27/08/2021
মেথির উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিক –
মেথি হল একপ্রকার ভেষজ গাছ যা দক্ষিণ ইউরোপ এবং এশিয়া-এ পাওয়া যায়। এটি দেখতে হলুদাভ খয়েরি রঙের হয়। মেথি থিয়ামিন, ফলিক এসিড, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, ভিটামিন এ, বি৬ , এবং সি তে পরিপূর্ণ। এই ভেষজ নানারকমের প্রয়োজনীয় মিনারেল রয়েছে, যেমন কপার, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ এবং ম্যাগনেসিয়াম। মেথি গাছের পাতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে-এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
স্বাস্থ্যের জন্য মেথির উপকারিতা –
১) ডায়াবেটিস: মেথির বীজে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অন্যান্য উপাদান থাকে যা হজমের ক্ষমতা এবং শরীরের কার্বোহাইড্রেট আর সুগার শোষণ করে নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। মেথি শরীরে ইন্সুলিন নিঃসরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় । বর্তমানে করা রিসার্চ অনুযায়ী প্রতিদিন গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখা ১০ গ্রাম বা ২ স্যাচেট মেথির বীজ ডায়াবিটিস টাইপ ২ নিয়ন্ত্রণ করবার জন্য দারুণ কার্যকর। মেথির গম দিয়ে বানানো রুটি, পাউরুটি টাইপ ২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষদের ইনসুলিন প্রতিরোধ করবার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়
২) কলেস্টেরল : মেথি শুধুমাত্র রক্তে উপস্থিত কলেস্টেরল থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে তা নয় আপনার শরীরকেও ধীরে ধীরে কলেস্টেরল থেকে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে ভীষণভাবে সক্ষম। মেথি শরীরের লিপো প্রোটিন বা ব্যাড প্রোটিন কমাতে সাহায্য করে। মেথির বীজে উপস্থিত স্টেরয়েডাল স্যাপোনিন ক্ষুদ্রান্তে কলেস্টেরল-এর আত্তীকরণের হার কমিয়ে দেয়। এছাড়া লিভার থেকে উৎপন্ন তরলের শোষণের হার কমিয়ে দিতেও কার্যকর। চর্বিযুক্ত খাবার থেকে নির্গত হতে থাকা ট্রিগ্লাইসারাইড-এর শোষণের মাত্রাও মেথি কমিয়ে দিতে সক্ষম।
৩) বাতের ব্যাথা: বাতের ব্যাথা প্রায় সকল চল্লিশোর্ধ্ব মানুষেরই সমস্যা। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-এর প্রতিবেদন অনুসারে মেথির ইস্ট্রোজেনের ওপরে প্রভাব এতটাই বেশি যে বর্তমানে ডাক্তারেরা মেথির ব্যবহারকে ইস্ট্রোজেন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির সাথে তুলনা করছেন। মেথি বাতের তীব্র ব্যথা বেদনা কমাতে ভীষণভাবে কার্যকর।
৪) হার্টের স্বাস্থ্য: হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় মেথির উপকারিতা অপরিসীম। মেথি শরীরে থেকে অ্যাসিডের পরিমাণ খুব দ্রুত কমাতে পারে। শরীরের অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এর থেকে কার্যকরী ভেষজ মেলা ভার। মেথির বীজ সারারাত্রি পানি ভিজিয়ে রেখে দিয়ে পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেয়ে নিলে হার্টের ব্যাথা বা বুক জ্বালার মতন সমস্যা গুলো ওষুধ না খেয়েই ঘরোয়া পদ্ধতিতে কমে যাবে।
৫) মাসিকের ব্যাথা: পিরিয়ডস-এর ব্যাথা প্রায় সব মেয়েদের জীবনেই বিভীষিকার মতন এবং মাসের ওই বিশেষ দিনগুলিতে মেজাজ খারাপ থাকা বা স্কুল কলেজ কামাই করবার মতন ঘটনা প্রায় সবার জীবনেই ঘটেছে। চিন্তা নেই- রান্নাঘরেই মিলবে এর সমাধান! ইউটেরাসে মৃত টিস্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকলেই পিরিয়ডস-এর ব্যাথা শুরু হয়। মাসের ওই বিশেষ দিনগুলিতে গরম গরম মেথি দিয়ে বানানো চা হতে পারে এই ব্যাথার হাত থেকে মুক্তি পাবার মোক্ষম দাওয়াই।
৬) হজমঃ মেথির বীজে প্রচুর ফাইবার এবং অন্যান্য উপাদান থাকে যা কিনা হজমের ক্ষমতা এবং শরীরের কার্বোহাইড্রেট আর সুগার শোষণ করে নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। মেথিদানা ভিজানো জল প্রোটিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেলে হজমের সমস্যা ধীরে ধীরে চলে যেতে বাধ্য।
৭) ক্যান্সারঃ সাম্প্রতিক কালের একটা গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে মেথির ব্যবহার করবার ফলে ক্যান্সার হবার আশঙ্কা কমেছে। কর্কটরোগ থেকে রক্ষা পেতে ডাক্তারেরা রান্নায় মেথির ব্যবহার করতেও বলছেন। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য মেথি রান্নায় অবশ্যই মেশানো উচিৎ কেননা মেথিতে উপস্থিত ট্রাইগ্লিসেরাইড এস্ট্রোজেন গ্রহণকারী মডিউলেটারের কাজ করে এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষগুলোকে উদ্দীপিত করতে করতে একসময়ে ধ্বংস করে দেয়।
৮) দুধ উৎপাদনঃ মেথিতে উপস্থিত ডায়োসজেনিন দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করে । মেথিতে উপস্থিৎ ভিটামিন, মিনারেল মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে তা নবজাতকের জন্য অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের করে তোলে।
৯) ওজন কমাতে মেথিঃ মেথি দানা হল লোহা, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, ভিটামিন বি সিক্স, প্রোটিন, ফাইবার, অনেক উপকারী ভিটামিন এবং খনিজের উৎস। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ফ্লামেটরী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
মেথি বীজে এক ফাইবার থাকে যা গ্যালাক্টোমান্নান নামে পরিচিত এবং সহজে পানি গুলে যায়, যা ওজন পরিচালনায় এবং আপনাকে পূর্ণ অনুভব করিয়ে খিদের অনভূতিকে প্রশমন করে ওজন হ্রাসে সাহায্য করে। এছাড়াও শরীরের মেটাবলিসম কে বৃদ্ধি করে, যার ফলে মেদ ঝরে যাওয়া এবং অন্য এডিপোশ টিসুর কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়ে যায়।
২০১৫ সালের এক গবেষণায়, নয়জন ওভারওয়েট কোরিয়ান মহিলা লাঞ্চের আগে একটি শিম, মেথি, এবং প্লাসিবো চা পান করেছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী মেথি চা যারা পান করেছিলেন তারা কম ক্ষুধার্ত এবং পূর্ণ অনুভূব করেছিলেন।
১০) রক্তচাপঃ মেথির বীজ উচ্চ পটাসিয়াম এবং ফাইবার সামগ্রীর উপস্থিতির কারণে রক্তচাপ হ্রাসের জন্য কার্যকর উপাদান। এক বা দুই চা চামচ মেথি দানা পানির মধ্যে দুই মিনিটের জন্য ফুটিয়ে নিন, সেটি ছেঁকে নিয়ে বীজগুলিকে একটি ব্লেন্ডারের ভিতরে দিয়ে একটি পেস্ট বানান এবং সেটি দিনে দুবার সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন। এটি অনুসরণ করলে আপনি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই উন্নতি লক্ষ্য করবেন।
১১) কিডনির কার্যকারিতাঃ ২০০৭ সালে “ফাইটোথেরাপি রিসার্চ”-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ক্যালসিয়াম অক্সালেট জাতীয় কিডনির পাথর প্রতিরোধ করতে মেথি সক্ষম। গবেষণার ফলাফলে দেখা গিয়েছে যে মেথি গ্রহণকারী প্রাণীগুলির কিডনিতে উল্লেখযোগ্যভাবে কম ক্যালসিফিকেশন হয়েছে।
১২) লিভারের সুরক্ষায়ঃ ২০০৭ সালে প্রকাশিত “জীববিজ্ঞান ও বিষবিদ্যাবিষয়ক” গবেষণায় এস কাভিয়ারসন বলেছেন, মেথি অ্যালকোহলযুক্ত ক্ষতির বিরুদ্ধে লিভারকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। দীর্ঘদিন এলকোহলে আসক্ত মানুষদের চর্বিযুক্ত লিভার ও ফাইব্রোসিস থাকে যা কোলাজেন সংশ্লেষণের দ্বারা নির্মূল করা যেতে পারে। গবেষণায় দেখা যায় যে, মেথি লিভারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমগুলির ক্রিয়াকলাপ বাড়ায় |
ত্বকের জন্য মেথির উপকারিতা
ত্বকের পরিচর্যাতেও মেথি একইরকম প্রয়োজনীয়। ঘরে মজুদ থাকা মেথির বীজকেই কিভাবে নিজের রূপচর্চার গোপন রহস্য বানিয়ে তুলবেন তা জেনে নিন চটপট।
১ ) ব্রণ নির্মূলে মেথি
মেথির বীজে উপস্থিত এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল পদার্থ আপনার ব্রণ নির্মূল করে তোলে। শুধুমাত্র মেথির দানা আর গরম পানি ব্যবহার করেই ব্রণ মুক্ত ত্বক পাওয়া সম্ভব।
কিভাবে কাজ করে?
মেথির ভিতর থাকা এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল পদার্থ ত্বকের গভীরে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলে ব্রণর দাগের হাত থেকে মুক্তি দিতেও সক্ষম।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• পরিমাণমতো পানি গরম করে তাতে মেথির বীজ দিয়ে দিন।
• ১৫ মিনিট মতন ফুটিয়ে নিন।
• ঠাণ্ডা হওয়ার পরে এই মেথির বীজ ভেজানো পানি তুলো দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন।
২) বার্ধক্য প্রতিরোধকারী
বাজারচলতি এন্টি-এজিং ক্রিমগুলো ব্যবহার করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না? সমাধান লুকিয়ে আছে রান্নাঘরে আপনার মসলার কৌটোর মধ্যেই।
কিভাবে কাজ করে?
মেথির বীজ ত্বকে স্থিতিস্থাপকতা এনে দেয় যা কিনা ত্বককে সজীব দেখায়। মেথির বীজে আছে ত্বকের মৃত কোষ তুলে দেবার ক্ষমতা। তাতে ত্বক তরুণ ও উজ্জ্বল দেখায়।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• মেথির গুঁড়ো
• পানি
• দই
মেথির গুঁড়ো, পানি আর দই একসাথে মিশিয়ে নিন। সারা মুখে ভালো করে এই প্যাক লাগিয়ে নিন।২০ মিনিট রেখে দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার করে এই প্যাক ব্যবহার করুন।
৩) ত্বকের শুকনো ভাব দূর করতে মেথি
শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন ? চিন্তা নেই, রান্নাঘরেই আছে এর সমাধান। আপনার চাই শুধু দই, মধু আর অবশ্যই মেথি।
কিভাবে কাজ করে?
মেথির বীজে থাকা তেল আপনার শুষ্ক ত্বকে জেল্লা আনতে দারুণ কার্যকর। মেথির মধ্যে উপস্থিত এই তেল আপনার ত্বকে মিশে শুষ্কতা দূর করে। অতএব যারা শুকনো, খসখসে, প্রাণহীন ত্বকের সমস্যাতে জেরবার তারা কিন্তু এই মেথির বীজের মাস্ক ব্যবহার করে ত্বকে উজ্জ্বলতা নিয়ে আসতে পারেন।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• গরম পানির মধ্যে সারারাত ধরে মেথির বীজগুলো ভিজিয়ে রাখুন।
• ২ চামচ দই আর ১ চামচ মধুর সাথে মেথির বীজ মিশিয়ে ভালো করে বেটে ফেলুন।
• মুখে এই প্যাকটা লাগিয়ে রেখে দিন ১৫ মিনিট মতন।
• পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।
সপ্তাহে অন্তত একবার এই প্যাকটা ব্যবহার করুন।
চুলের জন্য মেথির উপকারিতা
মেথির উপকারিতা ত্বক আর স্বাস্থ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মেথি কিন্তু আপনার এক ঢাল ঘন কালো চুল পাওয়ার সুপ্ত বাসনাকে পরিপূর্ণ করে তুলতে পারে।
১) চুল পড়া কমাতে মেথি
এই ধুলো-দূষণের সময়ে চুল ঝরে যাওয়ার সমস্যায় কম-বেশি সকলেই ভোগে। এই সমস্যা থেকে চুলকে রক্ষা করতেও মেথির ভূমিকা অপরিসীম।
কিভাবে কাজ করে?
মেথিতে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি উপস্থিত থাকে যা কিনা টাক পরে যাওয়ার সমস্যা থেকে বাঁচায়। লিথিসিন নামক একটা পদার্থ আমাদের চুলে থাকে যা চুল পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়। মেথি দিয়ে বানানো চুলের মাস্ক ব্যবহার করলে এই লিথিসিন তৈরি হয় যা কিনা চুল মজবুত এবং ঘন করে চুলের সমস্যাকে বিদায় জানায়।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• মেথির বীজের গুঁড়ো- ১ টেবিল চামচ।
• পানি
• পানির মধ্যে মেথির বীজের গুঁড়ো মিশিয়ে দিন।
• এই পেস্ট সারা মাথায় মানে চুলের গোড়া থেকে ডগায় লাগিয়ে দিন।
• ২০ মিনিট মতন রেখে দিয়ে ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সপ্তাহে একবার করে এই প্যাক ব্যবহার করলেই হয়ে উঠবে ঘন, সুন্দর ও সুস্বাস্থ্যে উজ্জ্বল।
২) খুশকি আটকাতে মেথি
খুশকি আর সাথে লাগাতার চুল উঠে যাওয়া এক বিভীষিকা! মেথিতে উপস্থিত নানা উপাদান এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম।
কিভাবে কাজ করে?
মেথির বীজের গুঁড়ো আর তার সাথে পানি -এর পেস্ট এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি দিতে যথেষ্ট। মেথির প্যাক চুলকে গোড়া থেকে শক্ত এবং খুশকি মুক্ত করে।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• হাফ কাপ মেথির গুঁড়ো
• পানি
• লেবুর রস
• মেথির গুঁড়ো, পানি আর লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে নিন।
• একটা থকথকে পেস্ট বানিয়ে ফেলুন।
• মাথার আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ১০ মিনিট মতন লাগিয়ে রেখে দিন।
• পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
৩) চুলের ঔজ্বল্য বাড়াতে মেথিঃ চুলের উজ্জ্বলতা কমে গেছে। ভাবছেন পার্লার থেকে স্পা করে চুলের হারানো জেল্লা ফিরিয়ে আনবেন। আপনার রান্নাঘরেই তো সমাধান লুকিয়ে আছে। ব্যবহার করুন মেথির দানার প্যাক আর দেখুন কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে পারা যায়।
কিভাবে কাজ করে?
মেথিতে থাকা ভিটামিন ই চুল এবং নখের জন্য খুবই উপকারী। মেথির ভিতরে প্রাকৃতিক জেলোটিন পাওয়া যায় যা চুলের জেল্লা আর চুলের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• ২ টেবিল চামচ মেথি
• পরিমাণমত গরম পানি
• মেথির বীজগুলিকে গরম পানির মধ্যে ফেলে দিন।
• ভালো করে পানি ফুটিয়ে ঘন প্যাক তৈরী করুন।
• মাথায় আধ ঘন্টা রেখে দিন।
• তারপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন।
সপ্তাহে কমপক্ষে ২ বার এই প্যাক ব্যবহার করুন।
৪) চুলকে অকালপক্কতা দূর করতে মেথিঃ অকালে চুল পেকে যাওয়ার হাত থেকে শুধুমাত্র হেয়ার কালার বা হেনা একা কার্যকরী নয়। এক বাটি মেথিও হতে পারে আপনার মুশকিল আসানের অস্ত্র।
কিভাবে কাজ করে?
মেলানিন চুলের কালো রঙের জন্য দায়ী। মেথির বীজের গুঁড়ো এই মেলানিন উৎপাদনে সক্ষম।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• মেথির বীজের গুঁড়ো- ১ টেবিল চামচ
• আমলকির গুঁড়ো
• পানি
• মেথির বীজের গুঁড়ো এবং আমলকির গুঁড়ো মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিন।
• থকথকে এই পেস্টে পানি যোগ করে দিন।
• চুলের গোড়ার থেকে শেষ অবধি লাগিয়ে নিন।
• ২০ মিনিট মতন রেখে নিয়ে চুল ধুয়ে দিন।
মেথির অপকারিতা
সবেরই কিছু ক্ষতিকর দিক থাকে। এবার জেনে নেওয়া যাক মেথির অপকারী দিকগুলি কি রকম
• মুখে মেথির গুঁড়ো গেলে তেঁতো বোধ হয়। ফলে অনেকের বমি বমি ভাব লাগে বা মাথা ঘোরার ভাব বোধ হয়।
• মেথির ব্যবহারে ব্লাড সুগারের পরিমাণ হঠাৎ কমে যেতে পারে।
• মেথি দীর্ঘদিন ধরে খাওয়ার ফলে শরীর থেকে একটা দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয় যা অস্বস্তিদায়ক।
• কৌমারীন থাকার জন্য মেথির দানা রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। যাদের রক্ত পাতলা তাদের মেথি রোজ ব্যবহার করার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া বাঞ্চনীয়।
• গর্ভবতী মহিলারা মেথির দানা ভেজানো জল দীর্ঘদিন ধরে খেতে থাকলে সময়ের আগেই শিশুর জন্ম দেওয়া এমনকি গর্ভপাতের মতন ঘটনাও ঘটতে পারে।