইস্তাম্বুল বিজয় করা তার কাছে তেমন কঠিন কিছুই ছিল না। মিত্র সার্বিয়ার ডেসপট স্টেফান লাজারেভিচ বাহিনী + সুলতানের স্পেশাল ফোর্স আকিঞ্জি এবং যুদ্ধ পাগল জেনেসারি সব মিলিয়ে তিনি প্রায় নিশ্চিত জয়ের পথে হাঁটছিলেন।

ইস্তাম্বুল পতন তখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
ইউরোপের পতনও সামনে। কিন্তু হঠাৎ এক সংবাদে ইতিহাসের গতি উল্টো ঘুরে গেল। সুলতানের কাঁনে এসে পৌঁছায় তৈমুর লং আনাতোলিয়ায় ঢুকে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। মূহুর্তেই সব পরিকল্পনাই ভেঙে চুরমার। সুলতান বায়েজিদ বাধ্য হয়ে পশ্চিমা অভিযান থামিয়ে ইস্তাম্বুল অবরোধ তৎক্ষণাৎ শেষ করে। এরপর তৈমুরের সাথে সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দিলেন।

অথচ দুইজনই ছিল মুসলিম শাসক, আরেকটা চরম সত্য হচ্ছে দুজনেই ছিলেন সুন্নি মুসলিম। তৈমুর লক্ষাধিক সশস্ত্র বাহিনীর সামনে ইলদিরিম বায়েজিদের সৈন্য সংখ্যা ছিল খুবই কম তবুও ভয়ডরহীন ভাবে সুলতান বায়েজিদ ইসলামের জন্য নিজের জীবন যেকোনো মূহুর্তে উৎসর্গ করতে প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তৈমুর নিজেকে আমির হিসেবে দাবি করলেও সুলতান বায়েজিদ তাকে মুসলিমই মনে করতেন না" কারণ কথিত আছে- তার নামের পিছনে গণহ #ত্যা*র কলঙ্ক ছিল।

বায়েজিদ চিঠিতে কটাক্ষ করে তৈমুরকে “খোরা” বলে ডাকতেন। তার হাঁটার কিছু সমস্যার কারণে। তৈমুর লং-ও কটাক্ষ করে “এক চোখা” বলে ডাকতেন বায়েজিদকে। এভাবে অপমান-অহংকার তাদের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে দুই পরাশক্তি সাম্রাজ্যের ভয়াবহ রক্তাক্ত যুদ্ধে রূপান্তরিত হয়। হওয়ার কথা ছিল মিত্রতা। হয়ে গেল মহাশত্রুতা। আর সেখানেই স্থানীয় আনাতলিয়ার বেইলিকদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ইলদিরিম বায়েজিদের হারের মধ্য দিয়ে মুসলিম বিশ্বের ভবিষ্যৎ ক্ষমতাহীন, পঙ্গুত্বের ভাগ্য লিখে দেওয়া হয়।

ইলদিরিম বায়েজিদ যেই ঘোড়াকে ভ্যাটিক্যানে সেন্ট পিটার্সের পবিত্র সমাধীস্থলে ঘাস খাওয়ানোর প্রতিজ্ঞা করেছিল, সেই ঘোড়াকে তৈমুর লং এর অশ্বারোহী বাহিনী মাটিতে লুটিয়ে দেয়।

খ্রিস্টানরা শত শত্রুতাও ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধ হলেও মুসলিমরা পারেনি একবারও।। পোপের ডাকে খ্রিস্টানরা শত শত বছর একে অপরের শত্রু থাকা তিন ভিন্ন খ্রিস্টান গোষ্ঠী- ব্রিটিশ প্রটেস্ট্যান্ট, ইতালীয় ক্যাথলিক, রাশিয়ান অর্থডক্স এক হয়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সামরিক ঐক্য জোট বানিয়েছে শত বার।

আর আমরা? নবী সাঃ এর যুগ ছাড়া আর একবারও একটি হাতেও ঐক্যবদ্ধ হতে পারিনি। দুইজন মুসলিম শাসকের পরস্পরের কামড়াকামড়ির মধ্য দিয়েই মুসলিম বিশ্বের ভবিষ্যৎ ক্ষমতাহীনতা জন্ম নিল। পায়ের নিচের শক্ত ভূমি ভেঙে পঙ্গুত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে গেল। এই সংঘর্ষ শুধু একটি যুদ্ধ ছিল না' এটি ছিল মুসলিম সভ্যতার ভবিষ্যৎ হারানোর মুহূর্ত। ইস্তাম্বুল প্রায় হাতের নাগালে ছিল…রোম জয় সম্ভব ছিল…এগুলো জয়ের মধ্য দিয়েই' চিরস্থায়ী ভাবে বিশ্ব সুপার পাওয়ার এর সিংহাসন পেতো মুসলিমরা৷

যদি তারা শক্র না হয়ে মিত্র হতো? পুরো পৃথিবীর সম্পূর্ণ ভূগোলিকের ইতিহাসটাই আজ অন্যরকম হতো। ইতিহাসবিদরা বলেন- তাদের এই সংঘর্ষের বদলে যদি তাদের এক টেবিলে আনা যেতো এবং তারা মিত্র হতো, তাহলে আজকের এই অভিভাবকহীন উম্মাহ কিংবা পুরো এশিয়া, আফ্রিকার এই করুণ দুর্দশা হতোই না। ততদিনেই রোম বিজয় হয়ে যেত, মুসলমানদের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্রের আস্তানা মুছে যেত, আর উত্তর ও লাতিন আমেরিকা মহাদেশগুলোতে ইসলাম পৌঁছে যেত সেই ১৩-১৪ শতাব্দীতেই। সত্য যেহেতু উপস্থিত আছে, মিথ্যাও অবশ্যই বিলুপ্ত হবে তবে যদি ঐটা ঘটতো, সত্যের বিজয়টা আরও আগেই হতো। এর ফলে আজ পর্যন্ত বাইজেন্টাইন ও রোমানদের পর আর কোনোদিনই খ্রিস্টানরা পৃথিবীর সুপার পাওয়ারের সিংহাসনে বসতে পারত না। এখনো পর্যন্ত সেই সিংহাসনে অধিপতি থাকতো একমাত্র মুসলিমরাই।

এর ফলে কী হতো? চলুন আরেকটু পরিষ্কারভাবে দেখি- যদি তারা মিত্র হয়ে একসাথে কাজ করতো, তাহলে রোম বিজয়ের মধ্য দিয়ে যড়যন্ত্রকারীদের আস্তানার শেকড়ই উ*প*ড়ে ফে*ল*তে পারতো।
তাহলে জন্মই হতো না উপনিবেশবাদী লুটপাটকারী শক্তিগুলোর যেমন- ডাচ, স্প্যানিশ, ফরাসি, পর্তুগিজ আর ব্রিটিশদের। আর স্প্যানিশ-ব্রিটিশরা না থাকলে, বর্তমান পুরো পৃথিবীতে যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে অশান্তি সৃষ্টিকারী আমেরিকারও কোনো উত্থান হত না। ব্রিটিশ-আমেরিকার উত্থান না হলে মধ্যপ্রচ্যের ক্যান্সার ইজরায়েল নামক আমেরিকার অঘোষিত ৫১ তম অঙ্গরাজ্য মুসলিম বিশ্বের অন্তরে স্থাপন করা এই ‘পশ্চিমা কাঁটা'টিরও জন্ম হত না৷ এই শক্তি গুলো শক্ত অবস্থানে না থাকলে, ২টা বিশ্বযুদ্ধও হত না।

দক্ষিণ এশিয়া থেকে ৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার সম্পদ লুট করে এই পুরো অঞ্চলকে ফকির বানাতে পারতো না।
পৃথিবীর সর্বোচ্চ প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ মহাদেশ আফ্রিকাকেও দুর্ভিক্ষে জর্জরিত করা সম্ভব হতো না।
‘গণতন্ত্র’ নামের ছদ্মবেশে পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টিকারী সেই বিষফোড়ারও জন্ম হতো না। ‘জাতিসংঘ’ নামের এক পক্ষিক দালালী এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষপাতদুষ্ট এরকম সস্তা বিচার ব্যবস্থাও থাকতো না। আমরা পেতাম এক সুস্থ পৃথিবী, ন্যায়ভিত্তিক বিচারের সভ্যতা, যেখানে ন্যায়বিচারই থাকতো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। আমরা পেতাম এক সুস্থ শহর, সুস্থ পৃথিবী যেখানে থাকতো ন্যায় বিচারই প্রথম প্রায়োরিটি।

নোটস: এটা কোনো জাতিগত বিদ্বেষের উদ্দেশ্য লেখা হয়নি। মাশাআল্লাহ তারা অনেক খুবই সুদর্শন একটা জাতি। তাদের উপর আমার কোনো ব্যাক্তিগত রাগ এবং ক্ষোভ কিংবা কোনো হিংসা, বিদ্বেষ নেই। কিন্তু এই আর্টিকেলটা লেখা হয়েছে বাস্তব ইতিহাসের সত্য ঘটনা অবলম্বনে আর ইতিহাসের পরিসংখ্যানের এর ব্যাখ্যা উপর ভিত্তিতে।

☞বিশ্লেষণে:🗣️✍️ Jvm Jamir Mehmed. আমার উপলব্ধিতে সুলতান বায়েজিদ দ্য থান্ডারবোল্ট ছিলেন- এই যেন কোনো এক সকালে সাদাকালো-মেঘহীন নীল আকাশে উদিত হওয়া সূর্য" দুপুর কিংবা সন্ধ্যা হওয়ার আগেই বেলার শুরুতেই ডুবে যায়।

এটাই কি বৈষম্য বিরোধী আচরণের নমুনাঃ==============================সচিবালয়ে তারা সবাই খু-নী আর ভোট চোরদের লোক। *সচিব : ৩ ...
27/05/2025

এটাই কি বৈষম্য বিরোধী আচরণের নমুনাঃ
==============================

সচিবালয়ে তারা সবাই খু-নী আর ভোট চোরদের লোক।

*সচিব : ৩ জন
১. ঊরুন দেব মিত্র, ২. উজ্জ্বল বিকাশ দত্ত, ৩. রণজিত কুমার বিশ্বাস।

* অতিরিক্ত সচিব : ৩২ জন
১. স্বপন কুমার সাহা, ২. ভীম চরণ রায়, ৩. জ্ঞানেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, ৪. স্বপন কুমার সরকার, ৫. শ্যামল কান্তি ঘোষ, ৬. অমলেন্দু মুখার্জি, ৭. প্রণব চক্রবর্তী, ৮. সিতান ঘোষ সেন. ৯. পরীক্ষিত দত্ত চৌধুরী, ১০. দীলিপ কুমার দাস, ১১. সাইমা পাল দে, ১২. বিজন কুমার বাইসা, ১৩. তাপস কুমার রায়, ১৪. প্রকাশ চন্দ্র দাস, ১৫. অসিত কুমার বসাক এডিসি, ১৬. দীলিপ কুমার বসাক এডিসি, ১৭. জগদীশ রায়, ১৮. সুশান চন্দ্র দাস, ১৯. কামাল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, ২০. স্বপন কুমার রায়, ২১. পবন চৌধুরী, ২২. তপন কুমার কর্মকার, ২৩. অপরূপ কুমার সরকার, ২৪. আশিস কুমার চৌধুরী, ২৫. অশোক মাধব রায়, ২৬. তপন কুমার চক্রবর্তী, ২৭. জিসনু রায় চৌধুরী, ২৮. নাভাস চন্দ্র মণ্ডল,২৯. ড. আর রাখান চন্দ্র বরমন, ৩০. মোনজ কুমার রায়, ৩১. অমিতাভ চক্রবর্তী, ৩২. শুভাশীষ বোস।

*যুগ্ম সচিব : ১৩১ জন

১. পরিমল চন্দ্র সাহা, ২. রতন কুমার সাহা, ৩. চন্দ্রনাথ বসাক, ৪. দীলিপ কুমার শর্মা, ৫. রবীন্দ্রনাথ রায়, ৬. গণেশ চন্দ্র সরকার, ৭. সুকুমার চন্দ্র রায়, ৮. ঈন্না লাল চৌধুরী, ৯. জীবন কুমার চৌধুরী, ১০. কুশলিয়া রানী বাগচি, ১১. তপন চন্দ্র মজুমদার, ১২. মনোজ মোহন মিত্র (এম এম মিত্র), ১৩. বিনয় ভূষণ তালুকদার, ১৪. পরেশ চন্দ্র রায়, ১৫. ড. অরুণা বিশ্বাস, ১৬. নিখিল চন্দ্র দাস, ১৭. অনন্ত কুমার চৌধুরী, ১৮. নারায়ণ চন্দ্র বরমা, ১৯. বিজন কান্তি সরকার, ২০. বিমান কুমার সাবা, এনডিসি, ২১. বিজয় ভট্টাচার্য, ২২. জ্যোতির্ময় সমাদ্দার, ২৩. রবীন্দ্রনাথ শর্মা, ২৪. কমলেশ কুমার দাস, ২৫. বিকাশ চন্দ্র সাবা, ২৬. বিকাশ কিশোরী দাস, ২৭. পতিত পবন বাইদিয়া, ২৮. আনন্দ চন্দ্র বিশ্বাস, ২৯. প্রশান্ত কুমার রায়, ৩০. অজিত কান্তি দাস, ৩১. মানিক চন্দ্র দে, ৩২. কালিরঞ্জন বরমা, ৩৩. তপন কান্তি শীল, ৩৪. গৌতম কুমার ঘোষ, ৩৫. বাসু দেব আচার্য, ৩৬. মানবিনরা (?) ভৌমিক, ৩৭. গোপাল কৃষ্ণ ভট্টাচার্য, ৩৮. বাবুল চন্দ্র রায়, ৩৯. পুণ্যাবর্তা চৌধুরী, ৪০. শংকর চন্দ্র রায়, ৪১. মলয় তালুকদার, ৪২. সুশান চন্দ্র রায়, ৪৩. মৃদুল কান্তি ঘোষ, ৪৪. গোকুল চন্দ্র দাস, ৪৫. সুবীর কিশোর চৌধুরী, ৪৬. পরিমল কুমার দেব, ৪৭. বিভাষ চন্দ্র পোদ্দার, ৪৮. শিখা সরকার, ৪৯. মনীন্দ্র নাথ রায়, ৫০. ধীরেন্দ্র (?) চন্দ্র দাস, ৫১. অমরিতা (?) রায়, ৫২. শশী কুমার সিং, ৫৩. সুনীল চন্দ্র পাল, ৫৪. অশোক কুমার বিশ্বাস, ৫৫. সুপ্রিয় কুমার কুন্দু, ৫৬. মানিক লাল বণিক, ৫৭. জ্যোতির্ময় দত্ত, ৫৮. নারায়ণ চন্দ্র দাস, ৫৯. বিমল চন্দ্র দাস, ৬০. ভোলানাথ দে, ৬১. বাসুদেব গাঙ্গুলী, ৬২. অরুণ কুমার মালাকার, ৬৩. নিমাই চন্দ্র পাল, ৬৪. ড. নমিতা হালদার, ৬৫. সুুভাষ চন্দ্র সরকার, ৬৬. মরণ কুমার চক্রবর্তী, ৬৭. তপন কুমার ঘোষ, ৬৮. পিরায় সাহা, ৬৯. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহন্ত, ৭০. সুব্রত রায় মিত্র, ৭১. পরিতোষ চন্দ্র দাস, ৭২. দীপক কান্তি পাল, ৭৩. অরজিত চৌধুরী, ৭৪. বনমালী ভৌমিক, ৭৫. উত্তম কুমার মণ্ডল, ৭৬. দীলিপ কুমার সাহা, ৭৭. ইতি রানী পোদ্দার, ৭৮. স্বপন চন্দ্র পাল, ৭৯. গোপা চৌধুরী, ৮০. অমিত কুমার বাউল, ৮১. অশোক কুমার বিশ্বাস, ৮২. গাইতা বরতা সাহা, ৮৩. বিশ্বনাথ বণিক, ৮৪. প্রাণেশ চন্দ্র সূত্রধর, ৮৫. শাইমা প্রসাদ বেপারী, ৮৬. সুশান্ত কুমার সাহা, ৮৭. গৌতম কুমার ভট্টাচার্য, ৮৮. রঞ্জিত কুমার সেন, ৮৯. হরিপ্রসাদ পাল, ৯০. তপন চন্দ্র বণিক, ৯১. পার্থপ্রতীম দেব, ৯২. অভিজিত চৌধুরী, ৯৩. সুরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, ৯৪. শংকর রঞ্জন সাহা, ৯৫. ড. অর্ধেন্দু শেখর রায়, ৯৬. স্বর্ণকার প্রসাদ দে, ৯৭. প্রণব কুমার নিয়োগী, ৯৮. সন্তোষ কুমার অধিকারী, ৯৯. রমা রানী রায়, ১০০. তন্দ্রা শেখর, ১০১. সীমা সাহা, ১০২. সমরীতা রানী ঘরামী, ১০৩. পুলক রাজন শাহ, ১০৪. তপন কুমার সরকার, ১০৫. কংকাম নীলমণি সিং, ১০৬. মিনু শীল, ১০৭. ধীরেন্দ্র নাথ সরকার, ১০৮. অঞ্জলি রানী চক্রবর্তী, ১০৯. প্রণয় কান্তি বিশ্বাস, ১১০. তরু কান্তি ঘোষ, ১১১. প্রশান্ত কুমার দাস, ১১২. মনোজ কান্তি বড়াল, ১১৩. স্বপন কুমার বড়াল, ১১৪. বিষয় ভূষণ পাল, ১১৫. দীপক চক্রবর্তী, ১১৬. নিখিল রঞ্জন রায়, ১১৭. নন্দ দুলাল বণিক, ১১৮. সঞ্জয় কুমার চৌধুরী, ১১৯. গৌতম আইচ সরকার, ১২০. প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী, ১২১. শিবনাথ রায়, ১২২. নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ, ১২৩. লক্ষ্মী চন্দ্র দেবনাথ, ১২৪. জয়তী পাল কুড়ি, ১২৫. জয়তী রানী বর্মণ, ১২৬. সুধাকর দত্ত, ১২৭. রেবা রানী সাহা, ১২৮. বিজন লাল দেব, ১২৯. হীরামণি বাড়ৈ, ১৩০. ড. কৃষ্ণ গাইন, ১৩১. শান্ত কুমার প্রামাণিক।

* উপসচিব : ১২৫ জন

১. উত্তম কুমার রায়, ২. বিপুল চন্দ্র রায়, ৩. জগদীশ চন্দ্র বিশ্বাস, ৪. তপন কুমার নাথ, ৫. বিকাশ চন্দ্র শিকদার, ৬. ড. নলিন রঞ্জন বসাক, ৭. জয়ন্তী স্যান্নাল, ৮. তপন কান্তি ঘোষ, ৯. রাম চন্দ্র দাস, ১০. প্রণব কুমার ঘোষ, ১১. রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, ১২. কমলা রঞ্জন দাস, ১৩. পাঠান চন্দ্র পণ্ডিত, ১৪. নিতাই পদ দাস, ১৫. উত্পল কুমার দাস, ১৬. নিমাই চন্দ্র বিশ্বাস, ১৭. অজিত কুমার পাল আকা, ১৮. মহাদেব বিশ্বাস, ১৯. বিজয় কুমার দেবনাথ, ২০. সুপ্রকাশ স্যান্নাল, ২১. তাপস কুমার বোস, ২২. জগন্নাথ খোকন, ২৩. শিশির কুমার রায়, ২৪. নন্দিতা সরকার, ২৫. মলয় কুমার রায়, ২৬. স্বপন কুমার ঘোষ, ২৭. কল্লোল কুমার চক্রবর্তী, ২৮. সায়েম কিশোর রায়, ২৯. প্রবীর কুমার চক্রবর্তী, ৩০. দিলীপ কুমার বণিক, ৩১. ননী গোপাল বিশ্বাস, ৩২. অনিল চন্দ্র দাস, ৩৩. নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার, ৩৪. দুলাল কৃষ্ণ সাহা, ৩৫. শান্ত কুমার সাহা, ৩৬. মৃণাল কান্তি দেব, ৩৭. রাজিব চন্দ্র সরকার, ৩৮. সীতেন্দ্র কুমার সরকার, ৩৯. নীতিশ কুমার সরকার, ৪০. তুলসি রঞ্জন সাহা, ৪১. সুভাস চন্দ্র সাহা, ৪২. মনীন্দ্র কিশোর, ৪৩. সুশান্ত কুমার কুণ্ডু, ৪৪. সত্যজিত্ কর্মকার, ৪৫.অশোক কুমার দেবনাথ, ৪৬. সুবল বোস মণি, ৪৭. ড. তরুণ কান্তি সিকদার, ৪৮. বিশ্বজিত্ ভট্টাচার্য, ৪৯. সঞ্জয় কুমার বণিক, ৫০. সত্যরঞ্জন মণ্ডল, ৫১. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস, ৫২. রঞ্জন কুমার দাস, ৫৩. জয়ন্ত কুমার সরকার, ৫৪. অমিতাভ সরকার, ৫৫. প্রণব কুমার ঘোষ, ৫৬. মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস, ৫৭. বিকর্ণ কুমার ঘোষ, ৫৮. অরুণ চন্দ্র মহোত্তম, ৫৯. প্রণব কুমার রায়, ৬০. পলাশ কান্তি বালা, ৬১. সুব্রত পাল চৌধুরী, ৬২. দীপক রঞ্জন অধিকারী, ৬৩. শশাঙ্ক সুকুমার ভৌমিক, ৬৪. জনীন্দ্র নাথ সরকার, ৬৫. প্রদীপ কুমার দাস, ৬৬. গৌতম কুমার, ৬৭. শিবানী ভট্টাচার্য, ৬৮. নিতাই চন্দ্র সেন, ৬৯. মলাই চৌধুরী, ৭০. সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, ৭১. রঞ্জিত কুমার, ৭২. কৃষ্ণ কান্ত বিশ্বাস, ৭৩. তপন কুমার সাহা, ৭৪. অমল কৃষ্ণ মণ্ডল, ৭৫. নিরঞ্জন দেবনাথ, ৭৬. লিপিকা ভদ্র, ৭৭. সুলেখা রানী বসু, ৭৮. বিদিকা রায় চৌধুরী, ৭৯. দীলিপ কুমার বণিক, ৮০. মনোজ কুমার রায়, ৮১. পরিমল সিং, ৮২. সমরিতা কর্মকার, ৮৩. পিকা রানী বলয়, ৮৪. তপন কুমার বিশ্বাস, ৮৫. ড. সুবাস চন্দ্র বিশ্বাস, ৮৬. গুহলাল সিং, ৮৭. গৌতম চন্দ্র পাল, ৮৮. তন্ময় দাস, ৮৯. বিজয় কৃষ্ণ দেবনাথ, ৯০. প্রদেশ কান্তি দাস, ৯১. মনোরঞ্জন বিশ্বাস, ৯২. অসীম কুমার দে, ৯৩. অজিত কুমার দেবনাথ, ৯৪. পীযূষ কান্তি নাথ, ৯৫. পাঠান কুমার সরকার, ৯৬. সুকুমার চন্দ্র কুণ্ডু, ৯৭. আশিস কুমার সাহা, ৯৮. শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, ৯৯. অজিত কুমার ঘোষ, ১০০. উত্তম কুমার কর্মকার, ১০১. সাইয়ান কুমার দাস, ১০২. সুসানতা কুমার সরকার, ১০৩. বালাই কারিসনা হাজরা, ১০৪. নীরঞ্জন কুমার মণ্ডল, ১০৫. ব্রজগোপাল ভৌমিক, ১০৬. ড. অনিমা রানী নাথ, ১০৭. গুরাথ কুমার সরকার, ১০৮. স্বপন কুমার ভৌমিক, ১০৯. গীতাঞ্জলী চৌধুরী, ১১০. পঙ্কজ কুমার পাল, ১১১. ননী গোপাল মণ্ডল, ১১২. সন্তোষ কুমার পণ্ডিত, ১১৩. শ্যামল কুমার সিংহ, ১১৪. অসীম কুমার বালা, ১১৫. মহেশ চন্দ্র রায়, ১১৬. গৌরী সরকার ভট্টাচার্য, ১১৭. দীপঙ্কর মণ্ডল, ১১৮. অজয় কুমার চক্রবর্তী, ১১৯. সুকাশ কর্মকার, ১২০. স্বপন কুমার মণ্ডল, ১২১. প্রদীপ কুমার সাহা, ১২২. বিজয় রঞ্জন সাহা, ১২৩. বলনাথ পাল, ১২৪. নৃপেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, ১২৫ সঞ্জীব কুমার দেবনাথ

* সিনিয়র সহকারী সচিব : ৫১ জন

১. কিরণ চন্দ্র রায়, ২. দেবাশীষ রায়, ৩. অপর্ণা দে, ৪. শৈলেন্দ্র নাথ মণ্ডল, ৫. রাজীব ভট্টাচার্য, ৬. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, ৭. নীরদ চন্দ্র মণ্ডল, ৮. দীপঙ্কর বিশ্বাস, ৯. আনন্দ কুমার বিশ্বাস, ১০. বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস, ১১. পরিমল সরকার, ১২. অঞ্জন চন্দ্র পাল, ১৩. বেবী রানী কর্মকার, ১৪. রথীন্দ্রনাথ দত্ত, ১৫. সঞ্জয় কুমার নাথ, ১৬. সরোজ কুমার নাথ, ১৭. পরিতোষ হাজরা, ১৭. পরিতোষ হাজরা, ১৮. সাতি আকাম সিন, ১৯. দেবজিত সিংহ, ২০. গোপাল চন্দ্র দাস, ২১. নীল রতন সরকার, ২২. কালা চান সিংহ, ২৩. প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস, ২৪. অতিন কুমার কুণ্ডু, ২৫. ধনাঞ্জয় কুমার দাস, ২৬. দেবেন্দ্র চক্রবর্তী, ২৭. দেবাশীষ নাগ, ২৮. অতুল সরকার, ২৯. অভিজিত রায়, ৩০. সুব্রত কুমার শিকদার, ৩১. অপূর্ব কুমার মণ্ডল, ৩২. অরুণ কুমার মণ্ডল, ৩৩. উত্তম কুমার মণ্ডল, ৩৪. সুজিত কুমার রায়, ৩৫. প্রিয়া সিংধু তালুকদার, ৩৬. অনুপ কুমার তালুকদার, ৩৭. সুব্রত কুমার দে, ৩৮. হিল্লোল বিশ্বাস, ৩৯. দেবময় দেওয়ান, ৪০. মিনাক্ষ্মী বর্মন, ৪১. দেবপ্রসাদ পাল, ৪২. বনানী বিশ্বাস, ৪৩. সঞ্জীব কুমার দেবনাথ, ৪৪. দুলাল চন্দ্র সূত্রধর, ৪৫. খোকন কান্তি সাহা, ৪৬. সরবাসটি রায়, ৪৭. সুব্রত পাল, ৪৮. সিদ্ধার্থ শংকর কুণ্ডু, ৪৯. দিবি চন্দ, ৫০. বাদল চন্দ্র হালদার, ৫১. মৃণাল কান্তি দে, ৫২. পঙ্কজ ঘোষ, ৫২. সন্দীপ কুমার সিংহ।

* সহকারী সচিব : ৯৬ জন!

১. পল্লব কুমার ব্যানার্জী, ২. গোপাল কৃষ্ণ পাল, ৩. অরুণ কান্তি মজুমদার, ৪. সুকান্ত ভট্টাচার্য, ৫. ড. অশোক কুমার বিশ্বাস, ৬. তপন কুমার চক্রবর্তী, ৭. পতিত পবন দেবনাথ, ৮. উত্তম কুমার পাল, ৯. সুধীর চন্দ্র রায়, ১০. কানাই লাল শীল, ১১. পরিমল চন্দ্র পাল, ১২. প্রতিভা রানী কুণ্ডু, ১৩. কালচাঁদ সরকার, ১৪. দীলিপ কুমার দেবনাথ, ১৫. পাপিয়া ঘোষ, ১৬. রীনা রানী সাহা, ১৭. অসীম কুমার কর্মকার, ১৮. সুদীপ্ত দাস, ১৯. রাজীব কুমার সরকার, ২০. অপর্ণা ভাইডা, ২১. রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, ২২. সন্দীপ কুমার সরকার, ২৩. রাজীব কুমার রায়. ২৪. মল্লিকা দে, ২৫. জ্যোতিকা সরকার, ২৬. শীলবর্তা কর্মকার, ২৭. সুজন চৌধুরী, ২৮. ঝুমুর বালা, ২৯. শঙ্খমালা, ৩০. উত্তম কুমার দে, ৩১. অনিন্দিতা রায়, ৩২. প্রদীপ সিংহ, ৩৩.দেবেন্দ্রনাথ উরন, ৩৪. প্রশ্রান্ত কুমার দাস, ৩৫. মরার্জী দেশাই বর্মণ, ৩৬. শিল্পী রানী রায়, ৩৭. ভাস্কার বিভানাথ বাপ্পী, ৩৮. বিনীতা বিশ্বাস, ৩৯. অপর্ণা দেবনাথ, ৪০. সুবর্ণা সরকার, ৪১. সুজীদ হালদার, ৪২. মৌসুমী সরকার পাখি, ৪৩. রুপালী মণ্ডল, ৪৪. সমর কান্তি বসাক, ৪৫. অমিতাভ পরাগ তালুকদার, ৪৬. পিন্টু ব্যাপারী, ৪৭. উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, ৪৮. নমীতা দে, ৪৯.দীপঙ্কর রায়, ৫০. গৌরাঙ্গ কুমার চৌধুরী, ৫১. দীপক কুমার রায়, ৫২. কমল কুমার ঘোষ, ৫৩. দীপঙ্কর রায়, ৫৪. প্রশান কুমার চক্রবর্তী, ৫৫. তুষার কুমার পাল, ৫৬. বিশ্বজিত্ কুমার পাল, ৫৭. প্রভাসু সুমি মৌহান, ৫৮. অনির্বাণ নিয়োগী, ৫৯. মিন্টু চৌধুরী, ৬০. তন্ময় মজুমদার, ৬১. বীথি দেবনাথ, ৬২. শীলু রায়, ৬৩. শম্পা কুণ্ডু, ৬৪. মুকুল কুমার মিত্র, ৬৫. শঙ্কর কুমার বিশ্বাস, ৬৬. অসীম চন্দ্র মল্লিক, ৬৭. বীজন ব্যানার্জী, ৬৮. চিত্রা শিকারী, ৬৯. শিমুল কুমার সাহা, ৭০. জুতন চন্দ্র, ৭১. স্নেহাশীষ দাস, ৭২. নিক্সন বিশ্বাস, ৭৩. মিল্টন চন্দ্র রায়, ৭৪. নির্ঝর অধিকারী, ৭৫. অমিত দেবনাথ, ৭৬. সাসুতি শীল, ৭৭. পরিন্দ্র দেব, ৭৮. আজীন কুমার সরকার, ৭৯. সুমীর বিশ্বাস, ৮০. পূর্বাণী গোলদার, ৮১. প্রণতি বিশ্বাস, ৮২. বিভীষণ কান্তি দাস, ৮৩. পলক কান্তি চক্রবর্তী, ৮৪. ওনমী চক্রবর্তী, ৮৫. বিকাশ বিশ্বাস, ৮৬. জীতেন্দ্র কুমার নাথ, ৮৭. জয়ন্তী রুপা রায়, ৮৮. শতরুপা তালুকদার, ৮৯. রামকৃষ্ণ বর্মণ, ৯০. কল্যাণ চৌধুরী, ৯১. ডিবাংসু কুমার সিনহা, ৯২. সুজতী ধর, ৯৩. মৌসুমী বাইন হিরা, ৯৪. টীনা পাল, ৯৫. সাথী অজিত রায় দাস, ৯৬. সাজুতী দেবনাথ।

*অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার : ৪ জন!

১. সুরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, ২. অশোক কুমার বিশ্বাস, ৩. স্বপন কুমার রায়, ৪. নারায়ণ দত্ত বর্মা।

*উপবিভাগীয় কমিশনার : ৫ জন

১. অমিতাভ সরকার, ২. রামচন্দ্র দাস, ৩. মনোজ কান্তি বড়াল, ৪. মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস, ৫. মনীন্দ্র কিশোর মজুমদার।

*অতিরিক্ত উপবিভাগীয় কমিশনার : মাত্র ১০ জন!

১. ডা. সুভাস চন্দ্র বিশ্বাস, ২. বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস, ৩. গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস, ৪. অঞ্জন চন্দ্র পাল, ৫. দীপঙ্কর বিশ্বাস, ৬. কালা চন্দ্র সিনহা, ৭. অনন্দ্র কুমার বিশ্বাস, ৮. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ৯. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী, ১০. দেবজীত্ সিনহা

*উপজেলা নির্বাহী অফিসার : ১৩.

দেবপ্রসাদ পাল, ২. অভিজিত্ রায়, ৩. উত্তম কুমার মণ্ডল, ৪. সুব্রত কুমার দে, ৫. প্রিয়াসিন্ধু তালুকদার, ৬. সুব্রত কুমার শিকদার, ৭. সুব্রত পাল, ৮. অরুণ কুমার মণ্ডল, ৯. দুলাল চন্দ্র সূত্রধর, ১০. বনানী বিশ্বাস, ১১. দেবী চন্দ্র, ১২. মৃনাল কান্তি দে, ১৩. সিদ্ধার্থ সরকার কুণ্ড, ১৪. পঙ্কজ ঘোষ।
নাম না জানা আরও হাজার হাজার সরকারি কর্মকর্তা আছেন।

তারা কি সরকারকে সফল হতে দিবে ? তাদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত।

মিথ্যা অপবাদ দেয়া এবং অপবাদ রটনকারীর তাওবাহ্ গৃহীত হওয়াহাব্বান ইবনু মূসা, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হান্‌যালী, মুহাম্মাদ ই...
03/11/2024

মিথ্যা অপবাদ দেয়া এবং অপবাদ রটনকারীর তাওবাহ্ গৃহীত হওয়া

হাব্বান ইবনু মূসা, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আল হান্‌যালী, মুহাম্মাদ ইবনু রাফি’ ও ’আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ), সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যাব, উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, আলকামাহ ইবনু ওয়াক্কাস এবং উবাইদুল্লাহ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু উতবাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তারা সকলেই রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাযিঃ) এর ঐ কাহিনীটি বর্ণনা করেছেন, অপবাদ রটনাকারীরা তার সম্পর্কে যে অপবাদ দিয়েছিল। তারপর রটানো অপবাদ হতে আল্লাহ তাকে নির্দোষ বর্ণনা করলেন। রাবী যুহরী (রহঃ) বলেন, তারা সবাই আমার কাছে হাদীসের এক এক অংশ বর্ণনা করেছেন। তাদের কেউ কেউ অন্যের চেয়ে উক্ত হাদীসের কঠোর সংরক্ষণকারী ছিলেন এবং তা ভালভাবে বর্ণনা করতে সক্ষম ছিলেন। তারা আমার কাছে যা বর্ণনা করেছেন, তাদের প্রত্যেকের বর্ণনা আমি যথাযথভাবে আয়ত্ব করে নিয়েছি। একজনের হাদীস অন্যের হাদীসকে সত্যায়িত করে।
তারা সকলেই উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী আয়িশাহ্ সিদ্দীকা (রাযিঃ) বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরে যাওয়ার সংকল্প করতেন তখন তিনি তার স্ত্রীদের মধ্যে লটারী করতেন। যার নাম আসত তাকেই তিনি তার সাথে সফরে নিতেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, এক যুদ্ধ-সফরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লটারী করলেন এবং এতে আমার নাম উঠল। আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সে যুদ্ধে শারীক হই। পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পর এ যুদ্ধে আমি শারীক হয়েছিলাম। আরোহী অবস্থায় আমাকে ভিতরে রাখা হতো এবং অবতরণের সময়ও হাওদার ভিতর থাকতাম। পরে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধ হতে অব্যাহতির পর ফিরে এসে মদীনার কাছাকাছি জায়গায় পৌছার পর এক রাতে তিনি রওনা হবার আদেশ দিলেন। লোকজন যখন রওনা হবার ব্যাপারে ঘোষণা দিল, তখন আমি দাঁড়িয়ে চলতে লাগলাম, এমনকি আমি সৈন্যদেরকে ছাড়িয়ে দূরে চলে গেলাম।
এরপর আমি প্রাকৃতিক প্রয়োজন (প্রস্রাব পায়খানা) সেরে আরোহীর নিকট এলাম এবং নিজ বক্ষে হাত দিয়ে দেখলাম, যিফারী পুতির প্রস্তুত আমার হারটি হারিয়ে গিয়েছে। তাই আগের স্থানে ফিরে গিয়ে আমি আমার হারটি সন্ধান করলাম। (এতে আমার দেরী হয়ে গেল।) এদিকে হাওদা বহনকারী লোকজন এসে দ্রব্য-সামগ্রী উঠিয়ে আমার বহনকারী উটের উপর রেখে দিল। তারা ধারণা করেছিল, আমি হাওদার ভিতরেই আছি। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তখনকার মহিলারা হালকা-পাতলা গঠনেরই হতো। না বেশি ভারী, না বেশি মোটা। কেননা তারা কম খানা খেত। তাই উঠানোর সময় হাওদার ওজন তাদের কাছে সাধারণ অবস্থা হতে ব্যতিক্রম মনে হয়নি। অধিকন্তু তখন আমি অল্প বয়সী ছিলাম। পরিশেষে লোকেরা উট দাঁড় করিয়ে পথ চলতে শুরু করে দিল। সৈন্যদের রওনা হয়ে যাবার পর আমি আমার হার খুঁজে পেলাম। এরপর আমি আগের স্থানে ফিরে এসে দেখলাম, তথায় কোন জন-মানুষের শব্দ নেই আর সাড়া দেয়ার মতো কোন লোকও তথায় নেই। তখন আমি সংকল্প করলাম, আমি যেখানে বসা ছিলাম সেখানেই বসে থাকব এবং আমি ভাবলাম, লোকেরা যখন খুঁজে আমাকে পাবে না তখন নিশ্চয়ই তারা আমার খোঁজে আমার নিকট ফিরে আসবে।
আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার সে স্থানে বসা অবস্থায় ঘুম এলো আর আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। সাফওয়ান ইবনু মুয়াত্তাল আস্ সুলামী আয যাকওয়ানী নামক এক লোক ছিল। আরামের উদ্দেশে সৈন্যদের পেছনে শেষ রাত্রে সে আগের জায়গায়ই রয়ে গিয়েছিল। পরে সে রওনা হয়ে প্রত্যুষে আমার স্থানে পৌছল। দূর থেকে সে একটি মানব দেহ দেখতে পেয়ে আমার কাছে এলো এবং আমাকে দেখে সে চিনে ফেলল। কেননা পর্দার বিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে সে আমাকে দেখেছিল। আমাকে চিনে সে "ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলাইহি রজিাউন" পড়লেন তাঁর "ইন্না- লিল্লা-হ ..." এর শব্দে আমার ঘুম ছুটে গেল। অকস্মাৎ আমি আমার চাদর দিয়ে স্বীয় মুখমণ্ডল আবৃত করে নিলাম। আল্লাহর শপথ সে আমার সাথে কোন কথা বলেনি এবং “ইন্না- লিল্লা-হ ..." পাঠ ব্যতীত তার কোন কথাই আমি শুনিনি। এরপর সে তার উট বসিয়ে নিজ হাত বিছিয়ে দিলেন আমি তার উটের উপরে উঠলাম। আর সে পায়ে হেঁটে আমাকে সহ উট হাকিয়ে নিয়ে চলল। যেতে যেতে আমরা সৈন্য দলের কাছে গিয়ে পৌছলাম। তখন তারা দ্ধিপ্রহরের প্রচণ্ড রোদের মধ্যে সওয়ারী থেকে নেমে ভূমিতে অবস্থান করছিল।
আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমার (অপবাদের) সম্পর্কে জড়িত হয়ে কতক লোক নিজেদের ধ্বংস ডেকে এনেছে আর এ সম্পর্কে যে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিল তার নাম ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুল। পরিশেষে আমরা মদীনায় পৌছলাম। মদীনায় পৌছার পর এক মাস যাবৎ আমি অসুস্থ ছিলাম। এদিকে মদীনার মানুষজন অপবাদ রটনাকারীদের কথা গভীরভাবে পর্যালোচনা করে দেখতে লাগল। এ সম্পর্কে আমি কিছুই বুঝতে পারিনি। তবে এ অসুস্থ অবস্থায় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরফ থেকে পূর্বের ন্যায় স্নেহ না পাওয়ার ফলে আমার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে ঢুকে কেবল সালাম করে বলতেন, এই তুমি কেমন আছো? এ আচরণ আমাকে সন্দেহে ফেলে দিল। আমি সে (মন্দ) বিষয়টি সম্পর্কে জানতাম না। তারপর কিছুটা সুস্থ হবার পর আমি মানসি প্রান্তরের দিকে বের হলাম। আমার সাথে মিসতাহ এর আম্মাও ছিল। তা আমাদের শৌচাগার ছিল। আমরা রাতে বের হতাম এবং রাতেই চলে আসতাম। এ হলো আমাদের গৃহের নিকট শৌচাগার নির্মাণের পূর্ববর্তী সময়ের ঘটনা। তখন আগের দিনের আরব মানুষের মতো মাঠে গিয়ে আমরা শৌচকার্য সারতাম। আর আমরা ঘরের কোণে শৌচাগার তৈরি করা পছন্দ করতাম না। অতএব আমি এবং মিসতাহ-এর মা যেতে লাগলাম। সে ছিল আবু রুহম ইবনু মুত্তালিব ইবনু আবদ মান্নাফ এর কন্যা এবং তার মা ছিল আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ)-এর খালা সাখর ইবনু আমির-এর মেয়ে। তাঁর সন্তানের নাম ছিল মিসতাহ ইবনু উসাসাহ ইবনু আব্বাদ ইবনু মুত্তালিব। মোটকথা, আমি ও বিনতু আবু রহম (মিসতাহ-এর মা) নিজ নিজ শৌচকার্য সেরে ঘরের দিকে রওনা হলাম।
তখন মিসতাহ এর মা স্বীয় চাদরে পেচিয়ে হোঁচট খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়। আর সে বলে উঠে মিসতাহ ধবংস হোক। তখন আমি বললাম, তুমি অন্যায় কথা বলেছো। তুমি কি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী লোককে বকছ? সে বলল, হে অবলা নারী! মিসতাহ কি বলেছে, তুমি কি শোননি? আমি বললাম, সে কি বলেছে? আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তারপর সে অপবাদ রটনাকারীরা যা বলেছে, সে সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিল। এতে আমার অসুস্থতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেল। আমি যখন ঘরে ফিরে আসলাম, তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করে আমাকে সালাম দিলেন এবং বললেন, এই তুমি কেমন আছো? তখন আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, আপনি কি আমাকে আমার বাবা-মায়ের বাড়ীতে যাওয়ার অনুমতি দিবেন? আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তখন আমি আমার বাবা-মায়ের ঘরে গিয়ে এ বিষয়টির খোঁজ করার সংকল্প করেছিলাম। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে অনুমতি দিলেন। আমি আমার মাতা-পিতার নিকট চলে আসলাম। তারপর আমি আমার মাকে বললাম, আম্মাজান লোকেরা কী কথা বলছে? তিনি বললেন, মা! এদিকে কান দিয়ো না এবং একে মন্দ মনে করো না। আল্লাহর শপথ! কারো যদি কোন সুন্দর সহধর্মিণী থাকে ও সে তাকে ভালবাসে আর ঐ মহিলার কোন সতীনও থাকে তবে সতীনরা তার দোষচর্চা করবে না এমন খুব কমই হয়।
আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, এ কথা শুনে আমি বললাম, সুবহানাল্লাহ! লোকেরা এ কথা রটাতে শুরু করেছে? এরপর কেঁদে কেঁদে আমি সারা রাত কাটালাম। এমনকি সকালেও অশ্রু বন্ধ হলো না। আমি ঘুমোতে পারিনি। প্রভাতে আমি কাঁদছিলাম। এদিকে আমাকে তালাক দেয়ার ব্যাপারে পরামর্শ করার জন্য রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী ইবনু আবু তালিব (রাযিঃ) এবং উসামাহ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) কে ডাকলেন। তখন ওয়াহী স্থগিত ছিল। তিনি বলেন, উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাযিঃ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবীদের সতীত্ব এবং তাদের সাথে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভালবাসার ক্ষেত্রে যা জানতেন সে দিকেই তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ইশারা করলেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আয়িশাহ আপনার সহধর্মিণী, ভাল ছাড়া তার সম্পর্কে কোন কথাই আমাদের জানা নেই। আর আলী ইবনু আবূ তালিব (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহ তো আপনার উপর কোন সংকীর্ণতা চাপিয়ে দেননি। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) ব্যতীতও অনেক স্ত্রীলোক রয়েছে। আপনি যদি দাসী (বারীরাহ্) কে প্রশ্ন করেন তবে সে সত্য বলে দিবে।
আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বারীরাহ (রাযিঃ)-কে ডেকে বললেন, হে বারীরাহ! সন্দেহমূলক কোন কর্মে ’আয়িশাকে তুমি কখনো দেখেছ কি? বারীরাহ (রাযিঃ) তাকে বললেন, ঐ সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন, আমি যদি তার মাঝে কোন কিছু দেখতাম তবে নিশ্চয়ই এর ক্রটি আমি উল্লেখ করতাম। তবে সে একজন অল্প বয়সী কন্যা। পরিবারের জন্যে আটার খামীর রেখেই সে ঘুমিয়ে থাকতো আর বকরী এসে তা খেয়ে ফেলতো। এ ত্রুটি ছাড়া বেশি কোন ত্রুটি আয়িশার মাঝে আছে বলে আমার জানা নেই। তিনি বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে দাঁড়িয়ে ’আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুল হতে প্রতিশোধ আশা করলেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তিনি মিম্বারে দাঁড়িয়ে বললেন, হে মুসলিম সমাজ! আমার পরিবারের ব্যাপারে যে লোকের পক্ষ হতে কষ্টদায়ক বাক্যের খবর আমার নিকট পৌছেছে তার প্রতিশোধ গ্রহণ করার মতো কোন লোক এখানে আছে কি? আমি তো আমার স্ত্রীর ব্যাপারে উত্তম ছাড়া অন্য কোন কথা জানি না এবং যে লোকের ব্যাপারে তারা অপবাদ রটনা করছে তাকেও আমি সংলোক বলে জানি। সে তো আমাকে ছাড়া আমার ঘরে কখনো প্রবেশ করতো না।
এ কথা শুনে সা’দ ইবনু মু’আয আল আনসারী (রাযিঃ) দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার তরফ হতে প্রতিশোধ নিবো। অপবাদ রটনাকারী লোক যদি আওস গোত্রের হয় তবে আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিব। আর যদি সে আমাদের ভ্রাতা খাযরাজ গোত্রের হয় তবে আপনি আমাদেরকে আদেশ দিন। আমরা আপনার আদেশ পালন করব। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, তখন খাযরাজ সর্দার সা’দ ইবনু উবাদাহ (রাযিঃ) দাঁড়ালেন। তিনি একজন নেককার লোক ছিলেন। তবে তখন বংশীয় আত্মমর্যাদা তাকে মূর্খ বানিয়ে ফেলেছিল। তাই তিনি সা’দ ইবনু মুআযকে বললেন, তুমি মিথ্যা বলছো। আল্লাহর শপথ! তুমি তাকে হত্যা করবে না। তুমি তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না। এ কথা শুনে সা’দ ইবনু মু’তায (রাযিঃ) এর চাচাতো ভাই উসায়দ ইবনু হুযায়র (রাযিঃ) দাঁড়িয়ে সা’দ ইবনু উবাদাহ (রাযিঃ) কে বললেন, তুমি মিথ্যা বলছো। আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই আমরা তাকে হত্যা করব। নিশ্চয়ই তুমি মুনাফিক। তাই মুনাফিকদের পক্ষে কথা বলছো। এ সময় আওস ও খাযরাজ দু গোত্রের লোকেরা একে অপরের উপর উত্তেজিত হয়ে উঠল। এমনকি তারা যুদ্ধের ইচ্ছা করে বসলো। অথচ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনও তাদের সম্মুখে মিম্বারে দাঁড়ানো অবস্থায় ছিলেন। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে থামিয়ে শান্ত করলেন। তারা নীরব থাকলো এবং তিনি নিজেও আর কোন কথা বললেন না।
আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, সেদিন আমি সারাক্ষণ কান্নাকাটি করলাম। অবিরত ধারায় আমার অশ্রুপাত হচ্ছিল। রাত্রে একটুও আমার ঘুম আসলো না। অতঃপর সামনের রাতেও আমি কেঁদে কাটালাম। এ রাতেও অবর ধারায় আমার অশ্রুপাত হলো এবং একটুকুও নিদ্রা যেতে পারলাম না। এ দেখে আমার আব্বা আম্মা মনে করছিলেন যে, কান্নায় আমার কলিজ টুকরো টুকরো হয়ে যাবে। আমি কাঁদতে ছিলাম, আমার আব্বা আম্মা আমার নিকটে বসা ছিলেন। এমন সময় একজন আনসার মহিলা আমার কাছে আসার অনুমতি চাইলে আমি তাকে অনুমতি দিলাম। সে এসে বসে কাঁদতে লাগল। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আমাদের যখন এ অবস্থা এমন সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে প্রবেশ করলেন এবং আমাদেরকে সালাম করে বসলেন। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, অথচ আমার সম্বন্ধে যা বলাবলি হচ্ছে তারপর থেকে তিনি কখনো আমার কাছে বসেননি। এমনিভাবে এক মাস অতিক্রান্ত হলো। আমার সম্পর্কে তার কাছে কোন ওয়াহী আসলো না। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে তাশাহহুদ পড়লেন। এরপর বললেন, যা হোক হে ’আয়িশাহ! তোমার ব্যাপারে আমার কাছে এমন এমন খবর পৌছেছে। যদি তুমি এ বিষয়ে নিষ্পাপ এবং পবিত্র হও, তবে শীঘ্রই আল্লাহ তা’আলা তোমার পবিত্রতার বিষয়ে ঘোষণা করবেন। আর যদি তোমার দ্বারা কোন পাপ হয়েই থাকে তবে তুমি আল্লাহর কাছে মার্জনা প্রার্থনা এবং তওবা করো। কেননা বান্দা পাপ স্বীকার করে তওবা্ করলে আল্লাহ তার তওবা্ গ্রহণ করেন।
আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার কথা সমাপ্ত করলেন, তখন আমার অশ্রুঝরা বন্ধ হয়ে গেল। এমনকি তারপর আর এক ফোটা অশ্রুও আমি অনুভব করলাম না। তারপর আমি আমার পিতাকে বললাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বললেন, আমার তরফ হতে তার উত্তর দিন। তিনিও বললেন, আল্লাহর শপথ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কি উত্তর দিব, আমার তা অজানা। এরপর আমি আমার মাকে বললাম, আমার তরফ হতে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উত্তর দিন। তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কি উত্তর দিব, আমি তা জানি না। আমি বললাম, তখন আমি ছিলাম কম বয়সী কিশোরী। কুরআন মাজীদও অধিক পাঠ করতে পারতাম না। এ অবস্থা দেখে আমিই তখন বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি জানি, আপনারা এ অপবাদের কথা শুনেছেন, মনে তা গেঁথে গেছে এবং আপনারা তা বিশ্বাস করে নিয়েছেন। কাজেই এখন যদি আমি বলি, আমি নিষ্কলুষ তবে এ বিষয়ে আপনারা আমাকে বিশ্বাস করবেন না। আর যদি আমি মেনে নেই, যে সম্পর্কে আল্লাহ জানেন যে, আমি নিষ্পাপ, তবে আপনারা তা বিশ্বাস করবেন। আল্লাহর শপথ আমার ও আপনাদের জন্য (নবী) ইউসুফ (আঃ)-এর পিতার কথার দৃষ্টান্ত ছাড়া ভিন্ন কোন দৃষ্টান্ত আমার দৃষ্টিতে পড়ে না। তিনি বলেছিলেন, “কাজেই পরিপূর্ণ ধৈর্যই উত্তম, তোমরা যা বলছো সে ব্যাপারে একমাত্র আল্লাহই আমার আশ্রয়স্থল।"
তিনি [’আয়িশাহ্ (রাযিঃ)] বলেন, অতঃপর আমি মুখ ফিরিয়ে নিলাম এবং বিছানায় শুয়ে পড়লাম। আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ আল্লাহ তো ঐ সময়েও জানেন যে, নিশ্চয়ই আমি নিষ্পাপ এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা আমার পবিত্রতা উন্মোচন করে দিবেন। কিন্তু আল্লাহর শপথ আমি মনে করিনি যে, আল্লাহ তা’আলা আমার এ ব্যাপারে ওয়াহী অবতীর্ণ করবেন, যা পড়া হবে। কেননা আমার ব্যাপারে পড়ার মতো আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন আয়াত অবতীর্ণ করা হবে আমার অবস্থা তার চেয়ে বেশি নিম্নমানের বলে আমি মনে করতাম। তবে আমি প্রত্যাশা করেছিলাম যে, স্বপ্লের মধ্যে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোন বিষয় দেখবেন যার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা আমার পবিত্রতা প্রকাশ করে দিবেন। আয়িশাহ্ সিদ্দীকা (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখনো তার জায়গা ছেড়ে যাননি এবং গৃহের লোকও কেউ বাইরে যায়নি। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা তার নবীর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করেন। ওয়াহী অবতীর্ণের প্রাক্কালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর যে যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা দেখা দিত তার অনুরূপ অবস্থা দেখা দিলো। এমনকি তার প্রতি অবতীর্ণকৃত বাণীর ওযনের কারণে প্রচণ্ড শৈত্যপ্রবাহের দিনেও তার শরীর হতে মুক্তার মতো বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝরে পড়তো।
আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এ যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা চলে গেলে তিনি হাসতে লাগলেন এবং প্রথমে যে কথাটি বললেন তা হলোঃ হে আয়িশাহ! সুসংবাদ গ্রহণ করো। আল্লাহ তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করেছেন। এ কথা শুনে আমার মা আমাকে বললেন, তুমি উঠে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সম্মান প্রদর্শন করো। আমি বললাম, আমি তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবো না এবং আল্লাহ ব্যতীত আর কারো প্রশংসা করবো মা। তিনিই আমার পবিত্রতার ব্যাপারে আয়াত নাযিল করেছেন। আয়িশাহ্ (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহ তা’আলা আমার পবিত্রতার ব্যাপারে দশটি আয়াত (সূরা আন নূর ২৪ঃ ১১-২১) অবতীর্ণ করেছেন। “যারা অপবাদ রটনা করেছে তারা তো তোমাদেরই একটি দল, একে তোমরা তোমাদের জন্যে ক্ষতিকর মনে করো না; বরং এ তো তোমাদের জন্যে কল্যাণকর " ..... আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, আত্মীয়তার বন্ধন ও দারিদ্র্যের কারণে আবু বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) মিসতাহকে আর্থিক সাহায্য করতেন।
কিন্তু আয়িশাহ সম্বন্ধে সে যা বলেছিল সে কারণে আবু বকর (রাযিঃ) শপথ করে বললেন, আল্লাহর শপথ আমি আর কোন সময় মিসতাহকে আর্থিক সহযোগিতা দিব না। তখন আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন : “তোমাদের মাঝে যারা ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন কসম না করে যে, তারা দান করবে না আত্মীয়-স্বজনকে .....। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদের মাফ করেন”..... পর্যন্ত।
হাব্বান ইবনু মূসা (রহঃ) বলেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ) বলেছেন, আল-কুরআনের মধ্যে এ আয়াতটিই অধিক আশাব্যঞ্জক। তারপর আবু বাকর সিদ্দীক (রাযিঃ) বললেন, আল্লাহর শপথ আমি অবশ্যই ভালোবাসী যে, আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিন। এরপর তিনি মিসতাহ্ (রাযিঃ) এর জন্যে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতেন তা পুনরায় খরচ করতে শুরু করলেন। আর বললেন, তাকে আমি এ অর্থ দেয়া কোন সময় বন্ধ করবো না।
আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রী যাইনাব বিন্ত জাহশ (রাযিঃ)-কে আমার সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি যাইনবকে বলেছিলেন, তুমি আয়িশাহ্ সম্বন্ধে কি জানো বা দেখেছো? জবাবে তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি আমার কান ও চোখকে হিফাযাত করেছি। আল্লাহর শপথ। তার ব্যাপারে আমি উত্তম ব্যতীত কিছুই জানি না।
আয়িশাহ (রাযিঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদের মাঝে তিনিই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। কিন্তু আল্লাহ ভীতির মাধ্যমে আল্লাহ তাকে হিফাযাত করেছেন। অথচ তার বোন হামানাহ বিন্‌ত জাহশ তার পক্ষাবলম্বন করে ঝাগড়া করে, আর এভাবে সে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়। রাবী যুহরী (রহঃ) বলেন, ঐ লোকদের নিকট থেকে আমাদের কাছে যা পৌছেছে তা এ হাদীস। তবে রাবী ইউনুসের হাদীসের মধ্যে রয়েছে, গোত্রীয় আত্মম্ভরিতা তাকে উত্তেজিত করে।’ [Muslim:2770]

[কুরআন ও হাদিস সঞ্চয়ন: https://play.google.com/store/apps/details?id=islamicbooks.sonchoyon ]

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Alor Porosh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share