17/06/2017
:-) আজ জুন মাসের তৃতীয় রোববার~ "বিশ্ব বাবা দিবস" -এ পরম নির্ভরতা, সার্বিক নিরাপত্তা ও চিরন্তন আস্থার প্রতীক; সুমহান চারিত্রিক মর্যাদাসম্পন্ন এবং নিঃস্বার্থ মমতা, ভরসা, দায়িত্বশীলতা ও গভীর ভালোবাসার আধার পৃথিবীর সকল "বাবা"-কে "Xappy" ~এর পক্ষ থেকে জ্ঞাপন করছি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা; অসংখ্য শুভেচ্ছা ও শুভকামনা এবং বিনম্র শ্রদ্ধা, সালাম ও সম্মান। :-)
জীবনের বিভিন্ন রঙ আর সুখচ্ছবির সংমিশ্রণই -"XAPPY"।
"বিশ্ব বাবা দিবস" আজ। ভাষাভেদে শব্দ আর স্থানভেদে বদলায় উচ্চারণ "বাবা" ডাকটির; কিন্তু বদলায় না রক্তের টান। দেশ থেকে দেশে কিংবা সময় থেকে সময়ে একই মমতায় চিরন্তন পিতা~সন্তানের বন্ধন। বাবাকেই আদর্শ মনে করে সন্তানরা। "বাবা" সন্তানদের শেখায় কিভাবে পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে টিকে থাকতে হয়। সন্তানরা সামনে এলে যেন সব ক্লান্তি ভুলে যান "বাবা"। সন্তানের চাওয়াই যেন তাঁর চাওয়া হয়ে ওঠে। "বাবা" মানেই যেন বটবৃক্ষ; "বাবা" মানেই যেন মসৃণ চলার পথ। তাইতো আজকের দিনটি কেবলই "বাবা"র জন্য।
"বাবা" শব্দটি ছোট্ট হলেও এর ব্যাপকতা বিশাল। সাহিত্যে, গীত - আনন্দ এবং লোককথা - শিল্পকর্মে "বাবা" স্থান করে নিয়েছেন এক দায়িত্বশীলতার ছায়ায় ঘেরা স্নেহময় পুরুষ হিসেবে। সন্তানের দুঃসময়ে "বাবা" ডেকে নেন তাকে; বুকে চেপে রাখেন; ঘুচিয়ে দেবার চেষ্টা করেন তার সব কষ্ট। তাইতো সন্তানের কাছে "বাবা" পথপ্রদর্শক এবং বন্ধুর মতোই।
"বাবা" সে তো "বাবা"ই! যার কারণে পৃথিবীর এতো রং, রূপ ও আলোর দর্শন; সেই "বাবা" শব্দটির সাথেই অপার স্নেহ আর মমতার মিশেলে এক দৃঢ় বন্ধনে জড়িয়ে থাকি আমরা। শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে শুরু করে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের জীবনকালে সর্বাধিক উচ্চারিত এবং সবচেয়ে প্রিয় শব্দগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে "বাবা"। একটি শিশু "বাবা" বলে ডাকতে পারাতে "বাবা"র হাস্যোজ্জ্বল অনুভূতি যেন সেই অবুঝ শিশুর হৃদয়কে মুহূর্তেই আন্দোলিত করে তোলে।
১৯০৮ সালের ৫ জুলাই সর্বপ্রথম "বিশ্ব বাবা দিবস" পালন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টের এক গির্জায় প্রথম "বাবা দিবস" পালিত হয়। আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামে ওয়াশিংটনের এক নারী ১৯০৯ সালে ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা একবারেই জানতেন না। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে পরের বছর ১৯১০ সালের ১৯ জুন "বাবা দিবস" পালন করা শুরু করেন। ১৯১৩ সালে আমেরিকার সংসদে "বাবা দিবস"~এ ছুটি ঘোষণার জন্য একটি বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন "বাবা দিবস"~এ ছুটি ঘোষণা করেন। বিশ্বের অধিকাংশ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার "বিশ্ব বাবা দিবস" হিসেবে পালন করা হয়। নতুন প্রজন্মের কাছেও "বাবা দিবস"~এর ধারণাগুলো দিনদিন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
অনেক দেশে "বাবা"~কে ফুল অথবা কার্ড উপহার দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। অনেকেই "বাবা"~কে নিয়ে বাইরে খেতে, ঘুরতে অথবা সিনেমা দেখতে যায়; উপহার দেয় প্রয়োজনীয় সামগ্রী। যাদের "বাবা" বেঁচে নেই; তারা হয়তো আকাশে তাকিয়ে সবার অলক্ষ্যে "বাবা"র স্মৃতি হাতড়ায়।
বাংলাদেশেও "বিশ্ব বাবা দিবস" অন্যান্য দেশের মতো ঘরে ঘরে নানা আয়োজনের মাধ্যমে পালিত হয়। বাঙালী সন্তানদের হৃদয়ে এই দিবসটি উৎসবে পরিণত হয়েছে। হাজার কষ্ট সয়ে তিলে তিলে সন্তানদের বড় করেছেন যে "বাবা"; তাঁকে ঘিরেই এদিন হবে ব্যতিক্রমী উৎসব। বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে "বিশ্ব বাবা দিবস" পালিত হয়।
"বাবা" আর সন্তানের সম্পর্ককে কোন দিবস দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। কারণ পিতার প্রতি সন্তানের চিরন্তন ভালোবাসার প্রকাশ প্রতিদিনই ঘটে। তারপরও পৃথিবীর মানুষ বছরের একটি দিনকে "বাবা"র জন্য রেখে বিশেষভাবে "বাবা"~কে সম্মান, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা জানায়। "বিশ্ব বাবা দিবস"~এ "বাবা"-কে শুভেচ্ছা জানালে প্রতিটি সন্তানের কাছে অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী "বাবা" অত্যন্ত খুশি হন; এতটুকুতেই তাঁর মনের সকল চাহিদা মিটে যায়। "বাবা"র স্নেহ~ভালোবাসা সকলেরই প্রথম চাওয়া আর পাওয়া। পৃথিবীর সকল সন্তানেরা "বাবা"-কে ভালো রাখুন ~ "বিশ্ব বাবা দিবস"-এ এমনই প্রার্থনা সবার। তাইতো "বাবা"র প্রতি সন্তানের ভালোবাসা প্রকাশ এবং কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের জন্য দিনটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয়ে থাকে।
:-) "বিশ্ব বাবা দিবস" ~এ পরম ভালোবাসা ও নির্ভরতার প্রতীক পৃথিবীর সকল "বাবা"-কে "Xappy" ~এর পক্ষ থেকে আবারো নিবেদন করছি সশ্রদ্ধ সম্মান, আন্তরিক অভিনন্দন এবং সীমাহীন কৃতজ্ঞতা। :-)