অমলকান্তি যেমন রদ্দুর হতে চেয়েছিল
তেমনি
ভিন্ন ভিন্ন স্থানে
ভিন্ন ভিন্ন কালে
আমরা ক'জনাও কী সব যেন হতে চেয়েছিলাম!
কিন্তু রদ্দুর-মেঘ-নদীর কোটা তো সে-ই-ই-ই-ই-ই কবেই শেষ।
ঘাস-লতা-পাতাও শুনলাম কোন এক পুঁথিনাথের খুদে চ্যালাদের জন্য বুক করা।
তবুও 'হাল ছেড়ো না বন্ধু' গাইতে গাইতে
এই বেলা এসে দেখি
পথের ধারে আরও কয়েকটা ক্ষ্যাপা
বসে বসে বিড়বিড় করে কী এক মন্ত্র বলে চলেছে!
মুখ চাওয়া-চাওয়ি করে বুঝলাম
আমরা সবাই পুঁথিনাথের শিষ্যত্ব মেনে
তার সেই সব খুদে চ্যালাদেরই খোঁজ করছি।
চ্যালাদের হাত ধরে এগিয়ে গিয়ে
ঘাস-পাতার বাগানটার বেড়ার বাইরে হলেও যদি খানিকটা ঠাঁই মেলে।
ঘাসের হাসি, পাতার দোলা দেখতেও যে খুব আনন্দ!
মনে বড় বল পেলাম।
এমন ক্ষ্যাপা বুঝি আরও অনেক আছে!
হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার যেমন বাঁশি ছিল
পুঁথিনাথের চ্যালাদের জন্য নাকি
মলাট দেওয়া, বাঁধাই করা কাগজের তাড়ায়
আঁকিবুকি, লেখাজোকার মধ্যে সেইইই বাগানটার হদিস আছে।
তাই সবে মিলে আর দেরি না করে
নিযুত নিযুত খুদে চ্যালাদের ঘাস-লতা-পাতার উজ্জ্বল বাগানটার খোঁজ দিতে
অভিযান শুরু করে দিলাম।
তোমরা কি এখনও ভাবছো, ‘এরা আবার কারা??’
তবে বলি শোনো,
"পুঁথিনাথের শিষ্য মোরা
পুঁথি দিয়েই জীবন গড়া"।
আরও ভাবছো, ‘তা কী চাও কী বাপু’?
শুধাই তবে,
"পুঁথির পাতায় জগৎ ভুলে, নতুন নতুন দুয়ার খুলে,
কল্পলোকে হারিয়ে গিয়ে, সুখের সীমা নাই,
মোরা পুঁথির মজা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই"।