28/10/2024
কাশ্মীর থেকে সরাসরি আনা হয়েছিলো কিছু পরিমাণ জাফরান নিজেদের ব্যবহারের জন্য। আসল জাফরান হওয়াতে অনেকেরই বেশ চাহিদা লক্ষ্য করা গেলো। আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে কিছু সেল করেছি। সাথে করে বেশি আনা যায় না বিধায় পরিমাণও তেমন না। ভাবলাম পোস্ট করি। যদি অন্য কারো চাহিদা পূরণ হয়।
জাফরানঃ
কেশর বা জাফরান সম্পর্কে আমরা সবাই কম বেশি অবগত আছি। দাম বেশি হওয়ায় অনেকের নাগালের বাইরে। এছাড়া আমরা অনেকেই আসল জাফরান না চেনার কারনে কিনতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে থাকি।
জাফরান কি?
জাফরান বলতে আমরা কাশ্মীরের স্যাফরনকে চিনে থাকি। তবে পৃথিবীর আরও অনেক দেশে এই মশলা উৎপাদিত হয়।
জাফরান বা ইংরেজিতে স্যাফরনকে লাল সোনা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এটি পৃথিবীর সব থেকে দামি মশলা যা খাবারের রং এবং স্বাদ বৃদ্ধি করে।
প্রাচীন কাল থেকেই জাফরানকে একটি ভেষজ মশলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আয়ুর্বেদিক থেকে শুরু করে প্রায় সকল ধরনের চিকিৎসা খাতে এই মশলা ব্যবহার করা হয়। আরও জানা যায় যে জাফরান মানব দেহের প্রায় ২০ ধরনের রোগ সারাতে সক্ষম। এতে বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও মিনারেল সহ প্রায় ১২০ ধরনের পুষ্টি উপাদান থাকে।
আসল জাফরান চেনার উপায়ঃ
১। টেনে দেখুনঃ
ঠান্ডা পানিতে কিছু ক্ষণ ডুবিয়ে রাখার পরে একটি জাফরানের রোঁয়া হাতে নিয়ে টেনে দেখুন, সহজেই ছিঁড়ে যাচ্ছে কি না। ভালো মানের জাফরান হলে ছিঁড়বে না বা ভেঙে যাবে না। কিন্তু নকল জাফরান বা খারাপ মানের জাফরান পানিতে দেওয়ার পর ভেঙে যাবে বা টানলে সহজেই ছিঁড়ে যাবে।
২। স্বাদ নিয়ে দেখুনঃ
আরও দ্রুত জাফরানের পরীক্ষা করতে পারেন জাফরান মুখে দিয়ে। যদি মিষ্টি স্বাদ হয়, তবে সেই জাফরান খারাপ মানের। ভালো মানের জাফরানের স্বাদ হবে কিছুটা তেতো।
৩। গন্ধ নিয়ে দেখুনঃ
স্বাদ নিতে না চাইলে গন্ধ নিয়ে দেখুন। ভালো জাফরানে ফুলের মতো মৃদু গন্ধ থাকবে। অনেকটা মধু আর শুকনো ঘাসের গন্ধ একসঙ্গে মেশালে যেমন হয়। যা নাকে গেলে কৃত্রিম বলে মনে হবে না। নকল জাফরানের গন্ধ হবে জোরালো। যা আর যাই হোক, প্রকৃতির কথা মনে করাবে না। এছাড়াও আরো অনেক উপায়ে জাফরান চেনা যায়।
জাফরান এর উপকারিতা ঃ
১.স্বাস্থ্য উন্নত ঘটায়।
২.অবসাদ দূর করে।
৩.রক্তস্বল্পতা দূর করে।
৪.ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
৫.ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে।
৬.অনিদ্রা দূর করে।
৭.হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে।
৮.কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে।
৯.শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দূর করে।
১০.মাসিকের ব্যথা উপশম করে।
১১.চোখের ছানি রোধ করে।
১২.এ্যাসিডিটি দূর করে।
১৩.ত্বকের যত্নে অত্যন্ত কার্যকরী।
১৪.যৌন দূর্বলতা দূর করে।
এছাড়াও খাবারের স্বাদ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
জাফরান খাওয়ার নিয়ম ঃ
জাফরান খাওয়ার সব থেকে উৎকৃষ্ট সময় হচ্ছে রাতের বেলা। বিশেষ করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুধের সাথে মধু ও কিশমিশ মিশিয়ে তাতে জাফরান দিয়ে খাওয়া সব থেকে বেশি উপকারী।
এছাড়া ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃয়ায় জাফরান খাওয়া যেতে পারে।