Sajid's Book & Thoughts

Sajid's Book & Thoughts Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Sajid's Book & Thoughts, Book shop, Faculty of Business Studies (FBS), University of Dhaka, Dhaka.

03/06/2026

জাপান তখনও আত্মসমর্পণ করেনি, তবে করবে বলে আমেরিকান গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য আছে। বিপুল প্রমাণ আছে আমেরিকান ও জাপানি আর্কাইভে যে, ঐ আগস্টেই জাপান সারেন্ডার করবে। আমেরিকা চাচ্ছিল নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ আর জাপান চাচ্ছিল জাপানি সম্রাটকে যেন যুদ্ধাপরাধের বিচার না করা হয়, রাজাকে জাপানিরা দেবতা জ্ঞান করে। আরও কয়েক মাসব্যাপী চাউর ছিল আগস্টের ৮ তারিখ সোভিয়েত জাপান-অধিকৃত চীনের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণ করবে, তখন জাপানের আত্মসমর্পণ না করে উপায় থাকবে না। তারা ইতিমধ্যেই সারেন্ডারের কথা ভাবছে। জাপান এই আগস্টেই আত্মসমর্পণ করবে, এটা জানা সত্ত্বেও আমেরিকা ৬ আগস্ট হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা হামলা করে। শহরের সাড়ে ৩ লাখ মানুষের মাঝে দেড় লাখ মানুষ নিহত হয়। ৭০ হাজার মানুষ স্রেফ বাষ্প হয়ে উবে যায় এক সেকেন্ডে। পরবর্তীতে তেজষ্ক্রিয়তায় মারা যায় আরও হাজার হাজার। এতেও জাপান নিঃশর্ত সারেন্ডার করছে না দেখে ৩ দিন পর আবার পারমাণবিক বোমা ফেলা হল নাগাসাকি শহরে। বাষ্প হয়ে উবে গেল আরও ৪০ হাজার মানুষ। ৮০ হাজার প্রাণ হারালো মোট। অবশেষে সেপ্টেম্বরে জাপান আত্মসমর্পণ করে।

এই অ্যাটম বোমা ফেলাটা যে সামরিকভাবে অদরকারি ছিল, তা পরবর্তীতে আমেরিকার একাধিক জেনারেল (Dwight Eisenhower, Douglas MacArthur, Henry Arnold) ও এডমিরাল (William Leahy, Chester Nimitz, Ernest King, William Halsey) স্বীকার করেছে অন ক্যামেরা [১]। বুঝাই যাচ্ছে, যুদ্ধ সমাপনের একক কৃতিত্ব নেয়া এবং বৈশ্বিক আধিপত্য কুক্ষিগত করা ও ভীতি-সমীহ তৈরি করাই ছিল লক্ষ প্রাণ কেড়ে নেবার উদ্দেশ্য। দুনিয়াকে কথা শুনতে বাধ্য করার জন্য লক্ষ মানুষের প্রাণ নিতে আমরা আমেরিকাকে সামনেও দেখব। আর এসব করতে গিয়ে peace, democracy, freedom শব্দগুলোর ব্যবহারও অতীতের মত সামনের দিনগুলোতেও খেয়াল করবেন পাঠক। এই শব্দগুলো শ্লোগান দিয়েই।

দুঃখ লাগে যখন তথাকথিত ইসলামপন্থীদেরকেই দেখি এই নিকৃষ্ট দেশটির ক্ষমতা সুরক্ষার রেটরিকগুলো (উদ্দেশ্যমূলক শব্দবন্ধ) ব্যবহার করছে অন্যান্য ইসলামপন্থীদের উপর।

[১] Gar Alperovitz and Martin J. Sherwin (Aug. 5, 2020), U.S. leaders knew we didn’t have to drop atomic bombs on Japan to win the war. We did it anyway, Los Angeles Times
Gar Alperovitz এর বই “The Decision to Use the Atomic Bomb” তে এই ব্যাপারে বিশদ আলোচনা রয়েছে।

বই: ফিলিস্তিন: ভুলে-ভরা অঙ্ক
আসলাফ একাডেমি
আসছে এ মাসেই ইনশাআল্লাহ

শামসুল আরেফিন শক্তি ভাই এর পোষ্ট থেকে।

25/05/2026

আমার জানাজায় আসলে একটু সময় মতো আসার চেষ্টা করবেন! দা* ফন যারা করে, তারা আমার মতো করে আপনার জন্য অপেক্ষা করবে না। অপেক্ষা করাটা ও একটা পবিত্র ইবাদত। কিন্তু এমন কাজে কেউ অপেক্ষা করতে চাইবে না৷ পৃথিবীতে সব থেকে বড় যে জিনিস টা শিখি ভালো কাজে, ভালো মানুষের জন্য অপেক্ষা করতে। কিন্তু আমরা অপেক্ষা করতে চাই না ।

অপেক্ষা 💔

রাত :- ২:১৫

২৫/০৫/২৫
~ Bibliophile Abrar Shajid

"দাসত্ব-গোলামী ছাড়িয়া দিলে খাইব কি করিয়া? কি নীচ প্রশ্ন! যেন আমাদের  শুধু কুকুর-বিড়ালের মত উদর-পূর্তির জন্যই জন্ম!"শুভ জ...
24/05/2026

"দাসত্ব-গোলামী ছাড়িয়া দিলে খাইব কি করিয়া?
কি নীচ প্রশ্ন!
যেন আমাদের শুধু কুকুর-বিড়ালের মত উদর-পূর্তির জন্যই জন্ম!"

শুভ জন্মদিন নজরুল।

19/05/2026

গুগল আপনাকে সব খুঁজে এনে দেবে। আপনি গুগল সার্চবক্সে যেয়ে 'চুকনগর' লিখুন, চুকনগর এনে দেবে না। আপনাকে এনে দেবে লাশের সারি। আপনি চুকনগর নামের অর্থ খুঁজুন, পাবেন না। চুকনগরের সৌন্দর্য খুঁজুন, পাবেন না। পাবেন শুধু একটা রক্তাক্ত ইতিহাস। আজ মে মাসের বিশ তারিখ। আজ সকাল এগারটা থেকে চুকনগরে আরম্ভ হবে ব্রাশফায়ার, টানা চার ঘণ্টা পর বিকাল তিনটায় থামবে ব্রাশফায়ার কারণ ততক্ষণে ফুরিয়ে যাবে বুলেট। আপনি একবার চোখ বুজে নিজেকে নিয়ে যান উনিশশো একাত্তর সালে। আপনি চোখ খুলে আর নিজেকে পাবেন না।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একটা গ্রামের নাম চুকনগর। সকাল এগারটা থেকে বিকেল তিনটা। এক প্লাটুন পাকিস্তানি সৈন্য। চার মাইল। চার ঘণ্টা। আনুমানিক বারো হাজার মানুষ। বলা হয়, পৃথিবীর যেকোনো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সংঘটিত সর্ববৃহৎ একক গণহত্যার নাম, চুকনগর গণহত্যা। চার ঘণ্টা ব্যাপী চলা এই ব্রাশফায়ারের নেতৃত্ব দেয় পাকিস্তানি ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ হায়াত। বিকেল তিনটার দিকে গুলি ফুরিয়ে যাওয়ার পর সামনে পা বাড়াতে পারেনি সে আর। মাটি ভিজে গিয়েছিল, পায়ের তলায় ছিল অগুনিত লাশ। লাশ সরানোর নির্দেশ দিয়ে চলে যায় হায়াত।

চুকনগর গ্রামের আনসার আলী সরদার জানিয়েছিলেন, তারা সারাদিন ধরে বিয়াল্লিশজন মিলে একুশটি বাঁশে করে লাশ ঠেলে নদীতে ফেলেছিলেন। প্রতিবার দুইশো করে লাশ। একুশ তারিখ থেকে চব্বিশ তারিখ পর্যন্ত বিয়াল্লিশজন মিলে চার হাজার লাশ গুনে হাল ছেড়ে দেন। আটলিয়া ইউনিয়নের পাতাখোলার বিল থেকে চাঁদনী, ফুটবল মাঠ, চুকনগর স্কুল, মালতিয়া, রায়পাড়া, দাসপাড়া, তাঁতীপাড়া, ভদ্রা নদী ও সাতক্ষীরা রোড থেকে ঘ্যাংরাইল নদী পর্যন্ত লাল হয়ে ছিল রক্তে।

বিশ তারিখের পর ভদ্রা নদীর জল ছুঁয়েনি মানুষ। দু’মাস অবধি ঐ নদীর মাছ খায়নি। লাশ পঁচা গন্ধ এতবেশী ছিল, ছয় মাস অবধি চুকনগর বাজারে যায়নি কেউ। কোথাও কোথাও লাশ আটকে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। একুশ তারিখ সকালবেলা বাবা চিকন আলী মোড়লের সন্ধানে বের হয়েছিলেন পুত্র এরশাদ আলী মোড়ল। তিনি দেখেছিলেন ভয়ংকর এক দৃশ্য। পাতখোলা বিলের সামনে লাশের স্তুপ থেকে মৃত এক নারীর স্তন চুষে দুধ খাওয়ার চেষ্টা করছে এক ক্ষুধার্ত শিশু। এরশাদ আলী মোড়ল শিশুটিকে নিয়ে আসেন। শিশুটির নাম রাখেন 'সুন্দরী'। মৃত মায়ের কপালে সিঁদুর ও হাতের শাখা দেখেই বুঝেছিলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী তারা। সুন্দরীকে একটা সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারেই বড়ো করেন তিনি। একটা সাক্ষাৎকারে সুন্দরী বলেছিলেন, আমি তো জানি না আমার পৈত্রিক বাড়ি কোথায়, কোথা থেকে এসেছিলেন আমার বাবা মা। চুকনগরের এই জায়গায় আসলে শুধু বুকটা হু হু করে উঠে আমার।

চুকনগর গণহত্যার বহু বহু বৎসর পরের একটা গল্প শোনাই। প্রাসঙ্গিক গল্প। জায়গাটা হচ্ছে, নিউইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেন। ওখানে বাংলাদেশীরা একটা অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। এক ভদ্রলোক মামা ও মামী সহ ঐ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন। যে ট্যাক্সি করে তারা যাচ্ছেন, ঐ ট্যাক্সি ড্রাইভার একজন পাকিস্তানি যুবক। প্যাসেঞ্জার বাংলাদেশী শুনে যুবক উচ্ছ্বসিত। জানালো- ‘আমরা সবাই ভাই ভাই, মাঝখানে ইন্ডিয়া এসে গোলমাল বাঁধালো।’

যা অনুমেয় ছিল; যুবক একাত্তর জানে নাই। তাদের পড়ানো হয়েছে ইন্দিরা গান্ধী ও মুক্তি বাহিনী মিলে ষড়যন্ত্র করে গণ্ডগোল লাগিয়েছে ভাই ভাইয়ের মধ্যে। এটা তাদের পাঠ্য পুস্তকের পাঠ্য। ফলে ওরা জানে- অত মানুষ হত্যা, অত ধর্ষণ, অত জ্বালাও পোড়াও, সব প্রোপাগান্ডা। ওরা বিশ্বাস করে- মুক্তিবাহিনী মূলত হিন্দু আর ইন্ডিয়ানদেরই একটা গ্রুপ যারা শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করতো ও লুটপাট করতো। ভদ্রলোকের মামা রাগে কাঁপতে কাঁপতে যুবককে তখন একটা লম্বা বক্তব্য দিয়েছিলেন। আমি বক্তব্যটা হুবহু তুলে দিচ্ছি।

‘আমি নিজে মুক্তিবাহিনীর লোক। আমি হিন্দুও না, ইন্ডিয়া থেকেও আসি নাই। অতএব তোমার শিক্ষায় ভুল আছে। একাত্তর সালে আমি তোমাদের আর্মির অত্যাচার দেখেছি। কিভাবে তারা নিরীহ মানুষ খুন করেছে আর গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে। নিজ হাতে গুলি করে তোমাদের আর্মিকে থামিয়েছি কয়েক জায়গায়। এই যে পিছনের সিটে বসা আমার ভাগ্নেটাকে দেখছো, ওর জন্ম ঐ যুদ্ধের সময়। ওর মা আমার ছোট বোন। সে আট মাসের প্রেগন্যান্ট অবস্থায় প্রায় আশি মাইল রাস্তা হেঁটে শহর থেকে গ্রামে পালিয়ে গিয়েছিল তোমাদের আর্মির হাত থেকে বাঁচার জন্য। আমি কোনো লোকমুখে শোনা গল্প বলছি না। আরও কিছু শুনতে চাও? তুমি যদি মুক্তিবাহিনী সম্বন্ধে আরেকটা বাজে কথা বলো, এখনই তোমার ট্যাক্সি থেকে আমরা নেমে যাবো।’

বাকি রাস্তা পাকিস্তানি যুবক আর একটাও কথা বলে নাই। বরং যখন ভদ্রলোক ট্যাক্সি থেকে নেমেছিলেন, যুবক নিজেও নেমেছিল। জিজ্ঞেস করেছিল, তোমার মা কি জীবিত আছেন? ভদ্রলোক মাথা ওপর-নিচ করেছিলেন। যুবক বলেছিল, তোমার মাকে বোলো, একজন পাকিস্তানী তাঁর কাছে মাফ চেয়েছে।

পাকিস্তান পৃথিবীর কুৎসিত’তম রাষ্ট্র। ঘৃণ্য রাষ্ট্র। খবিশ রাষ্ট্র। এই বর্বর রাষ্ট্র তার নব্য প্রজন্মদের তাদের করা বর্বরতার ইতিহাস জানায়নি একফোঁটা। এই শুয়োরের বিষ্ঠামাখা রাষ্ট্র জানায়নি, চুকনগরের ফসলি জমিতে এখনও হাড়গোড় পাওয়া যায় মানুষের। কখনো সখনো পাওয়া যায় নারীর পরিহিত অলঙ্কার। জানায়নি সহস্র নারীর যোনীতে বেয়নেট ঢুকিয়ে পেটের ওপর উঠে দাঁড়িয়ে নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলার গল্প। কিশোরগঞ্জের বরইতলার রেললাইনে অসংখ্য মানুষকে বসিয়ে এক এক করে ওদের মাথা ত্রিশ কেজি ওজনের বিশেষ শাবল দিয়ে চূর্ণ করে দিয়েছিল ওরা একদিন।

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাকাণ্ডের ধরণ ও প্রক্রিয়া সম্বন্ধে গবেষণায় যা পাওয়া গেছে তার থেকে অল্প একটু বলি:

▪️ ১. সন্দেহজনক ব্যক্তিকে দেখামাত্র গুলি করা।
▪️ ২. শক্ত সমর্থ তরুণদের রাস্তা অথবা বাড়িঘর থেকে বন্দি করে অজ্ঞাত স্থানে এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শারীরিক নির্যাতন, শারীরিক নির্যাতন শেষে হাত বেঁধে কখনও একজন কখনও অনেকজনকে একসাথে গুলি করে মেরে গর্ত অথবা জলাশয়ে ফেলে দেওয়া।
▪️ ৩. লোকসংখ্যা বেশী থাকলে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করা।
▪️ ৪. আপনজন সামনে থাকলে তাদের দেখিয়ে দেখিয়ে ব্যক্তিকে জবাই করা, দেহ টুকরো টুকরো করা।
▪️ ৫. ভীতি ছড়ানোর জন্য সবার সামনেই অসহায় মানুষদের অঙ্গচ্ছেদ করা।
▪️ ৬. চোখ উপড়ে ফেলা।
▪️ ৭. নগ্ন করে উল্টো করে বেঁধে মাথা থেকে পা পর্যন্ত চামড়া ছিলে ফেলা।
▪️ ৮. ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে করে মাথা চূর্ণ করে দেওয়া।
▪️ ৯. বস্তার ভেতর ঢুকিয়ে মুখ বেঁধে অনর্গল পিটিয়ে হত্যা করা অথবা মুখ বন্ধ বস্তাসহ নদীতে ফেলে দেওয়া।
▪️ ১০. দড়ি দিয়ে ব্যক্তিকে বেঁধে অনবরত লাথি ঘুষি অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে করে মেরে ফেলা।
▪️ ১১. বাঁশ ও রোলারের মধ্যে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ চেপে ধরে থেঁতলে দেওয়া।
▪️ ১২. বেয়নেট দিয়ে পেট এফোঁড়-ওফোঁড় করা, নাড়িভুড়ি বের করা, বুক চিরে হৃদপিণ্ড উপড়ে নেওয়া।
▪️ ১৩. দড়ি দিয়ে বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা।
▪️ ১৪. পানি, অগ্নিকুণ্ড অথবা বয়লারে নিক্ষেপ করে হত্যা করা।
▪️ ১৫. মৃতপ্রায় মানুষ পানি খেতে চাইলে মুখে প্রস্রাব করা, মলমূত্রের ওপর মানুষটার মাথা চেপে ধরা।
▪️ ১৬. সিগারেটের আগুনে শরীরের সংবেদনশীল জায়গায় ছ্যাকা দেওয়া।
▪️ ১৭. মলদ্বার ও আশপাশের স্থানে বরফ অথবা উত্তপ্ত লোহা ঢুকিয়ে দেওয়া।
▪️ ১৮. চোখের সামনে লাইট জ্বালিয়ে আলো দিয়ে চোখ ঝলসে দেওয়া।
▪️ ১৯. গায়ে ও মলদ্বারে ইলেক্ট্রিক শক দেওয়া।
▪️ ২০. আঙুলে সুঁচ ফোটানো।
▪️ ২১. নখ উপড়ে ফেলা।
▪️ ২২. শরীরের চামড়া ছিলে লবণ ও মরিচ লাগিয়ে দেওয়া।
▪️ ২৩. পুরুষের অণ্ডকোষ ও লিঙ্গ থেঁতলে দেওয়া।
▪️ ২৪. মেয়েদের যৌনাঙ্গে লাঠি, রাইফেলের নল, ধারালো বোতল জাতীয় কিছু ঢুকিয়ে দেওয়া।
▪️ ২৫. ‘বাঁশ ঢলা’ দেওয়া।
▪️ ২৬. বরফের চাঙরের ওপর শুইয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা।
▪️ ২৭. বুলেট বাঁচাতে দা দিয়ে জবাই করা।
▪️ ২৮. তরুণীদের বাড়ি থেকে ধরে এনে দিনের পর দিন ধর্ষণ করা, স্তন কেটে নেওয়া, অমানুষিক শক্তি ব্যবহার করে চুল টেনে চামড়া সহ উপড়ে ফেলা।

সর্বপ্রথম আশির দশকের গোড়ায় ভিয়েতনাম যুদ্ধফেরত মার্কিন সৈন্যদের মধ্যে পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার দেখা দিয়েছিল। ভয়ানক যুদ্ধের সবটুকুন ভয়াবহতার প্রত্যক্ষদর্শী যারা, যুদ্ধ শেষে বাকি জীবন তাড়িয়ে বেড়িয়েছিল তাদের ঐ স্মৃতি, ঐ মৃত্যু, ঐ ট্রমা।

আমার মাঝেমধ্যে খুব জানতে ইচ্ছে করে, একাত্তরের যুদ্ধ ফেরত ঐ শুয়োরের জাতগুলো ঘুমোতে পেরেছিল কোনোদিন তারপর? ওদের কারোর পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার হয়নি? ওরা কী করে ঘুমিয়েছিল? ওরা সুখী হয়েছিল? ওদের বিবাহ হয়েছিল হয়তো। পুত্র সন্তান হয়েছিল, কন্যা সন্তানও হয়েছিল। ওরা নিশ্চয় ঐ কন্যার কপালে চুমু খেয়েছিল। চুলে হাত বুলিয়েছিল। ফোলা গাল দু’টো টিপে কোলে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছিল সপ্তাহে একবার। স্ত্রী সহ। কন্যা আবদার করেছিল হয়তোবা ঘাড়ে চড়ার। তারা নিশ্চয় ঘাড়েও চড়িয়েছিল তাকে। ঐ সন্তান থেকেছে পরম আদরে, বেঁচে আছে দুধে ভাতে।

কখনই ওই সন্তানের জানা হবে না, চার ঘণ্টায় বারো হাজার, প্রতি ঘণ্টায় তিন হাজার, প্রতি মিনিটে পঞ্চাশ এবং প্রতি সেকেন্ডে একজন করে মানুষ হত্যা করলে মাত্র দশটা সেকেন্ড বাকি থাকে ঘড়িতে, যে দশটা সেকেন্ড চুকনগরে মারার মতোন আর দশটা মানুষ খুঁজে পায়নি তার রক্তপিপাসু রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের সেবক। এক ভদ্রা নদীর রক্তের অংক কষতে এই জনম কাটবে তাদের। ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল বিস্তৃত একটা শ্মশানের বাকি হাড়গোড় গুনার সময় কই আর।

সূত্র:
১. ‘২০ মে ১৯৭১: চুকনগর গণহত্যা’ – আহমাদ ইশতিয়াক (দ্য ডেইলি স্টার, ২০.০৫.২০২১)
২. ‘চুকনগর বধ্যভূমি’ – (ডুমুরিয়া, খুলনা, গর্ভমেন্ট বিডি সাইট)
৩. আবদুল্লাহ ইবনে মাহমুদ
৪. ‘চুকনগর গণহত্যা’ – মুনতাসীর মামুন
৫. ‘৭১ এর গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ’ – ডা. এম এ হাসান (সংগ্রামের নোটবুক)

লেখনীতে : শাখাওয়াত হোসাইন ভাই।

নতুন বই: একশ বছর পরে প্রথম বাংলা অনুবাদ ‘স্টর্ম অব স্টিল’বিশ্বসাহিত্যের আলমারিতে যুদ্ধের ওপর লেখা বইয়ের অভাব নেই। কিন্তু...
13/05/2026

নতুন বই: একশ বছর পরে প্রথম বাংলা অনুবাদ ‘স্টর্ম অব স্টিল’

বিশ্বসাহিত্যের আলমারিতে যুদ্ধের ওপর লেখা বইয়ের অভাব নেই। কিন্তু জার্মানির কিংবদন্তি লেখক আর্নস্ট ইয়ুঙ্গারের ‘স্টর্ম অব স্টিল’ (Storm of Steel) এমন এক সৃষ্টি, যা গত এক শতাব্দী ধরে পাঠকদের মোহগ্রস্ত করে রেখেছে।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরিখায় (trench) বসে লেখা লেখকের নিজস্ব ডায়েরি থেকে উঠে আসা এই কাহিনি কোনো সস্তা রোমাঞ্চ নয়; বরং এটি আধুনিক যুগের যুদ্ধগুলোর এক জীবন্ত দলিল।

১৯১৪ সাল। কোনো রকমে স্কুলের পরীক্ষাটা শেষ করেই তরুণ ইয়ুঙ্গার বিশ্বযুদ্ধে নাম লেখান। ১৯১৮ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিম রণাঙ্গনের ভয়াবহতম যুদ্ধগুলোর সাক্ষী ছিলেন। এই চার বছরে তিনি অন্তত ১৪ বার অত্যন্ত গুরুতরভাবে আহত হন। তবুও থামেন নি।

এই দুঃসহ সময়গুলোতে ইয়ুঙ্গার রণক্ষেত্রের সেই ধুলো, কাদা আর বারুদের গন্ধের ভেতর খুঁজে ফিরেছেন মানুষের টিকে থাকার আদিম স্পৃহা।

তুলে ধরেছেন যুদ্ধের কারিগরি ও মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলোকে। তাঁর মতো করে আর কেউ এভাবে যুদ্ধ নিয়ে তাজা লেখা লিখতে পারেনি।

এ জন্যই ১৯২০ সালে প্রকাশের পর থেকেই বইটি বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

যখন হাজার হাজার কামানের গোলা আকাশ চিরে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ত, তখন লোহা-লক্করের এই ঝড়ের নিচে সাহসী ইয়ুঙ্গার যে বীভৎস সৌন্দর্য দেখতে পেতেন, তা তুলে এনেছেন।

এতদিন বিশ্বসাহিত্যের এই কালজয়ী মাস্টারপিস বইটি বাংলা ভাষাভাষী পাঠকদের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। প্রথমবারের মতো মুকীম গাজীর ভাষান্তরে বইটি প্রকাশ করেছে সত্যায়ন প্রকাশন। ইতিহাসের সেই রক্তঝরা দিনগুলো, পরিখার অন্ধকার আর বারুদের গন্ধ মাখা বীরত্বের আখ্যান এবার উপভোগ করা যাক।

আজ থেকে আপনার পছন্দের যেকোনো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে বইগুলো সংগ্রহ করতে পারবেন।

💔
09/05/2026

💔

"তুমি আমার সেই শুভ্র জবা, যার নেশায় আমি মহাবিশ্বে তৃতীয়বারের মতো নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ ঘটাতেও দ্বিধা করতাম না।"লেখনী :  Bi...
03/05/2026

"তুমি আমার সেই শুভ্র জবা, যার নেশায় আমি মহাবিশ্বে তৃতীয়বারের মতো নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণ ঘটাতেও দ্বিধা করতাম না।"

লেখনী : Bibliophile Abrar Shajid

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন তুঙ্গে। বার্মার ঘন জঙ্গলে চলাফেরার জন্য ভারতীয় সেনাদের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে মধ্য ভারতের মাউয়ের সা...
02/05/2026

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন তুঙ্গে। বার্মার ঘন জঙ্গলে চলাফেরার জন্য ভারতীয় সেনাদের ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে মধ্য ভারতের মাউয়ের সামরিক ছাউনিতে। সেই সেনাবিভাগে এক ভারতীয় রাজ্যের যুবরাজ ছিলেন। ছাউনির সবাই তাঁকে ‘প্রিন্স’ বলে ডাকত। প্রিন্স নিজে শিকারি, আর তা নিয়ে প্রায়ই মহা আস্ফালন করতেন। কিছু পেটোয়া চ্যালাচামুণ্ডা ছিল তাঁর। সবাইকে নিয়ে বিকেলে ক্লাবঘরে বসে নরক গুলজার হতো। বক্তা মূলত প্রিন্স, বাকিরা মুগ্ধ শ্রোতা। একদিন প্রসঙ্গ উঠল শিকারে অব্যর্থ হতে হলে কী দরকার? নিমেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, নাকি অব্যর্থ নিশানা? এক একজন এক একরকম মত দিলেন। কেউ বললেন তিনটি অথবা দু’টির যোগফল। প্রিন্স নিজে বললেন, ‘ওসব বাজে গল্প। অব্যর্থ নিশানাই শেষ কথা নয়।’ ঠিক তখনই ছাউনির ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ অফিসার বলে উঠলেন, ‘আরে! আজ দেখি আমাদের মধ্যে এক এক্সপার্ট রয়েছেন। শোনাই যাক না উনি কী বলেন?’

সবাই তাকিয়ে দেখল এককোণে চুপচাপ বসে এতক্ষণ নির্বাক রোদে-পোড়া, শক্ত চেহারার বলিষ্ঠ এক প্রৌঢ় তাঁদের তর্ক শুনে মিটিমিটি হাসছেন। তাঁর উদ্দেশ্যেই প্রশ্ন করায় এককথায় উত্তর দিলেন, ‘অব্যর্থ নিশানা। আর কিচ্ছু না!’ এই প্রথম প্রিন্সের কথাকে কেউ চ্যালেঞ্জ করলেন। যথারীতি তিনি ভয়ানক রেগে গেলেন। কে এই বৃদ্ধ! এত সাহসই বা তাঁর হয় কী করে? কোনওমতে রাগ চেপে প্রিন্স বললেন ‘আপনি প্রমাণ করতে পারবেন?’

প্রৌঢ় আঙুল তুলে দেখালেন, ‘আচ্ছা, ওই দূরের গাছটা দেখ। একটা ওয়াই Y আকারের সরু ডালের মাঝের খাঁজে ছোট্ট একখানা পাখি বসে আছে। ডাল ভাঙবে না, কিন্তু পাখিটাকে মারতে হবে। পারবে?’ বিকেলের আলো পড়ে আসছে। চারিদিক ধোঁয়াটে ধূসর। প্রিন্স বললেন, ‘অসম্ভব! এই আলোতে নজরই চলে না, পাখি মারব কি করে?’

উত্তরে প্রৌঢ় হাত বাড়িয়ে গাড়োয়ালী অনুচরের কাছ থেকে হেলায় একটা রাইফেল নিলেন, তুললেন, গুলি ছুঁড়লেন, বললেন, ‘কেন, এমনি করে?’ সবাই ছুটে গেলেন সেখানে। গিয়ে দেখা গেল ডালটি অভগ্ন, পাখিটি মৃত। কারও মুখে কথাটি সরে না। শেষে প্রিন্স কোনমতে তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এ কেমন করে সম্ভব?’ প্রৌঢ় মুচকি হেসে উত্তর দিলেন ‘শোন তবে, যখন রুদ্রপ্রয়াগের চিতাটাকে মারি..’ এইটুকু শুনেই প্রিন্স যা বোঝার বুঝে গিয়েছেন ‘বলেন কী!! আপনিই তবে...’

‘হ্যাঁ, এই অধমের নামই এডোয়ার্ড জেমস করবেট। সবাই ভালবেসে জিম নামে ডাকে।’

জিম করবেট জন্মেছিলেন পাহাড়ঘেরা নৈনিতালে। আজ থেকে দেড়শো বছর আগে। এই জুলাই মাসেরই ২৫ তারিখ। বাবা নৈনিতালের পোস্টমাস্টার। হ্রদ, নৈনিদেবীর মন্দির আর তার চারপাশের বন জঙ্গলে ঘুরে ঘুরেই করবেটের প্রথম প্রকৃতি প্রেম। তিনি লিখছেন, ‘দেবীর মন্দিরের চার মাইল ব্যাসার্ধের মধ্যে অন্যান্য জীবজন্তু ছাড়াও আমি বাঘ, চিতা, ভালুক আর সম্বর হরিণ দেখেছি, এবং একশো আটাশ জাতের পাখি চিনতে পেরেছি।’ করবেট জাতে সাহেব হলেও ছিলেন নিম্নবিত্ত ঘরের। পড়া স্কুলেই শেষ। আর বাল্যকাল কেটেছে নৈনিতালের তরাই অঞ্চলের সাধারণ, দরিদ্র কুমায়ুনীদের সঙ্গে—যাদের জন্য শেষজীবন পর্যন্ত অন্তরের টান বজায় ছিল তাঁর ।

১৮৯৫ সালে মাত্র কুড়ি বছর বয়সে করবেট বেঙ্গল অ্যান্ড নর্থ ওয়েস্টার্ন রেলওয়েতে শর্তাধীন কাজে ঢুকে পড়েন। এই করবেট লাজুক, স্বল্পভাষী আর কঠোর পরিশ্রমী। সঙ্গে শিকারের অদম্য নেশা। যাকে বলে ইন্ট্রোভার্ট, তার আদর্শ উদাহরণ। ভবিষ্যতের যে করবেট শত শত মাইল হেঁটে রুদ্রপ্রয়াগের চিতাকে একটি গুলিতে মারেন, অথবা অরণ্য ও অরণ্যপ্রাণী বাঁচাতে প্রাণ দিয়ে চেষ্টা করেন, কিংবা গ্রামের বাংলোর বারান্দায় বসে গ্রামীণ মানুষদের ওষুধ-পথ্য-সুশ্রুষার ব্যবস্থা করেন কিন্তু বিন্দুমাত্র যশপ্রার্থী হন না, তাঁর শুরু কিন্তু এখান থেকেই।
বিশ শতকের শুরুর দিকে চম্পাবতের এক বাঘিনি গোটা উত্তরাঞ্চলে ভয়ানক ত্রাসের সৃষ্টি করল। প্রায় এক দশক ধরে পুলিস, গুপ্ত শিকারি, এমনকী নেপালি গোর্খা রেজিমেন্ট পর্যন্ত সেটিকে ধাওয়া করেও ধরতে পারেনি। অনেকে বিশ্বাস করত এ কোন পশু নয়, কোন অতৃপ্ত আত্মা। ওই বাঘিনির আক্রমণে শুধুমাত্র নথিভূক্ত মৃতের সংখ্যা ৪৩৬। গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী আজ অবধি সর্বোচ্চ। যখন সবাই হাল ছেড়ে দিয়েছেন তখন একেবারে নবিশ শিকারী তরুণ জিম করবেট চ্যালেঞ্জটা নিয়েই নিলেন। তাঁর হাতেই খতম হল চম্পাবতের মানুষখাকী। ‘কুমায়ুনের মানুষখেকো’ (ম্যান-ইটার্স অব কুমায়ুন) বইতে একেবারে ছবির মত বর্ণনা আছে সেই হাড়হিম করা ঘটনার।

‘নদীর কাছে এগলাম যখন, ঝোপ ছেড়ে বাঘিনীনিটি সেই উঁচানে পাথরের উপর, আমি যে দিকে আছি সে দিকে বেরিয়ে এল। যখন ও বিশ ফুটের মধ্যে, বন্দুকটি তুললাম এবং আতঙ্কে দেখলাম যে নল দু’টি এবং ব্রিচ-ব্লকের মাঝখানে এক ইঞ্চির আট-তৃতীয়াংশ এক ফাঁক আছে। যখন দু’টি নলে ফায়ার করা হয় তখন বন্দুক ফাটেনি, সম্ভবত এখনও ফাটবে না, কিন্তু পিছু ধাক্কা খেয়ে কানা হয়ে যাবার বিপদ আছে। যাই হক, সে ঝুঁকি নিতেই হচ্ছে এবং যে পেল্লায় পুঁতিটি সাইটের কাজ করছিল, সেটি বাঘিনির হাঁ-করা মুখের দিকে নিশানা করে বসিয়ে আমি গুলি ছুঁড়লাম। হয়তো আমি উপর-নীচে নড়ে গিয়েছিলাম কিংবা হয়তো বেলনাকার বুলেটটি বিশ ফুট নির্ভুল পাঠাবার ক্ষমতা বন্দুকটির ছিল না। যাই হোক গুলিটি বাঘিনির মুখ ফসকাল এবং বিঁধল ওর ডান থাবায়, সেখান থেকে পরে আমি আঙুলের নখ দিয়ে সেটি সরিয়েছিলাম। সৌভাগ্যক্রমে ও তখন শেষ অবস্থায় পৌঁছেছিল এবং পায়ের উপর আঘাতটি ওঁকে সমুখপানে টলিয়ে ফেলে দেবার কাজ যথেষ্টই করল। পাথরটার এক ধার দিয়ে মাথাটি ঝুঁকিয়ে ও মৃত্যুতে শান্ত হল।’

রাতারাতি জিম করবেট এক কিংবদন্তিতে পরিণত হলেন। সেই শুরু। তারপর যেখানেই মানুষখেকো বাঘের অত্যাচার শুরু হতো, জিমকে ডেকে পাঠাতেন সেখানকার শাসক। কিংবা জিম নিজেই চলে যেতেন। ১৯০৭ থেকে ১৯৩৮’এর মধ্যে তিনি মোট ৩৩টি মানুষখেকোর শিকার করেন, যারা সব মিলিয়ে প্রায় ১২০০ মানুষ মেরেছিল। এদের মধ্যে দু’খানি মানুষখেকো চিতাবাঘ। রুদ্রপ্রয়াগের মানুষখেকো চিতাবাঘ ভারতের ইতিহাসে প্রায় অমর হয়ে গেছে।

১২৬ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা চিতাটিকে নিয়ে করবেট নিজে লিখেছেন, ‘বাঘেরা যে-কারণে নরখাদক হয়, চিতারা সে-কারণে হয় না। আমাদের জঙ্গলের সকল জন্তুর মধ্যে চিতা সবচেয়ে সুন্দর, সাবলীল। জখম হলে, বা কোণঠাসা হলে সাহসে সে কারও চেয়ে কম যায় না। তবে এরা এমন মড়াখেকো, যে খিদের জ্বালায় জঙ্গলে যে মড়া পায়, তা-ই খায়। ঠিক আফ্রিকার জঙ্গলের সিংহদের মতো... ১৯১৮ সালে দেশ জুড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার মড়ক দেখা দেয়। ভারতে দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা পড়ে। এ মড়কের কঠিন মূল্য দিতে হয় গাড়োয়ালকে। মহামারীর শেষে গাড়োয়ালের নরখাদক আত্মপ্রকাশ করে। ১৯১৮ সালের ৯ই জুন, বৈঁজি গ্রামে রুদ্রপ্রয়াগের নরখাদক চিতা প্রথম মানুষ মারে, নথিতে লেখা আছে। সর্বশেষ যে মৃত্যুর জন্য নরখাদকটি দায়ী, তা ১৯২৬ সালের ১৪ই এপ্রিল ভৈঁসোয়ারা গ্রামে ঘটে। সরকারি নথিতে লেখা আছে। এই দু’টি তারিখের মধ্যে ১২৫ জন মানুষ মারা পড়ে।’

মাইলের পর মাইল হেঁটে প্রায় হতাশ হয়ে যখন ভাবছেন শিকারই ছেড়ে দেবেন, প্রায় দৈবক্রমে তিনি চিতাটিকে শিকার করলেন। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, ঠিক তারপরেই যা লিখলেন তা কোন দক্ষ শিকারীর দম্ভের আস্ফালন না, বরং পড়লে আজও মন ভিজে ওঠে।

‘এখানে পড়ে আছে একটি বুড়ো চিতা, অন্য চিতাদের সঙ্গে ওর এইমাত্র তফাত, যে ওর মুখটা ধূসর, ঠোঁটের উপর গোঁফ নেই। ভারতবর্ষে সবার চেয়ে ঘৃণ্য এবং সন্ত্রাসকারী জন্তু, যার একমাত্র অপরাধ—প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু মানুষের নিয়মের বিরুদ্ধে—সে মানুষের রক্তপাত করেছে। মানুষকে আতঙ্কিত করার জন্য নয়, শুধু নিজের প্রাণ রক্ষার জন্য। সে এখন গর্তের ধারে থুতনি রেখে শুয়ে আছে, চোখদু’টি আধবোজা, তার শেষ ঘুমে শান্তি মগ্ন।’ অন্য আর দশটা শিকারীর থেকে এক মূহূর্তে জিম করবেট আলাদা হয়ে যান এখানেই। তাঁর শিকার নিতান্ত অভিযান, অ্যাডভেঞ্চার কিংবা স্পোর্টের জন্য নয়। মনেপ্রাণে তিনি বিশ্বাস করতেন, ‘বাঘ উদারহৃদয় ভদ্রলোক। সীমাহীন তার সাহস। যে দিন বাঘকে বিলোপ করে দেওয়া হবে, যদি বাঘের সপক্ষে জনমত গড়ে না ওঠে বাঘ লোপ পাবেই, তা হলে ভারতের শ্রেষ্ঠতম প্রাণীর বিলোপে ভারত দরিদ্রতরই হবে।’ একমাত্র যখনই কোন বাঘ সাধারণ, নিরপরাধ মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, একমাত্র তখনই ঝলসে উঠেছে তাঁর রাইফেল। ১৯৩৮ সালের ৩০ নভেম্বর থাক-এর মানুষখেকো বাঘিনিকে হত্যার পর অফিসিয়ালি শিকার ত্যাগ করলেন। তারপর মেতে উঠলেন বাঘেদের অভয়াশ্রম তৈরির কাজে। বহু ভারতীয়কে নিঃস্বার্থ ভাবে সাহায্য করেছেন শুধু এই বিশ্বাসে, ‘ভারতীয়রা বেইমানি করে না।’

১৯৪৪ সালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশ পায় রেমন্ড শেপার্ডের ছবিতে সাজানো তাঁর লেখা বই ‘Man-Eaters of Kumaon’। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বেস্ট সেলার। এক বছরের মধ্যে হু-হু করে বিক্রি হয়ে যায় প্রায় লাখ পাঁচেক বই। এই বইয়েরই বাংলা অনুবাদের অদ্ভুত সুন্দর এক মলাট করেছিলেন সত্যজিৎ রায়। ১৯৫৩-এ প্রকাশিত প্রচ্ছদে দু’-মলাট জোড়া কালো আর হলদে বাঘের ছাল যেন ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। নীচের দিকে গুলির গর্ত যা পিছনের দিকে ফুঁড়ে চলে গেছে। গুলি ঢোকার সময় ফুটো ছোটো হয়। ফুঁড়ে বেরোবার সময় চ্যাপ্টা ও বড়ো হয়। সেটাও প্রচ্ছদ তৈরির সময় মাথায় রেখেছেন সত্যজিৎ। লেখক হলেও বেস্ট সেলার হতেন জিম। কিন্তু বই লিখলেন মাত্র ছ’টি।

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হল। নভেম্বরে বোন ম্যাগিকে সঙ্গে নিয়ে এস. এস. অ্যারোন্দা জাহাজে মোম্বাসা আর সেখান থেকে নাইরোবি হয়ে নায়েরি শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেন জিম। ১৯৫৫ সালে আচমকা না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার আগে পর্যন্ত ওখানেই ছিলেন। আসলে জিমের ভয় ছিল স্বাধীন ভারতে হয়তো তাঁর উপরে অত্যাচার নেমে আসবে । জন্মসূত্রে ইংরেজ হওয়ায় তিনি হয়তো সুবিচার পাবেন না। তাঁর প্রিয় ভারতভূমি ছেড়ে যাবার আগে নৈনিতালের বাড়ি বিক্রি করে বহুদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী রাইফেল ও বন্দুকগুলো গভীর জঙ্গলে ‘সমাধিস্থ’ করে এসেছিলেন ভারতের সেরা শিকারী, যিনি মনেপ্রাণে চিরকাল এক ভারতীয় হয়েই থেকে গিয়েছেন। তা না হলে কে এমন করে লিখতে পারে-
‘আমার ভারত, যে ভারতকে আমি জানি, সেই ভারতে যে চল্লিশ কোটি মানুষের বাস, তার মধ্যে শতকরা নব্বই জনই সরল, সৎ, সাহসী, আর কঠোর পরিশ্রমী। ... সত্যিই এরা বড় গরিব। এদের প্রায়শই ‘ভারতের বুভুক্ষু কোটি-কোটি মানুষ’ বলে বর্ণনা করা হয়ে থাকে। এদের মধ্যেই আমি বাস করেছি এবং এদের আমি ভালোবাসি। এই নরনারীদের কথাই এই বইয়ের পাতায় বলার চেষ্টা করেছি। আমার বন্ধু, ভারতের সেই গরিবদের উদ্দেশে আমি আমার এই বইখানি শ্রদ্ধাভরে উৎসর্গ করলাম।’

জন্মের সার্ধশতবর্ষে এই মনীষীকে প্রণাম।

জিম করবেট ১৫০। বর্তমান পত্রিকায় গত ২০ জুলাই প্রকাশিত।

লেখক - কৌশিক মজুমদার

বই :- অরবিন্দু সিরিজলেখক :- সানোয়ার হোসেন
28/04/2026

বই :- অরবিন্দু সিরিজ
লেখক :- সানোয়ার হোসেন

জাস্ট কল্পনা করুন! 💔উইঘুর মুসলিমদের সম্পর্কে জানতে আপনাকে কাশগড় বইটি পড়তে হবে, তাহলে আরো ভালোভাবে জানতে পারবেন তাদের অবস...
06/04/2026

জাস্ট কল্পনা করুন! 💔

উইঘুর মুসলিমদের সম্পর্কে জানতে আপনাকে কাশগড় বইটি পড়তে হবে, তাহলে আরো ভালোভাবে জানতে পারবেন তাদের অবস্থা। কাশগড় বইটি মূলত উইঘুর মুসলিমদের নিয়ে লেখা একটা বই।
©

Address

Faculty Of Business Studies (FBS), University Of Dhaka
Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sajid's Book & Thoughts posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category