17/03/2020
বিশ্বজুড়ে করোনার সংক্রমণ ও পঙ্গপালের হানা!
বিশ্ব আজ এক মহাবিপর্যয়ের মুখে৷
করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ১৫৫ টি দেশের প্রায় ১ লক্ষ ৮৩ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছে৷ মারা গেছে ৭ হাজার ১৫৪ জন ৷(বিবিসি-১৭ মার্চ,২০২০)
দিন দিন মৃত্যুর এ মিছিলের কলেবর বেড়েই চলছে৷
অন্যদিকে পঙ্গপালের আক্রমণে দিশেহারা প্রায় ৬০ টি দেশ৷প্রতিদিনই দেশ হতে দেশান্তরে হানা দিচ্ছে পঙ্গপাল৷ হর্ণ অব আফ্রিকা থেকে শুরু করে সৌদি আরবেও চলেছে এর বংশবিস্তার৷
ওমানের উপকূল থেকে শুরু করে ভারত,পাকিস্তান পর্যন্ত পৌঁছেছে এ পঙ্গপাল৷দৈনিক প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম এসব মরূপতঙ্গ৷পঙ্গপালের হানায় মুহূর্তেই বিলীন হতে পারে বিশাল আকারের ফসলি জমি৷এক কিলোমিটার বিস্তৃত একটি পাল একদিনে ৩৫,০০০ মানুষের খাদ্য সাবাড় করতে সক্ষম৷
পঙ্গপালের মাধ্যমে গজব হিসেবে আল্লাহ তা‘আলা ফেরআউনের সম্প্রদায়কে শাস্তি দিয়েছিলেন৷
বর্তমানের এসব বিপর্যয় মানুষের কৃতকর্মের ফল হিসেবে আল্লাহর পক্ষ থেকে গজব ছাড়া আর কিছুই নয়৷
আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
“স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের কারণে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে।”
[সূরা রুম: ৪১]
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন,
"যখন সমাজে বেহায়াপনা অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়বে, তখন তাদের মধ্যে এমন রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়বে যা ইতিপূর্বে দেখা যায়নি।"
[ইবনে মাজাহ-৪০১৯]
মানুষ আজ খেয়াল-খুশি মত চলছে৷বিশ্ব নেতারা সৃ্ষ্টিকর্তার আইন বাদ দিয়ে মানব রচিত আইনের শাসন চালাচ্ছে৷
আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
‘যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদানুযায়ী ফয়সালা করে না তারাই জালেম।’
[ সুরা মায়েদা:৪৫ ]
সমাজে জুলুম,অশ্লীলতা-বেহায়াপনাকে বাধা দিচ্ছে না৷
“সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ” থেকে যোজন-যোজন দূরে আমরা৷তাইতো এ বিপর্যয়,মহামারি৷
হযরত আবুবকর ছিদ্দীক (রাঃ) বলেন,
‘আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, যখন লোকেরা কোন অন্যায় কাজ হতে দেখে অথচ তা পরিবর্তন করে না, সত্বর তাদের সকলের উপর আল্লাহ তাঁর শাস্তি ব্যাপকভাবে নামিয়ে দেন’৷
[ইবনু মাজাহ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৫১৪২]
হুযায়ফা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন,
‘যার হাতে আমার জীবন নিহিত তার কসম করে বলছি, অবশ্যই তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে। নইলে সত্বর আল্লাহ তার পক্ষ হতে তোমাদের উপর শাস্তি প্রেরণ করবেন। অতঃপর তোমরা দো‘আ করবে। কিন্তু তা আর কবুল করা হবে না’।[তিরমিযী, মিশকাত হা/৫১৪০]
দায়িত্বশীল সরকার যদি দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ইসলামী দন্ডবিধি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে সে সমাজের অবস্থা কেমন হবে, সে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একটি দৃষ্টান্ত দিয়ে বলেন,
‘আল্লাহর দন্ড সমূহ বাস্তবায়নে অলসতাকারী এবং অপরাধী ব্যক্তির দৃষ্টান্ত ঐ লোকদের মত, যারা একটি জাহাজে আরোহণের জন্য লটারী করল। তাতে কেউ উপরে ও কেউ নীচতলায় বসল। নীচতলার যাত্রীরা উপরতলায় পানি নিতে আসে। তাতে তারা কষ্ট বোধ করে। তখন নীচতলার একজন কুড়াল দিয়ে পাটাতন কাটতে শুরু করল। উপরতলার লোকেরা এসে কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলল, উপরে পানি আনতে গেলে তোমরা কষ্ট বোধ কর। অথচ পানি আমাদের লাগবেই। এ সময় যদি উপরতলার লোকেরা তার হাত ধরে, তাহলে সে বাঁচল তারাও বাঁচল। আর যদি তাকে এভাবে ছেড়ে দেয়, তাহ’লে তারা তাকে ধ্বংস করল এবং নিজেরাও ধ্বংস হল’।[বুখারী, মিশকাত হা/৫১৩৮]
৪৭৮ হিজরিতে (ইংরেজি ১০৮৫ সালে) একটি রোগ এবং প্লেগ মহামারী আকার ধারণ করে ইরাক, সিরিয়া এবং হিজায অঞ্চল জুড়ে। এর ধরণটা ছিল প্রচণ্ড জ্বর হতো। মানুষজন, পশুপাখি, মোট কথা প্রাণীজগৎ সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। চারিদিকে মৃত্যুর মিছিল শুরু হয়। আমিষের অভাবে ভুগছিল লোকজন। এক প্রকার কালো বাতাস আর বজ্রপাত গাছপালা উপড়ে ফেলছিল। লোকেরা ভাবতে শুরু করল কিয়ামত বুঝি চলে এসেছে!
এই মহামারী প্রতিরোধ করতে তৎকালীন আব্বাসি খলিফা আল-মুকতাদী বি-আমরিল্লাহ (মৃত্যু ৪৮৭ হি.) নির্দেশ জারী করলেন, সবাই যেন আমর বিল-মা'রূফ ওয়া নাহী আনিল-মুনকার করে; অর্থাৎ সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজে বাঁধা প্রদানে নেমে পড়ে।
এতে করে সকল বাদ্য-যন্ত্র গুঁড়িয়ে দেয়া হলো। ভেঙে চুরমার করে দেয়া হলো মদের বোতল। আর দুর্নীতি সমূলে উচ্ছেদ করা হলো দেশ থেকে। ফলশ্রুতিতে কিছু কাল যেতেই সেই রোগ দূর হয়ে গেল।(আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ১৩/২১৬)
আজ ১৭ মার্চ পর্যন্ত বিবিসির সূত্রে জানা যায় বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০!
আক্রান্ত হিসেবে সন্দেহের তালিকা বেড়েই চলছে ৷
আমরা ভুলে গেছি নবীজি (সা) এর নির্দেশনা৷
প্রবাসীরা দেশে এসে করোনার বাহক হিসেবে কাজ করছে৷
মহামারি দেখা দিলে করণীয় সম্পর্কে রাসূল (সা) বলেছেন-
“তোমরা যখন কোনো এলাকায় প্লেগের বিস্তারের কথা শুনো, তখন সেখানে প্রবেশ করো না। আর যদি কোনো এলাকায় এর প্রাদুর্ভাব নেমে আসে, আর তোমরা সেখানে থাকো, তাহলে সেখান থেকে বেরিয়ে যেও না।” [সহীহ বুখারীঃ ৫৭২৯]
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আমাদের সবাইকে এ মহামারি থেকে হিফাজত করুন৷
----------------------------------------------------------------