23/02/2026
ঢাকার ধামরাই উপজেলার ডাউটিয়া গ্রামের কৃষক আলাউদ্দিনের জীবনে নেমে এসেছে অনিশ্চয়তা। গত সেপ্টেম্বরেই তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর জমি থেকে পানি নামছে না। ধান চাষ করা তো দূরের কথা, দুর্গন্ধযুক্ত পচা পানির কারণে জমিতে নামাও সম্ভব হয়নি। নভেম্বর মাসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অপেক্ষাকৃত উঁচু সেই জমিতেও কালচে পানিতে কচুরিপানা ভাসছে।
একসময় অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতেন আলাউদ্দিন। পরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নিলেও সেটি বন্ধ হয়ে যায়। হতাশা নিয়ে তিনি বলেন,
“এখন চোখে অন্ধকার দেখছি। পরিবার চালাব কীভাবে বুঝতে পারছি না।”
শুধু আলাউদ্দিনই নন, ধামরাইয়ের অসংখ্য কৃষক একই দুর্ভোগের শিকার। গত সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে স্থানীয় প্রায় ৩০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ২০০ একর জমিতে গত ৮–১০ বছর ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, আশপাশের শিল্পকারখানা থেকে নির্গত তরল বর্জ্য জমে থাকা পানিতে মিশে মাটির উর্বরতা নষ্ট করছে। দুর্গন্ধযুক্ত সেই পানিতে নেমে অনেক কৃষক চর্মরোগেও ভুগছেন। পাশাপাশি খাল-নালা ভরাট ও দখলের কারণে বৃষ্টির পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক পথও বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে জমিগুলো ধীরে ধীরে স্থায়ী ডোবায় পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা মাটি, পানি ও ধানের নমুনা পরীক্ষায় ক্ষতিকর রাসায়নিকের অতিরিক্ত উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, অপরিকল্পিত শিল্পায়নের প্রভাব এখন কৃষিজমি ছাড়িয়ে নদী ও খাদ্যশস্যেও পড়ছে।
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, অভিযোগ পেলে দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপের দৃশ্যমান ফল এখনো তারা পাননি।
ডাউটিয়া এলাকার একাধিক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“কারখানার নোংরা পানির কারণে ফসল হচ্ছে না, তবু খাজনা দিতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কম দামে জমি বিক্রি করছি। চাষ করতে পারলে জমি বিক্রি করতাম না।”
কৃষকদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন মৌসুমে ধামরাইয়ের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি চাষের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
#ধামরাই #কারখানা #দুষণ #জমি