BCS Preparation in English and GK

BCS Preparation in English and GK It is Only for Educational Website.

30/07/2025

প্রাইমারি স্কুলের ২,৩৮২ -টি শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে শীঘ্রই সার্কুলার প্রকাশ করবে পিএসসি!
সূত্র: প্রথম আলো

09/08/2023

বিসিএস নিয়ে প্রচলিত কিছু মিথ যা আমি মানি নি-

(প্রথমেই বলে নিচ্ছি এটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা।হয়তোবা বেসিক একটু স্ট্রং আর ভাগ্য ভালো বলেই এগুলো না মেনেও আমি একটি ভালো অবস্থানে আসতে পেরেছি।মনে হতে পারে আজ কিছুটা সফল হওয়ায় জ্ঞান দিচ্ছি।ব্যাপারটা আসলে তা নয়।আপনি এগুলো মানবেন কি না সেটি পুরোপুরি আপনার সিদ্ধান্ত।আমি শুধু আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।)

১/ বিসিএসের জন্য স্মার্টফোন বাদ দিয়ে বাটন ফোন কিনে ২-৩ বছর অনলাইনের বাইরে থাকতে হবে।

- না ভাই,আমাদের জীবনটা অনেক ছোটো এবং অনিশ্চিত।ঠুনকো এই জীবনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং এডভেঞ্চারাস সময় থেকে মূল্যবান ২-৩ বছর আমি নিজেকে বঞ্চিত করার পক্ষপাতী ছিলাম না।আপনার ব্যক্তিগত জীবনের একটা অংশ চাকরি।এটি কখনোই ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে বড় কিছু না।আপনি এই ২-৩ বছরে যে বন্ধুদের হারাবেন তাদের আর কখনোই ফিরে পাবেন না।আপনি হয়তোবা ভালো একটা চাকরি পাবেন,অনেক টাকা পাবেন,কিন্তু এই সময়টা আর কখনো ফেরত পাবেন না।কাজেই চাকরির জন্য নিজের শখ-আহ্লাদ মাটিচাপা দেয়ার পক্ষপাতী আমি ছিলাম না।

২/কোচিং ছাড়া ভালো করা যায় না।

-কোচিং আপনাকে পথ দেখিয়ে দিলেও সেই পথে হাটার দায়িত্ব সম্পুর্ণ আপনার। আবার পথ চিনতেই যদি আপনার বেশিরভাগ সময় চলে যায় তখন সময়মতো গন্তব্যে পৌছানোও কষ্ট হয়ে যায়।তাছাড়া বিসিএস মানে আমি মনে করি অনেক প্রার্থী হতে বেশিরভাগ প্রার্থীকে বাদ দেয়ার একটি প্রক্রিয়া।সেজন্য আমি চাইনি কোচিং এর গতানুগতিক পড়াশোনা করতে।তখন অবচেতনভাবে অন্ধ অনুকরণের সম্ভাবনা থেকে যায়।নিজেকে যাচাই করার জন্য পরীক্ষা দেয়া যায় কোচিং এ,যদিও ব্যস্ততার জন্য সেইটাও দেয়া হয়নি আমার।কোচিং এর জন্য রাখা সময়টাকে নিজের ঘাটতি পূরণ করার জন্য কাজে লাগানো যায়।কোচিং এ গেলে রুটিন মেইনটেইন করা যায়,সবকিছু সাজানো পাওয়া যায়,অন্যদের সাথে তুলনা করা যায় নিজেকে-এগুলো কোচিং এর পজিটিভ দিক।তবে কোচিং ছাড়া ভালো করা যায় না এটা আমি বিশ্বাস করি না।বিশেষত প্রিলিমিনারিতে কোচিং এর কোনো প্রয়োজন ই নেই।নিজের লক্ষ্য স্থির করে পরিশ্রম করতে পারলেই হয়।

৩/ লিখিত খাতায় ডাটা-কোটেশন-ম্যাপ না দিলে মার্ক আসে না।

-আমি আজ পর্যন্ত তিনটা বিসিএস রিটেন এবং চারটা নবম গ্রেডের ব্যাংক রিটেন দিছি,এর মাঝে ৪১ বিসিএস এ তো নিজের প্রথম পছন্দের ক্যাডারেই সুপারিশপ্রাপ্ত হইলাম,পাশাপাশি তিনটা ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে জব হইছিলো,এন এস আই এডির রিটেন পাশ করছিলাম,বাংলাদেশ ব্যাংক এডির ভাইবা দিয়ে আসছিলাম।কাজেই লিখিত তে খুব একটা বাজে মার্ক পাই নাই।
অনেকেই যেটা বিশ্বাস করবে না সেটা হলো এই পরীক্ষা গুলোর একটাতেও আমি কোনো কোটেশন ইউজ করি নাই,ডাটা দিয়ে খাতা ভরাই নাই,হয়তো পুরো খাতায় এক দুইটা সংখ্যা দিছি,টেবিল ও না।বাংলাদেশ আর আন্তর্জাতিক লিখিত খাতায় দুইটা করে ম্যাপ আঁকছিলাম শুধু।আমি অনেক চাকরি প্রার্থীকে দেখেছি ডাটা কোটেশন মুখস্থ করতে করতে তারা বেসিক জিনিসগুলো পড়ারই সময় পায় না। এই ব্যাপারটার জন্য দায়ী কোচিং সেন্টার আর বই ব্যাবসায়ীরা।পরীক্ষক আপনার খাতায় সংখ্যা আর উক্তি কতটা মুখস্থ করতে পারলেন সেটা দেখতে আসেন না।আপনি প্রশ্নটা কতটা বুঝতে পারলেন এবং সেই অনুযায়ী সহজ ভাষায় নিজের উত্তর প্রাসঙ্গিক ভাবে উপস্থাপন করতে পারলেই সেটাই মুখ্য।ডাটা কোটেশন দেয়া অবশ্যই ভালো, তবে সেটা অলংকার হিসেবে।আর শরীরের জামার চেয়ে অলংকার বেশি হলে সেটা দেখতে খুব একটা ভালো দেখায় বলে মনে হয় না।

৪/ ভোকাবুলারির নামে কঠিন কঠিন ইংরেজি শব্দ না লিখলে ইংরেজিতে ভালো মার্ক্স আসে না।

-আমার কাছে আজ পর্যন্ত যতজন সাজেশন চেয়েছে তাদের বেশিরভাগেরই প্রধান ভয় ছিলো ইংরেজি নিয়ে। ইংরেজিতে ভালো করার জন্য কঠিন কঠিন শব্দ মুখস্থ করার কোনো মানেই নাই।কঠিন ভাষায় লেখা এক পৃষ্ঠা ইংরেজি পড়তে গেলে দুই তিন লাইন পড়েই আর সামনে যেতে ইচ্ছা করবে না।অপরদিকে প্রাঞ্জল, সহজ ভাষায় লেখা ইংরেজিতে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠাও পড়া যায়।আমি সবসময় চিন্তা করতাম যে আমি যদি পরীক্ষক হই তখন কেমন লেখা পড়তে আমার ভালো লাগবে।আমার নীতি ছিলো সহজ-সরল।অলংকার যেন জামাকে ঢেকে না দেয়।এজন্য ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং প্র‍্যাক্টিস করা সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়।সহজ ভাবে একেবারে প্রচলিত ভাষায় প্রতিদিন এক পৃষ্ঠা করে ইংরেজিতে লিখলে অল্পদিনের মাঝেই যে কারো ইংরেজি ভীতি কেটে উঠবে এ ব্যাপারে আমি নি:সন্দেহ।ইংরেজি মুভি দেখা ও অন্যতম কার্যকরী উপায় নিজের ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানোর জন্য।

৫/ প্রিলিমিনারিতে বেশি দাগানো লাগে না।

-এই ব্যাপারে আমার ক্যাম্পাসে আমার একটু নামডাক ছিলো 😎।পারতপক্ষে আমি কোনো প্রশ্ন ছেড়ে আসতাম না,নেগেটিভ মার্ক্স থাকুক না নাই থাকুক।আমি নিজের সামর্থ্যের উপর বিশ্বাস রাখতাম যে আমি অনুমানে ৫টা দাগাইলে এর মাঝে অন্তত ২ টা হবেই।যত কম দাগানো হয় বেশি মার্ক্স পাবার সম্ভাবনা তত কমে।নিজের হাতে নিজের সম্ভাবনা কমানো অনুচিত মনে হয় আমার কাছে।

৬/ এক সাব্জেক্ট এ দুর্বল থাকলে অন্য সাব্জেক্ট দিয়ে পোষানো যাবে।

-বিসিএস এ আপনি এই নীতিতে চললে একসময় না একসময় ধরা খাবেন ই।আপনি যে সাব্জেক্ট দিয়ে পোষানোর চিন্তা করবেন সেই সাব্জেক্ট এর প্রশ্ন কঠিন হলে ভুগতে হবে আপনাকে।এজন্য আপনার প্রথম কাজ হবে দুর্বলতা দূর করার চেষ্টা করা আর যে সাব্জেক্ট এ আপনি শক্তিশালী সেটায় শতভাগ মার্ক উঠানোর মনোভাব রাখা।গণিত আমার প্রিয় সাব্জেক্ট। প্রিলি পরীক্ষায় সবসময় আমার চেষ্টা থাকতো ম্যাথ-মেন্টাল এবিলিটিতে ৩০ এ ৩০ উঠানোর।১ মার্ক ছুটলেও নিজেকে ব্যর্থ মনে হতো।রিটেনে দুইটাতে ১০০র মাঝে ৯৮.৫ ছিলো আমার।চাকরির পরীক্ষায় ভালো করতে চাইলে ম্যাথ আর ইংরেজিতে দুর্বলতা কাটানো আপনার জন্য ফরজ।অন্য বিষয় দিয়ে এইটা আপনি কখনোই পোষাইতে পারবেন না।ব্যতিক্রম দুই একজন থাকতে পারে,ব্যতিক্রম কখনোই উদাহরণ না।বিসিএসের মাঠে নামার আগেই নাইন টেন লেভেলের ম্যাথ আর বেসিক ইংলিশ রিডিং-রাইটিং ঠিক করে আসতে হবে,নইলে চোখে অন্ধকার দেখা ছাড়া উপায় থাকবে না।

৭/ বিসিএস আর ব্যাংকের প্রিপারেশন আলাদা নেয়া লাগে।

-পুরোপুরি বাজে একটা কথা।বিসিএসের জন্য আপনি যে প্রিপারেশন নিবেন তার সাথে অল্প কিছু যুক্ত করলেই ব্যাংকের প্রিপারেশন ও হয়ে যাবে আপনার। একটু এডভান্সড লেভেলের ম্যাথ করতে হবে ইংরেজিতে,অল্প সময়ে।বিসিএসের জন্য যে প্যাসেজ আপনি বাংলায় পড়ছেন সেটাই ব্যাংকে লিখতে হবে ইংরেজিতে। ইংরেজি বেসিক ঠিক করে ফেলতে পারলে আর ট্রান্সলেশন প্র‍্যাক্টিস করলে বিসিএস আর ব্যাংক কখনোই আলাদা রাস্তা হয়ে থাকবে না আপনার কাছে।

৮/ রিটেন খাতায় পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা না লিখলে মার্কস পাওয়া যায়না।

-৪১ বিসিএসের রিটেনে আমাদের রুমের এক আপুর পেইজ নেয়ার স্পিড দেখে প্রতিদিন হতাশ হয়ে যাইতাম।আমাদের খাতা অর্ধেক আসার আগেই উনার লেখা শেষ হয়ে যাইতো।খাতা সেলাই করার সময় মনে হইতো কয়েকজনের খাতা একসাথে সেলাই হচ্ছে।কৌতুহল বশত আমি আপুর রোল রেখে দিছিলাম রেজাল্ট দেখার জন্য,উনার নন ক্যাডার আসছে।আসলে পেইজ গুণে বিসিএসে কখনোই আপনাকে মার্ক্স দিবে না।লেখার কোয়ালিটি বজায় রেখে হাতের লেখা সুন্দর রাখতে পারলে আর কাটাকাটি না করলে খুব সহজেই সেই খাতা আলাদা নজর কাড়বে।একটু স্পিডে লেখা ভালো,কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে সেই স্পিডের জন্য হাতের লেখা যেন এমন না হয় যে পরীক্ষক এক পৃষ্ঠা পড়ে পরের পৃষ্ঠাগুলো বুঝতে না পেরে স্কিপ করতে বাধ্য হন।আমার রুমে মেইবি আমিই সবচেয়ে কম পেইজ নিতাম,পেইজ বাড়ানোর চেয়ে আমার মনোযোগ থাকতো হাতের লেখা সুন্দর রাখার দিকে।আমার স্ট্রাটেজি ছিলো পরীক্ষক তো সবার খাতাতেই অনেক পেইজ পাবে,আমার খাতায় যেন পেইজের চেয়ে হাতের লেখার জন্য উনি আকৃষ্ট হন।হয়তোবা আমি আমার স্ট্রাটেজিতে সফল।

৯/ অন্যদের অনেক পড়াশোনা দেখে হতাশ হওয়া।

-একেকজনের পড়া মনে রাখতে পারার সামর্থ্য, ধৈর্য্য একেকরকম।কাজেই আপনার যে বন্ধু বা বড়ভাই সারাদিন রাত পড়ে তার সাথে তুলনা করে নিজে নিজে হতাশ হবেন না।আমার বন্ধুরা,বড়ভাইরা একেকজন যে পরিমাণ পরিশ্রমী,তাদের সাথে তুলনা করলে আজকে আমি হতাশার সর্বনিম্ন স্তরে থাকতাম।সবসময় চেষ্টা করবেন আপনি যাতে এফিশিয়েন্টলি আপনার সময়টা কাজে লাগাতে পারেন।যতক্ষণ পড়লে আপনার মনে থাকে ততক্ষণ ই পড়েন,ব্রেক নেন,আবার পড়েন,খেলাধুলা করেন,মুভি দেখেন।অন্যদের অনুসরণ করতে গিয়ে লাইফটাকে মরীচিকার দিকে ধাবিত কইরেন না।

বিসিএস খুবই কঠিন,যদি আপনি নিজেকে ঠিকভাবে প্রস্তুত না করে মাঠে নেমে পড়েন।আপনি আপনার শক্তির জায়গা এবং দুর্বলতা খুঁজে বের করেন।দুর্বলতা কাটানোর চেষ্টা করেন,শক্তির জায়গা আরও শাণিত করেন।যখন পড়লে আপনার বেশি মনে থাকে তখন পড়েন,আমি ৪১ প্রিলির আগে ২ মাস সন্ধ্যা ৬ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত পড়ছি কারণ ওই সময়টা সব নীরব থাকে,আমার মনে হইছে তখন পড়াটা বেশি মনে থাকবে আমার।নিজের উপর অযাচিত চাপ না নিয়ে সময় ভাগ করে করে প্রিপারেশন নেন।ইনশাআল্লাহ সফলতা আসবেই।বিসিএসের সিলেবাস ভালো করে শেষ করলে বিসিএস যদি না ও হয়,একটা সরকারি চাকরি আপনার হবেই।প্রয়োজন শুধু ধৈর্য্য, একাগ্রতা,পরিশ্রম,অধ্যাবসায় আর লক্ষ্যে পৌছানোর দুর্দমনীয় প্রচেষ্টা।ইনশাআল্লাহ পরম করুণাময় সবার মনের ইচ্ছা পূরণ করবেন।
✍️✍️
মো: নাজমুস শাহাদাত ফাহিম
সুপারিশপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
মেধাক্রম-২০

06/05/2023
05/05/2023

লিখেছেন:মোঃ রাকিবুর রহমান
বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত
মেধাক্রম- ৮ম
বিসিএস একটি স্বপ্নের নাম; আমার স্বপ্নের আদ্যোপান্ত শোনাতে চাই আপনাদের। শুরুতেই বলতে চাই, কয়েক দিন, কয়েক মাস হুটহাট পড়াশোনা করেই আমি বিসিএস ক্যাডার হয়নি; আমি প্রায় ৫ বছরে অসংখ্য হাজার ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি; শত রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি (পড়াশোনা+টেনশনে); বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়দের ফোন রিসিভ করিনি, দেখা করিনি, ব্যস্ততা দেখেয়েছি; হাজার বার আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করেছি; তারপর আমি প্রথম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি (আলহামদুলিল্লাহ)।
বি.দ্র. আমার লেখাটি বিসিএস পরীক্ষার দিক-নির্দেশনামূলক নয়, কোন পরিক্ষার্থী এই লেখাটি পড়ে সরাসরি উপকৃত হবেন না। এখানে আমি একান্তই আমার স্বপ্ন, জার্নি, প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি নিয়ে আলোকপাত করেছি। বিসিএস সম্পর্কিত এটি আমার প্রথম ও সম্ভবত শেষ লেখা।
আমার বিসিএস জার্নি শুরু হওয়ার আগের কিছু কথা বলতে চাই।
প্রথমত, পুলিশ হওয়ার ইচ্ছেটা আমার ছোটবেলার নয়। বাবার স্বপ্ন ছিল আইনজীবী হবো, সেই স্বপ্নের লক্ষ্যে আমার ছুটে চলা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রবল ইচ্ছে ছিল একাদশ শ্রেণি থেকেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ হলেও, আইন বিভাগে পড়ার সুযোগ হয়নি আমার।
দ্বিতীয়ত, যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের জীবন পার করছিলাম, তখন হলের বড় ভাইদের কাছে 'বিসিএস' শব্দটা প্রায়শই শুনতাম। আমার ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, কলেজের শিক্ষকরাও বিসিএস দিতে হবে- এরকম কথাবার্তা বলতে শুরু করলো। আমি তখনও বিসিএস দিবো কি, দিবো না বা বিসিএস আসলেই কি, কেন দিব- এব্যাপারে কিছুই জানতাম না। হঠাৎ একদিন ৩৪তম বিসিএসের ফল প্রকাশিত হলো৷ আমাদের হলে হৈ-হুল্লোড় পড়ে গেল। হলের অনেক বড় ভাই বিসিএস ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন; তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হলাম। আমাদের ডিপার্টমেন্টে পড়াশোনার তেমন চাপ থাকতো না (যদিও পড়াশোনা ছিল অত্যন্ত কঠিন), তাই তখন থেকে বিসিএস সম্পর্কিত পড়াশোনা শুরু করবো বলেই মন স্থির করলাম।
পটভূমিকাঃ
চাকুরির প্রস্তুতি নেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথম বই কিনলাম সাইফুর'স ভোকাবুলারি। তখন হয়ত দ্বিতীয় বর্ষে উঠেছি মাত্র। কয়েকদিন পড়লাম। কিন্তু সেটা বেশিদিন পড়ার ধৈর্য হয়নি। একরাতে আমার এক ফ্রেন্ড লাইব্রেরিতে যাওয়ার পরামর্শ দিল। পরেরদিন সকালে কিছু পুরোনো চাকুরির বই নিয়ে লাইব্রেরিতে যাই। কিছুদিন যাওয়ার পরে মনে হলো, এইসব বই-পুস্তক না পড়ে বিসিএস রিটেনের বই পড়ি। তাই করলাম, নীলক্ষেত থেকে পুরোনো কিছু লিখিত বই কিনে নিয়ে আসলাম। পড়া শুরু করলাম (এটা কোন ভাল ডিসিশন ছিল না, কিন্তু আমি তখন বুঝতাম না কি পড়া উচিত)। কয়েকদিন যেতেই ওই বইগুলো পড়ার ধৈর্যও হারালাম। পরে অনেকদিন আর লাইব্রেরি যাইনি। আমার জীবনের অন্যতম বাজে সময় কাটিয়েছি এসময়। সিন্ধান্ত নিতে পারছিলাম কোন ব্যাপারেই; বিসিএসের জন্য পড়বো নাকি অন্য কিছু নিয়ে ভাববো, যদি বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ারই চিন্তা করি , তাহলে কিভাবে শুরু করবো, কোন বই পড়বো ইত্যাদি চিন্তা আমার মাথায়। এভাবে অগোছালোভাবেই আমার জার্নি শুরু হয়। এতে আমার অনেক সময় নষ্ট হলেও, অনেক বিষয়ে অভিজ্ঞতা হয়। বিভিন্ন বই-পুস্তকে চোখ বুলানোর সুযোগ হওয়ায়, কোন বইয়ের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু সেবিষয়ে ভাল ধারণা হয়।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতিঃ
দ্বিতীয় বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কিছু পড়িনি। তৃতীয় বর্ষের মাঝামাঝি সময়ে এসে আবার স্থির করলাম- সিরিয়াসলি পড়াশোনা শুরু করবো। ওরাকল ম্যাথ ও ওরাকল বিজ্ঞান বই কিনে পুরোদমে পড়া শুরু করলাম। এবার পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছিলাম। আমার কৌশল ছিল- একটা করে বই কিনবো, ওটা পুরোপুরি পড়া শেষ হলে আরেকটা নতুন বই কিনবো। এভাবে একেকটা বিষয়ভিত্তিক বই পড়তে আমার ১.৫-২ মাস সময় লেগে যেত। চতুর্থ বর্ষের পুরোটা সময় আমি বিসিএস সম্পর্কিত বই পড়ি (ওরাকল সিরিজের বই পড়েছিলাম; বইগুলো বিস্তারিত লেখা, কিন্তু অনেক অপ্রয়োজনীয় জিনিসে ভরপুর। বইগুলোর আলোচনার পরিধি বড় হওয়ায়, অনেকে ওরাকল সিরিজের বই পড়তে ভয় পেত। আমি বড় আকারের বইগুলোই বেছে নিলাম। পাশাপাশি বাংলাদেশ, বিজ্ঞান, ভূগোল ও গনিতের টেক্সট বইগুলোও পড়লাম। অর্থাৎ, আমি অন্যদের তুলনায় ভাল প্রস্তুতি নিতে চেষ্টা করেছিলাম) সেপ্টেম্বর, ২০১৮ তে ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার সার্কুলার হয়। অনেক জল্পনা-কল্পনার পর আমরা ২০১৪-১৫ সেশন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাই ( ডিপার্টমেন্ট এর স্যারদের অনুরোধ করে পরীক্ষা কিছুদিন এগিয়ে নিয়ে এপেয়ার্ড দিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাই)। ২০১৮ সালের শেষের দিকে এসে খেয়াল করলাম শুধু 'আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি' ছাড়া অন্যান্য সব বিষয়ে একবার করে পড়া হয়ে গিয়েছে। আমি বিষয়ভিত্তিক বইগুলো রিভিশন করা শুরু করলাম। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ৪-৫ মাস আগে থেকে আমি আর নতুন কোন বই পড়িনি, পুরোনো বইগুলো রিভিশন করেছি। আমার কাছে মনে হয়- পড়াশোনার পরিধি কম হলেও সমস্যা নেই, বরং বারবার রিভিশন করে সব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকাই উত্তম। কারণ, বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় ফেল করার সবচেয়ে বড় কারন নেগেটিভ মার্কিং (প্রতি ভুল উত্তরের জন্য .৫০)। তাই নেগেটিভ মার্কিং থেকে বাচতে একই পড়াগুলো ৩/৪ বার করে রিভিশন করাটা জরুরি। মোটামুটি ভাল প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও, পরীক্ষার আগে মারাত্মক টেনশন কাজ করছিল। বিসিএস প্রিলিমিনারি ছাড়া অন্যকোন চাকরির পরীক্ষা দেওয়ার পূর্ব-অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই টেনশন একটু বেশি কাজ করছিল। পরীক্ষার আগেই অসুস্থ হয়ে গেলাম। পরীক্ষার আগের দিন সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত বিছানা থেকে উঠতে পারিনি। আমি ধরেই নিয়েছলাম- আগামীকাল আমি পরীক্ষায় বসতে পারবো না।
আল্লাহর অশেষ রহমতে ৩ মে, ২০১৯ তারিখে ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিলাম। প্রশ্ন মোটামুটি সহজ মনে হলো। টাইম ম্যানেজমেন্টও ভাল হল। কিন্তু পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে এসে দেখি মাত্র ১২৩-১২৫টা কোশ্চেন উত্তর করেছি। খুব মন খারাপ হলো। তবে সেরকম একটা ভুল দাগাইনি, অর্থাৎ নেগেটিভ মার্কিং কম হবে। পাশ করবো কিনা, নিশ্চিত ছিলাম না। আমার প্রস্তুতি ভাল ছিল, তাই আমার মন বেশি খারাপ হতো। আশেপাশের সবাই মানসিকভাবে শক্ত হতে বললেও, আমার খুব মন খারাপ হতো। আমি মেনে নিতে চাইতাম না- আমার এতোদিনের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও আমি ফেল করবো। প্রায় আড়াই মাস পরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলো। আলহামদুলিল্লাহ, আমি লিখিত পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেলাম।
( আমি অনেক কম প্রশ্ন উত্তর করেছিলাম, তারপরেও পাশ করার পিছনে দুইটা কারন ছিল। ১. আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করেছেন; ২. আমি বারবার পড়া রিভিশন করেছিলাম, এতে আমি পরীক্ষার হলে কনফিউজড হয়ে যাইনি, শতভাগ নিশ্চিত ধরেই প্রশ্নগুলোর উত্তর করি, এরপরেও ৮-১০ টা প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়।)
লিখিত পরীক্ষাঃ
যেহেতু প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাশ করার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা ছিল, তাই রেসাল্ট দেওয়ার আগে লিখিত পরিক্ষার জন্য পড়াশোনা শুরু করতে পারিনি। রেসাল্ট হওয়ার পরদিন থেকেই পুরোদমে পড়াশোনা শুরু করি। লিখিত পরিক্ষার ব্যাপারে আমি সবসময় কনফিডেন্ট ছিলাম। তাই আমার মনে হত- লিখিত পরীক্ষায় বেশি মার্কস তুলতে পারলেই আমি আমার স্বপ্ন পূরন করতে পারবো; কারণ লিখিত পরীক্ষার ৯০০ মার্কস ক্যাডার পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিভাবে রিটেন প্রস্তুতি নেওয়া যায়, সেবিষয়ে সিনিয়রদের থেকে পরামর্শ নিলাম। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আমি অক্লান্ত পরিশ্রম করা শুরু করলাম।সারাদিন লাইব্রেরিতে পড়ে, রাতেও আবার রিডিং রুমে যেতাম। এই কয়েকদিনে আমি সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করলাম।( এছাড়া আমি সবসময় রেগুলার পড়াশোনা করতাম, দিনে যতটুকু সময় ম্যানেজ করা যেত ততটুকুই পড়তাম, পড়াশোনা নিয়ে জোরাজোরি করতাম না। আমি মনে করি- আমি যদি দিনে ১ ঘন্টা ম্যানেজ করতে পারি, তাহলে ১ ঘন্টাই পড়বো। কিন্তু রেগুলার পড়বো।)
আমরা মাত্র ৪ মাস সময় পেয়েছিলাম প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য। তাই অনেকে ভাল প্রস্তুতি নিতে পারেনি। কিন্তু আমি অন্যদের থেকে ব্যতিক্রম ছিলাম। অল্প সময়ের মধ্যে রাত-দিন খেটে পড়াশোনা গুছিয়ে নিলাম, নোটস করলাম, ২/৩ বার করে পড়াশোনা রিভিশন করলাম।
পরীক্ষা শুরু হল- ৪ জানুয়ারি, ২০২০। প্রথম দিন ইংরেজি পরীক্ষা তত ভাল হয়নি। প্র‍থম লিখিত পরীক্ষা ছিল, কিছু বুঝে উঠার আগেই পরীক্ষা শেষ হলো। এছাড়াও, আমি ইংরেজি ভোকাবুলারিতে দুর্বল ছিলাম; তাই পরীক্ষাটি তূলনামূলক খারাপই হল। কিন্তু বাকি পরীক্ষাগুলো আলহামদুলিল্লাহ খুব ভাল হল। এভারেজ, সব পরিক্ষায় ৬০% মার্কস পাবো বলে আশা করতাম। সম্ভাব্য মার্কস প্রাপ্তি-
ইংরেজি- ১০০
বাংলাদেশ- ১৩০+
আন্তর্জাতিক- ৭০+
বিজ্ঞান- ৫০+
গনিত- ৪৫, মানসিক দক্ষতা- ৩০+
বাংলা-১২৫+
মোট- ৫৫০+ (এটা সর্বনিম্ন ধরে)
(যেহেতু প্রথম লিখিত পরীক্ষা ছিল, তাই মার্কস প্রাপ্তি সম্পর্কে ভাল ধারণা ছিল না। এক সিনিয়র ভাইকে বলেছিলাম- আমি ৫৩০+ মার্কস পেতে পারি। উনি বললেন, বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় এতো মার্কস পাওয়া যায় না। মন খারাপ হলো। আর কাউকে কখনো মার্কস নিয়ে কিছু বলতে যাইনি। আসলেই এটাই ঠিক যে লিখিত পরীক্ষায় কোন প্রেডিকশন করা চলে না। আমি হয়ত যা ভেবেছিলাম তার চেয়েও বেশি মার্কস পেয়েছি)
২০২১ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে লিখিত পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। দীর্ঘ ১৩ মাস সময় যায় ফলাফল প্রকাশ করতে। কোভিডের ওইসময়টা ভয়াবহ হতাশা-টেনশন-অশান্তিতে পার করি। যাই হোক, আলহামদুলিল্লাহ, আমি লিখিত পরীক্ষায় পাশ করি।
ভাইভার প্রস্তুতিঃ
যেহেতু আমি লিখিত পরীক্ষায় পাশ করার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম, তাই লিখিত পরীক্ষা দিয়ে ভাইভার জন্য পড়াশোনা শুরু করার সিন্ধান্ত নিলাম। এর মধ্যে, এসআই (পুলিশ) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় এবং আমি চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হই। অনেকে আমাকে চাকুরীতে জয়েন করতে বললেও, আমি জয়েন না করার সিন্ধান্ত নেই। এমনকি আমার পরিচিত এক এএসপি ভাইও আমাকে জয়েন করার ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন। কিন্তু আমি যেহেতু রিটেন পরিক্ষার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলাম, তাই ভালভাবে ভাইভার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সিন্ধান্ত নেই। এখন পর্যন্ত আমার জীবনের সেরা সিন্ধান্ত ছিল এটি।
যাই হোক, রিটেন দেওয়ার পর থেকেই ভাইভার বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ফলো করতাম৷ 'বিসিএস ভাইভা কেম্পেইনার' নামক গ্রুপে এক সিনিয়র আপুর একটি পোস্ট আমাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। তিনি লিখেছেন, "একজন পরীক্ষার্থী যদি বাড়িতে, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীদের সাথে চামারের মতো আচরণ করে, তাহলে ভাইভা বোর্ডে সে যতই বিনয়ী হওয়ার চেষ্টা করুক- সে বিনয়ী হতে পারবে না, তার ব্যক্তিত্ব, আচরণ- সবকিছুই ভাইভা বোর্ডে ফুটে উঠবে। তাই সকলের উচিত নিজেকে নিয়ে অহমিকা না করে, সকলের সাথে অনুগত ও বিনয়ী আচরণ করা; একজন ক্যাডার থেকে প্রত্যাশিত আচরণগুলো নিজের মধ্যে চর্চা করা"। সিনিয়র আপুর এই কথাগুলো আমার জীবনের জন্য শ্রেষ্ঠ মোটিভেশন। এরপর থেকে আমি নিজের ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, নিজের ভুলত্রুটি সংশোধন, দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ ও দূরীকরণ এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য অনেক কাজ করেছি। এছাড়াও, আমার প্রিয় মানুষ, আশেপাশের বন্ধু-বান্ধব, ছোট ভাইদের সাথে ইংরেজিতে কথা বলার প্রাকটিস করে ইংরেজিতে কথা বলার ভীতি দূর করি। নিজেকে নিয়ে কাজ করার এইসময়টা ছিল আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়।
মানসিকভাবে ও পড়াশোনার দিক থেকে ভাইভার জন্য খুব ভাল প্রস্তুতি নিলাম। রিটেন রেসাল্ট দেওয়ার পূর্বেই ক্যাডার চয়েজ, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, ডিপার্টমেন্ট, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লিখিত বইগুলো ভালভাবে পড়লাম। ক্যাডার চয়েজের সাথে আমার বৈশিষ্ট্যগত সম্পর্ক, পঠিত বিষয়ের সাথে ক্যাডার চয়েজের সম্পর্ক ইত্যাদি বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলাম। আমার বিশ্বাস- অন্তত ভাইভার আগে নিজেকে পর্যালোচনা করে নিজের সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকাটা খুব জরুরি; আমি তাই করলাম।
১১ই মার্চ, ২০২১ তারিখে আমার ভাইভার তারিখ নির্ধারিত হয়। তার পরের সপ্তাহে ১৯ই মার্চ ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও, আমি পুরোপুরি ভাইভার উপরই মনোযোগ দেই। কারণ, আমি বিশ্বাস করতাম- এবারই আমাকে একটা ভাল ফলাফল নিয়ে আসতে হবে।
ভাল প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও, আমি ভাইভার বিষয়ে সবসময় ভীত ছিলাম। ভাবতাম, কোনভাবে পাশ আসলেই আমি খুশি। আব্দুল মান্নান স্যারের বোর্ডে ভাইভা ফেস করি। আলহামদুলিল্লাহ, মোটামুটি হয়েছিল; ১২০-১৩০ মার্কস আশা করতাম।
আমার মনে হল- আমি মানুষ হিসেবে যেরকম তার পুরোটাই ভাইভা বোর্ডে ফুটে উঠেছিল। যেমনঃ আমি খুব কম কথা বলি, এমনকি কোন বিষয়ে অনেক ভাল ধারণা থাকা সত্ত্বেও, আমার বলতে ইচ্ছে করে না। বোর্ডে তাই হল- সব প্রশ্নের উত্তর আমার আয়ত্বে থাকলেও, বিস্তারিত না বলে সংক্ষিপ্ত করেই উত্তর দিলাম। কিন্তু যা কিছু বললাম খুবই কনফিডেন্সের সহিত বললাম। যতটুকু বুঝতে পারি, চেয়ারম্যান স্যার আমাকে পছন্দ করেছিলেন।
চূড়ান্ত ফলাফলঃ
ভাইভা পরীক্ষা দেওয়ার পর আমাদের হাতে আর কিছুই করার থাকে না। আমি বিশ্বাস করি- আল্লাহর কাছে মন থেকে কোন কিছু চাওয়া হলে, তিনি আমাদের চাওয়ার থেকেও বেশি দেন। আমি আল্লাহর দরবারে অন্তত একটা জেনারেল ক্যাডার পাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করতাম। আমি এতোটা টেনশনে ছিলাম যে, যখন-তখন আমার কান্না চলে আসত, দিন-রাত না ঘুমিয়ে, না খেয়ে কাটাতাম। শেষের দিনগুলোতে ভাবতাম- অন্তত নন-ক্যাডার আসুক এবং আল্লাহ আমাকে মানসিক শক্তি দান করুক। আল্লাহ আমার বাবা-মায়ের দোয়া কবুল করেছেন। আল্লাহ আমাকে আমার চাওয়ার চেয়ে বেশি দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
আমি বিশ্বাস করি- প্রতিটি মানুষের সফলতার পিছনে দুইটি বিষয় কাজ করে। প্রথমত, কোন কিছু মন থেকে চাওয়া ও পরিশ্রম করা। দ্বিতীয়ত, আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা। এই দুইটি জিনিস আমাকে আমার জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে সফলতা আনতে সাহায্য করেছে। মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে আমি সবসময় কৃতজ্ঞ; তিনি আমাকে সম্মানিত করেছেন। আমার বাবা-মা, ভাই-বোন, প্রিয় মানুষ, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছেও কৃতজ্ঞ।
বি.দ্র. ৪০তম বিসিএস ছিল আমার জীবনের প্রথম পরীক্ষা, এছাড়াও তেমন কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা হয়নি। তাই অভিজ্ঞতার পাল্লা তেমন ভারী নয়; অনেক জিনিসই আমার জানাশোনার বাহিরে। তাই আমার কোন কথাবার্তা, আচরণ যদি ভুল হয়, আমাকে ক্ষমা করে দিবেন। ধন্যবাদ। ❤️
কমেন্টে অন্তত একবার "আলহামদুলিল্লাহ" বলে যান।

04/05/2023

সফল হতে দৈনিক কত ঘন্টা পড়ব, কতদিন পড়ব?
-মো: রুহুল আমিন শরিফ
১ম স্থান, প্রশাসন ক্যাডার
৩৮ তম বিসিএস
এটা প্রকৃতিরই নির্মম নিয়ম যে আমরা ব্যক্তিকে নয়, তাঁর অবস্থানকে কদর করি। সফলতা ও ব্যর্থতা এই দুটি সূচক দ্বারা একজন মানুষকে অনুকরণীয় বা বর্জনীয় হিসেবে নির্ধারণ করা একটা সরল সমীকরণ। খুব নিয়মানুবর্তী সাধনা করেও কেউ ব্যর্থ হলে ঐ ব্যক্তির প্রচেষ্টা ও কর্মপদ্ধতি উপেক্ষিত হয়। আমরা কেবল সফলদেরই শুদ্ধ ভাবি এবং তাঁদের পথে তাঁদের মত করেই চলতে চাই।
একাডেমিক পড়ালেখা অথবা চাকুরির প্রস্তুতি গ্রহণের ক্ষেত্রে সফলকাম কারো কাছে বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন : আপনি দৈনিক কত ঘন্টা পড়তেন, কত দিন এভাবে পড়েছেন? আমার দিক থেকে এই প্রশ্নের উত্তর: দয়া করে দেখতে সুন্দর হলেও অন্যের পাদুকা পরে হাঁটতে যাবেন না, নিজের ফিটিং মত না হলে আপনি হোঁচট খেয়ে পড়ে যাবেন।
দুটি কনসেপ্ট থেকে ব্যাপারটা ক্লিয়ার করছি:
প্রথমত, আপনি যাঁকে প্রশ্নটি করছেন তিনি দৈনিক যতটুকু সময় ম্যানেজ করতে পেরেছেন এবং পরীক্ষার আগে যতদিন হাতে পেয়েছেন তা আপনার হাতে নাও থাকতে পারে। এমন হলে আপনি টেনে সময়কে দীর্ঘ করতে পারেন না। তাই, আপনার দৈনন্দিন জীবন থেকে পড়ালেখার জন্য কতটুকু সময় আপনি বের করতে পারবেন এবং সেটা কতটুকু কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবেন সেটাই মুখ্য। অপরপক্ষে আপনার দৃষ্টিতে সফল কোন ব্যক্তি দৈনিক ৪ ঘন্টা করে ৩ মাস পড়ে লক্ষ্য অর্জন করেছেন শুনে আপনার পক্ষে দৈনিক ৮ ঘন্টা পড়ার মত ৬ মাস সময় থাকলেও কি আপনি তাঁকে অনুসরণ করতে গিয়ে বাকি সময় অপচয় করবেন?
দ্বিতীয় কনসেপ্টটি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। পড়ালেখার ব্যাপারটা শরীর ও মনের জটিল সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি কেবল মস্তিষ্কের নিউরনের তথ্য ধারণ ও অনুধাবন সহায়তা কার্যক্রম দ্বারা সঙ্গায়িত মেধার প্রয়োগের বিষয় নয়। বস্তুত মেধা শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার জটিল অথচ সুষম প্রয়োগ দ্বারা মূর্ত হয়ে ওঠে। জনে জনে জ্ঞানাহরণের দক্ষতা ভেদের জন্য কেবল মস্তিষ্কের ক্ষমতা দায়ী নয়, বহু সাইকোলজিক্যাল ও ফিজিওলজিক্যাল ফ্যাক্টর এটার সাথে জড়িত।
আপনি এবং আমি দুজন ভিন্ন ব্যক্তি। আমাদের সফলতার মাত্রা এক সমান হওয়ার জন্য শুধু স্টাডি টাইম সমান হওয়া যথেষ্ট নয়। সময়ের মাপে সমান সমান পড়ায় শেখার মাপে সকলের সমান পড়া হয় না। ভিন্ন ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট সময়ে সমান শিখতে পারেন না এবং সমান শিখতে একই পরিমাণ নেন না। কারণ স্টাডি টাইম এবং এর আউটপুটকে নিয়ন্ত্রণকারী বিষয় সমূহ প্রত্যক ব্যক্তির জন্য আলাদা ফল বয়ে আনে।
আমি যে বিছানায় ঘুমাই, যে খাবার খাই, যে আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে মিশি তা নিশ্চয়ই একদম আপনার মত নয়। আপনার আমার শারীরিক অবস্থা; যেমন, পরিপাকের ক্ষমতা, হার্ট বিট, অক্সিজেন সাপ্লাই, রক্তচাপ, রক্তের উপাদানের মাত্রা স্নায়ুবিক নিয়ন্ত্রণসহ অন্যান্য অঙ্গ সংস্থান জনিত ক্রিয়া পৃথক।
আমাদের নিজস্ব পারিবারিক সম্পর্কের ধরণ এক নয়। সামাজিক অবস্থানের দিক দিয়েও আমরা ভিন্ন। আপনি আপনার পরিবার, সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহাবস্থান করা মানুষদের সাথে যে ধরনের সম্পর্ক মেইনটেইন করে চলেন, আমি স্বভাবই তার সাথে প্রাকৃতিকভাবে ভিন্নতা বজায় রাখি।
আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা, একাডেমিক ব্যাকগ্রাইন্ড, জীবনের উত্থান পতনের ইতিহাস, অতীতের ঘটনা-দুর্ঘটনা, ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি, মনের অবস্থা এবং প্রত্যাশার চাপ আলাদা। আপনার কাছে যে বিষয় সহজ/কঠিন লাগে অথবা আপনি যে বিষয় পড়তে পছন্দ/অপছন্দ করেন তা আমার ক্ষেত্রে আপনার অনুরূপ না হওয়াই স্বাভাবিক। একদম টু দ্য পয়েন্ট বলতে গেলে আপনি বা আমি যাঁদের মত হতে চাই তাঁদের সাথে আমাদের সাদৃশ্য বিরল কিন্তু বৈসাদৃশ্য প্রচুর।
খাদ্যাভ্যাস, ঘুমের সময় ও নির্বিঘ্নতা, শারীরিক সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ব্যক্তিগত-পারিবারিক-সমাজিক সম্পর্কের অবস্থা, মানসিক-স্নায়ুবিক স্থিতিশীলতা, চাপ নেয়ার ক্ষমতা, একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এবং নির্দিষ্ট পাঠ্য বিষয়ের প্রতি ব্যক্তিগত সহজ-কঠিন বোধ একেক জনের একেক রকম। কিন্তু পড়ালেখা করার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ক্ষমতার পাশাপাশি এই বিষয়গুলো সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং একজন ব্যক্তির সাথে আরেকজনের এ সকল ক্ষেত্রে হুবহু মিল থাকা অসম্ভব।
তাই, আপনার বিষয় ভিত্তিক সবলতা-দুর্বলতা, নিজস্ব ফিজিক্যাল-মেন্টাল স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং বিদ্যমান দৈনিক ও সার্বিক সময়ের পরিমাপের নিরিখে আপনাকেই আপনার জন্য দরকারি পড়ার সময় নির্ধারণ করতে হবে। এই সময় বিন্যাস অন্য কারোর দ্বারা নির্ধারিত তো নয়ই এমনকি অন্য কারো অনুকরণেও হবে না, এটা অবশ্যই হতে হবে বিশেষভাবে আপনার দ্বারা আপনার জন্য পরিকল্পিত।
ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বনির্ভর ও সাহসী হয়ে উঠলে আপনি হবেন অপ্রতিরোধ্য।
আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসীদের জন্য শুভকামনা।

24/06/2021

পড়াশোনা করতে ভাল লাগে না।
একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, "একাডেমিক বা জবের পড়াশোনা করতে ভাল লাগে না!" কথা ঠিক কিনা? এটি যদি আপনারও হয়ে থাকে তাহলে ঠিক আছে। মানে কথা হলো, আপনারও যদি এসব পড়তে ইচ্ছা না করে তবে আপনি সুস্থ আছেন। আরে ভাই পড়তে ভাল লাগবে না এটাই স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক (নিজের একান্ত কিছু বিষয় ছাড়া). তাই যাদের সবই পড়তে ভাল লাগে তারা অসুস্থ। কারণ মানব দেহ ও মন সর্বজ্ঞান সহনশীল নয়! তাছাড়া নোরা ফাতেহী, সানি লিওন, নারগিস ফখরি এর যুগে পড়ার সবকিছুতে মনোযোগ দেয়াও কঠিন। এর বাইরে আছে বিগো বৌদিদের তান্ডব। দাদারাও কম যায় না। তারপরও যদি কারো সবই পড়তে ভাল লাগে তবে তাকে আর যা-ই বলা যাক না কেন সুস্থ বলা চলে না।
আবার ধরুন কেউ একজন সারাজীবন জীববিজ্ঞান পড়েছে। তার প্রিয় অধ্যায় হলো জনন। কেন জনন তা রহসময়! কিন্তু তাকে যখন নবাব সিরাজ উদ দৌলা এর পতনের কারণ পড়তে হয় তখন তার ভাল লাগবে না এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া মানব সমাজে আরো অনেক কিছু আছে যা আমাদের ভাল লাগে না। যেমন- অসুখ হলে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। ভাল লাগে আপনার? সিরিয়াল দাও। অপেক্ষা করো। সব কিছু খুলে বলো। টেস্ট করাও (কখনো অযথাই)। কখনো অপারেশনও করাতে হয়। ভাল লাগে এসব। তবুও করতে হয়। এটাই জীবন। শুধু এটা নয় আরো আছে। এমন অনেক স্বামী বা স্ত্রী আছে যারা তার কাউন্টার পার্টকে ভাল লাগা ছাড়াই চল্লিশ বছর পার করে দেয়। বাচ্চা কাচ্চাও আছে!! কি করবে বাপ মা ঝুলিয়ে দিয়েছে। কখনো নিজেরাই ঝুলিয়ে নিয়ে ঝুলে যায়। এটা ঠিক না বেঠিক তা বলতে চাই না।
তাই একাডেমিক বা জব সংক্রান্ত পড়াশোনা আপনাকে করতেই হবে। ভাল লাগলে ভাল। ভাল না লাগলেও ভাল। এই সত্য বচন ও বাস্তবতা যারা মেনে নেয় রেজাল্ট শিটে তাদেরই রেজিষ্ট্রেশন নম্বর খুঁজে পাওয়া যায়। বড় বড় বাণী দিয়ে তো লাভ নেই। সফলতার মূলমন্ত্র হলো পড়াশোনা। জ্বি হ্যা! তিতা ঔষধ নাক চেপে যেমন গিলে ফেলেন তেমনি অপছন্দের বিষয়গুলো দাঁতে খিঁচ দিয়ে পড়ে ফেলুন। কাজে লাগবে। হা হুতাশ করে তো কিচ্ছুটি হবে না। কারণ আপনি এসব বাস্তবতা না মানলেও কিছু লোক ঠিকই মানবে। আর গোল দিয়ে দিবে। মনে রাখবেন, জমি কখনো ফাঁকা পড়ে থাকবে না। আপনি চাষ না করলেও আরেকজন ঠিকই চাষ করে দিয়ে চলে যাবে! সকল জমিই!!
/:
শাহ্ মোঃ সজীব
বিসিএস প্রশাসন, ৩৪তম বিসিএস।

19/05/2021

# আজকের_সাধারণ_জ্ঞান
পত্রিকা থেকে সংগৃহীত (১৯ মে, ২০২১)
# Stay_home # Stay_safe
# Keep_washing_hands # Stay_positive
সৃষ্টিকর্তা সবাইকে ভয়ঙ্কর করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা করুক!
সবাই সবার পরিবার নিয়ে সাবধানে থাকুন আর নিজের সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করুন।
# বাংলাদেশ বিষয়াবলী
০১. আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য অনুমোদিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) -এর পরিমাণ কত?
উত্তরঃ ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।
# # অনুমোদিত এই এডিপি থেকে ১০টি বৃহৎ প্রকল্পের মধ্যে সর্বোচ্চ অর্থায়ন করা হবে - রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে (১৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা)।
০২. শরীরে পানিশূন্যতা রোধে খাবার স্যালাইন বা ওরাল রিহাইড্রেশন সল্যুশন (ওআরএস) কোন দেশ আবিষ্কার করে?
উত্তরঃ বাংলাদেশ।
# # ১৯৬৮ সালের এপ্রিলে ঢাকায় ওআরএস -এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন হয় এবং সে বছরেই বিখ্যাত সাময়িকী দ্য ল্যানসেট এর স্বীকৃতি দেয়।
# # ১৯৭৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের এই ফর্মুলা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়।
০৩. বাংলা একাডেমির নতুন সভাপতি হিসেবে কে নিয়োগ পেয়েছেন?
উত্তরঃ অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।
# # গত ১৪ এপ্রিল প্রয়াত হওয়া সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খানের স্থলাভিষিক্ত হবেন মি. রফিকুল ইসলাম।
০৪. যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান কত তম?
উত্তরঃ তৃতীয়।
# # শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশ - চীন, দ্বিতীয় শীর্ষ - ভিয়েতনাম।
# আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী
০১. সামোয়ায় প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন কে?
উত্তরঃ ফিমে নাওমি আতা’আফা।
০২. ২০২১ সালের ‘জাতিসংঘ সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ’ কবে পালিত হয়?
উত্তরঃ ১৭-২৩ মে।
# # সপ্তাহ প্রতিপাদ্য ২০২১ - “জীবনের জন্য সড়ক”।
০৩. ‘আর্মেনিয়া গণহত্যা’ কবে শুরু হয়?
উত্তরঃ ১৯১৫ সালে।
০৪. ইসরায়েল কবে গাজায় ‘অপারেশন কাস্ট লিড’ নামের সেনা অভিযান চালায়?
উত্তরঃ ২৭ ডিসেম্বর, ২০০৮.
# # স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয় - ১৪ মে, ১৯৪৮.
০৫. সম্প্রতি ভারতে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের নাম কী?
উত্তরঃ তকতে।
# বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
০১. সমাজের কোনও ব্যক্তি যখন নিজের প্রচেষ্টায় তাঁর সামাজিক অবস্থান, মর্যাদা ইত্যাদির মাত্রাগত পরিবর্তন করতে সক্ষম হন, তখন তাকে কী বলে?
উত্তরঃ সামাজিক গতিশীলতা।
০২. সর্বপ্রথম কোন প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট ব্যবহার করে?
উত্তরঃ মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ।
# করোনাভাইরাস COVID-19 আপডেট - (2019-nCoV)
১৮ মে, ২০২১ পর্যন্ত – সারা বিশ্বে
মোট আক্রান্ত – ১৬ কোটি ৪৩ লাখ ৭২ হাজার ১৬৪ জন (বাংলাদেশে আক্রান্ত – ৭ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন)।
মোট সুস্থ – ১৪ কোটি ৩১ লাখ ৭০ হাজার ৬৯০ জন (বাংলাদেশে সুস্থ – ৭ লাখ ২৪ হাজার ২০৯ জন)।
মোট মৃত্যু – ৩৪ লাখ ৬ হাজার ৮০৫ জন (বাংলাদেশে মৃত্যু – ১২ হাজার ২১১ জন)।
সংক্রমণের বিস্তার – বিশ্বের প্রায় ২২১টি দেশ ও অঞ্চলে।
# খেলাধুলা
০১. ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল কোথায় অনুষ্ঠিত হবে?
উত্তরঃ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।
# সেরা_উক্তি
“পানির গভীরতা নাকের কাছে উঠে আসার আগেই সাঁতার শিখে নাও।”
- ড্যানিশ প্রবাদ।
# নোটিশ – “এই পোস্টটি গ্রুপ থেকে কেউ শেয়ার করতে না পারলে, চাইলে আমার টাইমলাইন থেকে শেয়ার করতে পারেন।”
# সংগ্রহেঃ Smd Kabir Hossain .

16/05/2021

ক্যারিয়ার গড়ার পথে ধৈর্য্য ধরুন। তাড়াহুড়ো করবেন না। বেকার সময়টাতে একটা চাকুরি পেলেই অনেকে চোখ বন্ধ করে জয়েন করে ফেলেন। অনেকেই আছেন যারা তাদের কাঙ্খিত চাকুরির প্রস্তুতি থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়, শুধুমাত্র তাড়াহুড়ো করে কোন চাকুরিতে জয়েন করার কারণে।
অনেকেই আছেন যারা হয়তো জুনিয়র অফিসার পদে তাড়াহুড়ো করে জয়েন করেন, আবার অনেকেই ১ বছর ধৈর্য্য ধরে পড়ে সিনিয়র অফিসার পদে জয়েন করেন। তখন এই দুইজনের ক্যারিয়ারে ব্যবধান হয়ে যায় যোজন যোজন।
রিস্ক নিতেই হবে। যদি বেকার অবস্থায় চলা খুব কঠিন হয়ে যায়, তবে এমন কাজ করে সাময়িকভাবে চলতে পারেন, যা আপনার প্রস্তুতিকে বিঘ্নিত করবে না। সেটা টিউশনি বা বেসরকারি স্কুল- কলেজের শিক্ষকতা হতে পারে।
যারা চাকুরির আবেদন করার নির্ধারিত বয়সের শেষপ্রান্তে চলে এসেছেন কিংবা যারা আর্থিক বা অন্যান্য কারণে একদমই নিরুপায়, তাদের জন্য এ কথাগুলো প্রযোজ্য নয়।
তবে বড় কিছুর জন্য রিস্ক নিতেই হবে।
ধৈর্য্য ধরতেই হবে।
শুভকামনা রইলো।
মাহমুদ হাসান হৃদয়
সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

13/09/2018

বিভিন্ন ক্যাডারের সুবিধা-অসুবিধা (প্রথম পর্ব)
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
ইতোমধ্যেই আপনারা জেনেছেন বিসিএস পরীক্ষার আবেদন করার সময় ক্যাডার পছন্দক্রম দেওয়া লাগে। যেহেতু সবার চাহিদা, ইচ্ছা, রুচিবোধ, লাইফস্ট্যাইল আলাদা আলাদা, তাই পছন্দক্রমও আলাদা হওয়াটাই স্বাভাবিক। নিচে বিভিন্ন ক্যাডারের পদায়ন, পদোন্নতি, আর্থিক সুবিধা, সমস্যা নিয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করলাম যাতে পছন্দক্রম দিতে কিছুটা হলেও দ্বিধাদ্বন্দ্ব কম কাজ করে আপনাদের।
===পররাষ্ট্র ক্যাডার===
বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের চাকরি হলে আপনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করবেন। প্রথম অবস্থায় কাজের চাপ অনেক বেশি পাবেন। টাইপিং থেকে শুরু করে সংসদ অধিবেশন চলাকালীন পার্লামেন্টে ডিউটি করতে হতে পারে। আর গাড়ী সার্ভিস বলতে বাসায় যাওয়া আসা করার জন্য মাইক্রোবাস সার্ভিস পাবেন। বিভাগীয় ট্রেনিং হয় ঢাকার বেইলী রোডে।
চাকরি স্থায়ী হলে আপনাকে দূতাবাসে পদায়নের জন্য বিবেচনা করা হবে। সেখানে থার্ড সেক্রেটারী হিসেবে যোগ দেবেন। ছয় বছর দুই দেশে কাজ করার পর তিন বছরের জন্য ঢাকায় পোস্টিং পাবেন। এভাবে চক্রাকারে চলতেই থাকবে।
দূতাবাসে পদায়ন হলে দেশের নিয়মিত স্যালারীর বাইরে ফরেন ভাতা (মাসে ১২০০ ডলার), বাসা ভাড়া (বছরে ২০০০০ ডলার), দুই জন ছেলেমেয়ের পড়াশুনার খরচ, পরিবারের চিকিৎসার ৯০% খরচ ও বিনোদন ভাতা (মাসিক ৩০০ ডলার) পাবেন। যদিও দেশে আনতে ট্যাক্স দিতে হবে তথাপিও পোস্টিংয়ে থাকা অবস্থায় ট্যাক্স ফ্রি গাড়ী কিনতে পারবেন। দেশী বিদেশী অনেক ট্রেনিং পাবেন। ট্রেনিং করলে সম্মানী হিসেবে ভালো একটা টাকা পকেটে ভরতে পারবেন।
লোকবল কম বলে পদোন্নতির সুযোগ ভালো । প্রায় সবাই নাকি রাষ্ট্রদূত হয়। রাষ্ট্রদূতরা যেহেতু বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে তাই ভালোই সম্মান পাবেন। বিভিন্ন দেশের বড় বড় ব্যক্তিদের সাক্ষাত পাবেন। আর বিদেশ ভ্রমণ তো আপনার কাছে পান্তা ভাত।
মন্ত্রণালয়ে পদক্রমঃ সহকারী সচিব > সিনিয়র সহকারী সচিব > পরিচালক > মহাপরিচালক > অতিরিক্ত সচিব > সচিব।
দূতাবাসে পদক্রমঃ Third Secretary > Second Secretary > First Secretary > Councilor > Minister > Ambassador / High Commissioner.
===প্রশাসন ক্যাডার===
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের চাকরি হলে আপনি মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করবেন। এই ক্যাডারের প্রধান কাজ হলো অন্য সকল ক্যাডার অফিসারদের কাজের সমন্বয় করা। অবশ্য মোবাইল কোর্ট পরিচলনা করাও একটা কাজ। কাজের চাপ আছে মারাত্বক। ছুটি ছাটা কম।
ম্যাজিস্ট্রেট, এসি (ল্যান্ড), ইউএনও, ডিসি হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। যোগদানের দুই তিন বছর পরেই এসি (ল্যান্ড) হিসেবে পোস্টিং পাবেন। ইউএনও হিসেবে বাড়ী ও গাড়ীর সুবিধা পাবেন। যেহেতু সকল অফিসের সমন্বয় করাই কাজ, তাই উপজেলা ও জেলায় আপনাকে অনেকেই চিনবে।
সচিবালয়ে পোস্টিং হলে সরকারের পাঁচটি সচিবালয়ে (বাংলাদেশ সচিবালয়, পাবলিক সার্ভিস কমিশন সচিবালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়) সহকারী সচিব হিসেবে যোগদান করবেন। দেশের বাইরে বিভিন্ন দূতাবাসেও পদায়ন হতে পারে।
এই ক্যাডারের সবচেইয়ে বড় আকর্ষন হলো বৈচিত্রময়তা। অন্য ক্যাডাররা যেখানে নিজের কাজটা নিয়েই থাকবে, সেখানে চাকরিজীবনে আপনি অনেক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবেন। মন্ত্রনালয়, সরকারের সকল অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, বোর্ড, ইন্সটিটিউট, কর্পোরেশনগুলোতে পোস্টিং পাবেন। অর্থাৎ জুতা সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ আপনার বিচরণক্ষেত্র।
দেশ ও বিদেশে অনেক ট্রেনিং ও স্কলারশীপ পাবেন। ফলে বিদেশ ভ্রমণ থেকে শুরু করে আর্থিকভাবেও লাভবান হতে পারবেন। লিয়েন ও প্রেষনে কাজ করার ভালো সুযোগ আছে এই ক্যাডারে। লিয়েন ও প্রেষণে থাকলে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। বিভাগীয় ট্রেনিং হয় ঢাকার শাহবাগে।
সাধারণত আমলা বলতে আমরা অ্যাডমিন ক্যাডারকেই বুঝি। এই ক্যাডারে পদোন্নতি মোটামুটি। ছয় বছরে ইউএনও আর দশ বছরে উপসচিব হওয়ার আশা করতে পারেন। একদম কাছে থেকে সাধারণ জনগণের সেবা করার জন্য এই ক্যাডার সবচেয়ে ভালো।
মাঠ পর্যায়ে পদক্রমঃ সহকারী কমিশনার > সিনিয়র সহকারী সচিব/অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক > জেলা প্রশাসক > অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার > বিভাগীয় কমিশনার
সচিবালয়ে পদক্রমঃ সহকারী সচিব > সিনিয়র সহকারী সচিব > উপসচিব > যুগ্মসচিব > অতিরিক্ত সচিব > সচিব
===পুলিশ ক্যাডার===
বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে চাকরি হলে আপনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এএসপি (অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেন্ডেট অফ পুলিশ) হিসেবে যোগদান করবেন। সেখান থেকে আপনাকে এক বছরের প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহীতে পাঠানো হবে। কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে আপনাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুলিশ সাইন্সে মাস্টার্স ডিগ্রী প্রদান করা হবে।
এরপর আপনার পোস্টিং জেলা পুলিশে হবে। সেখানে এএসপি হিসেবে কাজ করবেন। আপনার পোস্টিং বিভিন্ন মেট্রোপলিটন পুলিশে হতে পারে। মেট্রোপলিটন পুলিশে হলে আপনি সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদান করবেন।
সিভিল সার্ভিসের ক্যাডারগুলোর মধ্যে একমাত্র পুলিশ ক্যাডারের সব অফিসারদেরই ইউএন মিশনে যাওয়া সম্ভব। মিশনে গেলে এক বছরে আপনি বিশ থেকে চল্লিশ লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন। দেশে থাকলে ঝুঁকি ভাতা পাবেন। রেশন পাবেন। পুলিশ হাসপাতালে সুচিকিৎসা পাবেন।
যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই বাড়ী, গাড়ী, ড্রাইভার, বডিগার্ড ইত্যাদি বরাদ্দ পাবেন। তাছাড়া যেখানেই পোস্টিং হোক না কেন থাকা ও যাতাযাতের ব্যবস্থা সরকারীভাবে দেওয়া হবে। দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ আছে।
মূল ধারার পুলিশিং ভালো না লাগলে আপনি স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (SSF), র্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (RAB), ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (DB), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (SB), সিআইডি (Criminal Investigation Department), পিবিআই (Police Bureau of Investigation), সোয়াট (Special Weapond And Tactics), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBn), এসপিবিএন (SPBn), রেলওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ, পর্যটন পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ইত্যাদিতে কাজ করতে পারবেন।
তবে এই ক্যাডারে নয়টা পাঁচটা ডিউটি বলে কিছু নাই। রাতে ঘুমাচ্ছেন হটাৎ শুনবেন অমুক জায়গায় অমুক ঘটনা ঘটেছে এখনই যেতে হবে। সমাজের অন্ধকার দিকের সাথে ভালোভাবে পরিচিত হবেন। সারাদিন খুন, ডাকাতি, হত্যা, ফাঁসি, লাশ, চোরাচালান ইত্যাদি নিয়েই থাকতে হতে পারে। ছুটি ছাটাও কম।
জেলায় পদক্রমঃ সহকারী পুলিশ সুপার > সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার > অতিরিক্ত পুলিশ সুপার > পুলিশ সুপার > অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক > উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক > অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক > মহাপুলিশ পরিদর্শক
মেট্রোপলিটানে পদক্রমঃ সহকারী পুলিশ কমিশনার > সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার > অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার > উপ পুলিশ কমিশনার > যুগ্ম পুলিশ কমিশনার > অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার > পুলিশ কমিশনার
===শুল্ক ও আবগারী ক্যাডার===
বিসিএস শুল্ক ও আবগারী ক্যাডারে চাকরি হলে আপনাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সহকারী কাস্টমস কমিশনার হিসেবে যোগদান করবেন। শুল্ক ও আবগারী বিভাগ সরকারের পক্ষ থেকে পরোক্ষ কর আহরণ করে। শুল্ক গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করার সুযোগ আছে। কাস্টম হাউজ, স্থল বন্দর, বন্ডে কাজ করতে পারবেন।
পদোন্নতি দ্রুত। চারবছরেই পাওয়া যায়। শুল্ক ফাকি ও চোরাচালান ধরতে পারলে ইনসেন্টিভের ব্যবস্থা আছে। গাড়ী সুবিধা পাবেন।
দেশে ব্যবসা বাণিজ্য যত বাড়বে এই ক্যাডারের কাজ তত বাড়বে। বিভাগীয় ট্রেনিং হয় চট্টগ্রামে। তবে এই ক্যাডারের সমস্যা হলো ঘন ঘন বদলি। এছাড়া পুলিশ ক্যাডারের মতো এই ক্যাডারেরও একটা ইমেজ সংকট আছে। এখানে চাকরি করলে অনেকেই মনে করে লোকটা ঘুষখোর।
পদক্রমঃ সহকারী কাস্টমস কমিশনার > উপ কাস্টমস কমিশনার > যুগ্ম কাস্টমস কমিশনার > অতিরিক্ত কাস্টমস কমিশনার > কাস্টমস কমিশনার > জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য
===নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডার===
বিসিএস নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে চাকরি হলে আপনি মহাহিসাব নিরীক্ষক এর কার্যালয়ে সহকারী হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে যোগদান করেন । তবে পোস্টিং ভেদে ভিন্ন ভিন্ন নাম হতে পারে । তবে নাম যাই হোক কাজ প্রায় একই।
সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন / পেনশন / ট্রেনিং বিল / জ্বালানি বিল / ক্রয়সহ যেখানেই সরকারী অর্থ ব্যয়ের প্রশ্ন জড়িত সেখানেই এই ক্যাডারের কাজ। তাই প্রায় সব অফিসেই আপনাদের পদচারণা থাকবে। যেহেতু ভুল ধরা আপনার কাজ তাই সব অফিসেই সম্মান পাবেন। গাড়ী সুবিধাও আছে।
সকল মিনিষ্ট্রি ও বিভাগে প্রায় ৪৯ টি Chief Accounts Officer এর অফিস রয়েছে । প্রত্যেক অফিসে একজন CAO এর অধীনে A-CAO গণ কাজ করেন । এই ক্যাডারে ৯০% পোষ্টিং ঢাকায় হয়। বিদেশ ভ্রমন করার সুযোগ পাবেন ভালোই। পদোন্নতিও ভালো।
পদক্রমঃ সহকারী হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক > উপ-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক > উপ-হিসাব নিরীক্ষক অতিরিক্ত হিসাব ও নিয়ন্ত্রক > হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক > মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
===কর ক্যাডার===
বিসিএস কর ক্যাডারে চাকরি হলে আপনাকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সহকারী কর কমিশনার হিসেবে যোগদান করবেন। আয়কর বিভাগ সরকারের একমাত্র বিভাগ যা দেশের জন্য প্রত্যক্ষ রাজস্ব আহরণ করে। আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় কাজের চাপ বাড়ে। তাছাড়া অন্যসময় মোটামুটি কাজ থাকে।
সরকারী বেসরকারী কোন আয়ের বিষয়ে সিআইসি গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। উক্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে আহরিত রাজস্বের জন্য ইনসেন্টিভ পেয়ে থাকেন। গাড়ী সুবিধা পাবেন। পদোন্নতি দ্রুত। ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা পর্যায়ে পদায়ন হয়।
পদক্রমঃ সহকারী কর কমিশনার > উপ কর কমিশনার > যুগ্ম কর কমিশনার > অতিরিক্ত কর কমিশনার > কর কমিশনার > জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য
===ইকনোমিক ক্যাডার===
বিসিএস ইকনোমিক ক্যাডারে চাকরি হলে আপনি পরিকল্পনা কমিশনে সহকারী প্রধান হিসেবে যোগদান করবেন। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক প্রস্তুতকৃত Development Project Proposal (DPP) যাচাই বাছাই করেন ইকনোমিক ক্যাডারবৃন্দ।
এই ক্যাডারের ১০০% পোষ্টিং ঢাকায় । ট্রেনিংয়ের জন্য হোক আর স্কলারশীপ নিয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য হোক এই ক্যাডাররা ঘনঘন বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পান। ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
রিসার্সের সুযোগ ভালো। ঢাকার কাটাবনে অবস্থিত NADP-তে (National Academy for Planning & Development) বিভাগীয় প্রশিক্ষণ হয়। এই ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারের সাথে একীভূতকরণ করার কথা চলছে। একীভূত হলে এই ক্যাডারের সবাই প্রশাসন ক্যাডারের অন্তর্ভূক্ত হবেন।
পদক্রমঃ সহকারী প্রধান > ঊর্ধ্বতন সহকারী প্রধান > উপ-প্রধান > যুগ্ম- প্রধান > বিভাগীয় প্রধান
===আনসার ক্যাডার===
বিসিএস আনসার ক্যাডারে চাকরি হলে আপনি আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তরের অধীনে সহকারী জেলা এ্যাডজুটেন্ট হিসেবে যোগদান করবেন। পদায়ন হবে জেলা লেভেলে। এই জবের ঝামেলা কম। শুরু থেকেই গাড়ী ও বাড়ী সুবিধা আছে। পদোন্নতি ভালোই।
মহাপরিচালক পর্যন্ত হতে পারবেন। এর পরের পদগুলো প্রতিরক্ষা বাহিনী (আর্মি, নেভী, এয়ারফোর্স) থেকে আসেন। বিভাগীয় ট্রেনিং হয় গাজীপুরে আনসার ও ভিডিপি একাডেমীতে।
পদক্রমঃ সহকারী জেলা এ্যাডজুটেন্ট > জেলা এ্যাডজুটেন্ট > উপ-পরিচালক > পরিচালক > উপ-মহাপরিচালক > মহাপরিচালক
===তথ্য ক্যাডার===
বিসিএস তথ্য ক্যাডারে আপনার চাকরি হলে আপনি সহকারী পরিচালক বা সমমানের পদে যোগদান করবেন। জেলায় তথ্য অফিসার হিসেবে কাজ করতে পারবেন। সহকারী পরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে যোগদান করলে টিভিতে ও বেতারে অনুষ্ঠান প্রচারের সকল দায়িত্বে থাকবেন।
মন্ত্রণালয়ে মাননীয় মন্ত্রীগণের Public Relations officer (PRO), বিদেশে কয়েকটা দূতাবাসে তথ্য কর্মকর্তা, এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির অফিসেও তথ্য কর্মকর্তা হতে পারেন। এই ক্যাডারের সর্বোচ্চ পদ প্রধান তথ্য অফিসার।
পদক্রমঃ সহকারী পরিচালক > উপপরিচালক > উপআঞ্চলিক পরিচালক > আঞ্চলিক পরিচালক > পরিচালক > উপ-মহাপরিচালক > মহাপরিচালক
ভালো থাকবেন। শুভকামনা রইলো।

আহসানুর হক সৈকত তালুকদার, বিসিএস ( সাধারণ শিক্ষা)

Address

Dinajpur

Telephone

+8801515256937

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when BCS Preparation in English and GK posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category