29/07/2024
বর্তমানে একধরণের কথা চালু আছে যে বিশাল আকারে অনলাইনে আমাদের কার্যক্রম মনিটর করা হচ্ছে।কিন্তু আসলে গণহারে কোনো নজরদারি চলমান নেই বর্তমানে। আসুন কারণগুলো দেখি:
১. এনক্রিপশন: আপনার মেসেঞ্জারের ডাটা হচ্ছে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড। এনক্রিপশন হচ্ছে অনেকটা এমনযে আপনি আপনার বন্ধুর কাছে সিন্দুক পাঠাচ্ছেন। সিন্দুকের চাবি শুধু আপনার এবং আপনার বন্ধুর কাছেই আছে।অন্য কেউই এইটা খুলতে পারবে না। মেসেঞ্জারেও জিনিসটা একই ভাবে কাজ করে। আপনার সাথে আপনার বন্ধুর মেসেজ শুধু আপনারা দুইজনই দেখতে পারবেন। ফেসবুকও চাইলে দেখতে পারবে না এটা। এর উপর দিয়ে ভিপিএন ব্যবহার করলে আরো নিরাপদ।
২. ডাটার বিশাল পরিমাণ: বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রায় ০৫ কোটি। এখন কল্পনা করুন কি বিশাল পরিমাণ ডাটা আমরা প্রতি সেকেন্ডে জেনারেট করছি। এই বিশাল পরিমাণ Raw ইন্টারনেট ট্রাফিক ক্যাপচার করা, এবসর্ব করা,স্টোর করা এবং এনালাইসিস করা এবং আগের ডাটার সাথে প্যাটার্ন ম্যাচ করা অনেক বড় একটা বিষয়। এইগুলো করতে বিশাল পরিমাণ কম্পিউটিং পাওয়ার বা টাকা লাগে। আপনার কাছে এইটা সত্যি লাগলে আপনি আসলে এই সরকার যারা কিনা একটা ঠিকমতো টিকেট কেনার প্ল্যাটফর্ম বানাতে পারেনা তাদেরকে বেশি ক্রেডিট দিয়ে ফেলতেছেন। এই সরকার অলমোস্ট ২ বিলিয়ন ডলার হারায়ে ফেলছিলো হ্যাকড হয়ে ( আপনাদের জ্ঞাতার্থেঃ বাংলাদেশের ব্যাংকের ওয়েবসাইট আবার হ্যাকড হইছে)।
এখন দেখা যাক আপনার তথ্য কিভাবে সরকার এক্সেস করতে পারে -
১. তথ্য চাওয়াঃ সরকার ফেসবুকের কাছ থেকে আপনার তথ্য চাইতে পারে। কিন্তু এভাবে তথ্য পাওয়ার জন্য কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, এবং সেইক্ষেত্রেও প্রথমে আপনার বিরুদ্ধে লিগ্যাল ওয়্যারান্ট জারি করতে হবে, যেইটা আবার ফেসবুক রিভিউ করবে। এরপরেও ফেসবুক শুধু তাদেরকে মেটাডাটা দিবে- কখন মেসেজ পাঠানো হয়েছে, মেসেজের সাইজ, কে পাঠাইছে, কে রিসিভ করছে এইগুলা। কিন্তু কখনোই মেসেজের কনটেন্ট বা আপনার একচুয়াল মেসেজ আসলে কি এইটা দেখাবেনা। এরপরে চিন্তা করেন, বাংলাদেশে ফেসবুক এখন পর্যন্ত কোনো অফিস খুলতে চায় না। সিম্পলি বিকজ, বাংলাদেশের মার্কেট তাদের জন্য প্রফিটেবল না তেমন।
২. আড়িপাতা প্রযুক্তিঃ আপনাকে Pegasus প্রযুক্তি দিয়ে টার্গেট করা হইতে পারে। যেই ৪৫টা দেশ ইজরায়েলের কাছে থেকে এই প্রযুক্তি কিনেছে বাংলাদেশ তাদের মধ্যে একটা দেশ। এই আড়িপাতা প্রযুক্তি আপনার ডিভাইসে যেকোনোভাবে ইন্সটল হয়ে যেতে পারে- টেক্সট মেসেজ, ছবি, যেকোনো কিছুই। আপনাকে কোনো ক্লিকও করতে হবে না। এরপরে এই প্রযুক্তি আপনার ফোনের ডাটা চুরি করতে পারে বা আপনার ডিভাইসের ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ব্যবহার করতে পারে, আপনি জানবেনও না। এইটা আসলেও দুঃস্বপ্ন। কিন্তু এইখানে একটা ঝামেলা আছে- ঝামেলাটা হচ্ছে এক একটা ব্যক্তিকে টার্গেট করতেই ২৫ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। সো আপনি যদি একদম কি ফিগার না হন (যেমন বিরোধী দলের নেতা বা এমন কিছু), আপনাকে মনিটরিং তারা করবে না।
আপনাদের মনে এই ভয় বসায়ে দেওয়া হয়েছে যে সবকিছু মনিটর করা হচ্ছে, যেন আপনি এই ভয় থেকেই কিছু না করেন। আপনি মুক্ত ভাবেই কথা বলেন, লেখেন। কাওয়ার্ড হয়েন না, ভয়ে পেয়েন না।
(Collected )