Ayat bd

Ayat bd Ayat has born to serve the ummah AYAT – Helping You Live Islam with Ease and Grace.

Assalamu Alaikum wa Rahmatullahi wa Barakatuh

In our short journey through life, holding onto Islamic values is our greatest blessing. At AYAT, we strive to support the Muslim Ummah by providing premium Islamic products and educational resources that nurture faith and ease religious practices. With a commitment to authenticity and excellence, we aim to be a trusted companion in your spiritual journey, making every step more meaningful.

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ।  প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আসুন আমরা তার দেখানো পথ অনুসরণ করে আ...
06/09/2025

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী । প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আসুন আমরা তার দেখানো পথ অনুসরণ করে আমাদের জীবনে ইসলামি মূল্যবোধকে বাস্তবায়ন করি। ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও শান্তির বার্তা নিয়ে এগিয়ে চলি।

আল্লাহ্ আপনাকে আগলে রাখবেন বলেই আপনার পাশে কাউকে থাকতে দেন না।
31/08/2025

আল্লাহ্ আপনাকে আগলে রাখবেন বলেই আপনার পাশে কাউকে থাকতে দেন না।

আমার উস্তাদাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, "উস্তাদা! কীভাবে নামাজের মধ্যে আল্লাহকে মনে রাখবো? শয়তান যে বার বার আমাকে ভুলিয়...
30/08/2025

আমার উস্তাদাকে একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, "উস্তাদা! কীভাবে নামাজের মধ্যে আল্লাহকে মনে রাখবো? শয়তান যে বার বার আমাকে ভুলিয়ে দেয়!"
.
তখন উস্তাদা খুব দামী একটা কথা বললেন যে, "নামাজের ভিতর আল্লাহকে মনে রাখতে হলে নামাজের বাইরে আল্লাহকে মনে রাখতে হবে!"
সুবহানাল্লাহ!
নামাজের বাইরে আল্লাহকে অত্যাধিক স্মরণ না করলে, নামাজের ভিতরেও তা আসবে না—এই সহজ সূত্রটা আমরা বুঝি না। আজকে আমরা এমন কিছু অনুশীলনের কথা জানব যেগুলো প্রকৃতপক্ষে আমাদের নামাজকে আরও মধুর করবে ইনশাআল্লহ।।।
নামাজ শুরু সময় হবার দশ-পনেরো মিনিট আগে থেকেই নিজ নিজ কাজ থেকে উঠে নামাজের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করা। কারণ, দেখা যায়, তুমুল চিন্তার ঝড় নিয়ে দুনিয়াবী একটা কাজ করছি। আযান শুনে কোনমতে সেই কাজ থেকে উঠে ফট করে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলাম।
অথচ তখনো মাথায় ঐ দুনিয়াবী কাজের কথাই ঘুরছে! নামাজ শুরুর ১০ মিনিট আগে সোশাল মিডিয়া থেকে লগ-আউট করুন, লিখার কলমটা নামিয়ে ফেলুন, বই বন্ধ করে ফেলুন, মাজলিশ থেকে উঠে পড়ুন। চলে যান ওযু করে আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিতে।
নামাজের মধ্যে আল্লাহর সাথে কানেক্টেড হবার জন্যে নামাজের বাইরের অন্য সব কিছুর সাথে ডিসকানেক্টেড হওয়া জরুরি।
নামাজের জন্যে প্রস্তুত হবার সময় আমাদের উচিত সুন্দর একটা কাপড় পরা। আমরা বাসার মশলা-ময়লা মাখানো কাপড়টা পরেই নামাজে দাঁড়িয়ে যাই। নামাজে মনোযোগ না থাকার এটাও একটা কারণ। যে কোন অফিসের মিটিং এ আমরা কত সুন্দর পরিপাটি হয়ে যাই। অথচ এটা হচ্ছে আমাদের আল্লাহর সাথে মিটিং - দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং! পরিপাটি হয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়াটাও অন্তরের উপর একটা রুহানী প্রভাব ফেলে।
আমার উস্তাদা কিছু সুন্দর সুন্দর নতুন লং ড্রেস আলাদা করে রাখতেন শুধুমাত্র নামাজের সময় পরার জন্যে। এই জামাগুলো ছিল সবচেয়ে ভালো কোয়ালিটির, দামী এবং দেখতেও বেশ! এগুলো তিনি অন্য কোথাও পরতেন না। কেবল আল্লাহর সাথে মিটিং এর সময় পরতেন! এতে মানসিকভাবে তিনি প্রস্তুত হতেন যে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারো সামনে দাঁড়ানোর জন্যে রেডি হচ্ছেন! এতে নামাজের মনোযোগ বেড়ে যেত।
ওযু এবং নতুন সুন্দর নামাজের কাপড় পরিধান পর্ব শেষ। এবার জায়নামাজে বসে একটু যিক্‌র করা যায়। সিম্পলী বলুন, "আল্লাহ! আমি আপনার সামনে দাঁড়াতে যাচ্ছি! আমাকে নামাজের মিষ্টি স্বাদ অনুভব করার তাওফিক দিন"।
যেই সূরাগুলি নামাজে পড়া হবে এই সময়ে সেগুলো ঠিক করে নেওয়া যায়। ফোনের কুরআন App খুলে চট করে ছোট সূরাগুলোর অর্থ পড়ে নেওয়া যায়। ফোনে অর্থ পড়তে গিয়ে অন্য এপে গিয়ে অমনোযোগী হবার সম্ভাবনা থাকলে বাসার কুরআনের হার্ডকপি থেকে সূরা গুলোর অর্থ দেখে নেওয়া যায়। তাহলে সূরা পাঠের সময় নামাজে মনোযোগ থাকবে এবং কোন সূরার পর কোনটা পড়বো এটা নিয়ে নামাজের মাঝে চিন্তা করতে হবেনা।
আমরা সাধারণত যেসব সূরাহ, তাসবীহ, দুয়া ইত্যাদি নামাজের মধ্যে পড়ে থাকি, সেগুলোর অর্থ জেনে নেওয়া। সেজন্যে 'নামাজে মন ফেরানো' এই সিরিজটা পুরোটাই আপনারা নিয়মিত রিভিউ করবেন।
এই সিরিজটি এমন একটি লিখা যেটার কাছে আমাদের বারবার ফিরে আসতে হবে। একবার শেয়ার করে টাইমলাইনে রেখে দিয়ে আবার ভুলে গেলে কিন্তু কাজ হবে না। যতবার আপনার মনে হবে শায়তান নামাজ থেকে মনকে সরিয়ে দিচ্ছে, ততবার এই সিরিজের লিখাগুলোর কাছে ফিরে আসুন।
এই সিরিজের পর্বগুলো বার বার পড়ুন, পড়তে পড়তে মুখস্থ করে ফেলুন, আপনার প্রিয় জনদেরকেও শিখিয়ে দিন। তারাও যেন নামাজে মধুর স্বাদ পায়। অথবা আপনাদের কাছে এর থেকে ভালো রিসোর্স থাকলে সেখান থেকে পড়ুন।
জায়নামাজে দাঁড়িয়ে হাত বাঁধার আগে চিন্তা করাঃ "এটাই যদি আমার জীবনের শেষ নামাজ হয়, তাহলে আমি নামাজটা কীভাবে পড়তাম?" দেখবেন নামাজের কোয়ালিটি বেড়ে যাচ্ছে।
নামাজের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় হাত-পা নাড়ানো উচিত না। যত কম অহেতুক নাড়াচাড়া করবেন, তত বেশি নামাজে মনোযোগ বাড়বে। মাঝে মাঝে বোনেদেরকে দেখি, নামাজের মধ্যে বার বার মাথার ঘোমটা বা হিজাব ঠিক করছেন।
আমাদের বোনেদের উচিত হিজাবটা সুন্দর করে টাইট করে বেঁধে তবেই নামাজে দাঁড়ানো। যেন নামাজের মধ্যে বার বার হিজাব ঠিক করতে না হয়। এমন কাপড়ের হিজাব আমরা পরবো না যেটা পিচ্ছিল বা সিল্ক জাতীয় এবং এর ফলে বার বার মাথা থেকে পড়ে যেতে চাইবে এবং নামাজের মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটাবে।
নামাজের মধ্যে চোখের দৃষ্টি সিজদার জায়গার দিকে স্থির রাখা উচিত। আড়চোখ করে এদিকে সেদিকে তাকানো থেকে বিরত থাকা নামাজের কোয়ালিটিকে বাড়িয়ে দিবে।
নামাজের শেষ করে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে একটু যিকির করা। নামাজ শেষে পড়ার জন্যে দুয়া-যিকির নিয়ে আমরা পর্ব ১০ এবং ১১ তে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
নামাজ শেষে নিজেকে জিজ্ঞেস করা, যেই নামাজটা মাত্র পড়লাম এটা কি আল্লাহর দরবারে পেশ করার মতন? এই নামাজ কি কবরে আমার জন্যে আলো হয়ে আসবে? নাকি যারা নামাজের হক আদায় করতে পারেনি তাদের নামাজের মতন আমার নামাজকেও পোঁটলায় ভোরে আমার মুখে ছুঁড়ে ফেলা হবে? আমি পরের বার আমার নামাজকে আরো সুন্দর করতে কী করতে পারি?
★ সর্ব প্রথম বান্দার সালাতের হিসাব নেয়া হবে। তাতে হয় সে মুক্তি পাবে অথবা ধ্বংস হবে। রসূল (ﷺ) বলেন: কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব হবে। যদি সালাত ঠিক হয় তবে তার সকল আমল সঠিক বিবেচিত হবে। আর যদি সালাত বিনষ্ট হয় তবে তার সকল আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে। [তিরমিযি:২৭৮]
★ রসূল (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করা হল, আল্লাহর নিকট কোন আমল সবচেয়ে বেশি প্রিয় ? তিনি বলেন-সময় মত সালাত আদায় করা, আবার জিজ্ঞাসা করা হল তার পর কোনটি? উত্তরে তিনি বলেন-মাতা পিতার সাথে সদাচরন করা। আবার জিজ্ঞাসা করা হল তার পর কোনটি? উত্তরে বললেন আল্লাহর পথে জিহাদ করা।” [বুখারী:৪৯৬]
★ "তুমি বেশি করে আল্লাহর জন্য সিজদা-সালাত আদায় করতে থাক, কারণ তোমার প্রতিটি সিজদার কারণে আল্লাহ তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং তোমার গুনাহ মাপ করবেন।” [মুসলিম:৭৩৫]
★“এবং তোমরা ধৈর্য ও সালাত

পর্ব - ১৩ (শেষ)
নামাজে মন ফেরানো
শারিন সফি অদ্রিতা

* সবাই মিলে একটা ছোট একসারসাইজ করি চলেন। নিচে ৩ টা দুয়া দিচ্ছি। আমরা দুয়াগুলো পড়ার সময় প্রতিটা শব্দ অন্তর দিয়ে অনুভব কর...
29/08/2025

* সবাই মিলে একটা ছোট একসারসাইজ করি চলেন। নিচে ৩ টা দুয়া দিচ্ছি। আমরা দুয়াগুলো পড়ার সময় প্রতিটা শব্দ অন্তর দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করবো। আমরা খেয়াল রাখবো যে, আল্লাহর কাছে দুইহাত তুলবার সময় আমাদের অন্তরগুলো কি নরম হচ্ছে? চোখ দুটোতে কি আর্দ্র হচ্ছে?
চলুন শুরু করি বিসমিল্লাহ ...
* দুয়া-১:
"হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে হিদায়াত করেছেন তাদের মধ্যে আমাকেও হিদায়াত দিন, আপনি যাদেরকে নিরাপত্তা প্রদান করেছেন তাদের মধ্যে আমাকেও নিরাপত্তা দিন। আপনি যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে আমার অভিভাবকত্বও গ্রহণ করুন, আপনি আমাকে যা দিয়েছেন তাতে বরকত দিন। আপনি যা ফয়সালা করেছেন তার অকল্যাণ থেকে আমাকে রক্ষা করুন। কারণ আপনিই চুড়ান্ত ফয়সালা দেন, আপনার বিপরীতে ফয়সালা দেওয়া হয় না। আপনি যার সাথে বন্ধুত্ব করেছেন সে অবশ্যই অপমানিত হয় না [এবং আপনি যার সাথে শত্রুতা করেছেন সে সম্মানিত হয় না] আপনি বরকতপূর্ণ হে আমাদের রব্ব! আর আপনি সুউচ্চ-সুমহান। "
* দুয়া-২:
"হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার অসন্তুষ্টি থেকে আশ্রয় চাই, আর আপনার নিরাপত্তার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই। আর আমি আপনার নিকটে আপনার (পাকড়াও) থেকে আশ্রয় চাই। আমি আপনার প্রশংসা গুনতে সক্ষম নই; আপনি সেরূপই, যেরূপ প্রশংসা আপনি নিজের জন্য করেছেন।"
* দুয়া-৩:
"হে আল্লাহ! আমরা আপনারই ইবাদত করি; আপনার জন্যই সালাত আদায় করি ও সিজদা করি; আমরা আপনার দিকেই দৌড়াই এবং দ্রুত অগ্রসর হই; আমরা আপনার করুণা লাভের আকাঙ্ক্ষা করি এবং আপনার শাস্তিকে ভয় করি। নিশ্চয় আপনার শাস্তি কাফেরদেরকে পাবে। হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমরা আপনার কাছে সাহায্য চাই, আপনার কাছে ক্ষমা চাই, আপনার উত্তম প্রশংসা করি, আপনার সাথে কুফরি করি না, আপনার উপর ঈমান আনি, আপনার প্রতি অনুগত হই, আর যে আপনার সাথে কুফরি করে আমরা তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করি।"
কেমন অদ্ভুত প্রশান্তি লাগে না দুয়াগুলো পড়ে? অথচ অর্থ না জানলে অজানা ভাষায় দুয়া পাঠ করলে সেটা নিছক শব্দ-মাত্র হয়ে ঠোঁটের উপর রয়ে যায়। অন্তরে প্রবেশ করতে পারেনা।
এই তিনটি দুয়া বিতর নামাজের "দুয়া কুনুত" হিসেবে "হিসনুল মুসলিম" দুয়ার বইটাতে এসেছে। দুয়াগুলোর আরবি টেক্সট এবং রেফারেন্স পাবেন এই পোস্টের কমেন্ট সেকশানে ইনশাআল্লহ।
--------
● আর যেই দুয়া কুনুতটা আমরা বেশিরভাগ সময় নামাজে পড়ে অভ্যস্ত, সেটার অর্থটাও বেশ সুন্দর। সেটা হলো,
"আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তায়ীনুকা, ওয়া নাস্তাগ্ফিরুকা, ওয়া নু'মিন বিকা, ওয়া নাতাওয়াক্কালু 'আলাইকা, ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইর, ওয়া নাশ কুরুকা, ওয়ালা নাকফুরুকা, ওয়া নাখলাউ, ওয়া নাতরুকু মাঁই ইয়াফজুরুকা আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া লাকানুসল্লী, ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাস'আ, ওয়া নাহফিদু, ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিল কুফ্ফারি মুলহিক।"
অর্থঃ হে আল্লাহ আমরা তোমারই সাহায্য চাই, তোমারই নিকট ক্ষমা চাই, তোমারই প্রতি ঈমান রাখি, তোমারই ওপর ভরসা করি এবং সকল, মঙ্গল তোমারই দিকে ন্যস্ত করি। আমরা তোমার কৃতজ্ঞ হয়ে চলি অকৃতজ্ঞ হই না. যারা তোমাকে অমান্য করে তাদের সাথে আমরা সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করি ও তাদের ত্যাগ করি। হে আল্লাহ আমরা তোমারই দাসত্ব করি তোমারই জন্য নামায পড়ি এবং তোমাকেই সিজদাহ করি, আমরা তোমারই দিকে দৌঁড়াই ও এগিয়ে চলি। আমরা তোমারই রহমত, আশা করি এবং তোমার আযাবকে ভয় করি আর তোমার আযাবতো কাফেরদের জন্যই র্নিধারিত। (সহীহ আল বায়হাকি, ২/২১০)
আমরা এই দোয়া নামাজে পড়ার সময় যদি অর্থের প্রতি খেয়াল রাখি ইন শা আল্লাহ আমাদের নামাজে মনোযোগ বাড়বে।
আল্লাহ আমাদের দুয়া এবং ইবাদতগুলোকে অন্তর থেকে নিঃসরিত হয়ে আবার অন্তরেই ফিরে আসার তাওফিক দিক।
আমিন।

পর্ব- ১২
নামাজে মন ফেরানো
লেখাঃ শারিন সফি অদ্রিতা আপু

১.আমাদের প্রিয় রসূল(সা:) নামাজে তাশাহুদের পরে পাঠ করার জন্যে দুয়াটি আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন।আবু হুরায়রাহ রাদি...
28/08/2025

১.
আমাদের প্রিয় রসূল(সা:) নামাজে তাশাহুদের পরে পাঠ করার জন্যে দুয়াটি আমাদেরকে শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন।
আবু হুরায়রাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: “তোমাদের কেউ যখন তাশাহহুদ পাঠ করবে তখন সে চারটি জিনিস থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে - জাহান্নামের শাস্তি, কবরের শাস্তি, জীবন-মৃত্যুর পরীক্ষাগুলি এবং দাজ্জালের কুফলসমূহ, তারপরে সে যা চায় তার জন্য তার জন্য প্রার্থনা করুক। "
(আল-নাসা’ই বর্ণনা করেছেন, 1293)
দুয়াটি হলো: "আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযা-বিল ক্বাবরি ওয়া মিন ‘আযা-বি জাহান্নামা, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহ্ইয়া ওয়াল মামা-তি, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল।"
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি কবরের আযাব থেকে, জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্টতা থেকে।
করোনাভাইরাসে ভীত হয়ে মানুষের যে পরিমাণ মানবিকতা লোপ এবং বিশৃঙ্খলার নজির দেখছি, দাজ্জালের ফিতনার সময়ে যে কী বিশৃঙ্খলা হবে, আল্লাহ রব্বুল আলামীনই সবচেয়ে ভালো জানেন। আমাদের বেশি বেশি এই দুয়াটি পাঠ করে আল্লাহর কাছে ভয়ংকর পরিণাম থেকে পানাহ চাওয়া উচিত।
★★
২.
ভাবুন তো আল্লাহর খুব স্পেশাল কোন বান্দা যদি আপনার হাত তার হাতের মাঝে রেখে আপনাকে একটা দুয়া শিখিয়ে যায় সেই দুয়াটার একটা অন্যরকম গুরুত্ব থাকবে কিনা?
ঠিক তেমনটাই হয়েছিল রসুল(সাঃ) এবং মুয়ায ইবনে জাবাল (রাঃ) এর মাঝে!
মুআয (রাঃ) বলেন, রসুলুল্লাহ (ﷺ) আমার হাত ধরে আমাকে বললেন, হে মুআয! নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ভালবাসি, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমিও আপনাকে ভালবাসি।
তিনি বললেন, মুআয তুমি প্রত্যেক নামাজের শেষে এই দুয়াটি পড়া থেকে কখনো বিরত থেকো না- ‘আল্লাহুম্মা আ-ইন্নি আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদাতিক।’
(মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, মিশকাত)
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমাকে সাহায্য করুন যেন আমি সবচেয়ে সুন্দরভাবে আপনাকে মনে রাখতে পারি, আপনার শুকরিয়া আদায় করতে পারি এবং আপনার ইবাদাত করতে পারি।"
★★
৩. শেষের দুয়াটা আমার খুব প্রিয়। আমার মনে হয়, এই পৃথিবীতে একটা মানুষ যা যা চাইতে পারে, তার সবকিছু এক কথায় সারামর্ম করা হয়েছে এই দুয়াটাতে!
উম্মে সালামা রা. বলেন, আল্লাহর রসুল (ﷺ) সকালের ফজরের নামাজের সালাম ফেরানোর পরে নিয়মিত এ দুয়াটি পড়তেন,
"আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিয়ান, ওয়া রিজকান তাইয়্যিবান, ওয়া আমলান মুতাক্কব্বালান।"
অর্থঃ"হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এমন জ্ঞান চাই যেটা কল্যাণকর, এমন রিজিক চাই যা পবিত্র ও হালাল। এবং এমন আমল করার তাওফিক চাই যা তোমার দরবারে কবুল হবে।" [ইবনে মাজাহ-৯২৫ নাসায়ি সুনানে কুবরা-৯৯৩০]
সুবহানাল্লাহ!
জীবনের ১৫ থেকে ২০ বছর চলে যায় ডিগ্রি অর্জন করে ভালো একটা চাকরির পিছনে ছুটতে ছুটতে! এতো সাধনার সেই জ্ঞান যদি শেষ দিবসে আমাদের উপকারী না হয় এবং সেই জ্ঞানলব্ধ রিজিক যদি পবিত্র ও হালাল না হয় - তাহলে ভয়ঙ্কর লোকসান!! এবং এই দুই অর্জনের মধ্যবর্তী সময়ে যা যা আমল করছি সেটাও যদি রিয়াহ, হিংসা গীবত দিয়ে ধ্বংস করে ফেলি-- আর আল্লাহর দরবারে দেউলিয়া ফকির হয়ে উপস্থিত হই, তাহলে দুনিয়া-আখিরাত দুইটাই বরবাদ! সেজন্যেই এই দুয়াটা আমার কাছে বেস্ট!
প্রতিটা দুয়ার সহীহ উচ্চারণ বুঝে নিবার জন্যে আরবীটা দেখে নিবার অনুরোধ রইলো সবাইকে।
আল্লাহ আমাদের নামাজ, দুয়া এবং ইবাদতগুলোর মাধ্যমে আমাদের জন্যে কল্যাণের দরজা খুলে দিক. আমাদের দুনিয়া এবং আখিরাত কবুল করে নিক!
আমিন!

পর্ব- ১১
নামাজে মন ফেরানো
লেখাঃ শারিন সফি অদ্রিতা

নামাজটা শেষ হলেই মনে হয় এই মুহূর্তে জায়নামাজ গুটিয়ে দৌড় দিতে হবে! ইশ দুনিয়ার কত কাজ পড়ে আছে! অথচ দুনিয়ার কোন কাজট...
27/08/2025

নামাজটা শেষ হলেই মনে হয় এই মুহূর্তে জায়নামাজ গুটিয়ে দৌড় দিতে হবে! ইশ দুনিয়ার কত কাজ পড়ে আছে! অথচ দুনিয়ার কোন কাজটা আল্লাহর থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে জায়নামাজে কিছুক্ষণ আল্লাহর সাথে একান্ত সময় কাটানোর মাঝপথে আমরা সেই কাজকে দাঁড় করিয়ে দেই?
জায়নামাজে বসে অল্প কিছু মিনিটের যিকির বাকি পুরোটা সময় অন্তরকে ঠাণ্ডা রাখে! এই প্রসেসে খুব মোলায়েমভাবে ভাবে আল্লাহর সাথে কথোপকথন শেষ করে অন্তর দুনিয়াবী কাজে ফিরে যায়। ঠাস-ঠুস করে নামাজটা শেষ করেই দুনিয়ার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়লে পরবর্তীতে ঈমানে, অন্তরে আর শরীরে নামাজের মিষ্টতার আমেজ বজায় থাকে না।
নামাজ শেষ করে জায়নামাজে বসেই খুব অল্প সময়ে এমন কিছু আমল করে ফেলা যায়। আমি এখানে আমার প্রিয় কিছু আমলের কথা উল্লেখ করছি ইন শা আল্লাহ।
৩ বার আস্তাগফিরুল্লহঃ
“রসূল (ﷺ) যখন নামাজ শেষে সালাম ফেরাতেন তখন তিনি তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলতেন।
এখানে প্রশ্ন হলো, আমরা এইমাত্র নামাজ পড়লাম! নেকীর একটা কাজ করলাম। তাহলে ভালো একটা কাজের শেষে কেন "আস্তাগফিরুল্লাহ" বলছি?
এটার প্রজ্ঞা এবং শিক্ষা হচ্ছে, ঈমানদাররা কখনোই কোন ভালো কাজ করে "অনেক কিছু করে ফেললাম" এরকম মনোভাব রাখেন না। আমরা ভালো কিছু করেই সেটা নিয়ে অহংকারী হয়ে যেতে পারিনা।
বরং যেই কাজটা করেছি সেটার মধ্যেও যে নিজেদের অজস্র ভুল ত্রুটি রয়েছে—এটা স্বীকার করে নিয়ে সাথে সাথে আল্লাহর কাছে নিজেদের অপারগতার জন্যে ক্ষমা চাই।
রসূল(ﷺ) এর মতন শ্রেষ্ঠ মানুষ যেখানে নামাজ শেষ হতে না হতেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন, সেখানে নামাজ শেষে সেই ক্ষমার আমাদের আরও বেশি প্রয়োজন, কি বলেন?
অনেকের ব্যস্ততা এবং বাস্তবতার জন্যে অনেকের পক্ষে জায়নামাজে বেশিক্ষন বসে থেকে যিকির করা সম্ভব হয়ে ওঠে না, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের মায়েদের জন্যে। তবে তিন সেকেন্ডে তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ বলে এই সুন্নাহ পালন করাটা কম-বেশি সবার জন্যে প্রাকটিক্যাল ইনশাআল্লাহ।
শান্তির দুয়াঃ
নামাজ শেষে তিন বার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলে রসূল(ﷺ) বলতেনঃ “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়া যাল-জালা-লী ওয়াল ইকরাম”। (অবশ্যই আরবিটা দেখে নিবেন সঠিক উচ্চারণের জন্য)
অর্থঃ "হে আল্লাহ্‌! আপনিই শান্তি, আপনার কাছ থেকেই শান্তি আসে। আপনি বরকতময়, পরাক্রমশালী এবং মর্যাদা প্রদানকারী।"
(মুসলিম১/২১৮, আবু দাউদ ১/২২১, তিরমিযী ১/৬৬।)
আয়াতুল কুরসীঃ
কেমন দারুণ হবে বলুন তো যদি আপনার এবং জান্নাতের মাঝে একমাত্র 'মৃত্যু' ছাড়া আর কোন পর্দাই না থাকে? সুবহানআল্লাহ! এই অসম্ভব সাফল্য অর্জন সম্ভব প্রতি ফরয নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পাঠের মাধ্যমে।
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে তাকে জান্নাতে যাওয়া থেকে মৃত্যু ব্যতীত কোন কিছুই বাঁধা দিতে পারবে না।” (মুসলিম, নাসাঈ )।
আয়াতুল কুরসীর অর্থঃ
"আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।"
(সূরা বাকারাহ - আয়াত ২৫৫)

পর্ব - ১০
নামাজে মন ফেরানো
লেখাঃ শারিন সফি অদ্রিতা

🔹আমরা নামাজে তাশাহুদের পরে একটা দুয়া পাঠ করি যেটা আমাদের দেশে "দুয়া মাসূরা" নামে পরিচিত। এই দুয়া নিয়ে একটা ইন্টারেস্টিং ...
26/08/2025

🔹আমরা নামাজে তাশাহুদের পরে একটা দুয়া পাঠ করি যেটা আমাদের দেশে "দুয়া মাসূরা" নামে পরিচিত। এই দুয়া নিয়ে একটা ইন্টারেস্টিং ঘটনা আছে।
শাইখ হাসিব নূরের ক্লাস করছিলাম এবং সেদিন ক্লাসে তিনি আমাদেরকে এই দুয়াটাই পড়াচ্ছিলেন। শেষের দুই লাইন ব্যখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্টুডেন্টদের দিকে অদ্ভুত একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন। তিনি বললেন, "আমার স্টুডেন্টরা যারা উপস্থিত আছো - আল্লাহ মাফ করুক, ধরো তোমাদের স্বামীরা যদি পরকীয়া করে তোমাদের কাছে হাতে নাতে ধরা পরে। এরপর খুব করে মাফ চায়। কথা দেয় যে আর ঐ পথে যাবেনা। কে কে আছো যারা তাকে ক্ষমা করে দিতে পারবে?"
প্রায় ১০০ স্টুডেন্ট এর ক্লাসে ৩০ টার মতো হাত উঠলো। শেইখ বললেন, "বাহ! তোমাদের মন তো অনেক বড়!
আচ্ছা ঠিক আছে, ধরলাম সংসারের সুখের খাতিরে তাকে মাফ করে দিয়েছ। সংসার চলছে ভালোই। কয়মাস পরে আবার টের পেলে যে সে তার পরকীয়ার প্রেমিকাকে ভুলতে পারেনি। এখনো তোমার অজান্তে চুটিয়ে প্রেম চলছে। আবারও সে ধরা খেয়ে তোমার কাছে অনেক মাফ চাইলো। আর ঐ কাজ করবে না বলে ওয়াদা দিল। তোমাদের মধ্যে কারা কারা এই পর্যায়ে এসে তার স্বামীকে ক্ষমা করে দিবে হাত তুলো।" মোটে ১০ টার মত কাঁপা কাঁপা হাত উঠতে দেখা গেল।
শাইখ বললেন, "তোমাদের ক্ষমা করার ক্ষমতা দেখে আমি আসলেই অবাক!" এবার শাইখ বললেন, "স্টুডেন্ট সকল! যদি দ্বিতীয় বারের মত হাজব্যান্ডকে মাফ করে দিবার পরও আবারও ধরা খেয়ে মুখ লাল করে ফিরে এসে সে তোমার কাছে ক্ষমা চায়। তখন তাকে কে কে মাফ করতে পারবে?" দেখলাম এক নিকাবী বোন খুব চাপা করে তার হাতটা ধীরে ধীরে তুললেন। চারপাশে তাকিয়ে আর কোন হাত দেখতে পেলাম না। পুরো ক্লাসে পিন-পতন নীরবতা।
শাইখ এবার কথা শুরু করলেন, "জেনে রেখো, আমাদের রব আল্লাহ হচ্ছেন গফুরুর রহীম! আমরা যেখানে প্রথমবার মাফ করতেই ১০ বার চিন্তা করি আর তৃতীয় বার মাফ করার কথা ভাবতেই পারিনা, সেখানে আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে মাফ করে যান।
৩ বার, ৩০০ বার, ৩ মিলিয়ন বার—যতবার ইচ্ছা আল্লাহর হক তুমি নষ্ট করে যাও না কেন— তিনি বার বার তোমাকে মাফ করবেন। পরকীয়ার থেকেও জঘন্য গুনাহ বার বার রিপিট করলেও তিনি মাফ করবেন যতক্ষণ ধরে তুমি খাঁটি তাওবাহ করে তার দিকে ফিরে আসতে থাকবে।
নিঃশ্বাস ফুরোলেই কেবল এই দরজা বন্ধ হবে। এমন একজন রবের কথা অমান্য করতে এবং সেই অবাধ্যতার উপর অটল থাকতে বুকে পাটা থাকা লাগে।"
সুবহানাল্লহ!
এই দুয়াটার শেষের অংশে "গফুরুর রহীম" এর এই ব্যখ্যা আমি কখনো ভুলতে পারিনি। আসুন এখন বিস্তারিত দুয়াটা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি ইনশাআল্লহ,
🔹আবু বকর(রাঃ) একবার রাসূল (সা:) কে অনুরোধ করলেন, "ইয়া আল্লাহর রসূল (সা:)! আমাকে এমন একটা দুয়া শিখিয়ে দেন, যেটা পড়ে আমি নামাজে আল্লাহকে ডাকতে পারবো।"
তখন রসূল (সাঃ) তাকে শিখিয়ে দিলেন, "আল্লাহুম্মা ইন্নি জলামতু নাফসি যুলমান কাছিরাও, ওয়ালা ইয়াগ ফিরূজ যুনুবা ইল্লা আন্তা ফাগফিরলি মাগফিরাতম মিন ইনদিকা ওয়ার হামনি ইন্নাকা আনতাল গফুরুর রহিম।" (সহীহ বুখারী)
অর্থঃ "হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের আত্মার উপর অত্যাধিক অত্যাচার করেছি এবং আপনি ছাড়া পাপ ক্ষমা করার কেউ নেই । সুতরাং তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমার প্রতি রহম কর । নিশ্চই তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়ালু।"
"যুলুম" বলতে আমরা সাধারণত বুঝি যে কোনো অত্যাচারী ক্ষমতাসীন ব্যক্তি তার থেকে দুর্বল কারো সাথে অবিচার করছে। এরকম অত্যাচার করাকে আমরা মোটেও ভালো চোখে দেখিনা। অথচ আমরা নিজেরাই নিজেদের উপর সবচেয়ে বড় অত্যাচারটা করি যখন আমরা আমাদের আত্মাকে আমরা আল্লাহ থেকে বঞ্চিত করি। যতবার আমরা পাপ করি, এর মাধ্যমে নিজেদের উপর অত্যাচার করি।
আল্লাহর আদেশ অমান্য করা আত্মার উপর সবচেয়ে বড় যুলুম! নামাজের এই পর্যায়ে এসে আমরা নিজেদেরকে নিজ আত্মার অত্যাচারী হিসেবে স্বীকার করে নিচ্ছি এবং জালিমে পরিণত হওয়া থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।
আমরা যখন জালিম হয়ে যাই, তখন আল্লাহ ছাড়া আমাদেরকে রক্ষা করার আর কেউ নেই! তাই আল্লাহর কাছেই "মাগফিরাহ" এবং "রহমাহ" চাই! আল্লাহর কাছেই ক্ষমা ও রহমত চাই. "ফাগফিরলী মাগফিরাহ" এবং "ওয়ারহামনি" এই দুইটার মানেই আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া। কিন্তু তাদের মধ্যে খুব সুন্দর একটা পার্থক্য আছে! এখানে "মাগফিরাহ" এর তাৎপর্য হলো, যত বড় গুনাহই বান্দা করুক না কেন, আল্লাহ মাফ করতে সক্ষম!
আর "ওয়ারহামনি" এর তাৎপর্য হলো, যতবারই বান্দা গুনাহ করুক না কেন, আল্লাহ মাফ করতে সক্ষম! সুবহানাল্লাহ! এই "গফুরুর রহীম" এর তাৎপর্য টা শাইখ নূর ভালোভাবেই আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দিলেন।
ইয়া গফুরুর রহীম! ইয়া আল-আফুও! আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন, আমাদের উপর থেকে সকল আযাবকে উঠিয়ে নিন, আমরা যে আপনারই ক্ষমা এবং রহমতের ভিখারী।
আমিন।

পর্ব- ০৯
নামাজে মন ফেরানো
শারিন সফি অদ্রিতা আপু

আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি রসূল (ﷺ) আমাদের জীবনে না থাকলে আমাদের কি হত? তিনি নিজের জীবন দিয়ে আমাদের জন্যে জলজ্যান্ত ...
25/08/2025

আমরা কি কখনো চিন্তা করে দেখেছি রসূল (ﷺ) আমাদের জীবনে না থাকলে আমাদের কি হত? তিনি নিজের জীবন দিয়ে আমাদের জন্যে জলজ্যান্ত উদাহরণ রেখে গিয়েছেন।
আপনি জীবনের যেই সমস্যাটার কথাই ভাবুন না কেন, সেই সমস্যা এবং দুঃখ-যন্ত্রণার মুখোমুখি হয়েছেন আমাদের রসূল (ﷺ) এবং তিনি সেগুলোর সমাধান করেছেন আল্লাহর সাহায্যে! আমাদের জন্যে সমাধানগুলো তিনি রেখে গেলেন!
তিনি আমাদেরকে শিখিয়েছেন আল্লাহকে ভালবাসতে, আল্লাহর বান্দাদেরকে ভালোবাসতে। মাঝে মাঝে মনে হয়, "ইয়া রব! জান্নাতে একটু ঠাই দিও, তোমার এই অসাধারণ নবী(ﷺ) কে চোখ জুড়িয়ে দেখে আসতে চাই।"
চলুন আজকে আমরা "নামাজে মন ফেরানো" সিরিজে রসূল (ﷺ) এর দরূদ পাঠের ব্যপারে আলোচনা করি ইনশাআল্লহ।
নবী (ﷺ) এর প্রতি দরূদ পড়ার নির্দেশ আল্লাহতা'য়ালা নিজেই দিয়েছেন। নবীর (ﷺ) প্রতি দরূদ পড়া আল্লাহর আদেশের বাস্তবায়ন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি সালাত-দরূদ পেশ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি সালাত পেশ করো এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।"
(সূরা আহযাবঃ আয়াত ৫৬)
‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর দশবার দরূদ পাঠ করবেন।’
সহিহ মুসলিম: ৩৮৪
‘প্রকৃত কৃপণ সেই ব্যক্তি, যার কাছে আমি উল্লিখিত হলাম (আমার নাম উচ্চারিত হল), অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করল না।’
সুনানে তিরমিজি: ৩৫৪৬
রসূল (ﷺ) এর নাম শোনার পর তার উপর দরূদ না পড়াটা মারাত্মক ব্যাপার! প্রায় সময়েই আমরা খুব নর্মালভাবে আমাদের আলাপে নবী মুহাম্মদ (ﷺ) এর নাম উল্লেখ করি, অথচ তাঁর নাম উচ্চারণের সাথে সাথে "সল্লাল্লাহু ওয়া আলাইহি ওয়া সল্লাম"(ﷺ) বলিনা।
অথবা আমরা দেখি যে অন্য কারো লিখায় বা কথায় রসূলের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে, কিন্তু আমরা সেটা পড়ার বা শোনার সাথে সাথে"সল্লাল্লাহু ওয়া আলাইহি ওয়া সল্লাম" বলছিনা। এইটুকু বলতে মাত্র কয়েক সেকেন্ডই লাগে, কিন্তু আমাদের খেয়াল থাকে না বলতে। এই বেখেয়ালীপনা করে আমরা অজান্তেই নিজের ক্ষতি ডেকে আনছি না তো?
আমরা কি জানি যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) নাম শুনে যে ব্যক্তি দরূদ পড়ে না তার জন্য হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম বদদুয়া করেছেন? আর স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সেই দুয়ায় আমীন বলেছেন।
,
কাব ইবনে উজরা (রা.) বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, "তোমরা মিম্বরের কাছে একত্রিত হও। আমরা উপস্থিত হলাম। যখন তিনি মিম্বরের প্রথম ধাপে চড়লেন তখন বললেন, "হে আল্লাহ কবুল করুন।" তারপর যখন দ্বিতীয় স্তরে চড়লেন তখনও বললেন, "হে আল্লাহ কবুল করুন।" তারপর তৃতীয় স্তরে চড়ে আবারও বললেন, "হে আল্লাহ কবুল করুন।"
খুতবা শেষে যখন মিম্বর থেকে অবতরণ করলেন, তখন আমরা বললাম, ''হে আল্লাহর রসূল! আজ আমরা আপনার থেকে এমন কিছু শুনলাম যা এর পূর্বে আর কখনও শুনিনি।'' তখন তিনি বললেন, ''আমার কাছে জিবরাইল (আ.) এসে বলল, যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও তাকে ক্ষমা করা হলো না- সে বঞ্চিত হোক। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ কবুল করুন।
যখন দ্বিতীয় স্তরে চড়লাম তখন তিনি বললেন, যার কাছে আপনার নাম উল্লেখ করা হলো কিন্তু সে আপনার ওপর দরূদ পড়ল না- সেও বঞ্চিত হোক। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ কবুল করুন।
যখন তৃতীয় স্তরে চড়লাম, তখন তিনি বললেন, যে পিতা-মাতাকে অথবা তাদের কোনো একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেয়েও তারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারল না সেও বঞ্চিত হোক। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ কবুল করুন।" বায়হাকি: ১৪৬৮
🔹আমাদের নামাজে পঠিত দরূদের বাংলা উচ্চারণ এবং অর্থঃ
"আল্লাহুম্মা সল্লি আলা মুহাম্মাদিও। ওয়ালা আলি মুহাম্মাদ। কামা সল্লাইতা আ'লা ইব্রহীমা ওয়ালা আলি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়ালা আলি মুহাম্মাদ। কামা বারক্তা আলা ইব্রাহীমা ওয়ালা আলি ইব্রহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।" (সহীহ উচ্চারণের জন্যে আরবীটা অবশ্যই দেখে শিখে নিবার অনুরোধ রইলো)
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও উনার বংশধরদের উপর রহমত এবং বারাকাহ বর্ষণ করুন, যেরূপভাবে আপনি ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও তার বংশধরদের উপর রহমত এবং বারাকাহ বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।”
এখন দেখুন তো, আমি যে এই পোস্টে কমপক্ষে ১০+ বার রসূল (ﷺ) এর নাম উল্লেখ করেছি, আমরা একটু চেক করে দেখি তো আমাদের যথাযথভাবে ভাবে দরূদ পাঠ হয়েছে কি না?
🔹"ইয়া রব! জান্নাতে একটু ঠাই দিও, তোমার এই অসাধারণ নবী(ﷺ) কে চোখ জুড়িয়ে দেখে আসতে চাই।"

পর্ব - ০৮
নামাজে মন ফেরানো
শারিন সফি অদ্রিতা আপু

★★"নামাজে মন ফেরানো" সিরিজে আজকে আমরা "তাশাহুদ" সম্পর্কে শিখবো ইন শা আল্লহ।🔹আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্ সালাওয়াতু, ওয়াত...
24/08/2025

★★"নামাজে মন ফেরানো" সিরিজে আজকে আমরা "তাশাহুদ" সম্পর্কে শিখবো ইন শা আল্লহ।

🔹আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্ সালাওয়াতু, ওয়াত্ তইয়িবাতুঃ
অর্থঃ “সকল অভিবাদন (Greeting) ও সম্মান আল্লাহর জন্য, সকল সালাত আল্লাহর জন্য এবং সকল ভাল কথা ও কর্মও আল্লাহর জন্য।"
আমরা একজন আরেকজনকে কথার শুরুতে অভিবাদন জানাই সালাম দেওয়ার মাধ্যমে। কিন্তু আল্লাহকে আমরা "আসসালামুয়ালাইকুম" বলতে পারি না। কারণ, আল্লাহ নিজেই "সালাম", সকল শান্তির মালিক। তাকে আমরা বলতে পারিনা, "আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক!"
সেজন্য তাশাহুদের প্রথম অংশ উৎসর্গ করা হয়েছে আল্লাহকে রাজকীয়ভাবে অভিবাদন করে। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, আপনি যখন কোনো রাজার প্রাসাদে প্রবেশ করবেন, অন্যান্য দশজনকে যেভাবে সম্বোধন করেন, সেভাবে কিন্তু রাজাকে ডাকবেন না."
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা হচ্ছেন রাজাদের রাজা! "‘আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ..." হচ্ছে সবচেয়ে উঁচু রাজার জন্যে সম্ভাষণ! সকল অভিবাদন, সম্মান, ভালো কথা ও কাজ কেবল মাত্র আল্লাহরই জন্যে!

•আসসালামু আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহুঃ
অর্থঃ''হে নবী! আপনার প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত বর্ষিত হোক।" এখানে আমরা প্রিয় রসূল(সা:) কে আমরা আমাদের সালাম ও দুয়া দিচ্ছি। আমাদের দুয়ার কিন্তু আল্লাহর রসূল(সা:) এর কোনো দরকার নেই। তিনি আমাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে এক উঁচু মাকামে পৌঁছে গেছেন। রসূল(সা:) এর উপর দরূদ পাঠ করলে লাভটা আমাদেরই হয়।
কারণ আমরা একবার রসূল(সা:) কে সালাম দিলে, আল্লাহ আমাদের জন্যে দশবার সালাম পাঠান!
সুবহানাল্লাহ!!!
স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম আসাটা গাঁয়ে কাঁটা দেবার মতন একটা ব্যাপার!
আমার মনে আছে, খাদিজা(রা:) এর জীবনী পড়ার সময় এক পর্যায়ে পড়লাম, ফেরেস্তা জিবরীল (আঃ) আল্লাহর রসূল(সা:)কে বললেন: "আমার ইচ্ছা আপনি আমার এবং মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হযরত খাদিজা (রাঃ)কে সালাম পৌঁছে দেবেন।"
আমার পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল, সুবহানাল্লাহ এও কি সম্ভব?
আল্লাহর কাছ থেকে স্বয়ং সালাম পাওয়া?
এ কোন পর্যায়ের আনন্দ আর সম্মান?
আমার মতন অধম বান্দার কাছে কি কখনো আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাম আসবে? নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে, তার বিনিময়ে আল্লাহ্ তার উপর দশবার দরুদ পাঠ করবেন। [সহীহ সুনান নাসাঈ হাদিস -১২৯৭]
সেলফ-রিফ্লেকশন: তাশাহুদের প্রথম লাইনের মাধ্যমে আমরা আল্লাহকে সাদরে সম্ভাষণ জানালাম এবং দ্বিতীয় লাইনের মাধ্যমে আল্লাহ যেন আমাদেরকে সেই সম্ভাষণের উত্তর দিলেন আমাদের দরূদ পাঠের মাধ্যমে।
• আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সলিহীনঃ
অর্থঃ "আমাদের উপরে এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপরে শান্তি বর্ষিত হোক।"
এবার আমরা দুয়া করছি নিজেদের জন্যে এবং পরের অংশে দুয়া করছি আল্লাহর বাকি সমস্ত নেক বান্দাদের জন্যে। আমরা শিখছি যেন দুয়া করার সময় শুধু নিজের জন্যে না চেয়ে সবার জন্যে করি।
"সলিহীন" হচ্ছেন আল্লাহর খুব কাছের বান্দারা। যারা আল্লাহর পাঠানো বিধান মেনে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাশাহুদের এই অংশটা খুব তাৎপর্যপূর্ণ। আমি যদি চেষ্টা করে কোনোভাবে আল্লাহর "সলিহীন" বান্দাদের মধ্যে একজন হতে পারি, তাহলে পৃথিবীর ১.৯ বিলিয়ন মুসলিমরা যে যখনই নামাজে তাশাহুদ পড়বে, সেটা আমার জন্যে দুয়া হিসেবে কাউন্ট হবে!!
সুবহানাল্লাহ!!
কল্পনা করা যায়- গোটা বিশ্বের মুসলিমরা দিনের মধ্যে পাঁচবার করে আমার জন্যে দুয়া করবে! এর মধ্যে না জানি আল্লাহর কত প্রিয় বান্দারা আছেন, আল্লাহর বন্ধু আছেন!
তাদের সবার দুয়া পাওয়া যাবে যদি আমি সলিহীন হতে পারি!
এটা আমাদের সবার জন্যে আল্লাহর প্রিয় বান্দা এবং সলিহীন হবার চেষ্টা করার পথে বিশাল এক অনুপ্রেরণা!

• আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্হাদু আননা মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসুলুহুঃ
অর্থঃ "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল।”
তাশাহুদের শেষে এসে আমরা আবারো আল্লাহর সামনে নিজেদের দাসত্ব স্বীকার করছি। যদি এমন হয়ে থাকে যে, আল্লাহর ছাড়া অন্য কাউকে খুশি করার জন্যে এতক্ষন নামাজ পড়েছি এবং জীবন গড়ছি স্রেফ নিজেকে নাহলে অন্যকে খুশি করতে--তাহলে এখানে এসে এটা আবার মনে করিয়ে দিলো যে, নিজের ইচ্ছা-লালসা, সোসাইটি, রেপুটেশন - সবকিছুর থেকে আল্লাহ বড়!

আমরা নিজেই সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ছাড়া আর কারো সামনে মাথা নত করবোনা, আবার নিজেই নামাজ শেষ করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে বাকি সবকিছুর সামনে মাথা নত করে ফেলি!
তাশাহুদের ২য় লাইনে আমরা রসূল(সা:) এর উঁচু মাকাম সম্পর্কে ধারণা পাই! কিন্তু এই অভাবনীয় চমৎকার মানুষটিও সবার আগে নিজেকে আল্লাহর দাস বলে স্বীকার করেন। এবং আমরাও তারই সাক্ষ্য দেই।
যেই মানুষটাকে আল্লাহ মনোনীত করেছেন শেষ নবী হতে, যে আল্লাহর সাথে সশরীরে দেখা করে এসেছেন সাত আসমানের উপর থেকে - তারও আল্লাহর সামনে কোনো ক্ষমতা নেই। সেখানে আমি আর আপনি কোথায় আছি বলুন?
সুবহানাল্লাহ!

পর্ব-০৭
নামাজে মন ফেরানো
শারিন সফি অদ্রিতা আপু

আচ্ছা, আমরা রুকু এবং সিজদায় যা যা বলি সেটা নিয়ে কখনো চিন্তা করেছেন কি? আমরা রুকুতে বলি "সুবহানা রব্বিয়াল আযীম"। অর্থঃ "আ...
23/08/2025

আচ্ছা, আমরা রুকু এবং সিজদায় যা যা বলি সেটা নিয়ে কখনো চিন্তা করেছেন কি?
আমরা রুকুতে বলি "সুবহানা রব্বিয়াল আযীম"।
অর্থঃ "আল্লাহ আপনি কতই না পবিত্র এবং আপনি সবচেয়ে শক্তিধর।"
আমরা সিজদায় বলি, "সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’. অর্থঃ ''আল্লাহ আপনি কতই না পবিত্র এবং আপনার মাকাম সবচেয়ে উঁচু"।

নামাজের মধ্যে শারীরিক দিক থেকে সবচেয়ে নড়বড়ে এবং দুর্বল অবস্থানটা হচ্ছে "রুকু"। রুকুতে থাকা অবস্থায় কেউ যদি নামাজরত বান্দাকে হালকা করেও একটা ধাক্কা দেয়, সে ধপাস্‌ করে মাটিতে পড়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। চমৎকার ব্যাপারটা হচ্ছে, আমরা যখন নামাজে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় থাকি, তখন বলি "আল্লাহ আপনি সবচেয়ে শক্তিশালী!" আবার, আমরা যখন নামাজের মধ্যে সবচেয়ে নিচু অবস্থানে থাকি, তখন আল্লাহকে বলি যে, "আল্লাহ আপনি সবচেয়ে উঁচু!"
সুবহানাল্লাহ! কেবলমাত্র এই কনসেপ্টটা আমাদের নামাজকে অন্য আরেক ডাইমেনশানে নিয়ে যায়! নামাজ পড়তে পড়তে যেখানেই মন চলে যাক না কেন, রুকু আর সিজদাহ দেওয়ার সময় মনে পড়ে যায় যে, "আল্লাহ সবচেয়ে শক্তিধর এবং আল্লাহই সর্বোচ্চ!"
তারপর রুকু থেকে উঠতে উঠতে আমরা বলি - "সামি আল্লাহু লিমান হামিদা" অর্থ: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা শোনেন, যে তাঁর প্রশংসা করে।"
তারপর পরই দাঁড়িয়ে সোজা হয়ে আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি এবং বলিঃ "রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ অর্থ, "হে আল্লাহ! যাবতীয় প্রশংসা কেবল তোমারই।" অনেকটা যেন আমাদের কথাগুলি যে আল্লাহ সুবহানাতা'আলা শুনবেন, সেটা নিশ্চিত করে রাখলাম।
বলুন তো ঠিক সিজদায় যাবার আগে কেন এটা নিশ্চিন্ত করে নিলাম যে, আল্লাহ আমার সব কথা শুনবেন?
কারণ, সিজদায় বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে কাছে চলে যায় এবং সিজদা হচ্ছে দুয়া করার মোক্ষম সময়।
রসূল (সা.) বলেছেন, ‘সিজদারত বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী। সুতরাং সে সময় তোমরা বেশি বেশি দুয়া করো।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৮২)।
তাই আল্লাহর সাথে বান্দার এই মহামিলনের ঠিক আগ মুহূর্তে "সামি আল্লাহু লিমান হামিদা" রিমাইন্ডার দিচ্ছে যে, আল্লাহর কাছে যা চাওয়ার সিজদায় গিয়ে উজাড় করে চেয়ে নাও। তিনি তোমার সব আকুতি-মিনতি শুনছেন। একটাও মাটিতে পড়বেনা। প্রতিটা দুয়া রব্বুল আলামিনের দরবারে মেহমান হয়ে পৌঁছাবে।

পর্ব-০৬
নামাজে মন ফেরানো
শারিন সফি অদ্রিতা

একবার রসূল(সাঃ) এর সাথে ফেরেস্তা জিবরাঈল (আ:) বসে ছিলেন। হঠাৎ জিবরাঈল (আঃ) উপর থেকে একটা শক্ত 'ক্রিকিং' (creaking) শব্দ ...
22/08/2025

একবার রসূল(সাঃ) এর সাথে ফেরেস্তা জিবরাঈল (আ:) বসে ছিলেন। হঠাৎ জিবরাঈল (আঃ) উপর থেকে একটা শক্ত 'ক্রিকিং' (creaking) শব্দ শুনতে পেলেন এবং মাথা তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে তিনি বললেন, "এটি হচ্ছে আকাশের এমন একটি দরজার শব্দ যা আগে কোনদিন খোলা হয়নি।"
সেই দরজা দিয়ে এমন একজন ফেরেশতা আসলেন যিনি আগে কখনো পৃথিবীতে আসেননি। সেই ফেরেস্তা রসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বললেন, ‘আপনি দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করে আনন্দিত হন। যা আপনাকে দেওয়া হয়েছে তা আপনার আগে কোন নবীকে দেওয়া হয়নি।
সেই দুইটি নূর হচ্ছেঃ সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষ দু’আয়াত।" (মুসলিম শরীফ : ৮০৬)
সুবহানাল্লাহ! সূরা ফাতিহা পড়ার সময় আমাদের কি একবারও মনে হয় যে এটি আল্লাহর তরফ থেকে আসা এমন এক নূর যা আমাদের উম্মতকে ছাড়া আর কোন উম্মতকে পূর্বে দেওয়া হয়নি?!
আসুন "নামাজে মন ফেরানো" সিরিজের আজকের পর্বে আমরা সূরা ফাতিহা নিয়ে বিস্তারিত জানার এবং বুঝার চেষ্টা করি ইন শা আল্লহ।
এটা মাথায় রেখে পরের অংশগুলো পড়ুন যে এই সূরা আপনার জন্যে পাঠানো আল্লাহর তরফ থেকে আসা বিশেষ আলো।
আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিনঃ
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর, যিনি সমস্ত সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা।" এই আয়াত নিয়ে বিস্তারিত গত পর্বের আলোচনায় পাবেন।
আর-রহমানির রাহিমঃ
বলুন তো আল্লাহ কেন তাঁর দয়ার কথা বলতে গিয়ে "রহমান" শব্দটা ব্যবহার করলেন? এর একটা চমৎকার কারণ আছে। আরবিতে "মায়ের গর্ভ" এবং "রহমান" - এই দুইটা শব্দ একই রুট ওয়ার্ড (root word) থেকে এসেছে। আরবিতে একই রুট ওয়ার্ড বা, মূলশব্দ থেকে যে শব্দগুলোর উৎপত্তি হয়, তাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত সম্পর্ক থাকে। তাহলে "মায়ের গর্ভ" এবং "আর-রহমান" এর মধ্যে সম্পর্ক কী?
একজন মা নয়মাস ধরে একটা বাচ্চাকে পেটে ধরে। শতকষ্টের মধ্যেও সবসময় খেয়াল রাখে, বাবু ঠিক আছে তো? নিজের খাওয়া-দাওয়া, চলা-ফেরা সবকিছু খুব সতর্কতার সাথে মেনে চলে। ছোট বাবুটা মায়ের পেটের ভিতরে বসে বসে মায়ের প্লাসেন্টা দিয়ে সবরকমের পুষ্টি শুষে নিতে থাকে। এই বাবুকে দুনিয়াতে আনতে গিয়ে একজন মায়ের প্রচন্ড প্রসববেদনার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। অনেকে এই প্রসেসে প্রাণ হারায়। যারা বেঁচে যায়, তাদের জন্যে শুরু হয় আরেক পরিশ্রমের যাত্রা!
রাতের পর রাত জেগে থাকা। দিনের পর দিন ডায়পার-ডিউটি। এক সেকেন্ডের জন্যে চোখের আড়াল হলে ছোট বাচ্চা খেলনা গিলে নিঃশ্বাস বন্ধ করে ফেলবে! যেই বাবুটা পেটের ভিতরে থেকেও কষ্ট দিলো, পেট থেকে বের হতে গিয়ে প্রায় মৃতপ্রায় করে দিলো, বের হয়েও সারাক্ষণ মাতিয়ে রাখছে, তার একটু কান্নার শব্দ শুনলে মায়ের কি অস্থির লাগে! বাচ্চার একটু অসুখ হলে মনে হয় জান বের হয়ে যাচ্ছে! এ এক আজিব শ্রেণীর প্রজাতি মায়েরা!
কল্পনা করতে পারেন আল্লাহ আমাদেরকে এই মায়ের থেকেও বেশি ভালোবাসেন!
"মায়ের গর্ভ" এবং "রহমান" এর মধ্যে সম্পর্কটা মাইন্ড ব্লোয়িং! বাচ্চা যখন মায়ের গর্ভে থাকে, সে কিন্তু তার মাকে দেখতে পারেনা।
মা যে কিভাবে তার জন্যে পা টিপে টিপে হাঁটছে, একটু পর পর বমি করছে, বাচ্চার জন্যে দুয়া করছে, বাচ্চা নেক হবার জন্যে দিনরাত কুরআন তিলাওয়াত করছে - অবুঝ বাচ্চা কিন্তু সেটা দেখতে পারে না! ঠিক যেমন আমরা অবুঝ বান্দারা আমাদের আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখতে পারি না।
আল্লাহ কীভাবে দিনের পর দিন আমাদের খেয়াল রেখে যাচ্ছেন, আমাদের যাবতীয় চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছেন - সে ব্যাপার নিয়ে আমাদের কোন ভ্রূক্ষেপ নেই! ছোট্ট বাচ্চাটা যেমন তার মায়ের গর্ভে পরম মমতায় মোড়ানো, ঠিক সেইভাবে আমরা চারপাশ থেকে আল্লাহর রহমত আর দয়া দিয়ে পরিবেষ্টিত!
ছোট বাচ্চা মাকে জ্বালিয়ে মাথা নষ্ট করে দেওয়ার পরেও যেমন বাচ্চাকে ছাড়া মায়ের চলে না। তেমনি আমরা মিনিটে মিনিটে আল্লাহর অবাধ্য হবার পরও আল্লাহ আমাদেরকে ছেড়ে দেন না! আমাদের রব যে "রহমানুর রহিম"।
মালিকিইয়াও মিদ্দীন:
আগের দুই আয়াতে আল্লাহর এমন মহানুভবতা এবং ভালোবাসার কথা শুনে বান্দা ভাবতে পারে - আমার রবের এতো দয়া! তাহলে আমি যতই গুণাহ করি না কেন, তিনি তো শেষমেশ আমাকে ক্ষমা করেই দিবেন।
এই ধরণের ভাবভঙ্গি থেকে মানুষ যেন আল্লাহর দয়াকে সহজলভ্য ভেবে পাপে না জড়িয়ে পড়ে, সেজন্যে ঠিক পরের আয়াতেই আল্লাহ বলছেন যে, তিনি হলেন "মালিকিইয়াও মিদ্দীন" অর্থাৎ তিনি কিয়ামত দিবসের মালিক! এমন এক দিনের মালিক আল্লাহ, যেদিন প্রতিটা কাজের পাই পাই হিসাব নেওয়া হবে!
আল্লাহ তার দয়াতে যেমন অতুলনীয়, তেমনি তার ন্যায়বিচারও অকাট্য! তিনি মায়ের থেকেও আমাদের বেশি ভালোবাসেন দেখে আমরা যা ইচ্ছা তাই করে পাড় পেয়ে যাবো - সেটা হবে না!
ইয়্যা কানা'বুদু ওয়া ইয়্যা কানাস তাঈ'ন -
অর্থঃ 'আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।''
প্রথম তিন আয়াতে আল্লাহর পরিচয় এভাবে পাওয়ার পর আমরা বান্দারা আল্লার কাছে নিজেদের পুরোপুরি সমর্পণ করে দেই এই আয়াতের মাধ্যমে! যে আল্লাহ আমার রব, রহমানুর রহিম, মালিকিইয়াও মিদ্দীন, আমি কীভাবে তাঁর ইবাদাত না করে থাকতে পারি?
এই আয়াতের প্রথম অংশে ইবাদাত করার এবং পরের অংশে সাহায্য চাওয়ার কথা বলা হয়েছে, কারণ আমরা আল্লাহর সাহায্য ছাড়া তাঁর ইবাদাতটুকুও করতে পারবো না। আরবিতে অনেক শব্দই আছে যেটার মানে সাহায্য। কিন্তু এই আয়াতে "সাহায্য" বুঝতে আল্লাহ বাছাই করেছেন আরবি শব্দ "ইস্তিয়ানা"।
"ইস্তিয়ানা"র বিশেষত্ব হচ্ছে, যেই ব্যক্তি সাহায্য চাচ্ছেন, সে নিজে ইতোমধ্যে নিজেকে সাহায্য করার জন্যে সবরকমের কাজ করে যাচ্ছে। সমস্ত শক্তি দিয়ে চেষ্টারত থাকা অবস্থায় যে সাহায্য চাওয়া হয়, তাকে বলে "ইস্তিয়ানা" বা "নাস্তাঈন"।
আল্লাহর সাহায্য এবং হিদায়াত সস্তা না! আমরা নিজেরা কোনোরকমের চেষ্টা না করেই যদি খালি আল্লাহর কাছে "দাও! দাও!" করি, তাহলে হবেনা।
আমাদের দুইহাত তোলার সাথে সাথে নিজেদের উটের দড়িটাও বাঁধতে হবে। আল্লাহর দিকে এক কদম এগিয়ে আসলে আল্লাহ তা'য়ালা বান্দার দিকে দশ কদম এগিয়ে আসবেন। কিন্তু অন্ততপক্ষে প্রথম স্টেপটা বান্দাকে নিতে হবে।
ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিমঃ আমাদেরকে সরল পথ দেখাও।
আমরা তো আগের আয়াতে বললাম যে "আল্লাহ আমরা শুধু তোমারই ইবাদাত করি"। কিন্তু, এই ইবাদাতটা কীভাবে করলে আল্লাহ সবচেয়ে খুশি হবেন সেটাও তো জানতে হবে। নিজের মন মত কাজ করে ফেললেই সেটা ইবাদত হয়ে গেলনা।
তাই এই আয়াতে আমরা আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দিক-নির্দেশনা চাচ্ছি। "সীরাতাল মুস্তাকিমের" পথ চাচ্ছি। "সীরাত" মানে যেই পথটা স্ট্রেইট, সহজ এবং পরিষ্কার! একটা রাস্তা যখন পুরোপুরি স্ট্রেইট বা সোজা হয়, তখন দূর থেকেও সেই রাস্তার শেষ মাথার গন্তব্য ক্লিয়ারলি দেখা যায়।
মুসলিমরাও তাদের গন্তব্য এবং জীবনে চলার পথের উদ্দেশ্য নিয়ে এমনই ক্লিয়ার ধারণা রাখে - তারা চায় আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং জান্নাত! মাছির পাখার চেয়েও তুচ্ছ দুনিয়ার পিছে তারা ছুটবেনা। ফলে দেখা যায় যে, দুনিয়াই তাদের পিছনে ছুটতে থাকে! সুবহানাল্লাহ!
সিরাতাল্লাযীনা আন আমতা আলাইহিম গইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ দল্লীনঃ
"সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।"
এর আগের আয়াতে আমরা আল্লাহর কাছে ইন্সট্রাকশন চেয়েছি, এই আয়াতে আমরা চাচ্ছি জলজ্যান্ত রোল মডেল এবং উদাহরণ! গণিত ক্লাসে অঙ্কের সমাধান পুরোটা বইয়ে করে দেওয়া থাকলেও একজন গণিতের টিচারের প্রয়োজন হয় যিনি স্টেপ বাই স্টেপ আমাদেরকে অঙ্ক করাটা প্রথম বার দেখিয়ে দেন।
ঠিক তেমনি আমাদের নবী-রসূলরা আমাদের টিচার। অনেক আত্মত্যাগ করে তারা স্টেপ বাই স্টেপ আমাদেরকে দ্বীন পালনের ব্যপারগুলো হাতে-নাতে দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন।
''সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ'' - এরাই সেই হচ্ছেন নবী-রসূল (সা:) দের দেখানো আদর্শ। তারা যেই উদাহরণ সেট করে গিয়েছেন আমাদের জন্যে - আমরা সেটা ফলো করতে পারলে দুনিয়া-আখিরাতে কল্যাণ পাবো ইন শা আল্লাহ!
শুধু ভালো উদাহরণই যথেষ্ট না। শাস্তি বা ফেইল মার্কের ভয়ও মোটিভেশান হিসেবে কাজ করে। সেজন্যে পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্টের সাথে সাথে নেগেটিভ রিইনফোর্সমেন্টরও উদাহরণ আছে আয়াতের পরের অংশে।
আমরা আল্লাহকে বলছি যে, আমরা তাদের পথ চাই না "যাদের উপর আল্লাহর গজব নাযিল হয়েছে" - এরা হচ্ছে সেসমস্ত লোক, যাদেরকে আল্লাহ সঠিক জ্ঞান দিয়েছেন, তারপরও তারা আল্লাহকে মানেনি। জেনে বুঝেও ইসলামকে পালন করেনি। তাদের জ্ঞান ছিল, কিন্তু কোনো সৎকর্ম ছিলোনা।
অপরদিকে "ওয়ালাদ্দোল্লীন" হলো যারা পথভ্রষ্ট - তারা সেসমস্ত লোক যাদের হয়তো ভালো ভালো কর্ম আছে, কিন্তু তারা সেটা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যে করেনা। নিজের জন্যে, দুনিয়ার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে করে - তাই তারা পথভ্রষ্ট! ঈমানহীন কর্ম এবং কর্মহীন ঈমান ২ টাই মূল্যহীন। এই দুইই আমাদের দুনিয়া-আখিরাত ধবংস করে দিতে যথেষ্ট! আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই!
আপনি কি জানেন ফাতিহার প্রতিটা আয়াতের বিপরীতে আল্লাহ আপনার কথার জবাব দিচ্ছেন?
গা শিউরে উঠছে না এটা ভেবে? এটা সত্যি যে আমাদের মত নাম-না-জানা নাফরমান বান্দার পাঠ করা প্রতিটা আয়াতের জবাব আল্লাহ দেন!
রসূল(সাঃ) বলেন,
“আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমার ও বান্দার মাঝে সালাতকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, যা সে আমার কাছে চায়।
যখন বান্দা বলে, ‘আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন’, তখন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, "আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে।"
বান্দা যখন বলে, ‘আর-রহমানির রহীম’, তখন আল্লাহ বলেন, "আমার বান্দা আমার গুণাগুণ বর্ণনা করেছে।"
আর যখন বান্দা বলে ‘মালিকি ইয়াওমিদ্দীন’, তখন আল্লাহ বলেন, "আমার বান্দা আমাকে সম্মানিত করেছে।"
যখন বান্দা বলে, ‘ইয়্যাকা না‘বুদু ওয়াইয়্যাকা নাস্তা‘য়ীন’; "আল্লাহ আমরা শুধু তোমারই ইবাদাত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য চাই"। তখন আল্লাহ বলেন, "এটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যেকার ব্যাপার, আমার বান্দার সেটাই পাবে, যা সে আমার নিকট চায়।"
আর যখন বান্দা বলে, ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকীম, সিরাতল্লাযীনা আন‘আমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগদূবে ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন’; "সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।"
তখন আল্লাহ বলেন, "এটি আমার বান্দার জন্য! আমার বান্দার জন্য রয়েছে তা, যা সে চায়”। (মুসলিম, সালাত অধ্যায়)
মহাপরাক্রমশীল রবের সামনে পিপীলিকার চেয়েও নগণ্য এবং গুনাহগার বান্দা আমরা! কিন্তু তিনি আমাদের প্রতিটা কথার জবাব দেন এবং দিয়েই যাচ্ছেন! সালাত এমনই শক্তিশালী এক ইবাদত!
সুবহানাল্লাহ!.
পর্ব-০৫
নামাজে মন ফেরানো
শারিন সফি অদ্রিতা আপু

Address

Uttara
Dhaka
1200

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ayat bd posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Ayat bd:

Share