15/06/2024
❝ পিরিয়ড ও অশৌচ❞
নারীদের ঋতুস্রাবকালীন সময়ে কি তারা অশুচি ও অপবিত্র হয়ে যায়- তা এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন!
ঋতুস্রাব একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। পৃথিবীর বিভিন্ন বর্বর ধর্মমতসমূহ এই সময়ে স্রষ্টার উপাসনা করা বা ধর্মীয় কাজকর্ম নিষিদ্ধ করেছে নারীকে অপবিত্র ভেবে।
সর্বোৎকৃষ্ট মানবতাবাদী বৈদিক ধর্য এই ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। আর সনাতন ধর্মশাস্ত্র বিশেষ করে বেদে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মর্যাদা দান করা হয়েছে। বেদে নারীদের সর্বদা শুদ্ধতা ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে।
পবিত্র বেদে সরাসরি ঋতুকালীন বিধিবিধান বিস্তারিত নেই। ঋতুকালীন বিধিনিষেধ ও নারীদের শুদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আছে ধর্মসূত্র (বেদাঙ্গ কল্পের অন্তর্গত বিধানসমগ্র) ও স্মৃতিতে।
➤নারীজাতি সোম থেকে শুদ্ধতাপ্রাপ্ত, গন্ধর্বদের থেকে সুমিষ্ট বাক্য প্রাপ্ত, অগ্নির কাছ থেকে শুদ্ধতাপ্রাপ্ত তাই নারীরা সর্বদা শুদ্ধ। (যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি ৭১)
নারীদের অনন্য পবিত্রতা রয়েছে। তারা কখনোই পুরোপুরি অপবিত্র হন না। মাসে মাসে কিছুদিনের অস্থায়ী রজোচক্র তাদের মনের পাপ ধুয়েমুছে দেয়। নারীরা তিন ধরনের দেবসত্তার সাথে সম্পর্কিত। প্রথমে সোম (চন্দ্রের ন্যায় মাধুর্যময় ঈশ্বরের রূপ), গন্ধর্ব ও অগ্নি। এরপরে তারা পুরুষের অর্ধাঙ্গিনী। তাই আইন শাস্ত্রমতে তারা কখনোই অশুদ্ধ হতে পারে না।
➤নারীজাতি সোম থেকে শুদ্ধতাপ্রাপ্ত, গন্ধর্বদের থেকে সুমিষ্ট বাক্য প্রাপ্ত, অগ্নির কাছ থেকে শুদ্ধতাপ্রাপ্ত (সর্বাঙ্গে)। তাই নারীরা সবসময় কলুষতা থেকে মুক্ত। (বশিষ্ট ধর্মসূত্র ২৮।৪-৬)
➤ছাগ ও অশ্বের মুখাবয়ব শুদ্ধ, গো জাতির পৃষ্ঠদেশ শুদ্ধ, ব্রাহ্মণের পাদদেশ শুদ্ধ, কিন্তু নারী জাতির সবই শুদ্ধ (সকল অঙ্গ)। (বশিষ্ট ধর্মসূত্র ২৮।৯)
এ থেকে আমরা সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে নারীরা কখনোই অপবিত্র নন। মাসের নির্দিষ্ট সময়ে সাময়িক অসুবিধা তাদের সমস্ত মনের পাপ ধুয়েমুছে সাফ করে পবিত্রতা আরো বৃদ্ধি করে। ঋতুস্রাব চলাকালীন মেয়েদের দুর্বলতা, জ্বর, পেটে ব্যথা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। যদি তাদের শারীরিক সমস্যা না হয় তাহলে তারা ঈশ্বর উপাসনা অবশ্যই করতে পারবে। 🕉️