05/05/2024
রোরাইমা।
ব্রাজিল,ভেনিজুয়েলা আর গায়ানার সীমান্ত যেখানে সেখানে ঘন সবুজ অরণ্যে ঘেরা মাইন্ট রোরাইমা পাহাড় চূড়ার অবস্থান। মাউন্ট রোরাইমার ভূতাত্ত্বিক গঠন খুবই অনন্য।
এর চূড়া অন্যসব পর্বতের মতো তীক্ষ্ম আর খাড়া নয়, বরং সমতল।পূর্তগীজ ভাষায় একে বলে 'মন্টে রোরাইমা,টেপু রোরাইমা এবং সেরো রোরাইমা এই ধরনের পাহাড়কে বলা হয় টেবিল-টপ মাউন্টেন বা মেসা। এই ধরনের পর্বতের বহুল প্রচলিত একটি নামও আছে। তা হচ্ছে টেপুই।
পেমন ইন্ডিয়ানদের দেওয়া টেপুই নামটির অর্থ 'দেবতাদের আবাসস্থল'। সত্যিকার অর্থে মাউন্ট রোরাইমাই একমাত্র টেপুই নয়।গায়ানার উচ্চভূমিতে,বিশেষ করে ভেনিজুয়েলা এবং পশ্চিম গায়ানাতে অনেক টেপুই দেখতে পাওয়া যায়।
তবে এই অঞ্চলে মাউন্ট রোরাইমা হচ্ছে সর্বোচ্চ টেপুই। পেমন ইন্ডিয়ানদের দেওয়া নাম 'রোরাইমা'র 'রোরাই' শব্দটির অর্থ 'নীল-সবুজ' আর 'মা' অর্থ 'মহান'। মাউন্ট রোরাইমা বাস্তবিকই বিশাল সবুজকে ধারণ করে আছে।
১৫৫৯ সালে ইংরেজ অনুসন্ধাকারী স্যার ওয়াল্টার রালেইজ প্রথম এখানে অভিযান পরিচালনা করেন।মাউন্ট রোরাইমা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,৮১০ মিটার (৯২২০ ফুট) উঁচু। এর চূড়া ৩১ বর্গ কি.মি. (১২ বর্গমাইল) এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।
চূড়াটিকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে ৪০০ মিটার উচ্চতার পাথুরে পর্বতের দেয়াল। সর্বপ্রথম মাউন্ট রোরাইমার চূড়ায় পা রেখেছিলেন আরেক ব্রিটিশ অভিযাত্রী স্যার এভেরার্ড ইম থুর্ন ১৮৮৪ সালে।
স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের লেখা বিখ্যাত উপন্যাস 'দ্য লস্ট ওয়ার্ল্ড' অনেকেই পড়েছেন তিনি এই বই লেখার অণুপ্রেরণা পেয়েছিলেন মাউন্ট রোরাইমা দেখেই।
মাউন্ট রোরাইমা মূলত স্যান্ডস্টোনে গঠিত। মাউন্ট রোরাইমা ও অন্যান্য টেপুইগুলো গঠিত হয়েছিল প্রায় ২ বিলিয়ন বছর আগে,প্রিক্যাম্বিয়ান যুগে। এই অঞ্চলের টেপুইগুলো কোনো এক সুপ্রাচীনকালে একইসাথে ছিল।
পরবর্তীতে মহাদেশগুলো একে অন্যের থেকে দূরে সরে যাওয়ার সাথে সাথে টেপুইগুলোও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এখানকার আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্যর কারনে প্রাত্যহিক বৃষ্টিপাতে টেপুইগুলো অনন্য জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।
রোরাইমাতে কখনো একটানা রোদ উঠে না,এখানে প্রতিদিন কমবেশী বৃস্টিপাত হয়।
তবে বিচিত্র প্রজাতির এমন সব উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে যা পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখতে পাওয়া যায় না।
ভেনিজুয়েলা সরকার মাউন্ট রোরাইমাকে নিয়ে গড়ে তুলছেন
৩০,০০০ হাজার বর্গ কি.মি. আয়তনের ক্যানাইমা ন্যাশনাল পার্ক। এখানেই রয়েছে পৃথিবীর সর্বোচ্চ জলপ্রপাত এঞ্জেল ফলস।এই জলপ্রপাতের পানি ৩২১২ ফিট (৯৭৯ মিটার) উচ্চতা থেকে নিচে পরে।
এটি ক্যার্রো নদীর একটি উপনদী,যা ভেনিজুয়েলার অরিনোকো নদীর ব্যবস্থার অংশ। বিশ্বের সবচেয়ে চোখ ঝলসানো প্রাকৃতিক বিস্ময়কর মধ্যে বিবেচিত এঞ্জেল ফল এর মধ্যে অন্যতম।
মাউন্ট রোরাইমার চূড়ায় ওঠার জন্য ভেনিজুয়েলার অংশে পাহাড়ের গায়ে প্রাকৃতিক সিঁড়ির মতো আছে। সেই পথেই সাধারণত বেশিরভাগ অভিযাত্রী মাউন্ট রোরাইমায় আরেহন করে থাকেন। এছাড়াও অন্য যে পথ আছে সাধারণ মানুষ সেই পথে উঠতে পারবে না।
লক্ষ্য লক্ষ্য বছর ধরে টিকে থাকা জীববৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ প্রাচীন এই হারানো পৃথিবী থেকে ঘুরে আসুন।
Source & Image: Lonely Planet, Britannica, Atlas Obscura.
#ভূ-প্রকৃতি