07/09/2026
কিছু পরিস্থিতি একটা মানুষকে এতোটাই আঘাত করে এতোটাই কষ্ট দেয় মাঝে মাঝে, তা কখন জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে বোঝা মুশকিল।
তেমনি সুইসাইড নোটের শ্রাবণ। ছোট বেলার স্মৃতি যখন তার মনে পরে আবছা, সেই সময় থেকে দেখেছে পারিবারিক কলোহ,মায়ের উপর বাবার নির্যাতন। বাবার পরকীয়া।
বাবার কৃতকর্মে বলির পাঠা হয় মা, ছেলের সম্পর্ক। একাকীত্ব কুঁড়ে কুঁড়ে খায় শিশুমনকে। এর পর এই দুঃসহ স্মৃতিকে জীবন থেকে সরাতে চেয়ে হাত ধরে নীলার। ভেবেছিলো এ যাত্রায় সুন্দর জীবন সে পাবে। আশায় গুঁড়েবালি।
একে একে শ্রাবণ হত্যা করে মায়ের ২য় স্বামীকে,তার আর নীলার মাঝে প্রবেশ করা ৩য় মানুষকে এবং শেষে নিজেকে। কিন্তু ভালোবাসার মানুষটিকে অক্ষত রেখে যায় সাথে ফেলে যায় তার সুইসাইড নোট।যেনো নীলা এসব নিয়ে বেঁচে থেকে মৃত্যুর স্বাদ নিতে পারে।
এইটাই হলো নীলার প্রতি নেওয়া শ্রাবণের অবহেলিত ভালোবাসার প্রতিশোধ।
মূলত পারিবারিক ভাঙ্গন,বিচ্ছেদ যে কোনো সন্তানের সুস্থ বিকাশে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।শ্রাবণও তেমন পরিস্থিতির শিকার। যেই নীলাকে সে এক সময় শেষ আশ্রয় ভাবে সেই যখন ফিনিক্স পাখির মতো সরে যেতে চায় তার অধিক ভালোবাসার অত্যাচারে,ঠিক সেই সময় শ্রাবণ হয়ে ওঠে ভয়ানক,এক অজানা শ্রাবণ।
রোমাঞ্চকর থ্রিলারের সুইসাইয়াড নোট শ্রাবণ ও তার মায়ের চার দেয়ালে বন্দী থাকা একাকীত্বের গল্প। সুইসাইড নোট হলো, প্রেয়সীকে অন্যের সাথে হারিয়ে ফেলার অজানা আশঙ্কায় থাকা এক পাগল প্রেমিকের গল্প।
একটা মানুষ আত্মহত্যা করবে বা সাইকো কিলার হবে তা কখনোই কাম্য নয়। প্রতিটা মানুষের সুস্থ ভাবে বাঁচার অধিকার আছে। চাই সবার সুন্দর জীবন।তবুও একদিন আত্নহত্যা মহাপাপ বলা অনেকেই তা ধীরে ধীরে গ্রহণ করে।
সুইসাইড নোট
-সহিদুল ইসলাম রাজন