25/08/2017
মাননীয় ঢাকার মেয়র মহোদ্বয় সাহেব,
জানি আমার এ লেখাটি আপনার দৃষ্টিগোচর হবেনা। আর হলেও হয়ত আপনি কি পদক্ষেপ নিবেন সেটা আমার জানা নেই। শোনেন এবার কাহিনী......
সুদুর প্রবাস থেকে ঢাকায় অবতরন। গন্তব্য নিজ পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন। বিকেল ৪টা, গাবতলি বাস স্টান্ড, কয়েকজন টারমিনাল শ্রমিক গলায় গামছা দিয়ে পান চিবাচ্ছে। গাড়িতে ব্যাগগুলো তোলার সময় তাদের কন্ঠে ভেসে আসল, টাকা দ্যান,,
কিসের টাকা ভাই?
খাজনার টাকা,
কিসের খাজনা?
সিটি কর্পোররেশন থেকে টারমিনাল ডেকে আনা হয়েছে ২০ কোটি টাকা দিয়ে, তাই খাজনা দ্যান।
বললাম,সিটি কর্পোরেশন সাধারন জনগনের কাছ থেকে এভাবে খাজনা নিতে বলেছে, আপনি কি আমাকে কাগজপত্র গুলো দেখাবেন? কোথায় লেখা আছে আমি দেখতে চাই।
উত্তর, আপনাকে কেন দেখাবো, আপনি মেয়রের কাছে গিয়া জিজ্ঞাস করেন।
মাননীয় মেয়র, আপনার দেখা পাওয়া তো সম্ভাব না । তাই তাদের কথামত আমি আপনার কাছে ফেসবুকের মাধ্যমে জিজ্ঞাস করতে চাই, আপনি কি সাধারন জনগনের কাছ থেকে ব্যাগ/লাগেজের জন্য এভাবে খাজনা নিতে বলেছেন? চারটা ব্যাগের জন্য আমি ৪৮০ টাকা খাজনা দিতে বাধ্য হলাম । আমার আগে নাকি এক মহিলার কাছ থেকেও এভাবে টাকা নেয়া হয়েছে। আমি কাগজপত্র দেখতে চেয়েছি বিধায় তারা আমাকে থ্রেট করল, টাকা না দিলে ব্যাগ নাকি গাড়িতে উঠবে না। তাই তো আমি বাধ্য হলাম টাকা দিতে।
মাননীয় মেয়র,আপনি কি জানেন? আমি যেদিন বিমানের টিকেট ক্রয় করি সেদিন বাংলাদেশ সরকারকে বিমান বন্দর ব্যাবহার করার জন্য খাজনা দিয়েছি? গাবতলী বাসস্টান্ডে আসলে যে এভাবে খাজনা দিতে হবে সেটা তো নির্বাচনী ইশতেহারে কোথাও বলেছিলেন না। তাহলে কেন এই দুর্নিতী? আপনি কি ব্যাপারটি জানেন? নাকি জেনেও না জানার ভান করে আছেন।
হ্যা আমি ৪৮০ টাকা দিয়েছি, এই টাকা আমার কাছে বড় কিছু নয়। অতীব সামান্য টাকা। আমি প্রতিবাদ করেছিলাম অন্যায়ের বিরুধ্যে। অন্যায়কে মেনে নিবো না বিধায় টাকা দিতে চাইনি। কারন প্রবাশ আমাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধ্যে রুখে দাড়াতে শিখিয়েছে।
আমি যখন প্রতিবাদ করেছিলাম আসে পাশে প্রায় শ'খানেক লোকের সমাগম। সবাই হা করে দেখতেছিল, কিন্তু আমার পাশে দুইজন ভাগ্নে ছাড়া প্রতিবাদ করার মত আর কেউ ছিলনা।
গাড়ির সুপারভাইজার এসে কানের কাছে বলল, ভাই এদের সাথে পারবেন না। টাকাটা দিয়েই দেন।
গাড়ি ছাড়ার পর চলতে চলতে আরিচা ফেরিঘাটে গাড়ি থামলো । গাড়ির মধ্যে অনেকেই আমাকে বলতে শুরু করলো, ভাই আপনি যেভাবে প্রতিবাদ করলেন সেটা প্রশংসনীয়। যেই মহিলার কাছ থেকে ওরা জোড় করে টাকা নিয়েছে সেই মহিলা কান্না সুরে বলল, অনেক কষ্টের টাকা ভাই। আল্লাহ যেন ওদের বিচার করে। মহিলাকে বললাম, আপনার এই কথাগুলো আমি ভিডিও করে ফেসবুকে দিতে চাই। মহিলা বললেন আচ্ছা ঠিক আছে ভাই। কিন্তু রাতের বেলায় গাড়ির মধ্যে অন্ধকার পরিবেশ। তাই ভিডিও করা সম্ভাব হলনা। পাশের সিটের আরেক ভদ্র লোক বললেন,ভাই বিদেশী লাগেজ দেখলেই ওরা টাকা ছাড়া কাউকে ছাড়েনা।
সপ্ন দেখি দেশটা দুর্নিতিমুক্ত হোক, সাধারন মানুশ অন্যায়ের বিরুধ্যে রুখে দাড়াক। কিন্তু কে রুখে দাঁড়াবে? কোটি মানুষের মাঝে আমার আপনার মত দুই একজন ?
নাহ! সম্ভব না, এভাবে দেশের পরিবর্তন সম্ভাব না। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে আমার এই লেখা পড়ে মেয়র সাহেবকে আগে এর প্রতিবাদ করতে হবে। কেন মেয়রের নাম বিক্রী করে মানুষের কাছ থেকে এভাবে অবৈধভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে? কেন এই চাদাবাজী সাধারন মানুষের কাছ থেকে?
আমি চাই, আমার ফেসবুকের বন্ধুরা প্রতিবাদসরুপ এই লেখাটি শেয়ার করবেন । সাংবাদিক ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি, আপনাদের সহযোগিতায় এই লেখাটাই পৌছে যেত পারে মাননীয় মেয়র মহাদ্বয়ের কাছে।
দুর্নিতীমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রতিটি নাগরিকের ভুমিকা নিতে হবে। তাহলেই সত্যিকারে দেশটা একদিন সোনার বাংলায় রুপান্তারিত হবে।
(On behalf of victim)
video link given below
https://www.youtube.com/watch?v=eGPd3UKHYmA&feature=youtu.be
সবাই বেশি করে শেয়ার করুন । যদি কোনো উচ্চপদস্ত কেও দেখে কোনো পদক্ষেপ নেয় , অন্যথায় দিনের পর দিন এই চাঁদাবাজী চলতেই থাকবে।
-Md Razib