28/05/2026
কুরবানি ঈদের দিন একজন মুসলমানের করণীয়..!
১. ফজরের নামাজ আদায় করা
ঈদের দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা উত্তম।
২. গোসল, সুগন্ধি ও সুন্দর পোশাক পরা
ঈদের দিন গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ভালো পোশাক পরা সুন্নাহ।
হযরত ইবনে উমর (রাঃ) ঈদের দিনে গোসল করতেন।
৩. ঈদুল আযহার দিন নামাজের আগে কিছু না খাওয়া
ঈদুল ফিতরে নামাজের আগে খাওয়া সুন্নাহ হলেও ঈদুল আযহায় কুরবানির গোশত খাওয়ার আগ পর্যন্ত না খাওয়া উত্তম।
রাসূল ﷺ ঈদুল আযহার দিন নামাজের আগে কিছু খেতেন না।
৪. তাকবীর পাঠ করা
ঈদগাহে যাওয়ার সময় বেশি বেশি তাকবীর পড়া সুন্নাহ—
“আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।”
৫. ঈদের নামাজ আদায় করা
পুরুষদের জন্য ঈদের নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। ঈদগাহে গিয়ে খুশি ও বিনয়ের সাথে নামাজ আদায় করতে হবে।
কুরআনে আল্লাহ বলেন—
“অতএব তুমি তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর এবং কুরবানি করো।”
— সূরা আল-কাওসার: ২
৬. কুরবানি করা
সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য কুরবানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
রাসূল ﷺ বলেন—
“যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।”
৭. কুরবানির সময় দোয়া পড়া
পশু জবাইয়ের সময় বলা সুন্নাহ—
“বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার”
এবং দোয়া করা যেতে পারে—
“ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়া ওয়া মামাতি লিল্লাহি রব্বিল আলামিন...”
৮. গোশত বণ্টন করা
কুরবানির গোশত আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিবদের মাঝে বণ্টন করা উত্তম।
আল্লাহ বলেন—
“তোমরা তা থেকে খাও এবং অভাবগ্রস্ত দরিদ্রকে খাওয়াও।”
— সূরা আল-হজ্জ: ২৮
৯. আত্মীয়তা ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করা
ঈদের দিনে আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ নেওয়া, সালাম বিনিময় করা, কষ্ট না দেওয়া এবং গরিবদের খুশি করা ইসলামের শিক্ষা।
১০. গুনাহ ও অপচয় থেকে বেঁচে থাকা
ঈদের আনন্দ যেন হারাম কাজ, গান-বাজনা, অপচয় বা অহংকারে পরিণত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী ঈদুল আযহা পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।