30/08/2026
ভাবুন তো, কুরআন সবচেয়ে ভালো বুঝতেন কে? নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তারপর সাহাবিগণ। এরপর তাবিয়িগণ। ফলে, সেই সোনালি যুগের যতটা কাছাকাছি যেতে পারব, কুরআনের ততটা বিশুদ্ধ বুঝ আমরা পাব। তত বেশি অথেনটিক শিক্ষা আমরা পাব। এ ব্যাপারে কারও কোনো দ্বিমত নেই।
তাফসীরুল আইম্মাহ ঠিক এই কাজটিই করবে। আমাদেরকে পৌঁছে দেবে কুরআনের অথেনটিক ব্যাখ্যার দুয়ারে। আমরা জানি, ইসলামের প্রথম পাঁচশ বছরেই কালজয়ী তাফসীর-গ্রন্থগুলো রচিত হয়। সেগুলোর সারনির্যাস প্রতি পৃষ্ঠায় তুলে আনা ছিল বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। আর সেই কঠিন কাজটিই আঞ্জাম দিয়েছেন শাইখ জিয়াউর রহমান মুন্সী। এই একখানি তাফসীর পড়েই আমরা হিজরির শুরুর-দিকে-রচিত প্রামাণ্য তাফসীরগুলোর সারনির্যাস পেয়ে যাব। সংকলক মহোদয় এখানে নিজের কোনো ব্যাখ্যা বা মতামত যুক্ত করেননি। বরং প্রাধান্য দিয়েছেন সালাফে সালিহীনের বক্তব্যকেই।
আলহামদুলিল্লাহ; মহান ইমামগণ যেভাবে কুরআন বুঝেছেন, সেই বোঝাপড়াই এখন এক মলাটে শোভা পাচ্ছে!
সাবলীল অনুবাদ ও পার্শ্বটীকা : অর্থের বিশুদ্ধতা যেমন ধরে রাখা হয়েছে, তেমনি ভাষাটাও প্রাণবন্ত। এককথায় হৃদয়ছোঁয়া অনুবাদ। প্রতিটি পৃষ্ঠার অনুবাদ সাজানো হয়েছে এক অভিনব স্টাইলে—প্যারা আকারে। যখনই নতুন টপিক আসবে, ঠিক সেখানেই শুরু হবে নতুন প্যারা। এ ছাড়াও প্রতিটি প্যারার পাশেই টীকা-আকারে যুক্ত করা হয়েছে সূরার মেজর থিম, শিক্ষা ও ক্রস-রেফারেন্স।
প্রাচীন ও প্রামাণ্য তাফসীর : কুরআনের যে-সকল আয়াত বোঝার জন্য ব্যাখ্যা দরকার, সেগুলোর ব্যাখ্যা পেয়ে যাবেন এই অংশে। প্রায় দেড় লক্ষ শব্দে এখানে তুলে আনা হয়েছে প্রাচীন তাফসীরগুলোর সারনির্যাস। প্রতি পৃষ্ঠার তাফসীর শেষ করা হয়েছে প্রতি পৃষ্ঠাতেই—যেটা খুবই ইউনিক একটা ফিচার! ফলে, অনুবাদের সাথে সাথে তাফসীরটাও খুব সহজেই পড়ে ফেলা যাবে।
এ তাফসীরের ক্ষেত্রে যেসব মূলনীতি অনুসরণ করা হয়েছে :
(১) তাফসীরুল কুরআন বিল-কুরআন : কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা যদি কুরআনের অন্য কোনো আয়াতে পাওয়া যায়, তবে সেটাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
(২) তাফসীর বিস-সুন্নাহ : কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা হাদীসে পাওয়া গেলে, সেটাই উল্লেখ করা হয়েছে।
(৩) তাফসীরুস সাহাবাহ : কোনো আয়াতের ব্যাখ্যায় সাহাবি ও তাবিয়িগণের কোনো আছার বা মন্তব্য পাওয়া গেলে, তা যুক্ত করা হয়েছে।
(৪) তাফসীরুল আইম্মাহ : কোনো আয়াতের ব্যাখ্যা যদি প্রথম তিনটি উৎসে পাওয়া না-যায়, তখন ইমামগণের বক্তব্যের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ইমাম তাবারি, ঝাজ্জাজ, বাগাবি, যামাখশারি, ইবনু আতিয়্যা আন্দালুসি ও বায়যাবি—এরকম মহান মনীষীদের তাফসীর-গ্রন্থগুলোকে প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
সূরার নামকরণ ও অর্থ : প্রতিটি সূরার নামের রহস্য উল্লেখ করার কারণে পাঠক শুরুতেই একটি বেসিক ধারণা পেয়ে যাবেন।
শানে নুযুল : কুরআন নাযিল হয়েছে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট বা ঘটনাকে সামনে রেখে। সেসব প্রেক্ষাপট জানা থাকলে কুরআন বোঝা অনেকটা সহজ হয়। বিশুদ্ধ হাদীস ও প্রামাণ্য তাফসীরগ্রন্থ ঘেঁটে যতগুলো শানে নুযুল পাওয়া যায়, তার প্রায় সবগুলোই এ-তাফসীরে উঠে এসেছে।
ফজিলত : কুরআন মাজীদের সবগুলো সূরাই ফজিলতপূর্ণ। তবে বিশেষ কিছু সূরা ও আয়াতের রয়েছে বাড়তি ফজিলত। হাদীসের গ্রন্থগুলো থেকে এরকম প্রায় ৬০টি ফজিলত এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভাষাশৈলী : মানুষের জন্য কুরআনকে আল্লাহ সহজ করেছেন। তবে চিন্তাশীল পাঠকের জন্য কুরআন এক মহা-বিস্ময়ও বটে। কুরআনের ভাষা অতি উঁচুমানের—অলংকারপূর্ণ। নাহু-সরফ, বালাগাত, লুগাত—এরকম অনেকগুলো শাস্ত্রের আকরগ্রন্থ কুরআন মাজীদ। এই তাফসীরে প্রায় ৬০০ জায়গায় ‘ভাষাশৈলী’ শিরোনামে শব্দের গভীর তাৎপর্য ও উপমা-রূপকতা ব্যাখ্যা করা হয়েছে—যা পাঠককে দেবে ভিন্ন এক স্বাদ।
বিকল্প অনুবাদ : কুরআনের কিছু শব্দের রয়েছে একাধিক অর্থ। আবার, ব্যাকরণগত বিন্যাসের কারণেও কখনো একটি আয়াতের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ করার সুযোগ থাকে। এমন প্রায় ৩০০টির বেশি জায়গায় ‘বিকল্প অনুবাদ’ যুক্ত করা হয়েছে। যাতে পাঠক সম্ভাব্য কোনো অর্থ থেকেই বঞ্চিত না হন।
এমন অনুপম একেকটি ফিচার দিয়েই রচনা করা হয়েছে ‘তাফসীরুল আইম্মাহ’ গ্রন্থ। শাইখ জিয়াউর রহমান মুন্সী হাফিযাহুল্লাহর মতো ব্যক্তিত্বের নিবিড় দায়বদ্ধতার ফলে অনুবাদ ও সংযোজিত ব্যাখ্যা হয়ে উঠেছে সহজ, যথার্থ ও প্রাণবন্ত।
এখন বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে গ্রন্থটির অ্যাডভান্সড অর্ডার চলছে। খুব শীঘ্রই প্রকাশ পাবে, ইনশা আল্লাহ।