24/12/2021
জীবনে উন্নতি করতে চাইলে সূর্যোদয়ের পর ভোরবেলার সময়কে কাজে লাগান
কুরআন পড়া বা মুখস্থ করা, ছাত্রদের পড়াশোনা, ব্যাবসা-বাণিজ্য, চাকুরী, সফর কিংবা জিহাদের অভিযানে বের হওয়া...এমন যেকোন ভালো কাজের জন্য সবচাইতে উত্তম এবং বরকতময় সময় হচ্ছে সূর্যোদয়ের পর থেকে দিনের প্রথমভাগ।
আলী রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরূপ দুয়া করতেন, “হে আল্লাহ! আমার উম্মত দিনের শুরুতে যে কাজ করবে, তাতে তুমি বরকত দান করো।” মুসনাদে আহমাদঃ ১৩২০, ১৩২৩, ১৩২৯, ১৩৩১, ১৩৩৯। হাদীসটি হাসান।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عَطَاءٍ، حَدَّثَنَا عُمَارَةُ بْنُ حَدِيدٍ، عَنْ صَخْرٍ الْغَامِدِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: اللَّهُمَّ بَارِكْ لِأُمَّتِي فِي بُكُورِهَا. وَكَانَ إِذَا بَعَثَ سَرِيَّةً أَوْ جَيْشًا بَعَثَهُمْ مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ وَكَانَ صَخْرٌ رَجُلًا تَاجِرًا، وَكَانَ يَبْعَثُ تِجَارَتَهُ مِنْ أَوَّلِ النَّهَارِ فَأَثْرَى وَكَثُرَ مَالُهُ قَالَ أَبُو دَاوُدَ: وَهُوَ صَخْرُ بْنُ وَدَاعَةَ صحيح
(১) সাখর আল-গামিদী রাদিয়াল্লাহু আ’নহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম (এই বলে আল্লাহর কাছে দুয়া) করেছেন, “হে আল্লাহ! আপনি আমার উম্মতকে ভোরবেলার সময়ের মাঝে বরকত দান করুন।”
(২) নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো ক্ষুদ্র বা বিশাল বাহিনীকে কোথাও প্রেরণ করলে দিনের প্রথম ভাগেই পাঠাতেন।
(৩) এই হাদীসের বর্ণনাকারী সাহাবী সাখর রাদিয়াল্লাহু আ’নহু একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তাঁর ব্যবসার পণ্যদ্রব্য দিনের প্রথমভাগে (ভোরবেলায়) পাঠাতেন, ফলে তিনি সম্পদশালী হয়েছিলেন এবং এভাবে তিনি অনেক সম্পদের অধিকারী হয়েছিলেন।
উৎসঃ সুনানে আবু দাউদঃ ২৬০৬, সুনানে আত-তিরমিযীঃ ১২১২, সহীহ তারগীবঃ ১৬৯৩। শায়খ নাসির উদ্দিন আলবানী রহি’মাহুল্লাহ হাদীসটিকে ‘সহীহ’ বলেছেন।
হাদীসে বর্ণিত فِي بُكُورِهَا বা ভোরবেলার সময় কথাটির অর্থ হচ্ছে দিনের প্রথমভাগ। অর্থাৎ, সূর্যোদয়ের পর থেকে মধ্য দুপুর বা যুহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়া পর্যন্ত সময়টুকু।
অনেকে রাত জেগে পড়াশোনা করে ফযরের পরে ঘুমিয়ে যায়। এটা ভুল। কেননা, আল্লাহ তাআ’লা রাতকে বানিয়েছেন বিশ্রামের জন্য, আর দিনকে করেছেন কাজের জন্য। এইভাবে তারা আল্লাহর সৃষ্টির নিয়মের বিপরীত কাজ করছে। পক্ষান্তরে, যেই সময়ে পরিশ্রম করে সবচাইতে বেশি উপকার পাওয়া যায় সেটা হচ্ছে ফযরের পরে ভোরবেলার সময়ে। এইভাবে ভোরবেলার বরকত থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। আল্লাহ আমাদেরকে বুঝার তোওফিক্ব দান করুন, আমিন।
ফযরের সালাত আদায় করার পর কি ঘুমানো উচিত?
এই প্রশ্নের উত্তরে শায়খ মুহা’ম্মদ বিন জামিল যাইনূ রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “আপনার জন্য জরুরী হচ্ছে সকাল সকাল সব কাজ শুরু করা। কেননা, আল্লাহর রাসুল সাল্লালাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুয়া করেছেন, “হে আল্লাহ! তুমি আমার উম্মতের জন্য সকালের সময়ের মাঝে বারাকাত দান করুন।” আরকানুল ইসলাম ওয়াল ঈমান। তাওহীদ প্রকাশনী, পৃষ্ঠাঃ ৫৬।
___________________________________
সালাফরা ভোরবেলার সময়টুকু আল্লাহর যিকির করে হেফাযত করতেন
ফযরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত ভোরবেলার এই সময়টুকু খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এটা বরকতের সময়। এই সময়ে ফযরের সালাত ফরয করা হয়েছে, ফযরের সালাত আদায়ের পর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর যিকির ও দুআ করা বিধিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এই সময়ে গাফিল বা উদাসীন হতে নিষেধ করা হয়েছে।
আল্লাহ সকালে ও সন্ধ্যায় তাঁর যিকির করার আদেশ দিয়ে বলেন,
وَاذْكُرْ رَّبَّكَ فِيْ نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَّخِيْفَةً وَّدُوْنَ الْجَــهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْاٰصَالِ وَلَا تَكُنْ مِّنَ الْغٰفِلِيْنَ
“আর আপনি আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন মনে মনে, বিনয় ও ভীতি সহকারে, অনুচ্চস্বরে; সকালে এবং সন্ধ্যায়। আর আপনি গাফিল (উদাসীন লোকদের) অন্তর্ভুক্ত হবেন না।” সুরা আল-আ’রাফঃ ২০৫।
দিনের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ এই সময়টুকু ঘুনিয়ে নষ্ট করলে অনেক বরকত থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
ফযীলাতুশ-শায়খ আব্দুর রাজ্জাক্ব বিন আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ হা’ফিজাহুল্লাহ বলেন,
“যদি কোন ব্যক্তি দিনের প্রথম ভাগ নষ্ট করে ফেলে; যেই সময়ের মাঝে অনেক বরকত ও ফযীলত রয়েছে, যেই সময়ে রিযিক্ব বন্টন করা হয়, তাহলে সে যেন পুরো দিনটাকে নষ্ট করে ফেললো! কারণ সকালে যে বরকত রয়েছে, তা হারানোর কারণে সারা দিনে তার যে উপকার ছিলো, সেটা থেকে সে বঞ্চিত থাকবে। এ কারণে একজন মুসলিম ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সে যেনো এটা নিশ্চিত করে যে, সকালবেলার সময়টুকু সে অলস, উদাসীন বা নিষ্ক্রিয় থেকে সেই দিনের বরকত থেকে বঞ্চিত না হয়। আমাদের সালাফরা ফযর সালাতের পরে ঘুম কি জিনিস তা তারা জানতেন না। এমনকি ইবনে আল-ক্বাইয়িম রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন যে, “সালাফরা যদি দীর্ঘ সফরে থাকা অবস্থায় ক্লান্ত থাকতেন, তবুও তারা ফযরের পরে ঘুমাতেন না। বরং সূর্য উদয় পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন এবং তার পরে ঘুমাতেন। এর কারণ হচ্ছে, ফযরের পর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত সময়টুকু ফযীলতপূর্ণ সময়। এই সময়টুকু আল্লাহর যিকিরের জন্য বরকতময় ও ফযীলতপূর্ণ, এ কারণে সালাফরা ক্লান্তি বা অলসতার কারণে এই সময়টুকু নষ্ট করতেন না। তাঁরা আল্লাহর যিকির বিশেষ করে তাসবীহ (সুবহা’নাল্লাহ) এবং ক্বুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত অন্যান্য যিকির করে এই সময়কে কাজে লাগাতেন, যেই যিকিরসমূহের প্রায় সবগুলো এই কিতাবে উল্লেখিত হয়েছে।
এ বিষয়ে সহীহ মুসলিমে একটা হাদীস বর্ণিত হয়েছে, হাদীসটি আবু ওয়ায়িল শাক্বিক্ব ইবনে সালামাহ রহি’মাহুল্লাহ নামক একজন তাবেয়ী থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, “একদা ফযরের সালাত আদায় করার পর আমরা আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহুর সাথে দেখা করতে গেলাম। আমরা (তাঁর বাড়ির) দরজার নিকটে এসে (ভিতরে প্রবেশের জন্য) সালাম দিলাম, তিনি আমাদেরকে অনুমতি দিলেন। কিন্তু আমরা কিছুক্ষণ দরজার বাহিরে অপেক্ষা করলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহুর দাসী মেয়েটি বের হয়ে এসে আমাদেরকে বললো, “আপনারা ভেতরে প্রবেশ করছেন না কেনো?” অতঃপর আমরা ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু তাসবীহ পড়ছেন। তিনি আমাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি তোমাদেরকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার পরও আমার ঘরে প্রবেশ করতে তোমাদের কি বাঁধা ছিল?” আমরা বললাম “না, তেমন কোন বাঁধা ছিল না, তবে আমরা ভাবলাম, হয়তো ঘরের মধ্যে (আপনার পরিবারের) কেউ ঘুমিয়ে আছে।” আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু বললেন, “তুমি উম্মু আ’বদের পুত্র (অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহুর) পরিবার সম্পর্কে এই ধারণা করছো যে, তারা এতোটাই অলস (যে ভোর বেলায় ঘুমিয়ে আছে)?”
বর্ণনাকারী আবু ওয়ায়িল রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু তাসবীহ পাঠে ব্যস্ত হলেন। শেষে যখন ভাবলেন যে, সূর্য উদিত হয়েছে তখন তিনি তাঁর দাসী মেয়েটিকে বললেন, “দেখো তো, সূর্য উদয় হয়েছে কি না?” আবু ওয়ায়িল বলেন, দাসী মেয়েটি (বাহিরে বের হয়ে) তাকিয়ে দেখল সূর্য তখনও উদিত হয়নি। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু পুনরায় তাসবীহ পাঠে ব্যস্ত হলেন। শেষে তিনি যখন ভাবলেন সূর্য উদিত হয়েছে, তখন বললেন, হে (দাসী) কন্যা! দেখো তো সূর্য উদিত হয়েছে কি না? আবু ওয়ায়িল বলেন, দাসী মেয়েটি তাকিয়ে দেখল সূর্য উদিত হয়নি। তিনি আবার তাসবীহ পাঠে ব্যস্ত হলেন। শেষে তিনি যখন ভাবলেন সূর্য উদিত হয়েছে তখন বললেন, হে দাসী কন্যা! দেখো তো সূর্য উদিত হয়েছে কি না? দাসী মেয়েটি তাকিয়ে দেখল যে, সূর্য উদিত হয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু এই সংবাদ শুনে বললেন, “আলহা’মদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর), যিনি আজকের এই দিনটি আমাদেরকে ফেরত দিয়েছেন।”
এই হাদীসের অধঃস্তন বর্ণনাকারী মাহদী বলেন যে, আমার মনে হয় আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু এও বলেছেন যে, “এবং আমাদের অপরাধের কারণে (আল্লাহ তাআ’লা) আমাদেরকে ধ্বংস করে দেননি।” সহীহ মুসলিমঃ ১৭৯৬।
শায়খ আব্দুর রাজ্জাক্ব বিন আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ হা’ফিজাহুল্লাহ এই হাদীসটি ব্যাখ্যা করে বলেন,
“আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু এই হাদীসে একটি আশ্চর্যজনক কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, “আলহা’মদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর), যিনি আজকের এই দিনটি আমাদেরকে ফেরত দিয়েছেন।”
তোমরা ভালো করে খেয়াল করো, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু এই কথা দিনের কোন সময়ে বলেছেন? তিনি এই কথা বলেছেন যখন দিনের প্রথম অংশ অর্থাৎ ভোর বেলা শেষ হয়েছে, কিন্তু তখনও পুরো দিন শেষ হয়নি। বরং দিনের প্রায় সম্পূর্ণ অংশই বাকী রয়েছে। তাহলে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু কেনো এই কথা বললেন যে, আল্লাহ আজকের দিনের (সবটুকু অংশই) তাঁকে ফেরত দিয়েছেন?”
শায়খ আব্দুর রাজ্জাক্ব বিন আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ হা’ফিজাহুল্লাহ বলেন, “আমার মনে হয়, এই প্রশ্নের উত্তর সকলেরই জানা। এর উত্তর হচ্ছে, যে ব্যক্তি দিনের প্রথম অংশ হেফাযত করবে, সে যেন বাকী সমস্ত দিনটাকেই হেফাযত করলো। এ কারণে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আ’নহু দিনের প্রথম অংশে আল্লাহর যিকির, তাসবীহ পাঠ করার দ্বারা অতিবাহিত করে আল্লাহর প্রশংসা করে এই কথা বলেছেন যে, “আলহা’মদুলিল্লাহ (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর), যিনি আজকের এই দিনটি আমাদেরকে ফেরত দিয়েছেন।” যদিও সেই দিনের দুহা, যুহর, আসরের দীর্ঘ সময় তখনও বাকী ছিলো।
এখান থেকে আমরা অনেক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় জানতে পারি তা হচ্ছে, যে ব্যক্তি তার দিনের প্রথম অংশকে হেফাযত করবে, তার বাকী দিনও হেফাযত হবে। যে ব্যক্তি তার দিনের প্রথম অংশকে সুন্দর করবে, তার বাকী দিনটা সুন্দর হবে। এটা (অনেকের নিকট) গোপন একটা বিষয় যে, সালাফরা প্রথম দিন থেকেই ভোরবেলার এই সময়কে হেফাযত করতেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন। তাঁরা দিনের প্রথম অংশের এই সময়ের মূল্য জানতেন, এ কারণে তাঁরা এই সময়ে (আল্লাহর যিকির করাকে) গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু পরবর্তীতে যারা এসেছে, তারা দিনের প্রথম অংশের গুরুত্ব জানতো না, এ কারণে তারা এই সময়ে অন্য বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া আরম্ভ করলো। এমনকি বর্তমান সময়ে অনেকের কাছে ঘুমানোর জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক সময় হচ্ছে ফযরের পরে। ফযরের সালাতের পরে অনেকে ঘুমানোকে কিছুতেই মিস করতে চায় না। কারো যদি ফযরের পরে কাজে যাওয়ার পূর্বে মাত্র এক ঘন্টা সময় বাকী থাকে, তবুও সে আধা ঘন্টার জন্য হলেও সেই সময়ে ঘুমানোকে ত্যাগ করে না, যদিও এই ঘুম তার কোন উপকারে আসে না। এইভাবে ফযরের পরে ঘুমিয়ে লোকেরা আসলে তাঁদের শরীরকে অলস ও দুর্বল করে, উদাসীন ও নিষ্ক্রিয় অবস্থায় সময় অতিবাহিত করে, এই ঘুম শরীরে কোন শক্তি দেয় না বা শরীরের কোন উপকারে আসে না। কেননা, এই সময়টুকু আসলে আল্লাহ তাবারাকা তাআ’লার যিকিরের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কারণে আলেমরা এই সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, সালাফরা এই সময়ের মূল্য জানতেন এবং তাঁরা এই সময়টুকু আল্লাহ তাবারাকা তাআ’লার যিকির করে অতিবাহিত করতেন।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলি, একজন ব্যক্তির জন্য ক্বুরআন ও সুন্নাহর যিকিরসমূহ শিক্ষা করা খুবই জরুরী, যেগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে করতে আদেশ করছেন এবং যে যিকিরসমূহ সকালবেলা (অর্থাৎ ফযর ওয়াক্ত ও সূর্য উদয়ের মাঝে) করা আমাদের জন্য শরীয়ত সম্মত। আমাদের উচিত এই যিকিরগুলো করার অভ্যাস গড়ে তোলা, যাতে করে আমরা প্রতিদিনই এই আমল করতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। ভোরবেলা যিকির করার এমন নিয়মিত অভ্যাস হয় যেনো, একদিনের জন্য আমাদের এই আমল ছুটে না যায়। যাতে করে সে এমন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যারা প্রতিদিন সকাল বেলার সময়কে যিকির করে সে তার সারা দিনকে সুন্দর করতে পারে।