12/08/2026
অহেতুক কথা-কাজ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে চলা
যখন আমরা কয়েকজন একসাথে হই, গল্পগুজব, দেশের রাজনীতি, বহির্বিশ্বের নানান কূট-কৌশল, কত বিষয়ই না আমাদের আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কে কত খবর রাখে তা বোঝানোর এক প্রতিযোগিতা চলে।
আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
অথচ একজন দুনিয়াবী শিক্ষায় উচ্চপর্যায়ে পৌঁছানো ব্যক্তি আমাদের হযরত বলতেন, কী লাভ এসব আলোচনায়?
হ্যাঁ, খবর নিলে, হেডিং দেখলেই তো হলো। এ নিয়ে এত সময় অপচয় কেন কর?
একবার এক সফর শেষে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা ফিরছি। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে এক রেস্টুরেন্টে হুযুরের সাথে সফরসঙ্গীরা সবাই নাশতা করছি। শয়তান ওইরকম এক অবস্থা তৈরি করে দিল। এ কথা দে কথা চলতেই থাকল। হুযূর লক্ষ করলেন। বেশ কিছুক্ষণ কিছু বললেন না। শেষে একসময় হুংকার দিয়ে বললেন, তোমরা কি এসব আলোচনা বন্ধ করবে?
আমাদের নাশতার টেবিল মুহূর্তে পিনপতন নীরবতায় আচ্ছন্ন হয়ে গেল।
আরেক সফরে আমাদের একজন কারও গীবত করতে থাকলে হুযুর গাড়ি থেকে নামিয়ে দিলেন। বললেন, নিজের ব্যবস্থায় আসো। সে মাফ চাইল।
হুযুর বললেন, তুমি আসো, তবে আমাদের সাথে না।
হয়তো আমাদের শেখানোর জন্য এই দুই ক্ষেত্রে হুযুর কঠোর হয়েছিলেন।
হুযুর এখন কেবলই স্মৃতি; কিন্তু...
আমার বিশ্বাস, আমাদের হযরত তাঁর মওলার কাছে প্রশান্তিতে আছেন। অনেক সুখে তাঁর সময় কাটছে। হুযুর আর আসবেন না, আমাদের কান্না আসবে, কষ্ট হবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি শাড়ি পাবেন যে কাজে, সেটা হলো তাঁর অনেক ত্যাগের ফসল, তাঁর কাজগুলো যদি আমরা সবাই মিলে আঁকড়ে ধরি। একাট্টা হয়ে তাঁর দেখানো পথকে যদি আমরা আমাদের পথ বানাই।
পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, আমাদের কোনো কাজ ও আচরণের কারণে যেন তাঁর বদনাম না হয়।
আল্লাহ, তুমি আমাদের হযরতকে জান্নাতুল ফিরদাউসের আ'লা মাকাম দান করো। তাঁর কাজগুলোকে যেন আমাদের নিজেদের কাজ বানাতে পারি, আল্লাহ তুমি আমাদের সে তাওফীক দাও, আমীন।
হযরত প্রফেসর রহ.। স্মৃতি ও অভিব্যক্তি
-মুহাম্মাদ ইবতেসামুল ইসলাম ইবনে রফিকুল ইসলাম