18/07/2026
আচ্ছা, নটরডেম, হলিক্রস, রেসিডেন্সিয়াল, সেন্ট যোশেফ, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কিংবা রাজউক কলেজের ছেলেমেয়েরা কি এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে না এবার? ওদের কোন সাক্ষাৎকার কেউ কেন নিচ্ছেন না? ওরা কি আন্দোলনে আসছে না নাকি ওরা প্রতিবাদ করার মত সাহসী না? সব সাহস মাইলস্টোন কলেজের এই বাচ্চা মেয়েটার!
আন্দোলনে যে পরিমান excitement এবং enthusiasm তার মধ্যে দেখা গেল, জানার খুব ইচ্ছা ক্লাসের পড়ায় তার পারফরমেন্স কি? তার কলেজের পরীক্ষাগুলোর রিপোর্ট চেক করা হোক। মাইলস্টোন কলেজ উত্তরায়। তার বাসা নিশ্চয়ই বন্যা কবলিত অঞ্চলে নয়। যদি পরীক্ষার হল দুর্গম কোন অঞ্চলে হয়েও থাকে তাহলে কলেজ কর্তৃপক্ষ চাইলেই যানবাহনের ব্যবস্থা করতে পারত। ওর দাবিটা কি? বৃষ্টির মধ্যে পরীক্ষা হয়েছে সেটা নাকি প্রশ্ন কঠিন হয়েছে সেটা?
সারাবছর পড়েনি, এখনো পড়ছে না। সারা বছরের ফাঁকিবাজি মাফ করানোর এগুলো একটা কৌশল মাত্র!কিছু স্টুডেন্টদের পরীক্ষা দুই বছর পিছালেও এদের রেজাল্টের আদৌ কোন তারতম্য হবে কিনা অনিশ্চিত।
ওরা যেভাবে শিক্ষামন্ত্রীকে নাম ধরে ডাকছে মনে হয় তিনি ওদের বাল্যবন্ধু! অথচ ওদের বাবা-মার আমলেও তিনিই শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।
আর ওদের অনেকের এই ধৃষ্টতা এবং ঔদ্ধত্যের কারণ ওরা মনে করে যে ওরা একাই নাকি সরকার ফেলে দিয়েছিল! বোকার স্বর্গ আর কাকে বলে! সারাদেশের মানুষ একযোগে সে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিল। সন্তানসম শিক্ষার্থীদের পরিণতি তারা মেনে নিতে পারছিল না তাই নিজেদের জীবন বিপন্ন করে হলেও রাস্তায় নেমেছিল। নাহলে তোমরা বুঝতে কত ধানে কত চাল! আর অন্তরবর্তীকালীন সরকারের আমলে তোমাদেরকে অতিরিক্ত indulged করা হয়েছে। যা ভুল ছিল।
তারা নিজেরা সারাদিন দাদার বয়সী শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে গালিগালাজ করছে, অশ্লীল কটুক্তি করছে, সেটা সমস্যা হচ্ছে না, তিনি স্নেহবশত একটা মন্তব্য করে ফেলেছেন তাও আবার পাবলিকলি না, সেটা খুব গায়ে লেগে গেল? হাসু আপার মুখের ভাষার উদাহরণ দিচ্ছে এখন তারা, নিজেদের ভাষাটা কেন খেয়াল করছে না? নিজেদের ভাষা ঠিক না করলে যে কারণে আন্দোলনটা করছে, আন্দোলনের উদ্দেশ্য, বিধেয় সবই ব্যর্থ হবে। সাধারণ মানুষ কখনোই একাত্ম হবে না।
আমাদের সময়েও অনেকে গলা সমান, কোমর সমান পানি পার হয়ে স্কুলে যেতো, পরীক্ষা দিতো, তারও আগে মাইলের পর মাইল হেঁটে স্কুল কলেজে যেতো অনেকে, কিন্ত তখন মোবাইল ক্যামেরা ছিল না, এভাবে হাইলাইট করে দেখানোর জন্য কোন হৃদয়বান সাংবাদিক ছিল না, ফেসবুক ছিলনা, মনিটাইজেশন ছিল না, তাৎক্ষণিক সংবাদ প্রচারের সুযোগও ছিল না।
সেই প্রজন্মের যেকোন প্রতিনিধির কাছে আজকের প্রজন্মের যে কাউকে ফার্মের মুরগি মনে হবে কারণ সে পরিমাণ পরিশ্রম আমাদের সন্তানরা করে না এখন। আমরা তো সত্যিই ঘরে ঘরে ভালোবেসে কয়েকটা করে ফার্মের মুরগি প্রতিপালন করি! বেচারা বাবা মায়েরা পড়েছে উভয় সংকটে।
কিন্তু অতীতে কেউ কষ্ট করেছে বলেই বর্তমান প্রজন্মকেও একই কষ্ট সহ্য করতে হবে, এমনটা তো হওয়ার কথা ছিল না। কিন্ত হচ্ছে কারণ আমাদের আচরণে কোন পরিবর্তন আসেনি, আমরা এখনো রাস্তার পাশে ড্রেনে ময়লা ফেলে নিষ্কাশন ব্যবস্থা আটকে দেই, আমাদের নগরায়নের পরিকল্পনায় কোন আপডেট আসেনি। তাই এত বছর পরও একই জলাবদ্ধতা, একই দুর্ভোগ থেকে যাচ্ছে।
অনেকেই ভেজা কাপড়ে পরীক্ষা দেওয়া বা পিরিয়ড ম্যানেজমেন্টের কথা বলছেন। কিন্তু পৃথিবীর প্রায় সব সমস্যারই কিছু না কিছু প্রস্তুতি বা বিকল্প ব্যবস্থা থাকে। আমাদের সময়ও বর্ষাকাল বলে একটা ঋতু ছিল এবং তখনো স্কুল-কলেজে যেতে হতো। অনেককেই দেখেছি ব্যাগে বা পলিথিনে করে স্কুল ড্রেস নিয়ে আসত। স্কুলে গিয়ে ভেজা কাপড় বদলে নিয়ে তারপর ক্লাস বা পরীক্ষা দিত।
তখন মোবাইল ছিল না, ফেসবুক ছিল না, তবুও অনেকেই নিজের প্রয়োজনীয় বিষয়ে আগে থেকেই preparation নিয়ে রাখত। আজ তথ্যপ্রযুক্তি এত সহজলভ্য হওয়ার পরও ব্যক্তিগত প্রস্তুতি ও পিরিয়ড ম্যানেজমেন্টের বিষয়টি কি আরও গুরুত্ব দিয়ে শেখা ও চর্চা করা উচিত নয়?
এখনকার বাচ্চাদের এমন আচরণ আর ব্যবহার দেখে next year এর পরীক্ষার্থীরাও এগুলোই শিখবে, এটাই সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। সামান্য কিছু হলেই আন্দোলন, অসহিষ্ণুতা, অস্থিরতা, উত্তেজনা, অসভ্যতা, অশ্লীলতা, সবকিছুরই যেন লাগাম ছুটে যাচ্ছে।
পরীক্ষা এক বছর না দিলে আরেক বছর দেওয়া যায়। এক পেশায় না গেলে অন্য পেশায় যাওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে না পারলে তার পরিণতি কী হবে? সবার আগে তো মানুষ হওয়া দরকার, সততা, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও দায়িত্ববোধ শেখা দরকার। এরপর না হয় পরীক্ষার্থী, পেশাজীবী বা অন্য কিছু হওয়া যাবে।
শেষ পর্যন্ত ডিগ্রি নয়, মানুষ হিসেবে পরিচয়-ই তো সবচেয়ে বড় পরিচয়। পরীক্ষার ফলাফল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মাত্র, পুরো জীবন তো আর নয়।