08/08/2026
মাআরিফুল হাদিস: এক মহামূল্যবান হাদিস-ভাণ্ডার এবং মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নুমানী (র.)-এর অমর কীর্তি
-সৈয়দ মবনু
বাংলা ভাষায় ইসলামী গ্রন্থপ্রকাশের জগতে সাম্প্রতিক সময়ে যে কয়েকটি প্রকাশনা তাদের নিষ্ঠা, গবেষণামনস্কতা ও মানসম্মত প্রকাশনার মাধ্যমে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে, মাকতাবাতুল হাসান তাদের অন্যতম।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি সৌজন্য উপহার হিসেবে আমাকে 'মাআরিফুল হাদিস'-এর প্রথম খণ্ড পাঠিয়েছেন। আট খণ্ডে সমাপ্ত এই মহাগ্রন্থের মূল সংকলক বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও মুহাদ্দিস মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নুমানী (র.)। বাংলা অনুবাদ করেছেন মুজাহিদুল ইসলাম মাইমুন, হুমায়ূন কবীর, মুবাশশির বিন মিল্লী, শাহাদাত হুসাইন ও যুবায়ের বিন তাহের। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে মাকতাবাতুল হাসান। গ্রন্থে প্রথম প্রকাশকাল আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ থাকলেও আমার হাতে আসা কপিটি ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মুদ্রণ বলে প্রকাশনা কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছেন।
মাআরিফুল হাদিস রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পবিত্র হাদিসের একটি প্রামাণ্য, সমৃদ্ধ ও সুসংগঠিত সংকলন। এতে বিষয়ভিত্তিকভাবে দুই হাজারেরও অধিক হাদিস সন্নিবেশিত হয়েছে। ঈমান-আকিদা, ইবাদত, আখলাক, দোয়া-জিকির, সামাজিক জীবন, লেনদেন ও মুসলিম জীবনের নানাবিধ প্রয়োজনীয় বিষয় সহজ, সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় উপস্থাপিত হয়েছে। ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা, সংশয়-আপত্তির সন্তোষজনক সমাধান এবং হাদিসের মৌলিক শিক্ষাকে কর্মজীবনের সঙ্গে যুক্ত করে ব্যাখ্যা করার অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে গ্রন্থটি দীর্ঘদিন ধরে আলেম, গবেষক ও সাধারণ পাঠকের কাছে সমানভাবে সমাদৃত।
মাকতাবাতুল হাসান প্রকাশিত বাংলা সংস্করণটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এতে প্রথম হাদিস থেকে শেষ হাদিস পর্যন্ত ধারাবাহিক নম্বর সংযোজন, প্রতিটি হাদিসের মূল উৎস ও হাদিস নম্বর উল্লেখ, বিস্তৃত তাহকিক ও তাখরিজ, শাস্ত্রীয় মান নির্ধারণ, অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় রেফারেন্স, গবেষক ও সাধারণ পাঠকের জন্য পৃথক উপযোগী টীকা, পূর্ববর্তী সংস্করণের বিভিন্ন ত্রুটির সংশোধন এবং প্রাঞ্জল বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে গ্রন্থটিকে আরও নির্ভরযোগ্য ও সমৃদ্ধ করা হয়েছে। ফলে এটি শুধু অনুবাদ নয়; বরং গবেষণাসমৃদ্ধ একটি নতুন সংস্করণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
আমার জীবনে এমন কিছু মনীষী আছেন, যাঁদের আমি কখনও সরাসরি দেখিনি; কিন্তু তাঁদের রচনা পাঠ করতে করতে মনে হয়েছে, যেন তাঁরা আমার অত্যন্ত আপনজন। মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নুমানী (র.) তাঁদের অন্যতম। তাঁর জন্ম ১৫ ডিসেম্বর ১৯০৫ এবং ইন্তেকাল মে ১৯৯৭ সালে। অথচ তাঁর গ্রন্থাবলি পাঠ করলে মনে হয়, তিনি যেন আজও আমাদের সামনে বসে গভীর মমতায় ইসলামের সৌন্দর্য ও হাদিসের শিক্ষা ব্যাখ্যা করে চলেছেন।
মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নুমানী (রহ.): জীবন, সাধনা ও অবদান
মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নুমানী (র.) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, মুহাদ্দিস, গবেষক, লেখক ও দাঈ। ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ভারতের উত্তর প্রদেশের সম্ভল (Sambhal) শহরের এক সম্ভ্রান্ত ও দ্বীনদার পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতা সুফি মুহাম্মদ হুসাইন ছিলেন একজন সচ্ছল ব্যবসায়ী ও জমিদার প্রকৃতির মানুষ, যিনি সন্তানের ইসলামী শিক্ষার প্রতি বিশেষ যত্নবান ছিলেন।
শৈশবেই তিনি নিজ শহরের মাদরাসা 'সিরাজুল উলূম'-এ প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষার উদ্দেশ্যে দারুল উলূম মাউ (আজমগড়) এবং পরে উপমহাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলূম দেওবন্দে ভর্তি হন। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি সর্বোচ্চ কৃতিত্বের সঙ্গে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। দেওবন্দে তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে শায়খুল হাদিস আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরী (র.), আল্লামা আজীযুর রহমান উসমানী (র.) এবং আল্লামা সিরাজ আহমদ রশীদী (র.) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি কয়েক বছর আমরোহার একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে আল্লামা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী (র.)-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে লখনউর দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামায় প্রায় চার বছর শায়খুল হাদিসের দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতা, গবেষণা ও লেখালেখির পাশাপাশি তিনি ইসলামী দাওয়াহ ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি 'আল-ফুরকান' নামে একটি মাসিক সাময়িকী প্রতিষ্ঠা করেন। এটি দ্রুতই উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ইসলামী গবেষণা ও চিন্তাচর্চার পত্রিকায় পরিণত হয়। যুক্তিনিষ্ঠ বিশ্লেষণ, আকিদাগত স্বচ্ছতা, গভীর গবেষণা এবং প্রাঞ্জল ভাষাশৈলীর জন্য তাঁর সম্পাদকীয় ও প্রবন্ধসমূহ বিশেষভাবে সমাদৃত হয়।
১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাকালে তিনি প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন এবং সংগঠনের নায়েবে আমির নির্বাচিত হন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আবুল আলা মওদূদীর কিছু আকিদাগত ও চিন্তাগত বিষয়ে মৌলিক মতভেদ সৃষ্টি হলে ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে তিনি সংগঠন থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তি, দলিল ও গবেষণার আলোকে তাঁর মতভেদের কারণ ব্যাখ্যা করে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন, যা উপমহাদেশের ইসলামী চিন্তার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
জামায়াতে ইসলামী ও মওদূদী-সম্পর্কিত তার উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো;
১. মাওলানা মওদূদীর সঙ্গে আমার সম্পর্কের ইতিহাস এবং এখন আমার অবস্থান। (Maulana Maududi Ke Sath Meri Rifaqat Ki Sarguzasht Aur Ab Mera Mauqif), এই বইতে তিনি আত্মস্মৃতি, জামায়াতে ইসলামী থেকে বিচ্ছেদের কারণ এবং মওদূদীর চিন্তার সমালোচনামূলক মূল্যায়ন করেছেন। এই বইকে জামায়াতে ইসলামী ও মওদূদী-চিন্তা সম্পর্কে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রচনা হিসেবে বিবেচিত করা হয়, কারণ এতে তিনি নিজের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা, মতভেদ এবং বিচ্ছেদের কারণ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন।
২. তাবলিগি জামাত, জামায়াতে ইসলামী ও বেরেলভী হযরাত। (Tablighi Jamat, Jamaat-e-Islami Aur Barelvi Hazrat)। এই বইতে তিনটি ইসলামী ধারার লক্ষ্য, পদ্ধতি ও পার্থক্য নিয়ে তিনি বিশ্লেষণ করেছেন। এটি জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে তার অন্যতম আলোচিত গ্রন্থ।
৩. অমুসলিম শাসনব্যবস্থার অধীনে বসবাসকারী মুসলমানদের করণীয়।
(Ghair Islami Iqtedar Ke Tehat Rehne Wale Musalmano Ke Liye Laiha-e-Amal)। এই বইতে ইসলামী রাষ্ট্র, রাজনীতি এবং মুসলমানদের সামাজিক-রাজনৈতিক দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন। এতে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিষয়ও আলোচিত হয়েছে।
অনেকে অপ্রচার করেন মাওলানা মওদূদীর সাথে মাওলানা সৈয়দ হোসাইন আহমদ মাদানীর পাকিস্তান-ভারত নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত রয়েছে, যে কারণে দেওবন্দী আলেমরা মওদুদীর বিরোধীতা করেন। তা সঠিক নয়। দুই পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা যে আলেমদ্বয় উত্তোলন করেছিলেন সেই আল্লামা শিব্বির আহমদ উসমানী, আল্লামা সহুল উসমানী ছিলেন মওদুদীর আকিদা বিরোধী, পাকিস্তানের পক্ষের আলেম মাওলানা আশরাফ আলী থানবী, মাওলানা মুফতি শফি প্রমূখ সবাই মওদুদীর আকিদা বিরোধী।
প্রকৃত ইতিহাস হলো মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নুমানী (র.) যখন জামায়াত থেকে বেরিয়ে গোটা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আলেমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অবগত হলেন আবুল আলা মওদূদী সাহেব ও জামায়াতে ইসলামীর ভুল চিন্তার কথা মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নুমানী (র.) এর মাধ্যমে।
মাওলানা মনজুর নুমানী (র.)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি নিঃসন্দেহে 'মাআরিফুল হাদিস'। আট খণ্ডে রচিত এই মহাগ্রন্থে তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদিসসমূহ বিষয়ভিত্তিকভাবে সংকলন করে সহজ, প্রাঞ্জল ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সমসাময়িক নানা সংশয় ও আপত্তির যুক্তিপূর্ণ জবাব প্রদান করেছেন। এ কারণে গ্রন্থটি উর্দুভাষী জগতে যেমন ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে, তেমনি পরবর্তীকালে ইংরেজি ও বাংলা ভাষাতেও অনূদিত হয়েছে।
তাঁর রচনাসংখ্যা প্রায় পঁয়ত্রিশটিরও বেশি। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— মাআরিফুল হাদিস, ইসলাম কেয়া হ্যায়?, দীন ও শরিয়ত, কুরআন আপ সে ক্যা কহতা হ্যায়?, আপ হাজ্জ ক্যাসে করেঁ?, কালিমায়ে তাইয়্যিবার হাকিকত, তাহকীক মাসআলা-এ ইসালে সাওয়াব, তাবলিগি জামাত, জামায়াতে ইসলামী অওর বেরেলভি হাজরাত, দারুল উলূম দেওবন্দ কা আলমিয়া, গায়ের ইসলামী ইকতিদারের তাহতে রহনে ওয়ালে মুসলমানোঁ কে লিয়ে লায়েহা-এ-আমল, কুফর ও ইসলাম কে হুদুদ অওর কাদিয়ানিয়াত এবং খোমেনি, ইরানি বিপ্লব ও শিয়া আকিদা। এসব গ্রন্থে ইসলামী আকিদা, হাদিস, সমাজচিন্তা, সমকালীন মতবাদ ও মুসলিম সমাজের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গভীর গবেষণার সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
১৯৯৭ সালের ৪ মে তিনি ইন্তেকাল করেন। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া জ্ঞানভাণ্ডার, গবেষণাকর্ম ও রচনাসমূহ আজও ইসলামী জ্ঞানচর্চার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। উপমহাদেশের আলেম, গবেষক ও সাধারণ পাঠকের কাছে তিনি এখনও সমানভাবে শ্রদ্ধেয় ও প্রেরণার উৎস। তাঁর রচনাবলি প্রমাণ করে—একজন আলেম কেবল মাদরাসার শিক্ষক নন; তিনি জাতির বিবেক, চিন্তার দিশারি এবং সত্যের নির্ভীক সাক্ষী।
মাআরিফুল হাদিসের বৈশিষ্ট্য :
মাআরিফুল হাদিস শুধু একটি হাদিস-সংকলন নয়; এটি হাদিসের আলোকে একজন মুসলমানের বিশ্বাস, ইবাদত, চরিত্র, সমাজজীবন ও দৈনন্দিন কর্মপদ্ধতির একটি সুবিন্যস্ত দিকনির্দেশনা। গ্রন্থকার মাওলানা মুহাম্মদ মনজুর নুমানী (রহ.) হাদিসের গভীরতা অক্ষুণ্ন রেখে সাধারণ পাঠকের জন্য সহজ, হৃদয়গ্রাহী ও প্রাঞ্জল ভাষায় বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন। এ কারণেই গ্রন্থটি দীর্ঘদিন ধরে আলেম, গবেষক ও সাধারণ পাঠকের কাছে সমানভাবে সমাদৃত।
গ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
-রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দুই হাজারেরও অধিক সহিহ ও গ্রহণযোগ্য হাদিসের বিষয়ভিত্তিক সুবিন্যস্ত সংকলন।
-ঈমান-আকিদা, ইবাদত, আখলাক, দোয়া-জিকির, সামাজিক জীবন, পারিবারিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক লেনদেন এবং মুসলিম জীবনের প্রয়োজনীয় প্রায় সব বিষয়ের ওপর প্রামাণ্য হাদিসের সংযোজন।
-জটিল তাত্ত্বিক আলোচনার পরিবর্তে হাদিসের মৌলিক শিক্ষা ও বাস্তব জীবনে তার প্রয়োগকে গুরুত্ব প্রদান।
-সহজ, সংক্ষিপ্ত, প্রাঞ্জল ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় ব্যাখ্যা, যাতে সাধারণ শিক্ষিত পাঠকও সহজেই বিষয়বস্তু অনুধাবন করতে পারেন।
-প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে প্রয়োজনীয় ভূমিকামূলক আলোচনা, যা পাঠককে বিষয়টির পটভূমি ও উদ্দেশ্য বুঝতে সহায়তা করে।
-হাদিসের ব্যাখ্যায় ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ।
-হাদিস নিয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন সংশয়, আপত্তি ও বিভ্রান্তির যুক্তিসম্মত ও সন্তোষজনক জবাব।
-পথভ্রষ্ট গোষ্ঠীর ভুল ব্যাখ্যা ও অপব্যাখ্যার দলিলভিত্তিক খণ্ডন।
-অতিরিক্ত তর্ক-বিতর্ক বা জটিল মতভেদের পরিবর্তে কুরআন-সুন্নাহর মৌলিক শিক্ষাকে প্রাধান্য প্রদান।
-প্রতিটি খণ্ডের শুরুতে উপমহাদেশের প্রখ্যাত মনীষী—মাওলানা হাবিবুর রহমান আজমী (র.) এবং সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী মিয়াঁ নদভী (র.)-এর মূল্যবান অভিমত ও মূল্যায়নের সংযোজন।
বাংলা সংস্করণের বিশেষ বৈশিষ্ট্য:
মাকতাবাতুল হাসান প্রকাশিত বাংলা সংস্করণটি শুধু অনুবাদ নয়; বরং গবেষণা, তাহকিক ও সম্পাদনার মাধ্যমে সমৃদ্ধ একটি নির্ভরযোগ্য সংস্করণ। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—
-প্রথম হাদিস থেকে শেষ হাদিস পর্যন্ত ধারাবাহিক হাদিস নম্বর সংযোজন।
-প্রতিটি হাদিসের সঙ্গে মূল হাদিসগ্রন্থ ও হাদিস নম্বর উল্লেখ করে নির্ভুল রেফারেন্স প্রদান।
-গ্রন্থকারের উদ্ধৃত সূত্রের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় রেফারেন্স সংযোজন।
-মাওলানা আবু রাফআন সিরাজের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি হাদিসের শাস্ত্রীয় মান (সহিহ, হাসান, যয়িফ ইত্যাদি) নির্ধারণ।
-সাধারণ পাঠকের জন্য সংক্ষিপ্ত বাংলায় রেফারেন্স ও শাস্ত্রীয় মান উপস্থাপন এবং গবেষকদের জন্য আরবি ভাষায় বিস্তৃত তাহকিক ও তাখরিজ সংযোজন।
-দাওয়াহ, হাদিস, ফিকহ, ইসলামি আইন ও আরবি সাহিত্যে উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একাধিক আলেমের সমন্বয়ে সাবলীল ও প্রাঞ্জল বাংলা অনুবাদ।
-মাওলানা মুহাম্মদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ রচিত বিস্তৃত গবেষণাধর্মী ভূমিকা এবং মাওলানা ফারুকুজ্জামানের বিশেষ ভূমিকা সংযোজন।
-পূর্ববর্তী অনুবাদ ও মূল গ্রন্থে সাহাবায়ে কেরামের নামসহ যেসব মুদ্রণগত ও তথ্যমূলক ত্রুটি ছিল, সেগুলোর সংশোধন।
-শাস্ত্রীয় নীতিমালা অনুসরণ করে بهز بن حكيم عن أبيه عن جده এবং عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সনদসমূহের যথাযথ মূল্যায়ন ও উপস্থাপন।
সব মিলিয়ে মাআরিফুল হাদিস এমন একটি গ্রন্থ, যা শুধু হাদিস পাঠের তৃষ্ণা মেটায় না; বরং কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে একজন মুসলমানের চিন্তা, চরিত্র ও জীবনবোধকে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। তাই এটি প্রতিটি আলেম, গবেষক, ছাত্র এবং সচেতন মুসলিম পরিবারের সংগ্রহে থাকার মতো এক অনন্য ও কালজয়ী গ্রন্থ।