G K Natural Food Products

G K Natural Food Products We are packaging and Marketing All kinds of Auxiliary Ingredients in Herbal Medicine

আলকুশির গুনাগুন ও উপকারিতাপরিচিতি : এটি লতানো গাছ , গায়ে লাগলে বিছুটির মতো চুলকায় ও জ্বালা করে , ফুলে যায় । এই গাছের ...
07/01/2022

আলকুশির গুনাগুন ও উপকারিতা

পরিচিতি : এটি লতানো গাছ , গায়ে লাগলে বিছুটির মতো চুলকায় ও জ্বালা করে , ফুলে যায় । এই গাছের ফল দেখতে অনেকটা সিমের মতো । এই ফলের গায়ে এক ধরনের রোঁয়া দেখা যায় । এই রোঁয়া গায়ে লাগলে গা চুলকায় । আলকুশী বর্ষজীবী লতা গুল্ম । কখনও কখনও বহুদিন বেঁচে থাকে ৷ শাঁখ আলুর পাতার মত এর বৃন্তে ৩ টি করে পাতা হয় । পুস্প দন্ড ৭ থেকে ৮ ইঞ্চি লম্বা সবসময় অবনত থাকে । গাঢ় বেগুনি বর্ণের ফুল পুষ্পদন্ডে গুচ্ছবদ্ধ হয় । ফল বা শুটি ৫ থেকে ৬ ইঞ্চি আঙ্গুলের ন্যায় বা তেঁতুলের ন্যায় হয় ।
প্রাপ্তিস্থান : বাংলাদেশ সহ উপ - মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জঙ্গলের কিনারায় ও রাস্তার ধারে আলকুশী গাছ জন্মে থাকে ৷

বর্ণ : আলকুশী বীজ শিমের বীজের মত পীতাভ কাল বর্ণের ।

স্বাদঃ আলকুশী বীজ কষায় স্বাদযুক্ত ।

আলকুশি বীজের উপকারিতা

পেট গরম হলে: পেট গরম হলে আলকুশি বীজের উপকারিতা অতুলনীয় । ০.৭৫ গ্রাম আলকুশির বীজ চূর্ণ ঠান্ডা পানিসহ খেলে পেট ঠান্ডা হবে , বায়ু কমবে এবং পেটের যাবতীয় রোগ দুর হবে ।

ইন্দ্রিয় শৈথিল্যে আলকুশি বীজের উপকারিতা : কারও ইন্দ্রিয় শৈথিল্য রোগ থাকলে আলকুশি বীজের উপকারিতা অতুলনীয় । ২ গ্রাম আলকুশির বীজ চূর্ণ ১ কাপ দুধ ও চিনিসহ এক মাস প্রত্যেকদিন খেলে ইন্দ্রিয় শৈথিল্য রোগ দুর হবে ।

ধাতু দুর্বলতায়ঃ প্রত্যেক দিন সকালে আলকুশির বীজ চূর্ণ মধুসহ খেলে , কিছুদিনের মধ্যে ধাতু দুর্বলতা দুর হবে এবং দেহে শক্তি ফিরে আসবে ।

নারীর যৌনীতে আঘাত লাগলে : আলকুশির মূল সিদ্ধ করে ক্বাথ তৈরি করে , সেই পানি ছেঁকে পরিস্কার নেকড়া বা তুলো ভিজিয়ে সহ্য মতো গরম গরম যৌনির উপর সেঁক দিতে হবে । এক সপ্তাহ এইভাবে ব্যবহার করলে আঘাত লাগা যৌনীর ব্যথা ও বেদনা অবশ্যই দুর হবে ।

স্ত্রীলোক দর্শনে ক্ষরণঃ অল্প বয়সে কুঅভ্যাসজনিত শুক্র ক্ষয় বা অতিরিক্ত হস্ত মৈথুন এর পরিনতিতে শুক্র তারল্য হয় , সেক্ষেত্রে স্ত্রীলোক দেখলে বা কথা বললে শুক্রক্ষয় হয় এইক্ষেত্রে আলকুশি বীজ চূর্ণ ২/৩ গ্রাম আধা কাপ গরম দুধে / চিনি বা মিছরির গুড়ো মিশিয়ে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ খেলে শুক্রের গাঢ়ত্ব ফিরে আসবে ।

ধ্বজভঙ্গেঃ যৌবনের উম্মাদনায় অতিরিক্ত সঙ্গ করলে পরিণামে কি শারীরিক কি মানসিক সবই ম্রিয়মান হয় । এক্ষেত্রে এই আলকুশি বীজ চূর্ণ ৩ থেকে ৪ গ্রাম ১ কাপ হালকা গরম দুধ ও চিনিসহ সকাল বিকাল খেতে হবে , এইভাবে এক সপ্তাহ খাওয়ার পর থেকে কিছুটা উন্নতি বুঝতে পারবেন এবং ৪/৫ সপ্তাহ খেতে হবে ।

আলকুশি বীজ চূর্ণ খাওয়ার নিয়ম/ ব্যবহার বিধিঃ ১ স্যাচেট ১ কাপ গরম দুধে, চিনি বা মিছরি মিশিয়ে দৈনিক ২ বার অথবা কোন ইউনানী/ আয়ুর্বেদিক ঔষধের সহায়ক উপাদান (অনুপাম) হিসাবে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ আনুযায়ী সেব্য।

আলকুশি বীজের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াঃ আলকুশির ফলের উপরের শুয়া অত্যন্ত বিষাক্ত । এটি লাগলে ত্বকে অত্যন্ত চুলকানী ও জ্বালা যন্ত্রনা আরম্ভ হয় । কাজেই বীজ সংগ্রহকালে অত্যন্ত সাবধান ও যত্নবান হওয়া অপরিহার্য । আলকুশি বীজ চূর্ণ নির্ধারিত (৪ গ্রাম) মাত্রায় কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা বিরুপ ক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়নি ।

22/12/2021
ত্রিফলার গুণাগুণ ও উপকারিতাঃত্রিফলা কি ?  ত্রিফলা হল একটি অতি প্রসিদ্ধ আয়ুর্বেদিক প্রণালী যেটি আমলা, বহেড়া এবং হরিতকি ...
03/10/2021

ত্রিফলার গুণাগুণ ও উপকারিতাঃ

ত্রিফলা কি ? ত্রিফলা হল একটি অতি প্রসিদ্ধ আয়ুর্বেদিক প্রণালী যেটি আমলা, বহেড়া এবং হরিতকি , এই তিনটি ফল থেকে তৈরি করা হয় । বস্তুত ত্রিফলা শব্দের আক্ষরিক অনুবাদ করলে দাঁড়ায় “ তিনটি ফল " ( ত্রি = তিন ও ফলাফল ) । আয়ুর্বেদে ত্রিফলা উল্লেখযোগ্য তার রাসায়নিক গুণাবলীর জন্য এটি আমাদের শরীর, স্বাস্থ্য ও জীবনীশক্তি বজায় রাখতে এবং রোগ থেকে আমাদের দূরে রাখতে সাহায্য করে।

জানতেন কি ? আয়ুর্বেদে বর্ণিত আছে যে ত্রিফলা দেহের তিনটি দোষের ( বাত , পিত্ত , কফ ) মধ্য ভারসাম্য বজায় রাখে । আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় বলা আছে যে ত্রিফলাতে পাঁচ ধরনের রস বা স্বাদ আছে । এতে মিষ্টি , তিক্ত , তীব্র , তিক্ত ও কষা স্বাদ বর্তমান । শুধুমাত্র নোনতা স্বাদটাই এখানে বিদ্যমান নয় । ত্রিফলার স্বাস্থ্য উপকারিতা ও প্রাথমিকভাবে ত্রিফলা পূর্ণজীবনদায়ী ভেষজ হিসেবে আয়ুর্বেদে বর্ণিত কিন্তু অন্যান্য কিছু রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে ও ব্যবহার করা হয়ে থাকে । বস্তুত আয়ুর্বেদে বলা হয় যে ত্রিফলা আমাদের মায়ের মতই যত্ন করে থাকে ।

আসুন আমরা অনুসন্ধান করে দেখি ত্রিফলার কিছু স্বাস্থ্যউপকারি গুণঃ

পেটের সমস্যাঃ
পেটে ফাঁপাভাব , কোষ্ঠকাঠিন্য , পেট ফুলে যাওয়া এবং অনিয়মিত অন্ত্রের সমস্যাই পেটের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত । গবেষণায় দেখা গেছে যে খাদ্যাভাসের মধ্যে ত্রিফলা অন্তভূক্ত করলে পাচনতন্ত্রের সাধারণ সমস্যাগুলি সামাল দেওয়া যায় এবং এটি শরীর থেকে অতিরিক্ত টক্সিন বের করে দেয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টঃ
ভিটামিন - সি তে সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে ত্রিফলাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খাওয়ার হিসেবে নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে । সেই কারণে এটি আমাদের শরীরকে ফ্রি র্যা ডিকালের প্রভাব থেকে রক্ষা করে

ডায়াবেটিসঃ
ইনসুলিন হরমোনের ওপর ক্রিয়ার ফলে ত্রিফলা যে ডায়াবেটিস বিরোধী তা আজ প্রমাণিত সত্য । এটি রক্তস্রোতে গ্লুকোজ জমা হওয়া বা বিমুক্ত হওয়া নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ।

ওজন কমাতেঃ
বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে নিয়মিত ত্রিফলা সেবন করলে তা ওজন কমাতে ভীষণভাবে সাহায্য করে , বিশেষত স্থুলকায় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে । সাম্প্রতিক কিছু মানবভিত্তিক গবেষণায় ১৬-৬০ বছর বয়সী স্থুলকায় কিছু বাছাই করা লোকজনদের ২ টি শ্রেণীতে ভাগ করে তাদের ওপর পরীক্ষা করা হয়েছিল ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ত্রিফলার উপকারিতা । এর মধ্যে একটি শ্রেণীকে ১২ সপ্তাহ ধরে দিনে ২ বার করে ৫ গ্রাম ত্রিফলা দেওয়া হয় মৌখিক সেবনের জন্য এবং অন্য শ্রেণীটিকে দেওয়া হয় প্ল্যাসিবো । এরপর ত্রিফলা সেবনকারী শ্রেণীটিকে শারীরিক ওজন ও কোমর এবং নিতম্বের পরিধির উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ করা যায় । উপরন্ত অন্ত্রের ওপর ত্রিফলা পাউডার সেবনের প্রভাব লক্ষ্য করলে সহজেই বলে দেওয়া যায় ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ত্রিফলার উপকারিতা । তাহলে এটা বলাই যায় যে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ত্রিফলা হল একটি অত্যন্ত কার্যকর প্রতিকার ।

চোখের জন্য ত্রিফলা পাউডারঃ
চোখের ছানি ও গ্লুকুমা সহ চোখের পক্ষে ত্রিফলার প্রচুর উপকারী প্রভাব আয়ুর্বেদে বর্ণনা করে । ক্লিনিকেল গবেষণা দাবি করে ত্রিফলার ছানি - বিরোধী প্রভাব । দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধির জন্য আয়ুর্বেদিক ডাক্তারদের প্রস্তাবিত চিকিৎসায় ত্রিফলা হলো অন্যতম উপাদান। ত্রিফলা ঘৃত নামক একটি আয়ুর্বেদিক প্রতিকার আছে যা চোখের অন্যতম ভাল ওষুধ হিসেবে চিহ্নিত । তবে চোখ হল মানুষের শরীরের সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গাগুলির একটি । সুতরাং চোখের বিষয়ে ত্রিফলা ব্যবহারের ক্ষেত্রে একজন আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া বাঞ্চনীয়।

চুলের জন্য ত্রিফলাঃ
ত্রিফলা হল অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি সমৃদ্ধ উৎস যা দুষণের কারণে ক্ষতি হওয়া চুলের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে । ত্রিফলায় থাকা আমলা অকালে চুল পাকা থামাতে বিশেষভাবে উপকারী এবং বহেড়া চুল পড়া কমাতে ও চুলে গোড়া শক্ত করতে খুবই সাহায্য করে । ত্রিফলা সমন্ধে আরও বলা হয় যে এটি মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় ও তার ফলে পুষ্টিকর উপাদান ও খনিজ বস্তু আমাদের ত্বক আরও তাড়াতাড়ি শুষে নিতে সক্ষম হয় । ত্রিফলা পেস্ট মাথায় সরাসরি প্রয়োগ করা যায় , যাতে চুলের ওপর এর পুষ্টিদায়ী এবং রক্ষাকারী সুবিধাগুলি পাওয়া যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্যে ত্রিফলাঃ
সুস্থ ও পরিচ্ছন্ন অন্ত্র আমাদের শরীর সার্বিকভাবে ভাল রাখার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । পাচনতন্ত্রের বর্জ্য পদার্থ অন্ত্রের পথ শুধুমাত্র বদ্ধই করে রাখে তা নয় , দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য শরীরে বিষাক্ত উপাদানের পরিমান বাড়িয়ে তোলে । অতিরিক্ত পরিমানে অধিবিষ জমা হওয়ার ফলে শরীরে উদ্বেগ ও চাপের মত সমস্যাও দেখা দিতে পারে । আয়ুর্বেদিক ডাক্তারদের মতে ত্রিফলা একটি প্রাকৃতিক জোলাপ এবং এটি কোষ্ঠশুদ্ধি নিয়মিত করার পাশাপাশি অন্ত্রের পেশিগুলিকে ও শক্তিশালী করে তোলে । এটি পেটের ওপর কোনরকম চাপ সৃষ্টি করে না এবং দীর্ঘকাল কোনরকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা না ভেবেই এটি সেবন করা যায় । ভারতে হওয়া একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণা দাবি করে যে নিয়মিত ত্রিফলা সেবন কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে , অনিয়মিত কোষ্ঠশুদ্ধির ক্ষেত্রে , পেট ফুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে এবং পেট ব্যথার বিষয়ে বিশেষভাবে সহায়তা করে।

দাঁতের জন্য ত্রিফলাঃ
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট , প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিমাইক্রবিয়াল প্রভাবের কারণে দাঁতের সাধারণ সমস্যা দূরীকরণে ও দাঁতের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে ত্রিফলা একটি দুর্দান্ত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে । ভারতে হওয়া একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণায় দেখা গেছে ত্রিফলা ও ক্লোরহেক্সিডাইন মাউথওয়াশ প্লাক জমা প্রতিরোধ করতে সক্ষম । আরেকটি গবেষণায় দেখা যায় ত্রিফলা ও ০.২ % ক্লোরহেক্সিডাইন দিয়ে তৈরি মাউথওয়াশও মাড়ী জ্বলে যাওয়া ও প্লাক জমার সমস্যা সমাধানে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া পেরিওডেন্টাল রোগীদের ক্ষেত্রেও কার্যকর ।

ত্রিফলার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াঃ
ত্রিফলা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী সেবনের জন্য খুবই নিরাপদ হিসেবে গণ্য করা হয় । অন্যভাবে বলতে গেলে একজন সুস্থ ব্যাক্তিও ত্রিফলার পুষ্টিকর উপকারিতার জন্য এটি সেবন করতে পারেন । কিন্তু ত্রিফলার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকার ফলে খাদ্যভাসে এটিকে যোগ করার আগে বিবেচনা করে দেখা উচিৎ ।
১। ত্রিফলা হল একটি প্রাকৃতিক জোলাপ । এটি স্বল্প পরিমাণে সেবন করা যেমন উপকারী , অপরিমিত পরিমাণে সেবণ করলে তা ডায়রিয়া ও ডিসেন্টির আকার ধারণ করে ।
২। যদি আপনি নির্ধারিত ওষুধ সেবন করে থাকেন , তাহলে ত্রিফলা খাদ্যভাসে যোগ করার আগে ইউনানী/ আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের পরামর্শ করে নেওয়া বাঞ্চনীয় কারণ ত্রিফলা অন্যান্য ঔষধের কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে ।
৩। ত্রিফলা সেবন যে গর্ভবতী ও শিশু প্রতিপালনকারী মায়েদের জন্য নিরাপদ তার কোন বৈজ্ঞানিক প্রমান নেই । সেহেতু গর্ভবতী মহিলাদের বলা হয় কোন প্রকারের ত্রিফলা সেবন না করতে অথবা ব্যবহারের আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নিতে ।
৪ । বাচ্চাদের ত্রিফলা দেওয়া উচিৎ নয় ।

অর্জুনের গুনাগুন ও উপকারিতা  টার্মিনালিয়া মহাজাতির অন্তর্গত চিরহরিৎ বৃক্ষ অর্জুন ।  শোভাময় অর্জুন গাছের ঔষধি গুন রয়েছ...
22/09/2021

অর্জুনের গুনাগুন ও উপকারিতা

টার্মিনালিয়া মহাজাতির অন্তর্গত চিরহরিৎ বৃক্ষ অর্জুন । শোভাময় অর্জুন গাছের ঔষধি গুন রয়েছে এর বাকলের ভিতরে , যাকে হৃদয় এর একটি বলবর্ধক ঔষধ বলে মানা হয় । হৃদয়ের স্বাস্থ্যের সামগ্রিক উন্নতির জন্য আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা অর্জুনের বাকল সুপারিশ করেন । আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে হৃদয়ের বিভিন্ন রোগে যেমন হৃদরোগ ( হার্ট এ্যাটাক ) , হৃদয় বৈকল্য ( হার্ট ফেলিওর ) এবং এমন কি সন্ন্যাস রোগে ( স্ট্রোক ) অর্জুনের বাকলের নিরাময় ক্ষমতা এবং উপকারিতা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে । আপনি শুনলে হয়তো আশ্চার্য হয়ে যাবেন যে বিশ্বাস করা হয় অর্জুনের বাকল রাখলে হৃদয় চক্র মানব দেহের শক্তির কেন্দ্র ) শক্তিশালী হয় এবং ঔষধি গুনগুলিকে তুলনা করা হয় পশ্চিমের হওথ্রন ভেষজ চিকিৎসার সাথে ।
অর্জুন মূলত একটি ভারতীয় গাছ । সাধারণত নদী বা নালার ধারে এই গাছ জন্মায় । এর উচ্চতা ২০ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত হতে পারে । অর্জুনের বাকল মসৃণ এবং ধুসর , কিন্তু এরই মধ্যে কিছু সবুজ এবং লাল ছোপ আছে । অর্জুনের পাতাগুলি প্রায় আয়তকার । গাছের শাখায় একটি পাতা অপরটির বিপরীত দিকে থাকে । মে থেকে জুলাই মাসে গাছে সাদা - ক্রিম রঙের ফুলের গুচ্ছ দেখা যায় । কাঁচা অবস্থায় অর্জুন ফল সবুজ রঙের হয় , পরে তা পরিপক্কতা পেলে রং বদলে কাঠের বাদামী রং হয় । ফলগুলির স্বতন্ত্র পাখা থাকে , যা অর্জুনের চিহ্নিত বৈশিষ্ট্যগুলির একটি ।

স্বাস্থ্য রক্ষায় অর্জুনের উপকারিতাঃ

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করেঃ
অন্য ঔষধির সাথে মিলিতভাবে অর্জুনের বাকল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে । দেখা গিয়েছে যে অর্জুনের বাকল উধ্বশ্বাসে আরাম দেয় এবং কনজেস্টিভ হার্ট ফেলিয়োর এর রোগীদের সিস্টোলিক রক্তচাপ হ্রাস করে ।

এথেরোস্কলারোসিস প্রতিরোধ করেঃ
বৈজ্ঞানিক গবেষণাতে প্রমাণিত যে অর্জুনের বাকল খেলে কোলেস্টেরল এর মাত্রা হ্রাস পায় । এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট , তাই লিপিড এর পারঅক্সিডেশান প্রতিরোধ হয় , ফলে এথেরোস্কলারোসিস এর ঝুঁকি কম হয় ।

হৃদয়ের উপকারীঃ
অর্জুনের বাকল কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ হ্রাস করে , যে দুটি হৃদরোগের ঝুঁকির কারণ বলে চিহ্নিত । অ্যান্টি - অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি - ক্লটিং গুণ থাকাতে অর্জুনের বাকল স্ট্রোক , হৃদরোগ এবং বয়স সম্পর্কিত কার্ডিওভাসকুলার সমস্যাগুলি প্রতিরোধ করে ।

অ্যান্টি – মাইক্রোবিয়ালঃ
এমআরএসএ এবং ভিআরএসএ দুটি সাধারণ অ্যান্টি – বায়োটিক প্রতিরোধী প্যাথোজেনের স্ট্রেন যেগুলি ত্বকের উপরে কাজ করে । অর্জুনের বাকলের নির্যাস এই দুটি প্যাথোজেন এর বিরুদ্ধে অ্যান্টি - বায়োটিক ক্রিয়া প্রদর্শন করে । এর অ্যান্টি - বায়োটিক ক্রিয়া শুধুমাত্র পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার উপরেই সীমাবদ্ধ ।

হৃদয়ের উপকারে অর্জুনঃ
কার্ডিওভাসকুলার সমস্যাগুলি ও যেমন মাইওকার্ডিয়াল ইনফেক্শান, করোনারী হার্ট ডিজিজ এবং ইসকেমিক হার্ট এ্যাটাক এর ক্ষেত্রে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা অর্জুনের বাকল চূর্ণ ব্যবহারের সুপারিশ করেন । এটি শুধু ঝুঁকিই হ্রাস করে না নিয়মিত খেলে হৃদয়ের সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং কার্যক্ষমতার উন্নতি করে । হার্ট ফেলিওর এবং হৃদয় সংক্রান্ত অসুখে অর্জুন গাছের বাকলের কার্যকারিতা নিয়ে অনেক প্রাণীদেহের উপরে এবং ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে । এই গবেষণাগুলি থেকে জানা যাচ্ছে যে অর্জুন গাছের বাকলে অনেকগুলি সক্রিয় জৈব যৌগিক পদার্থ আছে , যেমন , ফ্ল্যাভোনয়েডস , ট্যানিনস এবং মিনারেল যেগুলি যৌথভাবে এই গাছটিকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ হৃদয় সুরক্ষক করে তুলেছে । একটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় ১০ জন হৃদরোগীকে তিন মাসের জন্য প্রথাগত ওষুধের সাথে অর্জুনের বাকল চূর্ণ খেতে দেওয়া হয়েছিল । একই সাথে একটি নিয়ন্ত্রিত দলকে শুধুই প্রথাগত ওষুধ খেতে দেওয়া হয়েছিল । ৩ মাস পর দেখা গিয়েছিল যে দলটিকে অর্জুনের বাকল খেতে দেওয়া হয়েছিল , তাদের হৃদয়ের স্বাস্থ্য উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নতি করেছিল , বিশেষত বাম দিকের ভেন্ট্রিক্যাল ( হৃদয়ের একটি অংশ ) শক্তিশালী হয়েছিল । অন্য আরেকটি গবেষণায় ৪০ জন সু - স্বাস্থ্যের অধিকারী মানুষদের ৪ সপ্তাহ ধরে অর্জুনের বাকল এবং অশ্বগন্ধার ক্যাপসূল খেতে দেওয়া হয়েছিল । ৪ সপ্তাহ পরে দেখা গিয়েছিল যে হার্টের সাধারণ দুর্বলতা অশ্বগন্ধা হ্রাস করেছিল এবং অর্জুনের বাকল কার্ডিওভাসকুলার সহনশীলতার উন্নতিতে কার্যকর ছিল । অধিকন্তু , অর্জুনের বাকল হচ্ছে উৎকৃষ্ট অ্যান্টি - অক্সিডেন্ট এবং প্রদাহ বিরোধী যার ফলে হৃদয়ের টিস্যুর উপরে চাপ কমে যায় এবং হৃদয়ের পেশিগুলির কোন বয়সের বা জীবনধারা সংক্রান্ত অবনতি হ্রাস পায় । সুপারিশ করা হচ্ছে যে অর্জুন বাকলের সঠিক মাত্রা জানার জন্য আপনার আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন ।

অর্জুনের বাকল ও কলেস্টেরলঃ
অর্জুনের বাকলের হাইপোলিডেমিক ( কোলেস্টেরল হ্রাস করা ) গুণ পরীক্ষা করার জন্য অনেক গবেষণা হয়েছে । প্রাণীদের উপরে গবেষণা এবং ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সুনিশ্চিত করেছে যে দেহে লিপিড ( ফ্যাট / চর্বি ) প্রাফোইলের ভারসাম্য বজায় রাখতে অর্জুন গাছ একটি উৎকৃষ্ট ঔষধি । একটি পরীক্ষাতে ২১ জন করোনারী হার্টের রোগীদের দুধের সাথে মিশিয়ে ১ গ্রাম অর্জুন বাকল চূর্ণ ১ মাস ধরে খেতে দেওয়া হয়েছিল । দেখা গিয়েছিল যে দেহের লিপিড এর পরিমাণ বাড়িয়ে রাখতে অর্জুনের বাকলের ইতিবাচক প্রভাব ছিল । আরও গবেষণা দেখাচ্ছে যে অর্জুনের বাকল এলডিএলর খারাপ কোলেস্ট্রেরল এর পরিমাণ কমিয়ে দেয় । যার ফলে অ্যাথেরোস্কুলেরোসিস ( ধমনীতে চর্বি জমা ) এবং কার্ডিওভাসকুলার অসুখ যেমন , স্ট্রোক এবং হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি হ্রাস পায় । কাজেই নিদ্বিধায় বলা যায় যে হাইপোলিপিডেমিক হিসাবে অর্জুনের বাকলের ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল।

অর্জুনের বাকলের পাশ্বপ্রতিক্রিয়াঃ
১। গর্ভবতী এবং স্তন্যদায়ী মহিলাদের উপরে অর্জুনের প্রভাব সংক্রান্ত কোন গবেষণা হয়নি । কাজেই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাবে , সুপারিশ করা হচ্ছে যে গর্ভবতী অথবা স্তন্যদাত্রী মহিলারা যেন অর্জুনের বাকল ব্যবহার না করেন।
২। টারমিনালিয়া রক্ত জমাট বাধা হ্রাস করে, কাজেই আপনার যদি রক্তের চিনির মাত্রা স্বাভাবিক ভাবেই কম থাকে অথবা আপনি একজন মধুমেহ রোগী এবং ওষুধ খাচ্ছেন তাহলে অর্জুনের বাকল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নেবেন ।
৩। অন্য কোন ওষুধের সাথে অর্জুনের বাকলের কোন মিথক্রিয়ার ( ড্রাগ ইন্টার্যীকশন) কথা এখনো জানা নেই । তবে আপনি যদি অন্য কোন রকম ওষুধ নিতে থাকেন তাহলে আপনার আয়ুর্বেদ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে তবেই অর্জুনের বাকলের কোন সম্পূরক ( সাপ্লিমেন্ট ) নেবেন ।

ইসবগুলের ভূষির গুণাগুণ ও উপকারিতাঃ ইসবগুল উপমহাদেশের সবাই চেনে । এর নানাবিধ উপকারিতা সম্পকেও আমরা ওয়াকিবহাল । নামের সাথ...
08/09/2021

ইসবগুলের ভূষির গুণাগুণ ও উপকারিতাঃ
ইসবগুল উপমহাদেশের সবাই চেনে । এর নানাবিধ উপকারিতা সম্পকেও আমরা ওয়াকিবহাল । নামের সাথে গুল আছে বলে অনেকে ভাবি হয়ত কোনোক্ষুদ্র ফুলের সূক্ষ্ম পাপড়ি হবে , কিন্তু এর সম্পর্ক ফুলের সঙ্গে নয় , বীজের সঙ্গে । সঠিকভাবে বলতে গেলে বীজের খোসার সঙ্গে , যাকে আমরা ইসবগুলের ভূষি বলে জানি । বিদেশী বাজারে এটা সিলিয়াম হাস্ক ( Psyllium husk ) গ্রীক সিলা ( Psylla ) অর্থ এক ধরনের মাছি , ডানাহীন ফ্রি - মাছি । ইসবগুলের বীজ দেখতে আকারে অবয়বে অনেকটা ফ্রি - মাছির মতো বলে ইংরেজীতে এই নাম । ইসবগুল শব্দটা ফার্সি ইসপা – গোল থেকে আগত যার অর্থ ঘোড়ার কান । খুব ছোট হলেও খোসাগুলো শতশত গুন বড় করে দেখলে ঘোড়ার কানের মতো মনে হতে পারে, আমরা একে আত্তীকরণ করেছি বাংলায় , যা উচ্চারণগতভাবে ইশবগুল এবং বানানে ইসবগুল । ইসবগুলের আদি বাসভূমি ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগু্লোতে । ক্রমে ক্রমে এর বিস্তৃতি ঘটেছে স্পেন , উত্তর আফ্রিকা , পাকিস্থানের সিন্ধু এলাকা , চীন , রাশিয়া ও ভারতে । অনুমান করা হয় , ভারতে ইসবগুল প্রবেশ করেছে ষোড়শ শতকে মোগল আমলে । পৃথিবীতে বাণিজ্যিকভাবে যে - কয়টি প্রজাতি চাষের জন্য ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে আছে ফ্রান্সের কালো বীজ প্ল্যান্ট্যাগো ইন্ডিকা ( Plantago indica ) স্পেনীয় প্ল্যান্ট্যাগো সিলিয়াম ( Plantago psyllium ) ও ভারতীয় সাদাটে বীজ প্ল্যান্ট্যাগো ওভেটা ( Plantago ovata ) । ইসবগুল বা ইসবগুলের ভূষি ( Ispaghula husk ) আমাদের দেশে কনস্টিপেশনের চিকিৎসায় একটি বহুল ব্যবহৃত পণ্য । অনেকেই আমরা রোযার সময় শরবতের সাথেও এটি খাই । এর মূল উপাদান মিউসিলেজিস পলিস্যাকারাইড । এরা আমাদের অন্ত্র বা ইন্টেসটাইনে পানি শোষণ করে ফুলে গিয়ে পরিমানে বৃদ্ধি পায় ( নিজের ওজনের ৪০ গুন পর্যন্ত ) এবং এভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে । এছাড়াও এর অনেক ধরনের উপকারিতা রয়েছে ।
চলুন তাহলে একে একে জেনে নিই ইসবগুলের ভুষির আরো অনেক উপকারিতাঃ

কোষ্ঠকাঠিন্যতা দূরীকরণেঃ
ইসবগুলের ভুষিতে থাকে কিছু অদ্রবনীয় ও দ্রবনীয় খাদ্যআঁশের চমৎকার সংমিশ্রণ যা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য খুব ভালো ঘরোয়া উপায় হিসাবে কাজ করে । ইসবগুলের ভূষি পাকস্থলীতে গিয়ে ফুলে ভেতরের সব বজ্য পদার্থ বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে । প্রাকৃতিকভাবে জলগ্রাহী হওয়ার কারনে পরিপাকতন্ত্র থেকে পানি গ্রহণ করে মলের ঘনত্বকে বাড়িয়ে দিয়ে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে । কোষ্ঠ কাঠিন্য দূর করতে ২ চামচ ইসবগুল এক গ্লাস কুসুম গরম দুধের সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুমাতে যাবার আগে পান করে নিন ।

ডায়রিয়া প্রতিরোধেঃ
যদিও শুনলে অবাক লাগে , ইসবগুল একই সাথে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দুটিই প্রতিরোধ করতে সক্ষম । ডায়রিয়া প্রতিরোধে ইসবগুল দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায় । কারণ দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক পাকস্থলীর ইনফেকশন সারায় এবং ইসবগুল তরল মলকে শক্ত করতে সাহায্য করে খুব কম সময়ের মাঝে ডায়রিয়া ভালো করতে পারে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে ২ চামচ ইসবগুল ও ৩ চামচ টাটকা দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবার পর খেতে হবে । এভাবে দিনে ২ বার খেলে বেশ কার্যকরী ফলাফল পাওয়া সম্ভব ।

ওজন কমাতেঃ
ওজন কমানোর উদ্দেশ্যকে সফল করতে ইসবগুলের ভূষি হচ্ছে উত্তম হাতিয়ার । এটি খেলে বেশ লম্বা সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি দেয় এবং ফ্যাটি খাবার খাওয়ার ইচ্ছাকে কমায় । এছাড়াও ইসবগুলের ভূষি কোলন পরিষ্কারক হিসেবেও পরিচিত । এটি পাকস্থলী থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে, হজম প্রক্রিয়াকে আরো বেশি কার্যকর করে স্বাস্থ্যবান থাকতে সাহায্য করে । ভেষজ শাস্ত্র অনুযায়ী এটি পাকস্থলীর দেয়ালে যেসব বর্জ্য পদার্থ থাকে তা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে যা অন্যান্য হজমজনিত সমস্যাও দূর করে । কুসুম গরম পানিতে ২ চামচ ইসবগুলের ভূষি ও সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে ভাত খাবার ঠিক আগে খেতে হবে । সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেলেও তা ওজন কমাতে সাহায্য করবে ।

হজমক্রিয়ার উন্নতিতেঃ
দ্রবনীয় ও অদ্রবনীয় খাদ্যআঁশে ভরপুর ইসবগুলের ভুষি হজম প্রক্রিয়াকে সঠিক অবস্থায় রাখতে সাহায্য করে ।এটি শুধু পাকস্থলী পরিষ্কার রাখতেই সাহায্য করে না এটি পাকস্থলীর ভেতরের খাবারের চলাচলেও এবং পাকস্থলীর বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশনেও সাহায্য করে । তাই হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে নিয়মিতভাবে ইসবগুল খেতে পারেন । এছাড়া মাঠা বা ঘোলের সাথে ইসবগুল মিশিয়ে খেতে পারেন ভাত খাওয়া পরপরই । তবে একটা ব্যাপার খেয়াল রাখতে হবে তা হল ইসবগুল মিশিয়ে রেখে না দিয়ে সাথে সাথে খেয়ে ফেলতে হবে ।

অ্যাসিডিটি প্রতিরোধেঃ
বেশিরভাগ মানুষেরই অ্যাসিডিটির সমস্যা থাকে আর ইসবগুলের ভুষি হতে পারে এই সমস্যার ঘরোয়া প্রতিকার । ইসবগুল খেলে তা পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে একটা প্রতিরক্ষা মূলক স্তর তৈরী করে যা অ্যাসিডিটির বার্ন থেকে পাকস্থলীকে রক্ষা করে । এছাড়া এটি সঠিক হজমের জন্য এবং পাকস্থলীর বিভিন্ন এসিড নিঃসরণে সাহায্য করে । ইসবগুল অ্যাসিডিটিতে আক্রান্ত হওয়ার সময়টা কমিয়ে আনে । প্রতিবার খাবার পর ২ চামচ ইসবগুল আধা গ্লাস ঠান্ডা দুধে মিশিয়ে পান করুন । এটি পাকস্থলীতে অত্যাধিক এসিড উৎপাদন কমাতে সাহায্য করে এ্যাসিডিটির মাত্রা কমায় ।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধেঃ
ইসবগুলের ভূষি যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য খুবই ভালো। এটি পাকস্থলীতে যখন জেলির মত একটি পদার্থে রূপ নেয় তখন তা গুকোজের ভাঙ্গন ও শোষনের গতিকে ধীর করে । যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে । খাবার পর নিয়মিতভাবে দুধ বা পানির সাথে ইসবগুলের ভুষি মিশিয়ে পান করুন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে । তবে দইয়ের সাথে মিশিয়ে খাবেন না এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে ।

পাইলস প্রতিরোধেঃ
প্রাকৃতিকভাবে দ্রবনীয় ও অদ্রবনীয় খাদ্যআঁশে ভরপুর ইসবগুলের ভূষি যারা পায়ুপথে ফাটল এবং পাইলসের মত বেদনাদায়ক সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য উত্তম । এটা শুধু পেট পরিষ্কার করতেই সাহায্য করেনা মলকে নরম করতে সাহায্য করে অস্ত্রের পানিকে শোষন করার মাধ্যমে এবং ব্যাথামুক্ত অবস্থায় তা দেহ থেকে বের হতেও সাহায্য করে । এটি প্রদাহের ক্ষত সারাতেও সাহায্য করে । ২ চামচ ইসবগুল কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে ঘুমাতে যাবার আগে পান করুন।

হৃদ স্বাস্থ্যের সুস্থ্যতায়ঃ
ইসবগুলের ভূষিতে থাকা খাদ্যআশ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে যা আমাদেরকে হৃদরোগের থেকে সুরক্ষিত করে । হৃদরোগের সুস্থতায় ইসবগুল সাহায্য করে কারন এটি উচ্চ আঁশ সমৃদ্ধ এবং কম ক্যালরিযুক্ত । ডাক্তাররা সবসময় হৃদরোগে এমন খাবারের কথাই বলে থাকেন । এটি পাকস্থলীর দেয়ালে একটা পাতলা স্তরের সৃষ্টি করে যার ফলে তা খাদ্য হতে কোলেস্টেরল শোষনে বাধা দেয় বিশেষ করে রক্তের সিরাম কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় । এছাড়াও এটি রক্তের অতিরিক্ত কোলেস্টেরল সরিয়ে দেয় যা থাকলে ধমনীতে ব্লকের সৃষ্টি হতে পারে , এর ফলে তা হৃদরোগ এবং কোরোনারী হার্ট ডিজিজ থেকে আমাদের রক্ষা করে । তাই হার্টকে সুস্থ রাখতে নিয়মিতভাবে খাবারের ঠিক পরে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে ইসবগুলের ভূষি খান ।

সতর্কতাঃ
১। এটি শুধুমাত্র উল্লেখিত সমস্যা গুলোর ঘরোয়া সমাধান । যদি খুব বেশি গুরুতর অবস্থা হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন ।
২। ইসবগুল কেনার সময় দেখে নিন।
৩। ইসবগুলের ভূষি আমাদের দেশে বাজার থেকে শুরু করে সুপার মার্কেট সব জায়গাতেই বেশ সহজলভ্য । তবে কেনার আগে কিছু ব্যপার অবশ্যই খেয়াল রাখবেন-
ক . প্যাকেটজাত ইসবগুল কিনুন
খ . কখনোই খোলা ইসবগুল কিনবেন না সেগুলোতে ভেজাল থাকতে পারে যার ফলে এটি খেয়ে হয়তো ভালো ফলাফল না ও পেতে পারেন ।
৪। বিভিন্ন দোকানে সাধারণ ইসবগুলে কৃত্রিম স্বাদ ও রং যোগ করে বিশেষ কার্যকারিতার কথা বলে তা বিক্রয় করা হয় যা মূলত স্বাস্থ্যের জন্য খুবই খারাপ । আমাদের ইসবগুলের ভুষিতে কোন প্রকার কৃত্রিম স্বাদ ও রং যোগ করা নেই এবং ভালো ফলাফল পেতে আমাদের ইসবগুলের ভুষি খাওয়াই সবচেয়ে উত্তম ।
৫। ডায়াবেটিস রোগীদের ইসবগুলের ভূষি চিনি ছাড়া খেতে হবে ।
৬। কিডনী রোগীদের ইসবগুলের ভূষি না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় ।
৭। নিম্ন রক্তচাপের রোগীদের জন্য ইসবগুলের ভুষি না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় ।
৮। কিছু অ্যালার্জি রোগী এটি সহ্য করতে পারে না । তাদের ক্ষেত্রে এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ ।

শিমুল মূলের গুনাগুন ও উপকারিতাঃ  শিমুল গাছ কে আমরা অনেকেই অহেতুক গাছ মনে করি । শিমুল গাছের গুণাবলী আমরা অনেকেই জানি না ।...
06/09/2021

শিমুল মূলের গুনাগুন ও উপকারিতাঃ
শিমুল গাছ কে আমরা অনেকেই অহেতুক গাছ মনে করি । শিমুল গাছের গুণাবলী আমরা অনেকেই জানি না । জানি না শিমুল গাছ দিয়ে কি কি রোগের চিকিৎসা করা যায় । শিমুল গাছ আমাদের দেশের সকল অঞ্চলে দেখা যায় , শিমুল গাছ বা শিমুল ফুল চেনে না এমন লোক অনেক কম আছে । এই গাছ থেকে মূলত আমরা তুলা সংগ্রহ করে থাকি । এটি উচ্চতায় ১৫ থেকে ২০ মিটার হয়ে থাকে । শিমুল গাছ ছোট, ছোট কাটাযুক্ত । ফুল দেখতে খুব সুন্দর হয় । বসন্তকালে গাছে ফুলে ছেয়ে যায় । এই ফুল থেকে খুব ভালো মানের তুলা হয় । আর শিমুল তুলা বাজারে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট মানের । এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি । শিমুল তুলার চাহিদা যেমন রয়েছে ঠিক শিমুল মূলের চাহিদাও ব্যাপক ।

শিমুল মূলের বিশেষ কার্যকারিতাঃ শুক্র বর্ধক , প্রদর ও অতিরিক্ত রক্তস্রাবে কার্যকর , কামোদ্দীপক , মলরোধক, মেছতা , উদরাময় ও অতিরিক্ত রক্তস্রাবে উপকারী ।

বেলের গুনাগুন ও উপকারিতাঃবেলের হাজার গুন এর উপকারিতা বলে শেষ করা মুশকিল । বেল পেটের নানা অসুখ সারাতে দারুন উপকারী । দীর্...
05/09/2021

বেলের গুনাগুন ও উপকারিতাঃ
বেলের হাজার গুন এর উপকারিতা বলে শেষ করা মুশকিল । বেল পেটের নানা অসুখ সারাতে দারুন উপকারী । দীর্ঘমেয়াদি আমাশয়, ডায়রিয়া রোগে কাঁচা বেল নিয়মিত খেলে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা সম্ভব । বেল পেট ঠান্ডা রাখে । গরমের সময় পরিশ্রম করার পর বেলের শরবত খেলে ক্লান্তি দুর হয় । বেলের ভিটামিন “ এ ” চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন অঙ্গগুলির পুষ্টি যোগায়। ফলে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । বেলের শাঁস পিচ্ছিল ধরনের। এমন হওয়ার কারনে এই ফল পাকস্থলীতে উপকারী পরিবেশ সৃষ্টি করে যা খাবার সঠিকভাবে হজম করতে সাহায্য করে । কচি বেল টুকরা করে রোদে শুকিয়ে নিলে তাকে বেলশুঠ বলে।

বিভিন্ন রোগে বেলের উপকারিতাঃ

কোষ্ঠকাঠিন্যতায়ঃ
বেল মল পরিষ্কার হতে সাহায্য করে । নিয়মিত ৩ মাস যদি আপনি বেলের শরবত বা বেল চা খেতে পারেন, তাহলে আপনার মল আর কঠিন হবে না ।

ডায়রিয়া কমায়ঃ
বেল ডায়রিয়ার জন্য অব্যর্থ ঔষধ । যদি অনেক দিন ধরে আপনি এই সমস্যায় ভোগেন তাহলে ১ টি টি ব্যাগ ১ গ্লাস গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে চিনিসহ মিশিয়ে খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

পেপটিক আলসারেঃ
পাকা বেলের শাঁসে সেই ফাইবার আছে যা আলসার উপশমে সাহায্য করে। সপ্তাহে তিনদিন বেলের শরবত করে খেলে আলসার কমে যাবে । এছাড়া বেলের পাতা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সেই পানি খেলেও অনেক কমে যায় আলসার

ডায়াবেটিস কমায়ঃ
পাকা বেলে আছে মেথানল নামের একটি উপাদান যা ব্লাড সুগার কমাতে কাজ করে । তবে ভালোফল পেতে পাকা বেল শরবত করে নয় এমনিই খেতে হবে

যক্ষ্মা কমায়ঃ
পাকা বেলে আছে অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল উপাদান যা যক্ষ্মা কমাতে সাহায্য করে । তবে ভালোফল পেতে আপনাকে ব্রাউন চিনি বা মধু দিয়ে বেলের শরবত করে রাতে খেতে হবে । এটি টানা চল্লিশ দিন খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

ক্যান্সার দুরে রাখেঃ
বেলে আছে অ্যান্টি প্রলেফিরেটিভ ও অ্যান্টি মুটাজেন উপাদান। এই উপাদান টিউমার হতে দেয় না সহজে । আর যেহেতু এই ফলে হাই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান আছে তাই ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

ম্যালেরিয়া কমায়ঃ
ম্যালেরিয়া হলে বেল গুঁড়ার সঙ্গে তুলসির রস ও মধু মিশিয়ে দিনে ২ বার খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

লিভারের যত্নেঃ
বেল বিটা ক্যারোটিনের উৎস । আর বিটা ক্যারোটিন হল লিভার ভালো রাখার অন্যতম মূল চাবিকাঠি । বেলে আছে থিয়ামিন আর রাইবোফ্লেভিন, এই দুই উপাদানই লিভারের শক্তি বাড়ায় খুব ভালোভাবে।

ব্লাডপ্রেসার কমায়ঃ
বেল ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে। বেলের শরবত বা বেল চা খেলেই হবে । মিষ্টি এই শরবত এই চাপ থেকে আপনাকে অনেক দুরে রাখবে।

আমাশয় কমায়ঃ
আমাশয় হলে ১ টি টি ব্যাগ ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন সারারাত, সেই পানি পরের দিন সকালে খেলে আমাশয় খুব স্বল্প সময়ে সেরে যাবে ।

এগুলো ছাড়াও বেলের আরো বহুমুখী উপকারিতা সমূহঃ

১। বেল আলসার ও পাইলস রোগে উপকারী । এটি শক্তি বর্ধক হিসেবে কাজ করে।
২। অন্ত্রের কৃমিসহ অন্যান্য জীবানু ধ্বংস করে ডায়রিয়া এবং আমাশয় প্রতিরোধ করে।
৩। বেলের ল্যাক্সিটেভ গুণ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং আমাশয় রোগে খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে এবং হজমে সাহায্য করে।
৪। বেলে ন্যাচারাল ডাই ইউরেটিক আছে যা শরীরে পানি জমা প্রতিরোধ করে।
৫। বেলপাতার রস মধুর সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে চোখের ছানি কমে যায়, এছাড়াও ভিটামিন এ মিউকাস মেমব্রেনের গঠন এবং চামড়ার ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করে।
৬। ত্বককে সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে বেলের শাস এবং ত্বকের স্বাভাবিক রং বজায় রাখে।
৭। বেলের থায়ামিন ও রিবোফ্লোবিন হার্ট এবং লিভার ভালো রাখে।
৮। বেল থেকে পাওয়া বেটাক্যারোটিন রঞ্জক মানবদেহে টিউমার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে । বিশেষ করে মহিলারা নিয়মিত বেল বা বেলের শরবত খেলে ব্রেস্ট ক্যান্সার ও জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে।
৯। প্রস্টোজেন হরমোন লেভেল বাড়িয়ে মহিলাদের ইনফার্টিলিটির ঝুঁকি কমায় । তাছাড়া প্রসব পরবর্তী ডিপ্রেশন কমাতে বেল খুবই কার্যকর।
১০। বেলের ভিটামিন - সি স্কার্ভি প্রতিরোধ করে । ভিটামিন - সি হলো শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা মানবদেহের বিভিন্ন সংক্রমন রোধ করে।
১১। জন্ডিস এর সমস্যায় পাকা বেল গোলমরিচের সঙ্গে শরবত করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।
১২। সর্দি হলে বেলপাতার রস এক চামচ খেলে সর্দি ও জ্বরভাব কেটে যায় । বেল পাতার রস ঠান্ডা ও ক্রনিক কফে উপকারী । জয়েন্টের ব্যথা উপশম করে । পাতার রস মধু ও গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খেলে জন্ডিস নিরাময় হয়।
১৩। বেল বেটাক্যারোটিনের ভালো উৎস যা থেকে ভিটামিন - এ তৈরি হয় । ভিটামিন - এ চোখের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন অঙ্গগুলোকে পুষ্টি জোগায় । যারা নিয়মিত বেল খায় তাদের চোখের বিভিন্ন অসুখ হওয়ার প্রবনতা থাকে তুলনামুলক ভাবে কম।

সতর্কতাঃ
বেল নিয়মিত খাওয়া উচিত নয় । টানা অনেক দিন বেল খেলে স্বাভাবিক স্থিতি প্রকপতা কমে যায় এবং পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে । পাকা বেল একবারে বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।

মেথির উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিক – মেথি হল একপ্রকার ভেষজ গাছ যা দক্ষিণ ইউরোপ এবং এশিয়া-এ পাওয়া যায়। এটি দেখতে হলু...
27/08/2021

মেথির উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিক –

মেথি হল একপ্রকার ভেষজ গাছ যা দক্ষিণ ইউরোপ এবং এশিয়া-এ পাওয়া যায়। এটি দেখতে হলুদাভ খয়েরি রঙের হয়। মেথি থিয়ামিন, ফলিক এসিড, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, ভিটামিন এ, বি৬ , এবং সি তে পরিপূর্ণ। এই ভেষজ নানারকমের প্রয়োজনীয় মিনারেল রয়েছে, যেমন কপার, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, সেলেনিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ এবং ম্যাগনেসিয়াম। মেথি গাছের পাতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে-এর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

স্বাস্থ্যের জন্য মেথির উপকারিতা –

১) ডায়াবেটিস: মেথির বীজে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অন্যান্য উপাদান থাকে যা হজমের ক্ষমতা এবং শরীরের কার্বোহাইড্রেট আর সুগার শোষণ করে নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। মেথি শরীরে ইন্সুলিন নিঃসরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় । বর্তমানে করা রিসার্চ অনুযায়ী প্রতিদিন গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখা ১০ গ্রাম বা ২ স্যাচেট মেথির বীজ ডায়াবিটিস টাইপ ২ নিয়ন্ত্রণ করবার জন্য দারুণ কার্যকর। মেথির গম দিয়ে বানানো রুটি, পাউরুটি টাইপ ২ ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষদের ইনসুলিন প্রতিরোধ করবার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়

২) কলেস্টেরল : মেথি শুধুমাত্র রক্তে উপস্থিত কলেস্টেরল থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করে তা নয় আপনার শরীরকেও ধীরে ধীরে কলেস্টেরল থেকে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে ভীষণভাবে সক্ষম। মেথি শরীরের লিপো প্রোটিন বা ব্যাড প্রোটিন কমাতে সাহায্য করে। মেথির বীজে উপস্থিত স্টেরয়েডাল স্যাপোনিন ক্ষুদ্রান্তে কলেস্টেরল-এর আত্তীকরণের হার কমিয়ে দেয়। এছাড়া লিভার থেকে উৎপন্ন তরলের শোষণের হার কমিয়ে দিতেও কার্যকর। চর্বিযুক্ত খাবার থেকে নির্গত হতে থাকা ট্রিগ্লাইসারাইড-এর শোষণের মাত্রাও মেথি কমিয়ে দিতে সক্ষম।

৩) বাতের ব্যাথা: বাতের ব্যাথা প্রায় সকল চল্লিশোর্ধ্ব মানুষেরই সমস্যা। ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-এর প্রতিবেদন অনুসারে মেথির ইস্ট্রোজেনের ওপরে প্রভাব এতটাই বেশি যে বর্তমানে ডাক্তারেরা মেথির ব্যবহারকে ইস্ট্রোজেন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির সাথে তুলনা করছেন। মেথি বাতের তীব্র ব্যথা বেদনা কমাতে ভীষণভাবে কার্যকর।

৪) হার্টের স্বাস্থ্য: হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় মেথির উপকারিতা অপরিসীম। মেথি শরীরে থেকে অ্যাসিডের পরিমাণ খুব দ্রুত কমাতে পারে। শরীরের অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এর থেকে কার্যকরী ভেষজ মেলা ভার। মেথির বীজ সারারাত্রি পানি ভিজিয়ে রেখে দিয়ে পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেয়ে নিলে হার্টের ব্যাথা বা বুক জ্বালার মতন সমস্যা গুলো ওষুধ না খেয়েই ঘরোয়া পদ্ধতিতে কমে যাবে।

৫) মাসিকের ব্যাথা: পিরিয়ডস-এর ব্যাথা প্রায় সব মেয়েদের জীবনেই বিভীষিকার মতন এবং মাসের ওই বিশেষ দিনগুলিতে মেজাজ খারাপ থাকা বা স্কুল কলেজ কামাই করবার মতন ঘটনা প্রায় সবার জীবনেই ঘটেছে। চিন্তা নেই- রান্নাঘরেই মিলবে এর সমাধান! ইউটেরাসে মৃত টিস্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকলেই পিরিয়ডস-এর ব্যাথা শুরু হয়। মাসের ওই বিশেষ দিনগুলিতে গরম গরম মেথি দিয়ে বানানো চা হতে পারে এই ব্যাথার হাত থেকে মুক্তি পাবার মোক্ষম দাওয়াই।

৬) হজমঃ মেথির বীজে প্রচুর ফাইবার এবং অন্যান্য উপাদান থাকে যা কিনা হজমের ক্ষমতা এবং শরীরের কার্বোহাইড্রেট আর সুগার শোষণ করে নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। মেথিদানা ভিজানো জল প্রোটিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেলে হজমের সমস্যা ধীরে ধীরে চলে যেতে বাধ্য।

৭) ক্যান্সারঃ সাম্প্রতিক কালের একটা গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে মেথির ব্যবহার করবার ফলে ক্যান্সার হবার আশঙ্কা কমেছে। কর্কটরোগ থেকে রক্ষা পেতে ডাক্তারেরা রান্নায় মেথির ব্যবহার করতেও বলছেন। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য মেথি রান্নায় অবশ্যই মেশানো উচিৎ কেননা মেথিতে উপস্থিত ট্রাইগ্লিসেরাইড এস্ট্রোজেন গ্রহণকারী মডিউলেটারের কাজ করে এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কোষগুলোকে উদ্দীপিত করতে করতে একসময়ে ধ্বংস করে দেয়।

৮) দুধ উৎপাদনঃ মেথিতে উপস্থিত ডায়োসজেনিন দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করে । মেথিতে উপস্থিৎ ভিটামিন, মিনারেল মায়ের দুধের পুষ্টিগুণ বাড়িয়ে তা নবজাতকের জন্য অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের করে তোলে।

৯) ওজন কমাতে মেথিঃ মেথি দানা হল লোহা, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, ভিটামিন বি সিক্স, প্রোটিন, ফাইবার, অনেক উপকারী ভিটামিন এবং খনিজের উৎস। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ফ্লামেটরী বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
মেথি বীজে এক ফাইবার থাকে যা গ্যালাক্টোমান্নান নামে পরিচিত এবং সহজে পানি গুলে যায়, যা ওজন পরিচালনায় এবং আপনাকে পূর্ণ অনুভব করিয়ে খিদের অনভূতিকে প্রশমন করে ওজন হ্রাসে সাহায্য করে। এছাড়াও শরীরের মেটাবলিসম কে বৃদ্ধি করে, যার ফলে মেদ ঝরে যাওয়া এবং অন্য এডিপোশ টিসুর কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়ে যায়।
২০১৫ সালের এক গবেষণায়, নয়জন ওভারওয়েট কোরিয়ান মহিলা লাঞ্চের আগে একটি শিম, মেথি, এবং প্লাসিবো চা পান করেছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী মেথি চা যারা পান করেছিলেন তারা কম ক্ষুধার্ত এবং পূর্ণ অনুভূব করেছিলেন।

১০) রক্তচাপঃ মেথির বীজ উচ্চ পটাসিয়াম এবং ফাইবার সামগ্রীর উপস্থিতির কারণে রক্তচাপ হ্রাসের জন্য কার্যকর উপাদান। এক বা দুই চা চামচ মেথি দানা পানির মধ্যে দুই মিনিটের জন্য ফুটিয়ে নিন, সেটি ছেঁকে নিয়ে বীজগুলিকে একটি ব্লেন্ডারের ভিতরে দিয়ে একটি পেস্ট বানান এবং সেটি দিনে দুবার সকালে খালি পেটে খেয়ে নিন। এটি অনুসরণ করলে আপনি দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই উন্নতি লক্ষ্য করবেন।

১১) কিডনির কার্যকারিতাঃ ২০০৭ সালে “ফাইটোথেরাপি রিসার্চ”-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, ক্যালসিয়াম অক্সালেট জাতীয় কিডনির পাথর প্রতিরোধ করতে মেথি সক্ষম। গবেষণার ফলাফলে দেখা গিয়েছে যে মেথি গ্রহণকারী প্রাণীগুলির কিডনিতে উল্লেখযোগ্যভাবে কম ক্যালসিফিকেশন হয়েছে।

১২) লিভারের সুরক্ষায়ঃ ২০০৭ সালে প্রকাশিত “জীববিজ্ঞান ও বিষবিদ্যাবিষয়ক” গবেষণায় এস কাভিয়ারসন বলেছেন, মেথি অ্যালকোহলযুক্ত ক্ষতির বিরুদ্ধে লিভারকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। দীর্ঘদিন এলকোহলে আসক্ত মানুষদের চর্বিযুক্ত লিভার ও ফাইব্রোসিস থাকে যা কোলাজেন সংশ্লেষণের দ্বারা নির্মূল করা যেতে পারে। গবেষণায় দেখা যায় যে, মেথি লিভারে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমগুলির ক্রিয়াকলাপ বাড়ায় |

ত্বকের জন্য মেথির উপকারিতা

ত্বকের পরিচর্যাতেও মেথি একইরকম প্রয়োজনীয়। ঘরে মজুদ থাকা মেথির বীজকেই কিভাবে নিজের রূপচর্চার গোপন রহস্য বানিয়ে তুলবেন তা জেনে নিন চটপট।
১ ) ব্রণ নির্মূলে মেথি
মেথির বীজে উপস্থিত এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল পদার্থ আপনার ব্রণ নির্মূল করে তোলে। শুধুমাত্র মেথির দানা আর গরম পানি ব্যবহার করেই ব্রণ মুক্ত ত্বক পাওয়া সম্ভব।
কিভাবে কাজ করে?
মেথির ভিতর থাকা এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল পদার্থ ত্বকের গভীরে যায়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করলে ব্রণর দাগের হাত থেকে মুক্তি দিতেও সক্ষম।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• পরিমাণমতো পানি গরম করে তাতে মেথির বীজ দিয়ে দিন।
• ১৫ মিনিট মতন ফুটিয়ে নিন।
• ঠাণ্ডা হওয়ার পরে এই মেথির বীজ ভেজানো পানি তুলো দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন।

২) বার্ধক্য প্রতিরোধকারী
বাজারচলতি এন্টি-এজিং ক্রিমগুলো ব্যবহার করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না? সমাধান লুকিয়ে আছে রান্নাঘরে আপনার মসলার কৌটোর মধ্যেই।
কিভাবে কাজ করে?
মেথির বীজ ত্বকে স্থিতিস্থাপকতা এনে দেয় যা কিনা ত্বককে সজীব দেখায়। মেথির বীজে আছে ত্বকের মৃত কোষ তুলে দেবার ক্ষমতা। তাতে ত্বক তরুণ ও উজ্জ্বল দেখায়।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• মেথির গুঁড়ো
• পানি
• দই
মেথির গুঁড়ো, পানি আর দই একসাথে মিশিয়ে নিন। সারা মুখে ভালো করে এই প্যাক লাগিয়ে নিন।২০ মিনিট রেখে দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার করে এই প্যাক ব্যবহার করুন।

৩) ত্বকের শুকনো ভাব দূর করতে মেথি
শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন ? চিন্তা নেই, রান্নাঘরেই আছে এর সমাধান। আপনার চাই শুধু দই, মধু আর অবশ্যই মেথি।
কিভাবে কাজ করে?
মেথির বীজে থাকা তেল আপনার শুষ্ক ত্বকে জেল্লা আনতে দারুণ কার্যকর। মেথির মধ্যে উপস্থিত এই তেল আপনার ত্বকে মিশে শুষ্কতা দূর করে। অতএব যারা শুকনো, খসখসে, প্রাণহীন ত্বকের সমস্যাতে জেরবার তারা কিন্তু এই মেথির বীজের মাস্ক ব্যবহার করে ত্বকে উজ্জ্বলতা নিয়ে আসতে পারেন।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• গরম পানির মধ্যে সারারাত ধরে মেথির বীজগুলো ভিজিয়ে রাখুন।
• ২ চামচ দই আর ১ চামচ মধুর সাথে মেথির বীজ মিশিয়ে ভালো করে বেটে ফেলুন।
• মুখে এই প্যাকটা লাগিয়ে রেখে দিন ১৫ মিনিট মতন।
• পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।
সপ্তাহে অন্তত একবার এই প্যাকটা ব্যবহার করুন।
চুলের জন্য মেথির উপকারিতা
মেথির উপকারিতা ত্বক আর স্বাস্থ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মেথি কিন্তু আপনার এক ঢাল ঘন কালো চুল পাওয়ার সুপ্ত বাসনাকে পরিপূর্ণ করে তুলতে পারে।
১) চুল পড়া কমাতে মেথি
এই ধুলো-দূষণের সময়ে চুল ঝরে যাওয়ার সমস্যায় কম-বেশি সকলেই ভোগে। এই সমস্যা থেকে চুলকে রক্ষা করতেও মেথির ভূমিকা অপরিসীম।
কিভাবে কাজ করে?
মেথিতে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি উপস্থিত থাকে যা কিনা টাক পরে যাওয়ার সমস্যা থেকে বাঁচায়। লিথিসিন নামক একটা পদার্থ আমাদের চুলে থাকে যা চুল পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচায়। মেথি দিয়ে বানানো চুলের মাস্ক ব্যবহার করলে এই লিথিসিন তৈরি হয় যা কিনা চুল মজবুত এবং ঘন করে চুলের সমস্যাকে বিদায় জানায়।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• মেথির বীজের গুঁড়ো- ১ টেবিল চামচ।
• পানি
• পানির মধ্যে মেথির বীজের গুঁড়ো মিশিয়ে দিন।
• এই পেস্ট সারা মাথায় মানে চুলের গোড়া থেকে ডগায় লাগিয়ে দিন।
• ২০ মিনিট মতন রেখে দিয়ে ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সপ্তাহে একবার করে এই প্যাক ব্যবহার করলেই হয়ে উঠবে ঘন, সুন্দর ও সুস্বাস্থ্যে উজ্জ্বল।
২) খুশকি আটকাতে মেথি
খুশকি আর সাথে লাগাতার চুল উঠে যাওয়া এক বিভীষিকা! মেথিতে উপস্থিত নানা উপাদান এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম।
কিভাবে কাজ করে?
মেথির বীজের গুঁড়ো আর তার সাথে পানি -এর পেস্ট এই সমস্যার হাত থেকে মুক্তি দিতে যথেষ্ট। মেথির প্যাক চুলকে গোড়া থেকে শক্ত এবং খুশকি মুক্ত করে।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• হাফ কাপ মেথির গুঁড়ো
• পানি
• লেবুর রস
• মেথির গুঁড়ো, পানি আর লেবুর রস একসাথে মিশিয়ে নিন।
• একটা থকথকে পেস্ট বানিয়ে ফেলুন।
• মাথার আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত ১০ মিনিট মতন লাগিয়ে রেখে দিন।
• পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
৩) চুলের ঔজ্বল্য বাড়াতে মেথিঃ চুলের উজ্জ্বলতা কমে গেছে। ভাবছেন পার্লার থেকে স্পা করে চুলের হারানো জেল্লা ফিরিয়ে আনবেন। আপনার রান্নাঘরেই তো সমাধান লুকিয়ে আছে। ব্যবহার করুন মেথির দানার প্যাক আর দেখুন কিভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে চুলের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে পারা যায়।
কিভাবে কাজ করে?
মেথিতে থাকা ভিটামিন ই চুল এবং নখের জন্য খুবই উপকারী। মেথির ভিতরে প্রাকৃতিক জেলোটিন পাওয়া যায় যা চুলের জেল্লা আর চুলের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• ২ টেবিল চামচ মেথি
• পরিমাণমত গরম পানি
• মেথির বীজগুলিকে গরম পানির মধ্যে ফেলে দিন।
• ভালো করে পানি ফুটিয়ে ঘন প্যাক তৈরী করুন।
• মাথায় আধ ঘন্টা রেখে দিন।
• তারপর হালকা শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে নিন।
সপ্তাহে কমপক্ষে ২ বার এই প্যাক ব্যবহার করুন।

৪) চুলকে অকালপক্কতা দূর করতে মেথিঃ অকালে চুল পেকে যাওয়ার হাত থেকে শুধুমাত্র হেয়ার কালার বা হেনা একা কার্যকরী নয়। এক বাটি মেথিও হতে পারে আপনার মুশকিল আসানের অস্ত্র।
কিভাবে কাজ করে?
মেলানিন চুলের কালো রঙের জন্য দায়ী। মেথির বীজের গুঁড়ো এই মেলানিন উৎপাদনে সক্ষম।
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
• মেথির বীজের গুঁড়ো- ১ টেবিল চামচ
• আমলকির গুঁড়ো
• পানি
• মেথির বীজের গুঁড়ো এবং আমলকির গুঁড়ো মিশিয়ে একটা পেস্ট বানিয়ে নিন।
• থকথকে এই পেস্টে পানি যোগ করে দিন।
• চুলের গোড়ার থেকে শেষ অবধি লাগিয়ে নিন।
• ২০ মিনিট মতন রেখে নিয়ে চুল ধুয়ে দিন।

মেথির অপকারিতা
সবেরই কিছু ক্ষতিকর দিক থাকে। এবার জেনে নেওয়া যাক মেথির অপকারী দিকগুলি কি রকম
• মুখে মেথির গুঁড়ো গেলে তেঁতো বোধ হয়। ফলে অনেকের বমি বমি ভাব লাগে বা মাথা ঘোরার ভাব বোধ হয়।
• মেথির ব্যবহারে ব্লাড সুগারের পরিমাণ হঠাৎ কমে যেতে পারে।
• মেথি দীর্ঘদিন ধরে খাওয়ার ফলে শরীর থেকে একটা দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয় যা অস্বস্তিদায়ক।
• কৌমারীন থাকার জন্য মেথির দানা রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। যাদের রক্ত পাতলা তাদের মেথি রোজ ব্যবহার করার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেওয়া বাঞ্চনীয়।
• গর্ভবতী মহিলারা মেথির দানা ভেজানো জল দীর্ঘদিন ধরে খেতে থাকলে সময়ের আগেই শিশুর জন্ম দেওয়া এমনকি গর্ভপাতের মতন ঘটনাও ঘটতে পারে।

Address

7/1 Pathan Bari Road
Feni
3900

Opening Hours

Monday 08:00 - 22:00
Tuesday 08:00 - 22:00
Wednesday 08:00 - 22:00
Thursday 08:00 - 22:00
Friday 08:00 - 12:00
Saturday 08:00 - 22:00
Sunday 08:00 - 22:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when G K Natural Food Products posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share