05/03/2026
ঈদ সামনে এলেই শুরু হয় ঘরমুখো মানুষের দীর্ঘ যাত্রা। দেশের লাখো মানুষ প্রিয়জনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শহর ছেড়ে গ্রামের পথে রওনা দেন। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—এই আনন্দের যাত্রা অনেক সময় পরিণত হয় কষ্ট, ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার যাত্রায়। 😓🚗
ঈদের আগে মহাসড়কগুলোতে অসহনীয় যানজট তৈরি হয়। কখনো ২–৩ ঘণ্টার রাস্তা যেতে লাগে ৮–১০ ঘণ্টা। বাস, ট্রেন বা লঞ্চের টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে। আবার অতিরিক্ত যাত্রী বহন, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো কিংবা ক্লান্ত চালকের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
শুধু ঘরমুখো মানুষই নয়, অফিস শেষে যারা প্রতিদিন বাসায় ফেরেন তারাও একই সমস্যার মুখে পড়েন। বাস পাওয়া যায় না, পাওয়া গেলেও তীব্র ভিড়—ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এই পরিস্থিতি আরও বেশি কষ্টকর হয়ে ওঠে।
এ ধরনের সমস্যা নতুন নয়। প্রতি বছর একই দৃশ্য দেখা যায়। তাই প্রয়োজন আগেভাগে পরিকল্পনা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা।
এই সংকট কমাতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারে—
✅ অতিরিক্ত পরিবহন চালু করা: ঈদের আগে বিশেষ বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চালু করলে যাত্রীদের চাপ অনেকটাই কমে যাবে।
✅ ভাড়া নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি: অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও মনিটরিং বাড়ানো প্রয়োজন।
✅ অফিস ছুটি ধাপে ধাপে দেওয়া: সব অফিস একদিনে ছুটি দিলে একসাথে যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। ধাপে ধাপে ছুটি দিলে সেই চাপ কমবে।
✅ মহাসড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা: গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ট্রাফিক পুলিশ বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা এবং দ্রুত যান চলাচলের ব্যবস্থা করা জরুরি।
✅ সড়ক মেরামত আগেই সম্পন্ন করা: ঈদের সময় যেন কোনো রাস্তার কাজ বা খোঁড়াখুঁড়ি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
✅ নিরাপত্তা জোরদার করা: বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ালে ছিনতাই ও বিশৃঙ্খলা কমবে।
ঈদ শুধু একটি উৎসব নয়, এটি মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার সময়। তাই ঘরে ফেরার এই যাত্রাকে কষ্টের নয়, আনন্দের যাত্রা বানানো আমাদের সবার দায়িত্ব।
সঠিক পরিকল্পনা, কার্যকর ব্যবস্থাপনা এবং সচেতনতার মাধ্যমে চাইলে ঈদের আগে মানুষের যাত্রাপথকে অনেক বেশি নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও আনন্দময় করা সম্ভব। 🌙✨