Alor Porosh

Alor Porosh Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Alor Porosh, Dhaka.

স্টেট ল্যাংগুয়েজ উর্দু হবে কেন? উর্দু তো মাত্র 4% লোকের মাতৃভাষা। সংখ্যাগরিষ্ঠ 56% জনগণ বাংলায় কথা বলে। মেজোরিটির ভাষাকে...
25/07/2026

স্টেট ল্যাংগুয়েজ উর্দু হবে কেন? উর্দু তো মাত্র 4% লোকের মাতৃভাষা। সংখ্যাগরিষ্ঠ 56% জনগণ বাংলায় কথা বলে। মেজোরিটির ভাষাকে বাদ দিয়ে মাইনোরিটির ভাষাকে স্টেট ল্যাংগুয়েজ করার কারণ কি?

উত্তর:-
পাকিস্তান ছিল ফেডারেল স্টেট। এই ফেডারেশনের স্টেটগুলো নিজ নিজ সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে পাকিস্তানে যুক্ত হয়। এখন এক প্রদেশের ভাষা আরেক প্রদেশ মেনে নিবে কেন? সুতরাং, স্টেট ল্যাঙ্গুয়েজ এমন হওয়া উচিত, যা কোন স্টেটের ভাষা নয়। উর্দু এবং ইংরেজি ঐ শর্ত পূরণ করে।

বর্তমান পাকিস্তানের মেজোরিটি মানুষের মাতৃভাষা পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবিকে বাদ দিয়ে উর্দু ভাষা কেন স্টেট ল্যাংগুয়েজ হল? কারণ রাষ্ট্রভাষা নির্ধারণ কেবলমাত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে হয় না। এটি নির্ধারণে আরো কিছু প্যারামিটার বিবেচিত হয়। যেমন জাতিসমূহের মাঝে সহজে যোগাযোগ করার ক্ষমতা, ঐতিহাসিক ভিত্তি ইত্যাদি। ঠিক এই কারণে পৃথিবীর লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা বা সংযোগকারী ভাষা হচ্ছে ইংলিশ, যদিও পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষ চাইনিজ মান্দারিন ভাষায় কথা বলে।

পাকিস্তানে সেসময় ৫ টি প্রদেশ ছিল। সিন্ধু, পাঞ্জাব, খাইবার পাখতুনখাওয়া, বেলুচিস্তান আর বাংলা। সিন্ধিরা বেলুচ ভাষা বোঝে না। বেলুচিরা বাংলা বোঝে না। বাংগালীরা পাঞ্জাবী বোঝে না। পাঞ্জাবিরা সিন্ধি বোঝে না। এক জাতির ভাষা অন্য জাতির কাছে দুর্বোধ্য। বাংলাকে স্টেট ল্যাংগুয়েজ বানালে পাকিস্তানের বাকি অর্ধেক জনগোষ্ঠী কাজকর্ম করতে পারতো না। পুরো পাকিস্তানকে একটা কমন ভাষার আন্ডারে ইউনাইটেড রাখার প্রয়োজন ছিল। জিন্নাহর চোখে সেই কানেক্টিং ল্যাংগুয়েজ ছিল উর্দু।

ভারতেও একই অবস্থা। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালী তামিলনাড়ুতে গিয়ে বাংলায় কথা বললে কেউ বুঝবে না। আবার, তামিলনাড়ুর লোক বাংলায় এসে তামিল ভাষায় কথা বললে কেউ কিছু বুঝবে না। কিন্তু তারা উভয়েই হিন্দি বোঝে অল্প অল্প। এই কারণে ভারতে হিন্দিকে দাপ্তরিক ভাষা বানানো হয়েছে। এটা আফগানিস্তান থেকে আরাকান পর্যন্ত বসবাসকারী ভারতবর্ষের সকল মানুষকে কানেক্ট করতে পারে।

কাজী নজরুল ইসলাম, শেরে বাংলা, সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান সবাই উর্দুতে ভিন্ন ভাষাভাষী জাতির লোকদের সাথে যোগাযোগ করতেন। বর্তমানেও মিডল ইস্ট আরবে অবস্থানরত লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক হিন্দি/উর্দুতে কথা বলে তাদের সহকর্মী ভারতীয়/ পাকিস্তানী সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন। এমন কৃত্রিম ভাষার উদাহরণ পৃথিবীতে বিরল। এজন্য ১৮৩৭ সালে বৃটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উর্দুকে "এডমিনিস্ট্রেটিভ লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা" হিসেবে ঘোষণা করে। জিন্নাহ এসে তো নতুন কোন ভাষা চাপিয়ে দেন নি।

জিন্নাহ কোন প্রাদেশিক নেতা নন। তৎকালীন পাকিস্তানে বসবাসকারী সব জাতির সুবিধা অসুবিধা মাথায় রেখে তিনি উর্দুর পক্ষে রায় দিয়েছিলেন। কারণ এটা বৃটিশ আমলে ভারতীয় মুসলমানদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা ছিল। হাদিস, ফিকহ, ইসলামী সাহিত্য এবং কবিতার একটি বড় অংশ উর্দুতে রচিত হয়েছে। জিন্নাহ তাই উর্দুকে শুধু ভাষা নয়, মুসলিম পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন। তার ভাবনা ছিল এই ভাষার আরবি বর্ণমালা মুসলিম উম্মাহকে ইউনাইটেড করবে। স্পষ্টতই, তার এই সিদ্ধান্তের পিছনে কোন ব্যক্তি স্বার্থ ছিল না। কোন একটা বিশেষ সম্প্রদায়কে বিশেষ সুবিধা দেয়ার কু-মতলব ছিল না। কিন্তু বাঙালী জাতীয়তাবাদীরা তাঁর কাটপিস বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রোপাগান্ডা চালায়।

19/07/2026

দ্বীনের নবী মোস্তফায়-
রাস্তা দিয়া হাঁইট্টা যায়,
হরিণ একখান বান্ধা ছিলো
গাছেরই তলায়, গো।।...

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের সপ্তম ব্যাচের ছাত্র বদিউল আলম বদি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক, দুই পরীক্ষাতে...
18/07/2026

ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের সপ্তম ব্যাচের ছাত্র বদিউল আলম বদি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক, দুই পরীক্ষাতেই তিনি স্টার মার্কস নিয়ে উত্তীর্ণ হন। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে পাইলট হিসেবে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরীক্ষা দিতে যেতে হতো পশ্চিম পাকিস্তানের করাচিতে।

কিন্তু ছেলেকে এত দূরে পাঠাতে রাজি ছিলেন না তার মা রওশন আরা বেগম। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “না, এই পরীক্ষা দিতে পারবে না। তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না।” অন্যদিকে তার বাবা ছেলের ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেন। তিনি ভেবেছিলেন, গোটা পূর্ব পাকিস্তানের জন্য যেখানে আসনসংখ্যা খুবই কম, সেখানে হয়তো বদি নির্বাচিত হবেন না। কিন্তু প্রতিবারের মতো এবারও নিজের মেধার প্রমাণ দেন বদি। কিছুদিন পর তাদের বাসায় বিমানবাহিনীর নিয়োগপত্র পৌঁছে যায়। তবু মায়ের অনড় আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি বিমানবাহিনীতে যোগ দেননি।

এরপর বদির জেদের কাছে হার মেনে বাবা তাকে একটি সুজুকি ৮০ মোটরসাইকেল কিনে দেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন এবং প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বইয়ের প্রতি তার আগ্রহ ছিল অসাধারণ। ছোট ভাই সাইফুল আলম কাঁকনের বর্ণনায় জানা যায়, একবার এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে ডক্টরেট পর্যায়ের একটি বই নিয়ে মাত্র একদিনের মধ্যে পড়ে তার ভুলগুলো পর্যন্ত চিহ্নিত করে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন বদি। এতে বইটির মালিক বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলেন।

১৯৭১ সালের মার্চ মাসের শুরুতে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ করে তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। এর আগেই তিনি রাজনৈতিকভাবে সচেতন ছিলেন এবং স্বায়ত্তশা/সনের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু ২৫ মার্চের গ/ণহ//ত্যা তার চিন্তা ও জীবনের গতিপথ পুরোপুরি বদলে দেয়। ২৬ মার্চ রাতে বন্ধু শহীদুল্লাহ খান বাদলের কাছে গিয়ে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “চলো যাই, যু//দ্ধ করি।” বাদল প্রথমে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। কারণ বদি আগে এনএসএফের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বন্ধুর সংশয় দূর করতে নিজের হাতে ব্লে/ড দিয়ে র/ক্ত বের করে তিনি বলেছিলেন, “আজ থেকে আমরা রক্তের ভাই। চলো যাই, যু//দ্ধ করি।”

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই বদি গফরগাঁও ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। গফরগাঁওয়ের ভয়ংকর পরিবেশেও তিনি স্থানীয় মানুষকে দেশের পক্ষে সংগঠিত করার চেষ্টা করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার কারণে পাকিস্তানি হা/নাদার বাহিনী তার দাদার বাড়ি পুড়িয়ে দেয়। পরে তাড়াইলের জাওয়ার গ্রামে তিনি আরও বড় পরিসরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন। বন্ধু হেলালকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন একটি ছোট গেরি/লা দল। তাড়াইল থানা লুটসহ কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তারা একাধিক সফল অ/ভিযান পরিচালনা করেন।

এই সময়ই একদিন কিশোরগঞ্জ শহরে খালার বাসায় বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান বদি। ছেলের যু//দ্ধজীবন নিয়ে তখনও মায়ের উদ্বেগ কাটেনি। সেদিন তিনি মায়ের দিকে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, “তোমার তো ছয় ছেলে, একজনকে না হয় দেশের জন্য দিয়েই দিলে।”

এই একটি বাক্য যেন বদলে দিয়েছিল একজন মায়ের মন। এরপর আর তিনি ছেলেকে যু//দ্ধে যেতে বাধা দেননি। বরং একদিন অপারেশন শেষে বদি ও তার বন্ধু হেলাল খালার বাসায় ফিরলে রওশন আরা বেগম নিজেই বলেছিলেন, “তোরা এভাবে চার জন পাঁচ জন মিলে অ/পারশন করে তো বেশিদিন পাত্তা পাবি না, ধরা পড়বি। তোরা ইন্ডিয়া যা। ট্রে/নিং নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে এসে অ/পারেশন কর। বদি তুই যদি মা/রাও যাস তাতেও আমি গর্ববোধ করবো শহীদের মা হিসেবে।”

পরবর্তীতে বদি ও হেলাল কিশোরগঞ্জ, পাকুন্দিয়া, ভৈরবসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক অ/ভিযান পরিচালনা করেন। পরে তারা অ/স্ত্র সংগ্রহ করে নিরাপদ স্থানে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন। জুলাই মাসে হেলাল ভারতে গিয়ে প্র/শিক্ষণ নেওয়ার প্রস্তুতি নিলে বদি বলেছিলেন, “ভারত গিয়ে কী হবে? তার চেয়ে দেশেই তো আমরা বড় কিছু করতে পারি। ভারত গেলে অনেকটা সময় চলে যাবে।”

এরই মধ্যে ঢাকায় ক্র্যা/ক প্লাটুনের দুঃসা/হসিক গে/রিলা অ/ভিযান শুরু হয়েছে। বদি সেই দলে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রথমে প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে কিছু আপত্তি থাকলেও, তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ছাত্র জেনে আর কেউ আপত্তি করেননি।

জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনি ক্র্যা/ক প্লা/টুনে যোগ দেন। ফার্মগেট অ/পারেশন ছিল তার নেতৃত্বে পরিচালিত সবচেয়ে আলোচিত অ/ভিযানগুলোর একটি। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের প্রবেশপথের এত কাছে পা/কিস্তানি বা/হিনীর নিরাপদ চেকপোস্টে গে/রিলা হা/মলা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মাত্র দেড় মিনিটের এই অ/ভিযানে অংশ নেন হাবিবুল আলম, কামরুল হক স্বপন, আবদুল হালিম জুয়েল, পুলু ও আবদুস সামাদের সঙ্গে বদিও। এই অভিযানের পর পুরো ঢাকাজুড়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় এবং পা/কিস্তানি সে/নাবা/হিনীও বিস্মিত হয়ে পড়ে।

এরপর ১৪ আগস্ট গ্যাস বেলুনের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন, ১৯ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন হা/মলা এবং ধানমণ্ডির অ/পারেশনসহ ক্র্যা/ক প্লা/টুনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অ/ভিযানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এসব অভিযানের মাধ্যমে পা/কিস্তানি বা/হিনীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কিন্তু বেশিদিন আ/ত্মগোপনে থাকা সম্ভব হয়নি। ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট সকালে তিনি বন্ধু ফরিদের বাসায় ছিলেন। ফরিদও একসময় এনএসএফের কর্মী ছিলেন। সেদিন ফরিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পা/কিস্তানি সে/নাবা/হিনী বাড়িটি ঘিরে ফেলে। পালানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েন বদি। ক্র্যা/ক প্লা/টুনের প্রথম গে/রিলা হিসেবে তিনি পা/কিস্তানি বা/হিনীর হাতে ব/ন্দি হন।

তাকে নিয়ে যাওয়া হয় নাখালপাড়ার ড্রাম ফ্যাক্টরির পাশের এমপি হোস্টারের সা/মরিক নি/র্যা/তনকেন্দ্রে। সেখানে অক/থ্য নি/র্যা/তনের মাধ্যমে সহযো/দ্ধাদের নাম জানার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “তোমরা যা ইচ্ছে করতে পারো, আমি আমার সহযো/দ্ধাদের নাম বলবো না।”

নি/র্মম নি/র্যা/তনে তার একটি চো/খ বেরিয়ে আসে, হাত-পায়ের হাড় ভে/ঙে দেওয়া হয়, দেওয়া হয় বৈ/দ্যুতিক শ/ক। অ/সহনীয় যন্ত্র/ণা সত্ত্বেও তিনি কারও নাম প্রকাশ করেননি। এমনকি নি/র্যা/তন সহ্য করতে না পেরে আ/ত্মহ//ত্যারও চেষ্টা করেছিলেন। পরে এক পা/কিস্তানি সে/নাকে আ/ক্রমণ করে গু//লি করে হ//ত্যার জন্য উ/সকে দেওয়ারও চেষ্টা করেন। ধারণা করা হয়, ১৯৭১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পৈ/শাচিক নি/র্যা/তনের পর তাকে হ//ত্যা করা হয়।

সূত্র: শহীদ বদি ও আমার স্মৃতিতে একাত্তর — রওশন আরা খানম, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা - আহমাদ ইশতিয়াক

সৌজন্যে: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র

#বদিউলআলম #মুক্তিযুদ্ধ #বাদুছস #গিরিধরদে #বাংলাদেশের_দুষ্প্রাপ্য_ছবি_সমগ্র #ইতিহাসেরখোঁজেগিরিধর

রাসুল (সাঃ) নুরের তৈরীঃ·         নবী করিম (সঃ) যে নুরের তৈরি তার দলিল... কোরআন শরীফের আলোকেঃ         আল্লাহ্ তায়া’লা ইর...
14/07/2026

রাসুল (সাঃ) নুরের তৈরীঃ

· নবী করিম (সঃ) যে নুরের তৈরি তার দলিল...

কোরআন শরীফের আলোকেঃ
আল্লাহ্ তায়া’লা ইরশাদ করেন,

قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين- অর্থঃ নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে একটা নূর এবং স্পষ্ট কিতাব এসেছে।। (সূরা মায়িদা আয়াত- ১৫) আলোচ্য আয়াতে নূর দ্বারা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বুঝানো হয়েছে। নিম্নে আরো কয়েকটি প্রসিন্ধ তাফসীরের আলোকে দলিল উপস্থাপন করা হলঃ-

দলিল নং ১ বিশ্ব বিখ্যাত মুফাসসিরে কোরআন হযরত ইবনে আববাস (রাঃ) এর বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে আববাস এর মধ্যে আছে-

قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعني محمدا صلي الله عليه ؤسلم- অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে ইবনে আববাস পৃষ্ঠা ৭২)।

দলিল নং ২ ইমাম আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারীর আত্-তবারী (রা) তাঁর বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ ইবনে জারীর এর মধ্যে বলেন-

قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعني باالنؤر محمدا صلي الله عليه ؤسلم الذي انار الله به الحق واظهربه الاسلام ومحق به الشرك- অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন, যে নূর দ্বারা আল্লাহ সত্যকে উজ্জ্বল ও ইসলামকে প্রকাশ করেছেন এবং শিরিককে নিশ্চিহ্ন করেছেন। ( তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৮৬, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)।

দলিল নং ৩ মুহীউস্সুন্নাহ আল্লামা আলাউদ্দীন আলী ইবনে মুহাম্মদ (রাঃ) (যিনি ‘খাজিন’ নামে পরিচিত) তাফসীরে খাজেনের মধ্যে বলেন-

قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين يعنى باالنؤر محمدا صلي الله عليه وسلم انما سماه الله نور الانه يهداى بالنور في الظلام- অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। আল্লাহ তায়া’লা তাঁর নামকরণ করেছেন নূর, কারণ তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়। যেভাবে অন্ধকারে নূর দ্বারা পথ পাওয়া যায়। (তাফসীরে খাজিন ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।

দলিল নং ৪ ইমাম হাফেজ উদ্দীন আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আন- নাসাফী (রা) এই আয়াত শরীফ ( قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين) প্রসঙ্গে বলেন-

والنور محمد عليه والسلام لانه يهتداي به كما سمي سراجا منيرا- আর নূর হলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কেননা তাঁর নূরেতে হেদায়ত লাভ করা যায়, যেমন তাঁকে উজ্জ্বল প্রদীপ বলা হয়েছে। (তাফসীরে মাদারিক ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭)।

দলিল নং ৫ ইমামুল মুতাকাল্লেমীন আল্লামা ফখরুদ্দীন রাযী (রা) এই আয়াত শরীফ ( قد جاءكم من الله نور و كتاب مبين) প্রসঙ্গে বলেন-

ان المراد بالنور محمد صلي الله عليه و سلم وبالكتاب القران- অর্থঃ নিশ্চয়ই নূর দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং কিতাব দ্বারা আল কোরআন মজীদকে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫, সূরা মায়িদা আয়াত ১৫)। আর যারা বলে যে ‘নূর ও কিতাবে মুবীন’ দ্বারা কুরআন মজীদকেই বুঝানো হয়েছে, ইমাম রাযী (রা) সে সম্পর্কে বলেন-

هذا ضعيف لان العطف يوجب المغايرة بين المعطوف والمعطوف عليه- এই অভিমত দুর্বল, কারণ আতফ (ব্যাকরণগত সংযোজিত) মা‘তুফ (সংযোজিত) ও মা‘তুফ আলাইহি (যা তার সাথে সংযোজন কারা হয়েছে ) এর মধ্যে ভিন্নতা প্রমাণ করে। (তাফসীরে কবীর ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৫)।

দলিল নং ৬ ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রা) বলেনঃ

قد جاءكم من الله نور هو نور النبى صلي الله عليه وسلم- অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর এসেছে, তা হল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক। (তাফসীরে জালালাইন শরীফ পৃষ্ঠা ৯৭)

দলিল নং ৭ আল্লামা মাহমূদ আলূসী বাগদাদী (রা) বলেন-

قد جاءكم من الله نور هو نورعظيم هو نور الانوارالنبى المختار صلى الله عليه وسلم الى ذهب قتادة والزجاج- অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে মহান নূর এসেছে । আর তিনি হলেন নূরুল আনোয়ার নবী মোখতার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এটাই হযরত কাতাদাহ ও যুজাজের অভিমত। (তাফসীরে রুহুল মাআনী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭)।

দলিল নং ৮ আল্লামা ইসমাঈল হক্কী (রা) বলেন- قيل المراد باالاول هو الرسول صلى الله عليه وسلم وبالثانى القران- অর্থঃ বলা হয়েছে যে, প্রথমটা অর্থাৎ নূর দ্বারা রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বুঝানো হয়েছে এবং দ্বিতীয়টা অর্থাৎ কিতাবে মুবীন দ্বারা কুরআন কে বুঝানো হয়েছে। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২খন্ড, পৃষ্ঠা ২৬৯) আর অগ্রসর হয়ে বলেন-

سمى الرسول نورا لان اول شيئ اظهره الحق بنور قدرته من ظلمة العدم كان نور محمد صلي الله عليه و سلم كما قال اول ما خلق الله نورى- অর্থ: আল্লাহ তায়া‘লা রসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নাম রেখেছেন নূর। কেননা আল্লাহ তায়া‘লা তাঁর কুদরতের নূর থেকে সর্বপ্রথম যা প্রকাশ করেছেন তা তো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নূর মোবারক। যেমন তিনি ফরমায়েছেন- আল্লাহ তায়া‘লা সর্বপ্রথম আমার নূর মোবারক কে সৃষ্টি করেছেন। (তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৬৯)।

দলিল নং ৯ ইমাম মুহীউস সুন্নাহ আবু মুহাম্মদ আল- হোসাইন আল-ফাররা আল-বাগাভী (রা) বলেন-

قد جاءكم من الله نور يعنى باالنؤر محمدا صلي الله عليه وسلم- অর্থঃ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট হতে তোমাদের কাছে নূর অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন। (তাফসীরে মাআলিমুত তান্যীল, ২য়
খন্ড, পৃষ্ঠা ২৩, তাফসীরে খাযিনের পাদ টীকা

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নূরঃ- সুরা মায়েদা পারা ৬, ১৫ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ- ১। তাফসীরে মারেফুল কোরআন পৃষ্ঠা ৫৪। ২। তাফসীরে আবি সউদ ২য় খন্ড, পৃ- ২৫১, ৩। তাফসীরে রুহুল বয়ান ২য় খন্ড, পৃ- ৩৬৯, ৪। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১ম খন্ড, পৃ- ৩৬০, ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ৯৭, ৫। তাফসীরে ইবনে জারীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ- ৮৬, ৬। তাফসীরে কবীর ১১তম খন্ড, পৃ- ১৬৩, ৭। তাফসীরে কুরতুবী ৬ষ্ঠ খন্ড পৃ- ১১৮, ৯। তাফসীরে বায়জাভী ১ম খন্ড, পৃ- ৬৪, ১০। তাফসীরে মাজহারী ৩য় খন্ড, পৃ- ৬৮, ১১। তাফসীরে কবীর ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃ- ৪৬২, ১২। ছফওয়াতুত তাফাসীর ২য় খন্ড, পৃ- ১৪০, ১৩। তাফসীরে দুররে মানসুর ২য় খন্ড, পৃ- ১৮৭, তাফসীরে নূরুল কোরআন ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ১৬১, তাফসীরে নঈমী ৬ষ্ঠ খন্ড, পৃষ্ঠা ২৯৫। সূরা তাওবা পারা ১০, ৩২ নং আয়াতে নূরের ব্যাখ্যাঃ- ১। তাফসীরে দুররে মানসুর ৩ খন্ড, পৃ- ২০১, ২। তাফসীরে কবীর ১৬ম খন্ড, পৃ- ৩৪, ৩। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৪ম খন্ড, পৃ- ৪৮। সুরা নূর পারা ১৮, আয়াত নং ৩৫ঃ- ১। তাফসীরে ইবনে আববাস ৪র্থ খন্ড, পৃ- ২৪, ২। তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১০ম খন্ড, পৃ- ১৬৬। সুরা আহযাব আয়াত নং ৪৬ঃ- ১। তাফসীরে আহকামুল কোরআন লিল ইবনুল আরাবী ৩য় খন্ড, পৃ- ১৫৪৬, ২। তাফসীরে মাওয়ারদী ৪র্থ খন্ড, পৃ- ৪১১।

হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:) হতে বর্নিত নূরের হাদিসখানা জাল নয়, সনদ সহীহ,রাবীগন নির্ভরযোগ্য এবং মুসান্নাফ কিতাবে এই হাদিস আছে এবং ছিল তার প্রমান :(১ম পর্ব দেখুন)
💜নুর সম্পর্কিত বিখ্যাত হাদিসখানা হল:
ﻓﻘﺪ ﺃﺧﺮﺝ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺯﺍﻕ ﺑﺴﻨﺪﻩ ﻋﻦ ﺟﺎﺑﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻷﻧﺼﺎﺭﻱ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ ﻗﺎﻝ : “ﻗﻠﺖ: ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﺄﺑﻲ ﺃﻧﺖ ﻭﺃﻣﻲ ﺃﺧﺒﺮﻧﻲ ﻋﻦ ﺃﻭّﻝ ﺷﻲﺀ ﺧﻠﻘﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺒﻞ ﺍﻷﺷﻴﺎﺀ؟ ﻗﺎﻝ : ﻳﺎ ﺟﺎﺑﺮ ﺇﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺧﻠﻖ ﻗﺒﻞ ﺍﻷﺷﻴﺎﺀ ﻧﻮﺭ ﻧﺒﻴﻚ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠّﻢ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﻓﺠﻌﻞ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﻳﺪﻭﺭ ﺑﺎﻟﻘﺪﺭﺓ ﺣﻴﺚ ﺷﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ، ﻭﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻮﻗﺖ ﻟﻮﺡ ﻭﻻ ﻗﻠﻢ ﻭﻻ ﺟﻨﺔ ﻭﻻ ﻧﺎﺭ ﻭﻻ ﻣﻠﻚ ﻭﻻ ﺳﻤﺎﺀ ﻭﻻ ﺃﺭﺽ ﻭﻻ ﺷﻤﺲ ﻭﻻ ﻗﻤﺮ ﻭﻻ ﺇﻧﺲ ﻭﻻ ﺟﻦ، ﻓﻠﻤﺎ ﺃﺭﺍﺩ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺃﻥ ﻳﺨﻠﻖ ﺍﻟﺨﻠﻖ ﻗﺴﻢ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻨﻮﺭ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﺃﺟﺰﺍﺀ : ﻓﺨﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻷﻭّﻝ ﺍﻟﻘﻠﻢ، ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ ﺍﻟﻠﻮﺡ، ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﺍﻟﻌﺮﺵ، ﺛﻢ ﻗﺴﻢ ﺍﻟﺠﺰﺀ ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ ﺃﺭﺑﻌﺔ ﺃﺟﺰﺍﺀ: ﻓﺨﻠﻖ ﻣﻦ ﺍﻷﻭﻝ ﺣﻤﻠﺔ ﺍﻟﻌﺮﺵ، ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ ﺍﻟﻜﺮﺳﻲ، ﻭﻣﻦ ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ ﺑﺎﻗﻲ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ
হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হইতে বর্ণিত আছে,“তিনি বলেন-আমি আরজ করলাম,ইয়া রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম),আঁপনার উপর আমার পিতা মাতা উৎসর্গিত হউক, আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম কোন বস্তুটি সৃষ্টি করেছেন?
উত্তরে নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:হে জাবের! আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম সমস্ত বস্তুর পূর্বে তাঁর নূর হতে তোমার নবীর নূর পয়দা করলেন। তারপর আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী সেই নূর পরিভ্রমণ করতে লাগলো। ওই সময় না ছিল লউহে-মাহফুজ, না ছিল কলম, না ছিল বেহেস্ত, না ছিল দোজখ,না ছিল ফেরেশতা, না ছিল আকাশ, না ছিল পৃথিবী,না ছিল সূর্য, না ছিল চন্দ্র, না ছিল জ্বিন জাতি,না ছিল মানবজাতী। অতঃপর যখন আল্লাহ তা’আলা অন্যান্য বস্তু সৃষ্টি করার মনস্ত করলেন, তখন ওই নূর কে চার ভাগ করে প্রথম ভাগ দিয়ে কলম, ২য় ভাগ দিয়ে লউহে-মাহফুজ, ৩য় ভাগ দিয়ে আরশ সৃষ্টি করলেন।অবশিষ্ট এক ভাগকে আবার চার ভাগে ভাগ করে ১ম ভাগ দিয়ে আরশ বহনকারী ফেরেশতা,২য় ভাগ দিয়ে কুরছি, ৩য় ভাগ দিয়ে অন্যান্য ফেরেশতা সৃষ্টি করলেন।২য় চার ভাগের অবশিষ্ট এক ভাগ কে আবার পুনরায় চার ভাগ করে ১ম ভাগ দিয়ে আকাশ, ২য় ভাগ দিয়ে জমিন,৩য় ভাগ দিয়ে বেহেস্ত-দোজখ সৃষ্টি করলেন।অবশিষ্ট এক ভাগ কে আবার চার ভাগে ভাগ করে ১ম ভাগ দিয়ে মোমেনদের নয়নের দৃষ্টি,২য় ভাগ দিয়ে কলবের নুর, ৩য় ভাগ দিয়ে তাদের মহব্বতের নূর তথা তাওহিদী কালেমা “লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মুদুর রাসুলাল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ” সৃষ্টি করলেন এবং বাকী এক ভাগ দিয়ে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করলেন
[মূলসূত্রঃ-মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ভলি-০১, পৃ-৯৯, হাদিস নং-১৮; এই সহীহ হাদীসের কিতাবটি ইমাম বুখারী (রঃ) এঁর দাদা উস্তাদ মুহাদ্দীস আব্দুর রাজ্জাক (রঃ) কর্তৃক রচিত; প্রকাশনী-দার আল মুহাদ্দীস,রিয়াদ,সৌদি আরব।]
✌বি:দ্র: খুশির খবর এই যে, বহু বছর পর মুসান্নাফে অাব্দুর রজ্জাক সম্পাদিত অাসল কিতাবের নুরের অধ্যায়টি বর্তমানে উদ্ধার করা হয়েছে তা ইস্তাম্বুলের জাদুঘরে সংরক্ষিত অাছে।
💜হাদিসের সনদ নিম্নরূপ💜
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
||
জাবির বিন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়্যাল্লাহু আনহু
||
মুহাম্মাদ বিন মুঙ্কদার রাহমাতুল্লাহি আলাইহি
||
মা’মার বিন রাশীদ
||
আব্দুর রাজ্জাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি
🌹সনদের মান পর্যালোচনা🌹
*(ক.) হাফেজে হাদিস মুহাদ্দীস আব্দুল হক দেহলভী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর সুবিখ্যাত সিরাত গ্রন্থ ‘মাদারিজ নব্যুওত’ গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান ও সহীহ বলেছেন।
*(খ.) আহমাদ ইবন সালীহ (রহ:) বলেন, “আমি একবার আহমাদ বিন হাম্বল (রহ:) কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি হাদীস শাস্ত্রে আব্দুর রাজ্জাকের থেকে ভালো অার কাউকে পেয়েছেন? আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) বলেন, না”।
[আসকলানী, তাহজিবুত তাহজিব ২/৩৩১]
*(গ). হাদীসটির একটি রাবী হলেন মা’মার বিন রাশীদ। উনার সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল (রহ:) বলেন, আমি বসরার সকল হাদীস শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞের থেকে মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাকে মা’মার বিন রাশীদ এর সূত্রে পাওয়া হাদীসগুলো পছন্দ করি।
✌ইমাম ইবন হাজর আসকলানী (রঃ) উনাকে দক্ষ মুখস্তবীদ, নির্ভরযোগ্য বলেন।
[আসকলানী, তাহজিবুত তাহজিব ১/৫০৫]
✌মা’মার বিন রাশীদ সূত্রে বর্ণিত বুখারী শারীফের হাদীস সংখ্যা প্রায় ২২৫ এবং মুসলিম শারীফে বর্ণিত হাদীস সংখ্যা প্রায় ৩০০।
*(ঘ.) হাদীসটির আরেক রাবী হলেন মুহাম্মাদ বিন মুকদার। ইমাম হুমায়দি বলেন, মুকদার একজন হাফিজ ইমাম জারাহ তাদীল ইবন মা’ঈন বলেন, উনি নির্ভরযোগ্য।
[আসকলানী, তাহজিবুত তাহজিব ভলি ০৯/১১০৪৮]
🌹মুকদার থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা বুখারী শরীফে ৩০টি এবং মুসলিম শরীফে ২২টি।
*(ঙ.) আর জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একজন সুপ্রসিদ্ধ সাহাবী। বুখারী ও মুসলিম শরীফের উনার থেকে বর্ণিত অনেক হাদীস আছে।
সুতরাং বুঝা গেল। হাদিসটির সকল রাবীই নির্ভরযোগ্য এবং উনাদের সূত্রে বুখারী ও মুসলিম শরীফে ও হাদিস বর্ণিত আছে।
*(চ.) আব্দুর রাজ্জাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি হলে মুসলিম উম্মাহের সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দীস ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এঁর দাদা উস্তাদ। যদি বিতর্কের খাতিরে ধরেই নেই আব্দুর রাজ্জাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কিতাবে দুর্বল হাদিস উল্লেখ করেছেন তাহলে বলতে হয় বুখারী শরীফেও দ্বয়ীফ বা দুর্বল হাদিস আছে যেহেতু ইমাম বুখারী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞান লাভ করেছেন আব্দুর রাজ্জাক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর কাছ থেকে।কিন্তু বুখারী শরীফে দুর্বল হাদীস আছে সেটা কেউই বলেন না।(ভুল বুঝবেন না,এখানে শুধুমাত্র যুক্তি সরুপ উদাহরন দেয়া হয়েছে )
🌹যেমন:আল মাওয়াহিব আল লাদুন্নিয়া’ (১:৫৫) গ্রন্থে লিপিবদ্ধ ইমাম কসতলানী (রহ:)-এর ভাষ্যানুযায়ী হযরত আবদ্ আল-রাযযাক (বেসাল-২১১ হিজরী) তাঁর রচিত ‘মুসান্নাফ’ কিতাবে ওপরের ঘটনাটি বর্ণনা করেন; ইমাম যুরকানী মালেকীও এটি বর্ণনা করেন নিজ ‘শরহে মাওয়াহিব’ পুস্তকে (মাতবা’আ আল-’আমিরা, কায়রো সংস্করণের ১:৫৬)। হযরত ‘আবদ্ আল-রাযযাক (রহ:)-এর রেওয়ায়াতের বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ-ই নেই। ইমাম বুখারী (রহ:) তাঁর কাছ থেকে ১২০টি এবং ইমাম মুসলিম (রহ:) ৪০০টি বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
👏তাই “হাদিসটি জাল” কথাটি ভুল প্রমাণীত হল।
Note : জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা:) থেকে বর্নিত সনদটি ইমাম আব্দুর রাজ্জাক ওনার (জান্নাতুল খুলদ) নামক কিতাবে বর্ননা করেছেন।
💜হাদিসের ২য় সুত্র💜
উক্ত হাদিস খানা শাব্দিক পরিবর্তন সহ “উমর ইবনুল খাত্তাব (রা:) থেকেও বর্নিত আছ।আব্দুল মালেক যিয়াদাতুল্লাহ (রহ:) ওনার (ফাওয়াইদ) কিতাবে বর্ননা করেছেন।
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিত, ওহে ওমর ! তুমি জান কি আঁমি কে?
আঁমিই সেই সত্ত্বা যার নুরকে আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেছেন।অতঃপর সেই নুর আল্লাহকে সিজদা করল,সে তাঁর সিজদার মধ্যে ৭০০ বছর ছিলেন। অতঃপর প্রত্যেক প্রথম বস্তু আঁমার নুরকে সিজদা করেছে এতে আঁমার কোন অহংকার নেই।
ওহে ওমর ! তুমি জান কি আঁমি কে?
আঁমিই সেই সত্ত্বা যাঁর নুর হতে আরশ,যার নুর হতে কুরসী,যার নুর হতে লাওহ ক্বলম,যার নুর হতে চন্দ্র-সুর্য,যার নুর হতে চোখের জ্যোতি,যার নুর হতে সৃষ্টির মাথার মধ্যে বিবেক-বুদ্ধি (আকল), যার নুর হতে মুমিনের ক্বলবের (অন্তরদৃষ্টি /কাশফের ক্ষমতা বা) খোদার পরিচয় (অনুভব) করার নুর সৃষ্টি। এতে আঁমার কোন অহংকার নেই।
[আব্দুল মালিক ইবনে যিয়াদাতুল্লাহ : ফাওয়ায়িদ কিতাবে।]
🌹হাদিসের ৩য় সুত্র🌹
ইমাম জাফর সাদেক (রহ:)
↓
ইমাম বাকের (রা:) থেকে
↓
তিনি [ইমাম বাকের (রা:)] ইমাম জয়নুল আবেদীন (রা:) থেকে
↓
তিনি ইমাম হোসাইন (রাঃ) থেকে
↓
তিনি ওঁনার পিতা হযরত আলী (রা:) থেকে বর্ননা করেন,
আল্লাহ নুরে মুহাম্মাদী (সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম) কে ঐ সময় সৃষ্টি করেন যখন না জমীন ছিল না আসমান, না আরশ, না কুরসী, না লাওহ, না ক্বলম, না জান্নাত, না জাহান্নাম ঐ সময় আম্বিয়া (আ:) গনের মধ্যে কেউই সৃষ্টি হন নি,তখন সর্বপ্রথম নুরে মুহাম্মাদী(ﷺ) কে সৃষ্টি করেন।
✌আল্লামা খারকূশী (রহ:) : শরফুল মুস্তফা কিতাব : ১ম খন্ড : ৭০৩ পৃষ্ঠায় : হযরত আলী (রা:) হতে এই হাদিসটি → নুর সম্পর্কিত হাদিসে জাবির (রা:) এঁর বর্ননাকে আরও শক্তিশালী করে।
🌹এই হাদীস শরীফটিকে আরও যে সমস্ত কিতাবে সহীহ হাদীস হিসেবে মন্তব্য করে দলীল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে:
*০১. দালায়েলুন নবুওয়াত ১৩/৬৩
*০২.মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া ১/৯
*০৩. মাদারেজুন নবুওয়াত ২/২
*০৪. যুরকানী ১/৪৬
*০৫. রুহুল মায়ানী ১৭/১০৫
*০৬. সিরাতে হলবীয়া ১/৩০
*০৭. মাতালেউল মাসাররাত ২৬৫ পৃ:
*০৮. ফতোয়ায়ে হাদীসিয়া ১৮৯ পৃ:
*০৯. আন-নিআমাতুল কুবরা ২ পৃ:
*১০. হাদ্বীকায়ে নদীয়া ২/৩৭৫
*১১. দাইলামী শরীফ ২/১৯১
*১২. মাকতুবাত শরীফ ৩ খন্ড ১০০ নং
*১৩. মওজুয়াতুল কবীর ৮৩ পৃ:
*১৪. ইনছানুল উয়ুন ১/২৯
*১৫. নূরে মুহম্মদী ৪৭ পৃ:
*১৬. আল আনোয়ার ফি মাওলিদিন নবী ৫ পৃ:
*১৭. আফদ্বালুল ক্বোরা
*১৮. তারীখুল খমীস ১/২০
*১৯. নুজহাতুল মাজালিস ১ খন্ড
*২০. দুররুল মুনাজ্জাম ৩২ পৃ:
*২১. কাশফুল খফা ১/৩১১
*২২. তারিখ আননূর ১/৮
*২৩. আনোয়ারে মুহম্মদীয়া ১/৭৮
*২৪. আল মাওয়ারিদে রাবী ফী মাওলীদিন নবী ৪০ পৃষ্ঠা।
*২৫. তাওয়ারীখে মুহম্মদ
*২৬. আনফাসে রহীমিয়া
*২৭. মা’ য়ারিফে মুহম্মদী
*২৮. মজমুয়ায়ে ফতোয়া ২/২৬০
*২৯. আপকা মাসায়েল আওর উনকা হাল ৩/৮৩
*৩০. শিহাবুছ ছাকিব ৫০
*৩১. মুনছিবে ইছমত ১৬ পৃ:
*৩২. রেসালায়ে নূর ২ পৃ:
*৩৩. হাদীয়াতুল মাহদী ৫৬পৃ:
*৩৪. দেওবন্দী আজিজুল হক অনুবাদ কৃত বুখারী শরীফ ৫/৩
🌹হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:) হতে বর্নিত নূরের হাদিসখানা জাল নয়, সনদ সহীহ,রাবীগন নির্ভরযোগ্য এবং মুসান্নাফ কিতাবে এই হাদিস আছে এবং ছিল তার প্রমান :(২য় পর্ব দেখুন)
★১. জগৎবিখ্যাত মুহাদ্দিস ইমাম, আল্লামা বায়হাক্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (৩৮৪-৪৫৮ হি: ) উনার কিতাবে বর্ণনা করেন–
ان الله تعالي خلق قبل الاشياء نور نبيك
“….. নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক সর্ব প্রথম উনার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার “নূর” মুবারক সৃষ্টি করেন।”
[দালায়েলুন নবুওয়াত লিল বায়হাক্বী ১৩ তম খন্ড ৬৩ পৃষ্ঠা]
✌তিনি উক্ত বিশুদ্ধ হাদীস শরীফ খানা নিজ কিতাবে সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন বিখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা বায়হাক্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। ইমাম বায়হাক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি সম্পর্কে বলা হয়–” ইমাম বায়হাক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ছিলেন স্বীয় যুগের হাদীস শরীফ এবং ফিক্বাহ শাস্ত্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্যক্তিত্ব। উম্মত যাদের মাধ্যমে খুব উপকৃত হয়েছে এবং হাফিজে হাদীস এমন সাত ব্যক্তি ছিলেন তাদের যাদের গ্রন্থ সবচাইতে উৎকৃষ্ট বলে স্বীকৃত। সেই সাত জনের একজন হলেন, ইমাম বায়হাক্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি ।”
[আসমাউর রেজাল-বাবু আইম্মাতুল হাদীস]
★২.ইমাম যুরকানী মালেকী নিজ ‘শরহে মাওয়াহিব’ কিতাবে (মাতবা’আ আল-আমিরা, কায়রো সংস্করণের ১:৫৬) এই হাদীসের উদ্ধৃতি দেন এবং একে আবদুর রাযযাকের ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থে বর্ণিত বলে জানান।হযরত ‘আবদ্ আল-রাযযাক (রহ:)-এর রওয়ায়াতের বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ-ই নেই। ইমাম বুখারী (রহ:) তাঁর কাছ থেকে ১২০টি এবং ইমাম মুসলিম (রহ:) ৪০০টি বর্ণনা গ্রহণ করেছেন।
★৩. ইমামুল মুহাদ্দিসীন শায়েখ আব্দুল হক মুহাদ্দিস দেহলবী (রহ:) তিনি উক্ত হাদীসে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বা নূর সংক্রান্ত হাদীস শরীফকে সহীহ বলে উল্লেখ করে বলেন –
ﺩﺭﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ ﻭﺍﺭﺩ ﺷﺪ ﻛﻪ ﺍﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭﻱ
অর্থ: “সহীহ হাদিস শরীফে” বর্নিত হয়েছে যে, হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম আঁমার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন!”
[মাদারেজুন নবুওয়াত ২য় খন্ড,২ পৃষ্ঠা।]
★৪. ইমামুল মুহাদ্দিসীন মোল্লা আলী ক্বারী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন
– ﻭﺍﻣﺎﻧﻮﺭﻩ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻓﻬﻮ ﻓﻲ
ﻏﺎﻳﺎﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻈﻬﻮﺭ ﺷﺮﻗﺎ ﻭ ﻏﺮﺑﺎ ﻭﺍﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ
ﺍﻟﻠﻪ ﻧﻮﺭﻩ ﻭﺳﻤﺎﻩ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺑﻪ ﻧﻮﺭﺍ
অর্থ: হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার নূর মুবারক পূর্ব ও পশ্চিমে পূর্নরুপে প্রকাশ পেয়েছে।আর মহান আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম উঁনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন। তাই নিঁজ কিতাব কালামুল্লাহ শরীফে উনার নাম মুবারক রাখেন ‘নূর’।”
[আল মওযুআতুল কবীর ৮৩ পৃষ্ঠা]
★৫. মোহাম্মদ ইবনে আল-হাজ্জ আল-আবদারী (ইন্তেকাল-৭৩৬ হিজরী) নিজ ‘আল-মাদখাল’ কেতাবে (দারুল কিতাব আল-আরবী বৈরুত সংস্করণের ২:৩৪) আল-খতিব আবু আল-রাবি’ মুহাম্মদ ইবনে আল-লায়েস প্রণীত ‘শেফা আস্ সুদূর’ গ্রন্থ হতে এর উদ্ধৃতি দেন, যা’তে আল-লায়েস বলেন, আল্লাহ সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেন তা মহানবী (ﷺ) এঁর নূর; আর ওই নূর অস্তিত্ব পেয়েই আল্লাহর প্রতি সিজদা করেন। আল্লাহ ওই নূরকে চার ভাগে বিভক্ত করেন এবং ওর প্রথম অংশ দ্বারা আরশ, দ্বিতীয়টি দ্বারা কলম, তৃতীয়টি দ্বারা লওহ এবং চতুর্থটি খণ্ডিত করে বাকি সৃষ্টি জগতকে অস্তিত্ব দেন।
অতএব,আরশের নূর সৃষ্ট হয়েছে রাসূলে পাক (ﷺ)-এঁর নূর থেকে; কলমের নূরও তাঁর নূর থেকে; লওহের নূরও তাঁর নূর থেকে; দিনের আলো, জ্ঞানের আলো, সূর্য ও চাঁদের আলো, এবং দৃষ্টিশক্তি ও দূরদৃষ্টি সবই তাঁর নূর হতে সৃষ্টি করা হয়েছে।
★৬. বিখ্যাত মুহাদ্দিস, আরেফ বিল্লাহ, সাইয়্যিদিনা আব্দুল গনী নাবেলসী রহমাতুল্লাহি আলাইহি (বেসাল-১১৪৩ হিজরী)উক্ত হাদীস শরীফকে সরাসরি সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন।তিনি বলেন –
ﻗﺪ ﺧﻠﻖ ﻛﻞ ﺷﻴﻲ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻛﻤﺎ ﻭﺭﺩ ﺑﻪ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ
অর্থ: নিশ্চয়ই প্রত্যেক জিনিস হুজুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার নূর মুবারক থেকে সৃষ্টি হয়েছে, যেমন এ ব্যাপারে ‘সহীহ’ হাদীস শরীফ বর্নিত রয়েছে।”
[হাদীক্বায়ে নদীয়া-দ্বিতীয় অধ্যায়-৬০ তম অনুচ্ছেদ-২য় খন্ড ৩৭৫,মাকতাবা আল-নূরীয়্যা,ফয়সালাবাদ সংস্করণ]
★৭. ইমামুল মুফাসরিরীন, মুফতীয়ে বাগদাদ, হযরত আলূসী বাগদাদী (রহ:) উক্ত হাদিস শরীফকে নির্ভরযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি উনার কিতাবে লিখেন –
ﻭﻟﺬﺍ ﻛﺎﻥ ﻧﻮﺭﻩ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺍﻭﻝ ﺍﻟﻤﺨﻠﻮﻗﺎﺕ ﻓﻔﻲ ﺍﻟﺨﺒﺮ ﺍﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﻧﻮﺭ ﻧﺒﻴﻚ ﻳﺎﺟﺎﺑﺮ
অর্থ : সকল মাখলুকাতের মধ্যে সর্বপ্রথম সৃষ্টি হলো,নূরে মুহম্মদী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।যেমন-হাদিস শরীফে বর্নিত আছে, হে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু!আল্লাহ পাক সর্বপ্রথম আঁপনার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঁনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন।”
[তাফসীরে রুহুল মায়ানী ১৭ তম খন্ড, ১০৫ পৃষ্ঠা।]
✌ইমামুল মুফাচ্ছিরিন মাহমুদ আলুসী (রহঃ) নিজ ’তাফসীরে রুহুল মা’আনী’র ৮:৭১ অধ্যায়ে হযরত জাবের (রা:)-এর হাদীসটি আবারও উদ্ধৃত করেন।
ﻭﻛﻮﻧﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺭﺣﻤﺔ ﻟﻠﺠﻤﻴﻊ ﺑﺎﻋﺘﺒﺎﺭ ﺃﻧﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺼﻼﺓ ﻭﺍﻟﺴﻼﻡ ﻭﺍﺳﻄﺔ ﺍﻟﻔﻴﺾ ﺍﻹﻟﻬﻲ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻤﻤﻜﻨﺎﺕ ﻋﻠﻰ ﺣﺴﺐ ﺍﻟﻘﻮﺍﺑﻞ، ﻭﻟﺬﺍ ﻛﺎﻥ ﻧﻮﺭﻩ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻭﻝ ﺍﻟﻤﺨﻠﻮﻗﺎﺕ، ﻓﻔﻲ ﺍﻟﺨﺒﺮ ” ﺃﻭﻝ ﻣﺎ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻧﻮﺭ ﻧﺒﻴﻚ ﻳﺎ ﺟﺎﺑﺮ ” ﻭﺟﺎﺀ ” ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺍﻟﻤﻌﻄﻲ ﻭﺃﻧﺎ ﺍﻟﻘﺎﺳﻢ ” ﻭﻟﻠﺼﻮﻓﻴﺔ ﻗﺪﺳﺖ ﺃﺳﺮﺍﺭﻫﻢ ﻓﻲ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻔﺼﻞ ﻛﻼﻡ ﻓﻮﻕ ﺫﻟﻚ،
“সবার প্রতি কুল মাখলুকাতের নবী(ﷺ)-
-এঁর রহমত হওয়ার বিষয়টি সম্পৃক্ত রয়েছে এই বাস্তবতার সাথে যে,তিঁনি- ই সৃষ্টির শুরু থেকে সমগ্র সৃষ্টি জগতের জন্যে ঐশী করুণা ধারার মাধ্যম , আর এ কারণেই তাঁর নূর (জ্যোতি)- কে সর্বপ্রথমে সৃষ্টি করা হয়, যেমনিভাবে বর্ণিত হয়েছে হাদিসে, ‘‘ওহে জাবের, আল্লাহ সর্বপ্রথম তোমাদের নবী (ﷺ)-এঁর নূরকে সৃষ্টি করেন’’ আরও ইরশাদ হয়েছে, ’’আল্লাহ দাতা, আঁমি বণ্টনকারী’’
[তাফসীরে রুহুল মাআনী,১৭/১০৫]
✌আবার তাফসীরে ‘রুহুলমাআনী’
(৮:৭১) কিতাবের অন্য আরেকটি এবারতে হযরত জাবের (রা:)-এর হাদিসটি দলিল হিসেবে পেশ করেন। সাইয়েদ আবুল হাসান আহমদ ইবনে আবদিল্লাহ (বেসাল-৩য় হিজরী শতক) নিজ ‘আল-আনওয়ার ফী মওলিদ আন্ নবী মোহাম্মদ ‘আলাইহে আল-সালাত আল-সালাম’ কিতাবে (নাজাফ সংস্করণের ৫ পৃষ্ঠায়) হযরত আলী (ক:) থেকে নিম্নের হাদিসটি বর্ণনা করেন; নবী পাক (ﷺ) ইরশাদ ফরমান:আল্লাহ (অনন্তকালে) ছিলেন এবং তাঁর সাথে কেউ ছিল না; তিঁনি সর্বপ্রথম তাঁর মাহবুবের নূর সৃষ্টি করেন; এর ৪০০০ বছরের মধ্যে না সৃষ্টি করা হয়েছিল পানি, না আরশ, না কুরসী, না লওহ, না কলম, না বেহেশত, না দোযখ, না পর্দা, না মেঘমালা, না আদম, না হাওয়া।
🌹আবার সূরা যারিয়াতের ৫৬ নং আয়াতের তাফসীরে তিনি আরও ব্যাখ্যা বিশ্লেষন করেন। অনাদি-অনন্ত মহান সত্ত্বা আল্লাহ তায়ালা একাই ছিলেন, ছিলেন গুপ্ত। ইচ্ছা করলেন নিঁজেকে প্রকাশ করার, সে অনুযায়ী সৃষ্টি করলেন গোটা সৃষ্টি জগত।সৃষ্টির কেন্দ্র বানিয়েছেন যাঁকে, যাঁকে করেছেন সকল সৃষ্টি অস্তিত্বে আসার মাধ্যম যিনি তিঁনি হলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন:
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلاَّ لِيَعْبُدُونِ
‘আঁমি জ্বীন এবং মানবকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আঁমার ইবাদাতের জন্য।’
[সূরা যারিয়াত,আয়াত নং ৫৬]
👏এ আয়াতের তাফসীরে আল্লামা মাহমুদ আলুসী বাগদাদী একটি হাদিসে কুদসীর উদৃতি দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
كنت كنزا مخفيا فأحببت أن أعرف فخلقت الخلق لاعرف
‘আঁমি ছিলাম সুপ্ত গুপ্ত ভান্ডার, পছন্দ করলাম পরিচিত হতে।অতএব পরিচয়ের জন্য সৃষ্টি করলাম এক সৃষ্টিকে।’
[আল্লামা আলুসী,রুহুল মা‘আনী: ২৭ পারা, ২২ পৃষ্ঠা; শায়খ ইবনু আরাবী, ফুতুহাতে মাক্কিয়া: ১৪২; আল্লামা আবু সাউদ উমাদি, আবু সাউদ: ২/১৩০]
★৮. ইমামুল মুফাসসিরীন, আল্লামা ইসমাঈল হাক্কী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
ﺍﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻲ ﺧﻠﻖ ﺟﻤﻴﻊ ﺍﻻﺷﻴﺎﺀ ﻣﻦ ﻧﻮﺭ ﻣﺤﻤﺪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻭﻟﻢ ﻳﻨﻘﺺ ﻣﻦ ﻧﻮﺭﻩ ﺳﻲﺀ
অর্থ: এ ব্যাপারে সকলেই একমত যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক সকল মাখলুকাত “নূরে মুহম্মদী” সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সৃষ্টি করেছেন। অথচ “নূরে মুহম্মদী” সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে কিঞ্চিত পরিমানও কমে নাই।”
[তাফসীরে রুহুল বয়ান ৭ম খন্ড ১৯৭-১৯৮ পৃষ্ঠা।]
★৯. ইমাম কুস্তালানী (রহ:) (আহম্মদ ইবনে মুহাম্মদ,ওফাত ৯২৩ হি:) বলেন,”এ ইমাম আব্দুর রাজ্জাক (রহ:) এর রেওয়াত যিনি নিজ সনদে হযরত জাবির (রা:) থেকে বর্ননা করেছেন ”
[আল-মাওয়াহিব আল-লাদুন্নিয়া,১ম খন্ড,৭১ পৃ:]
👏’আল মাওয়াহিব আল লাদুন্নিয়া (১:৫৫)গ্রন্থে লিপিবদ্ধ ইমাম কসতলানী (রহ:)-এর ভাষ্যানুযায়ী হযরত আব্দুর রাযযাক (রহঃ) (বেসাল-২১১ হিজরী) তাঁর রচিত ‘মুসান্নাফ’ কিতাবে ওপরের ঘটনাটি বর্ণনা করেন।শুধু তাই নয় তিনি তার কিতাবে দলিল হিসাবে তা বর্ননা করেন।
★১০. শাইখ আব্দুল কাদির জিলানী (রহ:) [পিরে পিরানী, মিরে মিরানী,গাউসে সামাদানী, মাহবুবে সুবহানী,গাউসুল আযম দস্তগীর (রহ:), ওফাত ৫৬১ হিজরি]
তিনি তার বিখ্যাত [Sirr al-asrar fi ma yahtaju ilayh al-abrar (p. 12-14 of the Lahore edition)] কিতাবে বলেন, আমি (রাসুল) আল্লাহর (নুর) থেকে সৃষ্টি আর আঁমার (নুর) থেকে সমস্ত বিশ্বাসীগন (ও সমস্ত কিছু) সৃষ্টি।তিনি আরো বলেন,রাসুল (ﷺ) এঁর নুর থেকে আল্লাহর আরশ সৃষ্টি এবং এমন আরো কিছু (যা হাদিসে প্রথম) সৃষ্টি যেমন কলম, বুদ্ধিমত্তা।
[The Secret of Secrets (Cambridge: Islamic Texts Society, 1994)]
★১১. হযরত নিযামউদ্দীন ইবনে হাসান নিশাপুরী (বেসাল-৭২৮ হিজরী) দলিলস্বরুপ (evidence হিসেবে) গ্রহন করেছেন, স্বরচিত ‘গারাইব আল-কুরআন’ শীর্ষক তাফসীরগ্রন্থে (কায়রোর বাবা সংস্করণের ৮:৬৬) [সুরা জুমার (৩৯.১২) ‘ আমাকে আরো নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন আমি প্রথম মুসলিম হই।’] এই আয়াতের তফসীরে
★১২. ইমাম আজলুনী (রহ) বলেন,”এ ইমাম আব্দুর রাজ্জাক (রহ:) এর রেওয়াত যিনি নিজ সনদে তা বর্ননা করেছেন “From : ‘Ajluni (Isma`il ibn Muhammad d. 1162)
Book : Kashaf Al Khifa
Volume : 1
Page : 311
Hadith number : 827
★১৩. ইমাম আবদুল করীম জিলি(জন্ম ৭৬৬ হি.) নিজ ‘নামুস আল-আ’যম ওয়া আল-কামুস আল-আকদাম ফী মা’রেফত কদর আল-বানী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম’ গ্রন্থে দলিলস্বরুপ (evidence হিসেবে) বর্ননা করেছেন। ইমাম নাবহানী (রহ:)-ও এটি বর্ণনা করেন তাঁর ‘জওয়াহির আল-বিহার’ কেতাবে।
★১৪. ইমাম ইয়দারুসি (রহ:) বলেন,”এ ইমাম আব্দুর রাজ্জাক (রহ) এর রেওয়াত যিনি স্বয়ং নিজ সনদে বর্ননা করেছেন ”
From : ‘Iydarusi
Book : Tarekh An Nur as Saafir
Volume : 1
Page : 8
★১৫. ইমাম ইউসুফ নাবহানী (রহ:) তাঁর ‘জওয়াহির আল-বিহার’ কেতাবে (৩:৩৫৪) এর উদ্ধৃতি দেন।ইমাম কসতলানী (রহ:)-এর ‘মাওয়াহিব’ থেকে পুরো হাদীসখানা উদ্ধৃত করেন ইসমাঈল ইবনে মুহাম্মদ আজলুনী (ইন্তেকাল-১১৬২ হিজরী) নিজ ’কাশফ আল-খাফা’ গ্রন্থে (মাকতাবাত আল-গাযযালী, বৈরুত সংস্করণের ১:২৬৫)।
✌তাছাড়াও ইমাম ইউসুফ ইবনে ইসমাঈল নাবহানী (রহ:) তাঁর প্রণীত ‘আল-আনওয়ার আল-মোহাম্মদিয়্যা (পৃষ্ঠা ১৩), ‘জওয়াহির আল-বিহার’ (বাবা কায়রো সংস্করণ, ১১২৫ বা ৪:২২০ পৃষ্ঠা) এবং ‘হুজ্জাত-আল্লাহ আলাল আলামীন’ (২৮ পৃষ্ঠা) তার বইগুলোতে একে দলিল স্বরুপ (evidence হিসেবে) বর্ননা করেন।
★১৬. শায়খ ইউসুফ আল-সাইয়্যেদ হাশিম আল-রেফাঈ’ তাঁর কৃত ‘আদিল্লাত আহল আস-সুন্নাহ ওয়াল জামা’আ আল-মুসাম্মা আল-রাদ্দ আল-মোহকাম আল-মানী’ শীর্ষক পুস্তকে (২২ পৃষ্ঠায়) বলেন এটা দলিল সরূপ এবং “ইমাম আবদুর রাযযাক এটি বর্ণনা করেছেন।”
★১৭. আহমদ আবেদীন শামী (বেসাল-১৩২০ হিজরী), যিনি হানাফী আলেম ইমাম ইবনে আবেদীন শামী (রহ:)-এর ছেলে, তিনি ইমাম ইবনে হাজর হায়তামী মক্কী (রহ:)-এর কৃত ‘আন-নি’মাত আল-কুবরা ‘আলাল ’আলম ফী মওলিদে সাইয়্যেদে ওয়ালাদে আদম’ পুস্তকের ব্যাখ্যামূলক বইয়ে এই হাদীসটি দলিল হিসেবে পেশ করেন।
★১৮. আবদুল হাই লাখনৌভী (মৃত্যু: ১৩০৪ হিজরী), এই হাদীসটি স্বরচিত ‘আল-আসার আল-মারফু’আ ফী আল-আখবার আল মাওদু’আ (লাহোর সংস্করণ, ৩৩-৩৪ পৃষ্ঠা) শীর্ষক বইয়ে বর্ণনা করেন এবং বলেন, “আবদুর রাযযাকের এই রওয়ায়াত থেকে ’নূরে মোহাম্মদী’র আউয়ালিয়্যা তথা প্রাধান্য/অগ্রগণ্য হওয়ার বৈশিষ্ট্য প্রতিষ্ঠিত হয়,যেমনিভাবে এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হয় সকল সৃষ্টির ওপরে এঁর অগ্রাধিকার।”
★১৯. ভারত উপমহাদেশের ওহাবী-প্রভাবিত দেওবন্দী মতবাদের গুরুদের অন্যতম শাহ মোহাম্মদ ইসমাঈল দেহেলভী নিজ ‘এক রওযাহ’ শীর্ষক চটি পুস্তিকায় (মালটা সংস্করণের ১১ পৃষ্ঠা) লিখেছে:বর্ণনার ইশারা অনুযায়ী, ‘আল্লাহ সর্বপ্রথম সৃষ্টি করেন আমার (হুযূরের) নূর’।
★২০. ভারত উপমহাদেশের দেওবন্দী ওহাবী গুরুদের অন্যতম রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী তার কৃত ‘ফতোওয়ায়ে রশীদিয়্যা’ পুস্তকে (করাচী সংস্করণের ১৫৭ পৃষ্ঠায়) লিখেছে যে এই হাদীস “নির্ভরযোগ্য সংকলনগুলোতে পাওয়া যায় নি, তবে শায়খ আবদুল হক্ক দেহেলভী এর কিছু প্রামাণ্য ভিত্তি থাকায় একে উদ্ধৃত করেছেন।” আসলে শায়খ আবদুল হক্ক দেহেলেভী (রহ:) শুধু এর উদ্ধৃতি-ই দেন নি, তিনি আরও বলেছেন যে এই হাদীস সহীহ (নির্ভুল)।
★২১. ইশান ইলাহি জহির (ওহাবী নেতা) , তার কিতাব [Hadiyyat al-mahdi (p. 56 of the Sialkut edition)] এ বলেছেন, আল্লাহ তার সৃষ্টির সুচনা করেছিলেন নুরে মুহাম্মাদী সা. (al-nur al-muhammadi) দ্বারা তারপর তিনি পানির উপর আরশ সৃষ্টি করেন। মুহাম্মাদ (ﷺ) এর নুর সমস্ত সৃষ্টির প্রাথমিক উপাদান যার থেকে হাদিসে (এটাও) এসেছে যে প্রথম সৃষ্ট বস্তু হল কলম।
★২২. ভারত উপমহাদেশের দেওবন্দী ওহাবীদের নেতা আশরাফ আলী থানভী স্বরচিত ‘নশরুত্ তৈয়ব’ (উর্দুতে লাহোর সংস্করণের ৬ এবং ২১৫ পৃষ্ঠা) পুস্তকে এই হাদীস আবদুর রাযযাকের সূত্রে বর্ণনা করে এবং এটাকে নির্ভরযোগ্য বলে।
★২৩. ভারত উপমহাদেশের দেওবন্দী ওহাবীদের নেতা এহসান এলাহী যাহির, যাকে লাহোরের সুন্নীভিত্তিক বেরেলভী সিলসিলা শত্রু হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে, সে তার ‘হাদিয়্যাত আলমাহদী’
(শিয়ালকোট সংস্করণের ৫৬ পৃষ্ঠা) বইয়ে বলে:আল্লাহ তাঁর সৃষ্টি আরম্ভ করেন ’আল-নূর আল-মোহাম্মদিয়া’ তথা মহানবী(ﷺ)-এঁর নূর দ্বারা; অতঃপর তিনি আরশ সৃষ্টি করেন পানির ওপর; এরপর বাতাস এবং একে একে ’নূন’, ’কলম’, লওহ এবং মস্তিষ্ক সৃষ্টি করেন। অতএব, মহানবী (ﷺ)-এঁর নূর আসমান ও জমিনে যা কিছু বিরাজমান তা সৃষ্টিতে মৌলিক উপাদান বলে সাব্যস্ত হয়…..আর হাদীসে আমাদের কাছে যা বিবৃত হয়েছে, তাতে (বোঝা যায়) আল্লাহতা’লা প্রথমে কলম সৃষ্টি করেন; আরও প্রথমে সৃষ্টি করেন মস্তিষ্ক; এর দ্বারা যা বোঝানো হয়েছে তা হলো আপেক্ষিক বা তুলনামূলক শ্রেষ্ঠত্ব।
🌹হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রা:) হতে বর্নিত নূরের হাদিসখানা জাল নয়, সনদ সহীহ,রাবীগন নির্ভরযোগ্য এবং মুসান্নাফ কিতাবে এই হাদিস আছে এবং ছিল তার প্রমান :(৩য় পর্ব দেখুন)
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
★২৪. ইমাম সুয়ুতী (রহ:) এর শত শত ফতোয়া যেখানে ওহাবীরা ছেড়ে দেয় সেখানে ওনার ১টা উক্তিকে নিয়ে ওহাবীরা আদা-জল খেয়ে লেগেছে :

♠ইযলুনি (১২ শতাব্দীতে) তার ইমাম আব্দুর রাজ্জাক (রহ:) “[Kashf ul Khafa” vol 1 p 311], and in [“Arba’in” n°19], এবং তিনি শেষে ১টা বইয়ে বলেন যে তিনি এর “”ইসনদ”” পাননি এবং তিনি একে ইমাম কুস্তালানী (রহ:) এর (সমর্থন অনুযায়ী) অনুসরন করেছেন।

♠ইমাম সুয়ুতী (রহ:) তাখরিজ হাদিস

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Alor Porosh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share