10/08/2026
শুভ জন্মদিন, প্রিয়মুখ
আজ প্রিয়মুখের জন্মদিন।
শুভ জন্মদিন, প্রিয়মুখ। আজ প্রিয়মুখ ১৪ বছর পেরিয়ে ১৫ বছরে পা দিল। এই বিশেষ দিনে প্রকাশ করছি ‘প্রিয়মুখ সাহিত্য পত্রিকা’।
>> ২০১৭ সালে নিয়মিত পত্রিকাটি প্রকাশ করতাম। মাঝখানে আর প্রকাশ করা হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও প্রকাশিত হলো প্রিয়মুখ। এখন থেকে ইনশাআল্লাহ নিয়মিত প্রকাশ পাবে।
>> যদিও গত ১৫ দিন ধরে আমি ভীষণ অসুস্থ। এতটাই অসুস্থ যে, হাসপাতালে থাকার দুই দিন বলতে গেলে জ্ঞানই ছিল না। একটা ঘোরের মধ্যে ছিলাম। সেই ঘোরের মধ্যে বারবার প্রিয় মানুষগুলোর মুখ ভেসে উঠত। খুব কাছের মানুষ—যাদের সঙ্গে শৈশব কেটেছে, যেসব বন্ধুর সঙ্গে স্কুল-কলেজজীবনের কত স্মৃতি জমে আছে, তাদের কথা খুব মনে পড়েছে। মামাতো ভাই-বোন, যাদের সঙ্গে কিলাকিলি করে, ঝগড়া-ঝাঁটি করে বড় হয়েছি, তাদের কথাও খুব মনে পড়েছে।
>> কিন্তু এদের কারও দেখা পেলাম না। কেউ দেখতেও এলো না। কারণ তারা সবাই ব্যস্ত। তাদের কোনো দায় নেই। সত্যিই তো, কারও কোনো দায় নেই। এরপরও দূর দেশ থেকে ফোন দিয়েছিল সনিয়া। তার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।
>> অসুস্থ অবস্থায় অলস সময়ে শুয়ে-বসে ভাবলাম—আমরা এতটাই ব্যস্ত হয়ে গেছি যে, আত্মিক টান বলতে যেন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এখন সর্বোচ্চ ফেসবুকে ‘ফি আমানিল্লাহ’, ‘দ্রুত সুস্থতা কামনা করি’—জাতীয় কয়েকটি বাক্য লিখেই জীবনের সব দায়িত্ব শেষ হয়। এও এক অদ্ভুত জীবন! আমরা সবাই যেন এক অদ্ভুত দৌড়ের মধ্যে আছি।
>> এত কিছুর পরও মন খারাপ হয়নি। কারণ এটাই এই সময়ের চরম বাস্তবতা। আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব—সবকিছুই এখন হিসেবের মধ্যে চলে। স্বার্থ ছাড়া যেন কোনো সম্পর্কই আর চলে না। তাই এসব নিয়ে এত ভাবাভাবিরও কিছু নেই। তারপরও কোথাও যেন একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে। আটকাতে পারি না।
>> যখন জানি, শরীরের খুব গভীরে বিশাল বিশাল সব রোগ বাসা বেঁধেছে, তখন আর কতদিন বাঁচতে পারব—এমন একটি জটিল চিন্তা আমাকে বিচলিত করে তোলে। বেঁচে থাকার আকুল ইচ্ছেটা তখন আরও প্রবল হয়। কিন্তু মৃত্যু এক চরম সত্য। তাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
>> প্রতি বছরের মতো এবারো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বইমেলায় অংশ নিয়েছে প্রিয়মুখ। প্রতিবছরই এই মেলায় যাই। এবছর যেতে পারিনি। যেতে পারিনি, কারণ আমার জীবন এখন ঘরের মধ্যেই আটকে গেছে। সর্বোচ্চ হেঁটে হেঁটে মসজিদে যাই নামাজ পড়তে। এর বাইরে কোথাও যাওয়ার মতো শারীরিক শক্তি নেই।
>> প্রিয়মুখ সাহিত্য পত্রিকাটি আরও পাঁচ-ছয় দিন আগেই প্রকাশ করা যেত। কিন্তু কম্পিউটারের সামনে বসতেই পারিনি। দশ মিনিট বসলে বিশ মিনিট ঝিম মেরে বসে থাকতে হয়। শরীর যেন কোনো কিছুতেই সায় দেয় না।
আহারে জীবন!
কীভাবে যেন বদলে যায় সবকিছু!
একটা প্রিয় মানুষের মুখ খুব মনে পড়ে। যদিও জানি, এ জনমে আর তার দেখা পাব না।
এভাবেই কেটে যাবে দিন।
স্বপ্নেরা ধরা দেবে না…
তবু প্রিয়মুখ থাকবে।
থাকবে কিছু স্মৃতি, কিছু স্বপ্ন, কিছু ভালোবাসা।
শুভ জন্মদিন, প্রিয়মুখ।
১৪ পেরিয়ে ১৫-তে পদার্পণ।
#প্রিয়মুখ
#আহমেদ_ফারুক