10/04/2026
শিরোনাম: “শেষ ট্রেনের যাত্রী”
রাত ১১টা ৫৫।
ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন প্রায় ফাঁকা। শেষ ট্রেনটা ছাড়বে ঠিক ১২টায়। রাশেদ দৌড়ে এসে কোনোমতে ট্রেনে উঠে পড়ল।
আজ অফিস থেকে দেরি হয়ে গেছে। বাড়ি যেতে হলে এই ট্রেনটাই শেষ ভরসা।
ট্রেনে উঠে সে খেয়াল করল—পুরো বগিতে সে ছাড়া আর মাত্র একজন যাত্রী আছে।
একজন বৃদ্ধ।
সাদা পাঞ্জাবি, ধূসর দাড়ি, মাথা নিচু করে বসে আছে জানালার পাশে।
রাশেদ একটু স্বস্তি পেল। অন্তত একা না।
ট্রেন ছাড়ল।
ধীরে ধীরে স্টেশন পেরিয়ে অন্ধকারের মধ্যে ঢুকে গেল।
কিছুক্ষণ পর রাশেদ লক্ষ্য করল—
বৃদ্ধ লোকটা একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।
চোখ দুটো অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে।
রাশেদ অস্বস্তি বোধ করল।
সে মোবাইল বের করে সময় দেখল—১২:১২।
হঠাৎ—
ট্রেনটা একটা অজানা স্টেশনে থামল।
রাশেদ জানালা দিয়ে তাকালো।
স্টেশনের নাম লেখা বোর্ডটা ভাঙা, আলো নেই, চারপাশে ঘন কুয়াশা।
সে ভাবল—এই স্টেশন তো আগে কখনো দেখেনি!
ঠিক তখনই—
বৃদ্ধ লোকটা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
আরেকটা সিটে গিয়ে বসল… রাশেদের একেবারে সামনে।
কিন্তু হাঁটার সময় তার পা মাটিতে ছুঁইছেই না।
ভাসছে।
রাশেদের গলা শুকিয়ে গেল।
সে চোখ সরিয়ে নিল।
নিজেকে বোঝাতে লাগল—
“আমি ভুল দেখছি… এটা সম্ভব না…”
হঠাৎ—
বৃদ্ধ লোকটা ফিসফিস করে বলল,
“তুমি… নতুন?”
রাশেদ কাঁপা গলায় বলল,
“জি… মানে… কি বলছেন?”
বৃদ্ধ একটু হেসে বলল—
“এই ট্রেনে যারা ওঠে… তারা কেউ নতুন থাকে না।”
রাশেদ কিছু বলার আগেই ট্রেন আবার চলতে শুরু করল।
কিন্তু এবার শব্দটা অদ্ভুত।
চাকা যেন লোহার লাইনে না, বরং কিছুর ওপর ঘষা খাচ্ছে।
কিচ… কিচ… কিচ…
রাশেদ সাহস করে জানালার বাইরে তাকালো।
আর সাথে সাথেই তার বুক ঠাণ্ডা হয়ে গেল।
বাইরে কোনো রেললাইন নেই।
ট্রেনটা চলছে—
শূন্যের ওপর।
নিচে শুধু অন্ধকার… যেন অতল গহ্বর।
সে চোখ বন্ধ করে ফেলল।
“এটা স্বপ্ন… এটা স্বপ্ন…”
হঠাৎ—
তার কাঁধে ঠাণ্ডা একটা হাত।
সে চোখ খুলে দেখল—
বৃদ্ধ লোকটা তার একেবারে কাছে।
মুখটা এখন স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
চোখ নেই।
ফাঁকা গর্ত।
বৃদ্ধ ধীরে ধীরে বলল—
“আগের যাত্রী… ঠিক তোমার মতোই ছিল।”
“সে-ও বলেছিল—শেষ ট্রেন… তারপর বাড়ি যাবে…”
রাশেদ কাঁপতে কাঁপতে বলল,
“আমি নামতে চাই… এখনই নামবো!”
বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বলল—
“এই ট্রেন থেকে… কেউ নামে না…”
হঠাৎ ট্রেনটা জোরে ঝাঁকুনি খেল।
লাইট নিভে গেল।
পুরো বগি অন্ধকার।
শুধু একটা শব্দ—
টক… টক… টক…
কেউ যেন বগির দরজায় কড়া নাড়ছে।
রাশেদ ভয় পেয়ে দরজার দিকে তাকালো।
দরজাটা ধীরে ধীরে খুলে গেল।
বাইরে—
কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
অন্ধকারে মুখ দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু কণ্ঠটা পরিষ্কার—
“এই সিটটা… আমার ছিল…”
লাইট হঠাৎ জ্বলে উঠল।
বৃদ্ধ নেই।
পুরো বগি ফাঁকা।
রাশেদ একা।
সে ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
দেখল—
দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে—
ঠিক তার মতোই আরেকজন রাশেদ।
ফ্যাকাশে মুখে হাসি।
সে বলল—
“তুমি দেরি করে ফেলেছো…”
“এখন… তোমার পালা।” 😨