14/06/2015
আমি এমএলএম সম্পর্কে জানি না, তাই এটি ভালো না
প্রতিটি মানুষই প্রকৃতিগতভাবে স্বার্থপর, তবে স্বার্থপরতার পরিধি বা ব্যাপ্তির ওপর নির্ভর করে এটি কতটুকু অমঙ্গলজনক হতে পারে অন্যের জন্য। স্বার্থপর মানুষের কোন শ্রেণী বা গোত্র নেই কারণ এটি সকলের মাঝে বিদ্যমান। এর ব্যতিক্রম হলো সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের ভালবাসা ও স্নেহ। আমাদের মধ্যে পেশাগত কারণে অনেকে স্বার্থপর আচরণে অভ্যস্থ হয়ে পড়ি এবং স্রোতের অনুকূলে লিখতে পছন্দ করি যেমন- মাল্টিলেভেল মার্কেটিং নিয়ে সাংবাদিক ভাইয়েরা কখনও ইতিবাচক লিখেনি হয়তো লিখবেও না, আমার কখনও দৃষ্টিতে আসেনি। কোন একটি পত্রিকা এমএলএম বিষয়ে খবর ছাপিয়ে অনেক মানুষের দৃষ্টি আর্কষর্ণ করতে সক্ষম হয়েছে এজন্য প্রত্যেক পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে লেখা চাই এ সম্পর্কে জানুক আর নাই জানুক। কিছু গতানুগতিক ধারণা আছে যেমন- এমএলএম মানে প্রতারণার নবকৌশল, এমএলএম মানে চড়া মূল্যে সেক্স এর ঔষধ বিক্রয়, এমএলএম মানে মাল্টিপারপাস্ ব্যবসা ইত্যাদি। এ বদ্ধমূল ধারণা থেকে কিছু সাধারণ সমালোচক এবং পাশাপাশি কিছু সাংবাদিক মহোদয়দের বেরিয়ে আসতে হবে এবং আসা উচিত। শুধু সমালোচনা করে কোন বিষয়ের সুন্দর সমাধান করা যায় না, একটা উপায়, একটা সঠিক পথ নির্দেশনা না দিতে পারলে যেটুকু পথ আমরা এগিয়েছিলাম তাও পিছিয়ে যাবো।
সত্যি বলতে কি আমরা নিজেরাও এখনও বিভ্রান্তির মধ্যে আছি কারণ আমরা কোন কিছু ভালভাবে না জেনে পাঁ বাড়াই আর যখন গেঁড়াকলে আটকা পড়ি তখনও নিজেদের শুধরে নেয়ার চেষ্টা করি না বরং ভুলটিকে সঠিক বলে চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। গত সপ্তাহে আমার পরিচিত একজন প্রেজেন্টার-ট্রেইনার আমাকে বললেন, ‘আমি নিশ্চিত এখানে যে পণ্য বিক্রয় হয় তার মান বেশ খারাপ তবুও কি করবো কাজতো করতেই হবে’। আমি বললাম, ‘ছেড়ে দিন’। উত্তরে বললেন, ‘খাব কি?’ বিষয়টা এমন যে কিছু একটা করে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে তাই আমরা এখনও এমএলএম করছি। সত্যিকার অর্থে যে জাতি এখনও মৌলিক অধিকার নিয়ে যুদ্ধ করছে সেখানে ভাল আর মন্দের বিভেদ অনেক কঠিন। আপনার ক্ষতি জেনেও অনেকে আপনাকে প্রলুদ্ধ করছে শুধু ক্ষুধা আর বেঁচে থাকার তাগিদে। এমএলএম অনেকগুলো বিষয়কে সার্পোট করে না যা আমরা জানি না। জানি না বলেই আমাদের সমাজে কিছু অকল্যাণকর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান জন্ম নেয় যাদের নাম দেয়া হয় ‘এমএলএম কোম্পানী’। আমরা সমষ্টিক বিষয়ে ভাবতে কখনও প্রস্তুত নই। এজন্য আমাদের নিয়েও কেউ ভাবতে চায় না। এমন একজনও কি নেই মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বিষয়ে সমাধানের উদ্যোগ নিবে, সংসদে দাঁড়িয়ে বলবে, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি বিপণন কৌশল, গড়পরতা এর বিরুদ্ধে না গিয়ে এটিকে কিভাবে বেকার সমস্যা সমাধানে ও ব্যবসায়িক সম্প্রসারণে কাজে লাগানো যায়, এ ব্যাপারে সরকারী পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করছি। আর যদি এটি সত্যই দেশের জন্য অকল্যাণকর হয়ে থাকে তবে এটিকে চিরতরে বন্ধের আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক। ধন্যবাদ” যেহেতু আমরা সবাই একটা বৃত্তের অর্ন্তগত আর বৃত্তের কেন্দ্রও একটি তাই কেন্দ্রের কাছেই সমাধান চাওয়া হোক। জ্ঞানী লোকেরা যখন এমএলএম পদ্ধতির দিকে আঙ্গুল তুলে মন্দ বলতে দ্বিধা করেন না তখন বুঝতে হবে মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বিষয়টি প্রতিহিংসার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও এমএলএম নিয়ন্ত্রণ আইন করা হয়েছিল প্রায় তিন বছর প্রচেষ্টায়। মাত্র চারটা প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়েছিল লাইসেন্স, এক বছর পর বলা হলো কেউ সঠিকভাবে এমএলএম করছে না। কোনো লাইসেন্স নবায়ন করা হলো না। আমার প্রশ্ন হলো- যে আইন করা হলো সেটি দ্বারা কি কোম্পানীগুলো নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না, অথবা এমএলএম নিয়ন্ত্রণ আইনের দূর্বলতার সুযোগে এমএলএম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, অথবা কর্তৃপক্ষ এমএলএম নিয়ন্ত্রণ আইনের সহায়তায় কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেনা। সব বিষয় ঝুলিয়ে দিয়ে সমাধান করা যায় না। যাই হোক সর্বশেষ এমনটি দাঁড়ায়, আমি যা খেতে পারবনা (ক্রয়ের সার্মথ্য নেই)তা স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ নয়, আমি যা জানি না তা কারো জন্য ভালো নয়। আমরা এই পথে চলছি।
“জয় হোক মাল্টিলেভেল মার্কেটিং এর- জয় হোক কিছু স্বপ্নচারী মানুষের”
ধন্যবাদ